মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
আখলাক অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৬২ টি
হাদীস নং: ১৪১
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর জন্য পরস্পর মহব্বতকারীদের সুসংবাদ
১৪১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, যারা আমার জালাল ও শ্রেষ্ঠত্বের খাতিরে পরস্পর ভালবাসত, তারা কোথায়? আজ আমার ছায়া ছাড়া কোন ছায়া নেই এবং আমি তাদেরকে আমার ছায়ার দ্বারা ছায়া দান করব। (মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ اللهَ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ : « أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي ، الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪২
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ভালবাসা নৈকট্য ও ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে
১৪২. হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী ﷺ-এর খিদমতে হাযির হয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! আপনি এক ব্যক্তি সম্পর্কে কি বলেন, যে কিছু সংখ্যক লোককে ভালবাসে অথচ তাদের সাথে মিলিত হতে পারেনি? আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেনঃ যে ব্যক্তি যাকে ভালবাসে সে ব্যক্তি তার সাথে। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ ، قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ تَقُوْلُ فِي رَجُلٍ أَحَبَّ قَوْمًا وَلَمَّا يَلْحَقْ بِهِمْ؟ فَقَالَ « الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৩
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবু যর (রা) বললেন, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি
১৪৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবন সামিত (রা), আবু যর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, আবু যর (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! এক ব্যক্তি কিছু সংখ্যক লোককে ভালবাসে; কিন্তু তাদের ন্যায় আমল করার সামর্থ্য তার নেই। আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেনঃ হে আবু যর! তুমি যাকে ভালবাস তুমি তার সাথে। আবু যর বললেন, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। নবী ﷺ বললেনঃ তুমি যাকে ভালবাস তুমি তার সাথে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ যর পুনর্বার বললেন এবং আল্লাহর রাসূল ﷺ পুনরায় একই জবাব দিলেন। (আবু দাউদ)
کتاب الاخلاق
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ : الرَّجُلُ يُحِبُّ الْقَوْمَ ، وَلَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَعْمَلَ كَعَمَلِهِمْ ، قَالَ : « أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ » ، قَالَ : فَإِنِّي أُحِبُّ اللَّهَ ، وَرَسُولَهُ ، قَالَ : « فَإِنَّكَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ » قَالَ : فَأَعَادَهَا ابوذر فَأَعَادَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৪
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির সংবাদ
১৪৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! কিয়ামত কখন হবে? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তোমার ধ্বংস! তুমি কিয়ামতের জন্য কি প্রস্তুত করেছ? সে বলল, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি এবং এছাড়া আমি কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি। তিনি বললেন: তুমি তাঁর সাথে যাকে তুমি ভালবাস। আনাস (রা) বলেন, ইসলামে দাখিল হওয়ার পর মুসলমানদেরকে অন্য কোন জিনিসে এ সংবাদের চেয়ে বেশি খুশি হতে দেখিনি। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَارَسُولَ اللهِ مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ : « وَمَاذَا أَعْدَدْتَ لَهَا » . قَالَ مَا اَعْدَدْتُ لَهَا ، إِلَّا أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ قَالَ : « أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ قَالَ اَنَسٌ فَمَا رَاَيْتُ الْمُسْلِمِيْنَ فَرِحُوْا بِشَيْئٍ بَعْدَ اِسْلَامِهِمْ فَرِحَهُمْ بِهَا » . (رو اه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৫
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ তাঁর মহব্বতকৃত বান্দার জন্য কি করেন
১৪৫. হযরত নুমান ইবন বশীর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: পারস্পরিক দয়া প্রদর্শন, পারস্পরিক মহব্বত এবং পারস্পরিক হৃদ্যতার ব্যাপারে মু'মিনদেরকে এক শরীরের ন্যায় দেখবে যখন শরীরের কোন অংশে কোন কষ্ট হয় তখন তামাম শরীর ব্যথা-বেদনা এবং জ্বরাক্রান্ত হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " تَرَى الْمُؤْمِنِينَ فِي تَرَاحُمِهِمْ ، وَتَوَادِّهِمْ ، وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى عُضْواً تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৬
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মু'মিনগণ পরস্পর একটি ইমারত সদৃশ
১৪৬. হযরত আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ﷺ বলেছেন: এক মু'মিন অপর মু'মিনের নিকট একটি ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তভাবে ধরে রাখে। অতঃপর নবী ﷺ তাঁর এক হাতের অঙ্গুলী অন্য হাতের অঙ্গুলীর মধ্যে ঢুকালেন। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ أَبِي مُوسَى ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : « المُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ ، يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا » ثُمَّ شَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ . (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৭
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উপরের হাদীসগুলোতে যেভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ মুসলমানদেরকে পরস্পর ভালবাসা ও সহানুভূতিমূলক আচরণ করতে এবং একদেহ ও একপ্রাণ হয়ে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনিভাবে এর বিপরীত আচরণ যেমন, পরস্পর কুধারণা পোষণ, কটুবাক্য বিনিময়, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা, কারো বিপদে আনন্দিত হওয়া, কাউকে কষ্ট দেওয়া এবং হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদির কঠোর নিন্দাবাদ এবং অত্যন্ত তাকীদের সাথে এগুলো থেকে নিষেধ করেছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।
১৪৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন: অপর সম্পর্কে ধারণা করা থেকে তোমরা সাবধান থাক। কেননা ধারণা করা সবচেয়ে বেশি অসত্য কথা, তোমরা সন্দেহ করো না, কারও ত্রুটি খুঁজে বের করো না, অপরকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করো না, একে অন্যকে ঈর্ষা করো না, ঘৃণা করো না এবং একে অন্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, বরং আল্লাহর বান্দাগণ পরস্পর ভাই হিসেবে থাক। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ ، وَلاَ تَحَسَّسُوا ، وَلاَ تَجَسَّسُوا ، وَلاَ تَنَاجَشُوا ، وَلاَ تَحَاسَدُوا ، وَلاَ تَبَاغَضُوا ، وَلاَ تَدَابَرُوا ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৮
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলিম ভাইকে হেয় জ্ঞান করা মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট
১৪৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তাকে যুলম করে না, সাহায্যহীন ছেড়ে দেয় না এবং তাকে হেয় করে না। অতঃপর নবী ﷺ তিনবার তাঁর বুকের দিকে ইশারা করে বললেনঃ তাকওয়া এখানে। মুসলিম ভাইকে হেয় জ্ঞান করা এক ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এক মুসলমানের রক্ত মাল এবং ইযযত অপর মুসলমানের কাছে সম্মানিত। (মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ ، لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ ، وَلَا يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هَاهُنَا » وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ « بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يُّحَقِّرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ ، دَمُهُ ، وَمَالُهُ ، وَعِرْضُهُ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৯
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো ত্রুটি অনুসন্ধান করলে আল্লাহ তার ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন
১৪৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং উচ্চস্বরে বললেনঃ হে জনগণ! তোমাদের যারা মুখে মুখে ইসলাম কবুল করেছ কিন্তু অন্তরে ইসলাম (এখনো পুরোপুরি) প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানদেরকে কষ্ট দিও না, তাদের নিন্দা করো না এবং তাদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করো না। কেননা যে তার মুসলিম ভাইয়ের ত্রুটি অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন এবং আল্লাহ যার ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন তাকে তিনি অপমানিত করবেন, এমনকি সে তার নিজের ঘরের মধ্যে থাকলেও। (তিরমিযী)
کتاب الاخلاق
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : صَعِدَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ فَنَادَى بِصَوْتٍ رَفِيعٍ ، يَا مَعْشَرَ مَنْ أَسْلَمَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يُفْضِى الإِيمَانُ إِلَى قَلْبِهِ ، لاَ تُؤْذُوا الْمُسْلِمِينَ وَلاَ تُعَيِّرُوهُمْ وَلاَ تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ ، فَإِنَّهُ مَنْ يَتَبَّعَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ يَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ ، وَمَنْ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ وَلَوْ فِي جَوْفِ رَحْلِهِ . (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫০
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঈর্ষা সৎকর্মকে খেয়ে ফেলে
১৫০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ঈর্ষা থেকে সাবধান থাক। যেরূপ আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে, ঈর্ষা সৎকর্মকে সেরূপ খেয়ে ফেলে। (আবু দাউদ)
کتاب الاخلاق
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ ، فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ (رواه ابو داؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫১
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঈর্ষা ও ঘৃণা হামাগুড়ি দিয়ে আসছে
১৫১. হযরত যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মুন্ডনকারী রোগ-ঈর্ষা ও ঘৃণা তোমাদের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে আসছে। আমি চুল মুন্ডনের কথা বলছি না, বরং তা হলো দীনের মুন্ডনকারী। (মুসনাদে আহমদ ও তিরমিযী)
کتاب الاخلاق
عَنِ الزُّبَيْر قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الْأُمَمِ قَبْلَكُمْ : الْحَسَدُ ، وَالْبَغْضَاءُ ، وَالْبَغْضَاءُ هِيَ : الْحَالِقَةُ ، لَا أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ ، وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدِّينَ ، (رواه احمد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫২
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সপ্তাহে দু'দিন আমল পেশ করা হয়
১৫২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেনঃ প্রত্যেক সপ্তাহে দু'দিন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল পেশ করা হয়। যে বান্দা তার ভাইয়ের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, সে ছাড়া প্রত্যেক মু'মিন বান্দাকে মাফ করে দেয়া হয়। বলা হয়, মিটমাট না করা পর্যন্ত এদের উভয়কে ছেড়ে দাও। (মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " تُعْرَضُ أَعْمَالُ النَّاسِ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّتَيْنِ ، يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ ، إِلَّا عَبْدًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ ، فَيُقَالُ : اتْرُكُوا ، أَوِ ارْكُوا ، هَذَيْنِ حَتَّى يَفِيئَا " (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৩
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করো না
১৫৩. হযরত ওয়াসিলা ইবন আসকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: তোমার ভাইয়ের বিপদে তুমি আনন্দ প্রকাশ করো না। (এরূপ করলে) আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করবেন এবং তোমাকে তাতে ফেলে দিবেন। (তিরমিযী)
کتاب الاخلاق
عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لاَ تُظْهِرِ الشَّمَاتَةَ لأَخِيكَ فَيَعَافِيْهِ اللَّهُ وَيَبْتَلِيكَ (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৪
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নম্রতা ও কঠোরতা
রাসূলুল্লাহ ﷺ নৈতিক চরিত্রের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর উপর সবিশেষ জোর দিয়েছেন এবং তাঁর নৈতিক শিক্ষায় যেগুলো বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে, এগুলোর মধ্যে একটি বিষয় এও যে, মানুষ যেন সকলের সাথে নম্র ও ভদ্র আচরণ করে এবং কঠোরতা ও কর্কশতা পরিহার করে চলে। এ ধারার কয়েকটি হাদীস এখানে পাঠ করে নিন।
দয়া ও নম্রতার সুফল
রাসূলুল্লাহ ﷺ নৈতিক চরিত্রের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর উপর সবিশেষ জোর দিয়েছেন এবং তাঁর নৈতিক শিক্ষায় যেগুলো বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে, এগুলোর মধ্যে একটি বিষয় এও যে, মানুষ যেন সকলের সাথে নম্র ও ভদ্র আচরণ করে এবং কঠোরতা ও কর্কশতা পরিহার করে চলে। এ ধারার কয়েকটি হাদীস এখানে পাঠ করে নিন।
দয়া ও নম্রতার সুফল
১৫৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা দয়ালু এবং দয়া ভালবাসেন। তিনি দয়া ও নম্রতার জন্য যা দান করেন, তা কঠোরতার জন্য দান করেন না এবং (এমনকি) যা দয়া ও নম্রতার জন্য দান করেন, তা অন্য কোন কিছুতে দান করেন না। (মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّ اللهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ ، وَيُعْطِي عَلَى الرِّفْقِ مَا لَا يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ ، وَمَا لَا يُعْطِي عَلَى مَا سِوَاهُ " (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৫
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দয়া ও নম্রতা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি কল্যাণ থেকে বঞ্চিত
১৫৫. হযরত জারীর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ যে দয়া ও নম্রতার গুণ থেকে বঞ্চিত, সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। (মুসলিম)
کتاب الاخلاق
عَنْ جَرِيرٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : « مَنْ يُحْرَمِ الرِّفْقَ ، يُحْرَمِ الْخَيْرَ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৬
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দয়াশীল ও নম্র ব্যক্তি সৌভাগ্যবান
১৫৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন: যাকে দয়া ও নম্রতার সৌভাগ্য দান করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ থেকে অংশ দান করা হয়েছে। যে দয়া ও নম্রতার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত, সে তার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। (শরহুসসুন্নাহ)
کتاب الاخلاق
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِن خَيْرِالدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَمَنْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ حُرِمَ حَظَّهُ مِن خَيْرِالدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ . (رواه البغوى فى شرح السنة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৭
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণের উদ্দেশ্যে আল্লাহ রিফক দেন
১৫৭. আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোন গৃহের লোকজনের কল্যাণ করার উদ্দেশ্য ছাড়া আল্লাহ তাদেরকে রিফক দান করার ইচ্ছা করেন না এবং তাদের ক্ষতি করা ছাড়া তাদেরকে রিফক থেকে বঞ্চিত করেন না। (বায়হাকীঃ শুয়াবুল ঈমান)
کتاب الاخلاق
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَا يُرِيدُ اللهُ بِأَهْلِ بَيْتٍ رِفْقًا إِلَّا نَفَعَهُمْ ، وَلَا يَحْرِمُهُمْ إِيَّاهُ إِلَّا ضَرَّهُمْ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৮
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দোযখ যার জন্য হারাম এবং যিনি দোযখের জন্য হারাম
১৫৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন ব্যক্তির খবর দিব না যে দোযখের জন্য হারাম এবং যার জন্য দোযখের আগুন হারাম? (তারা হলো) প্রত্যেক অনাড়ম্বর, ভদ্র, মিশুক (মানুষের নিকটবর্তী) এবং বিনম্র ব্যক্তি। (আবু দাউদ ও তিরমিযী)
کتاب الاخلاق
عَنْ عَبْدِاللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَنْ يَحْرُمُ عَلَى النَّارِ وَمَنْ تَحْرُمُ النَّارُ عَلَيْهِ؟ كُلُّ هَيِّنٍ لَيْنٍ قَرِيبٍ سَهْلٍ " (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৯
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দয়া ও নম্রতার সুফল
১৫৯. হারেছা ইবনে ওয়াহব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কটুবাক ও রুক্ষ-স্বভাব ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -আবু দাউদ
کتاب الاخلاق
عَنْ حَارِثَةَ ابْنِ وَهْبٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَّاظُ وَلَا الْجَعْظَرِيُّ » (رواه ابو داؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬০
আখলাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর স্বভাবের কোমলতা
১৬০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনায় দশ বছর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম। আমি তখন অল্প বয়স্ক এক তরুণ। এ জন্য আমার প্রতিটি কাজ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মর্জি অনুযায়ী হত না। (অর্থাৎ, কমবয়সী হওয়ার কারণে আমার পক্ষ থেকে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যেত।) কিন্তু দশ বছরের এ দীর্ঘ মেয়াদকালে তিনি কখনো "উহ্" শব্দ উচ্চারণ করে আমাকে তিরস্কার করেননি এবং কখনো একথা বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করলে অথবা এ কাজটি কেন করলে না। -আবূ দাউদ
کتاب الاخلاق
عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : « خَدَمْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ سِنِينَ بِالْمَدِينَةِ وَأَنَا غُلَامٌ لَيْسَ كُلُّ أَمْرِي كَمَا يَشْتَهِي صَاحِبِي أَنْ يَكُونَ عَلَيْهِ مَا قَالَ لِي فِيهَا أُفٍّ قَطُّ ، وَمَا قَالَ لِي لِمَ فَعَلْتَ هَذَا أَوْ أَلَّا فَعَلْتَ هَذَا » (رواه ابو داؤد)
তাহকীক: