মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ৭৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৫. অনুচ্ছেদ: সালামের পরে ইমামের মুক্তাদীগণের দিকে মুখ ফিরানো এবং নবী করীম (সা) থেকে সাহাবাদের বরকত গ্রহণ প্রসঙ্গে
(৭৬৭) জাবির ইবন ইয়াযিদ ইবন আসওয়াদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে বিদায় হজ্জ আদায় করলাম। রাবী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি ফিরে বসলেন, অথবা তাঁর চেহারাকে জনতার দিকে ফিরালেন। তখন তিনি জনতার পিছনে দু'জন লোককে দেখলেন, যারা সকলের সাথে সালাত আদায় করে নি। অতঃপর তাদের ঘটনা। উল্লেখ করেন। রাবী বলেন, জনগণ তখন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দিকে অগ্রসর হল আর আমিও তাদের সাথে অগ্রসর হলাম। তখন আমি পূর্ণ শক্ত সামর্থ যুবক ছিলাম। রাবী বলেন, আমি জনতার ভীড়কে ঠেলে উপেক্ষা করে রাসূলল্লাহ (সা)-এর নিকট পর্যন্ত পৌছলাম, এবং তাঁর হাত ধরলাম। অতঃপর তাঁর হাতকে আমার চেহারা বা বুকের উপর রাখলাম। রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হাতের চেয়ে অন্য কোন জিনিসকে অধিক সুগন্ধময় এবং অধিক ঠাণ্ডা পাই নাই। রাবী বলেন, তিনি তখন মসজিদে খায়ফে ছিলেন।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে, তিনি (রাবী) বলেন, তখন লোকজন এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হাত ধরতে থাকলেন। অতঃপর তা দ্বারা তাদের চেহারাসমূহ মাসহ করতে থাকলেন। রাবী বলেন, আমিও তাঁর হাত ধরলাম এবং তার দ্বারা আমার মুখমণ্ডল মাসহ করলাম। তখন আমি (রাবী) তাঁর হাতকে বরফের চেয়ে অধিক ঠাণ্ডা এবং মিশকের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময় পেলাম।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, তিরমিযী, এবং ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الصلاة
5 - باب استقبال الإمام الناس بوجهه عقب السلام وتبرك الصحابة بالنبي صلى الله عليه وسلم
(771) - عن جابر بن يزيد بن الأسود عن أبيه رضي الله عنه قال: حججنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة الوداع، قال: فصلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الصبح أو الفجر. قال: ثم انحرف جالسًا أو استقبل الناس بوجهه، فإذا هو برجلين من وراء الناس لم يصليا مع الناب فذكر قصتهما (1) قال: ونهض الناس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ونهضت معهم، وأنا يومئذ أشب الرجال وأجلده (2) قال: فما زلت أزحم الناس حتى وصلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذت بيده فوضعتها إما على وجهي أو صدري، قال: فما وجدت شيئًا أطيب ولا أبرد من يد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: وهو يومئذ في مسجد الخيف. وعنه من طريق ثان قال: ثم ثار الناس يأخذون بيده يمسحون بها وجوههم، قال: فأخذت بيده فمسحت بها وجهي فوجدتها أبرد من الثلج وأطيب ريحًا من المسك.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৫. অনুচ্ছেদ: সালামের পরে ইমামের মুক্তাদীগণের দিকে মুখ ফিরানো এবং নবী করীম (সা) থেকে সাহাবাদের বরকত গ্রহণ প্রসঙ্গে
(৭৬৮) জুহাইফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) (কোন একদিন) দ্বিপ্রহরের সময় বাতহা নামক স্থানের উদ্দেশ্যে বের হলেন। অতঃপর তিনি ওযু করলেন এবং যোহরের দু'রাকা'আত ও আসরের দু'রাকা'আত সালাত আদায় করলেন। এমতাবস্থায় তাঁর সামনে ছিল ছোট্ট একটা বর্শা। আর তাঁর পশ্চাতে গাধা ও নারীরা চলাচল করছিল। তারপর (সালাত শেষে) লোকজন দণ্ডায়মান হয়ে রাসূলল্লাহ (সা)-এর হাত ধরে সে হাত দ্বারা তাদের চেহারা মাসহ করতে লাগলেন। রাবী বলেন, তখন আমিও তাঁর হাত ধরলাম এবং আমার চেহারার উপর রাখলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, তাঁর হাত বরফের চেয়ে ঠাণ্ডা এবং মিশকের চেয়ে সুগন্ধিময়।
(বুখারী শরীফ।)
كتاب الصلاة
5 - باب استقبال الإمام الناس بوجهه عقب السلام وتبرك الصحابة بالنبي صلى الله عليه وسلم
(772) - عن أبي جحيفة رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم بالهاجرة (3) إلى البطحاء فتوضأ وصلى الظهر ركعتين والعصر ركعتين (4) وبين يديه عنزة (5) وكان يمر من ورائها الحمار والمرأة (6) ثم قام الناس فجعلوا يأخذون يده فيمسحون بها وجوههم، قال: فأخذت يده فوضعتها على وجهي فإذا هي أبرد من الثلج وأطيب ريحًا من المسك.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬. অনুচ্ছেদ: মুকতাদীদেরকে নিয়ে ইমামের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যাতে মহিলারা বের হয়ে যেতে পারে, এবং কিছু কথা, বা স্থানান্তর বা মসজিদ থেকে বের হয়ে ফরয ও নফলের মধ্যে বিরতি টানা প্রসঙ্গে
(৭৬৯) উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন (সালাত শেষে) সালাম ফিরাতেন তখন তাঁর সালাম ফিরানোর সাথে সাথে মহিলারা দাঁড়িয়ে পড়ত। আর রাসূলুল্লাহ (সা) দাঁড়ানোর পূর্বে তাঁর স্থানে কিছু সময় অবস্থান করতেন। (তাঁর থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায়) তিনি বলেন, নবী করীম (সা)-এর যামানায় তিনি যখন ফরয সালাত শেষে সালাম ফিরাতেন তখনই মহিলা মুসল্লিগণ দাঁড়িয়ে পড়ত। আর রাসূলুল্লাহ (সা) ও পুরুষ মুসল্লিগণ কিছুক্ষণ বসে থাকতেন। অতঃপর যখন রাসূল (সা) দাঁড়াতেন তখন পুরুষ মুসল্লিগণও (চলে যাবার জন্য) দাঁড়াতেন।
(ইমাম বুখারী বিভিন্ন অনুচ্ছেদে হাদীসটি সংকলন করেছেন।)
كتاب الصلاة
6 - باب مكث الإمام بالرجال قليلاً ليخرج النساء والفصل بين الفرض والنافلة بخروج أو كلام أو انتقال
(773) - عن أم سلمة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سلم قام النساء حين يقضي تسليمه، ويمكث في مكانه يسيرًا قبل أن يقوم. وعنها من طريق ثان (1) أن النساء في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سلم من الصلاة المكتوبة قمن وثبت رسول الله صلى الله عليه وسلم وثبت من صلى من الرجال ما شاء الله، فإذا قام رسول الله صلى الله عليه وسلم قام الرجال.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬. অনুচ্ছেদ: মুকতাদীদেরকে নিয়ে ইমামের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যাতে মহিলারা বের হয়ে যেতে পারে, এবং কিছু কথা, বা স্থানান্তর বা মসজিদ থেকে বের হয়ে ফরয ও নফলের মধ্যে বিরতি টানা প্রসঙ্গে
(৭৭০) সায়িব ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মু'আবিয়া ইবন্ আবু সুফইয়ানের পিছনে মাকসূরা নামক স্থানে জুমু'আর সালাত আদায় করলাম। অতঃপর তিনি যখন সালাম ফেরালেন, তখন আমি আমার স্থানে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং সালাত আদায় করলাম। তারপর তিনি (তাঁর কামরায়) প্রবেশ করে আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি যা করেছ পুনরায় তা করো না, যখন জুমু'আর (ফরয) সালাত আদায় করবে, তখন অন্য সালাত তার সাথে একত্রিত করো না। যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি কথা বলছ, বা বাহিরে না বের হয়েছ। কেননা নী করীম (সা) এরূপ করতে নির্দেশ করেছেন। তুমি এক সালাতকে অন্য সালাতের সাথে মিলাবে না, যতক্ষণ না তুমি কথা বলো অথবা বাইরে না যাও।
(মুসলিম, আবু দাউদ, ইমাম শাফেয়ী, বাইহাকী)
كتاب الصلاة
6 - باب مكث الإمام بالرجال قليلاً ليخرج النساء والفصل بين الفرض والنافلة بخروج أو كلام أو انتقال
(774) - عن السائب بن يزيد قال: صليت مع معاوية (بن أبي سفيان) الجمعة في المقصورة، فلما سلم قمت في مقامي فصليت، فلما دخل أرسل إليّ فقال: لا تعد لما فعلت، إذا صليت الجمعة فلا تصلها بصلاة حتى تتكلم أو تخرج، فإن نبي الله صلى الله عليه وسلم أمر بذلك، لا توصل صلاة بصلاة حتى تخرج أو تتكلم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬. অনুচ্ছেদ: মুকতাদীদেরকে নিয়ে ইমামের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যাতে মহিলারা বের হয়ে যেতে পারে, এবং কিছু কথা, বা স্থানান্তর বা মসজিদ থেকে বের হয়ে ফরয ও নফলের মধ্যে বিরতি টানা প্রসঙ্গে
(৭৭১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) থেকে বর্ণনা করা হয়, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি, ফরয সালাত আদায় শেষে সুন্নাত সালাত পিছে বা ডানে বামে সরে গিয়ে আদায় করে।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, এ হাদীসের সনদে ইব্রাহীম ইবন ইসমাঈল নামক একজন দুর্বল রাবী আছেন, তবে বাইহাকী হাদীসটি আরও দুটি সনদে একটু ভিন্ন ভাষায় কর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
6 - باب مكث الإمام بالرجال قليلاً ليخرج النساء والفصل بين الفرض والنافلة بخروج أو كلام أو انتقال
(775) - عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أيعجز (1) أحدكم إذا صلى أن يتقدم أو يتأخر أو عن يمينه أو عن شماله.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৭. অনুচ্ছেদ: সালাত আদায়ের পর মুসল্লী তার সালাতের স্থানে বসে থাকার ফযীলত
(৭৭২) 'আতা ইবন্ সায়িব আবূ আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আলী (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, যখন কোন বান্দা সালাতের পর সালাতের স্থানে বসে থাকে, তখন ফেরেস্তারা তার উপর দরূদ, দু'আ পড়তে থাকে। তাদের সে দু'আ হলোঃ হে আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা কর এবং তার উপর রহমত নাযিল কর। আর যখন সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করে তখন ফেরেশতারা তার জন্য দু'আ করে, সে দু'আটি হলো, হে আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা কর এবং তার উপর রহমত নাযিল কর। তাঁর থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে। তিনি বলেন, একদা আমি আবু আব্দুর রহমান আসসুলামীর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করে সালাতের স্থানে বসাছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি যদি বিছানায় যেতেন তাহলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন। তখন তিনি বললেন, আমি আলী (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে (এইরূপ) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে অতঃপর সালাতের স্থানে বসে থাকেন ফেরেশতারা তার জন্য দু'আ করে। (তারপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন)
(হাদীসটি অন্যত্র যাওয়া যায় নি। হাইছামী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এ হাদীসটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন। তাতে 'আতা ইবন সায়িব নামক এক রাবী আছেন, যিনি নির্ভরযোগ্য হলেও শেষ জীবনে তার স্মৃতি বিভ্রাট ঘটেছিল। তবে আহমদ আবদুর রহমান আল-বান্না বলেন, বুখারী, মুসলিম ও আহমদ বর্ণিত অনেক সহীহ হাদীস একে সমর্থন করে।)
كتاب الصلاة
7 - باب فضل جلوس المصلي في مصلاه بعد الصلاة
(776) - عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن (1) قال: سمعت عليًا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن العبد إذا جلس في مصلاه بعد الصلاة صلت عليه الملائكة، وصلاتهم عليه: اللهم اغفر له اللهم ارحمه، وإن جلس ينتظر الصلاة صلت عليه الملائكة، وصلاتهم عليه: اللهم اغفر له اللهم ارحمه. وعنه من طريق ثان (2) قال: دخلت على أبي عبد الرحمن السلمي وقد صلى الفجر وهو جالس في المجلس فقلت: لو قمت إلى فراشك كان أوطأ لك. فقال: سمعت عليًا رضي الله عنه يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من صلى الفجر ثم جلس في مصلاه صلت عليه الملائكة (وذكر نحو الحديث المتقدم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরে পড়ার জন্য অবতীর্ণ দু'আ সমূহের অনুচ্ছেদসমূহ

১ নং অধ্যায়: উক্ত বিষয়ে নিয়মিত পাঠের দু'আসমূহ
(৭৭৩) যায়েদ ইবন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করিম (সা) তাঁর সালাত শেষে বলতেন-

اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، أَنَا شَهِيدٌ أَنَّكَ أَنْتَ الرَّبُّ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ

(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিপালনকারী এবং সমস্ত বস্তুর প্রতিপালনকারী। আমি সাক্ষা দিচ্ছি, তুমিই প্রতিপালনকারী, তুমি একক তোমার কোন অংশীদার নেই, ইব্রাহীম (একজন রাবী) বলেন, দুই বার বলতেন।

اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ الْعِبَادَ كُلَّهُمْ إِخْوَةٌ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ اجْعَلْنِي مُخْلِصًا لَكَ وَأَهْلِي فِي كُلِّ سَاعَةٍ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ اسْمَعْ وَاسْتَجِبِ اللَّهُ الأَكْبَرُ الأَكْبَرُ نُورَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ اللَّهُ الأَكْبَرُ الأَكْبَرُ حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ اللَّهُ الأَكْبَرُ اللَّهُ الأَكْبَرُ

(অর্থাৎ তুমি আমাদের প্রতিপালনকারী এবং সমস্ত বস্তুর প্রতিপালনকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা) তোমার বান্দা ও রাসূল। তুমি আমাদের প্রতিপালনকারী এবং সমস্ত বস্তুর প্রতিপালনকারী, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সমস্ত বান্দা পরস্পর ভাই ভাই। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিপালনকারী এবং সমস্ত বস্তুর প্রতিপালনকারী। (হে আল্লাহ!) তুমি আমাকে এবং আমার পরিবারকে দুনিয়া এবং পরকালের প্রতি সময়ে তোমার একনিষ্ঠ বান্দা হিসাবে গ্রহণ কর। তুমি মহিমান্বিত ও সম্মানিত। তুমি শোন এবং ডাকে সাড়া দাও। আল্লাহ মহান, আল্লাহই মহান তিনি আকাশ ও যমীনসমূহের নূর। আল্লাহ মহান আল্লাহই মহান। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং উত্তম নির্ভরস্থল, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান।
(এক রাবী আছেন, যার সম্বন্ধে বিভিন্ন রকমের কথা আছে।)
كتاب الصلاة
أبواب الأذكار الواردة عقب الصلاة

(1) باب الأدعية الواردة من ذلك
(777) - عن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: في دبر صلاته: اللهم ربنا ورب كل شيء أنا شهيد (1) أنك أنت الرب وحدك لا شريك لك. قال إبراهيم (2) مرتين: ربنا ورب كل شيء، أنا شهيد أن محمدًا عبدك ورسولك، ربنا ورب كل شيء، أنا شهيد أن العباد كلهم إخوة (3)، اللهم ربنا ورب كل شيء اجعلني مخلصًا لك وأهلي (4) في كل ساعة من الدنيا والآخرة، ذا الجلال والإكرام اسمع (5) واستجب، الله الأكبر الأكبر نور السموات والأرض (6)، الله الأكبر الأكبر حسبي الله (7) ونعم الوكيل، الله الأكبر الأكبر.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরে পড়ার জন্য অবতীর্ণ দু'আ সমূহের অনুচ্ছেদসমূহ

১ নং অধ্যায়: উক্ত বিষয়ে নিয়মিত পাঠের দু'আসমূহ
(৭৭৪) মু'আয ইবন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন। একদিন নবী করীম (সা) তাঁর হাত ধরলেন। তারপর বললেন, হে মু'আয। নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালবাসি। অতঃপর রাসূল (সা)- মু'আয (রা) কে বললেন, হে মু'আয। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, অবশ্যই তুমি প্রত্যেক সালাতের শেষে (অন্য বর্ণনায় আছে প্রতি সালাতে। দু'আ করবে। দু'আতে তুমি বলবে-
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِك
(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার যিকর, তেমার শুকরিয়া জ্ঞাপন করার এবং তোমার ইবাদত সঠিক ও সুন্দরভাবে সমাধা করার কাজে আমাকে সাহায্য কর।)
(আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবন খুযাইমা, ইবন হিব্বান, হাকিম, তিনি বলেন, হাদীসটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে উন্নীত।)
كتاب الصلاة
أبواب الأذكار الواردة عقب الصلاة

(1) باب الأدعية الواردة من ذلك
(778) - حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا المقرئ حدثنا حيوة قال: سمعت عقبة بن مسلم التجيبي يقول: حدثني أبو عبد الرحمن الحبلي عن الصنابحي عن معاذ بن جبل رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم أخذ بيده يومًا ثم قال: يا معاذ إني لأحبك. فقال له معاذ: بأبي أنت وأمي (8) يا رسول الله وأنا أحبك. قال: أوصيك يا معاذ لا تدعن في دبر كل صلاة (وفي رواية في كل صلاة) (9) أن تقول: اللهم أعني على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك. قال: وأوصى بذلك معاذ الصنابحي أبا عبد الرحمن، وأوصى أبو عبد الرحمن عقبة بن مسلم.
হাদীস নং: ৭৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরে পড়ার জন্য অবতীর্ণ দু'আ সমূহের অনুচ্ছেদসমূহ

১ নং অধ্যায়: উক্ত বিষয়ে নিয়মিত পাঠের দু'আসমূহ
(৭৭৫) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (সা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তোমরা কি উত্তমভাবে দু'আ করার জন্য প্রচেষ্টা করতে ভালবাস? তাহলে তোমরা বলবে:
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِك
(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার শুকরিয়া জ্ঞাপন করার, তোমার যিকর, তোমার ইবাদত সঠিক ও সুন্দরভাবে সমাধা করার কাজে আমাকে সাহায্য কর।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি, তবে তার সনদ উত্তম। পূর্ববর্তী মু'আয (রা) এর হাদীস এ হাদীসকে শক্তিশালী করে।)
كتاب الصلاة
أبواب الأذكار الواردة عقب الصلاة

(1) باب الأدعية الواردة من ذلك
(779) - عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أتحبون أن تجتهدوا في الدعاء؟ قولوا: اللهم أعنا على شكرك وذكرك وحسن عبادتك.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরে পড়ার জন্য অবতীর্ণ দু'আ সমূহের অনুচ্ছেদসমূহ

১ নং অধ্যায়: উক্ত বিষয়ে নিয়মিত পাঠের দু'আসমূহ
(৭৭৬) উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেন) রাসূলুল্লাহ (সা) যখন ফজরের সালাত শেষে সালাম ফিরাতেন তখন বলতেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا وَاسِعًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
(অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট উপকারী বিদ্যা, প্রচুর সম্পদ এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করি। )
অপর এক বর্ণনায় আছে- رِزْقًا وَاسِعًا (অর্থাৎ প্রচুর সম্পদ)-এর স্থলে رِزْقاً طيباً (অর্থাৎ পবিত্র জীবিকা) উল্লেখ করা হয়েছে।)
(ইবন মাজাহ, ইবন আবু শাইবা। এ হাদীসের সনদে উম্মে সালামার আযাদকৃত অপরিচিত গোলাম ছাড়া বাকি রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
أبواب الأذكار الواردة عقب الصلاة

(1) باب الأدعية الواردة من ذلك
(780) - عن أم سلمة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول إذا صلى الصبح حين يسلم: اللهم إني أسألك علمًا نافعًا ورزقًا واسعًا (وفي رواية «طيبًا») وعملاً متقبلاً (1)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরে পড়ার জন্য অবতীর্ণ দু'আ সমূহের অনুচ্ছেদসমূহ

১ নং অধ্যায়: উক্ত বিষয়ে নিয়মিত পাঠের দু'আসমূহ
(৭৭৭) আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সালাতের বিবরণ প্রসঙ্গে বলেন, যখন সালাত শেষে সালাম ফিরাতেন তখন বলতেন-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
(অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমি যে অপরাধ পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, আর যা গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি এবং আমি যা বাড়াবাড়ি করেছি, এবং যে অপরাধ সম্পর্কে তুমি আমার অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত সে সব অপরাধ ক্ষমা করে দাও, তুমি শাশ্বত চিরঞ্জিব। তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মা'বুদ নেই।
(মুসলিম, শাফেয়ী, আবু দাউদ, দারাকুতনী। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب الأذكار الواردة عقب الصلاة

(1) باب الأدعية الواردة من ذلك
(781) - عن علي رضي الله عنه في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فإذا سلم من الصلاة قال: اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أسرفت وما أنت أعلم به مني، أنت المقدم وأنت المؤخر لا إله إلا أنت.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরে পড়ার জন্য অবতীর্ণ দু'আ সমূহের অনুচ্ছেদসমূহ

১ নং অধ্যায়: উক্ত বিষয়ে নিয়মিত পাঠের দু'আসমূহ
(৭৭৮) আবদুর রহমান ইবন্ হাসান আল কেনানী থেকে বর্ণিত যে, মুসলিম ইবন হারিস আত্ তামীমি তাঁর পিতার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে বলেছেন, তুমি ফজরের সালাত আদায় শেষ। করে অন্য কারো সাথে কথা বলার পূর্বেই পড়বে-اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি দাও।) এ দু'আটি সাত বার পড়বে। কেননা তুমি যদি ঐ দিন মারা যাও তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য ঐ দু'আটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় স্বরূপ করে দিবেন। আর যখন তুমি মাগরিবের সালাত আদায় করবে, তখন অন্য কোন মানুষের সাথে কথা বলার আগে পড়বে- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ النَّار (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাত কামনা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি দাও) এই দু'আটি সাতবার পড়বে। কেননা যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও, তাহলে আল্লাহ তা'আলা ঐ দু'আটিকে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় স্বরূপ করে দিবেন।
(আবু দাউদ, নাসায়ী, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
أبواب الأذكار الواردة عقب الصلاة

(1) باب الأدعية الواردة من ذلك
(782) - عن عبد الرحمن بن حسان الكناني أن مسلم بن الحارث التميمي حدثه عن أبيه رضي الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا صليت الصبح فقل قبل أن تكلم أحدًا من الناس: اللهم أجرني من النار سبع مرات، فإنك إن مت من يومك ذلك كتب الله عز وجل لك جوارًا من النار، وإذا صليت المغرب فقل قبل أن تكلم أحدًا من الناس: اللهم إني أسألك الجنة، اللهم أجرني من النار سبع مرات، فإنك إن مت من ليلتك تلك كتب الله عز وجل لك جوارًا من النار.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরে পড়ার জন্য অবতীর্ণ দু'আ সমূহের অনুচ্ছেদসমূহ

১ নং অধ্যায়: উক্ত বিষয়ে নিয়মিত পাঠের দু'আসমূহ
(৭৭৯) শাদ্দাদ ইবন আউস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে কতগুলো বাক্য শিখাতেন, যা দ্বারা আমরা সালাতে বা সালাত শেষে দু'আ করতাম, তা হলোঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ، وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ، وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا، وَلِسَانًا صَادِقًا، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ

(অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট কাজ কর্মে স্থিতি কামনা করি এবং তোমার নিকট সৎ পথের প্রত্যয় কামনা করছি তোমার নিকট তোমার অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায়ের (শক্তি) কামনা করছি। এবং তোমার উত্তম ইবাদতের (শক্তি) কামনা করছি। আমি তোমার নিকট সঠিক অন্তর এবং সত্য যবান কামনা করছি। আমি তোমার অজ্ঞাত (অপরাধ) থেকে ক্ষমা চাই। আমি তোমার জ্ঞাত কল্যাণ কামনা করছি এবং তোমার কাছে অকল্যাণ থেকে মুক্তি চাচ্ছি।
(নাসায়ী, তিরমিযী।)
كتاب الصلاة
أبواب الأذكار الواردة عقب الصلاة

(1) باب الأدعية الواردة من ذلك
(783) - عن شداد بن أوس رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا كلمات ندعو بهن في صلاتنا أو (1) قال: في دبر صلاتنا: اللهم إني اسألك الثبات في الأمر (2) وأسألك عزيمة الرشد، وأسألك شكر نعمتك، وحسن عبادتك، وأسألك قلبًا سليمًا (3) ولسانًا صادقًا، وأستغفرك لما لا تعلم وأسألك من خير ما تعلم (4) وأعوذ بك من شر ما تعلم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: সালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর ও ইস্তেগফার পাঠ করা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হাদীসসমূহ
(৭৮০) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাত শেষে سُبْحَانَ الله আল্লাহর পবিত্রতা তেত্রিশ বার। َ الْحَمْدُ لِلَّه (সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য) তেত্রিশ বার, ও اللَّهُ أَكْبَر (আল্লাহ মহান) তেত্রিশবার পড়বে তাতে সব মিলে নিরানব্বই বার হবে। তার পর শততম পূরণার্থে বলবে- وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِير لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।)
(যে ব্যক্তি এরূপ করবে) তার সমস্ত অপরাধ এখানে সমগ্র অপরাধ বলতে সমস্ত সাগীরাহ গুনাহর কথা বুঝানো হয়েছে, ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদিও তার অপরাধ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী এবং তিরমিযী, উক্ত হাদীসটি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। এর শেষোক্তজন হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما جاء في التسبيح والتحميد والتكبير والاستغفار عقب الصلوات
(784) - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من سبح الله في دبر كل صلاة ثلاثًا وثلاثين، وحمد الله ثلاثًا وثلاثين، وكبر الله ثلاثًا وثلاثين، فتلك تسع وتسعون، ثم قال: تمام المائة لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، غفر له خطاياه وإن كانت مثل زبد البحر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: সালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর ও ইস্তেগফার পাঠ করা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হাদীসসমূহ
(৭৮১) মুহাম্মদ ইবন্ আবু আয়েশা আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেন যে, একদা আবূ যার (রা) রসূল (সা)-কে বললেন; হে আল্লাহর রাসূল। ধনীরা তো অনেক সওয়াবের মালিক হয়ে যাচ্ছে। তারা সালাত আদায় করে যেরূপ আমরা সালাত আদায় করি। তারা রোযা রাখে যেরূপ আমরা রোযা রাখি। উপরন্তু তাদের রয়েছে অঢেল সম্পদ যা তারা দান করে, অথচ আমাদের দান করার মত কিছুই নেই। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন; আমি কি তোমাদের এমন কিছু কলেমার কথা বলে দিব? যে মতে (নিয়মিত) আমল করলে, যারা তোমাকে অতিক্রম করে গেছে, তুমি তাদের স্তরে পৌছতে পারবে, তোমার অনুরূপ আমল করা ছাড়া কেউ তোমার নাগাল পাবে না। আমি বললাম অবশ্যই বলবেন, হে আল্লাহর রাসূল! অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : প্রতি সালাতের পরে তেত্রিশ বার "আল্লাহু আকবার" তেত্রিশ বার "সুবহানাল্লাহ" এবং তেত্রিশবার "আলহামদু লিল্লাহ" পড়বে এবং لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ বলে সমাপ্ত করবে।
(অন্য ভাষায় বর্ণিত আছে), তুমি প্রতি সালাতের পর তেত্রিশবার "সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার "আলহাম্দু লিল্লাহ্ এবং চৌত্রিশবার "আল্লাহু আকবার" পড়বে।
(নাসায়ী, ইবন হাব্বান, ইবন খোযাইমা ও দারিমী। হাদীসটি সহীহ।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما جاء في التسبيح والتحميد والتكبير والاستغفار عقب الصلوات
(785) عن محمد بن أبي عائشة عن أبي هريرة أنه حدثهم أن أبا ذر رضي الله عنه قال: يا رسول الله ذهب أصحاب الدثور (2) بالأجور يصلون كما نصلي ويصومون كما نصوم ولهم فضول أموالهم يتصدقون بها، وليس لنا ما نتصدق به، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أفلا أدلك على كلمات إذا عملت بهن أدركت من سبقك ولا يلحقك إلا من أخذ بمثل عملك؟ قلت: بلى يا رسول الله. قال: تكبر دبر كل صلاة ثلاثًا وثلاثين، وتسبح ثلاثًا وثلاثين، وتحمد ثلاثًا وثلاثين، وتختمها بلا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، (وفي لفظ «تسبح الله خلف كل صلاة ثلاثًا وثلاثين، وتحمد ثلاثًا وثلاثين، وتكبر أربعًا وثلاثين»).
হাদীস নং: ৭৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: সালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর ও ইস্তেগফার পাঠ করা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হাদীসসমূহ
(৭৮২) যায়েদ ইবন্ সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতি সালাতের পরে তেত্রিশ বার "সুবহানাল্লাহ" তেত্রিশ বার "আলহামদলিল্লাহ" এবং চৌত্রিশবার "আল্লাহু আকবার" পড়ার আদেশ করা হয়েছে। অতঃপর আনসারদের মধ্য হতে এক ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখানো হলো, তাঁকে তাতে জিজ্ঞাসা করা হল: তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা) প্রতি সালাতের পর এরূপ এরূপ তাসবীহ পড়ার আদেশ করেছেন কি? আনসারী (রা) স্বপ্নেই উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, লোকটি বললো, তোমরা ঐ তাসবীহকে পঁচিশ পঁচিশ বারে পরিণত কর। (অর্থাৎ পঁচিশ বার পঁচিশ বার করে পড়।) এবং এর মাঝে একবার তাহলীল অর্থাৎ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّه অতঃপর ঐ সাহাবী সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে অতি প্রত্যুষে রাসূল (সা)-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়টি জানালেন, তখন রাসুল (সা) বললেন: (তুমি যেরূপ দেখেছ সেরূপ) কর।
(ইমাম তিরমিয়ী হাদীসটি রেওয়াতে বর্ণনা করেন এবং বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। নববী বলেন, হাদীসটি আবু দাউদ নাসায়ী ও তিরমীযি বর্ণনা করেছেন, এবং তার সনদ সহীহ।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما جاء في التسبيح والتحميد والتكبير والاستغفار عقب الصلوات
(786) عن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال: أمرنا (3) أن نسبح في دبر كل صلاة ثلاثًا وثلاثين، وتحمد ثلاثًا وثلاثين، وتكبر أربعًا وثلاثين. فأتى رجل في المنام من الأنصار، فقيل له: أمركم رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تسبحوا في دبر كل صلاة كذا وكذا؟ قال الأنصاري في منامه: نعم. قال: فاجعلوها خمسًا وعشرين خمسًا وعشرين، واجعلوا فيها التهليل، فلما أصبح غدا على النبي صلى الله عليه وسلم فأخبره فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فافعلوا (1).
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: সালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর ও ইস্তেগফার পাঠ করা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হাদীসসমূহ
(৭৮৩) আব্দুল্লাহ্ ইবন আমার ইবনুল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি দু'টি অভ্যাসে নিয়মিত অভ্যস্থ হবে সে ব্যক্তিকে ঐ অভ্যাস দু'টি জান্নাতে প্রবেশ করাবে। অভ্যাস দু'টি খুব সহজ, যারা এর উপর আমল করে তাদের সংখ্যা খুব কম। তখন উপস্থিত সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে দু'টি কি? উত্তরে রাসূল (সা) বললেন: তা হলো প্রতি ফরয সালাতের পর দশ বার দশ বার করে "আল হামদু লিল্লাহ" "আল্লাহু আকবার" এবং "সুবহানাল্লাহ" পড়া। আর যখন তুমি শয্যায় যাবে। অর্থাৎ ঘুমাতে যাবে (তখন) একশত বার "সুবহানাল্লাহ" "আল হামদুলিল্লাহ" এবং" আল্লাহু আকবার" পড়বে। সুতরাং পরিসংখ্যানে মুখে দুই শত পঞ্চাশ বার পড়া হবে, কিন্তু মিযানের পাল্লায় দু'হাজার পাঁচ শতবার গণনা হবে। তোমাদের মধ্যে কে আছে এমন যে, দিবা-রাত্রি দু'হাজার পাঁচশতটি পাপ কাজ করে? তখন উপস্থিত সাহাবাগণ বললেন, কিভাবে এর আমলকারীর সংখ্যা কম হয়? (অর্থাৎ উপস্থিত সাহাবাগণ খুব বিস্মিত হয়ে) রাসূল (সা)-এর নিকট জানতে চাইলেন। যখন এতে প্রচুর সওয়াব তাহলে তো এর আমলকারীদের সংখ্যা বেশী হওয়া উচিত অথচ আমলকারীদের সংখ্যা এত কম হয় কিভাবে? উত্তরে রাসূল (সা) বললেন, সালাতের মধ্যে তোমাদের প্রত্যেকের কাছে শয়তান আসে, অতঃপর এটা সেটা প্রয়োজনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, ফলে সে আর এই তাসবীহ পড়ে না। অনুরূপভাবে ঘুমাবার সময় আসে এবং তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। ফলে সে আর তাসবীহ পড়ে না। রাবী বলেন, আমি রাসূল (সা)-কে দেখেছি যে, তিনি এ হাদীস বর্ণনা করার সময় তাঁর হাত দ্বারা এ তাসবীহগুলো গণনা করেছেন।
كتاب الصلاة
2 - باب ما جاء في التسبيح والتحميد والتكبير والاستغفار عقب الصلوات
(787) عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خلتان (2) من حافظ عليهما أدخلتاه الجنة، وهما يسير (3)، ومن يعمل بهما قليل. قالوا: وما هما يا رسول الله؟ قال: أن تحمد الله وتكبره وتسبحه في دبر كل صلاة مكتوبة عشرًا عشرًا (4)، وإذا أتيت إلى مضجعك تسبح الله وتكبره وتحمده مائة مرة. فتلك خمسون ومائتان باللسان وألفان وخمسمائة في الميزان، فأيكم يعمل في اليوم والليلة ألفين وخمسمائة سيئة؟ قالوا: كيف مَن يعمل بها قليل؟ (1) قال: يجيء أحدكم الشيطان في صلاته فيذكره حاجة كذا وكذا فلا يقولها (2) ويأتيه عند منامه فينومه فلا يقولها: قال: ورأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يعقدهن بيده (3).
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: সালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর ও ইস্তেগফার পাঠ করা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হাদীসসমূহ
(৭৮৪) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি ও ফাতিমা (রা) রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে কয়েদীদের থেকে একজনকে খাদিম হিসেবে চাইলেন যাতে সে তাদের কিছু কাজ হালকা লাঘব করে দিতে পারে। রাসূল (সা) তাদেরকে এ ব্যাপারে অসম্মতি জানালেন এবং একটি ঘটনা বলেন। রাবী বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তোমরা যা আমার কাছে চেয়েছো, আমি কি তোমাদেরকে তার চেয়ে একটি উত্তম বিষয়ের সংবাদ দিব না? তখন তাঁরা উভয়ে বলে উঠলেন, হ্যাঁ, অতঃপর রাসূল (সা) বললেন তা হলো এমন কিছু কালেমা, যা আমকে জিবরাঈল (আ) শিক্ষা দিয়েছেন। রাসূল (সা) বললেন! তোমরা উভয়ে প্রতি সালাতের পর দশবার "সুবহানাল্লাহ" দশ বার "আলহামদু লিল্লাহ" এবং দশবার "আল্লাহু আকবার" পরবে। আর যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় আশ্রয় নিবে (অর্থাৎ ঘুমাতে যাবে) তখন তোমরা তেত্রিশবার "সুবহানাল্লাহ", তেত্রিশ বার" আলহামদুলিল্লাহ্” এবং চৌত্রিশ বার "আল্লাহু আকবার" পড়বে।
আলী (রা) বলেন, আল্লাহর কসম আমি কখনো এই কালেমাগুলো ছাড়ি নাই, যখন থেকে আল্লাহর রাসূল (সা) আমাকে তা শিক্ষা দিয়েছে।
রাবী বলেন: একথা শুনে ইবন কাওয়া তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, সিফফিনের রাতেও নয়? (অর্থাৎ সিফফীনের রাতেও এ আমল করেছেন?) উত্তরে তিনি বললেন: আল্লাহ্ তোমাদের ধ্বংস করুক। হে ইরাকবাসী! সিম্ফীনের রাতেও না। (অর্থাৎ সিফস্ফীনের রাতেও আমি তা পড়েছি।)
(টীকাঃ যে রাতে ফোরাত নদীর কাছে আলী (রা) ও সিরিয়াবাসীদের মধ্যে হযরত ওসমান (রা)-এর হত্যার কারণে তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল।)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما جاء في التسبيح والتحميد والتكبير والاستغفار عقب الصلوات
(788) عن علي رضي الله عنه وقد جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم هو وفاطمة رضي الله عنها يطلبان خادمًا من السبي يخفف عنهما بعض العمل فأبى عليهما ذلك فذكر قصة (4) قال: ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم لهما: ألا أخبركما بخير مما سألتماني؟ قالا: بلى. فقال: كلمات علمنيهن جبريل عليه السلام، فقال: تسبحان في دبر كل صلاة عشرًا، وتحمدان عشرًا، وتكبران عشرًا، وإذا أويتما إلى فراشكما فسبحا ثلاثًا وثلاثين، واحمدا ثلاثًا وثلاثين، وكبرا أربعًا وثلاثين، قال: فوالله ما تركتهن منذ علمنيهن (5) رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: فقال له ابن الكواء: ولا ليلة صفين؟ فقال: قاتلكم الله يا أهل العراق، نعم ولا ليلة صفين.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: সালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর ও ইস্তেগফার পাঠ করা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হাদীসসমূহ
(৭৮৫) আবু উমর আসসানী থেকে বর্ণিত, তিনি আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর অভ্যাস ছিল যখন তাঁর কাছে কোন মেহমান আসত, তখন তিনি (আবু দারদা (রা) তাকে (মেহমানকে) বলতেন, আমি তোমার জন্য ঐ জিনিস অপেক্ষা উত্তম কোন জিনিস পাচ্ছি না, যা আমাদেরকে রাসুল (সা) আদেশ করেছেন।
একদা আমরা রাসূল (সা)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ধনীরা তো অনেক সওয়াবের অধিকারী হয়ে যাচ্ছে, (যেমন) তারা হজ্জ করে, আমরা হজ্জ করতে পারি না, তারা জিহাদ করে আমরা জিহাদ করতে পারি না, এরূপ আরো অনেক কিছু। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিসের কথা বলবো না? যদি তোমরা সে জিনিসটি আকড়ে ধর (অর্থাৎ নিয়মিত পালন কর) তাহলে তোমরা পৌছবে এমন উচ্চ মর্যাদায়, যেখানে তাদের কেউ পৌছতে পারবে না। সে জিনিসটি হল, তোমরা প্রতি সালাতের পরে চৌত্রিশ বার "আল্লাহু আকবার, তেত্রিশ বার "সুবহানাল্লাহ" এবং তেত্রিশবার "আলহামদুলিল্লাহ" বলবে।
(তাঁর থেকেই, অন্য আর এক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, একদা আবু দারদা (রা) এর নিকট এক ব্যক্তি আসল, আবু দারদা (রা) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি মুকীম (তথা কিছু দিন থাকবে) তা হলে আমরা তোমার বাহন চারণভূমিতে ছেড়ে দিই, আর অল্প কিছুক্ষণ থেকে চলে গেলে আমরা তার খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিই। উত্তরে মেহমান বলল, আমি কিছুক্ষণ থেকে চলে যাব, তখন আবু দারদা (রা) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি তোমার জন্য এমন পাথেয় সরবরাহ করব যে, যদি এর চেয়ে উত্তম কোন কিছু পেতাম, তাহলে অবশ্যই তাই তোমাকে দিতাম।
(আর তা হলো) একদা আমি রাসূল (সা)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ধনীরা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই অর্জন করছে। (কেননা) আমরা সালাত আদায় করি, তারাও সালাত আদায় করে, আমরা রোযা রাখি তারাও রোযা রাখে, (উপরন্তু) তারা দান-খয়রাত করে যা আমরা করতে পারি না (এ কথা শুনে) রাসূল (সা) বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি আমলের সন্ধান দিব না? যদি তুমি সে আমলটি করতে পার, তাহলে সে আমল না করে তোমার পূর্বে কেউ তোমাকে অতিক্রম করতে পারবে না এবং পরের কেউ তোমার পর্যন্ত পৌছতে পারবে না। (আর সে আমলটি হলো) প্রতি সালাত শেষে তেত্রিশ বার "সুবহানাল্লাহ" তেত্রিশ বার" আলহামদু লিল্লাহ" এবং চৌত্রিশবার "আল্লাহু আকবার" পাঠ করা।
(হাইছামী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এ হাদীসটি আহমদ, বাযযার ও তবারানী বিভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন, আর তবারানীর একটি সনদের রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما جاء في التسبيح والتحميد والتكبير والاستغفار عقب الصلوات
(789) عن أبي عمر الصيني عن أبي الدرداء رضي الله عنه أنه كان إذا نزل به ضيف قال: يقول له أبو الدرداء: مقيم فنسرح (1) أو ظاعن فنعلف؟ قال: فإن قال: له: ظاعن، قال له: ما أجد لك شيئًا خيرًا من شيء أمرنا به رسول الله صلى الله عليه وسلم، قلنا: يا رسول الله ذهب الأغنياء بالأجر، يحجون ولا نحج، ويجاهدون ولا نجاهد، وكذا وكذا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألا أدلكم على شيء إن أخذتم به جئتم من أفضل ما يجيء به أحد منهم: أن تكبروا الله أربعًا وثلاثين، وتسبحوه ثلاثًا وثلاثين، وتحمدوه ثلاثًا وثلاثين في دبر كل صلاة. وعنه من طريق ثان (2) قال: نزل بأبي الدرداء رجل فقال أبو الدرداء: مقيم فنسرح أم ظاعن فنعلف؟ قال: بل ظاعن. قال: فإني سأزودك زادًا لو أجد ما هو أفضل منه لزودتك، أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله ذهب الأغنياء بالدنيا والآخرة، نصلي ويصلون، ونصوم ويصومون، ويتصدقون ولا نتصدق. قال: ألا أدلك على شيء إن أنت فعلته لم يسبقك أحد كان قبلك ولم يدركك أحد بعدك إلا من فعل الذي تفعل، دبر (1) كل صلاة ثلاثًا وثلاثين تسبيحة، وثلاثًا وثلاثين تحميدة، وأربعًا وثلاثين تكبيرة.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: সালাতের পরে তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর ও ইস্তেগফার পাঠ করা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হাদীসসমূহ
(৭৮৬) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর গোলাম সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল (সা) সালাত শেষে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন। তখন তিন বার "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়তেন। তারপর পড়তেন এ দু'আটি اللهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময় এবং তোমার থেকেই শান্তি। তুমি বরকতময় হে মহিমান্বিত ও সম্মানিত।)
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবন মাজাহ।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما جاء في التسبيح والتحميد والتكبير والاستغفار عقب الصلوات
(790) عن ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد أن ينصرف (2) من صلاته استغفر ثلاث مرات ثم قال: اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذا الجلال والإكرام.
tahqiq

তাহকীক: