মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৭২৪ টি
হাদীস নং: ৭৯১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৮৭) মুসলিম ইবন্ আবু বাকরাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতার থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সা) প্রতি সালাত শেষে (এই দু'আটি), পাঠ করতেন اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، وَعَذَابِ الْقَبْر (অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট কুফরী দারিদ্রতা এবং কবরের আযাব হ'তে পানাহ চাই।)
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত আছে)। তিনি (মুসলিম ইবন্ আবূ বাকরাহ) একদা তাঁর পিতার নিকট দিয়ে গমন করছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর পিতা দু'আ করতে গিয়ে বলছিলেন-
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফরী, দারিদ্রতা এবং কবরের আযাব হতে পানাহ চাই।)
রাবী বলেন, তখন আমি তাঁর থেকে তা গ্রহণ করলাম। এবং প্রতি সালাত শেষে তা পাঠ করতে লাগলাম, রাবী বলেন, একদা আমার পিতা আমার নিকট দিয়েই গমন করছিলেন আর আমি ঐ দু'আ পাঠ করছিলাম। তখন তিনি বললেন, হে বৎস। তুমি এ কথাগুলো কোথা থেকে শিখলে। রাবী বলেন, প্রতি সালাত শেষে আপনাকে দুআ করতে শুনেছি, এবং তা থেকেই শিখে নিয়েছি। তিনি বললেন হে বৎস! এগুলো নিজের উপরে বাধ্যতামূলক করে নাও, কেননা, রাসূল (সা) প্রত্যেক সালাত শেষে এই দু'আটি করতেন।
(তিরমিযী, নাসায়ী।)
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত আছে)। তিনি (মুসলিম ইবন্ আবূ বাকরাহ) একদা তাঁর পিতার নিকট দিয়ে গমন করছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর পিতা দু'আ করতে গিয়ে বলছিলেন-
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফরী, দারিদ্রতা এবং কবরের আযাব হতে পানাহ চাই।)
রাবী বলেন, তখন আমি তাঁর থেকে তা গ্রহণ করলাম। এবং প্রতি সালাত শেষে তা পাঠ করতে লাগলাম, রাবী বলেন, একদা আমার পিতা আমার নিকট দিয়েই গমন করছিলেন আর আমি ঐ দু'আ পাঠ করছিলাম। তখন তিনি বললেন, হে বৎস। তুমি এ কথাগুলো কোথা থেকে শিখলে। রাবী বলেন, প্রতি সালাত শেষে আপনাকে দুআ করতে শুনেছি, এবং তা থেকেই শিখে নিয়েছি। তিনি বললেন হে বৎস! এগুলো নিজের উপরে বাধ্যতামূলক করে নাও, কেননা, রাসূল (সা) প্রত্যেক সালাত শেষে এই দু'আটি করতেন।
(তিরমিযী, নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(791) - عن مسلم بن أبي بكرة عن أبيه رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في دبر كل صلاة: اللهم إني أعوذ بك من الكفر والفقر (1) وعذاب القبر. وعنه من طريق ثان (1) أنه مر بوالده وهو يدعو ويقول: اللهم إني أعوذ بك من الكفر والفقر وعذاب القبر. قال: فأخذتهن عنه، وكنت أدعو بهن في دبر كل صلاة. قال: فمر بي وأنا أدعو بهن فقال: يا بني أنّى عقلت هؤلاء الكلمات؟ قال: يا أبتاه سمعتك تدعو بهن في دبر كل صلاة فأخذتهن عنك. قال: فالزمهن (2) يا بني فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يدعو بهن في دبر كل صلاة.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৮৮) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেন) রাসূল (সা) বিতর সালাত শেষে এ দু'আটি করতেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سُخْطِكَ، وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِك .
(অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই, তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার ক্রোধ হতে, তোমার ক্ষমার মাধ্যমে তোমার শাস্তি হতে, আর শুধু তোমার কাছেই আশ্রয় চাই। তোমার প্রশংসা শেষ করা যায় না; তুমি সেই প্রশংসার যোগ্য যে প্রশংসা তুমি নিজে নিজের জন্য করেছে)
(বাইহাকী, হাকিম, ইবন হাব্বান, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবন মাজাহ। হাদীসটি মুসলিম ইত্যাদি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন।)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سُخْطِكَ، وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِك .
(অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই, তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার ক্রোধ হতে, তোমার ক্ষমার মাধ্যমে তোমার শাস্তি হতে, আর শুধু তোমার কাছেই আশ্রয় চাই। তোমার প্রশংসা শেষ করা যায় না; তুমি সেই প্রশংসার যোগ্য যে প্রশংসা তুমি নিজে নিজের জন্য করেছে)
(বাইহাকী, হাকিম, ইবন হাব্বান, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবন মাজাহ। হাদীসটি মুসলিম ইত্যাদি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(792) - عن علي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في آخر وتره. اللهم إني أعوذ برضاك من سخطك، وأعوذ بمعافاتك من عقوبتك (1)، وأعوذ بك منك (2)، لا أحصي ثناء عليك (3)، أنت كما أثنيت على نفسك.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৮৯) মুগীরা ইবন শু'বার কাতিব ওয়াররাদ থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেন) মুগীরা (রা) একবার মু'আবিয়া (রা)-কে লিখে পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) (সালাত শেষে) যখন সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন- لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَد
(অর্থাৎ আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য কোন সত্যা, মা'বুদ নাই। তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার কাছে (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।)
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন যে, মু'আবিয়া (রা) মুগীরা (রা)-এর নিকট এই মর্মে ফরমান লিখে পাঠালেন যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট থেকে যা কিছু শ্রবণ করেছ তা থেকে কিছু লিখে আমার কাছে পাঠাও। তার উত্তরে মুগীরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বাকি হাদীসটি পূর্বে বর্ণিত হাদীসের মতই উল্লেখ করেন।
(তৃতীয় সূত্রে বণির্ত আছে যে.) আবদা ইবন্ আবূ লাবাবা থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) মুগীরা ইবন্ শু'বার আযাদকৃত গোলাম ওয়াররাদ (রা) তাঁকে জানিয়েছেন যে, মুগীরা ইবন্ শু'বা (রা) মু'আবিয়া (রা)-এর নিকট যে, পত্রখানা লিখেছিলেন, তা ওয়াররাদ লিখে দিয়েছিলেন তাতে লিখা ছিল যে,) আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সা) সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ এ দু'আর পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ এবং সবশেষে ওয়াররাদ বলেন: পরবর্তীতে আমি যখন মু'আবিয়া (রা)-এর দরবারে গেলাম, তখন তাঁকে মিম্বারে (দাঁড়িয়ে)লোকজনকে এ কথার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং লিখাচ্ছেন শুনতে পেলাম।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(অর্থাৎ আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য কোন সত্যা, মা'বুদ নাই। তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার কাছে (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।)
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন যে, মু'আবিয়া (রা) মুগীরা (রা)-এর নিকট এই মর্মে ফরমান লিখে পাঠালেন যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট থেকে যা কিছু শ্রবণ করেছ তা থেকে কিছু লিখে আমার কাছে পাঠাও। তার উত্তরে মুগীরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বাকি হাদীসটি পূর্বে বর্ণিত হাদীসের মতই উল্লেখ করেন।
(তৃতীয় সূত্রে বণির্ত আছে যে.) আবদা ইবন্ আবূ লাবাবা থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) মুগীরা ইবন্ শু'বার আযাদকৃত গোলাম ওয়াররাদ (রা) তাঁকে জানিয়েছেন যে, মুগীরা ইবন্ শু'বা (রা) মু'আবিয়া (রা)-এর নিকট যে, পত্রখানা লিখেছিলেন, তা ওয়াররাদ লিখে দিয়েছিলেন তাতে লিখা ছিল যে,) আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সা) সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ এ দু'আর পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ এবং সবশেষে ওয়াররাদ বলেন: পরবর্তীতে আমি যখন মু'আবিয়া (রা)-এর দরবারে গেলাম, তখন তাঁকে মিম্বারে (দাঁড়িয়ে)লোকজনকে এ কথার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং লিখাচ্ছেন শুনতে পেলাম।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(793) - عن وراد كاتب المغيرة بن شعبة أن المغيرة رضي الله عنه كتب إلى معاوية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا سلم قال: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد (5) وهو على كل شيء قدير، اللهم لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد (6). وعنه من طريق ثان (1) قال: كتب معاوية إلى المغيرة أن اكتب إلي بشيء سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: كان إذا صلى ففرغ قال: لا إله إلا الله (فذكر الحديث بنحو ما تقدم). ومن طريق ثالث (2) عن عبدة بن أبي لبابة أن ورادًا مولى المغيرة بن شعبة أخبره أن المغيرة بن شعبة كتب إلى معاوية، كتب ذلك الكتاب له وراد: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول حين يسلم: لا إله إلا الله (الحديث) وفي آخره قال وراد: ثم وفدت بعد ذلك على معاوية فسمعته على المنبر يأمر الناس بذلك القول ويعلمهموه.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৯০) উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) রাসুলুল্লাহ (সা) সালাত শেষে যখন সালাম ফিরাতেন তখন বলতেন- اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ (হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময় এবং তোমার থেকেই শান্তি, তুমি বরকতময়। হে মহিমান্বিত ও সম্মানিত।)
(আবূ দাউদ, নাসায়ী এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
(আবূ দাউদ, নাসায়ী এ হাদীসের সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(794) - عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا سلم من الصلاة قال: اللهم أنت السلام، ومنك السلام، تباركت يا ذا الجلال والإكرام.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৯১) আবূ যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ্ ইবন যুবাইর (রা)-কে এই মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা) যখন সালাত বা সালাতসমূহের পরে সালাম ফিরাতেন তখন বলতেন-
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُون
(অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তিনি একক। তাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো শক্তি সামর্থ নেই। আল্লাহ ছাড়া আমরা অন্য কারো ইবাদত করি না। তিনি সমস্ত নিয়া'মত, সমস্ত অনুগ্রহ ও সমস্ত উত্তম প্রশংসার মালিক। আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই। (মু'মিনরা) দীনকে একমাত্র তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ করে। যদিও তা কাফিররা অপছন্দ করে।)
(দ্বিতীয় সূত্রে) হিশাম ইবন উরওয়াহ ইবন যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ্ ইবন যুবাইর (রা) প্রতি সালাত শেষে যখন সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন। لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ এর বাকি হাদীস পূর্বের ন্যায় শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন, তবে لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ এর পরে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ পড়ে তার পর হাদীসটি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করলেন, রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) প্রত্যেক (ফরয) সালাতের শেষে এই কলেমা-ই তাওহীদ পাঠ করতেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী।)
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُون
(অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তিনি একক। তাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো শক্তি সামর্থ নেই। আল্লাহ ছাড়া আমরা অন্য কারো ইবাদত করি না। তিনি সমস্ত নিয়া'মত, সমস্ত অনুগ্রহ ও সমস্ত উত্তম প্রশংসার মালিক। আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই। (মু'মিনরা) দীনকে একমাত্র তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ করে। যদিও তা কাফিররা অপছন্দ করে।)
(দ্বিতীয় সূত্রে) হিশাম ইবন উরওয়াহ ইবন যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ্ ইবন যুবাইর (রা) প্রতি সালাত শেষে যখন সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন। لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ এর বাকি হাদীস পূর্বের ন্যায় শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন, তবে لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ এর পরে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ পড়ে তার পর হাদীসটি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করলেন, রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) প্রত্যেক (ফরয) সালাতের শেষে এই কলেমা-ই তাওহীদ পাঠ করতেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(795) عن أبي الزبير قال: سمعت عبد الله بن الزبير يحدث على هذا المنبر وهو يقول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سلم في دبر الصلاة أو الصلوات يقول: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، لا حول ولا قوة إلا بالله، ولا نعبد إلا إياه، أهل النعمة والفضل والثناء الحسن، لا إله إلا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون. ومن طريق ثان (2) عن هشام بن عروة بن الزبير قال: كان عبد الله بن الزبير يقول في دبر كل صلاة حين يسلم: لا إله إلا الله (فذكر نحوه، وفيه بعد قوله «لا حول ولا قوة إلا بالله»: «لا إله إلا الله ولا نعبد إلا إياه» الحديث) قال: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يهلل بهن دبر كل صلاة.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৯২) আবদুর রহমান ইবন গনম আল আশ'আরী (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের ও ফজর-এর সালাত আদায়ের পর আপন জায়গা থেকে না উঠে নিম্ন লিখিত দু'আটি لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(অর্থাৎ এক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল) দশবার পাঠ করবে, প্রত্যেকবার পাঠ করার প্রতিদান হিসাবে তার জন্য দশটি নেকী লিখা হবে, তার থেকে দশটি পাপ মোচন করা হবে, এবং তার জন্য দশটি মর্যাদা লিখা হবে। আর এই দু'আ পাঠ তার প্রত্যেক বিপদ-আপদ থেকে রক্ষণাবেক্ষণকারী হবে এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে তার প্রতিবন্ধক হবে। শিরক ব্যতীত কোন পাপ তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। আর তিনি (এই দু'আ পাঠকারী) আমলের দিক থেকে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হবেন। তবে হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তার চেয়ে উত্তম দু'আ পাঠ করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে, সে ব্যতীত।
(ইমাম বাগবী "মাসাবীহ” এ উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, ইমাম আহমদও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারপর হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন। মুহাদ্দিসদের বক্তব্য মতে এ হাদীসটি হাসান বলে প্রতিয়মান হয়।)
(অর্থাৎ এক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল) দশবার পাঠ করবে, প্রত্যেকবার পাঠ করার প্রতিদান হিসাবে তার জন্য দশটি নেকী লিখা হবে, তার থেকে দশটি পাপ মোচন করা হবে, এবং তার জন্য দশটি মর্যাদা লিখা হবে। আর এই দু'আ পাঠ তার প্রত্যেক বিপদ-আপদ থেকে রক্ষণাবেক্ষণকারী হবে এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে তার প্রতিবন্ধক হবে। শিরক ব্যতীত কোন পাপ তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। আর তিনি (এই দু'আ পাঠকারী) আমলের দিক থেকে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হবেন। তবে হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তার চেয়ে উত্তম দু'আ পাঠ করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে, সে ব্যতীত।
(ইমাম বাগবী "মাসাবীহ” এ উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, ইমাম আহমদও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারপর হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন। মুহাদ্দিসদের বক্তব্য মতে এ হাদীসটি হাসান বলে প্রতিয়মান হয়।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(796) عن عبد الرحمن بن غنم (الأشعري) رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: من قال قبل أن ينصرف (3) ويثني رجله من صلاة المغرب والصبح: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، بيده الخير يحيي ويميت، وهو على كل شيء قدير، عشر مرات كتب له بكل واحدة (1) عشر حسنات، ومحيت عنه عشر سيئات، ورفع له عشر درجات، وكانت حرزًا من كل مكروه وحرزًا من الشيطان الرجيم، ولم يحل لذنب (2) يدركه إلا الشرك، فكان من أفضل الناس عملاً إلا رجلاً يفضله يقول أفضل مما قال (3).
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৯৩) শাহর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামা (রা)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি ধারণা করেন যে, ফাতিমা (রা) একদা রাসূল করীম (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে খাদিমা চেয়ে (স্বীয় কর্ম ব্যস্ততার) অভিযোগ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার হাত যাতা পেষণের ফলে শক্ত হয়ে গিয়েছে। আমি একবার যাতা পেষি, আবার খামীরা তৈরি করি। তখন রাসূল (সা) তাঁকে বললেন: তোমাকে আল্লাহ যে রিযিক দিবেন তা তোমার নিকট (এক সময়) এসে যাবে। আমি বরং এর চেয়ে উত্তম বিষয়ের প্রতি তোমাকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছি। (আর তা হল) যখন তুমি শোবার জন্য বিছানায় যাবে তখন তেত্রিশ বার । (সুবহানাল্লাহ) এবং তেত্রিশবার (আল্লাহ্ আকবার) এবং চৌত্রিশবার (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করবে এতে (সর্বমোট) একশত বার হল আর তা (তাসবীহ পাঠ) তুমি যে দাসী চেয়েছে তার চেয়ে উত্তম।
আর যখন ফজরের সালাত আদায় করবে। তখন পাঠ করবে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই প্রাপ্য। তিনিই জীবন মৃত্যু দান করেন। কল্যাণ সব তাঁরই হাতে, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।)
এই দু'আ ফজরের সালাত আদায়ের পর দশবার এবং মাগরিবের সালাত আদায়ের পর দশবার পাঠ করবে। প্রত্যেকবার পাঠ করার প্রতিদানে (তোমার আমলনামায়) দশটি নেকী লিখা হবে, এবং দশটি পাপ মোচন করা হবে। আর এই প্রত্যেক বার পাঠ করার প্রতিদান স্বরূপ ইসমাঈল (আ)-এর বংশের কোন এক সন্তানকে আযাদ করার সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে। এবং শিরক ব্যতীত ঐ দিন কোন পাপ তার দ্বারা সংঘটিত হবে না। আর لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ সকালে পাঠ করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত আর সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তোমাকে শয়তান থেকে এবং প্রতিটি অকল্যাণ থেকে পাহারা দিবে।
(ইমাম হাইছামী মাজমাউয় যাওয়ায়েদে হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং বলেন; ইমাম আহমদ ও তবারানী হাদীসটি সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন। উভয় গ্রন্থের সনদ হাসান পর্যায়ের।)
আর যখন ফজরের সালাত আদায় করবে। তখন পাঠ করবে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই প্রাপ্য। তিনিই জীবন মৃত্যু দান করেন। কল্যাণ সব তাঁরই হাতে, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।)
এই দু'আ ফজরের সালাত আদায়ের পর দশবার এবং মাগরিবের সালাত আদায়ের পর দশবার পাঠ করবে। প্রত্যেকবার পাঠ করার প্রতিদানে (তোমার আমলনামায়) দশটি নেকী লিখা হবে, এবং দশটি পাপ মোচন করা হবে। আর এই প্রত্যেক বার পাঠ করার প্রতিদান স্বরূপ ইসমাঈল (আ)-এর বংশের কোন এক সন্তানকে আযাদ করার সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে। এবং শিরক ব্যতীত ঐ দিন কোন পাপ তার দ্বারা সংঘটিত হবে না। আর لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ সকালে পাঠ করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত আর সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তোমাকে শয়তান থেকে এবং প্রতিটি অকল্যাণ থেকে পাহারা দিবে।
(ইমাম হাইছামী মাজমাউয় যাওয়ায়েদে হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং বলেন; ইমাম আহমদ ও তবারানী হাদীসটি সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন। উভয় গ্রন্থের সনদ হাসান পর্যায়ের।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(797) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا أبو النضر ثنا عبد الحميد حدثني شهر قال: سمعت أم سلمة تحدث زعمت أن فاطمة جاءت إلى نبي الله صلى الله عليه وسلم تشتكي إليه الخدمة (4) فقالت: يا رسول الله، والله لقد مجلت (5) يدي من الرحى أطحن مرة وأعجن مرة. فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن يرزقك الله شيئًا يأتك، وسأدلك على خير من ذلك: إذا لزمت مضجعك فسبحي الله ثلاثًا وثلاثين، وكبري ثلاثًا وثلاثين، واحمدي أربعًا وثلاثين، فذلك مائة، فهو خير لك من الخادم، وإذا صليت صلاة الصبح فقولي: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد يحيي ويميت، بيده الخير وهو على كل شيء قدير، عشر مرات بعد صلاة الصبح، وعشر مرات بعد صلاة المغرب، فإن كل واحدة منهن تكتب عشر حسنات، وتحط عشر سيئات، ولك واحدة منهن كعتق رقبة من ولد إسماعيل (1)، ولا يحل لذنب كسب ذلك اليوم أن يدركه إلا أن يكون الشرك، لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وهو حرسك (2) ما بين أن تقوليه غدوة إلى أن تقوليه عشية من كل شيطان ومن كل سوء.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৯৪) আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে বাক্তি ফজরের সালাত আদায়ান্তে এই দু'আ দশবার পাঠ করবে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ (অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সব কিছুর উপর সক্ষমতাবান।) সে চারজন দাসী আযাদ করার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। এ জন্য (তার আমলনামায়) দশটি নেকী লেখা হবে এবং তার থেকে দশটি পাপ মোচন করা হবে। তদুপরি তাকে দশটি মর্যাদা দেয়া হবে। আর এই দু'আ তার জন্য (সকাল থেকে) সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে পাহারাদার হাবে। আর যদি মাগরিব-এর সালাত আদায়ের পর তা পাঠ করে তাহলেও অনুরূপ সওয়াব পাবে।
(মুসলিম ও অন্যান্য)
(মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(798) عن أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال إذا صلى الصبح: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير عشر مرات، كن كعدل أربع رقاب، وكتب له بهن عشر حسنات، ومحي عنه بهن عشر سيئات، ورفع له بهن عشر درجات، وكن له حرسًا من الشيطان حتى يمسي، وإذا قالها بعد المغرب فمثل ذلك.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) অনুচ্ছেদঃ সালাত শেষে যিকির করা (আল্লাহর নিকটে) পানাহ চাওয়া, দু'আ করা এবং কিছু সূরা তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
(৭৯৫) উকবাহ ইবন আমির আল জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে প্রত্যেক সালাতের পর সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে আদেশ করেছেন।
(আবু দাউদ নাসায়ী, তিরমিযী, তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব।)
(আবু দাউদ নাসায়ী, তিরমিযী, তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব।)
كتاب الصلاة
3 - باب جامع الأذكار وتعوذات وأدعية وقراءة بعض سور عقب الصلوات
(799) - عن عقبة بن عامر الجهني رضي الله عنه قال: أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أقرأ بالمعوذات (1) دبر كل صلاة.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ : সালাত শেষে উচ্চস্বরে যিকির করা প্রসঙ্গে
(৭৯৬) আমর ইবন দীনার থেকে বর্ণিত যে, ইবন আব্বাসের আযাদকৃত গোলাম আবু সাঈদ তাঁকে বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) তাঁকে বলেছেন, ফরয সালাতের পর উচ্চস্বরে যিকির করা নবী করীম (সা)-এর যামানায় প্রচলিত ছিল। তিনি আরও বলেন, ইবন আব্বাস বলেছেন, আমি যখন তা শুনতাম, তখন বুঝতাম যে, লোকেরা সালাত শেষ করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
4 - باب رفع الصوت بالذكر عقب الانصراف من الصلاة
(800) - عن عمرو بن دينار أن أبا معبد مولى ابن عباس أخبره أن ابن عباس رضي الله عنهما أخبره أن رفع الصوت بالذكر حين ينصرف الناس من المكتوبة كان على عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأنه قال: قال ابن عباس: كنت أعلم إذا انصرفوا بذلك إذا سمعته.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) অনুচ্ছেদ : সালাত শেষে উচ্চস্বরে যিকির করা প্রসঙ্গে
(৭৯৭) আব্দুল্লাহ বলেন, আমাকে আমার বাবা বলেছেন, তাঁকে সুফিয়ান বলেছিলেন আমর ইবন্ আবু মা'বাদ থেকে বর্ণনা করে। আর তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সালাতের সমাপ্তি তাঁর তাকবীর (আল্লাহ আকবার) দ্বারাই বুঝতে পারতাম। আমর বলেন, আমি তাঁকে (আবু মা'বাদ) বললাম, তুমি আমার নিকট এ হাদীসটি বর্ণনা করেছিলে? তখন তিনি অস্বীকার করে বললেন, না।আমি তা তোমার নিকট বর্ণনা করি নাই।
(বুখারী, মুসলিম, ইমাম শাফেয়ী ও বাইহাকী। বিঃদ্রঃ আবু মা'বাদের এ অস্বীকৃতির কারণ, তিনি এক সময় হাদীসটি যে বর্ণনা করেছিলেন সে কথা তিনি পরে তা ভুলে গিয়েছিলেন।)
(বুখারী, মুসলিম, ইমাম শাফেয়ী ও বাইহাকী। বিঃদ্রঃ আবু মা'বাদের এ অস্বীকৃতির কারণ, তিনি এক সময় হাদীসটি যে বর্ণনা করেছিলেন সে কথা তিনি পরে তা ভুলে গিয়েছিলেন।)
كتاب الصلاة
4 - باب رفع الصوت بالذكر عقب الانصراف من الصلاة
(801) - حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا سفيان عن عمرو عن أبي معبد عن ابن عباس رضي الله عنهما: ما كنت أعرف انقضاء صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا بالتكبير. قال عمرو (1) قلت له: حدثتني؟ قال: لا، ما حدثتك به.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব কাজ সালাত বাতিল করে দেয় এবং যে সব কাজ করা তাতে মাকরূহ, আর সে সব কাজ করা তাতে মুবাহ্ সেসব কাজ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহ
(১) অনুচ্ছেদ: সালাতে কথা বলা নিষেধ।
(১) অনুচ্ছেদ: সালাতে কথা বলা নিষেধ।
(৭৯৮) যায়দ ইবন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যামানায় সালাতে তার সঙ্গীর সাথে কোন প্রয়োজনীয় কথা বলছিল, তখনই এ আয়াতটি নাযিল হয়: قُوْمُوْا لِلّٰہِ قٰنِتِیْنَ (অর্থাৎ আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে) (২ঃ২৩৮) অতঃপর আমাদেরকে (সালাতে চুপ থাকতে আদেশ করা হয়।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী ইমাম তিরমিযী। হাদীসটির সনদ হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী ইমাম তিরমিযী। হাদীসটির সনদ হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
أبواب ما يبطل الصلاة وما يكره فيها وما يباح
1 - باب النهي عن الكلام في الصلاة
1 - باب النهي عن الكلام في الصلاة
(802) - عن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال: كان الرجل يكلم صاحبه على عهد النبي صلى الله عليه وسلم في الحاجة في الصلاة حتى نزلت هذه الآية: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة/238] فأمرنا بالسكوت.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব কাজ সালাত বাতিল করে দেয় এবং যে সব কাজ করা তাতে মাকরূহ, আর সে সব কাজ করা তাতে মুবাহ্ সেসব কাজ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহ
(১) অনুচ্ছেদ: সালাতে কথা বলা নিষেধ।
(১) অনুচ্ছেদ: সালাতে কথা বলা নিষেধ।
(৭৯৯) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (সা)-কে সালাতরত অবস্থায় সালাম দিতাম। তিনিও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। পরবর্তীকালে আমরা যখন নাজ্জাশীর কাছ থেকে ফিরে এলাম, তখন (আগের মত) তাঁকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না। পরে আমরা তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো পূর্বে সালাতে থাকাবস্থায় আপনাকে সালাম করতাম আর আপনি আমাদের জবাব দিতেন। তিনি বললেন: সালাতে (ধ্যান ও নিমগ্নতা রয়েছে।
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত আছে) তিনি (আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ) বলেন: আমরা হাবশায় (ইথিওপিয়া) আসার পূর্বে যখন মক্কায় ছিলাম, তখন (সালাতাবস্থায়) নবী করীম (সা)-কে সালাম দিতাম। কিন্তু হাবশা (ইথিওপিয়া) থেকে ফিরে এসে তাঁকে (সালাতাবস্থায়) সালাম করলে তিনি উত্তর দিলেন না। তখন আমি নিকট অতীত এবং দূর অতীতে ঘটিত স্বীয় কোন অপরাধের কথা চিন্তা করতে লাগলাম। এরপর সালাত শেষে তাঁকে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা যখনই ইচ্ছা করেন নতুন নতুন হুকুম নাবিল করেন। তিনি একটি (নতুন) হুকুম নাযিল করেছেন, যেন আমরা সালাতে কথা না বলি।
(হাদীসের প্রথম রেওয়ায়াতটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে এবং দ্বিতীয় রেওয়ায়াতটি আবূ দাউদ, নাসায়ী ও ইবন হিব্বানে বর্ণিত আছে।)
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত আছে) তিনি (আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ) বলেন: আমরা হাবশায় (ইথিওপিয়া) আসার পূর্বে যখন মক্কায় ছিলাম, তখন (সালাতাবস্থায়) নবী করীম (সা)-কে সালাম দিতাম। কিন্তু হাবশা (ইথিওপিয়া) থেকে ফিরে এসে তাঁকে (সালাতাবস্থায়) সালাম করলে তিনি উত্তর দিলেন না। তখন আমি নিকট অতীত এবং দূর অতীতে ঘটিত স্বীয় কোন অপরাধের কথা চিন্তা করতে লাগলাম। এরপর সালাত শেষে তাঁকে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা যখনই ইচ্ছা করেন নতুন নতুন হুকুম নাবিল করেন। তিনি একটি (নতুন) হুকুম নাযিল করেছেন, যেন আমরা সালাতে কথা না বলি।
(হাদীসের প্রথম রেওয়ায়াতটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে এবং দ্বিতীয় রেওয়ায়াতটি আবূ দাউদ, নাসায়ী ও ইবন হিব্বানে বর্ণিত আছে।)
كتاب الصلاة
أبواب ما يبطل الصلاة وما يكره فيها وما يباح
1 - باب النهي عن الكلام في الصلاة
1 - باب النهي عن الكلام في الصلاة
(803) عن عبد الله (يعني ابن مسعود رضي الله عنه) قال: كنا نسلم على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في الصلاة فيرد علينا، فلما رجعنا من عند النجاشي سلمنا عليه فلم يرد علينا (1). فقلنا: يا رسول الله كنا نسلم عليك في الصلاة فترد علينا. فقال: إن في الصلاة لشغلاً (2). وعنه من طريق ثان (3) قال: كنا نسلم على النبي صلى الله عليه وسلم إذ كنا بمكة قبل أن نأتي أرض الحبشة، فلما قدمنا من أرض الحبشة أتيناه فسلمنا عليه فلم يرد، فأخذني ما قرب وما بعد (4) حتى قضوا الصلاة فسألته، فقال: إن الله عز وجل يحدث في أمره ما يشاء، وإنه قد أحدث من أمره أن لا نتكلم في الصلاة (5).
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব কাজ সালাত বাতিল করে দেয় এবং যে সব কাজ করা তাতে মাকরূহ, আর সে সব কাজ করা তাতে মুবাহ্ সেসব কাজ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহ
(১) অনুচ্ছেদ: সালাতে কথা বলা নিষেধ।
(১) অনুচ্ছেদ: সালাতে কথা বলা নিষেধ।
(৮০০) মু'আবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। ইত্যবসরে আমাদের মধ্যে একজন হাঁচি দিল। তখন আমি يَرْحَمُكَ اللَّه (ইয়ার হামুকাল্লাহ) বললাম। তখন লোকেরা আমার দিকে আড় চোখে দেখতে লাগল। আমি বললাম, আমার মায়ের পুত্র বিয়োগ হোক তোমাদের কি হল! তোমরা আমার দিকে তাকাচ্ছ কেন? তিনি বলেন, তখন তারা তাদের উরুর উপর হাত চাপড়াতে লাগল। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে। তখন চুপ হয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ (সা) সালাত শেষ করলেন, আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। আমি তাঁর মত এত সুন্দর করে শিক্ষা দিতে পূর্বেও কাউকে দেখি নি, তাঁর পরেও কাউকে দেখে নি। আল্লাহর কসম। তিনি আমাকে ধমক দিলেন না, গালি দিলেন না, মারলেনও না। বরং বললেন, সালাতে এরূপ কথাবর্তা বলা ঠিক নয়, বরং তা হচ্ছে তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠের জন্য। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জাহিলী যুগ বিদূরিত হল বেশী দিন হয় নি, এই তো আল্লাহ ইসলাম প্রেরণ করেছেন, আমাদের কেউ কেউ তো গণকদের নিকট আসা যাওয়া করে। তিনি বললেন, তোমরা তাদের কাছে যেও না। আমি পুনরায় বললাম, আমাদের কেউ কেউ তো শুভ অশুভ লক্ষণের অনুকরণ করে। তিনি বললেন, এটি তাদের মনগড়া বিষয়। এটি যেন তাদেরকে কোন ভাল কাজ করতে বাধা না দেয়। আমি বললাম, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ রেখা অঙ্কন করে, (ভাগ্য নির্ণয় করে) তিনি বললেন, একজন নবী রেখা অঙ্কন করতেন। যার রেখা সেই নবীর রেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল হবে তারটা ঠিক হবে। (মু'আবিয়া বর্ণনাকারী) বলেন, আমার একটি দাসী ছিল। সে ছাগল চরাত। (তারপর তার ঘটনা বর্ণনা করলেন*)
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবন্ হিব্বান ও বাইহাকী।)
*টীকা: (আর ঘটনাটি হলঃ তিনি বললেন, আমার একটি দাসী ছিল, সে আমার ছাগল চরাত। একদিন আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখি, একটি বাঘ এসে একটি ছাগল নিয়ে গেল, যেহেতু আমিও মানুষ, সেহেতু অন্যান্য মানুষের মত আমারও রাগ এসে গেল। -আমি তাকে একটি চড় বসিয়ে দিলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট এলাম, তিনি আমার এ কাজকে অত্যন্ত অপছন্দ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল। আমি তাকে আযাদ করে দিব? তিনি বললেন, তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো। আমি তাকে তাঁর নিকট নিয়ে এলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? সে বলল, আকাশে। তিনি বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বললেন, ওকে আযাদ করে দাও। কেননা, ও মু'মিন।)
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবন্ হিব্বান ও বাইহাকী।)
*টীকা: (আর ঘটনাটি হলঃ তিনি বললেন, আমার একটি দাসী ছিল, সে আমার ছাগল চরাত। একদিন আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখি, একটি বাঘ এসে একটি ছাগল নিয়ে গেল, যেহেতু আমিও মানুষ, সেহেতু অন্যান্য মানুষের মত আমারও রাগ এসে গেল। -আমি তাকে একটি চড় বসিয়ে দিলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট এলাম, তিনি আমার এ কাজকে অত্যন্ত অপছন্দ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল। আমি তাকে আযাদ করে দিব? তিনি বললেন, তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো। আমি তাকে তাঁর নিকট নিয়ে এলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? সে বলল, আকাশে। তিনি বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বললেন, ওকে আযাদ করে দাও। কেননা, ও মু'মিন।)
كتاب الصلاة
أبواب ما يبطل الصلاة وما يكره فيها وما يباح
1 - باب النهي عن الكلام في الصلاة
1 - باب النهي عن الكلام في الصلاة
(804) عن معاوية بن الحكم السلمي رضي الله عنه قال: بينا نحن نصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ عطس رجل من القوم، فقلت: يرحمك الله، فرماني القوم بأبصارهم (6) فقلت: واثكل أمياه (7) ما شأنكم تنظرون إلي؟ قال: فجعلوا يضربون بأيديهم على أفخاذهم (1) فلما رأيتهم يصمتوني، لكني سكت، فلما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فبأبي هو وأمي (2) ما رأيت معلمًا قبله ولا بعده أحسن تعليمًا منه، والله ما كهرني (3) ولا شتمني ولا ضربني، قال: إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس هذا، إنما هي التسبيح والتكبير وقراءة القرآن، أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: يا رسول الله إنا قوم حديث عهد بالجاهلية (4) وقد جاء الله بالإسلام، وإن منا قومًا يأتون الكهان (5) قال: فلا تأتوهم. قلت: إن منا قومًا يتطيرون (1). قال: ذاك شيء يجدونه في صدورهم فلا يصدنهم (2). قلت: إن منا قومًا يخطون (3). قال: كان نبي يخط، فمن وافق خطه فذلك (4). قال: وكانت لي جارية ترعى غنمًا (فذكر قصتها) (5).
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যে সব কারণে সালাত ভঙ্গ হয়
(৮০১) য, আলী ইবন আবী তালিব (রা) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলতে শুনেছি যে, অপবিত্রতা ব্যতীত সালাত নষ্ট হয় না। আমি তোমাদের কাছে সে বিষয়ে লজ্জাবোধ করি না। যে বিষয় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা) লজ্জাবোধ করেন নি। তারপর বললেন, হাদস বা অপবিত্রতার অর্থ হল শব্দ ছাড়া বায়ু নির্গত হওয়া অথবা শব্দসহ বায়ু নির্গত হওয়া।
(ইমাম হাইছামী এবং তবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ হাদীসের সনদে হিব্বান ইবন আলী নামক এক রাবী আছেন, হাফিয ইবন হাজর বলেন, তিনি দুর্বল।)
(ইমাম হাইছামী এবং তবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ হাদীসের সনদে হিব্বান ইবন আলী নামক এক রাবী আছেন, হাফিয ইবন হাজর বলেন, তিনি দুর্বল।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما يقطع الصلاة
(805) ز عن حصين المزني قال: قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه على المنبر: أيها الناس، إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا يقطع الصلاة إلا الحدث، لا أستحييكم (1) مما لا يستحيي منه رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: والحدث أن يفسو أو يضرط.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যে সব কারণে সালাত ভঙ্গ হয়
(৮০২) আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন কারো সালাত নষ্ট হয়, যখন তার সামনে দিয়ে মহিলা, গাধা ও কাল কুকুর চলে যায়। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লাল ব্যতিরেকে কাল কুকুরের এ অবস্থা কেন? তখন তিনি (আবূ যার) বললেন, হে ভাতিজা। তুমি যে প্রশ্ন করেছ, একই প্রশ্ন আমিও রাসূল (সা)-কে করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, কাল কুকুর শয়তান।
(মুসলিম, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, বাইহাকী।)
(মুসলিম, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما يقطع الصلاة
(806) عن حميد بن هلال سمع عبد الله بن الصامت عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقطع صلاة الرجل (2) إذا لم يكن بين يديه كآخرة الرحل المرأة والحمار والكلب الأسود. قلت: ما بال الأسود من الأحمر (1)؟ قال: ابن أخي، سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم كما سألتني، فقال: الكلب الأسود شيطان.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যে সব কারণে সালাত ভঙ্গ হয়
(৮০৩) নবী করীম (সা)-এর পত্নী আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: মুসলিম ব্যক্তির সালাত গাধা, কাফির, কুকুর ও নারী ছাড়া আর কোন জিনিসই নষ্ট করতে পারে না। (এতদশ্রবণে) আয়েশা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে ঘৃণ্য প্রাণীর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
(ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কেহ্ হাদীসটি বর্ণনা করে, নাই। হাইছামী ও ইরাকী বলেন, এ হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কেহ্ হাদীসটি বর্ণনা করে, নাই। হাইছামী ও ইরাকী বলেন, এ হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما يقطع الصلاة
(807) عن راشد بن سعد عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يقطع صلاة المسلم شيء إلا الحمار والكافر (2) والكلب والمرأة. فقالت عائشة: يا رسول الله، لقد قُرنّا بدواب سوء.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যে সব কারণে সালাত ভঙ্গ হয়
(৮০৪) আব্দুল্লাহ্ ইবন মুগাফ্ফাল (রা) নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সালাতের সামনে দিয়ে নারী, (অপর এক বর্ণনায় ঋতুবতী নারী) গাধা ও কুকুর চলে গেলে সালাত নষ্ট হয়ে যায়।
(ইবন মাজাহ। ইমাম আহমদের এ হাদীসের বাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(ইবন মাজাহ। ইমাম আহমদের এ হাদীসের বাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما يقطع الصلاة
(808) عن عبد الله بن مغفل رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يقطع الصلاة المرأة (زاد في رواية «الحائض») (3) والحمار والكلب.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যে সব কারণে সালাত ভঙ্গ হয়
(৮০৫) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছল, মানুষ বলাবলি করছে যে, কুকুর, গাধা ও নারী মুসল্লির সামনে গমনাগমনে সালাত নষ্ট হয়। আয়েশা (রা) বলেন, আমার মনে হয় যে, তারা আমাদেরকে কুকুর ও গাধার বরাবর বানিয়ে ফেলেছে। অথচ রাসূল (সা) অনেক সময় রাত্রিকালে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করতেন। আমার কোন প্রয়োজন দেখা দিলে তাঁর সম্মুখীন না হয়ে খাটের পায়ার (খুঁটি) দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতাম।
তাঁর (আয়েশা (রা) থেকে) অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে তোমরা (নিকৃষ্ট প্রাণী) কুকুর ও গাধার সমতুল্য করে নিকৃষ্ট কাজ করেছ। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে সালাত আদায় করতে দেখেছি, তখন আমি তাঁর সামনে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। যখন তিনি সিজদায় যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমার পায়ে টোকা দিতেন। আর আমি গুটিয়ে নিতাম, তখন তিনি সিজদা করতেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
তাঁর (আয়েশা (রা) থেকে) অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে তোমরা (নিকৃষ্ট প্রাণী) কুকুর ও গাধার সমতুল্য করে নিকৃষ্ট কাজ করেছ। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে সালাত আদায় করতে দেখেছি, তখন আমি তাঁর সামনে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। যখন তিনি সিজদায় যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমার পায়ে টোকা দিতেন। আর আমি গুটিয়ে নিতাম, তখন তিনি সিজদা করতেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما يقطع الصلاة
(809) عن الأسود عن عائشة بلغها أن ناسًا يقولون: إن الصلاة يقطعها الكلب والحمار والمرأة. قالت: ألا أراهم قد عدلونا بالكلاب والحمر (1) ربما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي بالليل وأنا على السرير بينه وبين القبلة، فتكون لي الحاجة فأنسل من قبل رجل السرير كراهية أن أستقبله بوجهي. وعنها من طريق ثان (2) قالت: بئسما عدلتمونا بالكلب والحمار، قد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي وأنا معترضة بين يديه، فإذا أراد أن يسجد غمز، يعني رجلي، فضممتها إليّ ثم يسجد (3).
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮১০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (২) অনুচ্ছেদ: যে সব কারণে সালাত ভঙ্গ হয়
(৮০৬) আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রা) থেকে মারফু' হাদীস হিসেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: মুসল্লির সামনে কুকুর ও ঋতুবতী মহিলার গমনাগমনে সালাত নষ্ট হয়ে যায়।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ। সত্য কথা হলো হাদীসটি মারফু' নয়, মাওকুফ। অর্থাৎ তা ইবন আব্বাসের বক্তব্য।)
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ। সত্য কথা হলো হাদীসটি মারফু' নয়, মাওকুফ। অর্থাৎ তা ইবন আব্বাসের বক্তব্য।)
كتاب الصلاة
2 - باب ما يقطع الصلاة
(810) عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعًا: يقطع الصلاة الكلب والمرأة الحائض.
তাহকীক: