হাদীস অস্বীকারকারী ভ্রান্ত দল, হাদীস কি কুরআনের শত্রু?
প্রশ্নঃ ১২৮২৩১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, Hadith ke islamer sotru bolar karon ki?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
“হাদীস ইসলাম-এর শত্রু” এ ধরনের কথা সাধারণত কিছু গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ভুল ধারণা, জ্ঞানের ঘাটতি, অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কারণে বলা হয়। ইসলামে হাদীসকে শত্রু বলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ হাদীস হলো কুরআনের পর ইসলামের দ্বিতীয় উৎস।
কেন কেউ কেউ “হাদীস ইসলামের শত্রু” বলে?
তার উত্তর হচ্ছে, কুরআন–হাদীসের সম্পর্ক না বোঝার কারণে।
অনেকেই মনে করে কুরআনই যথেষ্ট, হাদীস অপ্রয়োজনীয়। তারা জানে না যে হাদীস ছাড়া কুরআনের অনেক হুকুম পালন করাই অসম্ভব, যেমন, নামাজের রাকাত, যাকাতের নিসাব, হজের রীতিনীতি, বিবাহ-তালাকের বিস্তারিত এগুলোর পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা শুধু কুরআনে নেই; এসেছে হাদীসেও।
হাদীস যাচাই অর্থাৎ (উলূমুল হাদীস-এর) মতো কঠোর যাচাইয়ের সিস্টেম পৃথিবীর আর কোনো ধর্মে নেই
বর্ণনাকারীর চরিত্র ও বিশ্বস্ততা যাচাই, স্মরণশক্তির পর্যালোচনা, ‘ইসনাদ’-এর ধারাবাহিকতা, শত শত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ‘জারহ-তা‘দীল’ শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের সুগভীর পদ্ধতি না বুঝে হাদীসকে অবমূল্যায়ন করে থাকেন।
ইসলামকে দুর্বল করতে উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা
কোনো বিষয়ের দ্বিতীয় প্রধান উৎসকে অস্বীকার করলে সেই বিষয় অটোমেটিকভাবে অকার্যকর হয়ে যায় এ কারণেই কিছু ইসলামবিরোধী চক্র “হাদীস অস্বীকার” এর প্রচারণা চালায়। এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।
হাদীস ইসলামের শত্রু নয়; বরং ইসলামকে বোঝার অপরিহার্য মাধ্যম
কুরআন নিজেই বলে: নবী ﷺ-কে অনুসরণ করতে হবে,
وَمَاۤ اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ فَخُذُوۡہُ ٭ وَمَا نَہٰىکُمۡ عَنۡہُ فَانۡتَہُوۡا ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ۘ
অর্থঃ রাসূল তোমাদেরকে যা দেয়, তা গ্রহণ কর আর তোমাদেরকে যা থেকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় করে চল। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (সূরাঃ আল হাশ্র - আয়াত নংঃ ৭)
এটা কি হাদীস ছাড়া সম্ভব? কক্ষনোই নয়
রাসূল ﷺ–এর ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তায় কুরআন আরো বলে:
وَاَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الذِّکۡرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیۡہِمۡ وَلَعَلَّہُمۡ یَتَفَکَّرُوۡنَ
অর্থঃ (হে নবী!) আমি তোমার প্রতিও এই কিতাব নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের সামনে সেই সব বিষয়ের ব্যাখ্যা করে দাও, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা করে। (সূরাঃ আন নাহ্ল - আয়াত নংঃ 44)
এই ব্যাখ্যা কোথায় পাওয়া যাবে? শুধু মাত্র হাদীসে
যাইহোক মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু ইসলাম বিরোধী চক্র সর্বদা এই প্রচেষ্টায় এবং চিন্তা ভাবনায় থাকে, কিভাবে ইসলামের ক্ষতি করা যায়, কিভাবে ইসলামকে নিষ্ক্রিয় করে মাটি চাপা দেওয়া যায়। সুতরাং আমাদের সবাইকে সর্বদা চোখ কান খোলা রেখে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ ইসলামের কোন প্রকার ক্ষতি করতে না পারে এবং কোন বিভ্রান্তি কর বক্তব্য আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। বিশেষ করে আল্লাহ তাআলার কাছে এসকল ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন শেষ জামানায় তসবির দাদার ন্যায় ফিতনা ছড়াতে থাকবে। আমরা বর্তমানে সেই জামানায় উপস্থিত। তাই আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সব ধরনের ফেতনা ও গোমরাহী থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
বর্তমানে “আহলে কোরআন” নামে হাদীস অস্বীকারকারী একটি বিভ্রান্তিকর ফেরকা তৈরি হয়েছে। নিম্নে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত একটি প্রবন্ধ উল্লেখ করা হলো,
প্রবন্ধের লিংকঃ- https://muslimbangla.com/article/229
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন