অকারণে বদদোয়া করা!
প্রশ্নঃ ১৩৬৯২৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বদদোয়া/অভিশাপ এগলে কি আদৌ লাগে!!??(মজলুম না হলে) Silly কোনো কারণে/বিনা কারণে/ এমন কারণে যা কিছু ব্যক্তির কাছে অনেক বড় কারো কাছে কিছুই না।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলা পরম ন্যায়বিচারক। কারো ওপর অনায্যভাবে কোনো বিপদ আসুক, এটি তিনি চান না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মজলুমের (অত্যাচারিত ব্যক্তির) বদদোয়াকে ভয় করো। কেননা তার দোয়া এবং আল্লাহর মাঝখানে কোনো পর্দা নেই। (সহিহ বুখারি: ২৪৪৮)
অর্থাৎ, অভিশাপ কার্যকর হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো যে অভিশাপ দিচ্ছে তাকে প্রকৃতপক্ষেই অত্যাচারিত (মজলুম) হতে হবে। আপনি যদি কারো ক্ষতি না করেন, তবে তার অভিশাপ আপনার ওপর কার্যকর হবে না।
যদি কেউ কোনো কারণে, বিনা কারণে বা অতিরঞ্জিত রাগের বশবর্তী হয়ে অভিশাপ দেয়, তবে সেই অভিশাপ যার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে তার কাছে পৌঁছায় না। বরং তা অভিশাপ দানকারীর ওপরই ফিরে আসে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا لَعَنَ شَيْئًا صَعِدَتِ اللَّعْنَةُ إِلَى السَّمَاءِ فَتُغْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ دُونَهَا ثُمَّ تَهِبْطُ إِلَى الأَرْضِ فَتُغْلَقُ أَبْوَابُهَا دُونَهَا ثُمَّ تَأْخُذُ يَمِينًا وَشِمَالاً فَإِذَا لَمْ تَجِدْ مَسَاغًا رَجَعَتْ إِلَى الَّذِي لُعِنَ فَإِنْ كَانَ لِذَلِكَ أَهْلاً وَإِلاَّ رَجَعَتْ إِلَى قَائِلِهَا " . .
যখন কোন ব্যক্তি কারো উপর লা’নত করে, তখন সে লা’নত আসমানের দিকে উত্থিত হয়। কিন্তু তা সেখানে পৌছবার আগেই আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর তা জমিনের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়, জমিনে পৌঁছার আগে তার দরজাও বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর তা ডান দিকে-বাম দিকে দুলতে থাকে, সেদিকে পথ না পেয়ে ফিরে আসে অভিশাপ দেয়া লোকটির উপর, যদি সে অভিশাপের উপযুক্ত হয়। অন্যথায় তা লা’নতকারীর উপর গিয়ে বর্তায়।
কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ (সুনানে আবু দাউদ)
হাদীস নং: ৪৮২৫ আন্তর্জাতিক নং: ৪৯০৫
হাদীসের লিংকঃ https://muslimbangla.com/hadith/19172
মানুষের অনুভূতির পার্থক্য থাকতে পারে (কারো কাছে বড়, কারো কাছে ছোট)। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সত্য ও ন্যায় বোঝেন। কেউ যদি নিজের ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্যকে বিনা দোষে অভিশাপ দেয়, তবে সেই দোয়া কবুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেছেন, মানুষ অকল্যাণ (অভিশাপ) কামনা করে যেভাবে সে কল্যাণ কামনা করে; মানুষ তো অতিশয় দ্রুততাপ্রিয়। (সূরা বনী ইসরাইল: ১১)
মুফাসসিরগণ বলেন, আল্লাহ দয়াবান বলে মানুষের সব রাগের মাথায় দেওয়া বদদোয়া কবুল করেন না। যদি করতেন, তবে মানুষ নিজের অজান্তেই ধ্বংস হয়ে যেত।
ইসলামে ঘনঘন অভিশাপ দেওয়াকে অত্যন্ত ঘৃণা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلاَ اللَّعَّانِ وَلاَ الْفَاحِشِ وَلاَ الْبَذِيءِ .
মু’মিন ব্যক্তি দোষ দেয় না, অভিসম্পাত করে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষী হয় না।
আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ (জামে' তিরমিযী)
হাদীস নং: ১৯৭৭ আন্তর্জাতিক নং: ১৯৭৭
হাদীসের লিংকঃ https://muslimbangla.com/hadith/31621
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ৬৪৯৩৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি রাগের বশে আমার ভাই কে অভিশাপ দিয়ে ফেলেছি, এখন আমি সেই অভিশাপ টা ফিরিয়ে নিতে চাই, এর জন্য কি কোন আমল অথবা কাফফারা আছে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কারও বিরুদ্ধে বদদোয়া করা মুমিনের স্বভাব হতে পারে না। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلاَ اللَّعَّانِ وَلاَ الْفَاحِشِ وَلاَ الْبَذِيءِ " . .
আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলু্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মু’মিন ব্যক্তি দোষ দেয় না, অভিসম্পাত করে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষী হয় না।
আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ (জামে' তিরমিযী)
হাদীস নং: ১৯৭৭ আন্তর্জাতিক নং: ১৯৭৭
হাদীসের লিংকঃ https://muslimbangla.com/hadith/31621
তাই কোনো মুসলমানের জন্য অন্যায়ভাবে বদ দোয়া করা জায়েজ নয়। কারও ব্যাপারে খারাপ কিছু ঘটার কামনা করাও জায়েজ নয়।
একজন মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের হক হলো, সে যেন তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করা, তার বিরুদ্ধে বদ দোয়া না করে।
এখন কেউ যদি বদ দোয়া দেওয়ার তার ভেতরে অনুশোচনা আসে, এর কাফফারা হলো, এই কাজের জন্য অনুশোচনা সহ মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে এটি না করার দৃঢ় সংকল্প করা। এবং এখনই নিজের সন্তানের জন্য, ভালোর জন্য প্রার্থনা করা। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। আশা করি দিল থেকে ক্ষমা করে আল্লাহর কাছে এর জন্য পানাহ চাইলে, আল্লাহ তাআলা ক্ষামা করবেন।
আর ভবিষ্যতে কারও ওপর রাগ হলেই তাকে অভিশাপ দিতে নেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা; বরং তার হিদায়াতের দোয়া করাই বেশি কল্যাণকর।
{وَيَدْعُ الْإِنْسَانُ بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ وَكَانَ الْإِنْسَانُ عَجُولًا} [الاسراء-11]
{وَيَدْعُ الإنسَانُ بِالشَّرِّ دُعَآءَهُ بِالْخَيْرِ} أي ويدعو الله عند غضبه بالشر على نفسه وأهله وماله وولده كما يدعو لهم بالخير أو يطلب النفع العاجل وإن قل بالضرر الآجل وإن جل {وَكَانَ الإنسَانُ عَجُولاً} يتسرع إلى طلب كل ما يقع في قلبه ويخطر بباله لا يأتى فيه تأني المتبصر أو أريد بالإنسان الكافر وأنه يدعوه بالعذاب استهزاء ويستعجل به كما يدعو بالخير إذا مسته الشدة وكان الإنسان عجولاً يعني أن العذاب آتيه لا محالة فما هذا الاستعجال."
(تفسير النسفي = مدارك التنزيل وحقائق التأويل (2 / 248)، الناشر: دار الكلم الطيب، بيروت)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন