যৌবনের ইবাদত আল্লাহর কাছে কেন বেশী প্রিয়?
প্রশ্নঃ ১৩৭০৭৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, যৌবনকালে আল্লাহর কাছে কোনগুলি এবাদত খুব পছন্দ?
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
২৭GV+CF৪
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
যৌবনকালে আল্লাহ তায়ালা কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় ইবাদত হলো প্রবৃত্তির তাড়না ও পাপের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যৌবনের অদম্য শক্তি ও প্রবৃত্তির তাড়না দমন করে নিজেকে আল্লাহর আনুগত্যে সঁপে দিয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
যদি নফসের ধোঁকায়, শয়তানের প্রবঞ্চনায় মানবীয় দুর্বলতায় কিংবা দূষিত পরিবেশে আক্রান্ত হয়ে কোনো গুনাহ হয়েও যায় তাহলে কাল বিলম্ব না করে তাওবাহ করা।
এই সময়ে ফরজ নামাযের ইহতিমাম করা। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির আজকারে মনযোগী হওয়া।
হালাল উপার্জন করা এবং হারাম থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
পবিত্রতা ও নৈতিকতা রক্ষা করা:
দাওয়াহ ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জন: দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা এবং তা প্রচার করা।
যৌবনের ইবাদতের মর্যাদার কারণ হলো, যৌবনের টগবগে সময়ে তরুণদের মাঝে এক ধরনের কামনা, বাসনা, প্রেরণা এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আবার তাদের মাঝে চরম হতাশাও কাজ করে। আর তাতে সে ইবাদত-বন্দেগি তথা আল্লাহর ভয় থেকে গাফেল হয়ে যায়। ফলে যখন সে আল্লাহ তায়ালা কাছে ফিরে আসে তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে প্রিয় এবং আপন করে নেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
সূরা ক্বাসাস - আয়াত নংঃ 14
وَلَمَّا بَلَغَ اَشُدَّہٗ وَاسۡتَوٰۤی اٰتَیۡنٰہُ حُکۡمًا وَّعِلۡمًا ؕ وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ
অর্থঃ যখন মূসা বলবত্তায় উপনীত হল ও হয়ে গেল পূর্ণ যুবা, তখন আমি তাকে দান করলাম হিকমত ও ইলম। আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
আয়াতের লিংকঃ https://muslimbangla.com/sura/28/tafsir/14
عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول سَبْعَة يظلهم الله فِي ظله يَوْم لَا ظلّ إِلَّا ظله الإِمَام الْعَادِل وشاب نَشأ فِي عبَادَة الله عز وَجل وَرجل قلبه مُعَلّق بالمساجد ورجلان تحابا فِي الله اجْتمعَا على ذَلِك وتفرقا عَلَيْهِ وَرجل دَعَتْهُ امْرَأَة ذَات منصب وجمال فَقَالَ إِنِّي أَخَاف الله وَرجل ذكر الله خَالِيا فَفَاضَتْ عَيناهُ
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا
হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যেদিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ্ তা'আলা সাত শ্রেণীর লোককে তাঁর। (আরশের) ছায়াতলে স্থান দেবেন।
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২. এমন যুবক, যে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতে লালিত হয়েছে,
৩. এমন ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদসমূহের প্রতি লেগে যাকে,
(৪-৫) এমন দুই ব্যক্তি, যারা একে অপরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালবাসে, এরই ভিত্তিতে তারা মিলিত হয় এবং এরই ভিত্তিতে তারা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়,
৬. এমন পুরুষ, যাকে কোন সম্ভ্রান্ত সুন্দরী রমনী (অপকর্মের জন্য) আহ্বান করে, তখন সে বলে, নিশ্চয় আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং
৭. এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকির করে, ফলে তার দু'চক্ষু অশ্রুতে ভেসে যায়। (বুখারী (র), মুসলিম (র) প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
https://muslimbangla.com/hadith/1620891
এই হাদিসেও ২য় নম্বরে বিশেষভাবে এবং ৬ষ্ঠ নম্বরে ব্যাপকভাবে যুবকদের উদ্দেশ্য করে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১