হারাম খাওয়ার পরিণতি।
প্রশ্নঃ ১৪৫৮৫১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হারাম খাওয়ার কারণে কি কি ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে কোরআন ও হাদিস থেকে জানতে চাই।
২৩ মার্চ, ২০২৬
জলঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১. হারাম খাওয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, ওই ব্যক্তির কোনো ইবাদত বা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لاَ يَقْبَلُ إِلاَّ طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ ( يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ) وَقَالَ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) " . ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ " .
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে লোক সকল! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে না।আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে সেই আদেশ করেছেন, যে আদেশ করেছেন তিনি রাসুলগণকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ″হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর ও সৎকর্ম কর, তোমরা যা কর, সে সম্বন্ধে আমি অবহিত। (সূরা মু’মিনুনঃ ৫১) তিনি আরো ইরশাদ করেছেন, হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি, তা থেকে আহার কর। (সূরা বাকারাঃ ১৭২)
এরপর নবী (ﷺ) এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে, দীর্ঘ সফর করে, যার এলোমেলো চুল ধুলায় ধুসরিত সে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে বলে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং তাঁর শরীর গঠিত হয়েছে হারামে। অতএব, তাঁর দুআ কিভাবে কবুল করা হবে?
সহীহ মুসলিম
হাদীস নংঃ ২২১৮
আন্তর্জাতিক নং: ১০১৫
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/9267
২. হারাম খাদ্য অন্তরের নূর কেড়ে নেয় এবং অন্তরকে শক্ত করে দেয়। ফলে ওই ব্যক্তি নামাজ বা অন্য কোনো ইবাদতে একাগ্রতা বা তৃপ্তি পায় না। হারামের কারণে ভালো কাজের তাওফিক কমে যায় এবং মন্দ কাজের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়।
৩. হারাম খেয়ে যে শরীর গঠিত হয়, সেই শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
وَعَن أبي بكر الصّديق رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا يدْخل الْجنَّة جَسَد غذي بِحرَامرَوَاهُ أَبُو يعلى وَالْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالْبَيْهَقِيّ وَبَعض أسانيدهم حسن
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃঃও যে দেহের পরিপুষ্টি হারাম খাদ্য দ্বারা হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
(হাদীসটি আবু ইয়ালা, বাযযার এবং তাবারানী তাঁর 'আওসাতে' বর্ণনা করেছেন। বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন। তাদের কোন কোন বর্ণনা সূত্র খুবই চমৎকার।)
আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব
হাদীস নংঃ ২৬৯০
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/1618550
৪. হারাম পথে অনেক টাকা আসলেও তাতে কোনো 'বারাকাহ' বা কল্যাণ থাকে না। এই টাকা অপচয় হয়, রোগ-শোক বা পারিবারিক অশান্তিতে ব্যয় হয়ে যায়। হারাম উপার্জনকারী ব্যক্তি মানসিকভাবে কখনোই সুখী হতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
یَمۡحَقُ اللّٰہُ الرِّبٰوا وَیُرۡبِی الصَّدَقٰتِ ؕ وَاللّٰہُ لَا یُحِبُّ کُلَّ کَفَّارٍ اَثِیۡمٍ
আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন (বরকতহীন করেন) এবং দান-সদাকাকে বর্ধিত করেন। আর আল্লাহ এমন প্রতিটি লোককে অপছন্দ করেন যে নাশোকর, পাপিষ্ঠ। (সূরা আল-বাকারা: ২৭৬)
৫. মা-বাবার হারাম উপার্জন সন্তানদের স্বভাব-চরিত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। হারাম খাদ্যে বেড়ে ওঠা সন্তানরা সাধারণত অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ এবং দ্বীনবিমুখ হয়। কারণ হারাম খাদ্য মানুষের চিন্তাধারাকে কলুষিত করে।
৬. কবরের আজাব ও কঠিন হিসাব
হারাম মাল ভক্ষণকারীকে কবরে এবং কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে। বিশেষ করে যারা অন্যের হক বা এতিমের মাল আত্মসাৎ করে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কঠোর সাবধানবাণী শুনিয়েছেন।
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ اَمۡوَالَ الۡیَتٰمٰی ظُلۡمًا اِنَّمَا یَاۡکُلُوۡنَ فِیۡ بُطُوۡنِہِمۡ نَارًا ؕ وَسَیَصۡلَوۡنَ سَعِیۡرًا
নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা মূলত তাদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে; এবং অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা আন-নিসা: ১০)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১