কুরবানী ব্যক্তিগত সম্পদের উপর ওয়াজিব হয়, সমষ্টিগত সম্পদের উপর নয়
প্রশ্নঃ ১৫৩৫৬৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের পরিবারে বর্তমানে চারজন সদস্য রয়েছে। আমাদের পরিবারে আমরা দুই ভাই এক বোন ও আম্মা রয়েছেন। বিগত কিছুদিন পূর্বে আমার আব্বা ইন্তেকাল করেন।
আমাদের ঢাকাতে দেড় কাঠার উপর একটি বাড়ি রয়েছে যেখানে ১১ টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তন্মধ্যে দুটি ফ্ল্যাটে আমরা নিজেরা বসবাস করি এবং বাকি ৯ টি ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া রয়েছে। নয়টি ফ্ল্যাট থেকে আমরা মাসিক প্রায় ৪২ হাজার টাকা ভাড়া পেয়ে থাকি।
এছাড়াও আমাদের গ্রামে সাড়ে ২২ শতাংশ জমি ও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে সেখান থেকে আমরা তেমন কোন টাকা পাই না এবং ঢাকাতে আমাদের একটি ছোট দোকান রয়েছে যা আমার ছোট ভাই বর্তমানে পরিচালনা করে। দোকানে আমাদের প্রায় আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকার মালামাল রয়েছে।
উল্লেখ্য আমার বাবা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ঋণ রেখে গেছেন এবং তার চিকিৎসার কাজে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে যা আমাদের পরিশোধ করতে হবে।
পরিবারে আমি একটি ছোট চাকুরী করি যেখানে ৩৫ হাজার টাকা বেতন পাই এবং আমার নিজস্ব পরিবার থাকায় অধিকাংশ টাকায় খরচ হয়ে যায় এবং আমার ও প্রায় তিন লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে।
আমার ছোট ভাই যে বাবার ব্যবসা দেখছে সে ব্যবসা থেকে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারে না। আমার বোন বিবাহিত সে তার স্বামীর সাথে থাকে এবং আমার আম্মা আমাদের সাথে থাকে। এমতঅবস্থায় আমাদের পরিবারের সবার উপরে কি কোরবানি ওয়াজিব?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের প্রথম করণীয় হলো, মিরাছ (উত্তরাধিকার সম্পদ) বণ্টন করা। তারপর প্রত্যেক ব্যক্তির মালিকানা সম্পদ হিসাব করে পরবর্তী কোন বিধান (যেমন কুরবানী) সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। তাই প্রথমে মিরাছ বণ্টনের গুরুত্ব ও পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো।
আপনার আব্বা মৃত্যুকালে নিজ মালিকানায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, নগদ অর্থ, সোনা-রূপা, কাপড়-চোপড় ও গৃহসামগ্রী ইত্যাদি যা কিছু রেখে গেছেন, সবই তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। তার উক্ত সমুদয় সম্পদের সাথে শরিয়তের চারটি বিধান ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য। এর প্রত্যেকটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।
১. যদি প্রয়োজন হয় তাহলে মরহুমের কাফন-দাফনের ব্যয় বহন করার সুযোগ রয়েছে।
২. স্ত্রীর অনাদায়ী মোহর, মরহুমের চিকিৎসার বকেয়া বিলসহ, তার যে কোন ঋণ পরিশোধ করা।
৩. বৈধ কোন অসিয়ত করে গেলে অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে তা আদায় করা। অসিয়ত না করলে এটা প্রযোজ্য হবে না।
৪. উপরোক্ত তিনটি বিধান পালনের পর যে সম্পদ থাকবে তা ওয়ারিশদের মাঝে উত্তরাধিকার নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করা।
ইসলামের উত্তরাধিকার আইন মোতাবেক প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক। বণ্টন না করে যার যার মতো করে ব্যবহার করা বৈধ নয়।
সুতরাং আপনার বাবার ঋণ পরিশোধের পর অসিয়ত থাকলে তাও আদায় করতে হবে। এরপর প্রশ্নে বর্ণিত ওয়ারিশগণ (আপনার আম্মা ও তিন ভাই বোন) ব্যতীত আপনার আব্বার অন্য কোনো ওয়ারিশ না থাকলে তার অবশিষ্ট সমুদয় সম্পত্তি ইসলামী বিধান অনুযায়ী নিম্ন লিখিত হারে ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টিত হবে। সেক্ষেত্রে ঢাকার বাড়ি-ফ্ল্যাট, গ্রামের জমি ও ফ্ল্যাট এবং দোকানসহ নগদ অর্থ সবই বণ্টন করে নিতে হবে।
শতকরা হারে বণ্টন নিম্বরূপ-
ক্রমিক ওয়ারিশ শতকরা হারে প্রাপ্য অংশ
১. স্ত্রী ১২. ৫%
২. ছেলে ৩৫%
৩. ছেলে ৩৫ %
৪. মেয়ে ১৭.৫%
কুরবানী ওয়াজিব কি-না?
মিরাছ বণ্টনের পর প্রত্যেকের সম্পদ আলাদা আলাদা হিসাব করে দেখতে হবে, কুরবানীর নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে কি না? যার এ নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে; কারও নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হবে না। কেননা কুরবানী সমষ্টিগত সম্পদের উপর ওয়াজিব হয় না। বরং প্রত্যেক ধনী ব্যক্তির উপর পৃথক পৃথক ওয়াজিব হয়। আর নেসাবের পরিমাণ হচ্ছে- ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে কোন সম্পদ, যদি তা ৫২.৫ ভরি রূপার বাজারমূল্য সমপরিমাণ হয়।
من المستندات الشرعية
** قوله تعالى ﴿يُوصِيكُمُ ٱللَّهُ فِيٓ أَوۡلَٰدِكُمۡۖ لِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ ٱلۡأُنثَيَيۡنِۚ فَإِن كُنَّ نِسَآءٗ فَوۡقَ ٱثۡنَتَيۡنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَۖ وَإِن كَانَتۡ وَٰحِدَةٗ فَلَهَا ٱلنِّصۡفُۚ وَلِأَبَوَيۡهِ لِكُلِّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا ٱلسُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُۥ وَلَدٞۚ فَإِن لَّمۡ يَكُن لَّهُۥ وَلَدٞ وَوَرِثَهُۥٓ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ ٱلثُّلُثُۚ فَإِن كَانَ لَهُۥٓ إِخۡوَةٞ فَلِأُمِّهِ ٱلسُّدُسُۚ مِنۢ بَعۡدِ وَصِيَّةٖ يُوصِي بِهَآ أَوۡ دَيۡنٍۗ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُكُمۡ لَا تَدۡرُونَ أَيُّهُمۡ أَقۡرَبُ لَكُمۡ نَفۡعٗاۚ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا ١١﴾ [النساء: 11]
** عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم [أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ] مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ؛
** عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صَلّى الله عَلَيْهِ وَسَلّم- يَقُولُ: [إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ]
التخريج: رواه أحمد (21791)، وأبو داود ( 2870 ـ 3565 )، والترمذي (2120)
** «مسند أحمد» (14/ 24 ط الرسالة): «8273 -
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا ".»
** «الدر المختار مع رد المحتار» (6/ 312):
«وشرائطها: الإسلام والإقامة واليسار الذي يتعلق به) وجوب (صدقة الفطر) كما مر (لا الذكورة فتجب على الأنثى) خانية»
«(قوله واليسار إلخ) بأن ملك مائتي درهم أو عرضا يساويها غير مسكنه وثياب اللبس أو متاع يحتاجه إلى أن يذبح الأضحية ولو له عقار يستغله فقيل تلزم لو قيمته نصابا، وقيل لو يدخل منه قوت سنة تلزم، وقيل قوت شهر، فمتى فضل نصاب تلزمه.»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
যদি প্রবাসীর উপর ফরজ হয়,আর সে হজ্ব না করেই দেশে চলে আসে তাহলে তার কি করনীয়?
মোহাম্মদ(স) তো আয়শা (র) কে বেশি ভালোবাসতো এটা কি তাইলে সমান আধিকারের বিরুদ্ধে চলে গেল না?
উপযুক্ত পাত্র পেলে দ্রুত বিয়ে দেওয়া উচিত
মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় পুরাতন কবরের উপর মসজিদ সম্প্রসারণ
শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য শর্তের বিষয়টি জানা থাকা আবশ্যক নয়