মা যদি ফাসেক হয় তাহলে সন্তান লালন পালনের অধিকার পিতার
প্রশ্নঃ ১৫৪৭৪২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, সন্তান ৭ বছর পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকলে তার চরিত্রগত অনেক ত্রুটি হবে। এবং এটা নিশ্চিত যে তার ভালো গুণগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে না । এবং একটা খারাপ মানুষের দিকেই ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনাটাই নিশ্চিত, এক্ষেত্রে সন্তানকে তার ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে বাবার কাছে রাখাটা জরুরী কিনা অবশ্যই বাবার পরিবেশ অনেক দ্বীনদার এবং আদর্শবান করিবে এ বিষয়ে ইসলাম কি বলে। অর্থাৎ মায়ের বাড়িতে বানান বাড়িতে থাকলে আদর্শ নষ্ট হবে বাবার বাড়িতে থাকলে আদর্শ ভালো হবে সে ক্ষেত্রে কোন বাড়ির থাকা উচিত হবে?
১৫ জুন, ২০২৬
ঢাকা ১২০৮
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
শিশুদের লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের অধিকার একটি শরয়ী অধিকার, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর অর্পণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো অবুঝ শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করা, যে নিজে নিজের যত্ন নিতে সক্ষম নয় এবং খাওয়া-দাওয়া, পোশাক ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রাখে। এই বিবেচনায় শরীয়ত ছোট শিশুদের লালন-পালনের অধিকার প্রথমে মাকে দিয়েছে। তবে ছেলে ৭ বছর এবং মেয়ে ৯ বছর বয়সে পৌঁছালে এই অধিকার পিতার কাছে স্থানান্তরিত হয় এবং এরপর পিতা লালন-পালনের সবচেয়ে বেশি হকদার হন।
কিন্তু যেহেতু শিশুদের ঈমান রক্ষা করা শরীয়তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি, তাই মা যদি কাফের বা ফাসেক (অবাধ্য) হন, তবে নির্ধারিত বয়সের আগেও শিশুদের মায়ের হেফাজতে রাখা যাবে না। অতএব, প্রশ্নোক্ত পরিস্থিতিতে, যেহেতু আবেদনকারীর শিশু মায়ের হেফাজতে থাকলে তাদের দ্বীন ও ঈমান বিপন্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে এবং তারা আদর্শচুত্য হওয়ার সাথে সাথে খারাপ পরিবেশে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে তাই শিশুদের কল্যার্থেই তাদের মায়ের হেফাজত থেকে বের করে আবেদনকারীর (পিতা) কাছে হস্তান্তর করা জায়েজ হবে। এবং আবেদনকারীর ওপর দায়িত্ব হলো, ইসলামিক বিধান অনুযায়ী অত্যন্ত স্নেহ ও সুন্দরভাবে তাদের লালন-পালন করা। এবং মা যখন তার সন্তানের সাক্ষাত চায় তখন তাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
في المبسوط للإمام السرخسي :
"ومن مشايخنا من يقول: إذا كانت كافرة فعقل الولد فإنه يؤخذ منها جارية كانت، أو غلاما؛ لأنه مسلم بإسلام الأب وإنها تعلمها الكفر فلا تؤمن من الفتنة إذا تركت عندها فلهذا تؤخذ منها."
(كتاب النكاح، باب حكم الولد عند افتراق الزوجين، ج:5، ص:210، ط:دار المعرفة)
في رد المحتار:
"قال الرملي: ويشترط في الحاضنة أن تكون حرة بالغة عاقلة أمينة قادرة."
(كتاب الطلاق، باب الحضانة، ج:3، ص:555، ط:ايچ ايم سعيد)
في الموسوعة الفقهية الكويتية :
"3 - الأمانة في الدين، فلا حضانة لفاسق، لأن الفاسق لا يؤتمن، والمراد: الفسق الذي يضيع المحضون به، كالاشتهار بالشرب، والسرقة، والزنى واللهو المحرم، أما مستور الحال فتثبت له الحضانة. قال ابن عابدين: الحاصل أن الحاضنة إن كانت فاسقة فسقا يلزم منه ضياع الولد عندها سقط حقها، وإلا فهي أحق به إلى أن يعقل الولد فجور أمه فينزع منها."
(حضانة، ما يشترط فيمن يستحق الحضانة، ج:17، ص:306، ط:وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية - الكويت)
في رد المحتار على الدر المختار:
"الحاضنة إنما تثبت لها الحضانة إذا كانت أمينة... فلو كانت غير أمينة كالفاسقة والزانية والسارقة والمغنية لا حق لها في الحضانة؛ لأن الحضانة للنظر في حال الولد، ولا نظر في حال الفاسقة."
رد المحتار على الدر المختار، كتاب الطلاق، باب الحضانة، ج ٣، ص ৫৫৫
অর্থ: "লালন-পালনকারিনী কেবল তখনই এই অধিকার পাবেন যখন তিনি আমানতদার (বিশ্বস্ত) হবেন... সুতরাং তিনি যদি আমানতদার না হন—যেমন ফাসেক (পাপাচারী), ব্যভিচারী, চোর কিংবা গায়িকা হন, তবে লালন-পালনে তাঁর কোনো অধিকার থাকবে না। কারণ হিজানাতের উদ্দেশ্য হলো সন্তানের কল্যাণ দেখা, আর ফাসেক নারীর কাছে সন্তানের কোনো কল্যাণ বা নিরাপত্তা থাকে না।"
ইসলামী ফিকহের সুপরিচিত বিশ্বকোষ 'আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিইয়াহ'-তে এই মূলনীতিটি হুবহু এভাবে এসেছে:
"حق الحضانة شرع لمصلحة المحضون، فكل من كان أنفع للمحضون وأقدر على حفظه وصيانته وتربيته فهو أولى به."
অর্থ: "হিজানাত বা লালন-পালনের অধিকারটি শরিয়তে বৈধ করা হয়েছে মূলত সন্তানের (মহযূূনের) কল্যাণের জন্য। অতএব, যে ব্যক্তি সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী, তাকে হেফাযত করতে, রক্ষা করতে ও লালন-পালন করতে সবচেয়ে বেশি সক্ষম, তিনিই সন্তানের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি হকদার।"
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১