আমানতের টাকা চুরি বা হারিয়ে গেলে আমানতগ্রহীতার দায়বদ্ধতার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬২২৮১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মুহতারাম, আমানতের টাকা চুরি বা হারিয়ে গেলে,আমানত গ্রহিতার উপর জরিমানা আসবে কি? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
২২ জুলাই, ২০২৬
কিশোরগঞ্জ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যার কাছে কোনো সম্পদ আমানত রাখা হয় সে যদি আমানতের যথাযথ হেফাজত করে, এরপরও তার কোনো অবহেলা বা সীমালঙ্ঘন ছাড়া আমানতের টাকা চুরি হয়ে যায়, হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার ওপর ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) আদায় করা আবশ্যক নয়।
তবে যদি তার অবহেলা, অসতর্কতা, বা আমানতের শর্ত ভঙ্গ করার কারণে টাকা নষ্ট বা চুরি হয়, তাহলে সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে।
সুনানে বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে,
أن عَليًّا وابنَ مَسعودٍ رضي الله عنهما قالا: لَيسَ على مُؤتَمَنٍ ضَمانٌ
ورُوّينا عن شُرَيحٍ: لَيسَ على المُستَودَعِ غَيرِ المُغِلِّ ضَمانٌ.
অর্থ : আলী (রাযি.) এবং ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: "যার নিকট আমানত রাখা হয়েছে (আমানতদার), তার ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ নেই।"
এবং কাজী শুরাইহ্ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমানত রক্ষাকারীর ওপর কোনো জরিমানা নেই, যতক্ষণ না সে খিয়ানত করে।"
(সুনানে কুবরা লিল-বায়হাকী, ১২৮২৫)
অপর হাদীসে এসেছে,
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَهْمِ الأَنْمَاطِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنِ الْمُثَنَّى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أُودِعَ وَدِيعَةً فَلاَ ضَمَانَ عَلَيْهِ "
অর্থ: উবায়দুল্লাহ ইবন জাহস আনমাতী (রাহঃ) ….. আমর ইবন শুআয়েবের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি কারো কাছে কোন আমানাত রাখা হয়, (এবং তা যদি তার কাছ থেকে বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে) তার ওপর কোন ক্ষতিপূরণ আসবে না।
[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ২৪০১]
(হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/27692)
ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব ফতহুল কদীরে আছে,
"قال (الوديعة أمانة في يد المودع إذا هلكت لم يضمنها) لقوله عليه الصلاة والسلام ليس على المستعير غير المغل ضمان ولا على المستودع غير المغل ضمان"
অর্থ: (হেদায়া গ্রন্থকার) বলেন: "(গচ্ছিত রাখা) আমানতের বস্তু আমানতগ্রহীতার কাছে একটি আমানতস্বরূপ; তা যদি ধ্বংস বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে না।" কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "খিয়ানতকারী ব্যতীত সাধারণ ব্যবহারকারীর (ধার গ্রহণকারী) ওপর কোনো জরিমানা নেই, এবং খিয়ানতকারী ব্যতীত আমানতগ্রহীতার ওপরও কোনো জরিমানা নেই।"
[ফাতহুল কদীর: ৮/৪৮৫]
মাজমাউ আনহুরে আছে,
(فلا يضمن) أي لا يضمن المودع الوديعة بغير تعد (بالهلاك) سواء أمكن التحرز عنه أو لا هلك معها للمودع شيء أو لا لقوله عليه السلام: ليس على المستودع غير المغل ضمان» ولأن شرعيتها لحاجة الناس إليها
অর্থ: (অতএব সে জরিমানা দেবে না) অর্থাৎ কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন ছাড়া আমানতের বস্তু নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে গেলে আমানতগ্রহীতা তার ক্ষতিপূরণ দেবে না; চাই সেই ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল কিংবা ছিল না, অথবা সেই আমানতের সাথে আমানতগ্রহীতার নিজস্ব কোনো সম্পদ নষ্ট হয়ে থাকুক বা না থাকুক। কারণ নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "খিয়ানতকারী ছাড়া আমানতগ্রহীতার ওপর কোনো জরিমানা নেই।" তাছাড়া মানুষের পারস্পরিক জীবনের প্রয়োজন মেটাতেই আমানতের এই শরঈ বিধান তৈরি করা হয়েছে।
[মাজমাউল আনহুর: ২/৩৩৮]
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১