মোহাম্মদ(স) তো আয়শা (র) কে বেশি ভালোবাসতো এটা কি তাইলে সমান আধিকারের বিরুদ্ধে চলে গেল না?
প্রশ্নঃ ১৫৫৮০৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন টা শুনে মনে হতে পারে আমি গুনা করছি কিন্তু আমি সব সময় এটা নিয়ে এ ভাবসি।তাই আপনাদের কাছে ask করলাম,আমি ভুল কিসু করলে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুক।আমরা জানি ৪ বিয়ের ক্ষেত্রে সমান আধিকার দিতে হয়,কিন্তু মোহাম্মদ(স) তো আয়শা (র) কে বেশি ভালোবাসতো এটা কি তাইলে সমান আধিকারের বিরুদ্ধে চলে গেল না?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
রাসূল [সা] সর্বদা স্ত্রীদের ব্যাপারে ইনসাফ করতে তৎপর থাকতেন। অবশ্য এতে তাঁর জন্য অন্য কোনো বাধ্য বাধ্যকতা ছিলো না। স্বয়ং আল্লাহ্ তাকে বলেছেন, আপনি যার কাছে যতোদিন ইচ্ছে থাকুন এবং যার থেকে যতো ইচ্ছে এবং যতোদিন ইচ্ছে আপনি দূরে থাকুন। (সূরা আহযাব।)
দীসে আছে- যখন নবী করীম (সা) উম্মে সালমা [রা] কে বিয়ে করেন তখন তিনদিন তাঁর নিকট থাকেন। যখন তিনি অন্য স্ত্রীদের ঘরে যেতে চাইলেন, তখন উম্মে সালমা [রা] কাপড় ধরে রাখেন। তখন রাসূল [সা] বললেন, 'যদি তুমি চাও তবে সাত দিন আমি তোমার নিকট থাকবো এবং অন্যদের সাথেও সাতদিন করে থাকবো। আর যদি মনে করো তিনদিন পরপর পালা বদল হোক, তাহলে আমি তোমার নিকট তিন দিন থাকবো।' তখন উম্মে সালমা [রা] তিন দিনের কথায় রাজী হলেন।
আর একাধিক স্ত্রীর মাঝে ভালবাসাকে যেমন সমানভাবে ভাগ করে বণ্টন করা যায় না, তেমনি আকর্ষণ ও মিলনও সবার সাথে সমান হওয়া জরুরী নয়।
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বিবিদের মাঝে খুবই ন্যায়সংগতভাবে পালা বণ্টন করতেন। আর তিনি (আল্লাহর কাছে দোয়া করে) বলতেন-
اللَّهُمَّ هَذِهِ قِسْمَتِي فِيمَا أَمْلِكُ فَلاَ تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلاَ أَمْلِكُ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা হাজিহি ক্বিসমাতি ফিমা আমলিকু ফালা তালুমনি ফিমা তামলিকু ওয়া লা আমলিকু।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এই আমার পালা বণ্টন। যে ব্যাপারে শুধু তোমারই পূর্ণ শক্তি আছে, আমার কোনো শক্তি নেই, সেই (পালা বণ্টনের মাধ্যমে সমতা রক্ষার) ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করো না।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
এই হাদিসে ‘লা তালুমনি ফিমা তামলিকু ওয়া লা আমলিকু’-এর ব্যাখ্যায় ইসলামিক স্কলারদের মতামত হলো- ‘আন্তরিক প্রেম-ভালোবাসার উপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই (এটা কম-বেশী হতে পারে)।
স্ত্রীদের সঙ্গে আচরণেও সমতা রক্ষা করা
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সব স্ত্রীদের সঙ্গেই উত্তম আচরণ করতেন। কোনো স্ত্রী কোনো দিন তাকে আচরণের তারতম্য হয়েছে মর্মে কোনা কথা বলতে পারেনি।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
কুরবানী ব্যক্তিগত সম্পদের উপর ওয়াজিব হয়, সমষ্টিগত সম্পদের উপর নয়
যদি প্রবাসীর উপর ফরজ হয়,আর সে হজ্ব না করেই দেশে চলে আসে তাহলে তার কি করনীয়?
উপযুক্ত পাত্র পেলে দ্রুত বিয়ে দেওয়া উচিত
মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় পুরাতন কবরের উপর মসজিদ সম্প্রসারণ
শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য শর্তের বিষয়টি জানা থাকা আবশ্যক নয়