স্পনসরের বিনামূল্যে দেওয়া ভিসা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৫৯৯৯৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সৌদিতে অনেক আরবি বাঙালি বা হিন্দি লোককে ভিসা দিয়ে বলে, “একজন আমিল এনে দাও।” কিন্তু ঐ লোক ভিসাটি আরবির অজান্তে অন্যের কাছে টাকার বিনিময়ে দেয়।(১লাখ /৫০ হাজার) অথচ ভিসাটি সে কিনেনি। এভাবে ভিসার বিনিময়ে টাকা নেওয়া কি শরিয়ত অনুযায়ী জায়েয ও হালাল? কেউ নিয়ে থাকলে এখন করনীয় কি?
৫ জুলাই, ২০২৬
الرياض, Riyadh Governorate, Riyadh Region, Saudi Arabia
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে যদি আরবি (স্পনসর) কাউকে নির্দিষ্টভাবে একজন কর্মী (আমিল) আনার জন্য ভিসা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই ভিসা তার কাছে আমানতস্বরূপ। এ অবস্থায় স্পনসরের অনুমতি ছাড়া ভিসাটি অন্যের কাছে টাকা নিয়ে বিক্রি বা হস্তান্তর করা শরীয়তসম্মত নয়।
কারণ, ভিসাটি তার নিজস্ব সম্পদ নয় যে সে ইচ্ছামতো বিক্রি করবে; বরং এটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য দেওয়া একটি অধিকার বা দায়িত্ব। তাই মালিকের অনুমতি ছাড়া এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ এবং খিয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।"
(সূরা আন-নিসা: ২৯)
আরও ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, তোমরা আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।"
(সূরা আন-নিসা: ৫৮)
তবে যদি ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য বাস্তবিকই শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় হয় আর তা দেশীয় আইনের ব্যত্যয় না ঘটে ও স্পনসরের অনুমতি বা চুক্তির পরিপন্থী না হয়, তাহলে ভিসার আসল খরচের অতিরিক্ত তার শ্রম ও মেহনতের ন্যায্য মজুরি বা সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করা জায়েজ হবে।
ফাতাওয়া শামীতে এসেছে:
سُئِلَ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أُجْرَةِ السِّمْسَارِ، فَقَالَ: أَرْجُو أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ وَإِنْ كَانَ فِي الْأَصْلِ فَاسِدًا لِكَثْرَةِ التَّعَامُلِ وَكَثِيرٌ مِنْ هَذَا غَيْرُ جَائِزٍ، فَجَوَّزُوهُ لِحَاجَةِ النَّاسِ إلَيْهِ
অর্থ: মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ (রহ.)-কে মধ্যস্থতাকারী বা দালালের পারিশ্রমিক (সিমসারী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি আশা করি এতে কোনো অসুবিধা নেই—যদিও মূল নিয়মে এটি ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) ছিল—কিন্তু মানুষের ব্যাপক প্রচলন ও প্রয়োজনের তাগিদে ফুকাহায়ে কেরাম এটিকে বৈধ বলেছেন।"
[রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী): ৬/৬৩]
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১