নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে এবং পরে তা ফাসখের অধিকার
প্রশ্নঃ ১৬৪৫৮৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের নাবালেক এবং নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়। পরবর্তীতে যখন ওই ছেলেমেয়েগুলো বালেগ হয়, তখন স্বামী এ বিয়ে টিকিয়ে রাখতে চাইলেও মেয়েটি টিকিয়ে রাখতে চায় না। এখন নাবালেক অবস্থায় উভয়ের বিয়ে হওয়ার কারণে ওই স্ত্রী কি তালাকে তাফবীজের অধিকার পাবে
১৩ আগস্ট, ২০২৬
VCV৮+J৩২
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যদি কোনো নাবালিকা মেয়ের বিয়ে তার বাবা বা দাদা দিয়ে দেন, তাহলে বালেগ হওয়ার পর ওই মেয়ের উক্ত বিয়ে ফাসখ (বিবাহ বাতিল) করানোর অধিকার থাকে না। তবে যদি বাবা বা দাদার অভিভাবকত্বে অসদুপায় অবলম্বন করা বা স্বার্থপরতার বিষয়টি প্রসিদ্ধ/প্রমাণিত হয় অর্থাৎ বাবা বা দাদা কোনো লোভ-লালসার কারণে নাবালিকা মেয়ে বা নাতনির অনুপযুক্ত জায়গায় বিয়ে দিয়ে থাকেন, তাহলে ভিন্ন হুকুম হবে।
আর যদি বাবা-দাদা ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবক নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দেন, তাহলে বালেগ হওয়ার পর মেয়েটির বিয়ে ফাসখ করানোর অধিকার থাকবে; তবে শর্ত হলো, বালেগ হওয়ার পর সে ওই বিয়েতে সম্মতি প্রকাশ না করতে হবে।
অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় যেহেতু নাবালিকা মেয়ের বিবাহ তার বাবা দিয়েছেন, তাই শরীয়তের দৃষ্টিতে এই বিবাহ সহীহভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ওই মেয়ের বিবাহ বাতিল করার নিজস্ব অধিকার নেই।
তবে যদি মেয়ে ও তার অভিভাবক মনে করেন যে, ওই স্বামী জালিম এবং তার সঙ্গে মেয়ের সংসার করা অত্যন্ত কষ্টকর, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো বৈধ উপায়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক নেওয়ার চেষ্টা করবে অথবা স্বামীর সম্মতিতে খুলা গ্রহণ করবে।
(الدر المختار: کتاب النکاح، باب الولی: 3 / 65، 66، ط: سعید)
"(وللولي) الآتي بيانه (إنكاح الصغير والصغيرة)جبرا (ولو ثيبا) كمعتوه ومجنون شهرا (ولزم النكاح ولو بغبن فاحش) بنقص مهرها وزيادة مهره (أو) زوجها (بغير كفء إن كان الولي) المزوج بنفسه بغبن (أبا أو جدا) وكذا المولى وابن المجنونة (لم يعرف منهما سوء الاختيار) مجانة وفسقا(وإن عرف لا) يصح النكاح اتفاقا وكذا لو كان سكران فزوجها من فاسق، أو شرير، أو فقير، أو ذي حرفة دنية لظهور سوء اختياره فلا تعارضه شفقته المظنونة
و في الرد: أن المانع هو كون الأب مشهورا بسوء الاختيار قبل العقد فإذا لم يكن مشهورا بذلك ثم زوج بنته من فاسق صح وإن تحقق بذلك أنه سيئ الاختيار واشتهر به عند الناس، فلو زوج بنتا أخرى من فاسق لم يصح الثاني لأنه كان مشهورا بسوء الاختيار قبله، بخلاف العقد الأول لعدم وجود المانع قبله۔"
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
তাওহীদুল ইসলাম
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১