দুই মাসের ভ্রূণের হৃদস্পন্দন ও রূহ ফুঁকার বাস্তবতা
প্রশ্নঃ ১৬৯৫০১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, একজন মহিলা দুই মাসের বাচ্চা নষ্ট করে, দুই মাসের বাচ্চা নষ্ট করার সময় ডাক্তাররা যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বুঝতে পেরেছিলেন যে,বাচ্চার হৃদ স্পন্দন হচ্ছে বাচ্চা নড়াচড়া করছে।তাহলে কি তার মানে এই যে মাতৃগর্ভে ওই দুই মাসের বাচ্চার শরীরে রুহ ফুকে দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে দুই মাসের ভ্রূণে হৃদস্পন্দন বা নড়াচড়া দেখা যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, শরীয়ত নির্দেশিত ‘রূহ ফুঁকা’ সম্পন্ন হয়েছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে মানব সৃষ্টির ধারাক্রম এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞান ভ্রূণের যে প্রাথমিক হৃদস্পন্দন বা নড়াচড়া প্রত্যক্ষ করে, তা হলো ভ্রূণের শারীরিক বৃদ্ধি। পক্ষান্তরে, শরীয়তসম্মত ‘রূহ ফুঁকা’ হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ ফুঁকদানের মাধ্যমে মানবীয় আত্মা ও চেতনা সঞ্চার করা, যার মাধ্যমে একটি ভ্রূণ পূর্ণাঙ্গ মানব সত্তায় রূপ নেয়। কুরআন, সহীহ হাদীস ও ফিকহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে এই ‘রূহ ফুঁকা’ বা আত্মা সঞ্চার হয় গর্ভধারণের ১২০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর । অতএব, দুই মাসের বাচ্চার যে হৃদস্পন্দন বা নড়াচড়া ধরা পড়ে, তা জৈবিক বৃদ্ধি মাত্র; তাতে মানবীয় রূহ ফুঁকা হয়নি।
في صحيح مسلم 6482
عن عبد الله، قال حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق إن أحدكم يجمع خلقه في بطن أمه أربعين يوما ثم يكون في ذلك علقة مثل ذلك ثم يكون في ذلك مضغة مثل ذلك ثم يرسل الملك فينفخ فيه الروح
«التبيان في أيمان القرآن» (1/ 528)
«فصل
فإن قيل الجَنِينُ قبل نفخ "الرُّوح" فيه، هل كان فيه حركةٌ وإحساسٌ أم لا؟
قيل: كان فيه حركة النُّمُوِّ والاغتذاء كالنَّبات، ولم تكن له حركة الحِسِّ والإرادة، فلمَّا نُفِخَت فيه "الرُّوح" انضمَّت حركة حِسِّهِ وإرادته إلى حركة نُموِّه واغتذائه»
«عمدة القاري شرح صحيح البخاري» (3/ 293)
«واتفق العلماء أن نفخ الروح لا يكون إلا بعد أربعة أشهر ودخوله في الخامسة»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন