সৌদিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯৯০৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মানিত মুহতারাম , একজন মুসলিমের ওপর হজ ফরয হয়েছে এবং তিনি এ বছর হজ পালনের নিয়ত ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে যাতায়াত ও হজ সফরকে তিনি নিজের জন্য নিরাপদ মনে করছেন না। এ অবস্থায় তিনি যদি এ বছরের হজযাত্রা স্থগিত করে পরবর্তী হজ মৌসুমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী কি তিনি গুনাহগার হবেন?
আর যদি পরবর্তী বছর পরিস্থিতি নিরাপদ ও অনুকূল হয়ে যায়, কিন্তু তার আগেই তার মৃত্যু হয়—তাহলে তার ওপর কি কোনো গুনাহ থাকবে? তার ওয়ারিশদের কী করণীয় হবে?
বিশেষভাবে জানতে চাই
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হজ ফরজ হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত তা আদায়
করে নেওয়া উচিত। বিনা কারণে হজ পিছানো মোটেও ঠিক নয়। যদি এমন কোনো অনিবার্য পরিস্থিতি সামনে আসে—যেমন নিজের জীবনের
ঝুঁকি তৈরি হওয়া, মারাত্মক
অসুস্থতার আশঙ্কা ইত্যাদি—তবে সে ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে হজ কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার অবকাশ
রয়েছে। তবে সমস্যা কেটে গেলেই আর দেরি না করে হজ আদায় করে নিতে হবে।
বর্তমান সৌদি আরবের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে
যদি কেউ নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে হজে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার কারণে গোনাহ হবে না। তবে বর্তমান
অবস্থা এমন কোনো চরম নিরাপত্তাহীন নয় যে হজে যাওয়াই অসম্ভব। বরং সার্বিক নিরাপত্তা
পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন থেকেই হজের দৃঢ় নিয়ত করে ফেলা উত্তম।
যদি হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও কোনো কারণে তা আদায়
করার আগেই মৃত্যু চলে আসে, তবে মারা যাওয়ার
আগে ওয়ারিশদের কাছে অসিয়ত করে যাওয়া আবশ্যক—যেন তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর
পক্ষ থেকে অন্য কাউকে দিয়ে
বদল
হজ করানো হয়। তখন মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া মোট সম্পত্তির
এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) অংশ থেকে তাঁর
বদলে অন্য কারো মাধ্যমে হজ আদায় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সে অসিয়ত করে না যায়, তাহলে
ওয়ারিশগণ স্বেচ্ছায় তার পক্ষ থেকে বদলি হজের ব্যবস্থা করলে আদায় হয়ে যাবে।
صحیح
البخاري
عن ابن عباس
رضي اللّٰہ عنہ أن امرأۃ من جہینۃ جاء ت إلی النبي صلی اللّٰہ علیہ وسلم فقالت:
إن أمي نذرت أن تحج، فلم تحج حتی ماتت، أفأحج عنہا، قال: حجي عنہا، أرأیت لو
کان علی أمّک دین أکنت قاضیۃ؟ اقضو اللّٰہ، فاللّٰہ أحقّ بالوفاء۔
الفتاویٰ
التاتارخانیۃ، کتاب المناسک / باب الوصیۃ بالحج
ومن مات وعلیہ
فرض الحج ولم یوص بہ، لم یلزم الوارث أن یحج عنہ، وإن أحب أن یحج عنہ حجَّ،
وأرجو أن یجزیہ إن شاء اللّٰہ تعالیٰ۔ ،
شامي، کتاب
الحج / باب الحح عن الغیر
لو مات رجل بعد
وجوب الحج ولم یوص بہ فحج رجل عنہ …، قال أبوحنیفۃ: یجزیہ إن شاء اللّٰہ، وبعد الوصیۃ
یجزیہ من غیر المشیئۃ۔
جواب
نمبر: 46383
بسم الله
الرحمن الرحيم
فتوی:
1141-1086/N=10/1434 اگر
حج فرض ہوجانے کے بعد استطاعت باقی نہ رہے تو حج کی فرضیت ساقط نہیں ہوتی؛ بلکہ
علی حالہ برقرار رہتی ہے، وکذلک لو لم یحج حتی افتقرتقرر وجوبہ دینا في ذمتہ
بالاتفاق ولا یسقط عنہ بالفقر (غنیة الناسک ص۳۳ ومثلہ في الہندیة
وغیرہا) ایسا شخص استطاعت کا انتظا رکرے، اگر موت تک اسے استطاعت حاصل ہوجائے تو
حج کرلے ورنہ موت کے وقت حج بدل کی وصیت کرجائے، پھر تہائی ترکہ سے جہاں سے حج بدل
ہوسکتا ہو وہاں سے اس کی جانب سے حج بدل کرادیا جائے۔
واللہ تعالیٰ اعلم
دارالافتاء،
دارالعلوم دیوبند
https://darulifta-deoband.com/home/ur/hajj-umrah/46383
سوال
زید ایک سعودی کا ملازم
تھا اور وہاں سے فرار ہو کر واپس آگیا اب وہاں جانے میں اپنی جان اور گرفتاری کا
خطرہ ہے اس صورت میں حج فرض ہے کہ نہیں اور کیا ادائیگی نہ کرنے پر اس حدیث کا
مصداق تو نہیں ہوگا کہ یہودی ہو کے مرو یا نصرانی ہو کر۔
جواب
مذکورہ شخص پر اگر حج کی
دیگر شرائط پائے جانے کی وجہ سے حج فرض ہے تو اس پر لازم ہے کہ شریعت اور قانون کے
دائرے میں رہتے ہوئے حفاظت کی کوئی مناسب تدبیر اختیار کرکے حج کرے البتہ اگر وہ
حج کرنے کے لیے مناسب تدابیر اختیار کرنے کے باوجود کامیاب نہیں ہو پاتا تو اس
صورت میں حدیث میں مذکور وعید کا مستحق نہیں ٹھہرے گا۔
مع امن الطریق بغلبۃ
السلامۃ ولو بالرشوۃ........ وھل ما یوخذ من المکس والخفارۃ عذر قولان والمعتمد لا
وفی الشامیہ وعلیہ الفتویٰ۔ (شامی ص ۶۴۴، ج ۲)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন