অমুসলিম শশুরের সাথে দেখা করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭১২০৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোনো মুসলমান পুরুষের পিতা যদি হিন্দু হন এবং তার ছেলে ও পুত্রবধূ উভয়েই মুসলমান হন, তাহলে ওই মুসলিম পুত্রবধূ কি তার হিন্দু শ্বশুরের সামনে যেতে পারবে? তার সামনে পর্দার বিধান কী?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো মুসলিম নারীর শ্বশুর যদি অমুসলিম হন, তবুও তিনি তার জন্য স্থায়ী মাহরাম হিসেবে গণ্য হবেন। কারণ, শ্বশুরের সঙ্গে পুত্রবধূর বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে এমন স্থায়ী মাহরামিয়াত সৃষ্টি হয়, যার ফলে তাদের মধ্যে পরস্পরের বিবাহ চিরতরে হারাম হয়ে যায়। এই মাহরামিয়াত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে শ্বশুরের মুসলমান হওয়া শর্ত নয়।
ফিকহের কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মাহরাম হওয়ার জন্য তার মুসলিম হওয়া আবশ্যক নয়; বরং মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই মাহরাম হতে পারে। যেমন, الاختيار لتعليل المختار-এ বলা হয়েছে:
والمحرم: كل من لا يحل له نكاحها على التأبيد لقرابة أو رضاع أو صهرية، والعبد والحر والمسلم والذمي سواء.
অর্থ: মাহরাম হলো এমন ব্যক্তি, যার সঙ্গে আত্মীয়তা, দুধের সম্পর্ক অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে চিরস্থায়ীভাবে বিবাহ বৈধ নয়। এক্ষেত্রে দাস ও স্বাধীন ব্যক্তি এবং মুসলিম ও যিম্মি—সকলেই সমান।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই হিন্দু শ্বশুর তার মুসলিম পুত্রবধূর জন্য মাহরাম। অতএব, তার সামনে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা বৈধ। তবে এর অর্থ এই নয় যে মাহরামের সামনে নারীর জন্য শরীরের সব অংশ খোলা জায়েয; বরং মাহরামের সামনে নারীর পর্দার বিধান অনুযায়ী শালীনতা ও সতর রক্ষা করা আবশ্যক। সাধারণত ঘরের কাজকর্মের সময় যেসব অঙ্গ প্রকাশ পাওয়া স্বাভাবিক, সেগুলো প্রকাশিত হওয়ার অবকাশ রয়েছে।
অতএব, হিন্দু হওয়ার কারণে শ্বশুরের মাহরামিয়াত বাতিল হবে না। তিনি মুসলিম পুত্রবধূর স্থায়ী মাহরাম; তাই তার সামনে যাওয়া মূলত জায়েয। তবে শালীনতা, সতর ও ইসলামী পর্দার অন্যান্য আদব যথাযথভাবে রক্ষা করতে হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন