দু'আ (বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পাঠ্য দু‘আ অধ্যায়)

মোট বিষয় - ৫৯ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

.

ঋণ পরিশোধের দু’আ-২

«بارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالأَدَاءُ»
উচ্চারণঃ

বা-রাকাল্লা-হু লাকা ফী আহলিকা ওয়া মা-লিকা, ইন্নামা জাযা-উস সালাফে আল-হামদু ওয়াল আদা-উ

অর্থঃ

আল্লাহ আপনার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের প্রতিদান তো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সঠিকভাবে তা আদায় করণ।

.

একান্ত প্রিয় বস্তু হারিয়ে গেলে যে দু‘আ পড়বে

۞ اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّا اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ. اَللّٰهُمَّ أْجُرْنِيْ فِـيْ مُصِيْبَتِيْ. وَاَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا
উচ্চারণঃ

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘ঊন, আল্লাহুম্মা’ জুরনী ফী মুসী বাতী ওয়া আখলিফলী খইরম মিনহা।

অর্থঃ

নিঃসন্দেহে আমরা আল্লাহ তা‘আলারই জন্য এবং আল্লাহ তা‘আলারই দিকে ফিরে যাব। হে আল্লাহ ! আমাকে আমার মুসিবতের উপর সওয়াব দান করুন, আর যে জিনিস আপনি আমার নিকট থেকে নিয়ে গিয়াছেন তা থেকে উত্তম জিনিস আমাকে দান করুন।

.

ঋণ পরিশোধের দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِيْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক ওয়া আগনিনি বি ফাদলিকা আম্মান সিওয়াক

অর্থঃ

হে আল্লাহ! তুমি তোমার হারাম থেকে বাঁচিয়ে তোমার হালাল রিযিক দ্বারা আমাকে পরিতুষ্ট করে দাও। (হালাল রুজিই যেন আমার জন্য যথেষ্ট হয়) এবং তোমার অনুগ্রহে ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।

.

শয়তান থেকে হেফাযতের দু‘আ

۞ لَااِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণঃ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুলহামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

অর্থঃ

আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসা কেবল তাঁর জন্যই। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।

.

ধর্ষণে উদ্যত ব্যক্তির শিকার বিপন্ন নারীর দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتُ اٰمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُوْ لِكَ فَلاَ تُسَلِّطْ عَلَىَّ الْكَافِرَ‏
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন কুনতু আমানতু বিকা, ওয়া বিরাসূলিকা, ফালা তুসাল্লিত্ব আলাইয়্যাল কাফির।

অর্থঃ

হে আল্লাহ, আমি যদি আপনার উপর ও আপনার রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে থাকি, তাহলে এই কাফিরকে আমার উপর চাপিয়ে দিবেন না।

.

কুপ্রবৃত্তি থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ يَاحَىُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثْ أَصْلِحْ لِىْ شَأْنِىْ كُلَّهٗ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِىْ طَرْفَةَ عَيْنِ
উচ্চারণঃ

ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম বি রহমাতিকা আসতাগিস, আসলিহলি শা’নি কুল্লাহু ওলা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বরফাতা আঈন।

অর্থঃ

হে চিরঞ্জীব, হে জমিন আসমান ও সমস্ত মাখলূকের রক্ষাকারী। আমি আপনার রহমতের উসীলায় ফরিয়াদ করছি যে, আমার সমস্ত কাজ দুরস্ত করেদিন এবং আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নফসের কাছে সোপর্দ করবেন না।

.

ভীত অবস্থায় বলবে

۞ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ
উচ্চারণঃ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু

অর্থঃ

আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।

.

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দু‘আ

۞ حَسْبِيَ اللهُ لاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণঃ

হাসবিয়াল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুওয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।

অর্থঃ

আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই। তাঁর প্রতি ভরসা করেছি, তিনি মহান আরশের অধিপতি।

.

দুঃসংবাদ শুনলে এই দু‘আ পড়বে

۞ إِنَّا لِلّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ
উচ্চারণঃ

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।

অর্থঃ

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চিতভাবে আমরা তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।

১০.

বাজারে যাওয়ার পর এই দু‘আ পড়বে

۞ لَا اِلٰهَ اِلَّااللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ . لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ. يُحْيِيْ ويُمِيْتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوْتُ. بِيَدِه الْخَيْرُ وَهُوَ عَلٰی كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণঃ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া হাইয়্যুন লা ইয়ামূতু বিয়াদিহিল খইর, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।

অর্থঃ

এক আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কোনো মা’বূদ নেই। তিনি এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল রাজত্ব তাঁরই জন্যে। সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনিই জীবিত করেন, তিনিই মৃত্যু দেন। এবং তিনিই চিরঞ্জীব। তিনি কখনো মৃত্যু বরণ করেন না। তাঁর হাতেই সকল কল্যাণের চাবিকাঠি। তিনিই সর্বশক্তিমান।

১১.

গুরুদায়িত্ব থেকে মুক্তির দু‘আ

۞ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖ وَاعۡفُ عَنَّا، وَاغۡفِرۡ لَنَا، وَارۡحَمۡنَا، أَنْتَ مَوۡلَىٰنَا فَانْصُرۡنَا عَلَى الۡقَوۡمِ الۡكٰفِرِيْنَ
অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের প্রতি রহমত নাযিল কর। তুমি আমাদের অভিভাবক। কাফিরদের বিপরীতে তুমি আমাদের সাহায্য কর।

১২.

কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে পড়বে

۞ يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ اَسْتَغِيْثُ
উচ্চারণঃ

ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম বিরাহ্‌মাতিকা আসতাগিস।

অর্থঃ

হে চিরঞ্জীব! হে সকল বস্তুর ধারক! আমি আপনারই রহমতের প্রার্থনা করছি।

১৩.

ক্রোধ দমনের জন্যে এই দু‘আ পড়বে

۞ اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণঃ

আ‘ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রজীম।

অর্থঃ

আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

১৪.

কারো থেকে অত্যাচারের আশঙ্কা হলে পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَجْعَلُكَ فِيْ نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্না নাজ‘আলুকা ফী নুহূরিহিম, ওয়া না‘ঊযুবিকা মিন শুরূরিহিম।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনাকে এদের মুকাবেলায় (নিজের) ঢাল বানিয়েছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি।

১৫.

মাগরিবের আযানের সময় পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ هَذَا اِقْبَالُ لَيْلِكَ وَاِدْبَارُ نَهَارِكَ وَاَصْوَاتُ دُعَاتِكَ فَاغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা হাযা ইক্ববালু লাইলিকা, ওয়া ইদবারু নাহারিকা, ওয়া আসওয়াতু দু‘আতিকা ফাগফিরলী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! এখন আপনার রাত্রির আগমন ও দিনের গমন এবং আপনার প্রতি আহ্বানকারী মুআযযিনের ধ্বনির (আযানের) সময়। সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন।

১৬.

গাধার ডাক শুনলে পড়বে

۞ أَعُوْذُ بِا للہِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণঃ

আ’ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম।

অর্থঃ

আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

১৭.

মনের চাহিদা মুতাবিক অবস্থা হলে পড়বে

۞ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ بِنِعْمَتِهٖ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ
উচ্চারণঃ

আলহামদুলিল্লা হিল্লাযী বিনিইমাতিহী তাতিম্মুস সালিহাত।

অর্থঃ

সকল প্রশংসা আল্লাহ পাকের জন্য, যার নেয়ামতের বদৌলতে সর্বপ্রকার পূণ্যময় কাজ সমাধা ও সম্পন্ন হয়।

১৮.

মনে ওয়াসওয়াসা আসলে পড়ার দু‘আ

۞ اٰمَنْتُ بِاللّٰهِ وَرُسُلِهٖ
উচ্চারণঃ

আামানতু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি।

অর্থঃ

আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান আনছি।

১৯.

কবরের আজাব, ওয়াসওয়াসা ও কাজের বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَوَسْوَسَةِ الصَّدْرِ وَشَتَاتِ الأَمْرِ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আযাবিল কবরি ওয়া ওয়াসওয়াসাতিস সাদরি, ওয়া স্বাতাতিল আমরি।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে, মনের ওয়াসওয়াসা থেকে, কাজের বিশৃঙ্খলা থেকে।

২০.

শাসকের অত্যাচারের ভয় করলে ৩ বার পড়বে

اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَعَزُّ مِنْ خَلْقِهِ جَمِيعاً، اللَّهُ أَعَزُّ مِمَّا أَخَافُ وَأَحْذَرُ، أَعُوذُ بِاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ، الْمُمْسِكِ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ أَنْ يَقَعْنَ عَلَى الْأَرْضِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، مِنْ شَرِّ عَبْدِكَ فُلاَنٍ، وَجُنُودِهِ وَأَتْبَاعِهِ وَأَشْيَاعِهِ، مِنْ الْجِنِّ وَالإِنْسِ، اللَّهُمَّ كُنْ لِي جَاراً مِنْ شَرِّهِمْ، جَلَّ ثَنَاؤُكَ وَعَزَّ جَارُكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণঃ

আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আ‘আয্যু মিন খালক্বিহী জামী‘আন। আল্লাহু আ‘আয্যু মিম্মা আখা-ফু ওয়া আহযারু। আউযু বিল্লা-হিল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল মুমসিকুস্ সামা-ওয়া-তিস সাব‘ঈ, আন ইয়াকা‘না আলাল্ আরদ্বি ইল্লা বিইযনিহী, মিন শাররি ‘আবদিকা ফুলা-নিন, ওয়া জুনূদিহী ওয়া আতবা‘ইহী ওয়া আশইয়া‘ইহী মিনাল জিন্নি ওয়াল ইনসি। আল্লা-হুম্মা কুন লী জা-রান মিন শাররিহিম, জাল্লা সানা-উকা ওয়া ‘আয্যা জা-রুকা ওয়াতাবা-রকাসমুকা ওয়া লা ইলা-হা গাইরুকা

অর্থঃ

“আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে মহামর্যাদাবান। আমি যা থেকে ভীত ও শঙ্কিত তার চেয়ে আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী। আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানের ধারণকারী, তার অনুমতি ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে— (আশ্রয় চাই) তাঁর অমুক বান্দা, তার সৈন্য-সামন্ত, তার অনুসারী ও তার অনুগামী জিন ও ইনসানের অনিষ্ট থেকে। হে আল্লাহ! তাদের ক্ষতি থেকে আপনি আমার জন্য আশ্রয়দানকারী হোন। আপনার গুণগান অতি মহান, আপনার আশ্রিত প্রবল শক্তিশালী, আপনার নাম অতি বরকতময়। আর আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই।”