ইয়া আল্লাহ! আমাকে বড় সবরকারী বানিয়ে দিন এবং শোকরকারী বানিয়ে দিন। (যেন সকল বিপদে সবর করি এবং সকল নেয়ামতের শোকর করি) আর আমাকে আমার দৃষ্টিতে ছোট ও মানুষের দৃষ্টিতে বড় বানিয়ে দিন।৮৯
ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে প্রার্থনা করি ক্ষমা ও নিরাপত্তা আমার দ্বীনের জন্য, দুনিয়ার জন্য, পরিজন ও সম্পদের জন্য। ইয়া আল্লাহ! আমার দোষ আবৃত করুন এবং ভীতিকে নিরাপত্তার দ্বারা বদলে দিন। ইয়া আল্লাহ! আমাকে রক্ষা করুন আমার সামনে থেকে, পিছন থেকে, ডান থেকে, বাম থেকে এবং উপর থেকে (অর্থাৎ সম্ভাব্য সকল দিক থেকে)। আর আপনার বড়ত্বের দোহাই, আমি আশ্রয় চাই অতর্কিত নীচের দিক হতে আক্রান্ত হওয়া থেকে (অর্থাৎ দুনিয়া-আখিরাতের কোথাও যেন অতর্কিত শাস্তি ও বিপদের মুখোমুখি না হই)।৯৩
আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার ঐ নূরে ওয়াজহের (জ্যোতির) অসিলায়, যার দ্বারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে এবং আপনার সকল অধিকারের অসিলায়, আর আপনার উপর ভিখারীদলের যে অধিকার তার অসিলায় আমাকে ক্ষমা করুন এবং নিজ কুদরতে জাহান্নামের আগুন থেকে আমাকে রক্ষা করুন।৯৫
ইয়া আল্লাহ! আমার সকল ভ্রান্তি ও পাপ ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ! আমাকে উচ্চতা দিন, আমাকে জীবিত রাখুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমাকে উত্তম কর্ম ও চরিত্রের পথনির্দেশ দান করুন। নিশ্চয়ই শুধু আপনিই দেখান উত্তম কর্ম ও চরিত্রের পথ এবং শুধু আপনিই রক্ষা করেন গর্হিত কর্ম ও চরিত্র থেকে।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার দাস, পুত্র আপনার দাসের, পুত্র আপনার দাসীর। আমার ঝুঁটি (পূর্ণ সত্তা) আপনার কব্জায়। আমার উপর আপনার বিধানই কার্যকর। আমার সম্পর্কে আপনার ফয়সালা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত। আমি আপনার সকল নামের তোফায়েলে যা দ্বারা নিজেকে আপনি গুণান্বিত করেছেন কিংবা আপন কিতাবে নাযিল করেছেন কিংবা নিজের কোনো সৃষ্টিকে শিক্ষা দিয়েছেন কিংবা আপনার কাছেই গোপন রেখেছেন, প্রার্থনা করছি, মহিমান্বিত কুরআনকে করুন আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার চোখের জ্যোতি, আমার বেদনার মলম ও আমার দুশ্চিন্তার উপশম।১০৬
ইয়া আল্লাহ! জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফীলের মাবুদ! ইবরাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের মাবুদ! আমাকে আফিয়াত (সুস্থতা ও নিরাপত্তা) দান করুন। আপনার কোনো সৃষ্টিকে আমার উপর এমন কিছুর সাথে আরোপ কোরেন না, যা বহন করার শক্তি আমার নেই।১০৭
ইয়া আল্লাহ! আপনার আশ্রয় নিচ্ছি মন্দ চরিত্র ও মন্দ কর্ম থেকে এবং মন্দ প্রবৃত্তি ও মন্দ রোগ থেকে। আমরা আপনার আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সকল বিষয় থেকে, যা থেকে আপনার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং (আশ্রয় নিচ্ছি) আবাসস্থলের অসৎ পড়শি থেকে। কারণ, সফরের সঙ্গী তো কিছু সময় পর আলাদা হয়ে যায়। এবং (আশ্রয় নিচ্ছি) দুশমনের প্রাবল্য থেকে, শত্রুর তৃপ্তির হাসি থেকে, অনাহার থেকে। কারণ, সে তো মন্দ ‘শয্যাসঙ্গী’। (প্রচণ্ড ক্ষুধার সময় ঘুম কিভাবে আসবে? এ পাশ-ওপাশ করেই তো রাত কেটে যায়। এথেকে ক্ষুধাকে আরবী ভাষায় ‘শয্যাসঙ্গী’ কল্পনা করা হয়েছে।) খিয়ানত থেকে। কারণ, সে তো নিকৃষ্ট ‘পরামর্শক’। (আশ্রয় নিচ্ছি) পশ্চাদপসরণ থেকে এবং ফিতনায় নিপতিত হয়ে দীন থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল ফিতনা থেকে এবং মন্দ দিবস ও মন্দ রজনী থেকে এবং মন্দ মুহূর্ত থেকে ও মন্দ সঙ্গী থেকে।১১৩
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে