আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৭৫৪ টি
হাদীস নং: ৪৩১২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। সাফীয়া বিনত হুয়াই (রা)-এর একটি উটনী রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন যায়নাব (রা)-এর নিকট একটি বাহন অতিরিক্ত ছিল। এ সময় নবী (ﷺ) যায়নাব (রা)-কে বলেনঃ তুমি তা তাকে দান কর। সে বলল: আমি কি তা ইয়াহুদীয়াকে দেব? তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ক্ষুব্ধ হয়ে যিলহজ্জ, মুহররম ও সফরের কিছু দিন তার থেকে পৃথক থাকেন।
(আবু দাউদ (র) সূত্রে সুমাইয়া হতে বর্ণিত। সুমাইয়াকে বংশের দিকে সম্বোধন করা হয়নি।)
(আবু দাউদ (র) সূত্রে সুমাইয়া হতে বর্ণিত। সুমাইয়াকে বংশের দিকে সম্বোধন করা হয়নি।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4312- وَعَن عَائِشَة أَيْضا رَضِي الله عَنْهَا أَنه اعتل بعير لصفية بنت حييّ وَعند زَيْنَب فضل ظهر فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لِزَيْنَب أعطيها بَعِيرًا فَقَالَت أَنا أعطي تِلْكَ الْيَهُودِيَّة فَغَضب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فهجرها ذَا الْحجَّة وَالْمحرم وَبَعض صفر
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد عَن سميَّة عَنْهَا وَسُميَّة لم تنْسب
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد عَن سميَّة عَنْهَا وَسُميَّة لم تنْسب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট থাকাকালে এক মহিলাকে বললামঃ এই মহিলার চাদরের আঁচল দীর্ঘ। তিনি (নবী ﷺ ) বলেনঃ থু থু মার। থু থু মার। এরপর সাদাকারূপে আমি কিছু গোশত দান করলাম।
(ইবন আবুদ দুনিয়া বর্ণিত।
الفظى : তোমার মুখের কথা ফেলে দাও।
البضعة : টুকরা।)
(ইবন আবুদ দুনিয়া বর্ণিত।
الفظى : তোমার মুখের কথা ফেলে দাও।
البضعة : টুকরা।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4313- وَرُوِيَ عَنْهَا رَضِي الله عَنْهَا قَالَت قلت لامْرَأَة مرّة وَأَنا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن هَذِه لطويلة الذيل فَقَالَ الفظي الفظي فلفظت بضعَة من لحم
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا
الفظي مَعْنَاهُ ارمي مَا فِي فمك
والبضعة الْقطعَة
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا
الفظي مَعْنَاهُ ارمي مَا فِي فمك
والبضعة الْقطعَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি (মজলিস থেকে) উঠলে সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। লোকটি কতই না অক্ষম অথবা বলেছেন: কতই না দুর্বল। তখন নবী (ﷺ) বলেন, তোমরা তোমাদের সাথীর গীবত করলে এবং তার গোশত খেলে।
(আবু ই'আলা ও তাবারানী বর্ণিত। তবে তাবারানীর শব্দমালা এরূপ এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছ থেকে উঠে দাঁড়াল। তখন (উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ) তার দাঁড়াবার মধ্যে দুর্বলতা লক্ষ্য করে বলল: লোকটি কতই না অক্ষম। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: তোমরা তোমাদের ভাইয়ের গোশত খেলে এবং তার গীবত করলে।)
(আবু ই'আলা ও তাবারানী বর্ণিত। তবে তাবারানীর শব্দমালা এরূপ এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছ থেকে উঠে দাঁড়াল। তখন (উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ) তার দাঁড়াবার মধ্যে দুর্বলতা লক্ষ্য করে বলল: লোকটি কতই না অক্ষম। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: তোমরা তোমাদের ভাইয়ের গোশত খেলে এবং তার গীবত করলে।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4314- وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَامَ رجل فَقَالُوا يَا رَسُول الله مَا أعجز فلَانا أَو قَالُوا مَا أَضْعَف فلَانا فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم اغتبتم صَاحبكُم وأكلتم لَحْمه
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ
وَلَفظه أَن رجلا قَامَ من عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَرَأَوْا فِي قِيَامه عَجزا فَقَالُوا مَا أعجز فلَانا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أكلْتُم أَخَاكُم واغتبتموه
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ
وَلَفظه أَن رجلا قَامَ من عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَرَأَوْا فِي قِيَامه عَجزا فَقَالُوا مَا أعجز فلَانا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أكلْتُم أَخَاكُم واغتبتموه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১৫. হযরত আমর ইবন শু'আয়ব (রা) পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। একদা সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন: লোকটিকে খানা দেওয়া হলে খেতে পারে না এবং বাহনে উঠিয়ে না দিলে উঠতে পারে না। তখন নবী (ﷺ) বলেন: তোমরা তার গীবত করলে। তাঁরা বলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমরা কেবলমাত্র তার মধ্যে যা আছে তা-ই আলোচনা করলাম। তিনি বলেনঃ তোমার ভাইয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তা আলোচনা করা গীবতরূপে গণ্য।
(ইস্পাহানী উত্তম সনদে বর্ণনা করেন।)
(ইস্পাহানী উত্তম সনদে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4315- وَعَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده أَنهم ذكرُوا عِنْد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رجلا فَقَالُوا لَا يَأْكُل حَتَّى يطعم وَلَا يرحل حَتَّى يرحل لَهُ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم اغتبتموه
فَقَالُوا يَا رَسُول الله إِنَّمَا حَدثنَا بِمَا فِيهِ
قَالَ حَسبك إِذا ذكرت أَخَاك بِمَا فِيهِ
رَوَاهُ الْأَصْبَهَانِيّ بِإِسْنَاد حسن
فَقَالُوا يَا رَسُول الله إِنَّمَا حَدثنَا بِمَا فِيهِ
قَالَ حَسبك إِذا ذكرت أَخَاك بِمَا فِيهِ
رَوَاهُ الْأَصْبَهَانِيّ بِإِسْنَاد حسن
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একবার আমরা একবার নবী (ﷺ) -এর নিকট ছিলাম। এক ব্যক্তি চলে যাবার পর অপর এক ব্যক্তি তার সমালোচনা করল। তখন নবী (ﷺ) বলেন: তুমি হালাল বস্তু খাও। সে বলল: আমি কী হালাল বস্তু খাব? আমি তো গোশত খাইনি। তিনি বলেন: তুমি তোমার ভাইয়ের গোশত খেয়েছ।
(হাদীসটি গরীব। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা এবং তাবারানী নিজ শব্দে বর্ণনা করেন। তবে তার বর্ণনাকারীদের বর্ণনা বিশুদ্ধ।)
(হাদীসটি গরীব। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা এবং তাবারানী নিজ শব্দে বর্ণনা করেন। তবে তার বর্ণনাকারীদের বর্ণনা বিশুদ্ধ।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4316- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَامَ رجل فَوَقع فِيهِ رجل من بعده فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تحلل فَقَالَ وَمِمَّا أتحلل مَا أكلت لَحْمًا قَالَ إِنَّك أكلت لحم أَخِيك
حَدِيث غَرِيب رَوَاهُ أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَالطَّبَرَانِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح
حَدِيث غَرِيب رَوَاهُ أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَالطَّبَرَانِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদিন তাঁর সাহাবাদের সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেন: তোমরা কেউ আমার অনুমতি ব্যতীত ইফ্তার করবে না। লোকেরা সন্ধ্যা পর্যন্ত সিয়াম পালন করল। এরপর এক একজন করে আসতে থাকল এবং বলতে লাগল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমি সিয়াম পালন করেছি, আপনি আমাকে ইফ্তারের অনুমতি দিন। এভাবে বলতে লাগল, এমনকি এক ব্যক্তি এসে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনার পরিবারের দুই যুবক সিয়াম পালন করেছে এবং তারা আপনার কাছে আসতে লজ্জাবোধ করছে। আপনি তাদের ইফতারের অনুমতি দিন। তিনি বলেনঃ তারা ইফ্তার করে নিক। তারপর তিনি চেহারা ফিরিয়ে নেন। লোকটি সে কথাটি পুনরাবৃত্তি করলে এবারও তিনি তাঁর চেহারা ফিরিয়ে নেন। লোকটি কথাটি পুনরাবৃত্তি করলো এবারও তিনি তাঁর চেহারা ফিরিয়ে নেন। এরপর লোকটি কথাটি আবার পুনরাবৃত্তি করল এবং এবারও তিনি তাঁর চেহারা ফিরিয়ে নেন এবং বলেন। নিশ্চয়ই তারা দু'জনে সিয়াম পালন করেনি। যে ব্যক্তি আজ মানুষের গোশত খেয়েছে, সে কী ভাবে সিয়াম পালন করেছে। যদি তারা সিয়াম পালনকারী হয়ে থাকে, তবে তুমি তাদেরকে বমি করতে বল। সে তাদের কাছে গেল এবং তাদেরকে বমি করা সম্পর্কে অবহিত করলে তারা উভয়ে বমি করল। তখন লোকটি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে এ ঘটনা জানাল। তিনি বলেন: ঐ মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন। যদি তা তাদের উদরে থাকত, তবে আগুন তাদের গ্রাস করে ফেলত।
(আবু দাউদ তায়ালাসী, ইবন আবুদ দুনিয়া 'জাম্মুল গীবাত' গ্রন্থে এবং বায়হাকী বর্ণনা করেন। উক্ত হাদীসটি আহমাদ ও ইব্ন আবুদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হতে। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর মুক্ত দাস উবায়দ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আহমাদের বর্ণনা এরূপঃ তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাদের একজনকে বলেনঃ তুমি বমি কর। তখন সে রক্ত, পুঁজ ও গোশত বমি করে, এমনকি তাতে এক পাত্রের অর্ধেক ভরে যায়। এরপর তিনি অন্যজনকে বলেন: তুমি বমি কর। তখন সেও রক্ত, পূজ এবং চর্বিযুক্ত গোশত ইত্যাদি বমি করে, এমনকি তাতে পাত্রটি পুরোপুরি ভরে যায়। অবশেষে তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ যে বস্তু তাদের জন্য হালাল করেছিলেন, তারা তা আহার না করে সিয়াম পালন করেছে এবং আল্লাহ্ যা হারাম করেছেন, তা দ্বারা ইফতার করেছে। তারা একে অন্যের নিকট বসে পরস্পরের মানুষের গোশত ভক্ষণ করেছে। আহমাদ (র)-এর নিজ শব্দে একটি পরিপূর্ণ হাদীস সিয়াম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
(আবু দাউদ তায়ালাসী, ইবন আবুদ দুনিয়া 'জাম্মুল গীবাত' গ্রন্থে এবং বায়হাকী বর্ণনা করেন। উক্ত হাদীসটি আহমাদ ও ইব্ন আবুদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হতে। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর মুক্ত দাস উবায়দ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আহমাদের বর্ণনা এরূপঃ তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাদের একজনকে বলেনঃ তুমি বমি কর। তখন সে রক্ত, পুঁজ ও গোশত বমি করে, এমনকি তাতে এক পাত্রের অর্ধেক ভরে যায়। এরপর তিনি অন্যজনকে বলেন: তুমি বমি কর। তখন সেও রক্ত, পূজ এবং চর্বিযুক্ত গোশত ইত্যাদি বমি করে, এমনকি তাতে পাত্রটি পুরোপুরি ভরে যায়। অবশেষে তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ যে বস্তু তাদের জন্য হালাল করেছিলেন, তারা তা আহার না করে সিয়াম পালন করেছে এবং আল্লাহ্ যা হারাম করেছেন, তা দ্বারা ইফতার করেছে। তারা একে অন্যের নিকট বসে পরস্পরের মানুষের গোশত ভক্ষণ করেছে। আহমাদ (র)-এর নিজ শব্দে একটি পরিপূর্ণ হাদীস সিয়াম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4317- وَرُوِيَ عَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ أَمر النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم النَّاس بِصَوْم يَوْم وَقَالَ لَا يفطرن أحد مِنْكُم حَتَّى آذن لَهُ فصَام النَّاس حَتَّى إِذا أَمْسوا فَجعل الرجل يَجِيء فَيَقُول يَا رَسُول الله إِنِّي ظللت صَائِما فائذن لي فَأفْطر فَيَأْذَن لَهُ الرجل وَالرجل حَتَّى جَاءَ رجل فَقَالَ يَا رَسُول الله فتاتان من أهلك ظلتا صائمتين وإنهما يستحيان أَن يأتياك فَأذن لَهما فليفطرا فَأَعْرض عَنهُ ثمَّ عاوده فَأَعْرض عَنهُ ثمَّ عاوده فَأَعْرض عَنهُ ثمَّ عاوده فَأَعْرض عَنهُ فَقَالَ إنَّهُمَا لم يصوما وَكَيف صَامَ من ظلّ هَذَا الْيَوْم يَأْكُل لُحُوم النَّاس اذْهَبْ فمرهما إِن كَانَتَا صائمتين فليستقيئا فَرجع إِلَيْهِمَا فَأَخْبرهُمَا فاستقاءتا فقاءت كل وَاحِدَة علقَة من دم فَرجع إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأخْبرهُ فَقَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَو بَقِيَتَا فِي بطونهما لأكلتهما النَّار
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي ذمّ الْغَيْبَة وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا أَيْضا وَالْبَيْهَقِيّ من رِوَايَة رجل لم يسم عَن عبيد مولى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِنَحْوِهِ إِلَّا أَن أَحْمد قَالَ فَقَالَ لإحداهما قيئي فقاءت قَيْحا ودما وصديدا وَلَحْمًا حَتَّى مَلَأت نصف الْقدح ثمَّ قَالَ لِلْأُخْرَى قيئي فقاءت من قيح وَدم وصديد وَلحم عبيط وَغَيره حَتَّى مَلَأت الْقدح ثمَّ قَالَ إِن هَاتين صامتا عَمَّا أحل الله لَهما وأفطرتا على مَا حرم الله عَلَيْهِمَا جَلَست إِحْدَاهمَا إِلَى الْأُخْرَى فجعلتا تأكلان من لُحُوم النَّاس
وَتقدم لفظ أَحْمد بِتَمَامِهِ فِي الصّيام
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي ذمّ الْغَيْبَة وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا أَيْضا وَالْبَيْهَقِيّ من رِوَايَة رجل لم يسم عَن عبيد مولى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِنَحْوِهِ إِلَّا أَن أَحْمد قَالَ فَقَالَ لإحداهما قيئي فقاءت قَيْحا ودما وصديدا وَلَحْمًا حَتَّى مَلَأت نصف الْقدح ثمَّ قَالَ لِلْأُخْرَى قيئي فقاءت من قيح وَدم وصديد وَلحم عبيط وَغَيره حَتَّى مَلَأت الْقدح ثمَّ قَالَ إِن هَاتين صامتا عَمَّا أحل الله لَهما وأفطرتا على مَا حرم الله عَلَيْهِمَا جَلَست إِحْدَاهمَا إِلَى الْأُخْرَى فجعلتا تأكلان من لُحُوم النَّاس
وَتقدم لفظ أَحْمد بِتَمَامِهِ فِي الصّيام
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১৮. হযরত শুফাই ইব্ন মাতি আসবাহী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জাহান্নামীরা দুঃখ কষ্টে নিঃপতিত থাকা সত্ত্বেও চার প্রকার লোক তাদের আরো কষ্ট দেবে। তারা গরম পানি ও জাহান্নামের আগুনের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকবে। তারা নিজেদের মৃত্যু ও ধ্বংস কামনা করবে। জাহান্নামীদের একজন অপর জনকে জিজ্ঞেস করবে: কী হল যে, তারা আমাদের কষ্টের উপর আরো কষ্ট দিচ্ছে। তিনি (নবী (ﷺ) বলেনঃ তন্মধ্যে এক ব্যক্তিকে আগুনের সিন্ধুকে আটকে রাখা হবে। অপর ব্যক্তি তার নিজ নাড়িভুঁড়ি টানতে থাকবে। অন্য এক ব্যক্তি তার মুখ থেকে বমি ও রক্ত প্রবাহিত করতে থাকবে। অন্য এক ব্যক্তি নিজ গোশত ভক্ষণ করতে থাকবে। তখন সিন্ধুকে অবস্থানকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে: হতভাগ্যের কী হল, সে আমাদের কষ্টের উপর আরো কষ্ট দিচ্ছে। এ সময় বলা হবে: নিশ্চয়ই সে হতভাগ্য লোকটি মানুষের সম্পদ নিজ ঘাড়ে নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যে ব্যক্তি নাড়িভূড়ি টানছিল, তার সম্পর্কে বলা হবে, হতভাগ্য লোকটির কী হল, সে আমাদের কষ্টের উপর সে কষ্ট দিচ্ছে? জবাবে বলা হবে: ও হতভাগ্য লোকটি তার শরীরের কোথায় পেশাব লেগেছে, তার পরোয়া করত না। এরপর যে ব্যক্তি নিজ মুখ থেকে বমি ও রক্ত প্রবাহিত করবে, তার সম্পর্কে বলা হবে। এই হতভাগ্যের কী হল, সে আমাদের কষ্টের উপর কষ্ট দিচ্ছে। তখন জবাবে বলা হবেঃ হতভাগ্য লোকটি মনোরঞ্জনের কথার প্রতি খেয়াল করত এবং তা দ্বারা সে আনন্দ উপভোগ করত, যেরূপ ব্যাভিচারী ব্যভিচার করে আনন্দ উপভোগ করে। তারপর যে লোকটি নিজ গোশত খাচ্চিল, তার সম্পর্কে বলা হবে: এ হতভাগ্যের কী হল, সে আমাদের কষ্টের উপর কষ্ট দিচ্ছে? তখন জবাবে বলা হবে: গীবতের মাধ্যমে লোকটি মানুষের গোশত খেয়েছে এবং চোগলখুরী করে বেড়িয়েছে।
(ইবন আবুদ দুনিয়া 'কিতাবুস সিমত' এবং 'যাম্মুল গীবাত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেন এবং তাবারানীর কাবীর গ্রন্থে কয়েকটি দুর্বল সনদে ও আবু নাঈম বর্ননা করেন। তিনি বলেন: শুফাই ইবন মাতি সাহাবী হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। কারো কারো মতে তিনি সাহাবী।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): ইমাম বুখারী ও ইবন হিব্বান (র) শুফাইকে তাবিঈ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।)
(ইবন আবুদ দুনিয়া 'কিতাবুস সিমত' এবং 'যাম্মুল গীবাত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেন এবং তাবারানীর কাবীর গ্রন্থে কয়েকটি দুর্বল সনদে ও আবু নাঈম বর্ননা করেন। তিনি বলেন: শুফাই ইবন মাতি সাহাবী হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। কারো কারো মতে তিনি সাহাবী।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): ইমাম বুখারী ও ইবন হিব্বান (র) শুফাইকে তাবিঈ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4318- وَعَن شفي بن ماتع الأصبحي رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَرْبَعَة يُؤْذونَ أهل النَّار على مَا بهم من الْأَذَى يسعون مَا بَين الْحَمِيم والجحيم يدعونَ بِالْوَيْلِ وَالثُّبُور يَقُول بعض أهل النَّار لبَعض مَا بَال هَؤُلَاءِ قد آذونا على مَا بِنَا من الْأَذَى قَالَ فَرجل مغلق عَلَيْهِ تَابُوت من جمر وَرجل يجر أمعاءه وَرجل يسيل فوه قَيْحا ودما وَرجل يَأْكُل لَحْمه فَيُقَال لصَاحب التابوت مَا بَال الْأَبْعَد قد آذَانا على مَا بِنَا من الْأَذَى فَيَقُول إِن الْأَبْعَد قد مَاتَ وَفِي عُنُقه أَمْوَال النَّاس ثمَّ يُقَال للَّذي يجر أمعاءه مَا بَال الْأَبْعَد قد آذَانا على مَا بِنَا من الْأَذَى فَيَقُول إِن الْأَبْعَد كَانَ لَا يُبَالِي أَيْن أصَاب الْبَوْل مِنْهُ ثمَّ يُقَال للَّذي يسيل فوه قَيْحا ودما مَا بَال الْأَبْعَد قد آذَانا على مَا بِنَا من الْأَذَى فَيَقُول إِن الْأَبْعَد كَانَ ينظر إِلَى كلمة فيستلذها كَمَا يستلذ الرَّفَث ثمَّ يُقَال للَّذي يَأْكُل لَحْمه مَا بَال الْأَبْعَد قد آذَانا على مَا بِنَا من الْأَذَى فَيَقُول إِن الْأَبْعَد كَانَ يَأْكُل لُحُوم النَّاس بالغيبة وَيَمْشي بالنميمة
رَوَاهُ بن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الصمت وَفِي ذمّ الْغَيْبَة وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَاد لين وَأَبُو نعيم وَقَالَ شفي بن ماتع مُخْتَلف فِي صحبته فَقيل لَهُ صُحْبَة
قَالَ الْحَافِظ شفي ذكره البُخَارِيّ وَابْن حبَان فِي التَّابِعين
رَوَاهُ بن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الصمت وَفِي ذمّ الْغَيْبَة وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَاد لين وَأَبُو نعيم وَقَالَ شفي بن ماتع مُخْتَلف فِي صحبته فَقيل لَهُ صُحْبَة
قَالَ الْحَافِظ شفي ذكره البُخَارِيّ وَابْن حبَان فِي التَّابِعين
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩১৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করে, কিয়ামতের দিন তা তার নিকট উপস্থিত করা হবে। তখন তাকে বলা হবে, তুমি যেরূপ তাকে জীবিত ভক্ষণ করে ছিলে, আজ তাকে মৃত ভক্ষণ কর। ফলে সে বিবর্ণ চেহারায় চিবিয়ে তা ভক্ষণ করতে থাকবে।
(আবু ই'আলা, তাবারানী ও আবু শায়খ তাওবীখ নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন। তবে তার বর্ণনায় يضيج শব্দের পরিবর্তে يصيح শব্দ রয়েছে। তারা সবাই মুহাম্মাদ ইবন ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেন। কারো কারো বর্ণনা নির্ভরযোগ্য।
কারো কারো يضيج এবং يصيح একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। বাহ্যিক অর্থে يضيج অত্যধিক কাতর ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় চিবানোকে বুঝায়।
يكلح : কষ্টের কারণে চেহারা বিগড়ে যাওয়া।)
(আবু ই'আলা, তাবারানী ও আবু শায়খ তাওবীখ নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন। তবে তার বর্ণনায় يضيج শব্দের পরিবর্তে يصيح শব্দ রয়েছে। তারা সবাই মুহাম্মাদ ইবন ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেন। কারো কারো বর্ণনা নির্ভরযোগ্য।
কারো কারো يضيج এবং يصيح একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। বাহ্যিক অর্থে يضيج অত্যধিক কাতর ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় চিবানোকে বুঝায়।
يكلح : কষ্টের কারণে চেহারা বিগড়ে যাওয়া।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4319- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أكل لحم أَخِيه فِي الدُّنْيَا قرب إِلَيْهِ يَوْم الْقِيَامَة فَيُقَال لَهُ كُله مَيتا كَمَا أَكلته حَيا فيأكله ويكلح ويضج
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو الشَّيْخ فِي كتاب التوبيخ إِلَّا أَنه قَالَ يَصِيح بالصَّاد الْمُهْملَة كلهم من رِوَايَة مُحَمَّد بن إِسْحَاق وَبَقِيَّة رُوَاة بَعضهم ثِقَات
يضج بالضاد الْمُهْملَة بعْدهَا جِيم ويصيح كِلَاهُمَا بِمَعْنى وَاحِد كَذَا قَالَ بعض أهل اللُّغَة وَالظَّاهِر أَن لَفْظَة يضج بالضاد الْمُعْجَمَة فِيهَا زِيَادَة إِشْعَار بمقارنة فزع أَو قلق وَالله أعلم
ويكلح بِالْحَاء الْمُهْملَة أَي يعبس وَيقبض وَجهه من الْكَرَاهَة
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو الشَّيْخ فِي كتاب التوبيخ إِلَّا أَنه قَالَ يَصِيح بالصَّاد الْمُهْملَة كلهم من رِوَايَة مُحَمَّد بن إِسْحَاق وَبَقِيَّة رُوَاة بَعضهم ثِقَات
يضج بالضاد الْمُهْملَة بعْدهَا جِيم ويصيح كِلَاهُمَا بِمَعْنى وَاحِد كَذَا قَالَ بعض أهل اللُّغَة وَالظَّاهِر أَن لَفْظَة يضج بالضاد الْمُعْجَمَة فِيهَا زِيَادَة إِشْعَار بمقارنة فزع أَو قلق وَالله أعلم
ويكلح بِالْحَاء الْمُهْملَة أَي يعبس وَيقبض وَجهه من الْكَرَاهَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২০. হযরত আমর ইব্ন আ'স (রা) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি একটি মৃত খচ্চরের নিকট দিয়ে গমন করেন। তখন তিনি তাঁর এক সাথীকে বলেনঃ কোন ব্যক্তির উদর পূর্ণ করে এর গোশত খাওয়া তার মুসলমান ভাইয়ের গোশত খাওয়ার চেয়ে উত্তম।
(আবু শায়খ ইবন হিব্বান মাওকুফ সনদে বর্ণনা করেন।)
(আবু শায়খ ইবন হিব্বান মাওকুফ সনদে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4320- وَعَن عَمْرو بن الْعَاصِ رَضِي الله عَنهُ أَنه مر على بغل ميت فَقَالَ لبَعض أَصْحَابه لِأَن يَأْكُل الرجل من هَذَا حَتَّى يمْلَأ بَطْنه خير لَهُ من أَن يَأْكُل لحم رجل مُسلم
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان وَغَيره مَوْقُوفا
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان وَغَيره مَوْقُوفا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। একদা আসলামী (রা) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এসে নিজকে ব্যভিচারী বলে চারবার সাক্ষী দেয়। সে বলে: আমি অবৈধ উপায়ে এক রমনীর সাথে উপগত হয়েছি। আর প্রত্যেক বারেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার থেকে চেহারা মুবারক অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেন। সে এ ঘটনা বর্ণনা করলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেন: তুমি এ বাক্য দ্বারা কী বুঝাতে চাচ্ছ? লোকটি বললেন: আপনি আমাকে পাপ মুক্ত করবেন এ উদ্দেশ্যে তা বলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দেন। কার্যত তাকে রজম করা হল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দু'জন আনসারকে পরস্পর বাক্যলাপ করতে শোনেন যে, একজন অন্যজনকে বলছে, এই লোকটির ব্যাপারে চিন্তা কর, আল্লাহ্ তার দোষ গোপন করতে চেয়েছেন, কিন্তু লোকটি নিজের জীবন রক্ষা করতে চায়নি, এমনকি তাকে কুকুরের মত পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। রাবী বলেন: একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নীরব থাকেন। এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে একটি স্ফীত পা বিশিষ্ট গাধার নিকট গমন করেন। তখন তিনি বলেনঃ অমুক কোথায়, অমুক কোথায়? তারা বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমরা এখানে। তখন তিনি তাদের বলেনঃ তোমরা এই মৃত গাধার গোশত খাও। তারা বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্। এই মৃত গাধার গোশত কে খায়? আল্লাহ্ আপনার মর্যাদা সমুন্নত করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: একটু আগে তোমরা যে এক ব্যক্তির মর্যাদাহানী করেছ, তা এই মৃত গাধার গোশত খাওয়ার চেয়েও জঘন্য। যার হাতে আমার জীবন। সেই সত্তার শপথ। ঐ লোকটি এখন জান্নাতের নহরে সাঁতার কাটছে।
(ইবন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত।)
(ইবন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4321- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ جَاءَ الْأَسْلَمِيّ إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَشهد
على نَفسه بِالزِّنَا أَربع شَهَادَات يَقُول أتيت امْرَأَة حَرَامًا وَفِي كل ذَلِك يعرض عَنهُ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكرت الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ فَمَا تُرِيدُ بِهَذَا القَوْل قَالَ أُرِيد أَن تطهرني فَأمر بِهِ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن يرْجم فرجم فَسمع رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رجلَيْنِ من الْأَنْصَار يَقُول أَحدهمَا لصَاحبه انْظُر إِلَى هَذَا الَّذِي ستر الله عَلَيْهِ فَلم يدع نَفسه حَتَّى رجم رجم الْكَلْب
قَالَ فَسكت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثمَّ سَار سَاعَة فَمر بجيفة حمَار شائل بِرجلِهِ فَقَالَ أَيْن فلَان وَفُلَان فَقَالُوا نَحن ذَا يَا رَسُول الله فَقَالَ لَهما كلا من جيفة هَذَا الْحمار فَقَالَا يَا رَسُول الله غفر الله لَك من يَأْكُل من هَذَا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا نلتما من عرض هَذَا الرجل آنِفا أَشد من أكل هَذِه الجيفة فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ إِنَّه الْآن فِي أَنهَار الْجنَّة ينغمس فِيهَا
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
على نَفسه بِالزِّنَا أَربع شَهَادَات يَقُول أتيت امْرَأَة حَرَامًا وَفِي كل ذَلِك يعرض عَنهُ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكرت الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ فَمَا تُرِيدُ بِهَذَا القَوْل قَالَ أُرِيد أَن تطهرني فَأمر بِهِ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن يرْجم فرجم فَسمع رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رجلَيْنِ من الْأَنْصَار يَقُول أَحدهمَا لصَاحبه انْظُر إِلَى هَذَا الَّذِي ستر الله عَلَيْهِ فَلم يدع نَفسه حَتَّى رجم رجم الْكَلْب
قَالَ فَسكت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثمَّ سَار سَاعَة فَمر بجيفة حمَار شائل بِرجلِهِ فَقَالَ أَيْن فلَان وَفُلَان فَقَالُوا نَحن ذَا يَا رَسُول الله فَقَالَ لَهما كلا من جيفة هَذَا الْحمار فَقَالَا يَا رَسُول الله غفر الله لَك من يَأْكُل من هَذَا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا نلتما من عرض هَذَا الرجل آنِفا أَشد من أكل هَذِه الجيفة فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ إِنَّه الْآن فِي أَنهَار الْجنَّة ينغمس فِيهَا
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২২. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মি'রাজের রাতে নবী (ﷺ) জাহান্নাম দেখেন। জাহান্নামে তিনি একদল লোককে মৃত জন্তুর গোশত খেতে দেখেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন: হে জিব্রাঈল! এরা করা? তিনি বলেন: এরা ঐ সবলোক, যারা (দুনিয়াতে) মানুষের গোশত খেয়েছে। তিনি সেখানে নীল চোখ বিশিষ্ট এক ব্যক্তিকে দেখে জিজ্ঞেস করেন। এই ব্যক্তি কে? তিনি বলেন: সে হল (সালিহ আ-এর) উটের পা কর্তনকারী।
(আহমাদ, কাবুস ইব্ন আবূ যুবয়ান ব্যতীত তার বর্ণনাকারীদের বর্ণনাসূত্র বিশুদ্ধ।)
(আহমাদ, কাবুস ইব্ন আবূ যুবয়ান ব্যতীত তার বর্ণনাকারীদের বর্ণনাসূত্র বিশুদ্ধ।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4322 - وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ لَيْلَة أسرِي بِنَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَنظر فِي النَّار فَإِذا قوم يَأْكُلُون الْجِيَف
قَالَ من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل قَالَ هَؤُلَاءِ الَّذين يَأْكُلُون لُحُوم النَّاس وَرَأى رجلا أَحْمَر أَزْرَق جدا فَقَالَ من هَذَا يَا جِبْرِيل قَالَ هَذَا عَاقِر النَّاقة
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح خلا قَابُوس بن أبي ظبْيَان
قَالَ من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل قَالَ هَؤُلَاءِ الَّذين يَأْكُلُون لُحُوم النَّاس وَرَأى رجلا أَحْمَر أَزْرَق جدا فَقَالَ من هَذَا يَا جِبْرِيل قَالَ هَذَا عَاقِر النَّاقة
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح خلا قَابُوس بن أبي ظبْيَان
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন আমাকে মি'রাজে নেওয়া হল, তখন আমি এমন কিছু সংখ্যক লোকের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করলাম, যাদের নখ ছিল তামার এবং তারা তা দিয়ে নিজ চেহারা ও বক্ষদেশ কামড়াচ্ছে। আমি বললামঃ হে জিব্রাঈল! এর কারা? তিনি বলেন: এরা মানুষের গোশত ভক্ষণ করত এবং মানুষের মর্যাদায় হস্তক্ষেপ করত।
(আবু দাউদ (র) বর্ণিত। আবু দাউদ (র) বলেন: কোন কোন মুহাদ্দিস এই হাদীসটিকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।)
(আবু দাউদ (র) বর্ণিত। আবু দাউদ (র) বলেন: কোন কোন মুহাদ্দিস এই হাদীসটিকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4323- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لما عرج بِي مَرَرْت بِقوم لَهُم أظفار من نُحَاس يخمشون وُجُوههم وصدورهم فَقلت من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل قَالَ هَؤُلَاءِ الَّذين يَأْكُلُون لُحُوم النَّاس ويقعون فِي أعراضهم
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَذكر أَن بَعضهم رَوَاهُ مُرْسلا
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَذكر أَن بَعضهم رَوَاهُ مُرْسلا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৪. হযরত রাশিদ ইবন সা'দ মিকরানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: যখন আমাকে মি'রাজে নেওয়া হল, তখন আমি এমন কিছু সংখ্যক লোকের নিকট দিয়ে গমন করলাম, যাদের চামড়া আগুনের কাঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছিল। আমি বললামঃ হে জিবরাঈল! এর কারা? তিনি বলেন: যারা নিজদের গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সজ্জিত করত। তিনি বলেনঃ পরে আমি একটি দুর্গন্ধময় গর্তের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় সেখানে বিকট শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি বললামঃ হে জিব্রাঈল! এর কারা? তিনি বলেন: এরা আপনার (উম্মাতের) ঐ সব নারী, যারা লোকদের আকৃষ্ট করার জন্য সাজত এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতো, যা তাদের জন্য বৈধ নয়। এরপর আমি এমন কিছু সংখ্যক নারী-পুরুষের নিকট দিয়ে গমন করলাম, যাদের উপরের দিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি বললাম: হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বলেনঃ এরা মানুষের সামনে ও পেছনে নিন্দাবাদকারিনী। আল্লাহর বাণী তার এ কথার দিকে ইংগিত করছে وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ "দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে"।
(ইমাম বায়হাকী (র) বাকীয়া থেকে, তিনি সাঈদ ইবন সিনান থেকে বর্ণনা করেন এবং বলেন: হাদীসটি মুরসাল। তবে উক্ত হাদীসটি আমরা মাওসুল সূত্রে বর্ণনা করেছি। এরপর ইবন জুরায়জ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন : الهمز এর অর্থ হচ্ছে, চোখ,ভ্রু ও হাত দ্বারা যে দোষ বর্ণনা করা হয়। আর اللمز অর্থ হচ্ছে, কথা দ্বারা দোষ বর্ণনা করা। তিনি বলেন: আমার কাছে লাইস (র) বর্ণনা করেছেন যে, সামনে দোষ বর্ণনাকে لمز বলা হয়, আর পেছনে দোষ বর্ণনাকে همز বলা হয়।)
(ইমাম বায়হাকী (র) বাকীয়া থেকে, তিনি সাঈদ ইবন সিনান থেকে বর্ণনা করেন এবং বলেন: হাদীসটি মুরসাল। তবে উক্ত হাদীসটি আমরা মাওসুল সূত্রে বর্ণনা করেছি। এরপর ইবন জুরায়জ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন : الهمز এর অর্থ হচ্ছে, চোখ,ভ্রু ও হাত দ্বারা যে দোষ বর্ণনা করা হয়। আর اللمز অর্থ হচ্ছে, কথা দ্বারা দোষ বর্ণনা করা। তিনি বলেন: আমার কাছে লাইস (র) বর্ণনা করেছেন যে, সামনে দোষ বর্ণনাকে لمز বলা হয়, আর পেছনে দোষ বর্ণনাকে همز বলা হয়।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4324- وَعَن رَاشد بن سعد المقرائي قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لما عرج بِي مَرَرْت بِرِجَال تقْرض جُلُودهمْ بمقاريض من نَار فَقلت من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل قَالَ الَّذين يتزينون للزنية
قَالَ ثمَّ مَرَرْت بجب منتن الرّيح فَسمِعت فِيهِ أصواتا شَدِيدَة فَقلت من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل قَالَ نسَاء كن يتزين للزنية ويفعلن مَا لَا يحل لَهُنَّ ثمَّ مَرَرْت على نسَاء وَرِجَال معلقين بثديهن فَقلت من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل فَقَالَ هَؤُلَاءِ اللمازون والهمازون وَذَلِكَ قَول الله عز وَجل ويل لكل همزَة لُمزَة الْهَمْز 1
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من رِوَايَة
بَقِيَّة عَن سعيد بن سِنَان وَقَالَ هَذَا مُرْسل وَقد روينَاهُ مَوْصُولا ثمَّ رُوِيَ عَن ابْن جريج قَالَ الْهَمْز بِالْعينِ والشدق وَالْيَد واللمز بِاللِّسَانِ قَالَ وَبَلغنِي عَن اللَّيْث أَنه قَالَ اللمزة الَّذِي يعيبك فِي وَجهك والهمزة الَّذِي يعيبك بِالْغَيْبِ
قَالَ ثمَّ مَرَرْت بجب منتن الرّيح فَسمِعت فِيهِ أصواتا شَدِيدَة فَقلت من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل قَالَ نسَاء كن يتزين للزنية ويفعلن مَا لَا يحل لَهُنَّ ثمَّ مَرَرْت على نسَاء وَرِجَال معلقين بثديهن فَقلت من هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيل فَقَالَ هَؤُلَاءِ اللمازون والهمازون وَذَلِكَ قَول الله عز وَجل ويل لكل همزَة لُمزَة الْهَمْز 1
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من رِوَايَة
بَقِيَّة عَن سعيد بن سِنَان وَقَالَ هَذَا مُرْسل وَقد روينَاهُ مَوْصُولا ثمَّ رُوِيَ عَن ابْن جريج قَالَ الْهَمْز بِالْعينِ والشدق وَالْيَد واللمز بِاللِّسَانِ قَالَ وَبَلغنِي عَن اللَّيْث أَنه قَالَ اللمزة الَّذِي يعيبك فِي وَجهك والهمزة الَّذِي يعيبك بِالْغَيْبِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৫. হযরত জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (ﷺ) এর সংগে ছিলাম। হঠাৎ দুর্গন্ধময় বায়ু প্রবাহিত হলো। এখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করেন তোমরা কি জান, এ দুর্গন্ধময় বায়ু কিসের? এ দুর্গন্ধ ঐ সব লোকের, যারা মু'মিনদের গীবত করে বেড়ায়।
(আহমাদ ও ইবন আবুদ দুনিয়া বর্ণিত। আহমাদের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।')
(আহমাদ ও ইবন আবুদ দুনিয়া বর্ণিত। আহমাদের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।')
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4325- وَعَن جَابر بن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فارتفعت ريح مُنْتِنَة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَتَدْرُونَ مَا هَذِه الرّيح هَذِه ريح الَّذين يغتابون الْمُؤمنِينَ
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا ورواة أَحْمد ثِقَات
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا ورواة أَحْمد ثِقَات
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৬. হযরত জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ ও আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: গীবত ব্যভিচার অপেক্ষা জঘন্য। বলা হয় তা কেমন করে? তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তি ব্যভিচার করে তাওবা করলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, কিন্তু গীবাতকারীকে গীবতকৃত ব্যক্তি ক্ষমা না করা পর্যন্ত ক্ষমা করা হয় না।
(ইবন আবুদ দুনিয়ার কিতাবুল গীবাত, তাবারানীর আওসাত গ্রন্থ, বায়হাকী (র) নাম উল্লেখ না করে এক ব্যক্তি থেকে, তিনি হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। আর সুফিয়ান ইবন উয়ায়না (র) মারফু' ব্যতীত অন্য সূত্রে বর্ণনা করে। এসব বর্ণনা সূত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
(ইবন আবুদ দুনিয়ার কিতাবুল গীবাত, তাবারানীর আওসাত গ্রন্থ, বায়হাকী (র) নাম উল্লেখ না করে এক ব্যক্তি থেকে, তিনি হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। আর সুফিয়ান ইবন উয়ায়না (র) মারফু' ব্যতীত অন্য সূত্রে বর্ণনা করে। এসব বর্ণনা সূত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4326 - وَرَوَى عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ وَأَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْغَيْبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا ، قِيلَ : وَكَيْفَ ؟ قَالَ : الرَّجُلُ يَزْنِى ، ثُمَّ يَتُوبُ ، فَيَتُوْبُ اللهُ عَلَيْهِ .وَإِنْ صَاحِبَ الْغيْبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَ لَهُ صَاحِبُهُ -
رواه ابن أبي الدنيا فى كتاب الغيبة والطبراني في الأوسط والبيهقي ، ورواه البيهقي أيضاً عن رجل لم يسم عن أنس ، ورواه عن سفيان بن عيينة غير مرفوع ، وهو الأشبه والله أعلم -
رواه ابن أبي الدنيا فى كتاب الغيبة والطبراني في الأوسط والبيهقي ، ورواه البيهقي أيضاً عن رجل لم يسم عن أنس ، ورواه عن سفيان بن عيينة غير مرفوع ، وهو الأشبه والله أعلم -
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৭. হযরত আবু বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সংগে পথ চলছিলাম। এ সময় তিনি আমার হাত ধরেছিলেন। অপর এক ব্যক্তি তাঁর বাম দিকে ছিল। হঠাৎ আমরা আমাদের সামনে দু'টি কবর দেখতে পেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন। নিশ্চয়ই এই দু'জনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে বড় কোন কাজের জন্য নয়। তবে হাঁ এটিও বড় গুনাহ। তোমাদের মধ্যকার কেউ কি একটি খেজুর ডাল এনে দিতে পার? আমি আগে অগ্রসর হয়ে একটি খেজুর ডাল নিয়ে এলাম। তিনি তা দু'ভাগে ভাগ করেন এবং একটি এই কবরে এবং অন্যটি অন্য করবে পুঁতে দেন। এরপর বলেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত তা তাজা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের আযাব লাঘব করা হবে। একমাত্র, গীবাত ও পেশাব থেকে পবিত্র না থাকার কারণে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
(আহমাদ ও অন্যান্যগণ বিশ্বস্ত সনদে বর্ণনা করেন।)
(আহমাদ ও অন্যান্যগণ বিশ্বস্ত সনদে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4327- وَعَن أبي بكرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ بَينا أَنا أماشي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَهُوَ آخذ بيَدي وَرجل على يسَاره فَإِذا نَحن بقبرين أمامنا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إنَّهُمَا ليعذبان وَمَا يعذبان فِي كَبِير وبلى فَأَيكُمْ يأتيني بجريدة فاستبقنا فسبقته فَأَتَيْته بجريدة فَكَسرهَا نِصْفَيْنِ فَألْقى على ذَا الْقَبْر قِطْعَة وعَلى ذَا الْقَبْر قِطْعَة قَالَ إِنَّه يهون عَلَيْهِمَا مَا كَانَتَا رطبتين وَمَا يعذبان إِلَّا فِي الْغَيْبَة وَالْبَوْل
رَوَاهُ أَحْمد وَغَيره بِإِسْنَاد رُوَاته ثِقَات
رَوَاهُ أَحْمد وَغَيره بِإِسْنَاد رُوَاته ثِقَات
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৮. হযরত ই'আলা সায়াবাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর একজন সাহাবী ছিলেন। একবার তিনি এমন একটি কবরের কাছে আসেন, যে কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বলেন: এই লোকটি মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। এরপর তিনি (নবী ﷺ) একটি তাজা খেজুর ডাল চাইলেন এবং তা তার- কবরে পুঁতে দিয়ে বললেনঃ আশা করা যায় যে, যতক্ষণ এটি তাজা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার আযাব লাঘব করা হবে।
(আহমাদ ও তাবারানী বর্ণিত। তবে আহমাদের বর্ণনায় আসিম ইবনে বাহদালা ব্যতীত বাকী বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
(আহমাদ ও তাবারানী বর্ণিত। তবে আহমাদের বর্ণনায় আসিম ইবনে বাহদালা ব্যতীত বাকী বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4328- وَعَن يعلى بن سيابة رَضِي الله عَنهُ أَنه عهد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وأتى على قبر يعذب صَاحبه فَقَالَ إِن هَذَا كَانَ يَأْكُل لُحُوم النَّاس ثمَّ دَعَا بجريدة رطبَة فوضعها على قَبره وَقَالَ لَعَلَّه أَن يُخَفف عَنهُ مَا دَامَت هَذِه رطبَة
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ ورواة أَحْمد ثِقَات إِلَّا عَاصِم بن بَهْدَلَة
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ ورواة أَحْمد ثِقَات إِلَّا عَاصِم بن بَهْدَلَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৯. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বাকীউল গারকাদে এসে দু'জন ধনবান ব্যক্তির কবরের কাছে দাঁড়ান এবং জিজ্ঞেস করেন। তোমরা কি অমুক অমুককে এখানে দাফন করেছ অথবা তিনি বলেছেন: এই কি অমুক অমুক? সাহাবায়ে কিরাম বলেন: হাঁ। ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তখন তিনি বলেনঃ এই মাত্র অমুক ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে এবং তাকে প্রহার করা হচ্ছে। এরপর তিনি বলেন: ঐ মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন! তাকে এমন জোরে আঘাত করা হচ্ছে যে, তার শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তার কবর আগুনে ভরে গেছে। সে এমনভাবে চিৎকার দিচ্ছে যে, কেবলমাত্র জিন-ইনসান ব্যতীত সবাই তা শুনতে পাচ্ছে। যদি তোমাদের অন্তর বিগড়ে যাওয়ার সম্ভবনা না থাকত এবং তোমাদের কথার পরিমাণ কম হত, তবে আমি যা শুনি তোমরাও তা শুনতে। তখন সাহাবায়ে কিরাম বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তাদের কী অপরাধ ছিল? তিনি বলেন: তাদের একজন পেশাব থেকে ঠিকমত পবিত্র হত না এবং অপর জন মানুষের গোশত খেত।
(ইবন জারীর তাবারী (র) আলী ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি কাসিম (র) থেকে বর্ণনা করেন। আর আহমাদ (র) উপরোক্ত শব্দমালা ব্যতীত বর্ণনা করেন। তবে তার শব্দমালা এরূপ সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কতদিন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে? তিনি বলেনঃ এতো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তার শব্দমালা চোগলখুরী শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন: উক্ত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে বিভিন্ন সহীহ্ ও অন্যান্য গ্রন্থে একদল সাহাবা থেকে বর্ণিত হয়েছে। অধিকাংশ বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, তাদেরকে চোগলখুরী ও পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। হাদীসের প্রকাশ্য মর্ম হল এইঃ ঘটনাক্রমে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) একবার কবরের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করেন। তাদের একজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। অপর একদিন দু'টি কবরের নিকট দিয়ে গমন করেন, যাদের একজনকে গীবতের কারণে এবং অপরজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
(ইবন জারীর তাবারী (র) আলী ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি কাসিম (র) থেকে বর্ণনা করেন। আর আহমাদ (র) উপরোক্ত শব্দমালা ব্যতীত বর্ণনা করেন। তবে তার শব্দমালা এরূপ সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কতদিন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে? তিনি বলেনঃ এতো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তার শব্দমালা চোগলখুরী শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন: উক্ত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে বিভিন্ন সহীহ্ ও অন্যান্য গ্রন্থে একদল সাহাবা থেকে বর্ণিত হয়েছে। অধিকাংশ বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, তাদেরকে চোগলখুরী ও পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। হাদীসের প্রকাশ্য মর্ম হল এইঃ ঘটনাক্রমে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) একবার কবরের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করেন। তাদের একজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। অপর একদিন দু'টি কবরের নিকট দিয়ে গমন করেন, যাদের একজনকে গীবতের কারণে এবং অপরজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4329- وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ أَتَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَقِيع الْغَرْقَد فَوقف على قبرين ثريين فَقَالَ أدفنتم فلَانا وفلانة أَو قَالَ فلَانا وَفُلَانًا قَالُوا نعم يَا رَسُول الله
قَالَ قد أقعد فلَان الْآن فَضرب
ثمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لقد ضرب ضَرْبَة مَا بَقِي مِنْهُ عُضْو إِلَّا انْقَطع وَلَقَد تطاير قَبره نَارا وَلَقَد صرخَ صرخة سَمعهَا الْخَلَائق إِلَّا الثقلَيْن الْإِنْس وَالْجِنّ وَلَوْلَا تمريج قُلُوبكُمْ وتزيدكم فِي الحَدِيث لسمعتم مَا أسمع
ثمَّ قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا ذنبهما قَالَ أما فلَان فَإِنَّهُ كَانَ لَا يستبرىء من الْبَوْل وَأما فلَان أَو فُلَانَة فَإِنَّهُ كَانَ يَأْكُل لُحُوم النَّاس
رَوَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ من طَرِيق عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَنهُ وَرَوَاهُ من هَذِه الطَّرِيق أَحْمد بِغَيْر هَذَا اللَّفْظ وَزَاد فِيهِ قَالُوا يَا نَبِي الله حَتَّى مَتى هما يعذبان قَالَ غيب لَا يُعلمهُ إِلَّا الله
وَتقدم لَفظه فِي النميمة
قَالَ الْحَافِظ وَقد رُوِيَ هَذَا الحَدِيث من طرق كَثِيرَة مَشْهُورَة فِي الصِّحَاح وَغَيرهَا عَن جمَاعَة من الصَّحَابَة رَضِي الله عَنْهُم وَفِي أَكْثَرهَا أَنَّهُمَا يعذبان فِي النميمة وَالْبَوْل وَالظَّاهِر أَنه اتّفق مروره صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مرّة بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي النميمة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَمرَّة أُخْرَى بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي الْغَيْبَة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَالله أعلم
قَالَ قد أقعد فلَان الْآن فَضرب
ثمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لقد ضرب ضَرْبَة مَا بَقِي مِنْهُ عُضْو إِلَّا انْقَطع وَلَقَد تطاير قَبره نَارا وَلَقَد صرخَ صرخة سَمعهَا الْخَلَائق إِلَّا الثقلَيْن الْإِنْس وَالْجِنّ وَلَوْلَا تمريج قُلُوبكُمْ وتزيدكم فِي الحَدِيث لسمعتم مَا أسمع
ثمَّ قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا ذنبهما قَالَ أما فلَان فَإِنَّهُ كَانَ لَا يستبرىء من الْبَوْل وَأما فلَان أَو فُلَانَة فَإِنَّهُ كَانَ يَأْكُل لُحُوم النَّاس
رَوَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ من طَرِيق عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَنهُ وَرَوَاهُ من هَذِه الطَّرِيق أَحْمد بِغَيْر هَذَا اللَّفْظ وَزَاد فِيهِ قَالُوا يَا نَبِي الله حَتَّى مَتى هما يعذبان قَالَ غيب لَا يُعلمهُ إِلَّا الله
وَتقدم لَفظه فِي النميمة
قَالَ الْحَافِظ وَقد رُوِيَ هَذَا الحَدِيث من طرق كَثِيرَة مَشْهُورَة فِي الصِّحَاح وَغَيرهَا عَن جمَاعَة من الصَّحَابَة رَضِي الله عَنْهُم وَفِي أَكْثَرهَا أَنَّهُمَا يعذبان فِي النميمة وَالْبَوْل وَالظَّاهِر أَنه اتّفق مروره صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مرّة بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي النميمة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَمرَّة أُخْرَى بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي الْغَيْبَة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَالله أعلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৩০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩৩০. হযরত উসমান ইবন আফ্ফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি : গীবত ও চোগলখুরী ঈমানকে এমনভাবে ধ্বংস করে, যেমন রাখাল বৃক্ষকে কর্তন করে।
(ইস্পাহানী বর্ণিত।)
(ইস্পাহানী বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4330- وَرُوِيَ عَن عُثْمَان بن عَفَّان رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول الْغَيْبَة والنميمة يحتان الْإِيمَان كَمَا يعضد الرَّاعِي الشَّجَرَة
رَوَاهُ الْأَصْبَهَانِيّ
رَوَاهُ الْأَصْبَهَانِيّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৩১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩৩১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। তোমরা কি জান, কে গরীব? সাহাবায়ে কিরাম বলেন: আমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই গরীর, যার টাকা কড়ি নেই এবং (মূল্যবান) আসবাবপত্র নেই। তখন তিনি (নবী ﷺ বলেন: আমার উম্মাতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি গরীব, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। তখন একজন এসে বলবে। এ লোকটি গালি দিয়েছে; অন্য জন এসে বলবেঃ সে অপবাদ দিয়েছে; অন্য একজন এসে বলবে: সে হত্যা করেছে, অপর জন এসে বলবে: সে প্রহার করেছে। (তখন দাবি মুক্ত হতে গিয়ে) সেই লোকটির নিজের আমল থেকে একে কিছু নেকী ওকে কিছু নেকী দেওয়া হবে এবং এইভাবে দিতে দিতে তার নেকী ফুরিয়ে যাবে। ঋণ পরিশোধের পূর্বেই যখন তার নেকী ফুরিয়ে যাবে, তখন দাবিদারদের গুনাহ তার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে, এরপর তাকে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে।
(মুসলিম, তিরমিযী ও অন্যান্যগণ বর্ণনা করেন।)
(মুসলিম, তিরমিযী ও অন্যান্যগণ বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4331- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَتَدْرُونَ من الْمُفلس قَالُوا الْمُفلس فِينَا من لَا دِرْهَم لَهُ وَلَا مَتَاع فَقَالَ الْمُفلس من أمتِي من يَأْتِي يَوْم الْقِيَامَة بِصَلَاة وَصِيَام وَزَكَاة وَيَأْتِي قد شتم هَذَا وَقذف هَذَا وَأكل مَال هَذَا وَسَفك دم هَذَا وَضرب هَذَا فَيعْطى هَذَا من حَسَنَاته وَهَذَا من حَسَنَاته فَإِن فنيت حَسَنَاته قبل أَن يقْضِي مَا عَلَيْهِ أَخذ من خطاياهم فطرحت عَلَيْهِ ثمَّ طرح فِي النَّار
رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَغَيرهمَا
رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَغَيرهمَا
তাহকীক: