আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৯৩ টি
হাদীস নং: ৫০২৭
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০২৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আমি ক্ষুধার তাড়নায় বুকে ভর করে মাটিতে পড়ে থাকতাম এবং ক্ষুধার তাড়নায় পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। একদিন আমি মানুষের যাতায়াতের পথে বসেছিলাম। আবু বকর (রা) আমার পাশ দিয়ে গেলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করার একমাত্র উদ্দেশ্য হল, তিনি হয়ত আমার খোঁজ খবর নিবেন। তিনি চলে গেলেন, কিন্তু আমার খোঁজ-খবর নিলেন না। অতঃপর উমর (রা) গেলেন, আমি তাকেও কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করার একমাত্র উদ্দেশ্য হল, তিনি হয়ত আমার খোঁজ-খবর নিবেন। এরপর আবুল কাসিম (মুহাম্মদ) (ﷺ) গেলেন এবং আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন। তিনি আমার চেহারার অবস্থা ও আমার মনোভাব বুঝে গেলেন। তিনি বললেন, হে আবু হুরায়রা। আমি বললাম, হাযির, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, তুমি আমার সঙ্গে আস। এবলে তিনি চলতে লাগলেন, আমি তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন এবং একটি পেয়ালায় কিছু দুধ পেলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুধ কোথা থেকে এল? ঘরের লোকজন উত্তর দিল, এদুধ অমুক ব্যক্তি-অথবা অমুক মহিলা-আপনার জন্য হাদিয়া স্বরূপ পাঠিয়েছে। তিনি বললেন, হে আবু হুরায়রা! আমি উত্তর দিলাম, হাযির, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বললেন, তুমি সুফাবাসীদের কাছে যাও এবং তাদেরকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে আস। আবু হুরায়রা (রা) বলেনঃ সুফফাবাসীরা ছিলেন ইসলামের মেহমান। তাঁরা কোন পরিবার, কোন ধন সম্পদ অথবা কারও দুয়ারে ধর্না দিতেন না। যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে কোন সাদাকা আসত, তখন তিনি তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তিনি নিজে সাদাকা থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না। পক্ষান্তরে যদি তাঁর কাছে কোন হাদিয়া আসত, তখন তিনি তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। নিজেও কিছু রাখতেন এবং তাদেরকেও হাদীয়ায় শরীক করতেন। আমার কাছে এটা (তাদেরকে ডেকে আনা) খারাপ ঠেকল। তাই ছাত (মনে মনে) বললাম, এতটুকু দুখে সুফফাবাসীদের কী হবে? এ দুধটুকু পানে তো আমারই হক বেশি ছিল এর দ্বারা আমি শক্তি লাভ করতাম। তাঁরা যখন আসবে, তখন (তাদেরকে দুধ পান করানোর জন্য) আমাকে তিনি আদেশ করবেন। ফলে তাদেরকে দুধ পান আমাকেই করাতে হবে। কাজেই এ দুধ থেকে কিছুই আমার কাছে পৌছার সম্ভাবনা নেই। তবুও আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল (ﷺ)-এর আনুগত্য থেকে ফেরার কোন উপায় ছিল না। তাই আমি তাঁদের কাছে গেলাম এবং তাদেরকে ডেকে আনলাম। তাঁরা এসে ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হল এবং তারা ঘরে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আবু হুরায়রা! আমি উত্তর দিলাম, হাযির, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বললেন, নাও, তাদেরকে দাও আমি পেয়ালাটি নিলাম এবং একজনকে দিতে থাকলাম। প্রত্যেকেই পরিতৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত পান করতে থাকল এবং আমাকে পেয়ালা ফিরিয়ে দিতে থাকল। এভাবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলাম। ইত্যবসরে তারা সবাই পরিতৃপ্ত সহকারে পান করে নিয়েছে। অতঃপর তিনি পেয়ালাটি নিয়ে তার হাতের উপরে রাখলেন এবং মুচকি হেসে বললেন, হে আবু হুরায়রা! আমি উত্তর দিলাম, হাযির, ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমি আর তুমি বাকি আছি-তাই না? আমি বললাম সত্যই বলেছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বললেন, বস, এবার তুমি পান কর। আমি পান করলাম। তিনি আবার বললেন, পান কর আমি আবার পান করলাম। তিনি পুনরায় বলতে থাকলেন, পান কর। অবশেষে আমি বললামঃ জ্বী না, সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দীন সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি আর পেরে উঠছি না। তিনি বললেন, তবে এবার আমাকে দাও। আমি তাকে পেয়ালাটি দিলাম। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করলেন এবং বিসমিল্লাহ্ পড়ে অবশিষ্টটুকু পান করে নিলেন।
(বুখারী (র) প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এটা বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
(বুখারী (র) প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এটা বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5027- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ وَالَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ إِن كنت لأعتمد بكبدي على الأَرْض من الْجُوع وَإِن كنت لأشد الْحجر على بَطْني من الْجُوع وَلَقَد قعدت يَوْمًا على طريقهم الَّذِي يخرجُون مِنْهُ فَمر بِي أَبُو بكر فَسَأَلته عَن آيَة فِي كتاب الله مَا سَأَلته إِلَّا ليستتبعني فَمر فَلم يفعل ثمَّ مر عمر فَسَأَلته عَن آيَة من كتاب الله مَا سَأَلته إِلَّا ليستتبعني ثمَّ مر أَبُو الْقَاسِم صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَتَبَسَّمَ حِين رَآنِي وَعرف مَا فِي وَجْهي وَمَا فِي نَفسِي ثمَّ قَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَة قلت لبيْك يَا رَسُول الله قَالَ ألحق وَمضى فَأَتْبَعته فَاسْتَأْذن فَأذن لَهُ فَدخل فَوجدَ لَبَنًا فِي قدح فَقَالَ من أَيْن هَذَا اللَّبن قَالُوا أهداه لَك فلَان أَو فُلَانَة قَالَ يَا أَبَا هر قلت لبيْك يَا رَسُول الله قَالَ ألحق إِلَى أهل الصّفة فادعهم لي قَالَ وَأهل الصّفة أضياف الْإِسْلَام لَا يأوون على أهل وَلَا مَال وَلَا على أحد إِذا أَتَتْهُ صَدَقَة بعث بهَا إِلَيْهِم وَلم يتَنَاوَل مِنْهَا شَيْئا وَإِذا أَتَتْهُ هَدِيَّة أرسل إِلَيْهِم وَأصَاب مِنْهَا وأشركهم فِيهَا فساءني ذَلِك فَقلت وَمَا هَذَا اللَّبن فِي أهل الصّفة كنت أَحَق أَن أُصِيب من هَذَا اللَّبن شربة أتقوى بهَا فَإِذا جاؤوا أَمرنِي فَكنت أَنا أعطيهم وَمَا عَسى أَن يبلغنِي من هَذَا اللَّبن وَلم يكن من طَاعَة الله وَطَاعَة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بُد فأتيتهم فدعوتهم فَأَقْبَلُوا وَاسْتَأْذَنُوا فَأذن لَهُم وَأخذُوا مجَالِسهمْ من الْبَيْت قَالَ يَا أَبَا هر قلت لبيْك يَا رَسُول الله
قَالَ خُذ فأعطهم فَأخذت الْقدح فَجعلت أعْطِيه الرجل فيشرب حَتَّى يرْوى ثمَّ يرد عَليّ الْقدح حَتَّى انْتَهَيْت إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَقد رُوِيَ الْقَوْم كلهم فَأخذ الْقدح فَوَضعه على يَده فَتَبَسَّمَ فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَة فَقلت لبيْك يَا رَسُول الله قَالَ بقيت أَنا وَأَنت قلت صدقت يَا رَسُول الله
قَالَ اقعد فَاشْرَبْ فَشَرِبت فَقَالَ اشرب فَشَرِبت فَمَا زَالَ يَقُول اشرب حَتَّى قلت لَا وَالَّذِي بَعثك بِالْحَقِّ لَا أجد مسلكا قَالَ فأرني فأعطيته الْقدح فَحَمدَ الله تَعَالَى وسمى وَشرب الفضلة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَغَيره وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
قَالَ خُذ فأعطهم فَأخذت الْقدح فَجعلت أعْطِيه الرجل فيشرب حَتَّى يرْوى ثمَّ يرد عَليّ الْقدح حَتَّى انْتَهَيْت إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَقد رُوِيَ الْقَوْم كلهم فَأخذ الْقدح فَوَضعه على يَده فَتَبَسَّمَ فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَة فَقلت لبيْك يَا رَسُول الله قَالَ بقيت أَنا وَأَنت قلت صدقت يَا رَسُول الله
قَالَ اقعد فَاشْرَبْ فَشَرِبت فَقَالَ اشرب فَشَرِبت فَمَا زَالَ يَقُول اشرب حَتَّى قلت لَا وَالَّذِي بَعثك بِالْحَقِّ لَا أجد مسلكا قَالَ فأرني فأعطيته الْقدح فَحَمدَ الله تَعَالَى وسمى وَشرب الفضلة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَغَيره وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০২৮
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০২৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষ বলাবলি করত যে, আবু হুরায়রা বেশি হাদীস বর্ণনা করে। অথচ প্রকৃত ব্যাপার হলো আমি তো পেটের ক্ষুধা নিয়ে পড়ে থাকতাম। তখন আমি রুটি পেতাম না, রেশমের কাপড় পরিধান করতাম না এবং অমুক দাস-দাসী আমার খিদমাত করত না। ক্ষুধার তাড়নায় আমি কংকরের সাথে পেট চেপে ধরে পড়ে থাকতাম এবং কাউকে আমার সাথে থাকা কুরআনের আয়াতটি পড়িয়ে দিতে বলতাম, যাতে সে আমাকে (তার সাথে) নিয়ে যায় এবং আমাকে কিছু খেতে দেয়। আমি যখন জা'ফর ইবন আবু তালিবকে জিজ্ঞেস করতাম, তখন তিনি আমার উত্তর না দিয়ে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং তাঁর স্ত্রীকে বলতেন, হে আসমা! আমাদেরকে খাবার দাও, যখন তার স্ত্রী আমাদের খাবার দিতেন, তখন তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিতেন। জা'ফর দরিদ্রদেরকে ভালবাসতেন তাদের কাছে গিয়ে বসতেন, তাদের সাথে কথাবার্তা বলতেন এবং তারাও তার সাথে কথাবার্তা বলত। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে 'আবুল মাসাকীন' (দরিদ্রদের পিতা) উপনামে ডাকতেন।
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5028- وَعَن أبي هُرَيْرَة أَيْضا رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن النَّاس كَانُوا يَقُولُونَ أَكثر أَبُو هُرَيْرَة وَإِنِّي كنت ألزم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لشبع بَطْني حِين لَا آكل الخمير وَلَا ألبس الْحَرِير وَلَا يخدمني فلَان وفلانة وَكنت ألصق بَطْني بالحصباء من الْجُوع وَإِن كنت لأستقرىء
الرجل الْآيَة هِيَ معي لكَي يَنْقَلِب بِي فيطعمني وَكَانَ خير النَّاس للْمَسَاكِين جَعْفَر بن أبي طَالب كَانَ يَنْقَلِب بِنَا فيطعمنا مَا كَانَ فِي بَيته حَتَّى إِن كَانَ ليخرج إِلَيْنَا العكة الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَيْء فنشقها فنلعق مَا فِيهَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَلَفظه قَالَ إِن كنت لأسأل الرجل من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن الْآيَات من الْقُرْآن أَنا أعلم بهَا مِنْهُ مَا أسأله إِلَّا ليطعمني شَيْئا وَكنت إِذا سَأَلت جَعْفَر بن أبي طَالب لم يجبني حَتَّى يذهب بِي إِلَيّ منزله فَيَقُول لامْرَأَته أَسمَاء أطعمينا فَإِذا أطعمتنا أجابني
وَكَانَ جَعْفَر يحب الْمَسَاكِين وَيجْلس إِلَيْهِم ويحدثونه
وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يكنيه بِأبي الْمَسَاكِين
الرجل الْآيَة هِيَ معي لكَي يَنْقَلِب بِي فيطعمني وَكَانَ خير النَّاس للْمَسَاكِين جَعْفَر بن أبي طَالب كَانَ يَنْقَلِب بِنَا فيطعمنا مَا كَانَ فِي بَيته حَتَّى إِن كَانَ ليخرج إِلَيْنَا العكة الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَيْء فنشقها فنلعق مَا فِيهَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَلَفظه قَالَ إِن كنت لأسأل الرجل من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن الْآيَات من الْقُرْآن أَنا أعلم بهَا مِنْهُ مَا أسأله إِلَّا ليطعمني شَيْئا وَكنت إِذا سَأَلت جَعْفَر بن أبي طَالب لم يجبني حَتَّى يذهب بِي إِلَيّ منزله فَيَقُول لامْرَأَته أَسمَاء أطعمينا فَإِذا أطعمتنا أجابني
وَكَانَ جَعْفَر يحب الْمَسَاكِين وَيجْلس إِلَيْهِم ويحدثونه
وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يكنيه بِأبي الْمَسَاكِين
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০২৯
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০২৯. হযরত মুহাম্মদ ইবন সীরীন (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু হুরায়রা (রা)-এর কাছে ছিলাম। তাঁর গায়ে ছিল কাত্তানের দু'টি রঙিন কাপড়। তার একটিতে তিনি নাকের শ্লেষ্মা পরিষ্কার করলেন। অতঃপর বললেন, বাহ! বাহ! আবু হুরায়রা কাত্তানের কাপড়ে নাকের শ্লেষ্মা পরিষ্কার করছে। অথচ আমি নিজেকে এমতাবস্থায় দেখেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বর ও আয়েশা (রা)-এর কামরার মাঝখানে ক্ষুধার তাড়নায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকতাম। অতঃপর কোন পথিক এসে আমার ঘাড়ে পা দিয়ে চাপা দিত। সে মনে করত যে, আমার বুঝি মৃগী রোগ হয়েছে। অথচ ক্ষুধা ছাড়া এর অন্য কোন কারণ ছিল না।
(বুখারী ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) হাদীসটিকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন।)
(বুখারী ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) হাদীসটিকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5029- وَعَن مُحَمَّد بن سِيرِين قَالَ كُنَّا عِنْد أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ وَعَلِيهِ ثَوْبَان ممشقان من كتَّان فمخط فِي أَحدهمَا ثمَّ قَالَ بخ بخ يمتخط أَبُو هُرَيْرَة فِي الْكَتَّان لقد رَأَيْتنِي وَإِنِّي لأخر فِيمَا بَين مِنْبَر رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وحجرة عَائِشَة من الْجُوع مغشيا عَليّ فَيَجِيء الجائي فَيَضَع رجله على عنقِي يرى أَن بِي الْجُنُون وَمَا هُوَ إِلَّا الْجُوع
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ
الْمشق بِكَسْر الْمِيم الْمغرَة وثوب ممشق مصبوغ بهَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ
الْمشق بِكَسْر الْمِيم الْمغرَة وثوب ممشق مصبوغ بهَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩০
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩০. হযরত কুযালা ইবন উবায়দ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জামা'আতে সালাত আদায় করতেন, তখন লোকেরা ক্ষুধার তাড়নায় সালাতে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে পড়ে যেত। তারা ছিল সুফাবাসী। ফলে বেদুঈনরা বলত, এরা পাগল অথবা মৃগী রোগী। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করতেন, তখন তাদের দিকে ফিরে বলতেন, যদি তোমরা জানতে আল্লাহর কাছে তোমাদের কি মর্যাদা রয়েছে, তবে তোমরা চাইতে যে, তোমাদের অনাহার ও অভাব আরও বৃদ্ধি পাক।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এটা সহীহ হাদীস। ইবন হিব্বান ও স্বীয় 'সহীহ' কিতাবে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।)
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এটা সহীহ হাদীস। ইবন হিব্বান ও স্বীয় 'সহীহ' কিতাবে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5030- وَعَن فضَالة بن عبيد رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَانَ إِذا صلى بِالنَّاسِ يخر رجال من قامتهم فِي الصَّلَاة من الْخَصَاصَة وهم أَصْحَاب الصّفة حَتَّى يَقُول الْأَعْرَاب هَؤُلَاءِ مجانين أَو مجانون فَإِذا صلى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم انْصَرف إِلَيْهِم فَقَالَ لَو تعلمُونَ مَا لكم عِنْد الله لأحببتم أَن تزدادوا فاقة وحاجة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث صَحِيح وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
الْخَصَاصَة بِفَتْح الْخَاء الْمُعْجَمَة وصادين مهملتين هِيَ الْفَاقَة والجوع
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث صَحِيح وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
الْخَصَاصَة بِفَتْح الْخَاء الْمُعْجَمَة وصادين مهملتين هِيَ الْفَاقَة والجوع
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩১
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমার তিনদিন অতিবাহিত হয়ে গেল, অথচ আমি কোন খাবার খেতে পাইনি। অতঃপর আমি সুফফার উদ্দেশ্যে এলাম এবং পড়ে যেতে লাগলাম। ছেলেপুলেরা বলতে লাগল, আবু হুরায়রা, মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তখন আমি তাদেরকে ডেকে বলতে লাগলাম। না, বরং তোমরা মৃগী রোগে আক্রান্ত। এভাবে আমি সুফ্ফায় পৌঁছে গেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলাম যে, তাঁর কাছে দু'খাঞ্চা গোশতের ঝোলমাখা রুটি আনা হয়েছে। তিনি খাঞ্চায় হাজির হওয়ার জন্য সুফফাবাসীকে ডাকলেন এবং তারাও এ থেকে খাবে। আমি ঘাড় উচিয়ে তাকাতে লাগলাম, যাতে আমাকে ডাকে। অবশেষে লোকেরা খেয়ে উঠে গেল এবং খাঞ্চার আশে পাশে লেগে থাকা সামান্য কিছু ব্যতীত খাঞ্চায় তেমন কিছু অবশিষ্ট রইল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেগুলো একত্রিত করলে, তা এক গ্রাস পরিমাণ হল। অতঃপর তিনি সে গ্রাসটি তাঁর অঙ্গুলির উপর রাখলেন এবং আমাকে বললেন, 'বিসমিল্লাহ' বলে খাও। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি সে গ্রাস থেকে খেতে খেতে পরিতৃপ্ত হয়ে গেলাম।
(ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ'এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ'এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5031- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ أَتَت عَليّ ثَلَاثَة أَيَّام لم أطْعم فَجئْت أُرِيد الصّفة فَجعلت أسقط فَجعل الصّبيان يَقُولُونَ جن أَبُو هُرَيْرَة قَالَ فَجعلت أناديهم وَأَقُول بل أَنْتُم المجانين حَتَّى انتهينا إِلَى الصّفة فَوَافَقت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أُتِي بقصعتين من
ثريد فَدَعَا عَلَيْهَا أهل الصّفة وهم يَأْكُلُون مِنْهَا فَجعلت أتطاول كي يدعوني حَتَّى قَامَ الْقَوْم وَلَيْسَ فِي الْقَصعَة إِلَّا شَيْء فِي نواحي الْقَصعَة فَجَمعه رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَصَارَت لقْمَة فَوَضعه على أَصَابِعه فَقَالَ لي كل باسم الله فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ مَا زلت آكل مِنْهَا حَتَّى شبعت
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
ثريد فَدَعَا عَلَيْهَا أهل الصّفة وهم يَأْكُلُون مِنْهَا فَجعلت أتطاول كي يدعوني حَتَّى قَامَ الْقَوْم وَلَيْسَ فِي الْقَصعَة إِلَّا شَيْء فِي نواحي الْقَصعَة فَجَمعه رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَصَارَت لقْمَة فَوَضعه على أَصَابِعه فَقَالَ لي كل باسم الله فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ مَا زلت آكل مِنْهَا حَتَّى شبعت
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩২. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন শাকীকের থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা)-এর সাথে মদীনায় এক বছর অবস্থান করেছি। তিনি আমাকে একদিন- তখন আমরা আয়েশা (রা)-এর হুজরার নিকট ছিলাম-বললেন, আমি নিজেদেরকে এমতাবস্থায় দেখেছি যে, মোটা কাপড় ব্যতিত আমাদের আর কোন কাপড় ছিল না। আমাদের কাপড়ও কারও এমন দিন আসত, যখন সে এতটুকু খাবার পেত না, যদ্দারা সে নিজের পিঠ সোজা করতে পারে। ফলে আমাদের কেউ কেউ পাথর তুলে নিত এবং তা ক্ষুধার্ত পেটে বাঁধত। অতঃপর নিজের পিঠকে সোজা করার জন্য কাপড় দ্বারা তা বেঁধে দিত।
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী।)
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5032- وَعَن عبد الله بن شَقِيق قَالَ أَقمت مَعَ أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ لي ذَات يَوْم وَنحن عِنْد حجرَة عَائِشَة لقد رَأَيْتنَا وَمَا لنا ثِيَاب إِلَّا الأبراد الخشنة وَإنَّهُ ليَأْتِي على أَحَدنَا الْأَيَّام مَا يجد طَعَاما يُقيم بِهِ صلبه حَتَّى إِن كَانَ أَحَدنَا ليَأْخُذ الْحجر فيشد بِهِ على أَخْمص بَطْنه ثمَّ يشده بِثَوْبِهِ ليقيم صلبه
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় সাহাবীদের চেহারায় ক্ষুধার ছাপ প্রত্যক্ষ করে বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা অচিরেই তোমাদের এমন এক সময় আসবে, যখন তোমাদের কারও সম্মুখে সকাল বেলায় গোশতের ঝোল মাখা রুটির এক খাঞ্চা পেশ করা হবে এবং বিকাল বেলায় অনুরূপ আরেক থাক্কা পেশ করা হবে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমরা কি তখন ভাল অবস্থায় থাকব? তিনি বললেন, না, বরং সেদিনকার তুলনায় তোমরা আজ ভালই আছ।
(বাযযার (র) উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বাযযার (র) উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5033- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ نظر رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِلَى الْجُوع فِي وُجُوه أَصْحَابه فَقَالَ أَبْشِرُوا فَإِنَّهُ سَيَأْتِي عَلَيْكُم زمَان يغدى على أحدكُم بالقصعة من الثَّرِيد وَيرَاح عَلَيْهِ بِمِثْلِهَا قَالُوا يَا رَسُول الله نَحن يَوْمئِذٍ خير قَالَ بل أَنْتُم الْيَوْم خير مِنْكُم يَوْمئِذٍ
رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد
رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩৪
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩৪. হযরত আবু বারযা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের এক যুদ্ধাভিযানে ছিলাম। তখন কিছু মুশরিক লোকদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হল। আমরা তাদেরকে তাদের ধর্ম থেকে ফিরে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করলাম। ফলে আমাদেরকে সে জায়গায় অবস্থান করতে হল এবং আমরা সেখান থেকে থাকলাম। আমরা জাহিলিয়্যাতের যুগে শুনতাম, যে রুটি খায় সে মোটা হয়ে যায়। সুতরাং আমরা যখন রুটি খেতে লাগলাম, তখন আমাদের কেউ কেউ মোটা হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য নিজের দু'কাঁধের দিকে তাকাত।
(তাবারানী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী।)
(তাবারানী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5034- وَعَن أبي بَرزَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا فِي غزَاة لنا فلقينا أُنَاسًا من الْمُشْركين فأجهضناهم عَن مِلَّة لَهُم فوقعنا فِيهَا فَجعلنَا نَأْكُل مِنْهَا وَكُنَّا نسْمع فِي الْجَاهِلِيَّة أَنه من أكل الْخبز سمن فَلَمَّا أكلنَا ذَلِك الْخبز جعل أَحَدنَا ينظر فِي عطفيه هَل سمن
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح
أجهضناهم أَي أزلناهم عَنْهَا وأعجلناهم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح
أجهضناهم أَي أزلناهم عَنْهَا وأعجلناهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩৫
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩৫. হযরত জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে কুরায়শে কাফেলার মুকাবিলা করার জন্য পাঠালেন এবং আবু উবায়দা (রা)-কে আমাদের আমীর নিযুক্ত করলেন। আমরা এক বস্তা খেজুর সফরের পাথেয় হিসাবে নিলাম। এছাড়া আমরা আর কিছু পেলাম না। আবু উবায়দা আমাদেরকে একটি একটি করে খেজুর দিতেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হল, তোমরা একটি একটি খেজুর দ্বারা কি কর? সবাই উত্তর দিল, শিশুরা যেমনিভাবে চোষে, তেমনিভাবে আমরা খেজুরটি চুষি। তারপর আমরা কিছু পানি পান করি। এতে আমাদের সারাদিনের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায় এবং আমরা আমাদের লাঠি দ্বারা গাছের পাতা ঝরাতাম। অতঃপর তা ভিজিয়ে খেতাম। এভাবে তিনি অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5035- وَعَن جَابر بن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ بعثنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَأمر علينا أَبَا عُبَيْدَة رَضِي الله عَنهُ نَلْتَقِي عير قُرَيْش وزودنا جرابا من تمر لم نجد لنا غَيره فَكَانَ أَبُو عُبَيْدَة يُعْطِينَا تَمْرَة تَمْرَة فَقيل كَيفَ كُنْتُم تَصْنَعُونَ بهَا قَالُوا نمصها كَمَا يمص الصَّبِي ثمَّ نشرب عَلَيْهَا من المَاء فتكفينا يَوْمنَا إِلَى اللَّيْل وَكُنَّا نضرب بعصينا الْخبط
ثمَّ نبله فنأكله فَذكر الحَدِيث
رَوَاهُ مُسلم
ثمَّ نبله فنأكله فَذكر الحَدِيث
رَوَاهُ مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩৬
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ছিলেন সাতজন। তাদের সবার ক্ষুধা পেয়েছিল। তিনি বলেন: অতঃপর নবী (ﷺ) আমাকে প্রত্যেকের জন্য একটি করে সাতটি খেজুর দিলেন।
(ইবন মাজাহ (র) সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(ইবন মাজাহ (র) সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5036- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَنه أَصَابَهُم جوع وهم سَبْعَة قَالَ فَأَعْطَانِي النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سبع تمرات لكل إِنْسَان تَمْرَة
رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد صَحِيح
رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد صَحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩৭
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩৭. হযরত মুহাম্মদ ইব্ন সীরীন (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর সাহাবীদের মধ্যে কারও তিন দিন কেটে যেত। অথচ তিনি খাওয়ার মত কিছু পেতেন না। তাই চামড়ার টুকরো নিতেন এবং তা সিদ্ধ করে খেতেন। আর যখন কিছুই পেতেন না, তখন একটা পাথর নিতেন এবং তদ্দ্বারা নিজের পিঠ বেঁধে নিতেন।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া 'কিতাবুল জু'-এ উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(ইবন আবিদ-দুনিয়া 'কিতাবুল জু'-এ উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5037- وَعَن مُحَمَّد بن سِيرِين رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن كَانَ الرجل من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَأْتِي عَلَيْهِ ثَلَاثَة أَيَّام لَا يجد شَيْئا يَأْكُلهُ فَيَأْخُذ الْجلْدَة فيشويها فيأكلها فَإِذا لم يجد شَيْئا أَخذ حجرا فَشد صلبه
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الْجُوع بِإِسْنَاد جيد
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الْجُوع بِإِسْنَاد جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩৮
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩৮. হযরত সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমিই সর্বপ্রথম মুজাহিদ, যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি, অথচ হুবলা ও এই রাবল বৃক্ষের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন খাবার ছিল না। ফলে আমাদের কেউ কেউ বকরীর লাদার মত মল ত্যাগ করত, যা জমাটবাঁধা হত না।
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5038- وَعَن سعد بن أبي وَقاص رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِنِّي لأوّل الْعَرَب رمى بِسَهْم فِي سَبِيل الله وَلَقَد كُنَّا نغزو مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا لنا طَعَام إِلَّا ورق الحبلة وَهَذَا السمر حَتَّى إِن كَانَ أَحَدنَا ليضع كَمَا تضع الشَّاة مَا لَهُ خلط
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
الْحَبل بِضَم الْحَاء الْمُهْملَة وَإِسْكَان الْبَاء الْمُوَحدَة
والسمر بِفَتْح السِّين الْمُهْملَة وَضم الْمِيم كِلَاهُمَا من شجر الْبَادِيَة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
الْحَبل بِضَم الْحَاء الْمُهْملَة وَإِسْكَان الْبَاء الْمُوَحدَة
والسمر بِفَتْح السِّين الْمُهْملَة وَضم الْمِيم كِلَاهُمَا من شجر الْبَادِيَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৩৯
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৩৯. হযরত খালিদ ইবন উমায়র আদাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উতবা ইবন গাওয়ান (রা) আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। তখন তিনি ছিলেন বসরার আমীর। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন। অতঃপর বললেন: অতঃপর (বক্তব্য হচ্ছে), দুনিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং দ্রুত মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। পাত্রের তলার সামান্য পানির মত দুনিয়ার কেবল সামান্য অংশই অবশিষ্ট রয়েছে, যা পাত্রের মালিক পান করবে। নিশ্চয় তোমরা এমন জগতে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছ, যা কখনও শেষ হবার নয়। সুতরাং আমাদের কাছে যা রয়েছে, তার মধ্য থেকে উত্তম সাওগাত নিয়ে তোমরা এ জগত থেকে স্থানান্তরিত হও। কেননা, আমাদেরকে একথা বলা হয়েছে যে, জাহান্নামের উপরের কিনারা থেকে একটা পাথর নিক্ষেপ করা হবে এবং সেপাথর সত্তর বছর পর্যন্ত জাহান্নামের গভীরে যেতে থাকবে, তবুও সে জাহান্নামের তলা খুঁজে পাবে না। আল্লাহর কসম, (গুণাহগারদের দ্বারা) তা পূর্ণ করা হবে। তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ? এবং আমাদেরকে আরও বলা হয়েছে যে, জান্নাতের দরজাগুলোতে এক পাট থেকে অপর পাট পর্যন্ত চল্লিশ বছরের দূরত্ব পরিমাণ প্রশস্ত হবে। অথচ এমন এক সময় আসবে যখন সে দরজা লোকের ভিড়ে পূর্ণ থাকবে।
(অতঃপর তিনি নিজের পৃষ্ঠের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ) আমি নিজেকে এমতাবস্থায় দেখেছি, যখন আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাত সহচরের একজন ছিলাম। তখন গাছের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন খাবার ছিল না। ফলে (গাছের পাতা খেতে খেতে) আমাদের মুখের কিনারায় ঘা হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাক্রমে আমি একটি চাদর পেয়ে গেলাম এবং চাদরটি আমি ও সা'দ ইবন মালিক আধাআধি ভাগ করে নিলাম। আমি অর্ধেক পরিধান করলাম এবং সা'দ অর্ধেক পরিধান করল। আজ আমাদের (সেই সাতজনের) মধ্যে এমন কেউ নেই, যে কোন না কোন দেশের আমীর নয়। অতঃপর আমি নিজের কাছে বড় হওয়া এবং আল্লাহর কাছে খাটো হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করছি।
(মুসলিম (র) প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(অতঃপর তিনি নিজের পৃষ্ঠের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ) আমি নিজেকে এমতাবস্থায় দেখেছি, যখন আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাত সহচরের একজন ছিলাম। তখন গাছের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন খাবার ছিল না। ফলে (গাছের পাতা খেতে খেতে) আমাদের মুখের কিনারায় ঘা হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাক্রমে আমি একটি চাদর পেয়ে গেলাম এবং চাদরটি আমি ও সা'দ ইবন মালিক আধাআধি ভাগ করে নিলাম। আমি অর্ধেক পরিধান করলাম এবং সা'দ অর্ধেক পরিধান করল। আজ আমাদের (সেই সাতজনের) মধ্যে এমন কেউ নেই, যে কোন না কোন দেশের আমীর নয়। অতঃপর আমি নিজের কাছে বড় হওয়া এবং আল্লাহর কাছে খাটো হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করছি।
(মুসলিম (র) প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5039- وَعَن خَالِد بن عُمَيْر الْعَدوي قَالَ خَطَبنَا عتبَة بن غَزوَان رَضِي الله عَنهُ وَكَانَ أَمِيرا بِالْبَصْرَةِ فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ أما بعد فَإِن الدُّنْيَا قد آذَنت بِصرْم وَوَلَّتْ حذاء وَلم يبْق مِنْهَا إِلَّا صبَابَة كَصُبَابَةِ الْإِنَاء يتصابها صَاحبهَا وَإِنَّكُمْ منتقلون مِنْهَا إِلَى دَار لَا زَوَال لَهَا فانتقلوا بِخَير مَا بحضرتكم فَإِنَّهُ قد ذكر لنا أَن الْحجر يلقى من شَفير جَهَنَّم فَيهْوِي فِيهَا سبعين عَاما لَا يدْرك لَهَا قعرا وَالله لتملأن أفعجبتم وَلَقَد ذكر لنا أَن مَا بَين مصراعين من مصاريع الْجنَّة مسيرَة أَرْبَعِينَ عَاما وليأتين عَلَيْهِ يَوْم وَهُوَ كظيظ من الزحام وَلَقَد رَأَيْتنِي سَابِع سَبْعَة مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا لنا طَعَام إِلَّا ورق الشّجر حَتَّى قرحت أشداقنا فالتقطت بردة فشققتها بيني وَبَين سعد بن مَالك فاتزرت بِنِصْفِهَا وأتزر سعد بِنِصْفِهَا فَمَا أصبح الْيَوْم منا أحد إِلَّا أصبح أَمِيرا على مصر من الْأَمْصَار وَإِنِّي أعوذ بِاللَّه أَن أكون فِي نَفسِي عَظِيما وَعند الله صَغِيرا
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
آذَنت بِمد الْألف أَي أعلمت
بِصرْم هُوَ بِضَم الصَّاد وَإِسْكَان الرَّاء بِانْقِطَاع وفناء
حذاء هُوَ بحاء مُهْملَة مَفْتُوحَة ثمَّ ذال مُعْجمَة مُشَدّدَة ممدودا يَعْنِي سريعة
والصبابة بِضَم الصَّاد هِيَ الْبَقِيَّة الْيَسِيرَة من الشَّيْء
يتصابها بتَشْديد الْمُوَحدَة قبل الْهَاء أَي يجمعها
والكظيظ بِفَتْح الْكَاف وظاءين معجمتين هُوَ الْكثير الممتلىء
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
آذَنت بِمد الْألف أَي أعلمت
بِصرْم هُوَ بِضَم الصَّاد وَإِسْكَان الرَّاء بِانْقِطَاع وفناء
حذاء هُوَ بحاء مُهْملَة مَفْتُوحَة ثمَّ ذال مُعْجمَة مُشَدّدَة ممدودا يَعْنِي سريعة
والصبابة بِضَم الصَّاد هِيَ الْبَقِيَّة الْيَسِيرَة من الشَّيْء
يتصابها بتَشْديد الْمُوَحدَة قبل الْهَاء أَي يجمعها
والكظيظ بِفَتْح الْكَاف وظاءين معجمتين هُوَ الْكثير الممتلىء
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৪০
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৪০. হযরত আবু মুসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন আমাদের নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম, তখন যদি তুমি আমাদেরকে দেখতে, তবে ধারণা করতে যে, আমাদের পায়ের গন্ধ ছিল ভেড়ার গন্ধের মত, আমাদের পোষাক ছিল পশমের তৈরী এবং আমাদের খাবার ছিল দু'টি কালো বস্তু খেজুর ও পানি।
('তাবারানী 'আল আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ্ হাদীসের রাবী। তিরমিযী প্রমুখের রিওয়ায়েতে আমাদের পোষাক টা থেকে পরবর্তী অংশটুকু নেই। হাদীসটি লেবাস অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
('তাবারানী 'আল আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ্ হাদীসের রাবী। তিরমিযী প্রমুখের রিওয়ায়েতে আমাদের পোষাক টা থেকে পরবর্তী অংশটুকু নেই। হাদীসটি লেবাস অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5040- وَعَن أبي مُوسَى رَضِي الله عَنهُ قَالَ لَو رَأَيْتنَا وَنحن مَعَ نَبينَا صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لحسبت أَنما ريحنا الضَّأْن إِنَّمَا لباسنا الصُّوف وطعامنا الأسودان التَّمْر وَالْمَاء
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَهُوَ فِي التِّرْمِذِيّ وَغَيره دون قَوْله إِنَّمَا لباسنا إِلَى آخِره
وَتقدم فِي اللبَاس
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَهُوَ فِي التِّرْمِذِيّ وَغَيره دون قَوْله إِنَّمَا لباسنا إِلَى آخِره
وَتقدم فِي اللبَاس
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৪১
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৪১. হযরত খাব্বার ইব্ন আরাত্তি (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে হিজরত করেছি। ফলে আমরা আল্লাহ্ তা'আলার কাছে সাওয়াবের ভাগী হয়েছি। তবে আমাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা তাঁদের কোন পুরস্কার ভোগ করে যেতে পারেনি। তন্মধ্যে একজন মুস'আব ইবন উমায়র। তিনি উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। আমরা একটি চাদর ব্যতীত তাঁকে দাফন করার মত কোন কাপড় পেলাম না। যখন আমরা চাদরটি দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকতাম, তার পা দু'টি খুলে যেত, আর যখন তাঁর দু'পা দুটি ঢাকতাম, তাঁর মাথা খুলে যেত। সুতরাং তাঁর মাথা ঢেকে দিয়ে দু'পায়ের উপর 'ইযখির' নামক ঘাস দিয়ে দিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দেন। পক্ষান্তরে আমাদের মধ্য থেকে কারও কারও ফল পরিপক্ক হয়েছে। ফলে সে তা কাটছে।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও আবু দাউদ সংক্ষিপ্তকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও আবু দাউদ সংক্ষিপ্তকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5041- وَعَن خباب بن الْأَرَت رَضِي الله عَنهُ قَالَ هاجرنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نلتمس وَجه الله فَوَقع أجرنا على الله فمنا من مَاتَ لم يَأْكُل من أجره شَيْئا مِنْهُم مُصعب بن عُمَيْر قتل يَوْم أحد فَلم نجد مَا نكفنه بِهِ إِلَّا بردة إِذا غطينا بهَا رَأسه خرجت رِجْلَاهُ وَإِذا غطينا رجلَيْهِ خرج رَأسه فَأمرنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن نغطي رَأسه وَأَن نجْعَل على رجلَيْهِ من الْإِذْخر وَمنا من أينعت لَهُ ثَمَرَته فَهُوَ يهدبها
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد بِاخْتِصَار
الْبردَة كسَاء مخطط من صوف وَهِي النمرة
أينعت بياء مثناة تَحت بعد الْهمزَة أَي أدْركْت ونضجت
يهدبها بِضَم الدَّال الْمُهْملَة وَكسرهَا بعْدهَا بَاء مُوَحدَة أَي يقطعهَا ويجنيها
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد بِاخْتِصَار
الْبردَة كسَاء مخطط من صوف وَهِي النمرة
أينعت بياء مثناة تَحت بعد الْهمزَة أَي أدْركْت ونضجت
يهدبها بِضَم الدَّال الْمُهْملَة وَكسرهَا بعْدهَا بَاء مُوَحدَة أَي يقطعهَا ويجنيها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৪২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৪২. হযরত ইব্রাহীম অর্থাৎ ইবন আশতার থেকে বর্ণিত আছে যে, 'রাবাযা' নামক স্থানে যখন আবু যার (রা)-এর মৃত্যুর সময় উপনীত হল, তখন তাঁর স্ত্রী কেঁদে ফেললেন এ দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন হে? উত্তরে তাঁর স্ত্রী বললেন, আমি কাঁদছি, তার কারণ আপনাকে রক্ষা করার মত আমার কোন ক্ষমতা নেই এবং আমার কাছে এতটুকু কাপড়ও নেই, যার দ্বারা আপনার কাফনের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। তিনি বললেন, তুমি কেঁদো না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্য থেকে একজন এক মরুভূমিতে মৃত্যুবরণ করবে। তার সালাতে জানাযায় হাযির হবে মু'মিনদের একটি দল। তিনি বলেন, সে মজলিসে আমার সাথে যারা ছিল, সবাই ইতিমধ্যেই জনপদেও লোকারণ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। আমি ব্যতীত তাদের মধ্যে আজ আর কেউই বেঁচে নেই। অথচ আমিই আজ মরুভূমিতে মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছিল। সুতরাং তুমি পথ চেয়ে থাক। নিশ্চয় তুমি অনতিবিলম্বে আমি যা বলছি, তা প্রত্যক্ষ করবে। কেননা আল্লাহর কসম, আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমাকে কখনও মিথ্যাবাদী বলা হয়নি। তাঁর স্ত্রী বললেন, এটা কীভাবে হবে, হজ্জযাত্রীদের গমানাগমন তো বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি (তবুও) বললেন, তুমি পথ চেয়ে থাক। তিনি বলেন, তিনি এভাবেই অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় দেখা গেল যে, একদল লোক নিয়ে তাদের বাহন জড়গুলো পাখির পালের মত ছুটে আসছে। লোকগুলো এগিয়ে এসে মহিলাটির কাছে এসে দাঁড়াল এবং জিজ্ঞেস করল, তুমি কি চাও? উত্তরে তাঁর স্ত্রী বললেন, তোমরা কি একজন মুসলমানের দাফন কাফনের ব্যবস্থা করবে এবং তজ্জন্য সাওয়াবের ভাগী হবে? তারা জিজ্ঞেস করল, সে লোকটি কে? মহিলা উত্তরে বললেনঃ আবু যার। তখন তারা আবু যার (রা)-এর নামে তাদের পিতামাতা উৎসর্গিত হোন বলল এবং তাদের চাবুকগুলো বাহনজন্ডুর গলায় ঝুলিয়ে রেখে তাঁকে দেখার জন্য দ্রুত অগ্রসর হল। তখন তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমরা সেই দল, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভবিষ্যাদ্বাণী রয়েছে। যাহোক আজ আমি এ অবস্থায় উপনীত হয়েছি, যা তোমরা দেখছ। যদি আমার কোন একটি কাপড় এতটুকু থাকত, যদ্দ্বারা আমার কাফন সম্পন্ন হতে পারে, তবে তা-দিয়েই আমার কাফন সম্পন্ন করা হত। সুতরাং আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তোমাদের মধ্য থেকে এমন কেউ আমার কাফনের কাপড় দেবে না, যে কোন গোত্রপতি অথবা আমীর অথবা বার্তাবাহক ছিল। আগত লোকদের মধ্যে এক আনসার যুবক ব্যতীত সকলেই এসব দায়িত্ব থেকে কোন না কোন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যুবকটি আগত লোকদের সাথেই ছিল। সে বলল, আমিই আপনার বন্ধু। আমার মায়ের কাটা সুতোয় তৈরী দু'টো কাপড় আমার থলিতে রয়েছে। আর একটি হচ্ছে আমার গায়ের দু'টি কাপড়ের একটি। তিনি বলেন, তুমিই আমার বন্ধু।
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা তাঁরই বর্ণিত। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী। বাযযার ও সংক্ষিপ্তাকারে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা তাঁরই বর্ণিত। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী। বাযযার ও সংক্ষিপ্তাকারে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5042- وَعَن إِبْرَاهِيم يَعْنِي ابْن الأشتر أَن أَبَا ذَر حَضَره الْمَوْت وَهُوَ بالربذة فَبَكَتْ
امْرَأَته فَقَالَ مَا يبكيك فَقَالَت أبْكِي فَإِنَّهُ لَا يَد لي بِنَفْسِك وَلَيْسَ عِنْدِي ثوب يسع لَك كفنا قَالَ لَا تبْكي فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول ليموتن رجل مِنْكُم بفلاة من الأَرْض يشهده عِصَابَة من الْمُؤمنِينَ قَالَ فَكل من كَانَ معي فِي ذَلِك الْمجْلس مَاتَ فِي جمَاعَة وقرية فَلم يبْق مِنْهُم غَيْرِي وَقد أَصبَحت بالفلاة أَمُوت فراقبي الطَّرِيق فَإنَّك سَوف تَرين مَا أَقُول فَإِنِّي وَالله مَا كذبت وَلَا كذبت
قَالَت وأنى ذَلِك وَقد انْقَطع الْحَاج قَالَ راقبي الطَّرِيق
قَالَ فَبينا هِيَ كَذَلِك إِذا هِيَ بالقوم تخب بهم رواحلهم كَأَنَّهُمْ الرخم فَأقبل الْقَوْم حَتَّى وقفُوا عَلَيْهَا فَقَالُوا مَا لَك فَقَالَت امْرُؤ من الْمُسلمين تكفنوه وتؤجروا فِيهِ قَالُوا وَمن هُوَ قَالَت أَبُو ذَر ففدوه بآبائهم وأمهاتهم وَوَضَعُوا سياطهم فِي نحورها يبتدرونه فَقَالَ أَبْشِرُوا فَإِنَّكُم النَّفر الَّذين قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِيكُم مَا قَالَ ثمَّ أَصبَحت الْيَوْم حَيْثُ ترَوْنَ وَلَو أَن لي ثوبا من ثِيَابِي يسع كفني لم أكفن إِلَّا فِيهِ فأنشدكم بِاللَّه لَا يكفنني رجل مِنْكُم كَانَ عريفا أَو أَمِيرا أَو بريدا فَكل الْقَوْم قد نَالَ من ذَلِك شَيْئا إِلَّا فَتى من الْأَنْصَار وَكَانَ مَعَ الْقَوْم قَالَ أَنا صَاحبك ثَوْبَان فِي عيبتي من غزل أُمِّي وَأحد ثوبي هذَيْن اللَّذين عَليّ
قَالَ أَنْت صَاحِبي
رَوَاهُ أَحْمد وَاللَّفْظ لَهُ وَرِجَاله رجال الصَّحِيح وَالْبَزَّار بِنَحْوِهِ بِاخْتِصَار
العيبة بِفَتْح الْعين الْمُهْملَة وَإِسْكَان الْمُثَنَّاة تَحت بعْدهَا مُوَحدَة هِيَ مَا يَجْعَل الْمُسَافِر فِيهَا ثِيَابه
امْرَأَته فَقَالَ مَا يبكيك فَقَالَت أبْكِي فَإِنَّهُ لَا يَد لي بِنَفْسِك وَلَيْسَ عِنْدِي ثوب يسع لَك كفنا قَالَ لَا تبْكي فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول ليموتن رجل مِنْكُم بفلاة من الأَرْض يشهده عِصَابَة من الْمُؤمنِينَ قَالَ فَكل من كَانَ معي فِي ذَلِك الْمجْلس مَاتَ فِي جمَاعَة وقرية فَلم يبْق مِنْهُم غَيْرِي وَقد أَصبَحت بالفلاة أَمُوت فراقبي الطَّرِيق فَإنَّك سَوف تَرين مَا أَقُول فَإِنِّي وَالله مَا كذبت وَلَا كذبت
قَالَت وأنى ذَلِك وَقد انْقَطع الْحَاج قَالَ راقبي الطَّرِيق
قَالَ فَبينا هِيَ كَذَلِك إِذا هِيَ بالقوم تخب بهم رواحلهم كَأَنَّهُمْ الرخم فَأقبل الْقَوْم حَتَّى وقفُوا عَلَيْهَا فَقَالُوا مَا لَك فَقَالَت امْرُؤ من الْمُسلمين تكفنوه وتؤجروا فِيهِ قَالُوا وَمن هُوَ قَالَت أَبُو ذَر ففدوه بآبائهم وأمهاتهم وَوَضَعُوا سياطهم فِي نحورها يبتدرونه فَقَالَ أَبْشِرُوا فَإِنَّكُم النَّفر الَّذين قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِيكُم مَا قَالَ ثمَّ أَصبَحت الْيَوْم حَيْثُ ترَوْنَ وَلَو أَن لي ثوبا من ثِيَابِي يسع كفني لم أكفن إِلَّا فِيهِ فأنشدكم بِاللَّه لَا يكفنني رجل مِنْكُم كَانَ عريفا أَو أَمِيرا أَو بريدا فَكل الْقَوْم قد نَالَ من ذَلِك شَيْئا إِلَّا فَتى من الْأَنْصَار وَكَانَ مَعَ الْقَوْم قَالَ أَنا صَاحبك ثَوْبَان فِي عيبتي من غزل أُمِّي وَأحد ثوبي هذَيْن اللَّذين عَليّ
قَالَ أَنْت صَاحِبي
رَوَاهُ أَحْمد وَاللَّفْظ لَهُ وَرِجَاله رجال الصَّحِيح وَالْبَزَّار بِنَحْوِهِ بِاخْتِصَار
العيبة بِفَتْح الْعين الْمُهْملَة وَإِسْكَان الْمُثَنَّاة تَحت بعْدهَا مُوَحدَة هِيَ مَا يَجْعَل الْمُسَافِر فِيهَا ثِيَابه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৪৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৪৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সত্তরজন সুফাবাসীকে দেখেছি। তাদের কারও গায়ে চাদর ছিল না। হয়ত কেবল একটি লুঙ্গি, নতুবা কেবল একটি কাপড়, যা তাঁরা তাদের ঘাড়ের উপর বেঁধে রাখত। তন্মধ্যে কোনটি পায়ের গোছার অর্ধেক পর্যন্ত পৌছত, আর কোনটি পায়ের গিট পর্যন্ত পৌছত এবং পরিধানকারী ছতর খুলে যাওয়ার ভয়ে উক্ত কাপড়কে মুঠ করে ধরে রাখত।
(বুখারী ও হাকিম সংক্ষিপ্তকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, এ হাদীস বুখারী মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ্।)
(বুখারী ও হাকিম সংক্ষিপ্তকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, এ হাদীস বুখারী মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ্।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5043- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ لقد رَأَيْت سبعين من أهل الصّفة مَا مِنْهُم رجل عَلَيْهِ رِدَاء إِمَّا إِزَار وَإِمَّا كسَاء قد ربطوا فِي أَعْنَاقهم مِنْهَا مَا يبلغ نصف السَّاقَيْن وَمِنْهَا مَا يبلغ الْكَعْبَيْنِ فيجمعه بِيَدِهِ كَرَاهِيَة أَن ترى عَوْرَته
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالْحَاكِم مُخْتَصرا وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالْحَاكِم مُخْتَصرا وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৪৪
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৪৪. হযরত উতবা ইবনে আব্দুস সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (একদা) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
-এর কাছে পরণের কাপড় চাইলাম। তখন তিনি আমাকে দু'টো মোটা কাপড় দিলেন। এরপর আমি লক্ষ্য করলাম যে আমিই আমার সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাপড়ের অধিকারী।
(আবু দাউদ (র) ইসমাঈল ইব্ন আয়্যাশের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। )
-এর কাছে পরণের কাপড় চাইলাম। তখন তিনি আমাকে দু'টো মোটা কাপড় দিলেন। এরপর আমি লক্ষ্য করলাম যে আমিই আমার সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাপড়ের অধিকারী।
(আবু দাউদ (র) ইসমাঈল ইব্ন আয়্যাশের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। )
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5044- وَعَن عتبَة بن عبد السّلمِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ استكسيت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فكساني خيشتين فَلَقَد رَأَيْتنِي وَأَنا أكسى أَصْحَابِي
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد من رِوَايَة إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش
الخيشة بِفَتْح الْخَاء الْمُعْجَمَة وَإِسْكَان الْمُثَنَّاة تَحت بعْدهَا شين مُعْجمَة هُوَ ثوب يتَّخذ من مشاقة الْكَتَّان يغزل غليظا وينسج رَقِيقا
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد من رِوَايَة إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش
الخيشة بِفَتْح الْخَاء الْمُعْجَمَة وَإِسْكَان الْمُثَنَّاة تَحت بعْدهَا شين مُعْجمَة هُوَ ثوب يتَّخذ من مشاقة الْكَتَّان يغزل غليظا وينسج رَقِيقا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৪৫
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৪৫. হযরত ইয়াহইয়া ইবন জা'দা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু সাহাবী খাব্বাব (রা)-কে রুগ্নাবস্থায় দেখতে গেলেন। তখন তাঁরা বললেন, হে আবু আবদুল্লাহ। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। তুমি তো হাওযে কাওসার এ মুহাম্মদ (ﷺ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। উত্তরে তিনি বললেন, এসব সত্ত্বেও এটা কি করে সম্ভব? এবলে তিনি ঘরের উপর তলা ও নিচ তলার প্রতি ইঙ্গিত করলেন। অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)
বলেছেন, নিশ্চয় মুসাফিরের পাথেয় সমপরিমাণ সামগ্রীই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে।
(আবু ইয়া'লা ও তাবারানী উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
বলেছেন, নিশ্চয় মুসাফিরের পাথেয় সমপরিমাণ সামগ্রীই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে।
(আবু ইয়া'লা ও তাবারানী উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5045- وَعَن يحيى بن جعدة قَالَ عَاد خبابا نَاس من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالُوا أبشر يَا أَبَا عبد الله ترد على مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الْحَوْض فَقَالَ كَيفَ بِهَذَا وَأَشَارَ إِلَى أَعلَى الْبَيْت وأسفله وَقد قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِنَّمَا يَكْفِي أحدكُم كزاد الرَّاكِب
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০৪৬
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০৪৬. হযরত আবু ওয়াইল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'আবিয়া (রা) আবু হাশিম ইবন উতবাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গেলেন। তখন তাঁকে তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পেল তাই তিনি তাঁকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে মামাজান! আপনি কাঁদছেন কেন? কোন রকম দৈহিক ব্যাথা আপনাকে অস্থির করে তুলছে, না-কি দুনিয়ার প্রতি মোহ? উত্তরে তিনি বললেন, না, কখনও নয়। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছ থেকে এমন একটি প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন, যা আমরা পূর্ণ করিনি। মু'আবিয়া (রা) জিজ্ঞেস করলেন, সেটা কি? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি নিশ্চয় একটি ভৃত্য এবং আল্লাহর পথে একটি বাহনজন্তু সম্পদ সঞ্চয় হিসাবে যথেষ্ট। অথচ আজ আমি নিজেকে দেখতে পাচ্ছি যে, আমি (আরও বেশি) সঞ্চয় করে রেখেছি।
(তিরমিযী ও নাসাঈ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাও আবু ওয়াইল-এর সনদে সামুরা ইবন সাহম-এর সূত্রে তাঁরই গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেন নি। উক্ত রিওয়ায়েতে তিনি বলেন, আমি আবু হাশিম ইবন উতবার কাছে উপনীত হলাম। দেখি, তাঁর কাছে মু'আবিয়া (রা) এলেন।..... অতঃপর তিনি পূর্ববৎ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইবন হিব্বান ও সামুরা ইব্ন সাহম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আবু হাশিম ইবন উতবার কাছে উপনীত হলাম। তিনি ছিলেন তখন প্লেগ মহামারীতে আক্রান্ত। এমন সময় মু'আবিয়া (রা) তাঁর কাছে গেলেন...... অতঃপর তিনি হাদীসের অবশিষ্টাংশ বর্ণনা করেছেন। রাযীন ও হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তাতে তিনি এতটুকু অংশ বেশি উদ্বৃত্ত করেছেন। অতঃপর যখন তিনি ইনতিকাল করলেন, তখন তাঁর পরিত্যক্ত সম্পদ হিসাব করা হল, দেখা গেল, সর্বসাকুল্যে ত্রিশ দিরহাম। এ হিসাবে তাঁর থালাটিও ধরা হয়েছে যাতে তিনি আহারও খেতেন।)
(তিরমিযী ও নাসাঈ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাও আবু ওয়াইল-এর সনদে সামুরা ইবন সাহম-এর সূত্রে তাঁরই গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেন নি। উক্ত রিওয়ায়েতে তিনি বলেন, আমি আবু হাশিম ইবন উতবার কাছে উপনীত হলাম। দেখি, তাঁর কাছে মু'আবিয়া (রা) এলেন।..... অতঃপর তিনি পূর্ববৎ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইবন হিব্বান ও সামুরা ইব্ন সাহম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আবু হাশিম ইবন উতবার কাছে উপনীত হলাম। তিনি ছিলেন তখন প্লেগ মহামারীতে আক্রান্ত। এমন সময় মু'আবিয়া (রা) তাঁর কাছে গেলেন...... অতঃপর তিনি হাদীসের অবশিষ্টাংশ বর্ণনা করেছেন। রাযীন ও হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তাতে তিনি এতটুকু অংশ বেশি উদ্বৃত্ত করেছেন। অতঃপর যখন তিনি ইনতিকাল করলেন, তখন তাঁর পরিত্যক্ত সম্পদ হিসাব করা হল, দেখা গেল, সর্বসাকুল্যে ত্রিশ দিরহাম। এ হিসাবে তাঁর থালাটিও ধরা হয়েছে যাতে তিনি আহারও খেতেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5046- وَعَن أبي وَائِل قَالَ جَاءَ مُعَاوِيَة إِلَى أبي هَاشم بن عتبَة وَهُوَ مَرِيض يعودهُ فَوَجَدَهُ يبكي فَقَالَ يَا خَال مَا يبكيك أوجع يشئزك أم حرص على الدُّنْيَا قَالَ كلا وَلَكِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عهد إِلَيْنَا عهدا لم نَأْخُذ بِهِ قَالَ وَمَا ذَاك قَالَ سمعته يَقُول إِنَّمَا يَكْفِي من جمع المَال خَادِم ومركب فِي سَبِيل الله وأجدني الْيَوْم قد جمعت
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن أبي وَائِل عَن سَمُرَة بن سهم عَن رجل من قومه لم يسمه قَالَ نزلت على أبي هَاشم بن عتبَة فَجَاءَهُ مُعَاوِيَة فَذكر الحَدِيث بِنَحْوِهِ
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن سَمُرَة بن سهم قَالَ نزلت على أبي هَاشم بن عتبَة وَهُوَ مطعون فَأَتَاهُ مُعَاوِيَة فَذكر الحَدِيث
وَذكره رزين فَزَاد فِيهِ فَلَمَّا مَاتَ حصر مَا خلف فَبلغ ثَلَاثِينَ درهما وحسبت فِيهِ الْقَصعَة الَّتِي كَانَ يعجن فِيهَا وفيهَا يَأْكُل
يشئزك بشين مُعْجمَة ثمَّ همزَة مَكْسُورَة وزاي أَي يقلقك وَزنه وَمَعْنَاهُ
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن أبي وَائِل عَن سَمُرَة بن سهم عَن رجل من قومه لم يسمه قَالَ نزلت على أبي هَاشم بن عتبَة فَجَاءَهُ مُعَاوِيَة فَذكر الحَدِيث بِنَحْوِهِ
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن سَمُرَة بن سهم قَالَ نزلت على أبي هَاشم بن عتبَة وَهُوَ مطعون فَأَتَاهُ مُعَاوِيَة فَذكر الحَدِيث
وَذكره رزين فَزَاد فِيهِ فَلَمَّا مَاتَ حصر مَا خلف فَبلغ ثَلَاثِينَ درهما وحسبت فِيهِ الْقَصعَة الَّتِي كَانَ يعجن فِيهَا وفيهَا يَأْكُل
يشئزك بشين مُعْجمَة ثمَّ همزَة مَكْسُورَة وزاي أَي يقلقك وَزنه وَمَعْنَاهُ
তাহকীক: