আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৯৩ টি
হাদীস নং: ৪৮৪৭
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৪৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দরিদ্র মুসলমানগণ ধণীদের (পরকালের) অর্ধ দিবস পূর্বে যা (দুনিয়ার) পাঁচশ' বছরের সমান-জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(তিরমিযী ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ্।
[হাফিয (র) বলেন:] এ হাদীসের সকল রাবী সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি কিছুটা বর্ধিত কলেবরে মূসা ইব্ন উবায়দা'র সূত্রে আব্দুল্লাহ ইব্ন দিনারের মধ্যস্থতায় আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(তিরমিযী ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ্।
[হাফিয (র) বলেন:] এ হাদীসের সকল রাবী সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি কিছুটা বর্ধিত কলেবরে মূসা ইব্ন উবায়দা'র সূত্রে আব্দুল্লাহ ইব্ন দিনারের মধ্যস্থতায় আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন।
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4847- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يدْخل فُقَرَاء الْمُسلمين الْجنَّة قبل الْأَغْنِيَاء بِنصْف يَوْم وَهُوَ خَمْسمِائَة عَام
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح
قَالَ الْحَافِظ وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه بِزِيَادَة من حَدِيث مُوسَى بن عُبَيْدَة عَن عبد الله بن دِينَار عَن عبد الله بن عمر
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح
قَالَ الْحَافِظ وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه بِزِيَادَة من حَدِيث مُوسَى بن عُبَيْدَة عَن عبد الله بن دِينَار عَن عبد الله بن عمر
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৪৮
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৪৮. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতের দরজায় দুই মু'মিন ব্যক্তি সাক্ষাৎ করবে, তাদের একজন দুনিয়ায় ধনী ও অপরজন দরিদ্র ছিল। দরিদ্র লোকটিকে জান্নাতে দাখিল করা হবে, আর ধনী লোকটিকে আটকিয়ে রাখা হবে, যে পর্যন্ত আল্লাহ্ আটকিয়ে রাখতে ইচ্ছা করেন। অতঃপর তাকে জান্নাতে দাখিল করা হবে। তখন দরিদ্র লোকটি তার সাথে সাক্ষাৎ করে বলবে, হে আমার ভাই, কোন বিষয়টি তোমাকে আটকিয়ে রেখে দিল? আল্লাহর কসম। তুমি যে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলে, তাতে আমি তোমার জন্য আশঙ্কা করেছিলাম। উত্তরে সে বলবে: হে আমার ভাই! আমি তোমার সাথে সাক্ষাতের পর এক অপমানজনক ও বিরক্তিকর বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম। তোমার নিকট পৌছতে আমার শরীর থেকে এত ঘাত ঝরেছে যে, যদি তিক্ত ও লবণাক্ত ঘাস ভক্ষণকারী পুরো এক হাজার উট তা পান করার জন্য অবতীর্ণ হত, তবে তারাও তা পান করে পরিতৃপ্ত হয়ে ফিরে যেত।
(আহমাদ হাদীসটি একটি উত্তম ও শক্তিশালী সনদে বর্ণনা করেছেন।)
(আহমাদ হাদীসটি একটি উত্তম ও শক্তিশালী সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4848- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم التقى مُؤْمِنَانِ على بَاب الْجنَّة مُؤمن غَنِي وَمُؤمن فَقير كَانَا فِي الدُّنْيَا فَأدْخل الْفَقِير الْجنَّة وَحبس الْغَنِيّ مَا شَاءَ الله أَن يحبس ثمَّ أَدخل الْجنَّة فَلَقِيَهُ الْفَقِير فَقَالَ يَا أخي مَاذَا حَبسك وَالله لقد حبست حَتَّى خفت عَلَيْك فَيَقُول يَا أخي إِنِّي حبست بعْدك محبسا فظيعا كريها مَا وصلت إِلَيْك حَتَّى سَالَ مني من الْعرق مَا لَو ورده ألف بعير كلهَا أَكلَة حمض النَّبَات لصدرت عَنهُ رواء
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد قوي
الحمض مَا ملح وَأمر من النَّبَات
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد قوي
الحمض مَا ملح وَأمر من النَّبَات
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৪৯
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৪৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবন আবি আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের কাছে গেলেন তখন তাঁরা পুরোপুরি একাগ্রচিত্তে বসা ছিলেন। তিনি বলেন, আমি গতরাত্রে জান্নাতে তোমাদের স্থান ও তোমাদের স্থানের, আশপাশ প্রত্যক্ষ করেছি। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, হে আবু বকর! আমি এক ব্যক্তিকে চিনি, যার নাম ও তার পিতামাতার নাম আমি জানি। সে জান্নাতের যে দরজা দিয়েই প্রবেশ করলো (ফিরিশতাগণ) বললোঃ মারহাবা! মারহাবা! সালমান বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। ইনিই কি সেই উঁচু মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি? জবাবে তিনি বললেন। তিনি আবু বকর ইবন আবু কুহাফা। তারপর তিনি উমর (রা)-এর দিকে ফিরে বলেন, হে উমর। আমি জান্নাতে শ্বেত মুক্তার একটি প্রাসাদ দেখেছি। তার মুক্তাগুলো অতি শুভ্র, স্বর্ণের আস্তরকৃত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ প্রাসাদটি কার? উত্তরে বলা হল, কুরায়শের এক যুবকের। তখন আমি ধারণা করলাম যে, প্রাসাদটি বুঝি আমারই জন্যে। সুতরাং আমি তাতে প্রবেশ করতে উদ্যত হলাম। তখন (আমাকে) বলল, হে মুহাম্মদ। এ প্রাসাদটি উমর ইবন খাত্তাবের জন্য। হে আবু হাফ্স! একমাত্র তোমার আত্মমর্যাদাবোধই তাতে প্রবেশ করতে আমাকে বাধা দিয়েছে। তখন হযরত উমর (রা) কেঁদে দিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান! আপনার ব্যাপারেও কি আমি কিছু মনে করতে পারি? এরপর উসমান (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, হে উসমান! নিশ্চয় প্রত্যেক নবীর জন্য জান্নাতে একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে। আর তুমি হলে আমার জান্নাতের সেই অন্তরঙ্গ বন্ধু।
তারপর তিনি আলী (রা)-এর হাত ধরে বললেন, হে আলী! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতে তোমার স্থান আমার স্থানের মুখোমুখি হবে। এরপর তালহা ও যুবায়র (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, হে তালহা ও যুবায়র। নিশ্চয় প্রত্যেক নবীর নিষ্ঠাবান সহচর থাকে। আর তোমরা দু'জন হচ্ছে আমার নিষ্ঠাবান সহচর।
তারপর তিনি আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, আমার সাহাবীদের মধ্যে তোমাকে আমাদের সামনে বিলম্বে পেশ করা হল। ফলে আমি আশংকা করলাম যে, তুমি কি ধ্বংস হয়ে গেলে এবং আমি ভীষণ ঘর্মাক্ত হয়ে গেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কেন বিলম্ব করলে হে! তখন তুমি বললে, আমার অধিক সম্পদের কারণে আমি এ পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত ও হিসাব-নিকাশের সম্মুখীন রয়েছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার সম্পদ আমি কোথা থেকে উপার্জন করেছি এবং কোথায় ব্যয় করেছি, সে ব্যাপারে আমি জিজ্ঞাসিত হয়েছি। তখন আব্দুর রহমান (রা) কেঁদে দিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। এই একশ' উট আজ রাত্রে মিসরের ব্যবসা থেকে আমার কাছে এসেছে। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, এগুলো মদীনার দরিদ্র ইয়াতীমদের জন্য সাদাকা। যাতে আল্লাহ তা'আলা সেদিন আমার বোঝা হাল্কা করে দেন।
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের উল্লিখিত ভাষা তাঁরই বর্ণিত। তাবারানীও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আম্মার ইবন সায়ফ ব্যতীত হাদীসটি সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য। আবার কেউ কেউ তাঁরও নির্ভরযোগ্যতা স্বীকার করেছেন।)
[হাফিয (র) বলেনঃ] হাদীসটি একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। একদল সাহাবায়ে কিরামের সূত্রে নবী থেকে বর্ণিত আছে যে, "আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর অধিক সম্পদের কারণে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।" কিন্তু তন্মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট রিওয়ায়েতটিও আপত্তিমুক্ত নয় এবং এসব রিওয়ায়েতের কোনটিই স্বতন্ত্রভাবে 'হাসান'-এর মর্যাদায় পৌছে নি। হযরত আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর সম্পদ ছিল ঠিক তেমনি, যেমন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বর্ণনা দিয়েছেনঃ "সৎ লোকের জন্য সৎ সম্পদ প্রশংসাযোগ্য।" সুতরাং কি করে পরকালে তাঁর মর্যাদা খাটো হতে পারে অথবা এ উম্মাতের অন্যান্য ধনী ব্যক্তিবর্গ বাদেই কেবল তাঁরই এ দশা কিভাবে হতে পারে? কেননা, অন্যদের ব্যাপারে এরূপ বর্ণিত হয়নি। তবে সাধারণভাবে এ উম্মাতের ধনী ব্যক্তিবর্গের পূর্বে দরিদ্রদের জান্নাতে যাওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।(আল্লাহই ভালো জানেন)
তারপর তিনি আলী (রা)-এর হাত ধরে বললেন, হে আলী! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতে তোমার স্থান আমার স্থানের মুখোমুখি হবে। এরপর তালহা ও যুবায়র (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, হে তালহা ও যুবায়র। নিশ্চয় প্রত্যেক নবীর নিষ্ঠাবান সহচর থাকে। আর তোমরা দু'জন হচ্ছে আমার নিষ্ঠাবান সহচর।
তারপর তিনি আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, আমার সাহাবীদের মধ্যে তোমাকে আমাদের সামনে বিলম্বে পেশ করা হল। ফলে আমি আশংকা করলাম যে, তুমি কি ধ্বংস হয়ে গেলে এবং আমি ভীষণ ঘর্মাক্ত হয়ে গেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কেন বিলম্ব করলে হে! তখন তুমি বললে, আমার অধিক সম্পদের কারণে আমি এ পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত ও হিসাব-নিকাশের সম্মুখীন রয়েছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার সম্পদ আমি কোথা থেকে উপার্জন করেছি এবং কোথায় ব্যয় করেছি, সে ব্যাপারে আমি জিজ্ঞাসিত হয়েছি। তখন আব্দুর রহমান (রা) কেঁদে দিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। এই একশ' উট আজ রাত্রে মিসরের ব্যবসা থেকে আমার কাছে এসেছে। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, এগুলো মদীনার দরিদ্র ইয়াতীমদের জন্য সাদাকা। যাতে আল্লাহ তা'আলা সেদিন আমার বোঝা হাল্কা করে দেন।
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের উল্লিখিত ভাষা তাঁরই বর্ণিত। তাবারানীও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আম্মার ইবন সায়ফ ব্যতীত হাদীসটি সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য। আবার কেউ কেউ তাঁরও নির্ভরযোগ্যতা স্বীকার করেছেন।)
[হাফিয (র) বলেনঃ] হাদীসটি একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। একদল সাহাবায়ে কিরামের সূত্রে নবী থেকে বর্ণিত আছে যে, "আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর অধিক সম্পদের কারণে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।" কিন্তু তন্মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট রিওয়ায়েতটিও আপত্তিমুক্ত নয় এবং এসব রিওয়ায়েতের কোনটিই স্বতন্ত্রভাবে 'হাসান'-এর মর্যাদায় পৌছে নি। হযরত আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর সম্পদ ছিল ঠিক তেমনি, যেমন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বর্ণনা দিয়েছেনঃ "সৎ লোকের জন্য সৎ সম্পদ প্রশংসাযোগ্য।" সুতরাং কি করে পরকালে তাঁর মর্যাদা খাটো হতে পারে অথবা এ উম্মাতের অন্যান্য ধনী ব্যক্তিবর্গ বাদেই কেবল তাঁরই এ দশা কিভাবে হতে পারে? কেননা, অন্যদের ব্যাপারে এরূপ বর্ণিত হয়নি। তবে সাধারণভাবে এ উম্মাতের ধনী ব্যক্তিবর্গের পূর্বে দরিদ্রদের জান্নাতে যাওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।(আল্লাহই ভালো জানেন)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4849 - وَعَن عبد الله بن أبي أوفى رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ خرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم على أَصْحَابه أجمع مَا كَانُوا فَقَالَ إِنِّي رَأَيْت اللَّيْلَة مَنَازِلكُمْ فِي الْجنَّة وَقرب مَنَازِلكُمْ ثمَّ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أقبل على أبي بكر رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا أَبَا بكر إِنِّي لأعرف رجلا أعرف اسْمه وَاسم أَبِيه وَأمه لَا يَأْتِي بَابا من أَبْوَاب الْجنَّة إِلَّا قَالُوا مرْحَبًا مرْحَبًا فَقَالَ سلمَان إِن هَذَا الْمُرْتَفع شَأْنه يَا رَسُول الله قَالَ فَهُوَ أَبُو بكر بن أبي قُحَافَة ثمَّ أقبل على عمر رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا عمر لقد رَأَيْت فِي الْجنَّة قصرا من درة بَيْضَاء لؤلؤه أَبيض مشيد بالياقوت فَقلت لمن هَذَا فَقيل لفتى من قُرَيْش فَظَنَنْت أَنه لي فَذَهَبت لأدخله فَقَالَ يَا مُحَمَّد هَذَا لعمر بن الْخطاب فَمَا مَنَعَنِي من دُخُوله إِلَّا غيرتك يَا أَبَا حَفْص فَبكى عمر وَقَالَ بِأبي وَأمي عَلَيْك أغار يَا رَسُول الله ثمَّ أقبل على عُثْمَان رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا عُثْمَان إِن لكل نَبِي رَفِيقًا فِي الْجنَّة وَأَنت رفيقي فِي الْجنَّة ثمَّ أَخذ بيد عَليّ رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا عَليّ أَو مَا ترْضى أَن يكون مَنْزِلك فِي الْجنَّة مُقَابل منزلي ثمَّ أقبل على طَلْحَة وَالزُّبَيْر رَضِي الله عَنْهُمَا فَقَالَ يَا طَلْحَة وَيَا زبير إِن لكل نَبِي حوارِي وأنتما حواريي ثمَّ أقبل على عبد الرَّحْمَن بن عَوْف رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ لقد بطأ بك عَنَّا من بَين أَصْحَابِي حَتَّى خشيت أَن تكون هَلَكت وعرقت عرقا شَدِيدا
فَقلت مَا بطأ بك فَقلت يَا رَسُول الله من كَثْرَة مَالِي مَا زلت مَوْقُوفا محاسبا أسأَل عَن مَالِي من أَيْن اكتسبته وَفِيمَا أنفقته فَبكى عبد الرَّحْمَن وَقَالَ يَا رَسُول الله هَذِه مائَة رَاحِلَة جَاءَتْنِي اللَّيْلَة من تِجَارَة مصر فَإِنِّي أشهدك أَنَّهَا على فُقَرَاء أهل الْمَدِينَة وأيتامهم لَعَلَّ الله يُخَفف عني ذَلِك الْيَوْم
رَوَاهُ الْبَزَّار وَاللَّفْظ لَهُ وَالطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته ثِقَات إِلَّا عمار بن سيف وَقد وثق
قَالَ الْحَافِظ وَقد ورد من غير وَجه وَمن حَدِيث جمَاعَة من الصَّحَابَة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف رَضِي الله عَنهُ يدْخل الْجنَّة حبوا لِكَثْرَة مَاله وَلَا يسلم أَجودهَا من مقَال وَلَا يبلغ مِنْهَا شَيْء بِانْفِرَادِهِ دَرَجَة الْحسن وَلَقَد كَانَ مَاله بِالصّفةِ الَّتِي ذكر رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نعم المَال الصَّالح للرجل الصَّالح فَأنى تنقص درجاته فِي الْآخِرَة أَو يقصر بِهِ دون غَيره من أَغْنِيَاء هَذِه الْأمة فَإِنَّهُ لم يرد هَذَا فِي حق غَيره إِنَّمَا صَحَّ سبق فُقَرَاء هَذِه الْأمة أغنياءهم على الْإِطْلَاق وَالله أعلم
فَقلت مَا بطأ بك فَقلت يَا رَسُول الله من كَثْرَة مَالِي مَا زلت مَوْقُوفا محاسبا أسأَل عَن مَالِي من أَيْن اكتسبته وَفِيمَا أنفقته فَبكى عبد الرَّحْمَن وَقَالَ يَا رَسُول الله هَذِه مائَة رَاحِلَة جَاءَتْنِي اللَّيْلَة من تِجَارَة مصر فَإِنِّي أشهدك أَنَّهَا على فُقَرَاء أهل الْمَدِينَة وأيتامهم لَعَلَّ الله يُخَفف عني ذَلِك الْيَوْم
رَوَاهُ الْبَزَّار وَاللَّفْظ لَهُ وَالطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته ثِقَات إِلَّا عمار بن سيف وَقد وثق
قَالَ الْحَافِظ وَقد ورد من غير وَجه وَمن حَدِيث جمَاعَة من الصَّحَابَة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف رَضِي الله عَنهُ يدْخل الْجنَّة حبوا لِكَثْرَة مَاله وَلَا يسلم أَجودهَا من مقَال وَلَا يبلغ مِنْهَا شَيْء بِانْفِرَادِهِ دَرَجَة الْحسن وَلَقَد كَانَ مَاله بِالصّفةِ الَّتِي ذكر رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نعم المَال الصَّالح للرجل الصَّالح فَأنى تنقص درجاته فِي الْآخِرَة أَو يقصر بِهِ دون غَيره من أَغْنِيَاء هَذِه الْأمة فَإِنَّهُ لم يرد هَذَا فِي حق غَيره إِنَّمَا صَحَّ سبق فُقَرَاء هَذِه الْأمة أغنياءهم على الْإِطْلَاق وَالله أعلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫০
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫০. হযরত উসামা (রা)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম। (দেখলাম,) অধিকাংশ প্রবেশকারী ছিল দরিদ্র লোকজন। আর ধনী লোকেরা ছিল বাধাগ্রস্ত। তবে জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ হয়ে গেছে। আর আমি জাহান্নামের দরজায় দাঁড়ালাম। দেখলাম, তাতে অধিকাংশ প্রবেশকারী ছিল মহিলা।
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4850- وَعَن أُسَامَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ قُمْت على بَاب الْجنَّة فَكَانَ عَامَّة من دَخلهَا الْمَسَاكِين وَأَصْحَاب الْجد محبوسون غير أَن أَصْحَاب النَّار قد أَمر بهم إِلَى النَّار وَقمت على بَاب النَّار فَإِذا عَامَّة من دَخلهَا النِّسَاء
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
الْجد بِفَتْح الْجِيم هُوَ الْحَظ والغنى
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
الْجد بِفَتْح الْجِيم هُوَ الْحَظ والغنى
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫১
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫১. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি (স্বপ্নে) দেখলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি সেখানে দেখতে পেলাম যে, জান্নাতের অধিবাসীদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হচ্ছেন দরিদ্র মুহাজিরগণ এবং মু'মিনদের শিশু সন্তানগণ। সেখানে ধনী ও নারীদের চেয়ে নিম্ন মর্যাদার কেউ নেই। এ সম্পর্কে আমাকে বলা হল যে, ধনীদেরকে দরজার সামনে হিসাব নিকাশ নেয়া হচ্ছে এবং পরিশুদ্ধ করা হচ্ছে। আর মহিলাদেরকে গাফিল করেছে দু'টি লোহিত বস্তু স্বর্ণ ও রেশমী বস্ত্র।
(আবু শায়খ ইব্ন হিব্বান প্রমুখ হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবন যুহার-এর সনদে আলী ইবন ইয়াযীদ-এর সূত্রে কাসিম-এর মধ্যস্থতায় আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন।)
(আবু শায়খ ইব্ন হিব্বান প্রমুখ হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবন যুহার-এর সনদে আলী ইবন ইয়াযীদ-এর সূত্রে কাসিম-এর মধ্যস্থতায় আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4851- وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رَأَيْت أَنِّي دخلت الْجنَّة فَإِذا أعالي أهل الْجنَّة فُقَرَاء الْمُهَاجِرين وذراري الْمُؤمنِينَ وَإِذا لَيْسَ فِيهَا أحد أقل من الْأَغْنِيَاء وَالنِّسَاء فَقيل لي أما الْأَغْنِيَاء فَإِنَّهُم على الْبَاب يحاسبون ويمحصون وَأما النِّسَاء فألهاهن الأحمران الذَّهَب وَالْحَرِير الحَدِيث
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان وَغَيره من طَرِيق عبد الله بن زحر عَن عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَنهُ
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان وَغَيره من طَرِيق عبد الله بن زحر عَن عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَنهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে নিঃস্বরূপে জীবিত রাখ, নিঃস্বরূপে মৃত্যুদান কর এবং কিয়ামতের দিন নিঃস্বদের দলে আমাকে সমবেত কর।
আয়েশা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) তা কেন? তিনি বললেনঃ তারা ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা। কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে (কিছু দান না করে) ফিরিয়ে দিও না। যদি এক টুকরো খেজুর ও হয়, (দাও)। হে আয়েশা। নিঃস্বদেরকে ভালবাসবে এবং তাদেরকে কাছে স্থান দিবে। তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে কিয়ামতের দিন নিকটে স্থান দেবেন।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন। এটা গরীব পর্যায়ের হাদীস।
জামা‘আতে সালাত আদায় অধ্যায়ে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত ইবন আব্বাস (রা)-এর হাদীস উল্লিখিত হয়েছে। তাতে তিনি বলেন: আজ রাত্রে আমার নিকট আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক আগমনকারী আগমণ করেছে। অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, 'আমার প্রতিপালক এক উত্তম সূরতে এসেছেন।" অতঃপর হাদীসটি বর্ণনা করে অবশেষে বলেনঃ তিনি (আগমনকারী) বললেন, হে মুহাম্মদ, আমি বললাম, “লাব্বায়কা ওয়া সা'দায়কা"। তখন তিনি বললেন, তুমি যখন সালাত আদায় কর, তখন বলবে, হে আল্লাহ্। আমি তোমার কাছে উত্তম কাজ করা, মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালবাসা রাখার প্রার্থনা করছি এবং যখন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা কর, তখন আমাকে পরীক্ষা ব্যতিরেকেই তোমার কাছে তুলে নিও।
তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে একে হাসান সাব্যস্ত করেছেন।)
আয়েশা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) তা কেন? তিনি বললেনঃ তারা ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা। কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে (কিছু দান না করে) ফিরিয়ে দিও না। যদি এক টুকরো খেজুর ও হয়, (দাও)। হে আয়েশা। নিঃস্বদেরকে ভালবাসবে এবং তাদেরকে কাছে স্থান দিবে। তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে কিয়ামতের দিন নিকটে স্থান দেবেন।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন। এটা গরীব পর্যায়ের হাদীস।
জামা‘আতে সালাত আদায় অধ্যায়ে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত ইবন আব্বাস (রা)-এর হাদীস উল্লিখিত হয়েছে। তাতে তিনি বলেন: আজ রাত্রে আমার নিকট আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক আগমনকারী আগমণ করেছে। অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, 'আমার প্রতিপালক এক উত্তম সূরতে এসেছেন।" অতঃপর হাদীসটি বর্ণনা করে অবশেষে বলেনঃ তিনি (আগমনকারী) বললেন, হে মুহাম্মদ, আমি বললাম, “লাব্বায়কা ওয়া সা'দায়কা"। তখন তিনি বললেন, তুমি যখন সালাত আদায় কর, তখন বলবে, হে আল্লাহ্। আমি তোমার কাছে উত্তম কাজ করা, মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালবাসা রাখার প্রার্থনা করছি এবং যখন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা কর, তখন আমাকে পরীক্ষা ব্যতিরেকেই তোমার কাছে তুলে নিও।
তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে একে হাসান সাব্যস্ত করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4852- وَرُوِيَ عَن أنس رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ اللَّهُمَّ أحيني مِسْكينا وأمتني مِسْكينا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين يَوْم الْقِيَامَة فَقَالَت عَائِشَة لم يَا رَسُول الله قَالَ إِنَّهُم يدْخلُونَ الْجنَّة قبل أغنيائهم بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا يَا عَائِشَة لَا تردي
مِسْكينا وَلَو بشق تَمْرَة
يَا عَائِشَة حبي الْمَسَاكِين وقربيهم فَإِن الله يقربك يَوْم الْقِيَامَة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
وَتقدم فِي صَلَاة الْجَمَاعَة حَدِيث ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَتَانِي اللَّيْلَة آتٍ من رَبِّي وَفِي رِوَايَة رَبِّي فِي أحسن صُورَة
فَذكر الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ قَالَ يَا مُحَمَّد
قلت لبيْك وَسَعْديك
فَقَالَ إِذا صليت قل اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك فعل الْخيرَات وَترك الْمُنْكَرَات وَحب الْمَسَاكِين وَإِذا أردْت بعبادك فتْنَة فاقبضني إِلَيْك غير مفتون
الحَدِيث رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه
مِسْكينا وَلَو بشق تَمْرَة
يَا عَائِشَة حبي الْمَسَاكِين وقربيهم فَإِن الله يقربك يَوْم الْقِيَامَة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
وَتقدم فِي صَلَاة الْجَمَاعَة حَدِيث ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَتَانِي اللَّيْلَة آتٍ من رَبِّي وَفِي رِوَايَة رَبِّي فِي أحسن صُورَة
فَذكر الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ قَالَ يَا مُحَمَّد
قلت لبيْك وَسَعْديك
فَقَالَ إِذا صليت قل اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك فعل الْخيرَات وَترك الْمُنْكَرَات وَحب الْمَسَاكِين وَإِذا أردْت بعبادك فتْنَة فاقبضني إِلَيْك غير مفتون
الحَدِيث رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৩. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে নিঃস্ব অবস্থায় জীবিত রাখ, নিঃস্বরূপে মৃত্যু দান কর এবং নিঃস্বদের দলে তুমি আমাকে পুনরুত্থিত কর। নিশ্চয় নিকৃষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হচ্ছে সে-ই, যে দুনিয়ার দারিদ্র ও পরকালের আযাবের শিকার হয়।
(ইবন মাজাহ হাদীসটি المساكين পর্যন্ত এবং হাকিম সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেনঃ এর সনদ সহীহ। আবূ শায়খ ও বায়হাকী হাদীসটি আতা ইব্ন আবি রাবাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু সাঈদ (খুদরী রা)-কে বলতে শুনেছেন: হে মানবমণ্ডলী! অভাব-অনটন যেন তোমাদেরকে অবৈধভাবে জীবিকা অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ না করে। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যু দান করো- ধনী অবস্থায় মৃত্যু দান করো না এবং তুমি আমাকে নিঃস্বদের দলে পুনরুত্থিত করো। নিশ্চয় নিকৃষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে নিঃকৃষ্টতম ব্যক্তি হচ্ছে সেই, যে দুনিয়ার দরিদ্র ও পরকালের আযাবের শিকার হয়।
আবু শায়খ বলেনঃ আবু যুর'আ ব্যতীত অন্যান্যরা সুলায়মান ইবন আব্দুর রহমান-এর সূত্রে এতটুকু বেশি বর্ণনা করেছেনঃ "এবং তুমি আমাকে ধনীদের দলে পুনরুত্থিত করো না।")
(ইবন মাজাহ হাদীসটি المساكين পর্যন্ত এবং হাকিম সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেনঃ এর সনদ সহীহ। আবূ শায়খ ও বায়হাকী হাদীসটি আতা ইব্ন আবি রাবাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু সাঈদ (খুদরী রা)-কে বলতে শুনেছেন: হে মানবমণ্ডলী! অভাব-অনটন যেন তোমাদেরকে অবৈধভাবে জীবিকা অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ না করে। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যু দান করো- ধনী অবস্থায় মৃত্যু দান করো না এবং তুমি আমাকে নিঃস্বদের দলে পুনরুত্থিত করো। নিশ্চয় নিকৃষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে নিঃকৃষ্টতম ব্যক্তি হচ্ছে সেই, যে দুনিয়ার দরিদ্র ও পরকালের আযাবের শিকার হয়।
আবু শায়খ বলেনঃ আবু যুর'আ ব্যতীত অন্যান্যরা সুলায়মান ইবন আব্দুর রহমান-এর সূত্রে এতটুকু বেশি বর্ণনা করেছেনঃ "এবং তুমি আমাকে ধনীদের দলে পুনরুত্থিত করো না।")
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4853- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اللَّهُمَّ أحيني مِسْكينا وتوفني مِسْكينا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين وَإِن أَشْقَى الأشقياء من اجْتمع عَلَيْهِ فقر الدُّنْيَا وَعَذَاب الْآخِرَة
رَوَاهُ ابْن مَاجَه إِلَى قَوْله الْمَسَاكِين وَالْحَاكِم بِتَمَامِهِ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
وَرَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ وَالْبَيْهَقِيّ عَن عَطاء بن أبي رَبَاح سمع أَبَا سعيد يَقُول يَا أَيهَا النَّاس لَا تحملنكم الْعسرَة على طلب الرزق من غير حلّه فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اللَّهُمَّ توفني فَقِيرا وَلَا توفني غَنِيا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين فَإِن أَشْقَى الأشقياء من اجْتمع عَلَيْهِ فقر الدُّنْيَا وَعَذَاب الْآخِرَة
قَالَ أَبُو الشَّيْخ زَاد فِيهِ غير أبي زرْعَة عَن سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن وَلَا تحشرني فِي زمرة الْأَغْنِيَاء
رَوَاهُ ابْن مَاجَه إِلَى قَوْله الْمَسَاكِين وَالْحَاكِم بِتَمَامِهِ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
وَرَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ وَالْبَيْهَقِيّ عَن عَطاء بن أبي رَبَاح سمع أَبَا سعيد يَقُول يَا أَيهَا النَّاس لَا تحملنكم الْعسرَة على طلب الرزق من غير حلّه فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اللَّهُمَّ توفني فَقِيرا وَلَا توفني غَنِيا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين فَإِن أَشْقَى الأشقياء من اجْتمع عَلَيْهِ فقر الدُّنْيَا وَعَذَاب الْآخِرَة
قَالَ أَبُو الشَّيْخ زَاد فِيهِ غير أبي زرْعَة عَن سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن وَلَا تحشرني فِي زمرة الْأَغْنِيَاء
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫৪
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে মারফু হাদীসরূপে বর্ণিত। "তোমাদের দরিদ্রদেরকে ভালবাস, তাদের সাথে উঠাবসা কর। আর তুমি আরবের লোকজনকে তোমার অন্তর থেকে ভালবাস এবং তুমি তোমার নফস সম্পর্কে যা কিছু জান, তা যেন তোমাকে মানুষদের থেকে দূরে রাখে।"
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন: এর সনদ সহীহ।)
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন: এর সনদ সহীহ।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4854- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ مَرْفُوعا أَحبُّوا الْفُقَرَاء وجالسوهم وَأحب الْعَرَب من قَلْبك وليردك عَن النَّاس مَا تعلم من نَفسك
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫৫
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৫. হযরত আইয ইবন আমর (র) থেকে বর্ণিত। আবু সুফিয়ান একদল লোক নিয়ে সালমান, সুহায়ব ও বিলাল (রা)-এর কাছে এলেন। তখন তারা বললঃ আল্লাহ্ তা'আলার তরবারিগুলো আল্লাহ্ তা'আলার শত্রুর ঘাড় থেকে তাদের প্রাপ্য আদায় করেনি। (একথা শুনে) আবূ বকর (রা) বললেনঃ তোমরা কুরায়শ নেতা ও তাদের সরদারকে এরূপ কথা বলছ? এই বলে তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বিষয়টি জানালেন। উত্তরে তিনি বললেনঃ হে আবু বকর। সম্ভবত তুমি তাদেরকে ক্ষুব্ধ করেছ। যদি তুমি তাদেরকে ক্ষুব্ধ করে থাক, তবে তুমি তোমার প্রতিপালককে ক্ষুব্ধ করেছ। (একথা শুনে) আবূ বকর (রা) তাদের কাছে এসে বললেন: হে ভ্রাতৃবৃন্দ। আমি কি তোমাদেরকে ক্ষুব্ধ করেছি? তাঁরা বললেন, জ্বী না, হে প্রিয় ভাই। আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে ক্ষমা করে দিন।
(মুসলিম (র) প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(মুসলিম (র) প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4855- وَعَن عَائِذ بن عَمْرو أَن أَبَا سُفْيَان أَتَى على سلمَان وصهيب وبلال فِي نفر فَقَالُوا مَا أخذت سيوف الله من عنق عَدو الله مأخذها فَقَالَ أَبُو بكر رَضِي الله عَنهُ
أتقولون هَذَا لشيخ قُرَيْش وسيدهم فَأتى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأجاره فَقَالَ يَا أَبَا بكر لَعَلَّك أغضبتهم لَئِن كنت أغضبتهم لقد أغضبت رَبك فَأَتَاهُم أَبُو بكر فَقَالَ يَا إخوتاه أغضبتكم قَالُوا لَا يغْفر الله لَك يَا أخي
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
أتقولون هَذَا لشيخ قُرَيْش وسيدهم فَأتى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأجاره فَقَالَ يَا أَبَا بكر لَعَلَّك أغضبتهم لَئِن كنت أغضبتهم لقد أغضبت رَبك فَأَتَاهُم أَبُو بكر فَقَالَ يَا إخوتاه أغضبتكم قَالُوا لَا يغْفر الله لَك يَا أخي
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫৬
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৬. হযরত উমায়্যা ইবন আবদুল্লাহ ইবন খালিদ ইবন উসায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দরিদ্র মুসলমানদের উসিলায় বিজয় কামনা করতেন। (অর্থাৎ বিজয়ে দু'আ করতেন।)
(তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী। হাদীসটি মুরসাল। অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, "তিনি দরিদ্র মুসলমানদের উসিলায় (আল্লাহর) সাহায্য কামনা করতেন।")
(তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী। হাদীসটি মুরসাল। অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, "তিনি দরিদ্র মুসলমানদের উসিলায় (আল্লাহর) সাহায্য কামনা করতেন।")
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4856- وَعَن أُميَّة بن عبد الله بن خَالِد بن أسيد قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يستفتح بصعاليك الْمُسلمين
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَهُوَ مُرْسل
وَفِي رِوَايَة يستنصر بصعاليك الْمُسلمين
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَهُوَ مُرْسل
وَفِي رِوَايَة يستنصر بصعاليك الْمُسلمين
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫৭
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইয়া'কূব (আ)-এর এক দ্বীনী বন্ধু ছিলেন। তিনি একদিন বললেনঃ হে ইয়া'কূব। কোন কারণে আপনার দৃষ্টিশক্তি চলে গেল? তিনি বললেন, ইউসুফের জন্য কান্নার কারণে। তিনি (আবার) জিজ্ঞেস করলেন, কোন কারণে আপনার পিঠ বেঁকে গেছে? তিনি বললেন: বিন ইয়ামীনের জন্য শোক সন্তাপের কারণে। এমন সময় জিব্রীল (আ) এসে বললেনঃ হে ইয়া'কূব! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে সালাম বলছেন এবং বলছেন যে, তিনি কি আমার পরিবর্তে অন্যের কাছে আমার বিরুদ্ধে অনুযোগ করতে লজ্জাবোধ করছ না? তিনি বললেনঃ আমার অনুযোগ ও শোক সন্তাপ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার দরবারেই। তখন জিবরীল (আ) বললেনঃ হে ইয়া'কুব। আপনি যে অনুযোগ করেন, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা সম্যক অবগত আছেন। তারপর ইয়াকুব (আ) বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক। তুমি কি এই অতিশয় বৃদ্ধ লোকটির উপর দয়া
করবে না? তুমি আমার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছ, আমার পিঠ কুঁজো করে দিয়েছ। অতএব তুমি আমার দুইফুল (পুত্রদ্বয়)-কে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। আমি মৃত্যুর পূর্বে তাদের একটু ঘ্রাণ নিতে চাই। এরপর তুমি আমাতে যা ইচ্ছা তা-ই করো। তিনি (রাসুলুল্লাহ্ ﷺ) বলেনঃ তারপর জিবরীল (আ) তাঁর কাছে এসে বললেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং আপনাকে বলছেন, তুমি সুসংবাদ নাও এবং তোমার অন্তর আনন্দিত হোক। আমার মর্যাদার কসম, যদি তারা উভয়ে মৃতও হত তবু আমি তাদেরতে জীবিত করে দিতাম। অতএব তুমি গরীব-মিসকীনদের খাবারের ব্যবস্থা কর! কেননা, নবী-রাসূল ও গরীব-মিসকীনগণ আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্দা। তুমি কি জান আমি কেন তোমার দৃষ্টিশক্তি তুলে নিয়েছিলাম এবং তোমার পিঠকে কেন কুঁজো করে দিয়েছিলাম এবং কেন ইউসুফের ভ্রাতৃবৃন্দ ইউসুফের সাথে যা করার তা করেছে? তোমরা একটি ছাগল যবাই করেছিলে। তখন তোমাদের কাছে একটি ইয়াতীম ও অভাবী লোক এসেছিল। সে ছিল রোযাদার। কিন্তু তোমরা তাকে তাথেকে কিছুই খেতে দাওনি। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেন, এরপর থেকে ইয়াকুব (আ) যখন সকাল বেলার খাবার খেতে ইচ্ছা করতেন তখন একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দিতেন যে, ওহে যেসব গরীব-মিসকীন সকাল বেলার খাবার খেতে ইচ্ছুক, তারা যেন ইয়া'কুব (আ)-এর সাথে খাবার খায়। আর যদি তিনি রোযাদার হতেন, তবে একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন যে, ওহে যেসব গরীব মিসকীন রোযাদার ছিলে, তারা যেন ইয়া'কুব (আ)-এর সঙ্গে ইফতার করে।
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং সেই সনদে বায়হাকী ও হাফস ইবন উমর ইবন যুবায়র-এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেনঃ "হাস ইবন উমর ইবন যুবায়র থেকে" এভাবেই আমার শোনা। তবে আমি মনে করি, যুবায়র নামটি এখানে ভ্রম। আসল নাম হচ্ছে এরকমঃ হাফ্স ইবন উমার ইবন আব্দুল্লাহ ইব্ন আবু তালহা। যদি এটাই সঠিক হয় তবে হাদীসটি সহীহ। ইসহাক ইবন রাহওয়ায়হ তাঁর তাফসীরে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন: আমর ইবন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যাফর ইবন সুলায়মান ইয়াহয়া ইবন আব্দুল মালিকের সূত্রে আনাস (রা)-এর মধ্যস্থতায় নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
করবে না? তুমি আমার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছ, আমার পিঠ কুঁজো করে দিয়েছ। অতএব তুমি আমার দুইফুল (পুত্রদ্বয়)-কে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। আমি মৃত্যুর পূর্বে তাদের একটু ঘ্রাণ নিতে চাই। এরপর তুমি আমাতে যা ইচ্ছা তা-ই করো। তিনি (রাসুলুল্লাহ্ ﷺ) বলেনঃ তারপর জিবরীল (আ) তাঁর কাছে এসে বললেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং আপনাকে বলছেন, তুমি সুসংবাদ নাও এবং তোমার অন্তর আনন্দিত হোক। আমার মর্যাদার কসম, যদি তারা উভয়ে মৃতও হত তবু আমি তাদেরতে জীবিত করে দিতাম। অতএব তুমি গরীব-মিসকীনদের খাবারের ব্যবস্থা কর! কেননা, নবী-রাসূল ও গরীব-মিসকীনগণ আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্দা। তুমি কি জান আমি কেন তোমার দৃষ্টিশক্তি তুলে নিয়েছিলাম এবং তোমার পিঠকে কেন কুঁজো করে দিয়েছিলাম এবং কেন ইউসুফের ভ্রাতৃবৃন্দ ইউসুফের সাথে যা করার তা করেছে? তোমরা একটি ছাগল যবাই করেছিলে। তখন তোমাদের কাছে একটি ইয়াতীম ও অভাবী লোক এসেছিল। সে ছিল রোযাদার। কিন্তু তোমরা তাকে তাথেকে কিছুই খেতে দাওনি। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেন, এরপর থেকে ইয়াকুব (আ) যখন সকাল বেলার খাবার খেতে ইচ্ছা করতেন তখন একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দিতেন যে, ওহে যেসব গরীব-মিসকীন সকাল বেলার খাবার খেতে ইচ্ছুক, তারা যেন ইয়া'কুব (আ)-এর সাথে খাবার খায়। আর যদি তিনি রোযাদার হতেন, তবে একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন যে, ওহে যেসব গরীব মিসকীন রোযাদার ছিলে, তারা যেন ইয়া'কুব (আ)-এর সঙ্গে ইফতার করে।
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং সেই সনদে বায়হাকী ও হাফস ইবন উমর ইবন যুবায়র-এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেনঃ "হাস ইবন উমর ইবন যুবায়র থেকে" এভাবেই আমার শোনা। তবে আমি মনে করি, যুবায়র নামটি এখানে ভ্রম। আসল নাম হচ্ছে এরকমঃ হাফ্স ইবন উমার ইবন আব্দুল্লাহ ইব্ন আবু তালহা। যদি এটাই সঠিক হয় তবে হাদীসটি সহীহ। ইসহাক ইবন রাহওয়ায়হ তাঁর তাফসীরে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন: আমর ইবন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যাফর ইবন সুলায়মান ইয়াহয়া ইবন আব্দুল মালিকের সূত্রে আনাস (রা)-এর মধ্যস্থতায় নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4857- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَانَ ليعقوب أَخ مؤاخ فِي الله تَعَالَى فَقَالَ ذَات يَوْم يَا يَعْقُوب مَا الَّذِي أذهب بَصرك قَالَ الْبكاء على يُوسُف
قَالَ مَا الَّذِي قَوس ظهرك قَالَ الْحزن على بنيامين فَأَتَاهُ جِبْرِيل فَقَالَ يَا يَعْقُوب إِن الله يُقْرِئك السَّلَام وَيَقُول أما تَسْتَحي أَن تشكوني إِلَى غَيْرِي قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بثي وحزني إِلَى الله فَقَالَ جِبْرِيل الله أعلم بِمَا تَشْكُو يَا يَعْقُوب ثمَّ قَالَ يَعْقُوب أَي رب أما ترحم الشَّيْخ الْكَبِير أذهبت بَصرِي وقوست ظَهْري فاردد عَليّ ريحانتي أشمه شمة قبل الْمَوْت ثمَّ اصْنَع بِي مَا أردْت قَالَ فَأَتَاهُ جِبْرِيل فَقَالَ إِن الله يُقْرِئك السَّلَام وَيَقُول لَك أبشر وليفرح قَلْبك فَوَعِزَّتِي لَو كَانَا ميتين لنشرتهما فَاصْنَعْ طَعَاما للْمَسَاكِين فَإِن أحب عبَادي إِلَيّ الْأَنْبِيَاء وَالْمَسَاكِين وَتَدْرِي لم أذهبت بَصرك وقوست ظهرك وصنع إخْوَة يُوسُف بِيُوسُف مَا صَنَعُوا إِنَّكُم ذبحتم شَاة فأتاكم مِسْكين يَتِيم وَهُوَ صَائِم فَلم تطعموه مِنْهُ شَيْئا
قَالَ فَكَانَ يَعْقُوب عَلَيْهِ السَّلَام بعد ذَلِك إِذا أَرَادَ الْغَدَاء أَمر مناديا فَنَادَى أَلا من أَرَادَ الْغَدَاء من الْمَسَاكِين فليتغد مَعَ يَعْقُوب وَإِن كَانَ صَائِما أَمر مناديا فَنَادَى أَلا من كَانَ صَائِما من الْمَسَاكِين فليفطر مَعَ يَعْقُوب عَلَيْهِ السَّلَام
رَوَاهُ الْحَاكِم وَمن طَرِيقه الْبَيْهَقِيّ عَن حَفْص بن عمر بن الزبير عَن أنس قَالَ الْحَاكِم كَذَا فِي سَمَاعي عَن حَفْص بن عمر بن الزبير وأظن الزبير وهم وَأَنه حَفْص بن عمر بن عبد الله بن أبي طَلْحَة فَإِن كَانَ كَذَلِك فَالْحَدِيث صَحِيح وَقد أخرجه إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي تَفْسِيره قَالَ أَنبأَنَا عَمْرو بن مُحَمَّد حَدثنَا زَافِر بن سُلَيْمَان عَن يحيى بن عبد الْملك عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِنَحْوِهِ
قَالَ مَا الَّذِي قَوس ظهرك قَالَ الْحزن على بنيامين فَأَتَاهُ جِبْرِيل فَقَالَ يَا يَعْقُوب إِن الله يُقْرِئك السَّلَام وَيَقُول أما تَسْتَحي أَن تشكوني إِلَى غَيْرِي قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بثي وحزني إِلَى الله فَقَالَ جِبْرِيل الله أعلم بِمَا تَشْكُو يَا يَعْقُوب ثمَّ قَالَ يَعْقُوب أَي رب أما ترحم الشَّيْخ الْكَبِير أذهبت بَصرِي وقوست ظَهْري فاردد عَليّ ريحانتي أشمه شمة قبل الْمَوْت ثمَّ اصْنَع بِي مَا أردْت قَالَ فَأَتَاهُ جِبْرِيل فَقَالَ إِن الله يُقْرِئك السَّلَام وَيَقُول لَك أبشر وليفرح قَلْبك فَوَعِزَّتِي لَو كَانَا ميتين لنشرتهما فَاصْنَعْ طَعَاما للْمَسَاكِين فَإِن أحب عبَادي إِلَيّ الْأَنْبِيَاء وَالْمَسَاكِين وَتَدْرِي لم أذهبت بَصرك وقوست ظهرك وصنع إخْوَة يُوسُف بِيُوسُف مَا صَنَعُوا إِنَّكُم ذبحتم شَاة فأتاكم مِسْكين يَتِيم وَهُوَ صَائِم فَلم تطعموه مِنْهُ شَيْئا
قَالَ فَكَانَ يَعْقُوب عَلَيْهِ السَّلَام بعد ذَلِك إِذا أَرَادَ الْغَدَاء أَمر مناديا فَنَادَى أَلا من أَرَادَ الْغَدَاء من الْمَسَاكِين فليتغد مَعَ يَعْقُوب وَإِن كَانَ صَائِما أَمر مناديا فَنَادَى أَلا من كَانَ صَائِما من الْمَسَاكِين فليفطر مَعَ يَعْقُوب عَلَيْهِ السَّلَام
رَوَاهُ الْحَاكِم وَمن طَرِيقه الْبَيْهَقِيّ عَن حَفْص بن عمر بن الزبير عَن أنس قَالَ الْحَاكِم كَذَا فِي سَمَاعي عَن حَفْص بن عمر بن الزبير وأظن الزبير وهم وَأَنه حَفْص بن عمر بن عبد الله بن أبي طَلْحَة فَإِن كَانَ كَذَلِك فَالْحَدِيث صَحِيح وَقد أخرجه إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي تَفْسِيره قَالَ أَنبأَنَا عَمْرو بن مُحَمَّد حَدثنَا زَافِر بن سُلَيْمَان عَن يحيى بن عبد الْملك عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِنَحْوِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫৮
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৮. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি কল্যাণজনক বিষয়ে আমাকে উপদেশ দিয়েছেন। আমাকে উপদেশ দিয়েছেন যাতে আমি (ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদায়) আমার চেয়ে উপরস্থ ব্যক্তির দিকে না তাকাই এবং যেন আমার চেয়ে নিম্নস্থ ব্যক্তির দিকে তাকাই। আমাকে উপদেশ দিয়েছেন গরীব-মিসকীনকে ভালবাসতে এবং তাদের সাথে নৈকট্য রক্ষা করতে। আমাকে আরও উপদেশ দিয়েছেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে, যদিও তা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে।-আল-হাদীস
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4858- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ أَوْصَانِي خليلي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بخصال من الْخَيْر أَوْصَانِي أَن لَا أنظر إِلَى من هُوَ فَوقِي وَأنْظر إِلَى من هُوَ دوني وأوصاني بحب الْمَسَاكِين والدنو مِنْهُم وأوصاني أَن أصل رحمي وَإِن أَدْبَرت
الحَدِيث
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
الحَدِيث
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫৯
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৯. হযরত হারিসা ইবন ওয়াহাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতীদের সম্পর্কে অবগত করব না? (জান্নাতী হচ্ছে) প্রতিটি দুর্বল ও দুর্বলরূপে পরিগণিত ব্যক্তি। যদি সে আল্লাহর নামে কসম করে বসে তবে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করব না? (জাহান্নামী হচ্ছে) প্রতিটি রূঢ় স্বভাবের অধিকারী, দাম্ভিক ও অহংকারী।
(বুখারী, মুসলিম ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী, মুসলিম ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4859- وَعَن حَارِثَة بن وهب رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول أَلا أخْبركُم بِأَهْل الْجنَّة كل ضَعِيف مستضعف لَو يقسم على الله لَأَبَره
أَلا أخْبركُم بِأَهْل النَّار كل عتل جواظ مستكبر
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَابْن مَاجَه
العتل بِضَم الْعين وَالتَّاء وَتَشْديد اللَّام هُوَ الجافي الغليظ
والجواظ بِفَتْح الْجِيم وَتَشْديد الْوَاو وَآخره ظاء مُعْجمَة هُوَ الضخم المختال فِي مشيته وَقيل الْقصير البطين وَقيل الجموع المنوع
أَلا أخْبركُم بِأَهْل النَّار كل عتل جواظ مستكبر
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَابْن مَاجَه
العتل بِضَم الْعين وَالتَّاء وَتَشْديد اللَّام هُوَ الجافي الغليظ
والجواظ بِفَتْح الْجِيم وَتَشْديد الْوَاو وَآخره ظاء مُعْجمَة هُوَ الضخم المختال فِي مشيته وَقيل الْقصير البطين وَقيل الجموع المنوع
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬০
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬০. হযরত আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক আত্মগর্বী দাম্ভিক, অহংকারী, সঞ্চয়লোভী ও কল্যাণকর কাজে বাধা প্রদানকারী জাহান্নামী। আর দুর্বল ও পর্যুদস্তরা জান্নাতী।
(আহমাদ ও হাকিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন: হাদীসটি মুসলিমের শর্ত মুতাবিক সহীহ।)
(আহমাদ ও হাকিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন: হাদীসটি মুসলিমের শর্ত মুতাবিক সহীহ।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4860- وَعَن عبد الله بن عَمْرو رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ سَمِعت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول أهل النَّار كل جعظري جواظ مستكبر جماع مناع وَأهل الْجنَّة الضُّعَفَاء المغلوبون
رَوَاهُ أَحْمد وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
الجعظري بِفَتْح الْجِيم وَإِسْكَان الْعين الْمُهْملَة وَفتح الظَّاء الْمُعْجَمَة
قَالَ ابْن فَارس هُوَ المنتفخ بِمَا لَيْسَ عِنْده
رَوَاهُ أَحْمد وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
الجعظري بِفَتْح الْجِيم وَإِسْكَان الْعين الْمُهْملَة وَفتح الظَّاء الْمُعْجَمَة
قَالَ ابْن فَارس هُوَ المنتفخ بِمَا لَيْسَ عِنْده
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬১
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬১. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে এক জানাযায় শরীক ছিলাম। তখন তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকৃষ্টতম বান্দা সম্পর্কে জানাব না?
(নিকৃষ্ট বাখা হচ্ছে) রূঢ স্বভাব ও অহংকারী। আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর উৎকৃষ্ট বান্দা সম্পর্কে
তোমাদেরকে অবগত করব না? (উৎকৃষ্টতম বান্দাহ হচ্ছে) দুর্বল ও দুর্বলরূপে পরিগণিত, জীর্ণবস্ত্রধারী ব্যক্তি, যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। যদি সে আল্লাহর নামে কসম করে বসে, তবে আল্লাহ তাকে কসম থেকে মুক্ত করে দেন। (অর্থাৎ তার কসম পূর্ণ করে দেন।)
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবন জাবির ব্যতীত এ হাদীসের সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী।)
(নিকৃষ্ট বাখা হচ্ছে) রূঢ স্বভাব ও অহংকারী। আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর উৎকৃষ্ট বান্দা সম্পর্কে
তোমাদেরকে অবগত করব না? (উৎকৃষ্টতম বান্দাহ হচ্ছে) দুর্বল ও দুর্বলরূপে পরিগণিত, জীর্ণবস্ত্রধারী ব্যক্তি, যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। যদি সে আল্লাহর নামে কসম করে বসে, তবে আল্লাহ তাকে কসম থেকে মুক্ত করে দেন। (অর্থাৎ তার কসম পূর্ণ করে দেন।)
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবন জাবির ব্যতীত এ হাদীসের সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4861- وَعَن حُذَيْفَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي جَنَازَة فَقَالَ أَلا أخْبركُم بشر عباد الله الْفظ المستكبر أَلا أخْبركُم بِخَير عباد الله الضَّعِيف المستضعف ذُو الطمرين لَا يؤبه لَهُ لَو أقسم على الله لَأَبَره
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح إِلَّا مُحَمَّد بن جَابر
الطمر بِكَسْر الطَّاء هُوَ الثَّوْب الْخلق
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح إِلَّا مُحَمَّد بن جَابر
الطمر بِكَسْر الطَّاء هُوَ الثَّوْب الْخلق
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬২. হযরত মু'আয ইবন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতের বাদশাহদের সম্পর্কে জানাব না? আমি বললাম। জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন। (জান্নাতের বাদশাহ হচ্ছে) দুর্বল ও দুর্বলরূপে পরিগণিত জীর্ণব্যাসধারী ব্যক্তি, যার প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ করা হয় না। যদি সে আল্লাহর নামে কসম করে বসে, তবে আল্লাহ তাকে কসম থেকে মুক্ত করে দেন।
(ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সুওয়ায়দ ইবন আব্দুল আযীয ব্যতীত এ সনদের সকল বর্ণনাকারীই সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।)
(ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সুওয়ায়দ ইবন আব্দুল আযীয ব্যতীত এ সনদের সকল বর্ণনাকারীই সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4862- وَعَن معَاذ بن جبل رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَلا أخْبركُم عَن مُلُوك الْجنَّة قلت بلَى
قَالَ رجل ضَعِيف مستضعف ذُو طمرين لَا يؤبه لَهُ لَو أقسم على الله لَأَبَره
رَوَاهُ ابْن مَاجَه ورواة إِسْنَاده مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح إِلَّا سُوَيْد بن عبد الْعَزِيز
قَالَ رجل ضَعِيف مستضعف ذُو طمرين لَا يؤبه لَهُ لَو أقسم على الله لَأَبَره
رَوَاهُ ابْن مَاجَه ورواة إِسْنَاده مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح إِلَّا سُوَيْد بن عبد الْعَزِيز
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬৩. হযরত সুরাকা ইবন মালিক ইবন জু'শাম (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ হে সুরাকা! আমি কি তোমাকে জান্নাতী ও জাহান্নামীদের সম্পর্কে জানাব না? আমি বললামঃ জ্বী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। (বলুন)। তিনি বললেন: জাহান্নামী হচ্ছে প্রতিটি দাম্ভিক, আত্মগর্বী ও অহংকারী ব্যক্তি। পক্ষান্তরে জান্নাতী হচ্ছে দুর্বল ও পর্যুদস্তগণ।
(তাবারানী হাদীসটি 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাতে' বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন। এটা মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
(তাবারানী হাদীসটি 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাতে' বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন। এটা মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4863- وَعَن سراقَة بن مَالك بن جعْشم رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يَا سراقَة أَلا أخْبرك بِأَهْل الْجنَّة وَأهل النَّار قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ أما أهل النَّار فَكل جعظري جواظ مستكبر وَأما أهل الْجنَّة فالضعفاء المغلوبون
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬৪
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬৪. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাত ও যাহান্নাম বিতর্ক করল। জাহান্নাম বলল: আমার মধ্যে থাকবে যালিম ও অহংকারীগণ। জান্নাত বলল, আমার মধ্যে থাকবে দুর্বল ও গরীব মুসলমানগণ। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উভয়ের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। হে জান্নাত! তুমি আমার রহমত। আমি তোমার দ্বারা যার প্রতি ইচ্ছা দয়া করব। এবং হে জাহান্নাম! তুমি আমার শাস্তি। তোমার দ্বারা আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেব। তোমাদের উভয়কে পূর্ণ করার দায়িত্ব আমার।
(মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4864- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ احتجت الْجنَّة وَالنَّار فَقَالَت النَّار فِي الجبارون والمتكبرون وَقَالَت الْجنَّة فِي ضعفاء الْمُسلمين ومساكينهم فَقضى الله بَينهمَا إِنَّك الْجنَّة رَحْمَتي أرْحم بك من أَشَاء وَإنَّك النَّار عَذَابي أعذب بك من أَشَاء ولكليكما عَليّ ملؤُهَا
رَوَاهُ مُسلم
رَوَاهُ مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬৫
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন মোটা ও বিশাল দেহের অধিকারী ব্যক্তি হাযির হবে, অথচ আল্লাহর কাছে মশার ডানা পরিমাণও তার ওজন থাকবে না।
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4865- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِنَّه ليَأْتِي الرجل الْعَظِيم السمين يَوْم الْقِيَامَة لَا يزن عِنْد الله جنَاح بعوضة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬৬
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
পরিচ্ছেদঃ দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬৬. হযরত সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর পাশ দিয়ে এক ব্যক্তি পথ অতিক্রম করল। তখন তিনি তাঁর পাশে বসা এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? সে বলল: লোকটি একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি; আল্লাহর কসম। এ লোক এরূপ উপযুক্ত যে, যদি সে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তবে তাকে কন্যাদান করা হবে, সে যদি সুপারিশ করে, তবে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চুপ রইলেন। তারপর অপর এক ব্যক্তি (সেখান দিয়ে) অতিক্রম করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন; এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। এ ব্যক্তি একজন দরিদ্র মুসলমান। তার অবস্থান এই যে, সে যদি বিবাহের প্রস্তাব দেয় তবে তাকে কন্যাদান করা হবে না, সে যদি সুপারিশ করে তবে তার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে না এবং যদি সে কথা বলে, তবে তার কথার প্রতি কর্ণপাত করা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এ লোকটি পূর্ববর্তী লোকটির মত পৃথিবী ভরা লোকের চেয়ে উত্তম।
(বুখারী, মুসলিম ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী, মুসলিম ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4866- وَعَن سهل بن سعد رَضِي الله عَنهُ قَالَ مر رجل على النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ لرجل عِنْده جَالس مَا رَأْيك فِي هَذَا قَالَ رجل من أَشْرَاف النَّاس هَذَا وَالله حري إِن خطب أَن ينْكح وَإِن شفع أَن يشفع فَسكت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثمَّ مر رجل فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا رَأْيك فِي هَذَا فَقَالَ يَا رَسُول الله هَذَا رجل من فُقَرَاء الْمُسلمين
هَذَا أَحْرَى إِن خطب أَن لَا ينْكح وَإِن شفع أَن لَا يشفع وَإِن قَالَ أَن لَا يسمع لقَوْله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَذَا خير من ملْء الأَرْض مثل هَذَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَابْن مَاجَه
هَذَا أَحْرَى إِن خطب أَن لَا ينْكح وَإِن شفع أَن لَا يشفع وَإِن قَالَ أَن لَا يسمع لقَوْله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَذَا خير من ملْء الأَرْض مثل هَذَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَابْن مَاجَه
তাহকীক: