আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ২৪৮ টি
হাদীস নং: ৫৬১১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের সাপ-বিচ্ছুর বর্ণনা
৫৬১১. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন হারিস ইবন জায' যুবীদী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জাহান্নামের মধ্যে উটের ঘাড়ের মত বহু সর্প রয়েছে। তন্মধ্যে প্রত্যেকটি এভাবে দংশন করবে যে, সে সত্তর বছর পর্যন্ত তার জ্বালা অনুভব করবে এবং জাহান্নামের মধ্যে বড় দুধের খচ্চরের মত বহু বিচ্ছু রয়েছে। তন্মধ্যে প্রত্যেকটি এভাবে দংশন করবে যে সে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার বিষক্রিয়া অনুভব করবে।
(আহমাদ ও তাবারানী ইব্ন লাহীআর সনদে দাররাজের সূত্রে আব্দুল্লাহ্ ইবন হারিস থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান ও তাঁর 'সহীহ' এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকিম আমর ইবন হারিস-এর সনদে দাররাজের সূত্রে আব্দুল্লাহ্ ইবন হারিস থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এর সনদ সহীহ।)
(আহমাদ ও তাবারানী ইব্ন লাহীআর সনদে দাররাজের সূত্রে আব্দুল্লাহ্ ইবন হারিস থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান ও তাঁর 'সহীহ' এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকিম আমর ইবন হারিস-এর সনদে দাররাজের সূত্রে আব্দুল্লাহ্ ইবন হারিস থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এর সনদ সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي ذكر حَيَاتهَا وعقاربها
5611- عَن عبد الله بن الْحَارِث بن جُزْء الزبيدِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي النَّار حيات كأمثال أَعْنَاق البخت تلسع إِحْدَاهُنَّ اللسعة فيجد حرهَا سبعين خَرِيفًا وَإِن فِي النَّار عقارب كأمثال البغال الموكفة تلسع إِحْدَاهُنَّ اللسعة فيجد حموتها أَرْبَعِينَ سنة
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ من طَرِيق ابْن لَهِيعَة عَن دراج عَنهُ وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم من طَرِيق عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج عَنهُ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ من طَرِيق ابْن لَهِيعَة عَن دراج عَنهُ وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم من طَرِيق عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج عَنهُ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের সাপ-বিচ্ছুর বর্ণনা
৫৬১২. হযরত ইয়াযীদ ইবন শাজারাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের বহু কূপ রয়েছে। প্রতিটি কূপে সমুদ্রের কিনারার মত কিনারা রয়েছে। তাতে থাকে বহু কীট ও উটের ষাড়ের মত সাপ এবং অনুগত খচ্চরের মত বিচ্ছু। যখন জাহান্নামীগণ একটু লঘুত্ব প্রার্থনা করবে, তখন বলা হবে, তোমরা কিনারার দিকে বেরিয়ে এসো। তখন এসব কীট তাদের ঠোঁট ও পার্শ্ব ও আল্লাহর যা ইচ্ছা তা ধরবে এবং তাদের চামড়া ছিলে ফেলবে। এরপর তারা ফিরে যাবে এবং গভীর আগুনে ধাবিত হবে। তাদের শরীরে চর্মরোগ লাগিয়ে দেওয়া হবে। ফলে তাদের প্রত্যেকে নিজের চামড়া এভাবে চুলকাবে যে, তাঁর হাঁড় প্রকাশ পেয়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হবে, হে অমুক! তোমরা কি এতে কষ্ট হচ্ছে? সে বলবে জ্বী হ্যাঁ। তখন তাকে বলা হবে, এ শাস্তি একারণে যে, তুমি মু'মিনদেরকে কষ্ট দিতে।
(ইবন আবিদ দুনিয়া হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
[হাফিয (র) বলেন], ইয়াযীদ ইব্ন শাজারাহ রাহাবীর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।)
(ইবন আবিদ দুনিয়া হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
[হাফিয (র) বলেন], ইয়াযীদ ইব্ন শাজারাহ রাহাবীর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي ذكر حَيَاتهَا وعقاربها
5612- وَعَن يزِيد بن شَجَرَة قَالَ إِن لِجَهَنَّم لجبابا فِي كل جب ساحلا كساحل الْبَحْر فِيهِ هوَام وحيات كالبخاتي وعقارب كالبغال الذل فَإِذا سَأَلَ أهل النَّار التَّخْفِيف قيل اخْرُجُوا إِلَى السَّاحِل فتأخذهم تِلْكَ الْهَوَام بشفاههم وجنوبهم وَمَا شَاءَ الله من ذَلِك فتكشطها فيرجعون فيبادرون إِلَى مُعظم النيرَان ويسلط عَلَيْهِم الجرب حَتَّى إِن أحدهم ليحك جلده حَتَّى يَبْدُو الْعظم فَيُقَال يَا فلَان هَل يُؤْذِيك هَذَا فَيَقُول نعم فَيُقَال لَهُ ذَلِك بِمَا كنت تؤذي الْمُؤمنِينَ
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا
قَالَ الْحَافِظ وَيزِيد بن شَجَرَة الرهاوي مُخْتَلف فِي صحبته وَالله أعلم
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا
قَالَ الْحَافِظ وَيزِيد بن شَجَرَة الرهاوي مُخْتَلف فِي صحبته وَالله أعلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের সাপ-বিচ্ছুর বর্ণনা
৫৬১৩. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে আল্লাহ তা'আলার বাণী :زِدْنَاهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ "তাদেরকে আমি আযাবের উপর আযাব বৃদ্ধি করে দেব।" (১৬: ৮৮) প্রসঙ্গে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাদেরকে অনেক বিচ্ছু বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। সেগুলোর সম্মুখের দাঁত হবে বড় খেজুর গাছের মত।
(আবু ইয়া'লা ও হাকিম মাওকুফ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
(আবু ইয়া'লা ও হাকিম মাওকুফ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي ذكر حَيَاتهَا وعقاربها
5613- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ فِي قَوْله تَعَالَى زدناهم عذَابا فَوق الْعَذَاب النَّحْل 88 قَالَ زيدوا عقارب أنيابها كالنخل الطوَال
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالْحَاكِم مَوْقُوفا وَقَالَ صَحِيح على شَرط الشَّيْخَيْنِ
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالْحَاكِم مَوْقُوفا وَقَالَ صَحِيح على شَرط الشَّيْخَيْنِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের পানীয়ের বর্ণনা
৫৬১৪. হযরত আবূ সাঈদ (রা)-এ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ (كَالْمُهْلِ) "গাদের মত” (৪৪: ৫৫) প্রসঙ্গে বর্ণিত। তিনি বলেন, এটা তেলের গাদের মত। যখন তার মুখের কাছে নেওয়া হবে, তখন তার চেহারার চামড়া তার মধ্যে পড়ে যাবে।
(আহমাদ ও তিরমিযী রিশদীন ইবন সা'দ-এর সনদে আমর ইবন হারিসের সূত্রে দাররাজের মধ্যস্থতায় আবুল হায়সাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, আমাদের জানা মতে, হাদীসটি কেবল রিশদীনের রিওয়ায়েতেই বর্ণিত।
[হাফিয (র) বলেনঃ], ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিমও ইব্ন ওয়াহাবের রিওয়ায়েতে আমর ইবন হারিস সূত্রে দাররাজ থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকিম (র) বলেন, এর সনদ সহীহ।)
(আহমাদ ও তিরমিযী রিশদীন ইবন সা'দ-এর সনদে আমর ইবন হারিসের সূত্রে দাররাজের মধ্যস্থতায় আবুল হায়সাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, আমাদের জানা মতে, হাদীসটি কেবল রিশদীনের রিওয়ায়েতেই বর্ণিত।
[হাফিয (র) বলেনঃ], ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিমও ইব্ন ওয়াহাবের রিওয়ায়েতে আমর ইবন হারিস সূত্রে দাররাজ থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকিম (র) বলেন, এর সনদ সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل في شراب أهل النار
5614- عَن أبي سعيد رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي قَوْله كَالْمهْلِ الدُّخان 64 قَالَ كَعَكرِ الزَّيْت فَإِذا قرب إِلَى وَجهه سَقَطت فَرْوَة وَجهه فِيهِ
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ من طَرِيق رشدين بن سعد عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج عَن أبي الْهَيْثَم وَقَالَ التِّرْمِذِيّ لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث رشدين
قَالَ الْحَافِظ قد رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم من حَدِيث ابْن وهب عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ من طَرِيق رشدين بن سعد عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج عَن أبي الْهَيْثَم وَقَالَ التِّرْمِذِيّ لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث رشدين
قَالَ الْحَافِظ قد رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم من حَدِيث ابْن وهب عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের পানীয়ের বর্ণনা
৫৬১৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গরম পানি তাদের মাথার উপর ঢালা হবে। ফলে গরম পানি এভাবে প্রবেশ করবে যে, তাদের প্রত্যেকের পেটে পৌঁছে যাবে এবং তার পেটের সমস্ত নাড়ীভুঁড়ি বের করে দেবে। তখন তার দু'পায়ের তলা দিয়ে বের হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে গলিয়ে দেওয়া। এরপর আবার তা পৃষ্ঠের মত হয়ে যাবে।
(তিরমিযী ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে বায়হাকী (র) বলেনঃ "তারপর মাথায় পড়ে এভাবে মাথার ভেতরে প্রবেশ করবে যে, তার পেট পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।" উভয়ে হাদীসটি আবূ সামহ্ অর্থাৎ দাররাজের সনদে ইবন জুহায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব সহীহ।
শব্দ বিশ্লেষণঃ উক্ত হাদীসে উল্লেখিত গরম পানি মূলের الحميم এটাই কুরআনে উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, (وَسقُوا مَاء حَمِيمًا فَقَطع أمعاءهُمْ তাদেরকে গরম পানি পান করানো হবে, ফলে তাদের নাড়িভূড়ি কেটে ফেলবে।" (৪৭ঃ ১৫) ইবন আব্বাস (রা) প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে যে, 'হামীম' মানে এমন গরম পানি, যা পুড়িয়ে দেয়। যাহহাক (র) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির পর থেকে জাহান্নামী ব্যক্তিকে পান করানো পর্যন্ত 'হামীম'-কে ফুটানো হবে এবং তা তাদের মাথার উপর চালা হবে। কারও মতে, 'হামীম' জাহান্নামীদের চোখের অশ্রু, যা জাহান্নামের হাওযে জমা হবে এবং তা তাদেরকে পান করানো হবে। কেউ কেউ অন্য অভিমতও ব্যক্ত করেছেন।)
(তিরমিযী ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে বায়হাকী (র) বলেনঃ "তারপর মাথায় পড়ে এভাবে মাথার ভেতরে প্রবেশ করবে যে, তার পেট পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।" উভয়ে হাদীসটি আবূ সামহ্ অর্থাৎ দাররাজের সনদে ইবন জুহায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব সহীহ।
শব্দ বিশ্লেষণঃ উক্ত হাদীসে উল্লেখিত গরম পানি মূলের الحميم এটাই কুরআনে উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, (وَسقُوا مَاء حَمِيمًا فَقَطع أمعاءهُمْ তাদেরকে গরম পানি পান করানো হবে, ফলে তাদের নাড়িভূড়ি কেটে ফেলবে।" (৪৭ঃ ১৫) ইবন আব্বাস (রা) প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে যে, 'হামীম' মানে এমন গরম পানি, যা পুড়িয়ে দেয়। যাহহাক (র) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির পর থেকে জাহান্নামী ব্যক্তিকে পান করানো পর্যন্ত 'হামীম'-কে ফুটানো হবে এবং তা তাদের মাথার উপর চালা হবে। কারও মতে, 'হামীম' জাহান্নামীদের চোখের অশ্রু, যা জাহান্নামের হাওযে জমা হবে এবং তা তাদেরকে পান করানো হবে। কেউ কেউ অন্য অভিমতও ব্যক্ত করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل في شراب أهل النار
5615- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْحَمِيم ليصب على رؤوسهم فَينفذ الْحَمِيم حَتَّى يخلص إِلَى جَوْفه فيسلت مَا فِي جَوْفه حَتَّى يَمْرُق من قَدَمَيْهِ وَهُوَ الصهر ثمَّ يُعَاد كَمَا كَانَ
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ إِلَّا أَنه قَالَ فيخلص فَينفذ الجمجمة حَتَّى يخلص إِلَى جَوْفه
روياه من طَرِيق أبي السَّمْح وَهُوَ دراج عَن ابْن حجيرة وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن غَرِيب صَحِيح
الْحَمِيم هُوَ الْمَذْكُور فِي الْقُرْآن فِي قَوْله تَعَالَى وَسقوا مَاء حميما فَقطع أمعاءهم مُحَمَّد 51
وَرُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس وَغَيره أَن الْحَمِيم الْحَار الَّذِي يحرق
وَقَالَ الضَّحَّاك الْحَمِيم يغلي مُنْذُ خلق الله السَّمَوَات وَالْأَرْض إِلَى يَوْم يسقونه وَيصب على رؤوسهم
وَقيل هُوَ مَا يجْتَمع من دموع أَعينهم فِي حِيَاض النَّار فيسقونه وَقيل غير ذَلِك
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ إِلَّا أَنه قَالَ فيخلص فَينفذ الجمجمة حَتَّى يخلص إِلَى جَوْفه
روياه من طَرِيق أبي السَّمْح وَهُوَ دراج عَن ابْن حجيرة وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن غَرِيب صَحِيح
الْحَمِيم هُوَ الْمَذْكُور فِي الْقُرْآن فِي قَوْله تَعَالَى وَسقوا مَاء حميما فَقطع أمعاءهم مُحَمَّد 51
وَرُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس وَغَيره أَن الْحَمِيم الْحَار الَّذِي يحرق
وَقَالَ الضَّحَّاك الْحَمِيم يغلي مُنْذُ خلق الله السَّمَوَات وَالْأَرْض إِلَى يَوْم يسقونه وَيصب على رؤوسهم
وَقيل هُوَ مَا يجْتَمع من دموع أَعينهم فِي حِيَاض النَّار فيسقونه وَقيل غير ذَلِك
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের পানীয়ের বর্ণনা
৫৬১৬. হযরত আবু উমামা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী : وَيُسْقَى مِنْ مَاءٍ صَدِيدٍ يَتَجَرَّعُهُ "তাকে পুঁজের পানি পান করানো হবে, যা সে ঢোক ধরে গিলবে” (১৪ঃ ১৬, ১৭) প্রসঙ্গে বর্ণিত। তিনি বলেন, পুঁজের পানি তার মুখের কাছে নেওয়া হবে, তখন সে এটাকে ঘৃণা করবে। যখন তার মুখের। নিকটে নেওয়া হবে, তখন তা তার চেহারা ঝলসিয়ে দেবে এবং তার মাথার চামড়া খসে পড়বে। তারপর যখন সে তা পান করবে, তখন তার নাড়ি-ভুঁড়ি কেটে দেবে। ফলে নাড়িভূড়ি তার মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ "তাদেরকে গরম পানি পান করানো হবে, ফলে তাদের নাড়ি-ভুড়ি কেটে দেবে” (৪৭: ১৫)। তিনি আরও বলেন, وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ "যদি তারা পানি পান করতে চায়, তবে তাদেরকে তেলের গাদের মত পানি পান করানো হবে, যা তাদের চেহারা ঝলসিয়ে দেবে, বড়ই নিকৃষ্ট পানীয় (১৮: ২৯)।
(আহমাদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি গারীব। হাকিম এ হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
(আহমাদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি গারীব। হাকিম এ হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل في شراب أهل النار
5616- وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي قَوْله تَعَالَى ويسقى من مَاء صديد يتجرعه إِبْرَاهِيم 71 قَالَ يقرب إِلَى فِيهِ فيكرهه فَإِذا أدني مِنْهُ شوى وَجهه وَوَقعت فَرْوَة رَأسه فَإِذا شربه قطع أمعاءه حَتَّى يخرج من دبره قَالَ الله عز وَجل وَسقوا مَاء حميما فَقطع أمعاءهم وَيَقُول وَإِن يستغيثوا يغاثوا بِمَاء كَالْمهْلِ يشوي الْوُجُوه بئس الشَّرَاب الْكَهْف 92
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের পানীয়ের বর্ণনা
৫৬১৭. হযরত আবু সাঈদ (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি এক বালতি 'গাসসাক' (পুঁজ)
দুনিয়াতে ঢেলে দেওয়া হত, তবে সমস্ত দুনিয়াবাসীকে দুর্গন্ধে নিমজ্জিত করে দিত।
(তিরমিযী (র) রিশদীনের রিওয়ায়েতে আমর ইবন হারিসের সূত্রে দাররাজের মধ্যস্থতায় আবুল হায়সাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, এ হাদীস কেবল রিশদীনের রিওয়ায়েতে বলে আমরা জানি।
[হাফিয (র) বলেনঃ], হাকিম প্রমুখ ইব্ন ওয়াহাবের সনদে আমর ইবন হারিস সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন, এর সনদ সহীহ।
শব্দ বিশ্লেষণ : 'পুজ'-মূলে আছে الغساق এটাই কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌ وَغَسَّاقٌ "এই গরম পানি ও পুজ রয়েছে, তারা পান করুক।" (৩৮ঃ ৫৭)। তিনি আরও বলেন,
لَا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا
তারা সেখানে গরম পানি ও পুঁজ ব্যতীত কোন শীতলতা বা কোন পানীয়ের আস্বাদ লাভ করবে না।" (৭৮ঃ ২৪)
শব্দটির অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এটা কাফিরের চামড়া ও মাংসের মধ্য থেকে নির্গলিত পদার্থ। ইবন আব্বাস (রা) এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আবার কারও মতে, এটা জাহান্নামীদের পুঁজ। ইবরাহীম, কাতাদা, আতিয়্যা ও ইকরামা তা-ই বলেছেন। কা'ব (রা) বলেন, এটা জাহান্নামের একটি ঝর্ণা। তাতে সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি বিষাক্ত প্রাণীর বিষ প্রবাহিত হয়ে জমা হবে। সেখানে মানুষকে নিয়ে একটি ডুব দেওয়ানো হবে। যখন সে বের হবে, তখন অস্থিপিন্ডের থেকে তার চামড়া ও মাংস পৃথক হয়ে যাবে এবং তার মাংস ও চামড়া তার পায়ের গোড়ালি ও গিটে ঝুলতে থাকবে। সে তার মাংস এভাবে টেনে টেনে চলবে, যেমন মানুষ নিজের কাপড় টেনে টেনে।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর বলেন, 'গাসসাক' মানে গাঢ় পূঁজ। তার একটি পোঁটা যদি পৃথিবীর প্রান্তে ফেলে দেওয়া হয় তবে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তের অধিবাসীকে দুর্গন্ধে নিমজ্জিত করবে। আর যদি পূর্বপ্রান্তে এক ফোঁটা ফেলে দেওয়া হয়, তবে তা পশ্চিম প্রান্তের অধিবাসীকে দুর্গন্ধে নিমজ্জিত করবে। কেউ কেউ ভিন্ন মতও পোষণ করেছেন।)
দুনিয়াতে ঢেলে দেওয়া হত, তবে সমস্ত দুনিয়াবাসীকে দুর্গন্ধে নিমজ্জিত করে দিত।
(তিরমিযী (র) রিশদীনের রিওয়ায়েতে আমর ইবন হারিসের সূত্রে দাররাজের মধ্যস্থতায় আবুল হায়সাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, এ হাদীস কেবল রিশদীনের রিওয়ায়েতে বলে আমরা জানি।
[হাফিয (র) বলেনঃ], হাকিম প্রমুখ ইব্ন ওয়াহাবের সনদে আমর ইবন হারিস সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন, এর সনদ সহীহ।
শব্দ বিশ্লেষণ : 'পুজ'-মূলে আছে الغساق এটাই কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌ وَغَسَّاقٌ "এই গরম পানি ও পুজ রয়েছে, তারা পান করুক।" (৩৮ঃ ৫৭)। তিনি আরও বলেন,
لَا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا
তারা সেখানে গরম পানি ও পুঁজ ব্যতীত কোন শীতলতা বা কোন পানীয়ের আস্বাদ লাভ করবে না।" (৭৮ঃ ২৪)
শব্দটির অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এটা কাফিরের চামড়া ও মাংসের মধ্য থেকে নির্গলিত পদার্থ। ইবন আব্বাস (রা) এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আবার কারও মতে, এটা জাহান্নামীদের পুঁজ। ইবরাহীম, কাতাদা, আতিয়্যা ও ইকরামা তা-ই বলেছেন। কা'ব (রা) বলেন, এটা জাহান্নামের একটি ঝর্ণা। তাতে সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি বিষাক্ত প্রাণীর বিষ প্রবাহিত হয়ে জমা হবে। সেখানে মানুষকে নিয়ে একটি ডুব দেওয়ানো হবে। যখন সে বের হবে, তখন অস্থিপিন্ডের থেকে তার চামড়া ও মাংস পৃথক হয়ে যাবে এবং তার মাংস ও চামড়া তার পায়ের গোড়ালি ও গিটে ঝুলতে থাকবে। সে তার মাংস এভাবে টেনে টেনে চলবে, যেমন মানুষ নিজের কাপড় টেনে টেনে।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর বলেন, 'গাসসাক' মানে গাঢ় পূঁজ। তার একটি পোঁটা যদি পৃথিবীর প্রান্তে ফেলে দেওয়া হয় তবে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তের অধিবাসীকে দুর্গন্ধে নিমজ্জিত করবে। আর যদি পূর্বপ্রান্তে এক ফোঁটা ফেলে দেওয়া হয়, তবে তা পশ্চিম প্রান্তের অধিবাসীকে দুর্গন্ধে নিমজ্জিত করবে। কেউ কেউ ভিন্ন মতও পোষণ করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل في شراب أهل النار
5617- وَعَن أبي سعيد رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَو أَن دلوا من غساق يهراق فِي الدُّنْيَا لأنتن أهل الدُّنْيَا
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من حَدِيث رشدين عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج عَن أبي الْهَيْثَم وَقَالَ التِّرْمِذِيّ إِنَّمَا نعرفه من حَدِيث رشدين
قَالَ الْحَافِظ رَوَاهُ الْحَاكِم وَغَيره من طَرِيق ابْن وهب عَن عَمْرو بن الْحَارِث بِهِ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
الغساق هُوَ الْمَذْكُور فِي الْقُرْآن فِي قَوْله تَعَالَى فليذوقوه حميم وغساق ص 75 وَقَوله لَا يذوقون فِيهَا بردا وَلَا شرابًا إِلَّا حميما وغساقا النِّسَاء 42 52
وَقد اخْتلف فِي مَعْنَاهُ فَقيل هُوَ مَا يسيل من بَين جلد الْكَافِر ولحمه قَالَه ابْن عَبَّاس وَقيل هُوَ صديد أهل النَّار قَالَه إِبْرَاهِيم وَقَتَادَة وعطية وَعِكْرِمَة وَقَالَ كَعْب هُوَ عين فِي جَهَنَّم تسيل إِلَيْهَا حمة كل ذَات حمة من حَيَّة أَو عقرب أَو غير ذَلِك فيستنقع فَيُؤتى بالآدمي فيغمس فِيهَا غمسة وَاحِدَة فَيخرج وَقد سقط جلده ولحمه عَن الْعِظَام وَيتَعَلَّق جلده ولحمه فِي عَقِبَيْهِ وكعبيه فيجر لَحْمه كَمَا يجر الرجل ثَوْبه وَقَالَ عبد الله بن عَمْرو الغساق الْقَيْح الغليظ لَو أَن قَطْرَة مِنْهُ تهراق فِي الْمغرب لأنتنت أهل الْمشرق وَلَو تهراق فِي الْمشرق لأنتنت أهل الْمغرب وَقيل غير ذَلِك
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من حَدِيث رشدين عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج عَن أبي الْهَيْثَم وَقَالَ التِّرْمِذِيّ إِنَّمَا نعرفه من حَدِيث رشدين
قَالَ الْحَافِظ رَوَاهُ الْحَاكِم وَغَيره من طَرِيق ابْن وهب عَن عَمْرو بن الْحَارِث بِهِ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
الغساق هُوَ الْمَذْكُور فِي الْقُرْآن فِي قَوْله تَعَالَى فليذوقوه حميم وغساق ص 75 وَقَوله لَا يذوقون فِيهَا بردا وَلَا شرابًا إِلَّا حميما وغساقا النِّسَاء 42 52
وَقد اخْتلف فِي مَعْنَاهُ فَقيل هُوَ مَا يسيل من بَين جلد الْكَافِر ولحمه قَالَه ابْن عَبَّاس وَقيل هُوَ صديد أهل النَّار قَالَه إِبْرَاهِيم وَقَتَادَة وعطية وَعِكْرِمَة وَقَالَ كَعْب هُوَ عين فِي جَهَنَّم تسيل إِلَيْهَا حمة كل ذَات حمة من حَيَّة أَو عقرب أَو غير ذَلِك فيستنقع فَيُؤتى بالآدمي فيغمس فِيهَا غمسة وَاحِدَة فَيخرج وَقد سقط جلده ولحمه عَن الْعِظَام وَيتَعَلَّق جلده ولحمه فِي عَقِبَيْهِ وكعبيه فيجر لَحْمه كَمَا يجر الرجل ثَوْبه وَقَالَ عبد الله بن عَمْرو الغساق الْقَيْح الغليظ لَو أَن قَطْرَة مِنْهُ تهراق فِي الْمغرب لأنتنت أهل الْمشرق وَلَو تهراق فِي الْمشرق لأنتنت أهل الْمغرب وَقيل غير ذَلِك
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬১৮. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا "যেদিন আমি মুত্তাকীদেরকে দয়ালু আল্লাহর কাছে মেহমান স্বরূপ সমবেত করব" (১৯ঃ ৮৫) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। 'ওয়াদ' মানে কাফেলা নয় কি? নবী (ﷺ) বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয় যখন তারা তাদের কবর থেকে বের হবে, তখন তাদেরকে এরূপ শুভ্র উটনীসমূহ দ্বারা খোশ-আমদেদ জানানো হবে, যাদের পাখা রয়েছে, এবং যাদের উপরে রয়েছে সোনার হাওদা। তাদের পাদুকার ফিতা হবে চকচকে নূরের তৈরী। উটনীগুলোর প্রতিটি পদক্ষেপ হবে দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে তারা জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে এবং দেখবে, সোনার তৈরী দরজার পাটের উপর লাল চুনি পাথরের কড়া। আরও দেখবে যে, জান্নাতের দরজায় একটি বৃক্ষ রয়েছে, বৃক্ষটির গোড়া থেকে দু'টি বর্ণ উৎসারিত হচ্ছে। যখন তারা সে দু'টির একটি থেকে পানি পান করবে, তখন তাদের চেহারায় জান্নাতের উজ্জ্বল্য চমক মারবে। যখন তারা অপরটি থেকে উযু করবে, তখন থেকে তাদের চুল কখনও উসকু খুসকু হবে না। তখন তারা কড়াটি দ্বারা দরজার পাটে আঘাত করবে-হে আলী! যদি তুমি কড়ার শব্দ শুনতে। ফলে প্রত্যেক হুরের কাছে এ সংবাদ পৌঁছবে যে, তার স্বামী সুতরাং কখনও লাবণ্য হারা হব না। আমি চির সঙ্গিনী সুতরাং কখনও তোমাকে পরিত্যাগ করব না। তারপর সে এমন একটি ঘরে প্রবেশ করবে, যার ভিত্তি থেকে ছাদপর্যন্ত এক লাখ হাত গৃহটি মুক্তা ও চুনির প্রস্তর খণ্ডের উপর নির্মিত। ঘরটিকে কোন কোন পথ লোহিত বর্ণের কোন কোন পথ সবুজ আবার কোন কোন পথ হলুদ বর্ণের। একটি পথ অপর পথের সাথে সামঞ্জস্যশীল হবে না। সে সুসজ্জিত তখতের উপর পৌঁছে দেখবে যে, তার উপর একটি পালংক রয়েছে। পালংকটির উপর রয়েছে সত্তরটি শয্যা। প্রতিটি শয্যায় সত্তরজন করে স্ত্রী। প্রত্যেক স্ত্রীর গায়ে সত্তরটি করে পোষাক। পোষাকগুলোর ভেতর থেকে তার পায়ের গোছার মগজ দেখা যাবে। জান্নাতী ব্যক্তিটি রাতের সম পরিমাণ সময়ে তাদের সকলের সাথে সঙ্গম কার্যপূর্ণ করবে। তাদের নিচ দিয়ে বহু বহতা প্রবাহিত হবে। এমন পানির কিছু নদী থাকবে, যার পানি কখনো বিস্বাদ বা দুর্গন্দময় হবেনা- যা হবে স্বচ্ছ নির্মল। এমন পরিচ্ছন্ন মধুর বেশ কিছু নদী থাকবে, যা মৌমাছির পেট থেকে নির্গত হয়নি। এমন শরাবের অনেক নদী থাকবে, হয পানকারীদের জন্য হবে সুস্বাদু এবং যা লোকেরা তাদের পা দ্বারা মাড়িয়ে নিংড়ায় নি। এমন দুধের অনেক নদী থাকবে, যার স্বাদ কখনো বিকৃত হবে না এবং যা চতুস্পদ জন্তুর পেট থেকে নির্গত হয়নি। যখন তারা খাবারের জন্য আগ্রহ করবে তখন তাদের কাছে অনেক সাদা পাখি আসবে। এবং তারা তাদের ডানা তুলবে। জান্নাতীগণ পাখিগুলোর ডানার নিচ থেকে যে রকমের খাবার ইচ্ছা হবে নিয়ে খাবে। এরপর পাখিগুলো উড়ে চলে যাবে। সেখানে থাকবে ঝুলন্ত কাঁদি কাঁদি ফলরাশি যখন তারা ফল খেতে আগ্রহ করবে তখন ডাল তাদের দিকে ঝুঁকে যাবে। তখন তারা যে প্রকার ফল ইচ্ছা হবে খাবে। যদি চায় দাঁড়িয়ে খাবে, যদি চায় হেলান দিয়ে খাবে। এটাই আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ সে দু'টি উদ্যানের ফল নিকটবর্তী হবে" (৫৫: ৫৪)। এবং তাদের সামনে থাকবে মুক্তাসদৃশ ভৃত্যকূল।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া সিফাতুল জান্নাহ' গ্রন্থে হারিস আ'ওয়ার সূত্রে হযরত আলী (রা) থেকে মারফু সনদে
এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছন। পুনরায় ইবন আবিদ-দুনিয়া এবং বায়হাকী প্রমুখ আসিম ইবন জামরা সূত্রে আলী (রা)-এর উপর মাওকূফ রেখে হাদীসটি এরকমই বর্ণনা করেছেন। এটাই বিশুদ্ধতর ও প্রসিদ্ধতর। ইব্ন আবিদ-দুনিয়া বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষায় তিনি বলেন, "যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত তাদেরকে জান্নাতের দিকে দলবদ্ধভাবে নেওয়া হবে তারপর যখন তারা জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে কোন দরজায় গিয়ে পৌছবে, তখন তারা সেখানে একটি বৃক্ষ দেখতে পাবে। বৃক্ষটির কাজের তলদেশ থেকে দু'টি বহতা বর্ণা উৎসারিত হচ্ছে। তারপর তারা দু'টির মধ্যে একটি কাছে যাবে। যেন তাদেরকে সেখানে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা তা থেকে পানি পানি করবে। ফলে তাদের পেটের ময়লা আবর্জনা ও অসুবিধা দূর করে দেবে। এরপর তারা আরেকটির কাছে যাবে এবং তাতে তারা উযূ করবে। তখন তাদের চেহারায় জান্নাতের এমনি লাবণ্য খেলে যাবে। যে তাদের গায়ের চামড়া এরপর কখনও বিকৃতি বা কুঞ্জন দেখা দেবে না এবং তাদের চুল কখনো উসকু খুসকু হবে না। যেন তাদেরকে তেল মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা জান্নাতের দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতাদের কাছে গিয়ে উপনীত হবে। তখন তারা বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা সুখে থাক এবং স্থায়ী আবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর" তিনি বলেন, "তারপর তার সাথে সাক্ষাৎ করবে কিশোররা। তারা জান্নাতীদের পাশে ঘুরবে, যেমন দুনিয়াবাসী কিশোররা কোন আপনজন প্রবাস থেকে আসলে তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। তারপর তারা বলবে, তুমি সে সব সম্মানের সুসংবাদ গ্রহণ কর, যা আল্লাহ্ তা'আলা তোমার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। তিনি বলেন, তারপর সেসব কিশোরের মধ্য থেকে একজন কিশোর তার কোন এক আয়াতালোচনা হুর স্ত্রীর কাছে যাবে এবং দুনিয়াতে তাকে যে নামে ডাকা হত, সে নাম ধরে বলবে, অমুক এসেছে। হুর জিজ্ঞেস করবে, তুমি কি তাকে দেখেছ? সে বলবে, আমি তাকে দেখেছি। সে আমার পেছনেই রয়েছে। ফলে হুরদের একজন আনন্দে নেচে উঠবে এবং জান্নাতের দরজার চৌকাঠের উপর দাঁড়াবে। যখন সে তার মঞ্জিলে পৌঁছবে, তখন সে তাকিয়ে দেখবে যে, তার প্রাসাদের ভিত্তি কিসের উপর। সে দেখবে মুক্তার এক বিরাট প্রস্তুর খন্ড। তার উপর রয়েছে সবুজ হলুদ, লাল ও রকমারি সুউচ্চ প্রাসাদ। এরপর সে তার মাথা তুলে প্রাসাদের ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখবে, ছাদটি বিদ্যুতের মত। যদি আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য এটা নির্ধারিত না রাখতেন, তবে তার দৃষ্টি শক্তি চলে যাওয়ার উপক্রম হত। এরপর সে তার মাথা নিচু করে তার স্ত্রীদের দিকে তাকবে। সেখানে রয়েছে সংরক্ষিত পানপাত্র রাশি, সারি সারি তাকিয়া এবং বিস্তৃত বিছানো গালিচা। সে এসব নেয়ামতের দিকে তাকাবে। এরপর তারা হেলান দিয়ে বসে বলবে, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে এসব নেয়ামতের জন্য পথ নির্দেশনা করেছেন। আমরা হেদায়েত পাবার ছিলাম না, যদি না তিনি আমাদের পথ নির্দেশনা করতেন (৭: ৪৩)। এরপর একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে, তোমরা জীবিত থাকবে, তোমরা এরপর কখনও মৃত্যু মুখে পতিত হবে না। তোমরা সর্বদা থাকবে, কখনও বিদায় হবে না। তোমরা সুস্থ থাকবে, (বর্ণনাকারী বলেন,) আমার ধারণা মতে, তিনি বলেছেন, কখনও পীড়িত হবে না।")
(ইবন আবিদ-দুনিয়া সিফাতুল জান্নাহ' গ্রন্থে হারিস আ'ওয়ার সূত্রে হযরত আলী (রা) থেকে মারফু সনদে
এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছন। পুনরায় ইবন আবিদ-দুনিয়া এবং বায়হাকী প্রমুখ আসিম ইবন জামরা সূত্রে আলী (রা)-এর উপর মাওকূফ রেখে হাদীসটি এরকমই বর্ণনা করেছেন। এটাই বিশুদ্ধতর ও প্রসিদ্ধতর। ইব্ন আবিদ-দুনিয়া বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষায় তিনি বলেন, "যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত তাদেরকে জান্নাতের দিকে দলবদ্ধভাবে নেওয়া হবে তারপর যখন তারা জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে কোন দরজায় গিয়ে পৌছবে, তখন তারা সেখানে একটি বৃক্ষ দেখতে পাবে। বৃক্ষটির কাজের তলদেশ থেকে দু'টি বহতা বর্ণা উৎসারিত হচ্ছে। তারপর তারা দু'টির মধ্যে একটি কাছে যাবে। যেন তাদেরকে সেখানে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা তা থেকে পানি পানি করবে। ফলে তাদের পেটের ময়লা আবর্জনা ও অসুবিধা দূর করে দেবে। এরপর তারা আরেকটির কাছে যাবে এবং তাতে তারা উযূ করবে। তখন তাদের চেহারায় জান্নাতের এমনি লাবণ্য খেলে যাবে। যে তাদের গায়ের চামড়া এরপর কখনও বিকৃতি বা কুঞ্জন দেখা দেবে না এবং তাদের চুল কখনো উসকু খুসকু হবে না। যেন তাদেরকে তেল মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা জান্নাতের দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতাদের কাছে গিয়ে উপনীত হবে। তখন তারা বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা সুখে থাক এবং স্থায়ী আবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর" তিনি বলেন, "তারপর তার সাথে সাক্ষাৎ করবে কিশোররা। তারা জান্নাতীদের পাশে ঘুরবে, যেমন দুনিয়াবাসী কিশোররা কোন আপনজন প্রবাস থেকে আসলে তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। তারপর তারা বলবে, তুমি সে সব সম্মানের সুসংবাদ গ্রহণ কর, যা আল্লাহ্ তা'আলা তোমার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। তিনি বলেন, তারপর সেসব কিশোরের মধ্য থেকে একজন কিশোর তার কোন এক আয়াতালোচনা হুর স্ত্রীর কাছে যাবে এবং দুনিয়াতে তাকে যে নামে ডাকা হত, সে নাম ধরে বলবে, অমুক এসেছে। হুর জিজ্ঞেস করবে, তুমি কি তাকে দেখেছ? সে বলবে, আমি তাকে দেখেছি। সে আমার পেছনেই রয়েছে। ফলে হুরদের একজন আনন্দে নেচে উঠবে এবং জান্নাতের দরজার চৌকাঠের উপর দাঁড়াবে। যখন সে তার মঞ্জিলে পৌঁছবে, তখন সে তাকিয়ে দেখবে যে, তার প্রাসাদের ভিত্তি কিসের উপর। সে দেখবে মুক্তার এক বিরাট প্রস্তুর খন্ড। তার উপর রয়েছে সবুজ হলুদ, লাল ও রকমারি সুউচ্চ প্রাসাদ। এরপর সে তার মাথা তুলে প্রাসাদের ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখবে, ছাদটি বিদ্যুতের মত। যদি আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য এটা নির্ধারিত না রাখতেন, তবে তার দৃষ্টি শক্তি চলে যাওয়ার উপক্রম হত। এরপর সে তার মাথা নিচু করে তার স্ত্রীদের দিকে তাকবে। সেখানে রয়েছে সংরক্ষিত পানপাত্র রাশি, সারি সারি তাকিয়া এবং বিস্তৃত বিছানো গালিচা। সে এসব নেয়ামতের দিকে তাকাবে। এরপর তারা হেলান দিয়ে বসে বলবে, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে এসব নেয়ামতের জন্য পথ নির্দেশনা করেছেন। আমরা হেদায়েত পাবার ছিলাম না, যদি না তিনি আমাদের পথ নির্দেশনা করতেন (৭: ৪৩)। এরপর একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে, তোমরা জীবিত থাকবে, তোমরা এরপর কখনও মৃত্যু মুখে পতিত হবে না। তোমরা সর্বদা থাকবে, কখনও বিদায় হবে না। তোমরা সুস্থ থাকবে, (বর্ণনাকারী বলেন,) আমার ধারণা মতে, তিনি বলেছেন, কখনও পীড়িত হবে না।")
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5618- عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ أَنه سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن هَذِه الْآيَة يَوْم نحْشر الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَن وَفْدًا مَرْيَم 58 إِلَى
آخرهَا قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَا الْوَفْد إِلَّا ركب قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِنَّهُم إِذا خَرجُوا من قُبُورهم استقبلوا بِنُوق بيض لَهَا أَجْنِحَة عَلَيْهَا رحال الذَّهَب شرك نعَالهمْ نور يتلألأ كل خطْوَة مِنْهَا مثل مد الْبَصَر وينتهون إِلَى بَاب الْجنَّة فَإِذا حَلقَة من ياقوتة حَمْرَاء على صَفَائِح الذَّهَب وَإِذا شَجَرَة على بَاب الْجنَّة يَنْبع من أَصْلهَا عينان فَإِذا شربوا من أَحدهمَا جرت فِي وُجُوههم بنضرة النَّعيم وَإِذا توضؤوا من الْأُخْرَى لم تشعث أشعارهم أبدا فيضربون الْحلقَة بالصفيحة فَلَو سَمِعت طنين الْحلقَة يَا عَليّ فَيبلغ كل حوراء أَن زَوجهَا قد أقبل فتستخفها العجلة فتبعث قيمها فَيفتح لَهُ الْبَاب فلولا أَن الله عز وَجل عرفه نَفسه لخر لَهُ سَاجِدا مِمَّا يرى من النُّور والبهاء فَيَقُول أَنا قيمك الَّذِي وكلت بِأَمْرك فيتبعه فيقفو أَثَره فَيَأْتِي زَوجته فتستخفها العجلة فَتخرج من الْخَيْمَة فتعانقه وَتقول أَنْت حبي وَأَنا حبك وَأَنا الراضية فَلَا أَسخط أبدا وَأَنا الناعمة بِلَا أبأس أبدا وَأَنا الخالدة فَلَا أظعن أبدا فَيدْخل بَيْتا من أساسه إِلَى سقفه مائَة ألف ذِرَاع مَبْنِيّ على جندل اللُّؤْلُؤ والياقوت طرائق خضر وطرائق صفر مَا مِنْهَا طَريقَة تشاكل صاحبتها فَيَأْتِي الأريكة فَإِذا عَلَيْهَا سَرِير على السرير سَبْعُونَ فراشا على كل فرَاش سَبْعُونَ زَوْجَة على كل زَوْجَة سَبْعُونَ حلَّة يرى مخ سَاقهَا من بَاطِن الْحلَل يقْضِي جماعهن فِي مِقْدَار لَيْلَة تجْرِي من تَحْتهم أَنهَار مطردَة أَنهَار من مَاء غير آسن صَاف لَيْسَ فِيهِ كدر وأنهار من عسل مصفى لم يخرج من بطُون النَّحْل وأنهار من خمر لَذَّة للشاربين لم تعصره الرِّجَال بأقدامها وأنهار من لبن لم يتَغَيَّر طعمه لم يخرج من بطُون الْمَاشِيَة فَإِذا اشتهوا الطَّعَام جَاءَتْهُم طير بيض فَترفع أَجْنِحَتهَا فَيَأْكُلُونَ من جنوبها من أَي الألوان شاؤوا ثمَّ تطير فتذهب وفيهَا ثمار متدلية إِذا اشتهوها انْبَعَثَ الْغُصْن إِلَيْهِم فَيَأْكُلُونَ من أَي الثِّمَار شاؤوا إِن شَاءَ قَائِما وَإِن شَاءَ مُتكئا وَذَلِكَ قَوْله وجنى الجنتين دَان الرَّحْمَن 45 وَبَين أَيْديهم خدم كَاللُّؤْلُؤِ
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب صفة الْجنَّة عَن الْحَارِث وَهُوَ الْأَعْوَر عَن عَليّ مَرْفُوعا هَكَذَا وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا أَيْضا وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهمَا عَن
عَاصِم بن ضَمرَة عَن عَليّ مَوْقُوفا عَلَيْهِ بِنَحْوِهِ وَهُوَ أصح وَأشهر
وَلَفظ ابْن أبي الدُّنْيَا قَالَ يساق الَّذين اتَّقوا رَبهم إِلَى الْجنَّة زمرا حَتَّى إِذا انْتَهوا إِلَى بَاب من أَبْوَابهَا وجدوا عِنْده شَجَرَة يخرج من تَحت سَاقهَا عينان تجريان فعمدوا إِلَى إِحْدَاهمَا كَأَنَّمَا أمروا بهَا فَشَرِبُوا مِنْهَا فأذهبت مَا فِي بطونهم من أَذَى أَو قذى أَو بَأْس ثمَّ عَمدُوا إِلَى الْأُخْرَى فتطهروا مِنْهَا فجرت عَلَيْهِم بنضرة النَّعيم فَلَنْ تَتَغَيَّر أبشارهم تغيرا بعْدهَا أبدا وَلنْ تشعث أشعارهم كَأَنَّمَا دهنوا بالدهان ثمَّ انْتَهوا إِلَى خَزَنَة الْجنَّة فَقَالُوا سَلام عَلَيْكُم طبتم فادخلوها خَالِدين الزمر 37 قَالَ ثمَّ تلقاهم أَو يلقاهم الْولدَان يطيفون بهم كَمَا يطِيف ولدان أهل الدُّنْيَا بالحميم يقدم من غيبته فَيَقُولُونَ أبشر بِمَا أعد الله لَك من الْكَرَامَة قَالَ ثمَّ ينْطَلق غُلَام من أُولَئِكَ الْولدَان إِلَى بعض أَزوَاجه من الْحور الْعين فَيَقُول قد جَاءَ فلَان باسمه الَّذِي يدعى بِهِ فِي الدُّنْيَا فَتَقول أَنْت رَأَيْته فَيَقُول أَنا رَأَيْته وَهُوَ ذَا بإثري فيستخف إِحْدَاهُنَّ الْفَرح حَتَّى تقوم على أُسْكُفَّة بَابهَا فَإِذا انْتهى إِلَى منزله نظر إِلَى أَي شَيْء أساس بُنْيَانه فَإِذا جندل اللُّؤْلُؤ فَوْقه صرح أَخْضَر وأصفر وأحمر وَمن كل لون ثمَّ رفع رَأسه فَنظر إِلَى سقفه فَإِذا مثل الْبَرْق لَوْلَا أَن الله قدر لَهُ الْأَلَم أَن يذهب ببصره ثمَّ طأطأ رَأسه فَنظر إِلَى أَزوَاجه وأكواب مَوْضُوعَة ونمارق مصفوفة وزرابي مبثوثة الغاشية 41 61 فنظروا إِلَى تِلْكَ النِّعْمَة ثمَّ اتكئوا وَقَالُوا الْحَمد لله الَّذِي هدَانَا لهَذَا وَمَا كُنَّا لنهتدي لَوْلَا أَن هدَانَا الله الْأَعْرَاف 34 الْآيَة ثمَّ يُنَادي مُنَاد تحيون فَلَا تموتون أبدا وتقيمون فَلَا تظعنون أبدا وتصحون أرَاهُ قَالَ فَلَا تمرضون أبدا
آخرهَا قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَا الْوَفْد إِلَّا ركب قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِنَّهُم إِذا خَرجُوا من قُبُورهم استقبلوا بِنُوق بيض لَهَا أَجْنِحَة عَلَيْهَا رحال الذَّهَب شرك نعَالهمْ نور يتلألأ كل خطْوَة مِنْهَا مثل مد الْبَصَر وينتهون إِلَى بَاب الْجنَّة فَإِذا حَلقَة من ياقوتة حَمْرَاء على صَفَائِح الذَّهَب وَإِذا شَجَرَة على بَاب الْجنَّة يَنْبع من أَصْلهَا عينان فَإِذا شربوا من أَحدهمَا جرت فِي وُجُوههم بنضرة النَّعيم وَإِذا توضؤوا من الْأُخْرَى لم تشعث أشعارهم أبدا فيضربون الْحلقَة بالصفيحة فَلَو سَمِعت طنين الْحلقَة يَا عَليّ فَيبلغ كل حوراء أَن زَوجهَا قد أقبل فتستخفها العجلة فتبعث قيمها فَيفتح لَهُ الْبَاب فلولا أَن الله عز وَجل عرفه نَفسه لخر لَهُ سَاجِدا مِمَّا يرى من النُّور والبهاء فَيَقُول أَنا قيمك الَّذِي وكلت بِأَمْرك فيتبعه فيقفو أَثَره فَيَأْتِي زَوجته فتستخفها العجلة فَتخرج من الْخَيْمَة فتعانقه وَتقول أَنْت حبي وَأَنا حبك وَأَنا الراضية فَلَا أَسخط أبدا وَأَنا الناعمة بِلَا أبأس أبدا وَأَنا الخالدة فَلَا أظعن أبدا فَيدْخل بَيْتا من أساسه إِلَى سقفه مائَة ألف ذِرَاع مَبْنِيّ على جندل اللُّؤْلُؤ والياقوت طرائق خضر وطرائق صفر مَا مِنْهَا طَريقَة تشاكل صاحبتها فَيَأْتِي الأريكة فَإِذا عَلَيْهَا سَرِير على السرير سَبْعُونَ فراشا على كل فرَاش سَبْعُونَ زَوْجَة على كل زَوْجَة سَبْعُونَ حلَّة يرى مخ سَاقهَا من بَاطِن الْحلَل يقْضِي جماعهن فِي مِقْدَار لَيْلَة تجْرِي من تَحْتهم أَنهَار مطردَة أَنهَار من مَاء غير آسن صَاف لَيْسَ فِيهِ كدر وأنهار من عسل مصفى لم يخرج من بطُون النَّحْل وأنهار من خمر لَذَّة للشاربين لم تعصره الرِّجَال بأقدامها وأنهار من لبن لم يتَغَيَّر طعمه لم يخرج من بطُون الْمَاشِيَة فَإِذا اشتهوا الطَّعَام جَاءَتْهُم طير بيض فَترفع أَجْنِحَتهَا فَيَأْكُلُونَ من جنوبها من أَي الألوان شاؤوا ثمَّ تطير فتذهب وفيهَا ثمار متدلية إِذا اشتهوها انْبَعَثَ الْغُصْن إِلَيْهِم فَيَأْكُلُونَ من أَي الثِّمَار شاؤوا إِن شَاءَ قَائِما وَإِن شَاءَ مُتكئا وَذَلِكَ قَوْله وجنى الجنتين دَان الرَّحْمَن 45 وَبَين أَيْديهم خدم كَاللُّؤْلُؤِ
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب صفة الْجنَّة عَن الْحَارِث وَهُوَ الْأَعْوَر عَن عَليّ مَرْفُوعا هَكَذَا وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا أَيْضا وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهمَا عَن
عَاصِم بن ضَمرَة عَن عَليّ مَوْقُوفا عَلَيْهِ بِنَحْوِهِ وَهُوَ أصح وَأشهر
وَلَفظ ابْن أبي الدُّنْيَا قَالَ يساق الَّذين اتَّقوا رَبهم إِلَى الْجنَّة زمرا حَتَّى إِذا انْتَهوا إِلَى بَاب من أَبْوَابهَا وجدوا عِنْده شَجَرَة يخرج من تَحت سَاقهَا عينان تجريان فعمدوا إِلَى إِحْدَاهمَا كَأَنَّمَا أمروا بهَا فَشَرِبُوا مِنْهَا فأذهبت مَا فِي بطونهم من أَذَى أَو قذى أَو بَأْس ثمَّ عَمدُوا إِلَى الْأُخْرَى فتطهروا مِنْهَا فجرت عَلَيْهِم بنضرة النَّعيم فَلَنْ تَتَغَيَّر أبشارهم تغيرا بعْدهَا أبدا وَلنْ تشعث أشعارهم كَأَنَّمَا دهنوا بالدهان ثمَّ انْتَهوا إِلَى خَزَنَة الْجنَّة فَقَالُوا سَلام عَلَيْكُم طبتم فادخلوها خَالِدين الزمر 37 قَالَ ثمَّ تلقاهم أَو يلقاهم الْولدَان يطيفون بهم كَمَا يطِيف ولدان أهل الدُّنْيَا بالحميم يقدم من غيبته فَيَقُولُونَ أبشر بِمَا أعد الله لَك من الْكَرَامَة قَالَ ثمَّ ينْطَلق غُلَام من أُولَئِكَ الْولدَان إِلَى بعض أَزوَاجه من الْحور الْعين فَيَقُول قد جَاءَ فلَان باسمه الَّذِي يدعى بِهِ فِي الدُّنْيَا فَتَقول أَنْت رَأَيْته فَيَقُول أَنا رَأَيْته وَهُوَ ذَا بإثري فيستخف إِحْدَاهُنَّ الْفَرح حَتَّى تقوم على أُسْكُفَّة بَابهَا فَإِذا انْتهى إِلَى منزله نظر إِلَى أَي شَيْء أساس بُنْيَانه فَإِذا جندل اللُّؤْلُؤ فَوْقه صرح أَخْضَر وأصفر وأحمر وَمن كل لون ثمَّ رفع رَأسه فَنظر إِلَى سقفه فَإِذا مثل الْبَرْق لَوْلَا أَن الله قدر لَهُ الْأَلَم أَن يذهب ببصره ثمَّ طأطأ رَأسه فَنظر إِلَى أَزوَاجه وأكواب مَوْضُوعَة ونمارق مصفوفة وزرابي مبثوثة الغاشية 41 61 فنظروا إِلَى تِلْكَ النِّعْمَة ثمَّ اتكئوا وَقَالُوا الْحَمد لله الَّذِي هدَانَا لهَذَا وَمَا كُنَّا لنهتدي لَوْلَا أَن هدَانَا الله الْأَعْرَاف 34 الْآيَة ثمَّ يُنَادي مُنَاد تحيون فَلَا تموتون أبدا وتقيمون فَلَا تظعنون أبدا وتصحون أرَاهُ قَالَ فَلَا تمرضون أبدا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬১৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের পানীয়ের বর্ণনা
৫৬১৯. হযরত আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (এক) মদ্যপানে অভ্যস্ত লোক, (দুই) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, (তিন) যাদুটোনায় বিশ্বাস। যে ব্যক্তি মদ্যপানে অভ্যস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে 'নহরে পূতা' থেকে পানি পান করাবেন। জিজ্ঞেস করা হল, নহরে গূতা' কি? তিনি বললেন, ব্যভিচারিণীদের যোনী থেকে প্রবাহিত নদী। তাদের (মদ্যপায়ীদের) যোনী বায়ু জাহান্নামীদেরকে কষ্ট দেবে।
(আহমাদ ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-এ কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এর সনদ সহীহ্।)
(আহমাদ ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-এ কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এর সনদ সহীহ্।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل في شراب أهل النار
5619- وَعَن أبي مُوسَى رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ ثَلَاثَة لَا يدْخلُونَ الْجنَّة مدمن الْخمر وقاطع الرَّحِم ومصدق بِالسحرِ وَإِن مَاتَ مدمن الْخمر سقَاهُ الله جلّ وَعلا
من نهر الغوطة قيل وَمَا نهر الغوطة قَالَ نهر يجْرِي من فروج المومسات يُؤْذِي أهل النَّار ريح فروجهم
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
من نهر الغوطة قيل وَمَا نهر الغوطة قَالَ نهر يجْرِي من فروج المومسات يُؤْذِي أهل النَّار ريح فروجهم
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের পানীয়ের বর্ণনা
৫৬২০. হযরত আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, যে মদ
পান করে, আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি চল্লিশ রাত্রি পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকেন না। যদি সে মৃত্যুবরণ করে, তবে
কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। যদি সে পুনরায় পান করে তখন তাকে 'তীনাতুল খাবাল" থেকে পানি পান করানো আল্লাহ তা'আলার উপর অবধারিত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! 'তীনাতুল খাবাল' কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের পুঁজ।
(আহমাদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ' কিতাবে আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর-এর রিওয়ায়েতে এর চেয়ে দীর্ঘাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন: "যে চতুর্থবার মদ্য পান করে, তাকে কিয়ামতের দিন 'তীনাতুল খাবাল' থেকে পানি পান করানো অবধারিত হয়ে যায়। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। 'তীনাতুল খাবাল' কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের দেহ থেকে বিগলিত পদার্থ। মদ্যপান অধ্যায়ে হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে এবং উক্ত অধ্যায়ে আনাস (রা)-এর হাদীসটিও বর্ণিত হয়েছে। "যারা দুনিয়া থেকে মাতাল অবস্থায় বিদায় গ্রহণ করে, সে মাতাল অবস্থায় কবরে প্রবেশ করবে, মাতাল অবস্থায় কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে, মাতাল অবস্থায় তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। জাহান্নামে একটি ঝর্ণা রয়েছে, তা থেকে পুঁজ ও রক্ত প্রবাহিত হয়। যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বাকি থাকবে, ততদিন এটা হবে তাদের খাবার ও পানীয়।")
পান করে, আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি চল্লিশ রাত্রি পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকেন না। যদি সে মৃত্যুবরণ করে, তবে
কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। যদি সে পুনরায় পান করে তখন তাকে 'তীনাতুল খাবাল" থেকে পানি পান করানো আল্লাহ তা'আলার উপর অবধারিত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! 'তীনাতুল খাবাল' কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের পুঁজ।
(আহমাদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ' কিতাবে আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর-এর রিওয়ায়েতে এর চেয়ে দীর্ঘাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন: "যে চতুর্থবার মদ্য পান করে, তাকে কিয়ামতের দিন 'তীনাতুল খাবাল' থেকে পানি পান করানো অবধারিত হয়ে যায়। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। 'তীনাতুল খাবাল' কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের দেহ থেকে বিগলিত পদার্থ। মদ্যপান অধ্যায়ে হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে এবং উক্ত অধ্যায়ে আনাস (রা)-এর হাদীসটিও বর্ণিত হয়েছে। "যারা দুনিয়া থেকে মাতাল অবস্থায় বিদায় গ্রহণ করে, সে মাতাল অবস্থায় কবরে প্রবেশ করবে, মাতাল অবস্থায় কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে, মাতাল অবস্থায় তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। জাহান্নামে একটি ঝর্ণা রয়েছে, তা থেকে পুঁজ ও রক্ত প্রবাহিত হয়। যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বাকি থাকবে, ততদিন এটা হবে তাদের খাবার ও পানীয়।")
كتاب صفة الجنة والنار
فصل في شراب أهل النار
5620- وَعَن أَسمَاء بنت يزِيد رَضِي الله عَنْهَا أَنَّهَا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من شرب الْخمر لم يرض الله عَنهُ أَرْبَعِينَ لَيْلَة فَإِن مَاتَ مَاتَ كَافِرًا فَإِن عَاد كَانَ حَقًا على الله أَن يسْقِيه من طِينَة الخبال قيل يَا رَسُول الله وَمَا طِينَة الخبال قَالَ صديد أهل النَّار
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد حسن وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث عبد الله بن عَمْرو أطول مِنْهُ إِلَّا أَنه قَالَ من عَاد فِي الرَّابِعَة كَانَ حَقًا على الله أَن يسْقِيه من طِينَة الخبال يَوْم الْقِيَامَة
قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا طِينَة الخبال قَالَ عصارة أهل النَّار
وَتقدم فِي شرب الْخمر وَتقدم أَيْضا فِيهِ حَدِيث أنس من فَارق الدُّنْيَا وَهُوَ سَكرَان دخل الْقَبْر سَكرَان وَبعث من قَبره سَكرَان وَأمر بِهِ إِلَى النَّار سَكرَان فِيهِ عين يجْرِي مِنْهَا الْقَيْح وَالدَّم هُوَ طعامهم وشرابهم مَا دَامَت السَّمَوَات وَالْأَرْض
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد حسن وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث عبد الله بن عَمْرو أطول مِنْهُ إِلَّا أَنه قَالَ من عَاد فِي الرَّابِعَة كَانَ حَقًا على الله أَن يسْقِيه من طِينَة الخبال يَوْم الْقِيَامَة
قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا طِينَة الخبال قَالَ عصارة أهل النَّار
وَتقدم فِي شرب الْخمر وَتقدم أَيْضا فِيهِ حَدِيث أنس من فَارق الدُّنْيَا وَهُوَ سَكرَان دخل الْقَبْر سَكرَان وَبعث من قَبره سَكرَان وَأمر بِهِ إِلَى النَّار سَكرَان فِيهِ عين يجْرِي مِنْهَا الْقَيْح وَالدَّم هُوَ طعامهم وشرابهم مَا دَامَت السَّمَوَات وَالْأَرْض
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের খাবারের বর্ণনা
৫৬২১. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।
اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং দেখিও তোমরা আত্মসর্ম্পণকারী না হইয়া মরিও না"। (৩ঃ ১০২)। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি যাক্কুমের একটি ফোঁটা দুনিয়াতে পড়ে তবে দুনিয়াবাসীর জন্য তাদের জীবন দুর্বিসহ করে দেব। সুতরাং যাক্কুম যার খাবার হবে তার কী অবস্থা হবে।
(তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান ও তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, 'সুতরাং তার কী অবস্থা হবে, যার জন্য যাক্কুম ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যই থাকবে না। হাকিম ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে তিনি বলেনঃ "তারপর তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে। যদি যাকুমের একটি ফোঁটা, পৃথিবীর সমুদ্রসমূহের মধ্যে পড়ে, তবে তার পানি বিনষ্ট করে দেবে। অথবা বলেছেন, পৃথিবীবাসীর জনা তাদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলবে। সুতরাং তার অবস্থা কি হবে, যার খাদ্যই হবে যাক্কুম"
[হাকিম (র) বললেনঃ], হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ্ এবং হাদীসটি ইবন আব্বাস (রা)-এর উপর মাওকূফ সনদেও বর্ণিত হয়েছে।)
اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং দেখিও তোমরা আত্মসর্ম্পণকারী না হইয়া মরিও না"। (৩ঃ ১০২)। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি যাক্কুমের একটি ফোঁটা দুনিয়াতে পড়ে তবে দুনিয়াবাসীর জন্য তাদের জীবন দুর্বিসহ করে দেব। সুতরাং যাক্কুম যার খাবার হবে তার কী অবস্থা হবে।
(তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান ও তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, 'সুতরাং তার কী অবস্থা হবে, যার জন্য যাক্কুম ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যই থাকবে না। হাকিম ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে তিনি বলেনঃ "তারপর তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে। যদি যাকুমের একটি ফোঁটা, পৃথিবীর সমুদ্রসমূহের মধ্যে পড়ে, তবে তার পানি বিনষ্ট করে দেবে। অথবা বলেছেন, পৃথিবীবাসীর জনা তাদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলবে। সুতরাং তার অবস্থা কি হবে, যার খাদ্যই হবে যাক্কুম"
[হাকিম (র) বললেনঃ], হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ্ এবং হাদীসটি ইবন আব্বাস (রা)-এর উপর মাওকূফ সনদেও বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي طَعَام أهل النَّار
5621- عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَرَأَ هَذِه الْآيَة اتَّقوا الله حق تُقَاته وَلَا تموتن إِلَّا وَأَنْتُم مُسلمُونَ آل عمرَان 201 فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَو أَن قَطْرَة من الزقوم قطرت فِي دَار الدُّنْيَا لأفسدت على أهل الدُّنْيَا مَعَايشهمْ فَكيف بِمن يكون طَعَامه
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه إِلَّا أَنه قَالَ
فَكيف بِمن لَيْسَ لَهُ طَعَام غَيره
وَالْحَاكِم إِلَّا أَنه قَالَ فِيهِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَو أَن قَطْرَة من الزقوم قطرت فِي بحار الأَرْض لأفسدت
أَو قَالَ لأمرت على أهل الأَرْض مَعَايشهمْ فَكيف بِمن يكون طَعَامه
وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح وَرُوِيَ مَوْقُوفا على ابْن عَبَّاس
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه إِلَّا أَنه قَالَ
فَكيف بِمن لَيْسَ لَهُ طَعَام غَيره
وَالْحَاكِم إِلَّا أَنه قَالَ فِيهِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَو أَن قَطْرَة من الزقوم قطرت فِي بحار الأَرْض لأفسدت
أَو قَالَ لأمرت على أهل الأَرْض مَعَايشهمْ فَكيف بِمن يكون طَعَامه
وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح وَرُوِيَ مَوْقُوفا على ابْن عَبَّاس
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের খাবারের বর্ণনা
৫৬২২. হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, জাহান্নামীদেরকে এমন ক্ষুধা দেওয়া হবে যে, তা তাদের অন্যান্য আযাবের সমান হবে। তখন তারা সাহায্য প্রার্থনা করবে। আর তাদেরকে এমন কন্টক বিশিষ্ট খাদ্য দেওয়া হবে, যা তাদেরকে স্বাস্থ্যবান করবে না এবং তাদের ক্ষুধার নিবৃত্ত করবে না। সুতরাং তারা (পুনরায়) আহার্য্য প্রার্থনা করবে। তখন তাদেরকে গলায় আটকে যাওয়া খাদ্য দেওয়া হবে। তখন তারা স্মরণ করবে যে, তারা দুনিয়াতে পানীয় স্থলে গলায় আটকে যাওয়া খাদ্য গলাধঃকরণ করত। তাই তারা পানীয় চাইবে। তখন তাদেরকে লোহার হুক দেওয়া হবে। যখন হুকগুলো তাদের নিকটবর্তী হবে, তখন তাদের চেহারা ঝলসিয়ে দেবে এবং যখন তাদের পেটে প্রবেশ করবে তখন তাদের পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি সবকিছু কেটে দেবে। তখন তারা বলবে, জাহান্নামের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ফিরিশতাদেরকে ডাক। قَالُوا أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالُوا فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ "তোমাদের রাসুলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট মু'জিয়া নিয়ে আসতেন না? তারা বলবে, হ্যাঁ। ফিরিশতাগণ বলবেন, তবে তোমরা দু'আ কর এবং কাফিরদের দু'আ কেবল ব্যর্থই হয়।" (৪০ঃ ৫০)। "তারা (জাহান্নামের প্রধান ফেরেশতাকে) ডেকে বলবে, হে মালেক! তোমার প্রতিপালক আমাদের জীবন সাঙ্গ করে দিন। সে বলবে, তোমাদেরকে এ অবস্থায়ই থাকতে হবে।"(৪৩ঃ ৭৭)।
আ'মাশ (র) বলেন, আমি জ্ঞাত হয়েছি যে, তাদের মালিককে আহবান করা ও মালিক কর্তৃক তাদের আহ্বানের উত্তর দেওয়ার মধ্যে এক হাজার বছরের ব্যবধান থাকবে। তিনি বলেন, তারা বলবে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে দু'আ কর, কেননা তোমাদের প্রতিপালকের চেয়ে উত্তম কেউ নেই। তখন তারা বলবে, رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ আমাদের প্রতিপালক দুর্ভাগ্য আমাদের উপর ছেয়ে গিয়েছিল এবং আমরা ছিলাম ভ্রষ্ট সম্প্রদায়। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এখান থেকে মুক্তি দিন। এরপর যদি আমরা (দীনধর্ম ও নবী রাসুলকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করা ও পাপাচারের পথে ফিরে যাই) তবে নিশ্চয় আমরা অপরাধী হব।" (২৩ঃ ১০৬, ১০৭)।
তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে জবাব দেবেন, اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ তোমরা লাঞ্ছিত হয়ে পড়ে থাক, এবং তোমরা আমার সাথে কোন কথা বলো না। (২৩: ১০৮)। তিনি বলেন, তখন তারা সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে। এবং তখন তারা আর্তনাদ, আক্ষেপ ও ধ্বংসের মধ্যে পড়ে থাকবে।
(তিরমিযী ও বায়হাকী উভয়ে কুতবা ইবন আব্দুল আযীয এর সূত্রে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি শাহর ইব আতিয়্যা থেকে, তিনি শাহর ইবন হাওশাব থেকে, তিনি উম্মু দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা) থেকে এ হাদীস বর্ণণা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান বলেছেন, মানুষ এ হাদীস মারফু' সনদে বর্ণনা করেন না। তিনি বলেন, এ হাদীসটি আ'মাশ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি শাহর ইবন আতিয়্যা থেকে, তিনি শাহর ইবন হাওশাব থেকে, তিনি উম্মু দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটা মারফু হাদীস নয়। কুতবা ইবন আব্দুল আযীয হাদীস বিশারদদের কাছে নির্ভরযোগ্য।)
আ'মাশ (র) বলেন, আমি জ্ঞাত হয়েছি যে, তাদের মালিককে আহবান করা ও মালিক কর্তৃক তাদের আহ্বানের উত্তর দেওয়ার মধ্যে এক হাজার বছরের ব্যবধান থাকবে। তিনি বলেন, তারা বলবে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে দু'আ কর, কেননা তোমাদের প্রতিপালকের চেয়ে উত্তম কেউ নেই। তখন তারা বলবে, رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ আমাদের প্রতিপালক দুর্ভাগ্য আমাদের উপর ছেয়ে গিয়েছিল এবং আমরা ছিলাম ভ্রষ্ট সম্প্রদায়। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এখান থেকে মুক্তি দিন। এরপর যদি আমরা (দীনধর্ম ও নবী রাসুলকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করা ও পাপাচারের পথে ফিরে যাই) তবে নিশ্চয় আমরা অপরাধী হব।" (২৩ঃ ১০৬, ১০৭)।
তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে জবাব দেবেন, اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ তোমরা লাঞ্ছিত হয়ে পড়ে থাক, এবং তোমরা আমার সাথে কোন কথা বলো না। (২৩: ১০৮)। তিনি বলেন, তখন তারা সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে। এবং তখন তারা আর্তনাদ, আক্ষেপ ও ধ্বংসের মধ্যে পড়ে থাকবে।
(তিরমিযী ও বায়হাকী উভয়ে কুতবা ইবন আব্দুল আযীয এর সূত্রে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি শাহর ইব আতিয়্যা থেকে, তিনি শাহর ইবন হাওশাব থেকে, তিনি উম্মু দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা) থেকে এ হাদীস বর্ণণা করেছেন। তিরমিযী (র) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান বলেছেন, মানুষ এ হাদীস মারফু' সনদে বর্ণনা করেন না। তিনি বলেন, এ হাদীসটি আ'মাশ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি শাহর ইবন আতিয়্যা থেকে, তিনি শাহর ইবন হাওশাব থেকে, তিনি উম্মু দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটা মারফু হাদীস নয়। কুতবা ইবন আব্দুল আযীয হাদীস বিশারদদের কাছে নির্ভরযোগ্য।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي طَعَام أهل النَّار
5622- وَعَن أبي الدَّرْدَاء رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يلقى على أهل النَّار الْجُوع فيعدل مَا هم فِيهِ من الْعَذَاب فَيَسْتَغِيثُونَ فَيُغَاثُونَ بِطَعَام من ضَرِيع لَا يسمن وَلَا يُغني من جوع فَيَسْتَغِيثُونَ فَيُغَاثُونَ بِطَعَام ذِي غُصَّة فَيذكرُونَ أَنهم يجيزون الْغصَص فِي الدُّنْيَا بِالشرابِ فَيَسْتَغِيثُونَ بِالشرابِ فَيدْفَع إِلَيْهِم بِكَلَالِيب الْحَدِيد فَإِذا دنت من وُجُوههم شَوَتْ وُجُوههم فَإِذا دخلت بطونهم قطعت مَا فِي بطونهم فَيَقُولُونَ ادعوا خَزَنَة جَهَنَّم فَيَقُولُونَ ألم تَكُ تَأْتيكُمْ رسلكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بلَى قَالُوا فَادعوا وَمَا دُعَاء الْكَافرين إِلَّا فِي ضلال غَافِر 05 قَالَ فَيَقُولُونَ ادعوا مَالِكًا فَيَقُولُونَ يَا مَالك ليَقْضِ علينا رَبك الزخرف 77 قَالَ فَيُجِيبهُمْ إِنَّكُم مَاكِثُونَ الزخرف 77 قَالَ الْأَعْمَش نبئت أَن بَين دُعَائِهِمْ وَبَين إِجَابَة مَالك إيَّاهُم ألف عَام
قَالَ فَيَقُولُونَ ادعوا ربكُم فَلَا أحد خير من ربكُم فَيَقُولُونَ رَبنَا غلبت علينا شِقْوَتنَا وَكُنَّا قوما ضَالِّينَ رَبنَا أخرجنَا مِنْهَا فَإِن عدنا فَإنَّا ظَالِمُونَ الْمُؤْمِنُونَ 601 701 قَالَ فَيُجِيبهُمْ اخسؤوا فِيهَا وَلَا تكَلمُون الْمُؤْمِنُونَ 801 قَالَ فَعِنْدَ ذَلِك يئسوا من كل خير وَعند ذَلِك يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِير وَالْحَسْرَة وَالْوَيْل
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ كِلَاهُمَا عَن قُطْبَة بن عبد الْعَزِيز عَن الْأَعْمَش عَن شمر بن عَطِيَّة عَن شهر بن حَوْشَب عَن أم الدَّرْدَاء عَنهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ قَالَ عبد الله بن عبد الرَّحْمَن وَالنَّاس لَا يرفعون هَذَا الحَدِيث قَالَ وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الحَدِيث عَن الْأَعْمَش عَن شمر بن عَطِيَّة عَن شهر بن حَوْشَب عَن أم الدَّرْدَاء عَن أبي الدَّرْدَاء
قَوْله وَلَيْسَ بمرفوع وَقُطْبَة بن عبد الْعَزِيز ثِقَة عِنْد أهل الحَدِيث انْتهى
قَالَ فَيَقُولُونَ ادعوا ربكُم فَلَا أحد خير من ربكُم فَيَقُولُونَ رَبنَا غلبت علينا شِقْوَتنَا وَكُنَّا قوما ضَالِّينَ رَبنَا أخرجنَا مِنْهَا فَإِن عدنا فَإنَّا ظَالِمُونَ الْمُؤْمِنُونَ 601 701 قَالَ فَيُجِيبهُمْ اخسؤوا فِيهَا وَلَا تكَلمُون الْمُؤْمِنُونَ 801 قَالَ فَعِنْدَ ذَلِك يئسوا من كل خير وَعند ذَلِك يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِير وَالْحَسْرَة وَالْوَيْل
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ كِلَاهُمَا عَن قُطْبَة بن عبد الْعَزِيز عَن الْأَعْمَش عَن شمر بن عَطِيَّة عَن شهر بن حَوْشَب عَن أم الدَّرْدَاء عَنهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ قَالَ عبد الله بن عبد الرَّحْمَن وَالنَّاس لَا يرفعون هَذَا الحَدِيث قَالَ وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الحَدِيث عَن الْأَعْمَش عَن شمر بن عَطِيَّة عَن شهر بن حَوْشَب عَن أم الدَّرْدَاء عَن أبي الدَّرْدَاء
قَوْله وَلَيْسَ بمرفوع وَقُطْبَة بن عبد الْعَزِيز ثِقَة عِنْد أهل الحَدِيث انْتهى
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের খাবারের বর্ণনা
৫৬২৩. ইবন আব্বাস (রা) থেকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী: طَعَامًا ذَا غُصَّةٍ "গলায় আটকে যাওয়া খাদ্য" (৭৩ : ১৩) প্রসঙ্গে বর্ণিত। তিনি বলেন, এটা এক প্রকার কাঁটা, যা গলায় আটকায় ভেতরে প্রবেশও করে না এবং বেরও হয় না।।
(হাকিম শাবীব ইবন শায়বার রিওয়ায়েতে ইকরাম সূত্রে ইবন আব্বাস (রা)-এর উপর মাওকুফ রেখে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, এর সনদ সহীহ।)
(হাকিম শাবীব ইবন শায়বার রিওয়ায়েতে ইকরাম সূত্রে ইবন আব্বাস (রা)-এর উপর মাওকুফ রেখে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, এর সনদ সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي طَعَام أهل النَّار
5623- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا فِي قَوْله تَعَالَى طَعَاما ذَا غُصَّة المزمل 31 قَالَ شوك يَأْخُذ بِالْحلقِ لَا يدْخل وَلَا يخرج
رَوَاهُ الْحَاكِم مَوْقُوفا عَن شبيب بن شيبَة عَن عِكْرِمَة عَنهُ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
رَوَاهُ الْحَاكِم مَوْقُوفا عَن شبيب بن شيبَة عَن عِكْرِمَة عَنهُ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের দেহাকৃতি বড় হওয়া ও তাদের কুৎসিত হওয়ার বর্ণনা
৫৬২৪. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি জাহান্নামী কোন লোককে দুনিয়াতে বের করা হত, তবে তার বীভৎস আকৃতি ও দুর্গন্ধে দুনিয়াবাসীর নির্ঘাত মৃত্যু হত।
রাবী বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ্ (ইবন আমর) ভীষণভাবে কাঁদলেন।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া মাওকূফ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদে ইবন লাহী'আ নামক একজন সন্ধিদ্ধ রাবী রয়েছেন।)
রাবী বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ্ (ইবন আমর) ভীষণভাবে কাঁদলেন।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া মাওকূফ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদে ইবন লাহী'আ নামক একজন সন্ধিদ্ধ রাবী রয়েছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي عظم أهل النَّار وقبحهم فِيهَا
5624- عَن عبد الله بن عَمْرو رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ لَو أَن رجلا من أهل النَّار أخرج إِلَى الدُّنْيَا لمات أهل الدُّنْيَا من وَحْشَة منظره ونتن رِيحه قَالَ ثمَّ بَكَى عبد الله بكاء شَدِيدا
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا وَفِي إِسْنَاده ابْن لَهِيعَة
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا وَفِي إِسْنَاده ابْن لَهِيعَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের দেহাকৃতি বড় হওয়া ও তাদের কুৎসিত হওয়ার বর্ণনা
৫৬২৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাফিরের দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান হবে দ্রুতগামী আরোহীর তিনদিনের।
(বুখারী, মুসলিম প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লেখিত ভাষা বুখারী বর্ণিত।)
(বুখারী, মুসলিম প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লেখিত ভাষা বুখারী বর্ণিত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي عظم أهل النَّار وقبحهم فِيهَا
5625- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا بَين مَنْكِبي الْكَافِر مسيرَة ثَلَاثَة أَيَّام للراكب المسرع
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَغَيرهمَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَغَيرهمَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের দেহাকৃতি বড় হওয়া ও তাদের কুৎসিত হওয়ার বর্ণনা
৫৬২৬. তাঁরই সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাফিরের দাঁত উহুদ পর্বতের মত, তাঁর উরু হবে
বায়দা পর্বতের মত, জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে কুদায়দ ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানের সমান এবং তার দেহ হবে জাব্বার (ইয়ামানের তৎকালীন সম্রাট)-এর হাতের মাপে বিয়াল্লিশ হাত।
(আহমাদ ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা আহমাদ বর্ণিত। মুসলিম বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ "তিনি বলেন, কাফিরের পেষণ দাঁত অথবা কাফিরের সম্মুখের দাঁত উহুদ পাহাড়ের মত এবং তাঁর (দেহের) চামড়া তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ মোটা হবে।)
তিরমিযী ও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়াতের ভাষা এইঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন কাফিরের পেষণ দাঁত হবে উহুদ পর্বতের মত, তার উরু হবে বায়দা পর্বতের মত এবং জাহান্নামে তা বসার স্থান হবে রাবাযার মত তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ।" তিরমিযী (র) বলেন, হাদিসীটি হাসান গারীব।)
বায়দা পর্বতের মত, জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে কুদায়দ ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানের সমান এবং তার দেহ হবে জাব্বার (ইয়ামানের তৎকালীন সম্রাট)-এর হাতের মাপে বিয়াল্লিশ হাত।
(আহমাদ ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা আহমাদ বর্ণিত। মুসলিম বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ "তিনি বলেন, কাফিরের পেষণ দাঁত অথবা কাফিরের সম্মুখের দাঁত উহুদ পাহাড়ের মত এবং তাঁর (দেহের) চামড়া তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ মোটা হবে।)
তিরমিযী ও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়াতের ভাষা এইঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন কাফিরের পেষণ দাঁত হবে উহুদ পর্বতের মত, তার উরু হবে বায়দা পর্বতের মত এবং জাহান্নামে তা বসার স্থান হবে রাবাযার মত তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ।" তিরমিযী (র) বলেন, হাদিসীটি হাসান গারীব।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي عظم أهل النَّار وقبحهم فِيهَا
5626- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ ضرس الْكَافِر مثل أحد وَفَخذه مثل الْبَيْضَاء ومقعده من النَّار كَمَا بَين قديد وَمَكَّة وكثافة جسده اثْنَان وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعا بِذِرَاع الْجَبَّار
رَوَاهُ أَحْمد وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَلَفظه
قَالَ ضرس الْكَافِر مثل أحد وَغلظ جلده مسيرَة ثَلَاث
وَالتِّرْمِذِيّ وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ضرس الْكَافِر يَوْم الْقِيَامَة مثل أحد وَفَخذه مثل الْبَيْضَاء ومقعده من النَّار مسيرَة ثَلَاث مثل الربذَة
وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
رَوَاهُ أَحْمد وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَلَفظه
قَالَ ضرس الْكَافِر مثل أحد وَغلظ جلده مسيرَة ثَلَاث
وَالتِّرْمِذِيّ وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ضرس الْكَافِر يَوْم الْقِيَامَة مثل أحد وَفَخذه مثل الْبَيْضَاء ومقعده من النَّار مسيرَة ثَلَاث مثل الربذَة
وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের দেহাকৃতি বড় হওয়া ও তাদের কুৎসিত হওয়ার বর্ণনা
৫৬২৭. তিরমিযীর অপর এক রিওয়ায়াতে আছে, তিনি বলেন, নিশ্চয় কাফিরের দেহের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ হাত মোটা, তাঁর পেষণ দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান এবং জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানের সমান।
(তিরমিযী (র) এ রেওয়াতটি সম্পর্কে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। ইবন হিব্বান ও তাঁর সহীহ্ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ "তিনি বলেন, কাফিরের দেহের চামড়া হবে জাব্বারের হাতের মাপে বিয়াল্লিশ হাত, তাঁর পেষণ দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মত।"
হাকিম এ হাদীস বর্ণনা করে তাঁর সনদ ও বক্তব্য উভয়টিকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। এটা আহমাদেরও একটি উৎকৃষ্ট সনদে বর্ণিত রিওয়ায়েত। তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন কাফিরের পেষণ দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মত, তার চামড়ার প্রস্থ হবে সত্তর হাত, তার বাহু হবে বায়দা পর্বতের মত, তার উরু হবে ওয়ারকান পর্বতের মত এবং জাহান্নামে তার বসার স্তান হবে আমার ও রাবাযার মধ্যবর্তী স্থানেসর সমান।
আবু হুরায়রা (রা) বলেন, বলা হত যে, তা পেট হবে ইদাম পর্বতের পেটের মত।
শব্দ বিশ্লেষণঃ لجبار। তৎকালীন ইয়ামানের সম্রাট। তার একপ্রকার বিশেষ মাপ ছিল। ইবন হিব্বান প্রমুখ তাই বলেছেন। কারও মতে একজন অনারবীর সম্রাটের নাম।)
(তিরমিযী (র) এ রেওয়াতটি সম্পর্কে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। ইবন হিব্বান ও তাঁর সহীহ্ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ "তিনি বলেন, কাফিরের দেহের চামড়া হবে জাব্বারের হাতের মাপে বিয়াল্লিশ হাত, তাঁর পেষণ দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মত।"
হাকিম এ হাদীস বর্ণনা করে তাঁর সনদ ও বক্তব্য উভয়টিকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। এটা আহমাদেরও একটি উৎকৃষ্ট সনদে বর্ণিত রিওয়ায়েত। তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন কাফিরের পেষণ দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মত, তার চামড়ার প্রস্থ হবে সত্তর হাত, তার বাহু হবে বায়দা পর্বতের মত, তার উরু হবে ওয়ারকান পর্বতের মত এবং জাহান্নামে তার বসার স্তান হবে আমার ও রাবাযার মধ্যবর্তী স্থানেসর সমান।
আবু হুরায়রা (রা) বলেন, বলা হত যে, তা পেট হবে ইদাম পর্বতের পেটের মত।
শব্দ বিশ্লেষণঃ لجبار। তৎকালীন ইয়ামানের সম্রাট। তার একপ্রকার বিশেষ মাপ ছিল। ইবন হিব্বান প্রমুখ তাই বলেছেন। কারও মতে একজন অনারবীর সম্রাটের নাম।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي عظم أهل النَّار وقبحهم فِيهَا
5627- وَفِي رِوَايَة لِلتِّرْمِذِي قَالَ إِن غلظ جلد الْكَافِر اثْنَان وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعا وَإِن ضرسه مثل أحد وَإِن مَجْلِسه من جَهَنَّم مَا بَين مَكَّة وَالْمَدينَة
وَقَالَ فِي هَذِه حَدِيث حسن غَرِيب صَحِيح وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ جلد الْكَافِر اثْنَان وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعا بِذِرَاع الْجَبَّار وضرسه مثل أحد وَرَوَاهُ الْحَاكِم وَصَححهُ وَلَفظه وَهُوَ رِوَايَة لِأَحْمَد بِإِسْنَاد جيد قَالَ
ضرس الْكَافِر يَوْم الْقِيَامَة مثل أحد وَعرض جلده سَبْعُونَ ذِرَاعا وعضده مثل الْبَيْضَاء وَفَخذه مثل ورقان ومقعده من النَّار مَا بيني وَبَين الربذَة
قَالَ أَبُو هُرَيْرَة وَكَانَ يُقَال بَطْنه مثل بطن إضم
الْجَبَّار ملك بِالْيمن لَهُ ذِرَاع مَعْرُوف الْمِقْدَار كَذَا قَالَ ابْن حبَان وَغَيره وَقيل ملك بالعجم
وَقَالَ فِي هَذِه حَدِيث حسن غَرِيب صَحِيح وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ جلد الْكَافِر اثْنَان وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعا بِذِرَاع الْجَبَّار وضرسه مثل أحد وَرَوَاهُ الْحَاكِم وَصَححهُ وَلَفظه وَهُوَ رِوَايَة لِأَحْمَد بِإِسْنَاد جيد قَالَ
ضرس الْكَافِر يَوْم الْقِيَامَة مثل أحد وَعرض جلده سَبْعُونَ ذِرَاعا وعضده مثل الْبَيْضَاء وَفَخذه مثل ورقان ومقعده من النَّار مَا بيني وَبَين الربذَة
قَالَ أَبُو هُرَيْرَة وَكَانَ يُقَال بَطْنه مثل بطن إضم
الْجَبَّار ملك بِالْيمن لَهُ ذِرَاع مَعْرُوف الْمِقْدَار كَذَا قَالَ ابْن حبَان وَغَيره وَقيل ملك بالعجم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের দেহাকৃতি বড় হওয়া ও তাদের কুৎসিত হওয়ার বর্ণনা
৫৬২৮. হযরত ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কাফেরের জিহবা এক দুই ফরসখ'১ লম্বা করে দেওয়া হবে, মানুষ তা পায়ে মাড়াবে।
(তিরমিযী (র) ফযল ইবন ইয়াযীদের রিওয়ায়েতে আবুল মুখারিকের সূত্রে ইবন আমর (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এ হাদীস আমাদের জানা মতে, কেবল এ সনদেই বর্ণিত। ফযল ইবন ইয়াযীদ কূফার অধিবাসী। একাধিক ইমাম তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবুল মুখারিক কোন মশহুর রাবী নন।
[হাফিয (র) বলেনঃ], ফযল ইবন ইয়াযীদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
*এক ফরসখ সোয়া তিন মাইল।
(তিরমিযী (র) ফযল ইবন ইয়াযীদের রিওয়ায়েতে আবুল মুখারিকের সূত্রে ইবন আমর (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এ হাদীস আমাদের জানা মতে, কেবল এ সনদেই বর্ণিত। ফযল ইবন ইয়াযীদ কূফার অধিবাসী। একাধিক ইমাম তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবুল মুখারিক কোন মশহুর রাবী নন।
[হাফিয (র) বলেনঃ], ফযল ইবন ইয়াযীদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
*এক ফরসখ সোয়া তিন মাইল।
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي عظم أهل النَّار وقبحهم فِيهَا
5628- وَعَن ابْن عَمْرو رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الْكَافِر ليسحب لِسَانه الفرسخ والفرسخين يتوطؤه النَّاس
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن الْفضل بن يزِيد عَن أبي الْمخَارِق عَنهُ وَقَالَ هَذَا حَدِيث إِنَّمَا نعرفه من هَذَا الْوَجْه وَالْفضل بن يزِيد كُوفِي قد روى عَنهُ غير وَاحِد من الْأَئِمَّة وَأَبُو الْمخَارِق لَيْسَ بِمَعْرُوف انْتهى
قَالَ الْحَافِظ رَوَاهُ الْفضل بن يزِيد
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن الْفضل بن يزِيد عَن أبي الْمخَارِق عَنهُ وَقَالَ هَذَا حَدِيث إِنَّمَا نعرفه من هَذَا الْوَجْه وَالْفضل بن يزِيد كُوفِي قد روى عَنهُ غير وَاحِد من الْأَئِمَّة وَأَبُو الْمخَارِق لَيْسَ بِمَعْرُوف انْتهى
قَالَ الْحَافِظ رَوَاهُ الْفضل بن يزِيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬২৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের দেহাকৃতি বড় হওয়া ও তাদের কুৎসিত হওয়ার বর্ণনা
৫৬২৯. হযরত আবুল আজলান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন কিয়ামতের দিন কাফির তার জিহবাকে দুই ফরসখ পর্যন্ত লম্বা করে দেবে, মানুষ তা পায়ে মাড়াবে।
(বায়হাকী প্রমুখ হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। এটাই সঠিক।)
"আবুল মুখারিক খ্যাতনামা কোন রাবী নন" তিরমিযীর এ উক্তি সঠিক তাঁর ধারণা প্রসূত। বুখারী 'আল-কুনা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তিনিই আবুল আজলান মুহারিবী। হাফিয আবু বকর মারবা বলেন, এ সনদে আলোচ্য হাদীসটি ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে তাঁর অন্য কোন হাদীস নেই।)
(বায়হাকী প্রমুখ হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। এটাই সঠিক।)
"আবুল মুখারিক খ্যাতনামা কোন রাবী নন" তিরমিযীর এ উক্তি সঠিক তাঁর ধারণা প্রসূত। বুখারী 'আল-কুনা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তিনিই আবুল আজলান মুহারিবী। হাফিয আবু বকর মারবা বলেন, এ সনদে আলোচ্য হাদীসটি ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে তাঁর অন্য কোন হাদীস নেই।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي عظم أهل النَّار وقبحهم فِيهَا
5629- عَن أبي العجلان قَالَ سَمِعت عبد الله بن عَمْرو بن العَاصِي رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الْكَافِر ليجر لِسَانه فرسخين يَوْم الْقِيَامَة يتوطؤه النَّاس
أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَغَيره وَهُوَ الصَّوَاب وَقَول التِّرْمِذِيّ أَبُو الْمخَارِق لَيْسَ بِمَعْرُوف وهم إِنَّمَا هُوَ أَبُو العجلان الْمحَاربي ذكره البُخَارِيّ فِي الكنى وَقَالَ أَبُو بكر مربع الْحَافِظ لَيْسَ لَهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِهَذَا الْإِسْنَاد إِلَّا هَذَا الحَدِيث انْتهى
أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَغَيره وَهُوَ الصَّوَاب وَقَول التِّرْمِذِيّ أَبُو الْمخَارِق لَيْسَ بِمَعْرُوف وهم إِنَّمَا هُوَ أَبُو العجلان الْمحَاربي ذكره البُخَارِيّ فِي الكنى وَقَالَ أَبُو بكر مربع الْحَافِظ لَيْسَ لَهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِهَذَا الْإِسْنَاد إِلَّا هَذَا الحَدِيث انْتهى
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৩০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামীদের দেহাকৃতি বড় হওয়া ও তাদের কুৎসিত হওয়ার বর্ণনা
৫৬৩০. তাঁর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামীদের দেহ এত বিশাল হবে যে, তাদের প্রত্যেকের কানের লতি থেকে তার কাঁধ পর্যন্ত সাতশ বছরের দূরত্ব হবে। তার চামড়া সত্তর হাত মোটা হবে এবং তার পেষন দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মত।
(আহমাদ ও তাবারানী 'আল কাবীর' ও 'আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ হাসানের কাছাকছি।)
(আহমাদ ও তাবারানী 'আল কাবীর' ও 'আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ হাসানের কাছাকছি।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي عظم أهل النَّار وقبحهم فِيهَا
5630- وَعنهُ أَيْضا رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يعظم أهل النَّار فِي النَّار حَتَّى إِن بَين شحمة أذن أحدهم إِلَى عَاتِقه مسيرَة سَبْعمِائة عَام وَإِن غلظ جلده سَبْعُونَ ذِرَاعا وَإِن ضرسه مثل أحد
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط وَإِسْنَاده قريب من الْحسن
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط وَإِسْنَاده قريب من الْحسن
তাহকীক: