আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ২৪৮ টি
হাদীস নং: ৫৬৫১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের কান্নাকাটি ও আর্তনাদের বর্ণনা
৫৬৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জাহান্নামীদেরকে কাঁদতে বলা হবে তখন তারা এত কাঁদবে যে, তাদের অশ্রু শুকিয়ে যাবে, এরপর তারা রক্ত কান্না কাঁদবে। ফলে তাদের চেহারায় গর্তের মত হয়ে যাবে। যদি তাতে নৌকা চালানো হয়, তবে নির্ঘাৎ নৌকাও চলবে।
(ইবন মাজাহ ও আবু ইয়ালা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়া'লার বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ
তিনি বলেন, আমি রাসুলাল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, হে মানুষ সকল, তোমরা কাঁদো। যদি তোমরা না
কাঁদো, তবে তোমরা কান্নার ভান কর। কেননা, জাহান্নামীরা জাহান্নামে এভাবে কাঁদবে যে, তাদের অশ্রু তাদের গণ্ডদেশ দিয়ে বেয়ে পড়বে, যেন তাদের গণ্ডদেশগুলো হবে পানির নালা। অবশেষে অশ্রু বন্ধ হয়ে যাবে, অতঃপর রক্ত প্রবাহিত হবে। ফলে নালা তৈরী করে ফেলবে। উভয়ের সনদে ইয়াযীদ রাক্কাশী নামক একজন সন্ধিগ্ধ রাবী রয়েছে। ইবন মাজার অবশিষ্ট রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। বুখারীও মুসলিম তাদেরকে প্রমাণস্বরূপ গ্রহণ করেছেন।
হাতিম আব্দুল্লাহ ইবন কায়স (রা)-এর সনদে মারফু সূত্রে সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: জাহান্নামীরা এভাবে কাঁদবে যে, যদি তাদের অশ্রুতে নৌকা চালানো হয়, তবে নৌকা চলবে, এবং তারা অশ্রুর বদলে রক্ত কান্না কাঁদবে। তিনি বলেন, হাদীসের সনদ সহীহ।)
(ইবন মাজাহ ও আবু ইয়ালা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়া'লার বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ
তিনি বলেন, আমি রাসুলাল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, হে মানুষ সকল, তোমরা কাঁদো। যদি তোমরা না
কাঁদো, তবে তোমরা কান্নার ভান কর। কেননা, জাহান্নামীরা জাহান্নামে এভাবে কাঁদবে যে, তাদের অশ্রু তাদের গণ্ডদেশ দিয়ে বেয়ে পড়বে, যেন তাদের গণ্ডদেশগুলো হবে পানির নালা। অবশেষে অশ্রু বন্ধ হয়ে যাবে, অতঃপর রক্ত প্রবাহিত হবে। ফলে নালা তৈরী করে ফেলবে। উভয়ের সনদে ইয়াযীদ রাক্কাশী নামক একজন সন্ধিগ্ধ রাবী রয়েছে। ইবন মাজার অবশিষ্ট রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। বুখারীও মুসলিম তাদেরকে প্রমাণস্বরূপ গ্রহণ করেছেন।
হাতিম আব্দুল্লাহ ইবন কায়স (রা)-এর সনদে মারফু সূত্রে সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: জাহান্নামীরা এভাবে কাঁদবে যে, যদি তাদের অশ্রুতে নৌকা চালানো হয়, তবে নৌকা চলবে, এবং তারা অশ্রুর বদলে রক্ত কান্না কাঁদবে। তিনি বলেন, হাদীসের সনদ সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بكائهم وشهيقهم
5651- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يُرْسل الْبكاء على أهل النَّار فيبكون حَتَّى تَنْقَطِع الدُّمُوع ثمَّ يَبْكُونَ الدَّم حَتَّى يصير فِي وُجُوههم كَهَيئَةِ الْأُخْدُود لَو أرْسلت فِيهَا السفن لجرت
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَأَبُو يعلى وَلَفظه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول يَا أَيهَا النَّاس ابكوا فَإِن لم تبكوا فتباكوا فَإِن أهل النَّار يَبْكُونَ فِي النَّار حَتَّى تسيل دموعهم فِي خدودهم كَأَنَّهَا جداول حَتَّى تَنْقَطِع الدُّمُوع فيسيل يَعْنِي الدَّم فيقرح الْعُيُون
وَفِي إسنادهما يزِيد الرقاشِي وَبَقِيَّة رُوَاة ابْن مَاجَه ثِقَات احْتج بهم البُخَارِيّ وَمُسلم
وَرَوَاهُ الْحَاكِم مُخْتَصرا عَن عبد الله بن قيس مَرْفُوعا قَالَ إِن أهل النَّار ليبكون حَتَّى لَو أجريت السفن فِي دموعهم لجرت وَإِنَّهُم ليبكون الدَّم مَكَان الدمع
وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَأَبُو يعلى وَلَفظه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول يَا أَيهَا النَّاس ابكوا فَإِن لم تبكوا فتباكوا فَإِن أهل النَّار يَبْكُونَ فِي النَّار حَتَّى تسيل دموعهم فِي خدودهم كَأَنَّهَا جداول حَتَّى تَنْقَطِع الدُّمُوع فيسيل يَعْنِي الدَّم فيقرح الْعُيُون
وَفِي إسنادهما يزِيد الرقاشِي وَبَقِيَّة رُوَاة ابْن مَاجَه ثِقَات احْتج بهم البُخَارِيّ وَمُسلم
وَرَوَاهُ الْحَاكِم مُخْتَصرا عَن عبد الله بن قيس مَرْفُوعا قَالَ إِن أهل النَّار ليبكون حَتَّى لَو أجريت السفن فِي دموعهم لجرت وَإِنَّهُم ليبكون الدَّم مَكَان الدمع
وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
হাদীস নং: ৫৬৫২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত ও জান্নাতের নিয়ামতসমূহের প্রতি উৎসাহ দান: এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
৫৬৫২. হযরত আবু বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধ মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, সে জান্নাতের সুবাস পাবে না। অথচ জান্নাতের সুবাস একশ' বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।
অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, নিশ্চয় জান্নাতের সুবাস পাঁচশ' বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।
(ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, নিশ্চয় জান্নাতের সুবাস পাঁচশ' বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।
(ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْغِيب فِي الْجنَّة وَنَعِيمهَا ويشتمل على فُصُول
5652- عَن أبي بكرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من قتل نفسا معاهدة بِغَيْر حَقّهَا لم يرح رَائِحَة الْجنَّة فَإِن ريح الْجنَّة ليوجد من مسيرَة مائَة عَام
وَفِي رِوَايَة وَإِن لريحها ليوجد من مسيرَة خَمْسمِائَة عَام
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
وَفِي رِوَايَة وَإِن لريحها ليوجد من مسيرَة خَمْسمِائَة عَام
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৫৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত ও জান্নাতের নিয়ামতসমূহের প্রতি উৎসাহ দান: এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
৫৬৫৩. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতের সুবাস এক হাজার
বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে। আল্লাহর কসম, (পিতা-মাতার) অবাধ্যচারণকারী ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী সুবাস পাবে না।
(তাবারানী জাবির জু'ফীর রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। জান্নাতের সুবাস সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস এ কিতাবের বিভিন্ন স্থানে পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। সেগুলোর আর পুনরুল্লেখ করব না।)
বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে। আল্লাহর কসম, (পিতা-মাতার) অবাধ্যচারণকারী ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী সুবাস পাবে না।
(তাবারানী জাবির জু'ফীর রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। জান্নাতের সুবাস সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস এ কিতাবের বিভিন্ন স্থানে পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। সেগুলোর আর পুনরুল্লেখ করব না।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْغِيب فِي الْجنَّة وَنَعِيمهَا ويشتمل على فُصُول
5653- وَعَن جَابر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ريح الْجنَّة يُوجد من مسيرَة ألف عَام وَالله لَا يجدهَا عَاق وَلَا قَاطع رحم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ من رِوَايَة جَابر الْجعْفِيّ وَتقدم غير مَا حَدِيث فِيهِ ذكر رَائِحَة الْجنَّة فِي أَمَاكِن مُتَفَرِّقَة من هَذَا الْكتاب لم نعدها
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ من رِوَايَة جَابر الْجعْفِيّ وَتقدم غير مَا حَدِيث فِيهِ ذكر رَائِحَة الْجنَّة فِي أَمَاكِن مُتَفَرِّقَة من هَذَا الْكتاب لم نعدها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৫৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৫৪. হযরত খালিদ ইবন উমায়র (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উতবা ইব্ন গাযুওয়ান (রা) আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর স্তুতিবাদ করলেন। তারপর বললেন; অতঃপর দুনিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং দ্রুত মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। থালার তলার সামান্য পানির মত দুনিয়ার কেবল সামান্য অংশই অবশিষ্ট রয়েছে, যা থালার মালিক পান করবে। নিশ্চয় তোমরা এমন এক জগতে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছ যা কখনও শেষ হবার নয়। সুতরাং তোমাদের কাছে যা কিছু রয়েছে, তার মধ্য থেকে উত্তম বস্তু নিয়ে তোমরা এ জগত থেকে স্থানান্তরিত হও। কেননা আমাদেরকে একথা বলা হয়েছে যে, জান্নাতের দরজাগুলো একপাট থেকে অপর পার্ট পর্যন্ত চল্লিশ বছরের দূরত্ব পরিমাণ প্রশস্ত হবে। অথচ এমন এক সময় আসবে যখন সে দরজা লোকের ভিড়ে পূর্ণ থাকবে।
(আহমাদ ও আবু ইয়া'লা আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর রিওয়াতেতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে সাংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, জান্নাতের দরজার দু'টি পাটের মাঝে চল্লিশ বছরের দূরত্ব। হাদীসটির সনদে 'ইদতিরাব' রয়েছে।)
(আহমাদ ও আবু ইয়া'লা আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর রিওয়াতেতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে সাংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, জান্নাতের দরজার দু'টি পাটের মাঝে চল্লিশ বছরের দূরত্ব। হাদীসটির সনদে 'ইদতিরাব' রয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5654- وَعَن خَالِد بن عُمَيْر قَالَ خَطَبنَا عتبَة بن غَزوَان رَضِي الله عَنهُ فَحَمدَ الله وَأثْنى
عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ أما بعد فَإِن الدُّنْيَا قد آذَنت بِصرْم وَوَلَّتْ حذاء وَلم يبْق مِنْهَا إِلَّا صبَابَة كَصُبَابَةِ الْإِنَاء يصطبها صَاحبهَا وَإِنَّكُمْ منتقلون مِنْهَا إِلَى دَار لَا زَوَال لَهَا فانتقلوا بِخَير مَا يحضرنكم وَلَقَد ذكر لنا أَن مصراعين من مصاريع الْجنَّة بَينهمَا مسيرَة أَرْبَعِينَ سنة وليأتين عَلَيْهِ يَوْم وَهُوَ كظيط من الزحام
رَوَاهُ مُسلم هَكَذَا مَوْقُوفا وَتقدم بِتَمَامِهِ فِي الزّهْد
وَرَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى من حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مُخْتَصرا قَالَ مَا بَين مصراعين فِي الْجنَّة كمسيرة أَرْبَعِينَ سنة
وَفِي إِسْنَاده اضْطِرَاب
عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ أما بعد فَإِن الدُّنْيَا قد آذَنت بِصرْم وَوَلَّتْ حذاء وَلم يبْق مِنْهَا إِلَّا صبَابَة كَصُبَابَةِ الْإِنَاء يصطبها صَاحبهَا وَإِنَّكُمْ منتقلون مِنْهَا إِلَى دَار لَا زَوَال لَهَا فانتقلوا بِخَير مَا يحضرنكم وَلَقَد ذكر لنا أَن مصراعين من مصاريع الْجنَّة بَينهمَا مسيرَة أَرْبَعِينَ سنة وليأتين عَلَيْهِ يَوْم وَهُوَ كظيط من الزحام
رَوَاهُ مُسلم هَكَذَا مَوْقُوفا وَتقدم بِتَمَامِهِ فِي الزّهْد
وَرَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى من حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مُخْتَصرا قَالَ مَا بَين مصراعين فِي الْجنَّة كمسيرة أَرْبَعِينَ سنة
وَفِي إِسْنَاده اضْطِرَاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৫৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৫৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয় জান্নাতের দরজার পাটসমূহ থেকে দুটি পাটের মধ্যবর্তী স্থান হবে মক্কা ও হজর এবং হজর ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানের সমান।
(বুখারী ও মুসলিম অপর এক হাসীদের অনুসঙ্গে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাও সাংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, মক্কা ও হজরের মধ্যবর্তী স্থানের সমান, অথবা মক্কা ও বুসরার মধ্যবর্তী স্থানের সমান।)
(বুখারী ও মুসলিম অপর এক হাসীদের অনুসঙ্গে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাও সাংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, মক্কা ও হজরের মধ্যবর্তী স্থানের সমান, অথবা মক্কা ও বুসরার মধ্যবর্তী স্থানের সমান।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5655- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ إِن مَا بَين مصراعين من مصاريع الْجنَّة لَكمَا بَين مَكَّة وهجر وهجر وَمَكَّة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم فِي حَدِيث وَابْن مَاجَه مُخْتَصرا إِلَّا أَنه قَالَ لَكمَا بَين مَكَّة وهجر أَو كَمَا بَين مَكَّة وَبصرى
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم فِي حَدِيث وَابْن مَاجَه مُخْتَصرا إِلَّا أَنه قَالَ لَكمَا بَين مَكَّة وهجر أَو كَمَا بَين مَكَّة وَبصرى
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৫৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৫৬. হযরত সাহল ইবন সাদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার অথবা সাত লক্ষ লোক সম্মিলিতভাবে একে অপরের হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ না করা পর্যন্ত প্রথম ব্যক্তি প্রবেশ করবে না। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত।
(বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5656- وَعَن سهل بن سعد رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ ليدخلن الْجنَّة من أمتِي سَبْعُونَ ألفا أَو سَبْعمِائة ألف متماسكون آخذ بَعضهم بِبَعْض لَا يدْخل أَوَّلهمْ حَتَّى يدْخل آخِرهم وُجُوههم على صُورَة الْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৫৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৫৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দল পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত চেহারা নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং যারা তাদের পর প্রবেশ করবে, তারা আকাশের অতি উজ্জ্বল তারকার মত চেহারা নিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের মলমূত্র ত্যাগ এবং শ্লেষ্মা ও থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না। তাদের চিরুনী হবে সোনার, তাদের ঘাম হবে মিশক , তাদের খুশবুদানীতে থাকবে আগরকাষ্ঠ, তাদের স্ত্রী হবে আয়াতলোচনা হুর, তাদের স্বভাব চরিত্র হবে এক ব্যক্তির চরিত্রের মত। তারা তাদের পিতা আদম (আ)-এর আকারের ষাট হাত বিশিষ্ট লম্বা আকারের মত আকার বিশিষ্ট হবে।
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5657- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن أول زمرة يدْخلُونَ الْجنَّة على صُورَة الْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر وَالَّذين يَلُونَهُمْ على أَشد كَوْكَب دري فِي السَّمَاء إضاءة لَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ وَلَا يَتْفلُونَ أمشاطهم الذَّهَب ورشحهم الْمسك ومجامرهم الألوة أَزوَاجهم الْحور الْعين أَخْلَاقهم على خلق رجل وَاحِد على صُورَة أَبِيهِم آدم سِتُّونَ ذِرَاعا فِي السَّمَاء
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৫৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৫৮. অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রথম দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার রাতের চাদের চেহারার মত। সেখানে তাদের শুধু শ্লেষ্মা ও মলত্যাগের প্রয়োজন হবে না, তাদের তৈজসপত্র হবে সোনার, তাদের চিরুনী ও সোনা ও রূপার, তাদের খুশবুদানীতে থাকবে আগরকাষ্ঠ, তাদের ঘাম হবে মিশক। তাদের প্রত্যেকের থাকবে দু'জন স্ত্রী। সৌন্দর্যের কারণে মাংসের উপর থেকে তাদের পায়ের গোছার মগজ দেখা যাবে। তাদের মধ্যে পরস্পরে কোন বিরোধ ও হিংসা থাকবে না। তাদের অন্তর হবে একাত্মা। তারা সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ্ পাঠ করবে।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত।)
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5658- وَفِي رِوَايَة قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أول زمرة تلج الْجنَّة صورهم على صُورَة الْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر لَا يبصقون فِيهَا وَلَا يَمْتَخِطُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ آنيتهم فِيهَا الذَّهَب أمشاطهم من الذَّهَب وَالْفِضَّة ومجامرهم الألوة ورشحهم الْمسك لكل وَاحِد مِنْهُم زوجتان يرى مخ
سوقهما من وَرَاء اللَّحْم من الْحسن لَا اخْتِلَاف بَينهم وَلَا تباغض قُلُوبهم قلب وَاحِد يسبحون الله بكرَة وعشيا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهما وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
سوقهما من وَرَاء اللَّحْم من الْحسن لَا اخْتِلَاف بَينهم وَلَا تباغض قُلُوبهم قلب وَاحِد يسبحون الله بكرَة وعشيا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهما وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৫৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৫৯. মুসলিমের অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, নবী (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মাতের প্রথম দল পূর্ণিমার চাঁদের মত চেহারা নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপর যারা প্রবেশ করবে, তারা আকাশের সর্বাধিক উজ্জ্বল তারকার মত চেহারা নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপর তারা ক্রমস্তর অনুসারে জান্নাতে প্রবেশ করবে.... তারপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, ইবন আবি শায়বা বলেছেন, তাদের স্বভাব চরিত্র হবে, এক ব্যক্তির চরিত্রের মত, কিন্তু আবু কুরায়ব বলেছেন, তারা সবাই হবে এক আকৃতি বিশিষ্ট। (অর্থাৎ আরবী خلق শব্দস্থলে خلق)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5659- وَفِي رِوَايَة لمُسلم أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أول زمرة يدْخلُونَ الْجنَّة من أمتِي على صُورَة الْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ على أَشد نجم فِي السَّمَاء إضاءة ثمَّ هم بعد ذَلِك منَازِل فَذكر الحَدِيث وَقَالَ قَالَ ابْن أبي شيبَة على خلق رجل يَعْنِي بِضَم الْخَاء
وَقَالَ أَبُو كريب على خلق يَعْنِي بِفَتْحِهَا
وَقَالَ أَبُو كريب على خلق يَعْنِي بِفَتْحِهَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৬০. হযরত মু'আয ইবন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতীরা কেশ-দাড়িবিহীন দেহ,
সুরমা নিয়ে তেত্রিশ বছর বয়সী অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। তিনি আবু হুরায়রা (রা)-এর রিওয়ায়েতেও
বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি গরীব। উক্ত রিওয়ায়েতের ভাষা হচ্ছেঃ "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতীরা হবে কেশ দাড়িহীন দেহ ও সুরমা মণ্ডিত চোখ বিশিষ্ট। তাদের যৌবন নষ্ট হবে না এবং তাদের কাপড় জীর্ণ মলিন হবে না।")
সুরমা নিয়ে তেত্রিশ বছর বয়সী অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। তিনি আবু হুরায়রা (রা)-এর রিওয়ায়েতেও
বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি গরীব। উক্ত রিওয়ায়েতের ভাষা হচ্ছেঃ "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতীরা হবে কেশ দাড়িহীন দেহ ও সুরমা মণ্ডিত চোখ বিশিষ্ট। তাদের যৌবন নষ্ট হবে না এবং তাদের কাপড় জীর্ণ মলিন হবে না।")
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5660- وَعَن معَاذ بن جبل رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يدْخل أهل الْجنَّة الْجنَّة جردا مردا مُكَحَّلِينَ بني ثَلَاث وَثَلَاثِينَ
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَرَوَاهُ أَيْضا من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَقَالَ غَرِيب وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أهل الْجنَّة جرد مرد كحل لَا يفنى شبابهم وَلَا تبلى ثِيَابهمْ
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَرَوَاهُ أَيْضا من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَقَالَ غَرِيب وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أهل الْجنَّة جرد مرد كحل لَا يفنى شبابهم وَلَا تبلى ثِيَابهمْ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৬১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতীরা কেশ-দাড়িহীন দেহ, শুভ্র চেহারা কোঁকড়ানো চুল ও সুরমামণ্ডিত চোখ নিয়ে তেত্রিশ বছর বয়সী অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা আদম (আ)-এর অবয়বে ষাট হাত লম্বা ও সাত হাত প্রস্থ বিশিষ্ট হবে।
(আহমাদ, ইবন আবিদ-দুনিয়া, তাবারানী, বায়হাকী সকলেই আলী ইব্ন যায়দ ইবন জাদ'আন-এর রিওয়ায়েতে ইবন মুসায়্যিব সূত্রে আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(আহমাদ, ইবন আবিদ-দুনিয়া, তাবারানী, বায়হাকী সকলেই আলী ইব্ন যায়দ ইবন জাদ'আন-এর রিওয়ায়েতে ইবন মুসায়্যিব সূত্রে আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5661- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يدْخل أهل الْجنَّة الْجنَّة جردا مردا بيضًا جِعَادًا مُكَحَّلِينَ أَبنَاء ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وهم على خلق آدم سِتُّونَ ذِرَاعا فِي عرض سَبْعَة أَذْرع
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ كلهم من رِوَايَة عَليّ بن زيد بن جدعَان عَن ابْن الْمسيب عَنهُ
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ كلهم من رِوَايَة عَليّ بن زيد بن جدعَان عَن ابْن الْمسيب عَنهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৬২. হযরত মিকদাম (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যেকোন মানুষ অসম্পূর্ণ অবস্থায় অথবা বৃদ্ধাবস্থার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করে, তাদের প্রত্যেককে তেত্রিশ বছর বয়সী অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে সে আদম (আ)-এর গঠনে, ইউসুফ (আ)-এর আকৃতিতে এবং আইউব (আ)-এর মত অন্তর নিয়ে উঠবে। আর যে জাহান্নামী হবে, সে পর্বতের ন্যায় বিশাল আকৃতি বিশিষ্ট ও মোটা হবে।
(বায়হাকী হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বায়হাকী হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي صفة دُخُول أهل الْجنَّة الْجنَّة وَغير ذَلِك
5662- وَعَن الْمِقْدَام رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا من أحد يَمُوت سقطا وَلَا هرما وَإِنَّمَا النَّاس فِيمَا بَين ذَلِك إِلَّا بعث ابْن ثَلَاث وَثَلَاثِينَ سنة فَإِن كَانَ من أهل الْجنَّة كَانَ على مسحة آدم وَصُورَة يُوسُف وقلب أَيُّوب
وَمن كَانَ من أهل النَّار عظموا وفخموا كالجبال
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد حسن
وَمن كَانَ من أهل النَّار عظموا وفخموا كالجبال
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد حسن
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৩. হযরত মুগীরা ইবন শু'বা (রা) এ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত মূসা (আ) তাঁর প্রতিপালককে জিজ্ঞেস করলেন, মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতী কে? জবাবে তিনি বললেন, এমন ব্যক্তি যে অন্য সমস্ত জান্নাতী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করার পর আসবে। তাকে বলা হবে, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবে, হে আমার রব! কিভাবে প্রবেশ করব, মানুষ তো নিজ নিজ স্থান নিয়ে নিয়েছে এবং তারা তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের থেকে কোন এক বাদশাহর রাজত্বের সমান তোমার মালিকানা হোক? সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। আমি সন্তুষ্ট। তিনি তাকে বলবেন, তোমাকে এতটুকু এবং তার সাথ তার সমান, তার সাথে তার সমান, তার সাথে তার সমান দিলাম। পঞ্চমবারে সে বলবে, হে আমার রব। আমি সন্তুষ্ট হয়েছি তিনি বলবেন, তোমাকে এতটুকু এবং এর সাথে তার দশগুণ দিলাম এবং তোমার মন যা চায় এবং তোমার চোখ যাতে জুড়ায় তাও তোমাকে দিলাম। সে বলবে, হে আমার রব। আমি সন্তুষ্ট হয়েছি।
মূসা (আ) বললেন, হে আমার রব। তা হলে মর্যাদার দিক থেকে যে থাকবে (তার অবস্থা কী হবে? সর্বোচ্চ তিনি বললেন, তারা হবে যেসব লোক, যাদেরকে আমি সম্মান দিতে ইচ্ছা করেছি, আমি আমার হাতে তাদের সম্মানের বীজ বপন করেছি, তার উপর মোহরাম্ভিত করে দিয়েছে, যা কোন চোখ কোন দিন দেখেনি, কোন কান কোন দিন শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে যার কল্পনা কোনদিন ও জাগেনি।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
মূসা (আ) বললেন, হে আমার রব। তা হলে মর্যাদার দিক থেকে যে থাকবে (তার অবস্থা কী হবে? সর্বোচ্চ তিনি বললেন, তারা হবে যেসব লোক, যাদেরকে আমি সম্মান দিতে ইচ্ছা করেছি, আমি আমার হাতে তাদের সম্মানের বীজ বপন করেছি, তার উপর মোহরাম্ভিত করে দিয়েছে, যা কোন চোখ কোন দিন দেখেনি, কোন কান কোন দিন শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে যার কল্পনা কোনদিন ও জাগেনি।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5663- وَعَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام سَأَلَ ربه مَا أدنى أهل الْجنَّة منزلَة فَقَالَ رجل يَجِيء بعد مَا دخل أهل الْجنَّة الْجنَّة فَيُقَال لَهُ ادخل الْجنَّة فَيَقُول رب كَيفَ وَقد نزل النَّاس مَنَازِلهمْ وَأخذُوا أخذاتهم فَيُقَال لَهُ أترضى أَن يكون لَك مثل ملك من مُلُوك الدُّنْيَا فَيَقُول رضيت رب فَيَقُول لَهُ لَك ذَلِك وَمثله وَمثله وَمثله فَقَالَ فِي الْخَامِسَة رضيت رب فَيَقُول هَذَا لَك وَعشرَة أَمْثَاله وَلَك مَا اشتهت نَفسك ولذت عَيْنك فَيَقُول رضيت رب قَالَ رب فأعلاهم منزلَة قَالَ أُولَئِكَ الَّذين أردْت غرست كرامتهم بيَدي وختمت عَلَيْهَا فَلم تَرَ عين وَلم تسمع أذن وَلم يخْطر على قلب بشر
رَوَاهُ مُسلم
رَوَاهُ مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৪. হযরত আবূ সাইদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতী হবে সেই ব্যক্তি, যার চেহারা আল্লাহ তা'আলা জান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে জান্নাতের দিকে করে দেবেন এবং তার সামনে একটি ছায়াদার বৃক্ষ উপস্থিত করবেন। সে বলবে, হে প্রভু! তুমি আমাকে এ বৃক্ষটির নিকটবর্তী করে দাও, আমি তার ছায়ায় থাকব। তারপর তার জান্নাতে প্রবেশ করা ও তার আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। অবশেষে তিনি হাদীসটির শেষে বলেনঃ যখন তার সকল আশা আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, এতটুকু এবং তার সাথে তার দশগুণ তোমাকে দিলাম। তিনি বলেন, এরপর সে তার ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তার দু'জন আয়তলোচনা স্ত্রী তার কাছ আসবে। তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাকে তোমাদের জন্য বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং আমাদেরকে তোমার জন্য বাঁচিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, তখন সে বলবে, আমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তদ্রূপ আর কাউকে দেয়া হয়নি।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5664- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة رجل صرف الله وَجهه عَن النَّار قبل الْجنَّة وَمثل لَهُ شَجَرَة ذَات ظلّ فَقَالَ أَي رب قربني من هَذِه الشَّجَرَة أكون فِي ظلها
فَذكر الحَدِيث فِي دُخُوله الْجنَّة وتمنيه إِلَى أَن قَالَ فِي آخِره
إِذا انْقَطَعت بِهِ الْأَمَانِي قَالَ الله هُوَ لَك وَعشرَة أَمْثَاله
قَالَ ثمَّ يدْخل بَيته فَتدخل عَلَيْهِ زوجتاه من الْحور الْعين فَيَقُولَانِ الْحَمد لله الَّذِي أحياك لنا وَأَحْيَانا لَك
قَالَ فَيَقُول مَا أعطي أحد مثل مَا أَعْطَيْت
رَوَاهُ مُسلم
فَذكر الحَدِيث فِي دُخُوله الْجنَّة وتمنيه إِلَى أَن قَالَ فِي آخِره
إِذا انْقَطَعت بِهِ الْأَمَانِي قَالَ الله هُوَ لَك وَعشرَة أَمْثَاله
قَالَ ثمَّ يدْخل بَيته فَتدخل عَلَيْهِ زوجتاه من الْحور الْعين فَيَقُولَانِ الْحَمد لله الَّذِي أحياك لنا وَأَحْيَانا لَك
قَالَ فَيَقُول مَا أعطي أحد مثل مَا أَعْطَيْت
رَوَاهُ مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৫. ইমাম আহমাদ (র) আবু সাঈদ ও আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে দু'জন লোক সর্বশেষে জাহান্নাম থেকে বের হবে, তাদের একজনকে আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, হে আদম সন্তান। তুমি আজকের জন্য কি প্রস্তুত রেখেছ? তুমি কি কখনও ভাল কাজ করেছ?.... তারপর তিনি দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অবশেষে তিনি হাদীসটির শেষে বলেন।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তুমি প্রার্থনা কর এবং আকাঙ্ক্ষা কর। তখন সে প্রার্থনা করবে এবং দুনিয়ার দিন সমূহ থেকে তিন দিনের সমপরিমাণ সময় ধরে আকাঙ্ক্ষা করতে থাকবে। যে সব বিষয়ে তার জ্ঞান নেই, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জ্ঞান দেবেন। তখন সে প্রার্থনা করবে এবং আকাঙ্ক্ষা করবে। যখন সে তার প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষা থেকে নিষ্ক্রান্ত হবে, তখন তিনি বলবেন, তুমি যা প্রার্থনা করেছ, তা তোমাকে দিলাম। আবু সাঈদ (রা) বলেন, এবং তার সাথে তার সমান। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, এবং তার সাথে তার দশগুণ। তারপর তাদের এজন অপরজনকে বললেন, আপনি যা শুনেছেন, তা বর্ণনা করুন এবং আমি শুনেছি তা বর্ণনা করব।
(আলী ইবন যায়িদ ব্যতীত এ হাদীসের সমস্ত বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। রিওয়ায়েতটি বুখারী শরীফেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন, 'এবং তার সমান'। কিন্তু আবূ সাঈদ (রা) বলেছেন, 'তার দশগুণ'। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বর্ণনার বিপরীত। হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।)
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তুমি প্রার্থনা কর এবং আকাঙ্ক্ষা কর। তখন সে প্রার্থনা করবে এবং দুনিয়ার দিন সমূহ থেকে তিন দিনের সমপরিমাণ সময় ধরে আকাঙ্ক্ষা করতে থাকবে। যে সব বিষয়ে তার জ্ঞান নেই, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জ্ঞান দেবেন। তখন সে প্রার্থনা করবে এবং আকাঙ্ক্ষা করবে। যখন সে তার প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষা থেকে নিষ্ক্রান্ত হবে, তখন তিনি বলবেন, তুমি যা প্রার্থনা করেছ, তা তোমাকে দিলাম। আবু সাঈদ (রা) বলেন, এবং তার সাথে তার সমান। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, এবং তার সাথে তার দশগুণ। তারপর তাদের এজন অপরজনকে বললেন, আপনি যা শুনেছেন, তা বর্ণনা করুন এবং আমি শুনেছি তা বর্ণনা করব।
(আলী ইবন যায়িদ ব্যতীত এ হাদীসের সমস্ত বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। রিওয়ায়েতটি বুখারী শরীফেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন, 'এবং তার সমান'। কিন্তু আবূ সাঈদ (রা) বলেছেন, 'তার দশগুণ'। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বর্ণনার বিপরীত। হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5665- وَرَوَاهُ أَحْمد عَن أبي سعيد وَأبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ آخر رجلَيْنِ يخرجَانِ من النَّار يَقُول الله عز وَجل لأَحَدهمَا يَا ابْن آدم مَا أَعدَدْت لهَذَا الْيَوْم هَل عملت خيرا قطّ
فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ إِلَى أَن قَالَ فِي آخِره فَيَقُول الله عز وَجل سل وتمنه فَيسْأَل ويتمنى مِقْدَار ثَلَاثَة أَيَّام من أَيَّام الدُّنْيَا ويلقنه الله مَا لَا علم لَهُ بِهِ فَيسْأَل ويتمنى فَإِذا فرغ قَالَ لَك مَا سَأَلت
قَالَ أَبُو سعيد وَمثله مَعَه
قَالَ أَبُو هُرَيْرَة وَعشرَة أَمْثَاله مَعَه فَقَالَ أَحدهمَا لصَاحبه حدث بِمَا سَمِعت وأحدث بِمَا سَمِعت
وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح إِلَّا عَليّ بن زيد وَهُوَ فِي البُخَارِيّ بِنَحْوِهِ إِلَّا أَن أَبَا هُرَيْرَة قَالَ وَمثله وَقَالَ أَبُو سعيد وَعشرَة أَمْثَاله على الْعَكْس وَتقدم
فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ إِلَى أَن قَالَ فِي آخِره فَيَقُول الله عز وَجل سل وتمنه فَيسْأَل ويتمنى مِقْدَار ثَلَاثَة أَيَّام من أَيَّام الدُّنْيَا ويلقنه الله مَا لَا علم لَهُ بِهِ فَيسْأَل ويتمنى فَإِذا فرغ قَالَ لَك مَا سَأَلت
قَالَ أَبُو سعيد وَمثله مَعَه
قَالَ أَبُو هُرَيْرَة وَعشرَة أَمْثَاله مَعَه فَقَالَ أَحدهمَا لصَاحبه حدث بِمَا سَمِعت وأحدث بِمَا سَمِعت
وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح إِلَّا عَليّ بن زيد وَهُوَ فِي البُخَارِيّ بِنَحْوِهِ إِلَّا أَن أَبَا هُرَيْرَة قَالَ وَمثله وَقَالَ أَبُو سعيد وَعشرَة أَمْثَاله على الْعَكْس وَتقدم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৬. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় জান্নাতে প্রবেশের দিক থেকে সর্বশেষ জান্নাতী হবে এমন ব্যক্তি, যার কাছ দিয়ে আল্লাহ তা'আলা অতিক্রম করবেন। তখন তিনি বরবেন, তুমি উঠ এবং জান্নাতে প্রবেশ কর। সে অপ্রসন্ন চেহারায় আল্লাহ তা'আলার দিকে তাকিয়ে বলবে, আপনি কি আমার জন্য কিছু অবশিষ্ট রেখেছেন নাকি? জবাবে তিনি বলবেন, হ্যাঁ। যতটুকুতে সূর্য উদিত হয় অথবা অস্তমিত হয় তার সমান তোমাকে দিলাম।
(তাবারানী উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আমার আমল-এ হাদীসটি মারফু' রূপে উল্লিখিত হয় নি। আমার মতে, লিপিকার রিওয়ায়েতটি থেকে নবী (ﷺ)-এর নাম বাদ দিয়ে দিয়েছেন।)
(তাবারানী উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আমার আমল-এ হাদীসটি মারফু' রূপে উল্লিখিত হয় নি। আমার মতে, লিপিকার রিওয়ায়েতটি থেকে নবী (ﷺ)-এর নাম বাদ দিয়ে দিয়েছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5666- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن آخر أهل الْجنَّة دُخُولا الْجنَّة رجل مر بِهِ ربه عز وَجل فَقَالَ لَهُ قُم فَادْخُلْ الْجنَّة فَأقبل عَلَيْهِ عَابِسا فَقَالَ وَهل أبقيت لي شَيْئا قَالَ نعم لَك مثل مَا طلعت عَلَيْهِ الشَّمْس أَو غربت
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد وَلَيْسَ فِي أُصَلِّي رَفعه وَأرى الْكَاتِب أسقط مِنْهُ ذكر النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد وَلَيْسَ فِي أُصَلِّي رَفعه وَأرى الْكَاتِب أسقط مِنْهُ ذكر النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৭. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা সৃষ্টি শুরু থেকে পৃথিবীর অন্তিম মুহূর্ত অবাধ্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষকে এক সুনির্ধারিত সীমিত সময়ে সমবেত করবেন। চল্লিশ বছর অবধি অপলক দৃষ্টিতে দণ্ডায়মান অবস্থায় তারা বিচারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে।.... তারপর হাদীসটি বর্ণনা করে অবশেষে তিনি বলেন: তারপর তিনি (অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা'আলা) বলবেন, তোমরা তোমাদের মাথা উঠাও। তারা তাদের মাথা উঠাবে। তখন তাদেরকে তাদের আমল পরিমাণ নূর প্রদান করা হবে, যা তাদের সামনে দৌড়াতে থাকবে, কাউকে এর চেয়ে কম নূর প্রদান করা হবে, কারও হাতে খেজুর গাছ পরিমাণ (নূর) প্রদান করা হবে, কাউকে এর চেয়ে কম প্রদান করা হবে। অবশেষে তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিকে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে নূর প্রদান করা হবে। একবার তা আলোকিত হবে, আবার তা নিভিয়ে দেওয়া হবে। যখন তারপর আলোকিত হবে, তখন সে অগ্রসর হবে আবার যখন নিভিয়ে দেওয়া হবে, তখন সে দাঁড়িয়ে যাবে। তারা তাদের নূর অনুপাতে চলবে। তাদের মধ্য থেকে কেউ পলক গতিতে চলবে, কেউ বিদ্যুতের গতিতে চলবে, কেউ মেঘের গতিতে চলবে, কেউ নক্ষত্র পতনের গতিতে চলবে, কেউ বায়ুর গতিতে চলবে, কেউ ঘোড়ায় আরোহণের মত চলবে, কেউ পায়ে হাঁটার মত চলবে। অবশেষে যাকে তার পদ পৃষ্ঠে নূর প্রদান করা হবে, সে তার মুখমণ্ডল, দু'হাত ও দু'পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলবে। একহাত পড়বে, আরেক হাত লটকানো অবস্থায় রাখা হবে। একপা পড়বে, আরেক পা লটকানো অবস্থায় রাখা হবে এবং তার চতুর্পার্শ্বে আগুনের উত্তাপ লাগতে থাকবে। এভাবে চলতে চলতে সে মুক্তি পাবে। যখন সে মুক্তি পেয়ে যাবে, তখন সে জাহান্নামের সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য, যিনি আমাকে এমন পুরস্কার দিয়েছেন, যা অন্য কাউকে দেন নি। কেননা, তিনি আমাকে জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করার পর তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তারপর তাকে জান্নাতের দরজার সামনে অবস্থিত একটি জলাশয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। সে তাতে গোসল করবে। ফলে জান্নাতীদের দেহের ঘ্রাণ ও জান্নাতীদের গাত্রবর্ণ তার কাছে ফিরে আসবে এবং সে দরজার ফাঁক দিয়ে জান্নাতের নিয়ামতসমূহ দেখতে পাবে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট কর। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বলবেন, ওহে! তুমি কি আমার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছ, অথচ আমি তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছি। সে বলবে, হে প্রভু! আমার ও জাহান্নামের মাঝে একটি অন্তরায় সৃষ্টি করে দিন- যাতে করে আমি তার কোন গর্জন শুনতে না পাই। তিনি বলেন, তারপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সে দেখবে অথবা তার জন্য এর সামনে একটি প্রাসাদ উঠানো হবে। যেন সে প্রাসাদের মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা তার কাছে যা রয়েছে তার তুলনায় স্বপ্নের মত। সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এ প্রাসাদটি দান করুন। তখন তিনি তাকে বলবেন, যদি আমি এ প্রাসাদটি তোমাকে দান করি, তবে তুমি হয়ত আরেকটি চেয়ে বসবে। সে বলবে, জ্বী না, আপনার সম্ভ্রমের কসম, আমি আরেকটি চাইব না। আর কোন প্রাসাদই বা এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে?
তারপর তাকে সে প্রাসাদটি প্রাসাদ দেখতে পাবে, যেন সে প্রাসাদে যা কিছু রয়েছে, তা তার প্রাসাদের তুলনায় স্বপ্নের মত। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। আমাকে এ প্রাসাদটি দান করুন। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বলবেন, যদি আমি তোমাকে এ প্রাসাদটি দান করি, তবে তুমি হয়ত আরেকটি চেয়ে বসবে। সে বলবে, জ্বী না, আপনার সম্ভ্রমের শপথ। আর কোন প্রাসাদ-ইবা এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে? তখন তাকে সে প্রাসাদটিও দান করা হবে। সে তাতে প্রবেশ করবে এবং সে নীরব হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ তা'আলা তখন তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তোমার কি হলো হে! তুমি যে আর কিছুই প্রার্থনা করছ না। উত্তরে সে বলবে, প্রভু। আমি আপনার কাছে (একের পর এক) প্রার্থনা করতে করতে লজ্জিত হয়ে গেছি। এবং (একের পর এক) কসম খেতে খেতে লজ্জাবোধ করছি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার দুনিয়া সৃষ্টি করা অবধি তা ধ্বংস করা পর্যন্ত দুনিয়ার সমান ও তার দশগুণ আমি তোমাকে দান করব? সে বলবে, আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন, অথচ আপনি হচ্ছেন রাব্বুল ইয্যত? তখন আল্লাহ তা'আলা তার কথায় হেসে দেবেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-কে দেখেছি, যখন তিনি এ হাদীসের এ স্থানে পৌঁছতেন তখন তিনি এভাবে হেসে দিতেন যে, তাঁর পেষণ দাঁতসমূহ প্রকাশ পেত।
তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, না; বরং আমি তা করতে সক্ষম। তুমি যাও। সে বলবে, আপনি আমাকে মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিন। তিনি বলবেন, তুমি মানুষের সাথে সাক্ষাৎ কর। অতঃপর সে জান্নাতের মধ্যে দ্রুত হাঁটতে থাকবে। যখন সে মানুষের নিকটবর্তী হবে, তখন তার সামনে একটি মুক্তার প্রাসাদ উপস্থিত করা হবে। তখন সে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। তাঁকে বলা হবে, তুমি তোমার মাথা তোল। তোমার কি হয়েছে? সে বলবে, আমি আমার প্রভুকে দেখেছি, অথবা আমার প্রভু আমার দৃষ্টিগোচরে এসেছেন। তাকে বলা হবে, এটা তোমার প্রাসাদসমূহের মধ্যকার একটি প্রাসাদমাত্র। তিনি বলেন, তারপর এক লোকের সাথে তার সাক্ষাৎ হবে। তখন তাকে সিজদা করতে উদ্যত হবে। তাকে বলা হবে, থাম। সে বলবে, আমি দেখছি, আপনি ফিরিশতা। ফিরিশতা বলবেন, আমি আপনার অনেক কোষাধ্যক্ষের মধ্যকার একজন কোষাধ্যক্ষমাত্র এবং আপনার অনেক গোলামের মধ্যকার একজন গোলাম মাত্র। আমার অধীনে এক হাজার কর্মচারী রয়েছে।
তিনি বলেন, তারপর ফিরিশতা তার সামনে চলতে থাকবেন এবং তার জন্য উক্ত প্রাসাদের দরজা খুলবেন।
তিনি বলেন, সে প্রাসাদটি হবে ফাঁপা মুক্তায় নির্মিত। তার ছাদ, দরজা ও তালা-চাবিও হবে ফাঁপা মুক্তার তৈরী। প্রাসাদটির সামনে থাকবে পান্না যার ভেতরে থাকবে চুন্নি। তাতে থাকবে সত্তরটি দরজা। প্রতিটি দরজা একটি মরকত (মণি বিশেষ) পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবে, যার ভিতর হবে ঠাঁসা। প্রতিটি জহরত একটি ভিন্ন রঙের জহরত পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবে। প্রত্যেক জহরতে থাকবে পালংক স্ত্রী ও বাঁদী দাসী। তন্মধ্যে সর্বনিম্নমানেরটি হবে গেওয়ী ও আয়তলোচনা রমণী। তার পরনে থাকবে সত্তরটি পোষাক। তার সেসব পোষাকের উপর থেকে তার পায়ের গোছার মগজ দেখা যাবে। তার কলজে হবে (জান্নাতী) পুরুষের আরশি স্বরূপ এবং ঐ ব্যক্তির কলজে হবে তার আরশি স্বরূপ। যখন সে তার প্রতি একটু বিমুখতা প্রদর্শন করবে, তার চোখে সে (যতটুকু সুন্দরী ছিল, তার চেয়ে) সত্তরগুণ বেশি সুন্দরী হয়ে উঠবে। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি কাছে আস, সে কাছে আসবে। তাকে বলা হবে, একশ বছরের দূরত্ব পর্যন্ত তোমারই রাজত্ব যতদূর তোমার দৃষ্টি শক্তি পৌঁছবে। তিনি বলেন, তারপর উমর (রা) বললেন, হে কা'ব। ইবন উম্মু আরদ একজন নিম্নশ্রেণীর জান্নাতী সম্পর্কে আমাদেরকে যা বলছে, তা কি তুমি শুনছ না? তা'হলে উচ্চ পর্যায়ের জান্নাতীদের অবস্থা কি হবে।
জবাবে তিনি বললেনঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! যা কোন চোখ কোনদিন দেখেনি কোন কোন কোনদিন শুনেনি। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি বাড়ী নির্মাণ করেছেন এবং তাতে যেমনটি হচ্ছে রমণী, ফলমূল ও পানীয় রেখেছেন। তারপর তা ঢেকে দিয়েছেন। ফলে তাঁর কোন সৃষ্টিজীব, জিব্রীল অথবা অন্যকোন ফিরিশ্তাও তা দেখেনি। তারপর কা'ব (রা) তিলাওয়াত করন :
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
মানুষের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের চোখ জুড়ানোর যে সব উপকরণ গোপন রাখা হয়েছে, তা কোন মানুষ জানে না (৩২ঃ ১৭)।
তিনি বলেন, এটি ব্যতীত আল্লাহ্ তা'আলা আরও দু'টি জান্নাত তৈরি করেছেন, সেগুলোকে তিনি ইচ্ছা মুতাবিক সাজিয়েছেন এবং সে দু'টি তাঁর মাখলুকদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি দেখিয়েছেন। তারপর বললেন, যার আমলনামা ইল্লিয়্যীনের মধ্যে থাকবে, সে সেই বাড়ীতে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে, যা কেউ দেখেনি। এমন কি ইল্লিয়্যীনবাসী এক লোক বের হবে এবং তার রাজত্বে তথা তার মালিকানাধীন জান্নাতে বিচরণ করবে। সে জান্নাতের তাঁবুসমূহের প্রতিটি তাঁবুতে নিজ চেহারার আলোতে প্রবেশ করবে। তাঁবুবাসীরা তার ঘ্রাণে আনন্দবোধ করে বলবে, আশ্চর্যজনক এ ঘ্রাণ। একজন ইল্লিয়ীনিবাসীর এ ঘ্রাণ যে তার মালিকানাধীন জান্নাতে বিচরণ করতে বের হয়েছে। উমর (রা) বললেন, তোমার কল্যাণ হোক, হে কা'ব। নিশ্চয় এসব অন্তর বাঁধনহারা হয়ে পড়েছে, সুতরাং এগুলো তুমি নিয়ন্ত্রণ কর। তখন কা'ব বললেন, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন জাহান্নামের নিঃশ্বাসের এমন এক শব্দ হবে, যার ফলে এমন কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা অথবা প্রেরিত নবী নেই, যিনি রুকু'তে পড়ে না যাবেন। এমনকি অথবা প্রেরিত নবী নেই, যিনি রুকু'তে পড়ে না যাবেন। এমনকি ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ বলবেন, হে আমার রব্ব নাফসী! নাফসী!! (আমাকে রক্ষা করুন। আমাকে রক্ষা করুন।) এমন কি যদি তোমার আমলের সাথে তোমার জন্য সত্তর জন নবীর আমলও থাকে, তবু তুমি ধারণা করবে যে, তুমি নাজাত পাবে না।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া, তাবারানী ও হাকিম এভাবে ইবন মাসউদ (রা) থেকে মারফু'রূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে 'নিশ্চয় আল্লাহ্ একটি বাড়ী নির্মাণ করেছেন..... থেকে হাদীসটির শেষ পর্যন্ত কা'ব (রা)-এর উপর মাওকূফ। তাবারানী সনদসমূহ থেকে একটি সহীহ। হাদীসটির উল্লিখিত শব্দমালা তাঁরই বর্ণিত। হাকিম বলেন, এর সনদ সহীহ। হাদীসটি এরূপই সংক্ষিপ্তাকারে ইবন মাসউদ (রা) থেকে মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে।)
তিনি বলেন, তারপর তাকে জান্নাতের দরজার সামনে অবস্থিত একটি জলাশয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। সে তাতে গোসল করবে। ফলে জান্নাতীদের দেহের ঘ্রাণ ও জান্নাতীদের গাত্রবর্ণ তার কাছে ফিরে আসবে এবং সে দরজার ফাঁক দিয়ে জান্নাতের নিয়ামতসমূহ দেখতে পাবে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট কর। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বলবেন, ওহে! তুমি কি আমার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছ, অথচ আমি তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছি। সে বলবে, হে প্রভু! আমার ও জাহান্নামের মাঝে একটি অন্তরায় সৃষ্টি করে দিন- যাতে করে আমি তার কোন গর্জন শুনতে না পাই। তিনি বলেন, তারপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সে দেখবে অথবা তার জন্য এর সামনে একটি প্রাসাদ উঠানো হবে। যেন সে প্রাসাদের মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা তার কাছে যা রয়েছে তার তুলনায় স্বপ্নের মত। সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এ প্রাসাদটি দান করুন। তখন তিনি তাকে বলবেন, যদি আমি এ প্রাসাদটি তোমাকে দান করি, তবে তুমি হয়ত আরেকটি চেয়ে বসবে। সে বলবে, জ্বী না, আপনার সম্ভ্রমের কসম, আমি আরেকটি চাইব না। আর কোন প্রাসাদই বা এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে?
তারপর তাকে সে প্রাসাদটি প্রাসাদ দেখতে পাবে, যেন সে প্রাসাদে যা কিছু রয়েছে, তা তার প্রাসাদের তুলনায় স্বপ্নের মত। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। আমাকে এ প্রাসাদটি দান করুন। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বলবেন, যদি আমি তোমাকে এ প্রাসাদটি দান করি, তবে তুমি হয়ত আরেকটি চেয়ে বসবে। সে বলবে, জ্বী না, আপনার সম্ভ্রমের শপথ। আর কোন প্রাসাদ-ইবা এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে? তখন তাকে সে প্রাসাদটিও দান করা হবে। সে তাতে প্রবেশ করবে এবং সে নীরব হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ তা'আলা তখন তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তোমার কি হলো হে! তুমি যে আর কিছুই প্রার্থনা করছ না। উত্তরে সে বলবে, প্রভু। আমি আপনার কাছে (একের পর এক) প্রার্থনা করতে করতে লজ্জিত হয়ে গেছি। এবং (একের পর এক) কসম খেতে খেতে লজ্জাবোধ করছি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার দুনিয়া সৃষ্টি করা অবধি তা ধ্বংস করা পর্যন্ত দুনিয়ার সমান ও তার দশগুণ আমি তোমাকে দান করব? সে বলবে, আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন, অথচ আপনি হচ্ছেন রাব্বুল ইয্যত? তখন আল্লাহ তা'আলা তার কথায় হেসে দেবেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-কে দেখেছি, যখন তিনি এ হাদীসের এ স্থানে পৌঁছতেন তখন তিনি এভাবে হেসে দিতেন যে, তাঁর পেষণ দাঁতসমূহ প্রকাশ পেত।
তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, না; বরং আমি তা করতে সক্ষম। তুমি যাও। সে বলবে, আপনি আমাকে মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিন। তিনি বলবেন, তুমি মানুষের সাথে সাক্ষাৎ কর। অতঃপর সে জান্নাতের মধ্যে দ্রুত হাঁটতে থাকবে। যখন সে মানুষের নিকটবর্তী হবে, তখন তার সামনে একটি মুক্তার প্রাসাদ উপস্থিত করা হবে। তখন সে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। তাঁকে বলা হবে, তুমি তোমার মাথা তোল। তোমার কি হয়েছে? সে বলবে, আমি আমার প্রভুকে দেখেছি, অথবা আমার প্রভু আমার দৃষ্টিগোচরে এসেছেন। তাকে বলা হবে, এটা তোমার প্রাসাদসমূহের মধ্যকার একটি প্রাসাদমাত্র। তিনি বলেন, তারপর এক লোকের সাথে তার সাক্ষাৎ হবে। তখন তাকে সিজদা করতে উদ্যত হবে। তাকে বলা হবে, থাম। সে বলবে, আমি দেখছি, আপনি ফিরিশতা। ফিরিশতা বলবেন, আমি আপনার অনেক কোষাধ্যক্ষের মধ্যকার একজন কোষাধ্যক্ষমাত্র এবং আপনার অনেক গোলামের মধ্যকার একজন গোলাম মাত্র। আমার অধীনে এক হাজার কর্মচারী রয়েছে।
তিনি বলেন, তারপর ফিরিশতা তার সামনে চলতে থাকবেন এবং তার জন্য উক্ত প্রাসাদের দরজা খুলবেন।
তিনি বলেন, সে প্রাসাদটি হবে ফাঁপা মুক্তায় নির্মিত। তার ছাদ, দরজা ও তালা-চাবিও হবে ফাঁপা মুক্তার তৈরী। প্রাসাদটির সামনে থাকবে পান্না যার ভেতরে থাকবে চুন্নি। তাতে থাকবে সত্তরটি দরজা। প্রতিটি দরজা একটি মরকত (মণি বিশেষ) পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবে, যার ভিতর হবে ঠাঁসা। প্রতিটি জহরত একটি ভিন্ন রঙের জহরত পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবে। প্রত্যেক জহরতে থাকবে পালংক স্ত্রী ও বাঁদী দাসী। তন্মধ্যে সর্বনিম্নমানেরটি হবে গেওয়ী ও আয়তলোচনা রমণী। তার পরনে থাকবে সত্তরটি পোষাক। তার সেসব পোষাকের উপর থেকে তার পায়ের গোছার মগজ দেখা যাবে। তার কলজে হবে (জান্নাতী) পুরুষের আরশি স্বরূপ এবং ঐ ব্যক্তির কলজে হবে তার আরশি স্বরূপ। যখন সে তার প্রতি একটু বিমুখতা প্রদর্শন করবে, তার চোখে সে (যতটুকু সুন্দরী ছিল, তার চেয়ে) সত্তরগুণ বেশি সুন্দরী হয়ে উঠবে। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি কাছে আস, সে কাছে আসবে। তাকে বলা হবে, একশ বছরের দূরত্ব পর্যন্ত তোমারই রাজত্ব যতদূর তোমার দৃষ্টি শক্তি পৌঁছবে। তিনি বলেন, তারপর উমর (রা) বললেন, হে কা'ব। ইবন উম্মু আরদ একজন নিম্নশ্রেণীর জান্নাতী সম্পর্কে আমাদেরকে যা বলছে, তা কি তুমি শুনছ না? তা'হলে উচ্চ পর্যায়ের জান্নাতীদের অবস্থা কি হবে।
জবাবে তিনি বললেনঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! যা কোন চোখ কোনদিন দেখেনি কোন কোন কোনদিন শুনেনি। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি বাড়ী নির্মাণ করেছেন এবং তাতে যেমনটি হচ্ছে রমণী, ফলমূল ও পানীয় রেখেছেন। তারপর তা ঢেকে দিয়েছেন। ফলে তাঁর কোন সৃষ্টিজীব, জিব্রীল অথবা অন্যকোন ফিরিশ্তাও তা দেখেনি। তারপর কা'ব (রা) তিলাওয়াত করন :
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
মানুষের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের চোখ জুড়ানোর যে সব উপকরণ গোপন রাখা হয়েছে, তা কোন মানুষ জানে না (৩২ঃ ১৭)।
তিনি বলেন, এটি ব্যতীত আল্লাহ্ তা'আলা আরও দু'টি জান্নাত তৈরি করেছেন, সেগুলোকে তিনি ইচ্ছা মুতাবিক সাজিয়েছেন এবং সে দু'টি তাঁর মাখলুকদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি দেখিয়েছেন। তারপর বললেন, যার আমলনামা ইল্লিয়্যীনের মধ্যে থাকবে, সে সেই বাড়ীতে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে, যা কেউ দেখেনি। এমন কি ইল্লিয়্যীনবাসী এক লোক বের হবে এবং তার রাজত্বে তথা তার মালিকানাধীন জান্নাতে বিচরণ করবে। সে জান্নাতের তাঁবুসমূহের প্রতিটি তাঁবুতে নিজ চেহারার আলোতে প্রবেশ করবে। তাঁবুবাসীরা তার ঘ্রাণে আনন্দবোধ করে বলবে, আশ্চর্যজনক এ ঘ্রাণ। একজন ইল্লিয়ীনিবাসীর এ ঘ্রাণ যে তার মালিকানাধীন জান্নাতে বিচরণ করতে বের হয়েছে। উমর (রা) বললেন, তোমার কল্যাণ হোক, হে কা'ব। নিশ্চয় এসব অন্তর বাঁধনহারা হয়ে পড়েছে, সুতরাং এগুলো তুমি নিয়ন্ত্রণ কর। তখন কা'ব বললেন, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন জাহান্নামের নিঃশ্বাসের এমন এক শব্দ হবে, যার ফলে এমন কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা অথবা প্রেরিত নবী নেই, যিনি রুকু'তে পড়ে না যাবেন। এমনকি অথবা প্রেরিত নবী নেই, যিনি রুকু'তে পড়ে না যাবেন। এমনকি ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ বলবেন, হে আমার রব্ব নাফসী! নাফসী!! (আমাকে রক্ষা করুন। আমাকে রক্ষা করুন।) এমন কি যদি তোমার আমলের সাথে তোমার জন্য সত্তর জন নবীর আমলও থাকে, তবু তুমি ধারণা করবে যে, তুমি নাজাত পাবে না।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া, তাবারানী ও হাকিম এভাবে ইবন মাসউদ (রা) থেকে মারফু'রূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে 'নিশ্চয় আল্লাহ্ একটি বাড়ী নির্মাণ করেছেন..... থেকে হাদীসটির শেষ পর্যন্ত কা'ব (রা)-এর উপর মাওকূফ। তাবারানী সনদসমূহ থেকে একটি সহীহ। হাদীসটির উল্লিখিত শব্দমালা তাঁরই বর্ণিত। হাকিম বলেন, এর সনদ সহীহ। হাদীসটি এরূপই সংক্ষিপ্তাকারে ইবন মাসউদ (রা) থেকে মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5667- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود أَيْضا رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي قَالَ يجمع الله عز وَجل الْأَوَّلين والآخرين لميقات يَوْم مَعْلُوم قيَاما أَرْبَعِينَ سنة شاخصة أَبْصَارهم ينتظرون فصل الْقَضَاء
فَذكر الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ ثمَّ يَقُول يَعْنِي الرب تبَارك وَتَعَالَى ارْفَعُوا رؤوسكم فيرفعون رؤوسهم فيعطيهم نورهم على قدر أَعْمَالهم فَمنهمْ من يعْطى نوره مثل الْجَبَل الْعَظِيم يسْعَى بَين يَدَيْهِ وَمِنْهُم من يعْطى نوره أَصْغَر من ذَلِك وَمِنْهُم من يعْطى مثل النَّخْلَة بِيَدِهِ وَمِنْهُم من يعْطى أَصْغَر من ذَلِك حَتَّى يكون آخِرهم رجلا يعْطى نوره على إِبْهَام قَدَمَيْهِ يضيء مرّة ويطفأ مرّة فَإِذا أَضَاء قدم قدمه وَإِذا أطفىء قَامَ فيمرون على قدر نورهم مِنْهُم من يمر كطرفة الْعين وَمِنْهُم من يمر كالبرق وَمِنْهُم من يمر كالسحاب وَمِنْهُم من يمر كانقضاض الْكَوْكَب وَمِنْهُم من يمر كَالرِّيحِ وَمِنْهُم من يمر كشد الْفرس وَمِنْهُم من يمر كشد الرجل حَتَّى يمر الَّذِي يعْطى نوره على ظهر قَدَمَيْهِ يحبو على وَجهه وَيَديه وَرجلَيْهِ تَخِر يَد وَتعلق يَد وتخر رجل وَتعلق رجل وتصيب جوانبه النَّار فَلَا يزَال كَذَلِك حَتَّى يخلص فَإِذا خلص وقف عَلَيْهَا فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي أَعْطَانِي مَا لم يُعْط أحدا إِذْ نجاني مِنْهَا بعد إِذْ رَأَيْتهَا قَالَ فَينْطَلق بِهِ إِلَى غَدِير عِنْد بَاب الْجنَّة فيغتسل فَيَعُود إِلَيْهِ ريح أهل الْجنَّة وألوانهم فَيرى مَا فِي الْجنَّة من خلل الْبَاب فَيَقُول رب أدخلني الْجنَّة فَيَقُول لَهُ أتسأل الْجنَّة وَقد نجيتك من النَّار فَيَقُول رب جعل بيني وَبَينهَا حِجَابا لَا أسمع حَسِيسهَا قَالَ فَيدْخل الْجنَّة وَيرى أَو يرفع لَهُ منزل أَمَام ذَلِك كَأَن مَا هُوَ فِيهِ إِلَيْهِ حلم فَيَقُول رب أَعْطِنِي ذَلِك الْمنزل فَيَقُول لَهُ لَعَلَّك إِن أعطيتكه تسْأَل غَيره فَيَقُول لَا وَعزَّتك لَا أَسأَلك غَيره وَأي منزل أحسن مِنْهُ فيعطاه فينزله وَيرى أَمَام ذَلِك منزلا كَأَن مَا هُوَ فِيهِ إِلَيْهِ حلم قَالَ رب أَعْطِنِي ذَلِك
الْمنزل فَيَقُول الله تبَارك وَتَعَالَى لَهُ فلعلك إِن أعطيتكه تسْأَل غَيره فَيَقُول لَا وَعزَّتك يَا رب وَأي منزل أحسن مِنْهُ فيعطاه فينزله ثمَّ يسكت فَيَقُول لله جلّ ذكره مَا لَك لَا تسْأَل فَيَقُول رب قد سَأَلتك حَتَّى ستحييتك وَأَقْسَمت حَتَّى ستحييتك فَيَقُول الله جلّ ذكره ألم ترض أَن أُعْطِيك مثل الدُّنْيَا مُنْذُ خلقتها إِلَى يَوْم أفنيتها وَعشرَة أضعافه فَيَقُول أتهزأ بِي وَأَنت رب الْعِزَّة فيضحك الرب تبَارك وَتَعَالَى من قَوْله قَالَ فَرَأَيْت عبد الله بن مَسْعُود إِذا بلغ هَذَا الْمَكَان من هَذَا الحَدِيث ضحك حَتَّى تبدو أَضْرَاسه قَالَ فَيَقُول الرب جلّ ذكره لَا وَلَكِنِّي على ذَلِك قَادر سل فَيَقُول ألحقني بِالنَّاسِ فَيَقُول الْحق بِالنَّاسِ فَينْطَلق يرمل فِي الْجنَّة حَتَّى إِذا دنا من النَّاس رفع لَهُ قصر من درة فيخر سَاجِدا فَيُقَال لَهُ رفع رَأسك مَا لَك فَيَقُول رَأَيْت رَبِّي أَو ترَاءى لي رَبِّي فَيُقَال إِنَّمَا هُوَ منزل من منازلك
قَالَ ثمَّ يلقى رجلا فيتهيأ للسُّجُود لَهُ فَيُقَال لَهُ مَه فَيَقُول رَأَيْت أَنَّك ملك من الْمَلَائِكَة فَيَقُول إِنَّمَا أَنا خَازِن من خزانك وَعبد من عبيدك تَحت يَدي ألف قهرمان على مَا أَنا عَلَيْهِ
قَالَ فَينْطَلق أَمَامه حَتَّى يفتح لَهُ الْقصر قَالَ وَهُوَ من درة مجوفة سقائفها وأبوابها وأغلاقها ومفاتيحها مِنْهَا تستقبله جَوْهَرَة خضراء مبطنة بِحَمْرَاء فِيهَا سَبْعُونَ بَابا كل بَاب يُفْضِي إِلَى جَوْهَرَة خضراء مبطنة كل جَوْهَرَة تُفْضِي إِلَى جَوْهَرَة على غير لون الْأُخْرَى فِي كل جَوْهَرَة سرر وَأَزْوَاج ووصائف أدناهن حوراء عيناء عَلَيْهَا سَبْعُونَ حلَّة يرى مخ سَاقهَا من وَرَاء حللها كَبِدهَا مرآته وكبده مرآتها إِذا أعرض عَنْهَا إعراضة زدادت فِي عينه سبعين ضعفا فَيُقَال لَهُ شرف فيشرف فَيُقَال لَهُ ملكك مسيرَة مائَة عَام ينفذهُ بَصرك قَالَ فَقَالَ عمر أَلا تسمع مَا يحدثنا بن أم عبد يَا كَعْب عَن أدنى أهل الْجنَّة منزلا فَكيف أعلاهم قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت إِن الله جلّ ذكره خلق دَارا جعل فِيهَا مَا شَاءَ من الْأزْوَاج والثمرات والأشربة ثمَّ أطبقها فَلم يرهَا أحد من خلقه لَا جِبْرِيل وَلَا غَيره من الْمَلَائِكَة ثمَّ قَرَأَ كَعْب فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71 قَالَ وَخلق دون ذَلِك جنتين وزينهما بِمَا شَاءَ وأراهما من شَاءَ من خلقه ثمَّ قَالَ من كَانَ كِتَابه فِي عليين نزل فِي تِلْكَ الدَّار الَّتِي لم يرهَا أحد حَتَّى إِن الرجل من أهل عليين ليخرج فيسير فِي ملكه فَلَا تبقى خيمة من خيم الْجنَّة إِلَّا دَخلهَا من ضوء وَجهه فيستبشرون بريحه فَيَقُولُونَ واها لهَذَا الرّيح هَذَا ريح رجل من أهل عليين قد خرج يسير فِي ملكه قَالَ وَيحك يَا كَعْب إِن هَذِه الْقُلُوب قد سترسلت فاقبضها فَقَالَ
كَعْب إِن لِجَهَنَّم يَوْم الْقِيَامَة لزفرة مَا من ملك مقرب وَلَا نَبِي مُرْسل إِلَّا خر لِرُكْبَتَيْهِ حَتَّى إِن إِبْرَاهِيم خَلِيل الله ليقول رب نَفسِي نَفسِي حَتَّى لَو كَانَ لَك عمل سبعين نَبيا إِلَى عَمَلك لظَنَنْت أَن لَا تنجو
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم هَكَذَا عَن ابْن مَسْعُود مَرْفُوعا وَآخره من قَوْله إِن الله جلّ ذكره خلق دَارا إِلَى آخِره مَوْقُوفا على كَعْب وَأحد طرق الطَّبَرَانِيّ صَحِيح وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد وَهُوَ فِي مُسلم بِنَحْوِهِ بِاخْتِصَار عَنهُ
فَذكر الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ ثمَّ يَقُول يَعْنِي الرب تبَارك وَتَعَالَى ارْفَعُوا رؤوسكم فيرفعون رؤوسهم فيعطيهم نورهم على قدر أَعْمَالهم فَمنهمْ من يعْطى نوره مثل الْجَبَل الْعَظِيم يسْعَى بَين يَدَيْهِ وَمِنْهُم من يعْطى نوره أَصْغَر من ذَلِك وَمِنْهُم من يعْطى مثل النَّخْلَة بِيَدِهِ وَمِنْهُم من يعْطى أَصْغَر من ذَلِك حَتَّى يكون آخِرهم رجلا يعْطى نوره على إِبْهَام قَدَمَيْهِ يضيء مرّة ويطفأ مرّة فَإِذا أَضَاء قدم قدمه وَإِذا أطفىء قَامَ فيمرون على قدر نورهم مِنْهُم من يمر كطرفة الْعين وَمِنْهُم من يمر كالبرق وَمِنْهُم من يمر كالسحاب وَمِنْهُم من يمر كانقضاض الْكَوْكَب وَمِنْهُم من يمر كَالرِّيحِ وَمِنْهُم من يمر كشد الْفرس وَمِنْهُم من يمر كشد الرجل حَتَّى يمر الَّذِي يعْطى نوره على ظهر قَدَمَيْهِ يحبو على وَجهه وَيَديه وَرجلَيْهِ تَخِر يَد وَتعلق يَد وتخر رجل وَتعلق رجل وتصيب جوانبه النَّار فَلَا يزَال كَذَلِك حَتَّى يخلص فَإِذا خلص وقف عَلَيْهَا فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي أَعْطَانِي مَا لم يُعْط أحدا إِذْ نجاني مِنْهَا بعد إِذْ رَأَيْتهَا قَالَ فَينْطَلق بِهِ إِلَى غَدِير عِنْد بَاب الْجنَّة فيغتسل فَيَعُود إِلَيْهِ ريح أهل الْجنَّة وألوانهم فَيرى مَا فِي الْجنَّة من خلل الْبَاب فَيَقُول رب أدخلني الْجنَّة فَيَقُول لَهُ أتسأل الْجنَّة وَقد نجيتك من النَّار فَيَقُول رب جعل بيني وَبَينهَا حِجَابا لَا أسمع حَسِيسهَا قَالَ فَيدْخل الْجنَّة وَيرى أَو يرفع لَهُ منزل أَمَام ذَلِك كَأَن مَا هُوَ فِيهِ إِلَيْهِ حلم فَيَقُول رب أَعْطِنِي ذَلِك الْمنزل فَيَقُول لَهُ لَعَلَّك إِن أعطيتكه تسْأَل غَيره فَيَقُول لَا وَعزَّتك لَا أَسأَلك غَيره وَأي منزل أحسن مِنْهُ فيعطاه فينزله وَيرى أَمَام ذَلِك منزلا كَأَن مَا هُوَ فِيهِ إِلَيْهِ حلم قَالَ رب أَعْطِنِي ذَلِك
الْمنزل فَيَقُول الله تبَارك وَتَعَالَى لَهُ فلعلك إِن أعطيتكه تسْأَل غَيره فَيَقُول لَا وَعزَّتك يَا رب وَأي منزل أحسن مِنْهُ فيعطاه فينزله ثمَّ يسكت فَيَقُول لله جلّ ذكره مَا لَك لَا تسْأَل فَيَقُول رب قد سَأَلتك حَتَّى ستحييتك وَأَقْسَمت حَتَّى ستحييتك فَيَقُول الله جلّ ذكره ألم ترض أَن أُعْطِيك مثل الدُّنْيَا مُنْذُ خلقتها إِلَى يَوْم أفنيتها وَعشرَة أضعافه فَيَقُول أتهزأ بِي وَأَنت رب الْعِزَّة فيضحك الرب تبَارك وَتَعَالَى من قَوْله قَالَ فَرَأَيْت عبد الله بن مَسْعُود إِذا بلغ هَذَا الْمَكَان من هَذَا الحَدِيث ضحك حَتَّى تبدو أَضْرَاسه قَالَ فَيَقُول الرب جلّ ذكره لَا وَلَكِنِّي على ذَلِك قَادر سل فَيَقُول ألحقني بِالنَّاسِ فَيَقُول الْحق بِالنَّاسِ فَينْطَلق يرمل فِي الْجنَّة حَتَّى إِذا دنا من النَّاس رفع لَهُ قصر من درة فيخر سَاجِدا فَيُقَال لَهُ رفع رَأسك مَا لَك فَيَقُول رَأَيْت رَبِّي أَو ترَاءى لي رَبِّي فَيُقَال إِنَّمَا هُوَ منزل من منازلك
قَالَ ثمَّ يلقى رجلا فيتهيأ للسُّجُود لَهُ فَيُقَال لَهُ مَه فَيَقُول رَأَيْت أَنَّك ملك من الْمَلَائِكَة فَيَقُول إِنَّمَا أَنا خَازِن من خزانك وَعبد من عبيدك تَحت يَدي ألف قهرمان على مَا أَنا عَلَيْهِ
قَالَ فَينْطَلق أَمَامه حَتَّى يفتح لَهُ الْقصر قَالَ وَهُوَ من درة مجوفة سقائفها وأبوابها وأغلاقها ومفاتيحها مِنْهَا تستقبله جَوْهَرَة خضراء مبطنة بِحَمْرَاء فِيهَا سَبْعُونَ بَابا كل بَاب يُفْضِي إِلَى جَوْهَرَة خضراء مبطنة كل جَوْهَرَة تُفْضِي إِلَى جَوْهَرَة على غير لون الْأُخْرَى فِي كل جَوْهَرَة سرر وَأَزْوَاج ووصائف أدناهن حوراء عيناء عَلَيْهَا سَبْعُونَ حلَّة يرى مخ سَاقهَا من وَرَاء حللها كَبِدهَا مرآته وكبده مرآتها إِذا أعرض عَنْهَا إعراضة زدادت فِي عينه سبعين ضعفا فَيُقَال لَهُ شرف فيشرف فَيُقَال لَهُ ملكك مسيرَة مائَة عَام ينفذهُ بَصرك قَالَ فَقَالَ عمر أَلا تسمع مَا يحدثنا بن أم عبد يَا كَعْب عَن أدنى أهل الْجنَّة منزلا فَكيف أعلاهم قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت إِن الله جلّ ذكره خلق دَارا جعل فِيهَا مَا شَاءَ من الْأزْوَاج والثمرات والأشربة ثمَّ أطبقها فَلم يرهَا أحد من خلقه لَا جِبْرِيل وَلَا غَيره من الْمَلَائِكَة ثمَّ قَرَأَ كَعْب فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71 قَالَ وَخلق دون ذَلِك جنتين وزينهما بِمَا شَاءَ وأراهما من شَاءَ من خلقه ثمَّ قَالَ من كَانَ كِتَابه فِي عليين نزل فِي تِلْكَ الدَّار الَّتِي لم يرهَا أحد حَتَّى إِن الرجل من أهل عليين ليخرج فيسير فِي ملكه فَلَا تبقى خيمة من خيم الْجنَّة إِلَّا دَخلهَا من ضوء وَجهه فيستبشرون بريحه فَيَقُولُونَ واها لهَذَا الرّيح هَذَا ريح رجل من أهل عليين قد خرج يسير فِي ملكه قَالَ وَيحك يَا كَعْب إِن هَذِه الْقُلُوب قد سترسلت فاقبضها فَقَالَ
كَعْب إِن لِجَهَنَّم يَوْم الْقِيَامَة لزفرة مَا من ملك مقرب وَلَا نَبِي مُرْسل إِلَّا خر لِرُكْبَتَيْهِ حَتَّى إِن إِبْرَاهِيم خَلِيل الله ليقول رب نَفسِي نَفسِي حَتَّى لَو كَانَ لَك عمل سبعين نَبيا إِلَى عَمَلك لظَنَنْت أَن لَا تنجو
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم هَكَذَا عَن ابْن مَسْعُود مَرْفُوعا وَآخره من قَوْله إِن الله جلّ ذكره خلق دَارا إِلَى آخِره مَوْقُوفا على كَعْب وَأحد طرق الطَّبَرَانِيّ صَحِيح وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد وَهُوَ فِي مُسلم بِنَحْوِهِ بِاخْتِصَار عَنهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমি কি সর্বনিম্ন জান্নাতী সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করব না? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ। জ্বী হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, এক ব্যক্তি জান্নাতের দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তখন তার সাথে তার পরিচারকদের সাক্ষাৎ হবে। তারা বলবে, খোশ-আমদেদ, আমাদের মনিব। আমাদের সাথে আপনার সাক্ষাতের সময় এসেছে। তিনি বলেন, তারপর চল্লিশ বছর ধরে তার জন্য উন্নতমানের গালিচা বিছানো হবে। এরপর সে তার ডান ও বাম দিকে তাকাবে এবং উদ্যানসমূহ দেখতে পাবে। সে জিজ্ঞেস করবে, এখানকার এসব কিছু কার জন্য? বলা হবে, তোমার জন্যে। যখন সে ভেতরে পৌছবে, তখন তার সামনে একটি লাল চুনি অথবা সবুজ পান্না পাথর উপস্থিত করা হবে ওগুলোর থাকবে সত্তরটি ঘাটি পথ। প্রত্যেক গলিতে থাকবে সত্তরটি করে কামরা। প্রত্যেক কামরায় থাকবে সত্তরটি করে দরজা। বলা হবে, তুমি পড়তে থাক এবং এতে চড়তে থাক। সে চড়বে। যখন সে তার রাজত্বের সিংহাসনে গিয়ে পৌঁছবে, তখন সে তার উপর হেলান দিয়ে বসবে। তার প্রশস্ততা হবে এক বর্গ মাইল। তাতে তার জন্য থাকবে অনেক প্রাসাদ। তার সামনে সত্তরটি সোনার রেকাবী উপস্থিত করা হবে। তন্মধ্যে এমন কোন রেকাবী থাকবে না, যাতে অপর রেকাবীর সমপ্রকার খাবার থাকবে। (ফলশ্রুতিতে) সে সর্বশেষ রেকাবীর খাবারের ও তেমনি স্বাদ পাবে, যেমন সে সর্বপ্রথম রেকাবীর খাবারের স্বাদ পাবে। এরপর তার সামনে নানা প্রকারের পানীয় উপস্থিত করা হবে। সে তাকে তা থেকে তার ইচ্ছামত পান করবে। এরপর পরিচারকগণ বলাবলি করবে, তোমরা তাঁকে ও তার স্ত্রীগণকে একান্তে ছেড়ে দাও। এ বলে পরিচারকগণ চলে যাবে। তখন সে তাকিয়ে দেখবে যে, আয়তলোচনা হুরদের থেকে একজন গেওরী রমনী তার রাজত্বের সিংহাসনের উপর সমাসীন। তার পরনে সত্তরটি পোষাক। তন্মধ্যে একটি পোষাক ও অপর পোষাকের সমপ্রকার নয়। তার মাংস, রক্ত, হাঁড় তদুপরি কাপড়ের উপর থেকে তার পায়ের গোছার মগজ দৃশ্যমান। সে তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে হে? সে বলবে, আমি সেসব আয়তালোচনা হুরদের একজন যাদেরকে আপনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এরপর সে তার প্রতি চল্লিশ বছর ধরে তাকিয়ে থাকবে, তার থেকে সে ব্যক্তি তার দৃষ্টি ফেরাবে না। তারপর সে কামরার প্রতি দৃষ্টি তুলে দেখবে যে, সেখানে তার চেয়েও অধিক সুন্দরী আরেকজন রয়েছে। সুন্দরী তাকে লক্ষ্য করে বলবে, আপনার পক্ষ থেকে আমার ভোগের অংশ পাওয়ার সময় কি এখনও হয়নি। সুতরাং সে ব্যক্তি চল্লিশ বছর ধরে তার দিকে আবলোকন করতে থাকবে, তার থেকে সে ব্যক্তি তার দৃষ্টি ফেরাবে না। তারপর যখন তাদের নিয়ামতসমূহ ভোগ পুরো মাত্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তারা ধারণা করবে যে, এসবের চেয়ে উত্তম আর কোন নিয়ামত নেই, তখন তাদের সামনে মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ তা'আলা আত্মপ্রকাশ করবেন। তারা দয়ালু আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করবে। তিনি বলবেন, হে জান্নাতবাসীরা। তোমরা বল, আমি আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তখন তারা সমস্বরে বলবে, দয়ালু আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কোন মা'বুদ নেই। এরপর তিনি বলবেন, হে দাউদ। তুমি উঠ এবং আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা কর, যেমন তুমি দুনিয়াতে আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে। তিনি বলেন, তখন দাউদ (আ) তাঁর প্রতিপালকের মাহাত্ম্য বর্ণনা করবেন।
(ইবন আবুদ-দুনিয়া হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদে এমন রাবী রয়েছেন, যার পরিচয় আমার এখনও জানা নেই।)
(ইবন আবুদ-দুনিয়া হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদে এমন রাবী রয়েছেন, যার পরিচয় আমার এখনও জানা নেই।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5668- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول أَلا أخْبركُم بِأَسْفَل أهل الْجنَّة دَرَجَة قَالُوا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ رجل يدْخل من بَاب الْجنَّة فيتلقاه غلمانه فَيَقُولُونَ مرْحَبًا بسيدنا قد آن لَك أَن تَزُورنَا قَالَ فتمد لَهُ الزرابي أَرْبَعِينَ سنة ثمَّ ينظر عَن يَمِينه وشماله فَيرى الْجنان فَيَقُول لمن مَا هَهُنَا فَيُقَال لَك حَتَّى إِذا انْتهى رفعت لَهُ ياقوتة حَمْرَاء أَو زبرجدة خضراء لَهَا سَبْعُونَ شعبًا فِي كل شعب سَبْعُونَ غرفَة فِي كل غرفَة سَبْعُونَ بَابا فَيُقَال اقْرَأ وارقه فيرقى حَتَّى إِذا انْتهى إِلَى سَرِير ملكه اتكأ عَلَيْهِ سعته ميل فِي ميل لَهُ فِيهِ قُصُور فيسعى إِلَيْهِ بسبعين صَحْفَة من ذهب لَيْسَ فِيهَا صَحْفَة فِيهَا من لون أُخْتهَا يجد لَذَّة آخرهَا كَمَا يجد لَذَّة أَولهَا ثمَّ يسْعَى إِلَيْهِ بألوان الْأَشْرِبَة فيشرب مِنْهَا مَا اشْتهى ثمَّ يَقُول الغلمان اتركوه وأزواجه فَينْطَلق الغلمان ثمَّ ينظر فَإِذا حوراء من الْحور الْعين جالسة على سَرِير ملكهَا عَلَيْهَا سَبْعُونَ حلَّة لَيْسَ مِنْهَا حلَّة من لون صاحبتها فَيرى مخ سَاقهَا من وَرَاء اللَّحْم وَالدَّم والعظم وَالْكِسْوَة فَوق ذَلِك فَينْظر إِلَيْهَا فَيَقُول من أَنْت فَتَقول أَنا من الْحور الْعين من اللَّاتِي خبئن لَك فَينْظر إِلَيْهَا أَرْبَعِينَ سنة لَا يصرف بَصَره عَنْهَا ثمَّ يرفع بَصَره إِلَى الغرفة فَإِذا أُخْرَى أجمل مِنْهَا فَتَقول مَا آن لَك أَن يكون لنا مِنْك نصيب فيرتقي إِلَيْهَا أَرْبَعِينَ سنة لَا يصرف بَصَره عَنْهَا ثمَّ إِذا بلغ النَّعيم مِنْهُم كل مبلغ وظنوا أَن لَا نعيم أفضل مِنْهُ تجلى لَهُم الرب تبَارك اسْمه فَيَنْظُرُونَ إِلَى وَجه الرَّحْمَن فَيَقُول يَا أهل الْجنَّة هللوني فيتجاوبون بتهليل الرَّحْمَن ثمَّ يَقُول يَا دَاوُد قُم فمجدني كَمَا كنت تمجدني فِي الدُّنْيَا قَالَ فيمجد دَاوُد ربه عز وَجل
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَفِي إِسْنَاده من لَا أعرفهُ الْآن
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَفِي إِسْنَاده من لَا أعرفهُ الْآن
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৬৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৯. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতী হবে সেই ব্যক্তি, যে হাজার বছরের দূরত্ব থেকে তার উত্থানকামী, তার জায়াকূল, নিয়ামত রাশি পরিচারকবর্গ ও খাট-পালংকসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে। পক্ষান্তরে, আল্লাহর কাছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত হবে সে ব্যক্তি, যে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার দিকে সৃষ্টিপাত করবে। একপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেন, وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ বহু চেহারা সেদিন উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের প্রতি তাকাবে।" (৭৫ঃ ২২,২৩)।
(তিরমিযী, আবূ ইয়া'লা তাবারানী ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ও সংক্ষিপ্তাকারে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনو মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতী তার রাজত্বের প্রতি দু'হাজার বছর পর্যন্ত তাকিয়ে থাকবে। সে তার শেষ সীমা এভাবে দেখবে, যেমন সে তার নিকটে দেখবে। সে তার স্ত্রীকুল ও পরিচারক বর্ণের দিকে তাকাতে থাকবে।
বায়হাকী তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষায় উপরিউক্ত রিওয়ায়েতের উপর এটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন। এবং মর্যাদার দিক থেকে সর্বোত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে প্রতিদিন দু'বার আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করতে।)
(তিরমিযী, আবূ ইয়া'লা তাবারানী ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ও সংক্ষিপ্তাকারে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনو মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতী তার রাজত্বের প্রতি দু'হাজার বছর পর্যন্ত তাকিয়ে থাকবে। সে তার শেষ সীমা এভাবে দেখবে, যেমন সে তার নিকটে দেখবে। সে তার স্ত্রীকুল ও পরিচারক বর্ণের দিকে তাকাতে থাকবে।
বায়হাকী তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষায় উপরিউক্ত রিওয়ায়েতের উপর এটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন। এবং মর্যাদার দিক থেকে সর্বোত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে প্রতিদিন দু'বার আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করতে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5669- وَرُوِيَ عَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن أدنى أهل
الْجنَّة منزلَة لمن ينظر إِلَى جنانه وأزواجه ونعيمه وخدمه وسرره مسيرَة ألف سنة وَأكْرمهمْ على الله من ينظر إِلَى وَجهه غدْوَة وعشيا ثمَّ قَرَأَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وُجُوه يَوْمئِذٍ ناضرة إِلَى رَبهَا ناظرة الْقِيَامَة 22 32
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ أَحْمد مُخْتَصرا قَالَ إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة لينْظر فِي ملكه ألفي سنة يرى أقصاه كَمَا يرى أدناه ينظر إِلَى أَزوَاجه وخدمه
زَاد الْبَيْهَقِيّ على هَذَا فِي لفظ لَهُ وَإِن أفضلهم منزلَة لمن ينظر إِلَى الله عز وَجل فِي وَجهه فِي كل يَوْم مرَّتَيْنِ
الْجنَّة منزلَة لمن ينظر إِلَى جنانه وأزواجه ونعيمه وخدمه وسرره مسيرَة ألف سنة وَأكْرمهمْ على الله من ينظر إِلَى وَجهه غدْوَة وعشيا ثمَّ قَرَأَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وُجُوه يَوْمئِذٍ ناضرة إِلَى رَبهَا ناظرة الْقِيَامَة 22 32
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ أَحْمد مُخْتَصرا قَالَ إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة لينْظر فِي ملكه ألفي سنة يرى أقصاه كَمَا يرى أدناه ينظر إِلَى أَزوَاجه وخدمه
زَاد الْبَيْهَقِيّ على هَذَا فِي لفظ لَهُ وَإِن أفضلهم منزلَة لمن ينظر إِلَى الله عز وَجل فِي وَجهه فِي كل يَوْم مرَّتَيْنِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬৭০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৭০. হযরত ইবন আবিদ-দুনিয়া আ'মাশের সূত্রে সুওয়ায়র থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার মতে ইবন উমর (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম জান্নাতী হবে এমন ব্যক্তি, যার জন্য থাকবে এক হাজার প্রাসাদ। দু'টি প্রাসাদের মাঝে থাকবে এক বছরের দুরত্ব। সে তার জান্নাতের শেষ সীমা এভাবে দেখবে, যেমন সে তার নিকটে দেখবে। প্রতিটি প্রাসাদে থাকবে আয়তলোচনা রমণী, পুষ্পনিচয় ও কিশোরগণ। সে যা-ই আনতে বলবে, তা তার সামনে উপস্থিত করা হবে। তিনি এভাবে মাওকূফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5670- وروى ابْن أبي الدُّنْيَا عَن الْأَعْمَش عَن ثُوَيْر قَالَ أرَاهُ عَن ابْن عمر قَالَ إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة لرجل لَهُ ألف قصر بَين كل قَصْرَيْنِ مسيرَة سنة يرى أقصاها كَمَا يرى أدناها فِي كل قصر من الْحور الْعين والرياحين والوالدن مَا يَدْعُو بِشَيْء إِلَّا أُتِي بِهِ
رَوَاهُ هَكَذَا مَوْقُوفا
رَوَاهُ هَكَذَا مَوْقُوفا
তাহকীক: