আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৪৮ টি

হাদীস নং: ৫৬৭১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৭১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, সর্বনিম্ন জান্নাতী হবে সেই ব্যক্তি, যার জন্য থাকবে আশি হাজার পরিচালক ও বাহাত্তর হাজার স্ত্রী। তার জন্য মুক্তা,পান্না ও চুন্নির একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে জাবিয়া থেকে সান'আর মধ্যবর্তী স্থানের সমান।
(তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি গারীব। আমাদের জানা মতে, হাদীসটি কেবল রিশদীন ইবন সা'দ-এর রিওয়ায়েতে আমর ইবন হারিসের সূত্রে দাররাজ থেকে বর্ণিত।
[হাফিজ (র) বলেনঃ], ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে ইবন ওয়াহাব এর রিওয়ায়েতে আমর ইবন হারিসের সূত্রে দাররাজ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন ওয়াহাব একজন খ্যাতনামা ও নির্ভরযোগ্য রাবী।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5671- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أدنى أهل الْجنَّة الَّذِي لَهُ ثَمَانُون ألف خَادِم وَاثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ زَوْجَة وَينصب لَهُ قبَّة من لُؤْلُؤ وَزَبَرْجَد وَيَاقُوت كَمَا بَين الْجَابِيَة إِلَى صنعاء

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث رشدين بن سعد يَعْنِي عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج
قَالَ الْحَافِظ قد رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث ابْن وهب وَهُوَ أحد الْأَعْلَام الثِّقَات الْأَثْبَات عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৭২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৭২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সমস্ত জান্নাতীদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতী হবে সে ব্যক্তি, যার খেদমতের জন্য দণ্ডায়মান থাকবে দশ হাজার খাদেম। প্রত্যেকের হাতে থাকবে দুটি রেকাবী। একটি সোনার, অপরটি রূপার। প্রতিটিতে এমন খাবার থাকবে, যেরূপ খাবার অপরটিতে থাকবে না। সে প্রথম রেকাবী থেকে যা খাবে, তার সমান সে শেষ রেকাবী থেকেও খাবে। সে শেষ রেকাবীতে এরূপ ঘ্রাণ ও স্বাদ পাবে, যেমন সে প্রথম রেকাবীতে পাবে। অধিকন্তু সেটা হবে উন্নতমানের মেশকের ঘ্রাণ। তাদের মলমুত্রত্যাগ এবং নাকের শ্লেষা বের করার প্রয়োজন হবে না। তারা পরস্পরে ভাই ভাইয়ের মত মুখোমুখি আসনে উপবিষ্ট থাকবে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষ্য তাবারানী বর্ণিত। হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5672- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن أَسْفَل أهل الْجنَّة أَجْمَعِينَ دَرَجَة لمن يقوم على رَأسه عشرَة آلَاف خَادِم بيد كل وَاحِد صحفتان وَاحِدَة من ذهب وَالْأُخْرَى من فضَّة فِي كل وَاحِدَة لون لَيْسَ فِي الْأُخْرَى مثله يَأْكُل من آخرهَا مثل مَا يَأْكُل من أَولهَا تَجِد لآخرها من الطّيب واللذة مثل الَّذِي يجد لأولها ثمَّ يكون ذَلِك ريح الْمسك الأذفر لَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ إخْوَانًا على سرر مُتَقَابلين

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَرُوَاته ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৭৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৭৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতীদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতী- অথচ তাদের মধ্যে কোন নিকৃষ্ট লোক থাকবে না- হবে সেই ব্যক্তি, যার কাছে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে গমন করবে পনের হাজার খিদমতগার তাদের প্রত্যেকের সাথে থাকবে এমন এক লোভনীয় আকর্ষণীয় হাদিয়া, যা তার সঙ্গী (অন্য খাদেম)-এর কাছে থাকবে না।
(ইব্‌ন আবিদ-দুনিয়া মাওকুফ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
[হাফিয (র) বলেনঃ], এসব হাদীসের মাঝে কোন বিরোধ নেই। কেননা, আবু সাঈদ (রা)-এর হাদীসে তিনি বলেছেনঃ "সর্বনিম্ন জান্নাতী হবে সেই ব্যক্তি, আশি হাজার খাদেম থাকবে।" আনাস (রা)-এর হাদীসে বলেছেন, "যার খেদমতের জন্য দণ্ডায়মান থাকবে দশ হাজার খাদেম। আবু হুরায়রা (রা)-এর হাদীসে আছে, "যার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় গমন করবে পনের হাজার খাদেম।" সুতরাং এভাবে হতে পারে যে, তার আশি হাজার খাদেম থাকবে। তন্মধ্যে তার খেদমতের জন্য প্রস্তুত থাকবে দশ হাজার এবং প্রতিদিন সকালে তার কাছে গমন করবে পনের হাজার। আল্লাহই তা'আলাই সম্যক অবগত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5673- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة وَلَيْسَ فيهم دني من يَغْدُو عَلَيْهِ كل يَوْم وَيروح خَمْسَة عشر ألف خَادِم لَيْسَ مِنْهُم خَادِم إِلَّا وَمَعَهُ طرفَة لَيست مَعَ صَاحبه

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا
قَالَ الْحَافِظ وَلَا مُنَافَاة بَين هَذِه الْأَحَادِيث لِأَنَّهُ قَالَ فِي حَدِيث أبي سعيد أدنى أهل الْجنَّة الَّذِي لَهُ ثَمَانُون ألف خَادِم وَقَالَ فِي حَدِيث أنس من يقوم على رَأسه عشرَة آلَاف خَادِم وَفِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة من يَغْدُو عَلَيْهِ وَيروح خَمْسَة عشر ألف خَادِم
فَيجوز أَن يكون لَهُ ثَمَانُون ألف خَادِم يقوم على رَأسه مِنْهُم عشرَة آلَاف وَيَغْدُو عَلَيْهِ مِنْهُم كل يَوْم خَمْسَة عشر ألفا وَالله سُبْحَانَهُ أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৭৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৭৪. বায়হাকী ইয়াহইয়া ইবন আবি তালিব-এর রিওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সাঈদ ইব্‌ন আবি আজবা কাতাদা থেকে, তিনি আবূ আয়্যুব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর (রা) থেকে আমাদেরকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতী হবে সেই ব্যক্তি, যার খেদমতে নিয়োজিত থাকবে এক হাজার খিদমতগার। প্রত্যেকটি খাদেম এমন কাজে থাকবে, যাতে তার সঙ্গী (অন্য খাদেম) থাকবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَنْثُورًا "যখন তুমি তাদেরকে দেখবে, তখন তুমি তাদেরকে বিক্ষিপ্ত মুক্তা বলে ধারণা করবে।" (৭৬: ১৯)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5674- وروى الْبَيْهَقِيّ من حَدِيث يحيى بن أبي طَالب حَدثنَا عبد الْوَهَّاب أَنبأَنَا سعيد بن أبي عرُوبَة عَن قَتَادَة عَن أبي أَيُّوب عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة من يسْعَى عَلَيْهِ ألف خَادِم كل خَادِم على عمل لَيْسَ عَلَيْهِ صَاحبه قَالَ وتلا هَذِه الْآيَة إِذا رَأَيْتهمْ حسبتهم لؤلؤا منثورا الْإِنْسَان 91
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৭৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের অনেক তলা ও কামরার বর্ণনা
৫৬৭৫. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতবাসীগণ তাদের পারস্পরিক মর্যাদার ব্যবধানের কারণে (জান্নাতের) কামরাবাসীদেরকে তাদের উপর থেকে এভবে দেখবে, যেমন তারা পূর্ব দিগন্তে ও পশ্চিম দিগন্তে অস্তমান উজ্জ্বল তারকাকে দেখে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এসব তো নবীদের মর্যাদা। সেখানে তো অন্যেরা পৌঁছতে পারবে না। তিনি বলেন, হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তারা হবে এমন লোক, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের সত্যতা সমর্থন করেছে।
(বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
বুখারী ও মুসলিমের অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, "যেমন তোমরা অস্তমান তারকাকে দেখ।" এ রিওয়ায়েতে (অস্তমান অর্থে মূলে) 'গাবির'-এর পরিবর্তে 'গারিব' শব্দ রয়েছে। (অর্থ একই)
তিরমিযী আবূ হুরায়রা (রা)-এর রিওয়ায়েতে হাদীসটি পূর্ববৎ বর্ণনা করে তাকে 'সহীহ' সাব্যস্ত করেছেন। তবে তিনি বলেন, 'নিশ্চয় জান্নাতবাসীগণ তাদের পারস্পরিক মর্যাদার ব্যবধানে তারা একে অপরকে দিগন্তে অস্তমান অথবা উদীয়মান পূর্ব দিগন্তের তারকা অথবা পশ্চিম দিগন্তের তারকার মত দেখবে।" কোন কোন কপিতে "পশ্চিম দিগন্তের তারকা" অথবা "অস্তমান তারকা" সন্দেহের সাথে বলা হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي دَرَجَات الْجنَّة وغرفها
5675- عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن أهل الْجنَّة ليتراءون أهل الغرف من فَوْقهم كَمَا يتراءون الْكَوْكَب الدُّرِّي الغابر فِي الْأُفق من الْمشرق وَالْمغْرب لتفاضل مَا بَينهم قَالُوا يَا رَسُول الله تِلْكَ منَازِل الْأَنْبِيَاء لَا يبلغهَا غَيرهم قَالَ بلَى وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ رجال آمنُوا بِاللَّه وَصَدقُوا الْمُرْسلين
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
وَفِي رِوَايَة لَهما كَمَا تراءون الْكَوْكَب الغارب بِتَقْدِيم الرَّاء على الْبَاء
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة بِنَحْوِهِ وَصَححهُ إِلَّا أَنه قَالَ إِن أهل الْجنَّة ليتراءون الْكَوْكَب الشَّرْقِي أَو الْكَوْكَب الغربي الغارب فِي الْأُفق أَو الطالع فِي تفاضل الدَّرَجَات الحَدِيث وَفِي بعض النّسخ والكوكب الغربي أَو الغارب على الشَّك
হাদীস নং: ৫৬৭৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের অনেক তলা ও কামরার বর্ণনা
৫৬৭৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে মর্যাদার ব্যবধানে একে অপরকে এভাবে দেখবে, যেমন তোমরা পূর্ব দিগন্তে অস্তমান। উজ্জ্বল তারকা দেখ। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তাঁরা কি নবী? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, এবং এমন লোকেরা যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের সত্যতা সমর্থন করেছে।
(আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। এর উহ্য অর্থ এরকম, "যেমন তারা উদ্ভাসিত অস্তমান উজ্জ্বল তারকা দেখে থাকে।"
তিরমিযী ও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েত পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي دَرَجَات الْجنَّة وغرفها
5676- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن أهل الْجنَّة ليتراءون فِي الْجنَّة كَمَا تراءون أَو ترَوْنَ الْكَوْكَب الدُّرِّي الغارب فِي الْأُفق الطالع فِي تفاضل الدَّرَجَات قَالُوا يَا رَسُول الله أُولَئِكَ النَّبِيُّونَ قَالَ بلَى وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ وأقوام آمنُوا بِاللَّه وَصَدقُوا الْمُرْسلين

رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح
وَتَقْدِيره كَمَا يرَوْنَ الْكَوْكَب الطالع الدُّرِّي الغارب
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَتقدم لَفظه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৭৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের অনেক তলা ও কামরার বর্ণনা
৫৬৭৭. হযরত জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তোমাদের কাছে জান্নাতের কামরা সমূহের বর্ণনা দেব না? তিনি বলেন, আমি বললাম, জ্বী হ্যা. ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার প্রতি আমাদের পিতা মাতা কুরবান হোক। বলুন, তিনি বললেন, জান্নাতে সর্বধিক মণি মাণিক্যের অনেক কামরা রয়েছে। সেগুলোর বাইরের দিক ভিতরের দিক থেকে এবং ভিতরের দিক বাইরের দিক থেকে দৃশ্যমান হবে। সেখানে এমন নেয়ামতরাশি ভোগের সামগ্রী ও মর্যাদা রয়েছে, যা কোন চোখ কোনদিন দেখেনি এবং কোন কোন কোনদিন শোনে নি। তিনি বলেন, আমি বললাম, এসব কামরা কার জন্য? তিনি বললেন, সেই ব্যক্তির জন্য, যে সালামের প্রসার ঘটায়, দরিদ্রকে খাবার খাওয়ায়, সর্বদা রোযা রাখে এবং রাত্রে সালাত আদায় করে। অথচ লোকে তখন নিদ্রায় বিভোর থাকে।
(বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করে অতঃপর বলেন, এ (হাদীসের) সনদটি শক্তিশালী নয়। তবে প্রথম দুইটি হাদীসের সনদ সহকারে একটা অপরটা দ্বারা শক্তিশালী হয়। আল্লাহই অধিকতর জ্ঞাত।
[হাফিয (র) বলেনঃ], এ রকমের রাত্রিতে সালাত আদায় ও খাবার খাওয়ানো ইত্যাদি প্রসঙ্গে আবূ মালিক (রা)-এর রিওয়ায়েতে নবী (ﷺ) থেকে এতদভিন্ন একটি সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। নিশ্চয় জান্নাতে বহু তামরা থাকবে, সেগুলোর বাইরের দিক ভিতরের দিক থেকে এবং ভিতরের দিক বাইরের থেকে দেখা যাবে। সেগুলো আল্লাহ্ তা'আলা সে ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত রেখেছেন, যে খাবার খাওয়ায় ও সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাত্রে সালাত আদায় করে অথচ লোকে তখন নিদ্রিত থাকে।
আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর (রা)-এর রিওয়ায়েতেও এরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي دَرَجَات الْجنَّة وغرفها
5677- وَعَن جَابر بن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَلا أحدثكُم بغرف الْجنَّة قَالَ قلت بلَى يَا رَسُول الله بأبينا أَنْت وَأمنا قَالَ إِن فِي الْجنَّة غرفا من أَصْنَاف الْجَوْهَر كُله يرى ظَاهرهَا من بَاطِنهَا وباطنها من ظَاهرهَا فِيهَا من النَّعيم وَاللَّذَّات والشرف مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت
قَالَ قلت لمن هَذِه الغرف قَالَ لمن أفشى السَّلَام وَأطْعم الطَّعَام وأدام الصّيام وَصلى بِاللَّيْلِ وَالنَّاس نيام الحَدِيث

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ ثمَّ قَالَ وَهَذَا الْإِسْنَاد غير قوي إِلَّا أَنه مَعَ الإسنادين الْأَوَّلين يقوى بعضه بِبَعْض وَالله أعلم

قَالَ الْحَافِظ تقدم من هَذَا النَّوْع غير مَا حَدِيث صَحِيح فِي قيام اللَّيْل وإطعام الطَّعَام وَغير ذَلِك من حَدِيث أبي مَالك عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي الْجنَّة غرفا يرى ظَاهرهَا من بَاطِنهَا وباطنها من ظَاهرهَا أعدهَا الله لمن أطْعم الطَّعَام وَأفْشى السَّلَام وَصلى بِاللَّيْلِ وَالنَّاس نيام
وَحَدِيث عبد الله بن عَمْرو بِنَحْوِهِ
হাদীস নং: ৫৬৭৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের অনেক তলা ও কামরার বর্ণনা
৫৬৭৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাত একশ'টি তলা বিশিষ্ট যা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর পথের মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। এক তলা থেকে অপরের তলায় ব্যবধান হবে আকাশ ও পৃথিবীর ব্যবধানের সমান।
(বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي دَرَجَات الْجنَّة وغرفها
5678- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن فِي الْجنَّة مائَة دَرَجَة أعدهَا الله للمجاهدين فِي سَبِيل الله مَا بَين الدرجتين كَمَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض

رَوَاهُ البُخَارِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৭৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের অনেক তলা ও কামরার বর্ণনা
৫৬৭৯. উক্ত হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাত একশতলা বিশিষ্ট হবে। প্রতি দু'তলার মাঝে ব্যবধান হবে একশ বছরের।
(তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব। তাবারানী ও 'আল-অওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন: প্রতি দু'টি তলার মাঝে ব্যবধান হবে পাঁচশ' বছরের দূরত্ব।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي دَرَجَات الْجنَّة وغرفها
5679- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَيْضا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي الْجنَّة مائَة دَرَجَة مَا بَين كل دَرَجَتَيْنِ مائَة عَام

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط إِلَّا أَنه قَالَ مَا بَين كل دَرَجَتَيْنِ مسيرَة خَمْسمِائَة عَام
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের প্রাসাদ, মাটি, কংকর ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের কাছে জান্নাতের বর্ণনা দিন, তার প্রাসাদ কেমন? তিনি বললেন, একটি সোনার ইট ও একটি রূপার ইট। তার মসলা হবে মেশক, তার কংকর মুক্তা ও চুনি। এবং তার মাটি হবে যাফরান। যে তাতে প্রবেশ করবে সে স্বাচ্ছন্দ্যশালী হবে, কোনরূপ অস্বাচ্ছন্দবোধ করবেনা। সে চিরকাল থাকবে, মৃত্যুবরণ করবে না। তার পোষাক পুরনো হবে না এবং তার যৌবন ক্ষয় হবে না।
(আহমাদ, তিরমিযী, বাযযার, তাবারানী-'আল-আওসাতে ও ইবন হিব্বান-তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা আহমাদ বর্ণিত। এ হাদীস তাঁদের বর্ণিত অপর একটি হাদীসের অংশ বিশেষ। ইবন আবিদ-দুনিয়া আবু হুরায়রা (রা) এর উপর মাওকূফ রেখে (হাদীসটি) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জান্নাতের প্রাচীর হবে একটি ইট সোনার ও একটি ইট রূপার, তার কংকর হবে চুনি ও মুক্তা। তিনি বলেন, এবং আমরা আলোচনা করতাম যে, তার নহরগুলোর ছোট ছোট কংকর হবে মুক্তা এবং তার মাটি হবে জাফরান।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بِنَاء الْجنَّة وترابها وحصبائها وَغير ذَلِك
5680- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُول الله حَدثنَا عَن الْجنَّة مَا بناؤها قَالَ لبنة ذهب ولبنة فضَّة وملاطها الْمسك وحصباؤها اللُّؤْلُؤ والياقوت وترابها الزَّعْفَرَان من يدخلهَا ينعم وَلَا يبأس ويخلد لَا يَمُوت لَا تبلى ثِيَابه وَلَا يفنى شبابه الحَدِيث

رَوَاهُ أَحْمد وَاللَّفْظ لَهُ وَالتِّرْمِذِيّ وَالْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَهُوَ قِطْعَة من حَدِيث عِنْدهم
وروى ابْن أبي الدُّنْيَا عَن أبي هُرَيْرَة مَوْقُوفا قَالَ حَائِط الْجنَّة لبنة من ذهب ولبنة من فضَّة ودرجها الْيَاقُوت واللؤلؤ قَالَ وَكُنَّا نُحدث أَن رَضْرَاض أنهارها اللُّؤْلُؤ وترابها الزَّعْفَرَان
হাদীস নং: ৫৬৮১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের প্রাসাদ, মাটি, কংকর ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮১. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জান্নাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তখন তিনি বললেন, যে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে সেখানে জীবিত থাকবে, মৃত্যুমুখে পতিত হবে না। তাকে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করা হবে, কোনরূপ অস্বাচ্ছন্দবোধ করবে না। তার পোষাক পুরনো হবে না এবং তার যৌবন ক্ষয় হবে না, জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তার প্রাসাদ কেমন? তিনি বললেন, একটি ইট সোনার ও একটি ইট রূপার। তার মসলা হচ্ছে মেশক, তার মাটি জাফরান, তার কংকর মুক্তা ও চুনি।
(ইবন আবুদ-দুনিয়া ও তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, পূর্ববর্তী হাদীসের কারণে এর সনদ হাসান।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بِنَاء الْجنَّة وترابها وحصبائها وَغير ذَلِك
5681 - وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن الْجنَّة فَقَالَ من يدْخل الْجنَّة يحيى فِيهَا لَا يَمُوت وينعم فِيهَا لَا يبأس لَا تبلى ثِيَابه وَلَا يفنى شبابه قيل يَا رَسُول الله مَا بناؤها قَالَ لبنة من ذهب ولبنة من فضَّة وملاطها الْمسك وترابها الزَّعْفَرَان وحصباؤها اللُّؤْلُؤ والياقوت

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَإِسْنَاده حسن بِمَا قبله
হাদীস নং: ৫৬৮২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের প্রাসাদ, মাটি, কংকর ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮২. হযরত আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাত সৃষ্টি করেছেন। তার একটি ইট সোনার ও একটি ইট রূপার। তার মসলা হচ্ছে মেশক। তিনি জান্নাতকে বললেন, তুমি কথা বল হে! সে বলল, মু'মিনগণ সফলকাম হয়েছে। ফিরিশতাগণ বললেন, হে রাজা-বাদশাদের অধিষ্ঠান স্থল। তোমাকে অভিনন্দন।
(তাবারানী ও বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা বাযযার বর্ণিত। তিনি হাদীসটি মারফু ও মাওকুফ উভয়ভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে, হাদীসটি কেবল আদী ইবন ফযলই জাবীরী, আবু নাফ্রা সূত্রে আবু সাঈদ (রা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আদী ইব্‌ন ফযল হাফিয নন। তিনি বসরার একজন আলিম।
[হাফিয (র) বলেনঃ], ওয়াহাব ইবন খালিদ জাবীরী তিনি আবু নাযরা আবু সাঈদ (রা) সূত্রে হাদীসটি মারফু'রূপে বর্ণনার ক্ষেত্রে আদী ইবন ফযলের অনুসরণ করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা হচ্ছেঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে প্রাচীর বেষ্টিত করেছেন। তার একটি ইট সোনার ও একটি ইট রূপার। এরপর সেখানে নহর তৈরি করেছেন এবং বৃক্ষ রোপন করেছেন। যখন ফিরিশতাগণ তার সৌন্দর্যের প্রতি তাকাল, তখন তারা বলল, হে রাজা-বাদশাহদের অধিষ্ঠানস্থল। তোমাকে অভিনন্দন।
বায়হাকী (র) প্রমুখ হাদীসটি সংকলন করেছেন। তবে তিনি রিওয়ায়েতটি মাওকুফ রেখেছেন। এটাই অধিক বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بِنَاء الْجنَّة وترابها وحصبائها وَغير ذَلِك
5682- وَعَن أبي سعيد رَضِي الله عَنهُ قَالَ خلق الله تبَارك وَتَعَالَى الْجنَّة لبنة من ذهب ولبنة من فضَّة وملاطها الْمسك وَقَالَ لَهَا تكلمي فَقَالَت قد أَفْلح الْمُؤْمِنُونَ فَقَالَت الْمَلَائِكَة طُوبَى لَك منزل الْمُلُوك
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَزَّار وَاللَّفْظ لَهُ مَرْفُوعا وموقوفا وَقَالَ لَا نعلم أحدا رَفعه إِلَّا عدي بن الْفضل يَعْنِي عَن الْجريرِي عَن أبي نَضرة عَنهُ وعدي بن الْفضل لَيْسَ بِالْحَافِظِ وَهُوَ شيخ بَصرِي انْتهى
قَالَ الْحَافِظ قد تَابع عدي بن الْفضل على رَفعه وهب بن خَالِد عَن الْجريرِي عَن أبي نَضرة عَن أبي سعيد وَلَفظه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الله عز وَجل أحَاط حَائِط الْجنَّة لبنة من ذهب ولبنة من فضَّة ثمَّ شقق فِيهَا الْأَنْهَار وغرس فِيهَا الْأَشْجَار فَلَمَّا نظرت الْمَلَائِكَة إِلَى حسنها قَالَت طُوبَى لَك منَازِل الْمُلُوك
أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَغَيره وَلَكِن وَقفه هُوَ الْأَصَح الْمَشْهُور وَالله أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের প্রাসাদ, মাটি, কংকর ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮৩. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা স্বহস্তে 'আদন জান্নাত' সৃষ্টি করেছেন, সেখানে ফলের কাঁদি ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং নহর তৈরি করেছেন। এরপর তিনি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কথা বল হে? সে বলল, মু'মিনগণ সফলকাম হয়েছে। তখন তিনি বললেন, আমার সম্ভ্রমের কসম, তোমার মধ্যে কোন কৃপণ আমার পড়শীরূপে থাকতে পারবে না।
(তাবারানী 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাতে' দুটি সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি উৎকৃষ্ট ইবন আবিদ-দুনিয়া আনাস (রা)-এর রিওয়োয়েত এর চেয়ে দীর্ঘাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষ্য হচ্ছেঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা স্বহস্তে 'আদন জান্নাত' সৃষ্টি করেছেন। তার একটি ইট সাদা মুক্তার, একটি ইট লাল চুনির এবং একটি ইট সবুজ পান্নার। তার মসলা হচ্ছে মেশক, তার শুকনো ঘাস জাফরান, তার কংকর মুক্তা এবং তার মাটি আম্বর। এরপর তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কথা বল হে! সে বলল, মু'মিনগণ সফলকাম হয়েছে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, আমার সম্ভ্রম ও প্রতাপের কসম, তোমার মধ্যে কোন কৃপণ আমার প্রতিবেশীরূপে থাকতে পারবে না। এরপর রাসুলাল্লাহ তিলাওয়াত করলেনঃ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ যারা নিজেদেরকে কার্পণ্য থেকে মুক্ত করেছে, তারাই সফলকাম (৫৯ঃ ৯, ৬৪ : ১৬)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بِنَاء الْجنَّة وترابها وحصبائها وَغير ذَلِك
5683- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خلق الله جنَّة عدن بِيَدِهِ ودلى فِيهَا ثمارها وشق فِيهَا أنهارها ثمَّ نظر إِلَيْهَا فَقَالَ لَهَا تكلمي فَقَالَت قد أَفْلح الْمُؤْمِنُونَ فَقَالَ وَعِزَّتِي لَا يجاورني فِيك بخيل

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا جيد وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا من حَدِيث أنس أطول مِنْهُ وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خلق الله جنَّة عدن بِيَدِهِ لبنة من درة بَيْضَاء ولبنة من ياقوتة حَمْرَاء ولبنة من زبرجدة خضراء وملاطها مسك حشيشها الزَّعْفَرَان حصباؤها اللُّؤْلُؤ ترابها العنبر ثمَّ قَالَ لَهَا انْطِقِي قَالَت قد أَفْلح الْمُؤْمِنُونَ فَقَالَ الله عز وَجل وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا يجاورني فِيك بخيل ثمَّ تَلا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَمن يُوقَ شح نَفسه فَأُولَئِك هم المفلحون الْحَشْر 9 والتغابن 61
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের প্রাসাদ, মাটি, কংকর ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতের ভূমি সাদা, তার আঙ্গিনা কপূরের শিলা। শেশক তাকে বালুর ঢিবির মত ঘিরে রেখেছে। সেখানে রয়েছে বহতা নদী। সর্বনিম্ন জান্নাতী ও সর্বশেষ জান্নাতী সেখানে সমবেত হবে। তাদের পরস্পরের পরিচয় হবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা রহমতের বায়ু প্রেরণ করবেন। তখন তাদের উপর দিয়ে মেশকের সুগন্ধি বইবে। ফলে পুরুষ তার বর্ধিত সৌন্দর্য ও সুঘ্রাণ নিয়ে তার স্ত্রীর কাছে ফিরে যাবে। তখন স্ত্রী তাকে বলবে, যখন তুমি আমার নিকট থেকে বের হয়ে গিয়েছ তখন আমি তোমার প্রতি মুগ্ধ ছিলাম। এখন আমি তোমার প্রতি অধিকতর বিমুগ্ধ।
(ইবন আবুদ দুনিয়া (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بِنَاء الْجنَّة وترابها وحصبائها وَغير ذَلِك
5684- وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَرض الْجنَّة بَيْضَاء عرصتها صخور الكافور وَقد أحَاط بِهِ الْمسك مثل كُثْبَان الرمل أَنهَار مطردَة فيجتمع فِيهَا أهل الْجنَّة أَدْنَاهُم وَآخرهمْ فيتعارفون فيبعث الله ريح الرَّحْمَة فتهيج عَلَيْهِم ريح الْمسك فَيرجع الرجل إِلَى زَوجته وَقد ازْدَادَ حسنا وطيبا فَتَقول لَهُ لقد خرجت من عِنْدِي وَأَنا بك معجبة وَأَنا بك الْآن أَشد إعجابا

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের প্রাসাদ, মাটি, কংকর ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮৫. হযরত সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে একটি মেশকের চারণভূমি রয়েছে, যেমন দুনিয়াতে তোমাদের চতুস্পদ জন্তুর চরণভূমি রয়েছে।
(তাবারানী উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بِنَاء الْجنَّة وترابها وحصبائها وَغير ذَلِك
5685- وَعَن سهل بن سعد رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي الْجنَّة مراغا من مسك مثل مراغ دوابكم فِي الدُّنْيَا

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের প্রাসাদ, মাটি, কংকর ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮৬. হযরত কুরায়ব (র) থেকে বর্ণিত। তিনি উসামা ইবন যায়িদ (রা)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ওহে! কেউ কি জান্নাতের দ্রুত গমনের জন্য প্রস্তুত আছে। কেননা, জান্নাতে যেতে কোন বাঁধা নিষেধ নেই। কা'বার রবের কসম, জান্নাত দেদীপ্যমান নূর, দোদুল্যমান সুগন্ধিময় পুষ্প, সুরমা প্রাসাদ, বহুতা নদী, পরিপক্ক ফল, সুন্দরী রূপবতী স্ত্রী, বহুবিধ পোষাক, নিরাপদ গৃহে স্থায়ী অবস্থান, ফল, সজীবতা শ্যামলতা, আনন্দ ও এক উঁচু মনোমুগ্ধকার স্থান রক্ষিত নেয়ামত। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। হ্যাঁ, আমরা জান্নাতের দ্রুত গমনের জন্য প্রস্তুতি রয়েছি। তিনি বললেন তোমরা বল, ইনশাআল্লাহ্। তখন উপস্থিত। লোকজন বলল, ইনশাআল্লাহ।
(ইবন মাজা, ইবন আবিদ-দুনিয়া, বাযযার, ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিভাবে বায়হাকী সকলেই মুহাম্মদ ইবন মুহাজির-এর রিওয়ায়েতে যাহহাক মুগাফিরীর সূত্রে সুলায়মান ইবন মূসার মধ্যস্থতায় কুরায়ব থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন আবিদ-দুনিয়া সংক্ষিপ্তাকারেও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি মুহাম্মদ ইবন মুহাজির আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সুলায়মান ইবন মূসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। "উসুলে মু'তামিদা" গ্রন্থে এরূপই বলা হয়েছে। তাতে যাহ্হাকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বাযযার বলেন, উসামা (রা) ব্যতীত অন্য কেউ হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই এবং উসামা (রা) থেকে এ সনদ ব্যতীত অন্য কোন সনদ আমাদের জানা নেই। এবং যাহহাক থেকে অর্থাৎ, মুহাম্মদ ইবন মুহাজির ব্যতীত অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বলে আমরা জানি না।
[হাফিয আব্দুল আযীম (র) বলেনঃ], মুহাম্মদ ইবন মুহাজির তিনিই আনসারী, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবী। মুসলিম প্রমুখ তাকে প্রমাণ স্বরূপ গ্রহণ করেছেন। ইবন মাজা ব্যতীত হাদীসের ছয়খানি সহীহ গ্রন্থের সংকলকগণ থেকে অন্য কেউ যাহহাকের সনদে হাদীস সংকলন করেন নি। তার প্রতি ইবন হিব্বান ব্যতীত অন্য কারও সমর্থন অথবা আপত্তি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। বরং তিনি অজ্ঞাত পরিচয়, রাবীগণের একজন। সুলায়মান ইবন মূসা তিনিই 'আশদাক' নামে পরিচিতি। তাঁর সম্পর্কে আলোচনা আসবে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي بِنَاء الْجنَّة وترابها وحصبائها وَغير ذَلِك
5686- وَعَن كريب أَنه سمع أُسَامَة بن زيد رَضِي الله عَنهُ يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَلا هَل مشمر للجنة فَإِن الْجنَّة لَا حظر لَهَا هِيَ وَرب الْكَعْبَة نور يتلألأوريحانة تهتز وَقصر مشيد ونهر مطرد وَثَمَرَة نضيجة وَزَوْجَة حسناء جميلَة وحلل كَثِيرَة ومقام فِي أَبَد فِي دَار
سليمَة وَفَاكِهَة وخضرة وحبرة ونعمة فِي محلّة عالية بهية قَالُوا نعم يَا رَسُول الله نَحن المشمرون لَهَا قَالَ قُولُوا إِن شَاءَ الله فَقَالَ الْقَوْم إِن شَاءَ الله
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَابْن أبي الدُّنْيَا وَالْبَزَّار وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ كلهم من رِوَايَة مُحَمَّد بن مهَاجر عَن الضَّحَّاك المغافري عَن سُلَيْمَان بن مُوسَى عَنهُ وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا أَيْضا مُخْتَصرا قَالَ عَن مُحَمَّد بن مهَاجر الْأنْصَارِيّ حَدثنِي سُلَيْمَان بن مُوسَى كَذَا فِي أصُول مُعْتَمدَة لم يذكر فِيهِ الضَّحَّاك وَقَالَ الْبَزَّار لَا نعلم رَوَاهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِلَّا أُسَامَة وَلَا نعلم لَهُ طَرِيقا عَن أُسَامَة إِلَّا هَذِه الطَّرِيق وَلَا نعلم رَوَاهُ عَن الضَّحَّاك إِلَّا هَذَا الرجل مُحَمَّد بن مهَاجر
قَالَ الْحَافِظ عبد الْعَظِيم مُحَمَّد بن مهَاجر وَهُوَ الْأنْصَارِيّ ثِقَة احْتج بِهِ مُسلم وَغَيره وَالضَّحَّاك لم يخرج لَهُ من أَصْحَاب الْكتب السِّتَّة أحد غير ابْن مَاجَه وَلم أَقف فِيهِ على جرح وَلَا تَعْدِيل لغير ابْن حبَان بل هُوَ فِي عداد المجهولين وَسليمَان بن مُوسَى هُوَ الْأَشْدَق يَأْتِي ذكره
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের তাঁবু, কামরা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮৭. হযরত আবু মূসা আশআরী (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিনের জন্য জান্নাতে একটি ফাঁপা মুক্তার তাঁবু রয়েছে। আকাশের দিকে তার দৈর্ঘ্য হচ্ছে ষাট মাইল। মু'মিনের জন্য সেখানে রয়েছে এমন কিছু পরিজন, যাদের কাছে মু'মিন গমন করবে। কিন্তু তারা একে অপরকে দেখবে না।
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিরমিযী বলেন, "তার প্রস্থ হচ্ছে ষাট মাইল" এটা বুখারীও মুসলিমের ও একটি রিওয়ায়েত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي خيام الْجنَّة وغرفها وَغير ذَلِك
5687- عَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن لِلْمُؤمنِ فِي الْجنَّة لخيمة من لؤلؤة وَاحِدَة مجوفة طولهَا فِي السَّمَاء سِتُّونَ ميلًا لِلْمُؤمنِ فِيهَا أهلون يطوف عَلَيْهِم الْمُؤمن فَلَا يرى بَعضهم بَعْضًا

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ إِلَّا أَنه قَالَ عرضهَا سِتُّونَ ميلًا وَهُوَ رِوَايَة لَهما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের তাঁবু, কামরা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পসন্দসই রমনী রয়েছে। প্রত্যেক পসন্দসই রমণীর জন্য রয়েছে একটি করে তাবু। প্রত্যেক তাঁবুতে রয়েছে চারটি দরজা। প্রতিটি দরজা দিয়ে তার কাছে আসবে এমন হাদিয়া, তুহফা ও সম্মান, যা ইতিপূর্বে ছিল না। সেখানে কোন দন্তকারীনী, দুর্গন্ধময়ী, উপহাসকারীনী ও বিরুদ্ধাচারীনী রমনী থাকবে না। সেখানে থাকবে আয়াতলোচনা হুর, যেন তারা সংরক্ষিত ডিম।
(ইবন আবিদ দুনিয়া জাবির জু'ফীর রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي خيام الْجنَّة وغرفها وَغير ذَلِك
5688- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ لكل مُسلم خيرة وَلكُل خيرة خيمة وَلكُل خيمة أَرْبَعَة أَبْوَاب يدْخل عَلَيْهَا من كل بَاب تحفة وهدية وكرامة لم تكن قبل ذَلِك لَا مرحات وَلَا دفرات وَلَا سخرات وَلَا طماحات حور عين كأنهن بيض مَكْنُون
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا من رِوَايَة جَابر الْجعْفِيّ مَوْقُوفا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৮৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের তাঁবু, কামরা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৮৯. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ "তারা হবে তাঁবুতে অবস্থানকারীনী গেওরী রমনী" (৫৫ঃ ৭২) প্রসঙ্গে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁবু হল ফাঁপা মুক্তার তৈরী। তার দৈর্ঘ্য এক ফরসখ (তিন মাইল)। তার রয়েছে এক হাজারটি সোনার দরজা। তারপাশে রয়েছে শামিয়ানা। তার পরিমণ্ডল হল পঞ্চাশ ফরসখ। তার প্রতিটি দরজা দিয়ে একজন ফিরিশ্তা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে হাদিয়া নিয়ে তার কাছে আসবে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া মাওকূফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন আবিদ-দুনিয়া ও বায়হাকীর অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, তাঁবু হবে একটি ফাঁপা মুক্তা, তার দৈর্ঘ্য এক ফরসখ ও প্রস্থ এক ফরসখ। তার চার হাজার সোনার তৈরী দরজার পার্ট রয়েছে। এ রিওয়ায়েতের সনদ অধিক বিশুদ্ধ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي خيام الْجنَّة وغرفها وَغير ذَلِك
5689- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا حور مقصورات فِي الْخيام الرَّحِم 27 قَالَ الْخَيْمَة من درة مجوفة طولهَا فَرسَخ وَلها ألف بَاب من ذهب حولهَا سرادق دوره خَمْسُونَ فرسخا يدْخل عَلَيْهِ من كل بَاب مِنْهَا ملك بهدية من عِنْد الله عز وَجل

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا
وَفِي رِوَايَة لَهُ وللبيهقي الْخَيْمَة درة مجوفة فَرسَخ فِي فَرسَخ لَهَا أَرْبَعَة آلَاف مصراع من ذهب وَإسْنَاد هَذِه أصح
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৯০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতের তাঁবু, কামরা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৬৯০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে এমন বহু কামরা রয়েছে, যার ভেতর থেকে বহিরাংশ এবং বহিরাংশ থেকে ভেতরাংশ দেখা যাবে।
(আবু মালিক আশ'আরী জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এসব কামরা কার জন্য? তিনি বললেন, সেই ব্যক্তির জন্য, যে সুন্দর কথা বলে, খাবার খাওয়ার এবং রাতের বেলা মানুষ যখন নিদ্রিত থাকে তখন সে সালাতে নিমগ্ন থাকে।
তাবারানী ও হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। আহমাদ ইব্‌ন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে-আবু মালিক আশ'আরী (রা)-এর রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন হিব্বান বলেন, "আল্লাহ্ তা'আলা এগুলো সে ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত রেখেছেন, যে খাবার খাওয়ায়, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাত্রে মানুষ নিদ্রিত থাকাকালে সালাত আদায় করে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي خيام الْجنَّة وغرفها وَغير ذَلِك
5690- وَعَن عبد الله بن عَمْرو رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي الْجنَّة غرفا يرى ظَاهرهَا من بَاطِنهَا وباطنها من ظَاهرهَا
فَقَالَ أَبُو مَالك الْأَشْعَرِيّ لمن هِيَ يَا رَسُول الله قَالَ لمن أطاب الْكَلَام وَأطْعم الطَّعَام وَبَات قَائِما وَالنَّاس نيام

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا وَرَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث أبي مَالك الْأَشْعَرِيّ إِلَّا أَنه قَالَ أعدهَا الله لمن أطْعم الطَّعَام وَأفْشى السَّلَام وَصلى بِاللَّيْلِ وَالنَّاس نيام