মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
হজ্ব অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৭৬ টি
হাদীস নং: ১৮৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মিনায় বেশ দূরত্বে দূরত্বে তিনটি স্থানে, তিনটি স্তম্ভ বানিয়ে রাখা হয়েছে। এ স্তম্ভগুলোকেই 'জামরা' বলা হয়। এসব জামরায় শয়তানকে কংকর মারাও হজ্বের আমল ও আহকামের অন্তর্ভুক্ত। ১০ই যিলহজ্ব কেবল একটি জামরায় সাতটি কংকর মারা হয়, আর ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্ব তিনটি জামরাতেই কংকর মারা হয়। একথা স্পষ্ট যে, কংকর মারা স্বয়ং কোন নেক আমল নয়; কিন্তু আল্লাহর নির্দেশযুক্ত হলে প্রতিটি কাজেই ইবাদতের শান পয়দা হয়ে যায়। আর বন্দেগী ও দাসত্ব এটাই যে, কোন আপত্তি ও কারণ তালাশ করা ছাড়াই আল্লাহর হুকুম পালন করে নেওয়া হবে। তাছাড়া আল্লাহর বান্দারা যখন আল্লাহর হুকুমে তাঁর মাহাত্ম্য ও প্রতাপের ধ্যান করে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিয়ে শয়তানী ধ্যান-ধারণা ও নিজের কুপ্রবৃত্তি ও গুনাহকে কল্পনার জগতে টার্গেট বানিয়ে এসব জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে এবং এভাবে গোমরাহী ও পাপকে প্রস্তরাঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, তখন তাদের অন্তরে যে অবস্থা সৃষ্টি হয় এবং তাদের ঈমানভরা বক্ষে যে আনন্দ ও প্রফুল্লতা লাভ হয় এর স্বাদ কেবল তারাই জানে। যাহোক, আল্লাহর নির্দেশে এবং তাঁর নাম উচ্চারণ করে জামরাগুলোতে কংকর নিক্ষেপ করাও দৃষ্টিবানদের চোখে একটি ঈমান উদ্দীপক আমল।
১৮৫. হযরত আয়েশা রাযি. থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জামরায় কংকর মারা ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সায়ী করা আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করার জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে। -তিরমিযী, দারেমী
کتاب الحج
عَنْ عَائِشَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّمَا جُعِلَ رَمْيُ الجِمَارِ ، وَالسَّعْيُ بَيْنَ الصَّفَا وَالمَرْوَةِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ. (رواه الترمذى والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ
১৮৬. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন জামরায়ে আকাবায় কংকর মেরেছেন চাশতের সময়, আর পরের দিনগুলোতে তিনি কংকর মেরেছেন সূর্য হেলে যাওয়ার পর। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : « رَمَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَمْرَةَ يَوْمَ النَّحْرِ ضُحًى ، وَأَمَّا بَعْدَ ذَالِكَ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ
১৮৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি কংকর মারার জন্য জামরাতুল কুবরার কাছে পৌঁছলেন এবং বায়তুল্লাহকে (অর্থাৎ, মক্কার দিককে) নিজের বাম দিকে রেখে এবং মিনার দিককে ডান দিকে রেখে এতে সাতটি কংকর মারলেন। প্রতিটি কংকর মারার সময় তিনি 'আল্লাহু আকবার' বলছিলেন। তারপর বললেন: এভাবেই কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন ঐ মহান ব্যক্তি, যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছিল। (যার মধ্যে হজ্বের আহকাম ও বিধি-বিধানের বর্ণনা রয়েছে।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ اَنَّهُ اِنْتَهَى اِلَى الْجَمْرَةِ الكُبْرَى فَجَعَلَ البَيْتَ عَنْ يَسَارِهِ وَمِنًى عَنْ يَمِينِهِ وَرَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَمَى الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ البَقَرَةِ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ
১৮৮. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে কুরবানীর দিন তাঁর বাহনে থেকে কংকর মারতে দেখেছি। তিনি এ সময় বলছিলেন: তোমরা আমার নিকট থেকে হজ্বের আহকাম শিখে নাও। কেননা, আমি জানি না, সম্ভবত আমার এ হজ্বের পর আমি আর কোন হজ্ব করতে পারব না। (আর তোমরাও আর শিখার সুযোগ পাবে না।) বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرٍ قَالَ : " رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْمِي عَلَى رَاحِلَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ ، وَيَقُولُ : « لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ ، فَإِنِّي لَا أَدْرِي لَعَلِّي لَا أَحُجُّ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ
১৮৯. সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সম্পর্কে বলেন যে, তিনি শয়তানকে কংকর মারার সময় প্রথমে জামরায়ে উলায় সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। তারপর নিম্নভূমিতে অবতরণ করে কেবলামুখী হয়ে অনেক্ষণ পর্যন্ত হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। এরপর জামরায়ে উস্তায় সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। তারপর বাম দিকে নিম্নভূমিতে গিয়ে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন এবং দীর্ঘক্ষণ হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। এরপর জামরায়ে আকাবায় গিয়ে বতনে ওয়াদী থেকে সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলতেন; কিন্তু এখানে তিনি দাঁড়াতেন না। তারপর ফিরে যেতেন এবং বলতেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এভাবেই কংকর মারতে দেখেছি। -বুখারী
کتاب الحج
عَنْ سَالِمٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَرْمِي الجَمْرَةَ الدُّنْيَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ ، يُكَبِّرُ عَلَى إِثْرِ كُلِّ حَصَاةٍ ، ثُمَّ يَتَقَدَّمُ حَتَّى يُسْهِلَ ، فَيَقُومَ مُسْتَقْبِلَ القِبْلَةِ ، طَوِيلًا ، وَيَدْعُو وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ ، ثُمَّ يَرْمِي الوُسْطَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ ، يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَمَى بِحِصَاةٍ ، ثُمَّ يَأْخُذُ بِذَاتِ الشِّمَالِ فََيُسْهَلُ ، وَيَقُومُ مُسْتَقْبِلَ القِبْلَةِ ، ثُمَّ يَدْعُو وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ ، وَيَقُومُ طَوِيلًا ، ثُمَّ يَرْمِي جَمْرَةَ ذَاتِ العَقَبَةِ مِنْ بَطْنِ الوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ ، يُكَبِّرُ عِنْدَ كُلِّ حِصَاةٍ ، وَلاَ يَقِفُ عِنْدَهَا ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ ، فَيَقُولُ « هَكَذَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُهُ » (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরবানীর ফযীলত ও এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাধারণ দিকনির্দেশনা 'কিতাবুস্ সালাতে' ঈদুল আযহার বর্ণনায় করা হয়েছে। আর বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যে নিজ হাতে ৬৩টি উট কুরবানী করেছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে হযরত আলী রাযি. ৩৭টি উট কুরবানী করেছিলেন, এর উল্লেখ বিদায় হজ্বের বর্ণনায় এসে গিয়েছে। এখানে কুরবানী সম্পর্কে কেবল দু'তিনটি হাদীস পাঠ করে নিনঃ
১৯০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হচ্ছে কুরবানীর দিন। (অর্থাৎ, আরাফার দিনের মত কুরবানীর দিনটিও খুবই মর্যাদাপূর্ণ।) তারপর হচ্ছে এর পরের দিন। (অর্থাৎ, ১১ই যিলহজ্ব। তাই যতদূর সম্ভব, কুরবানী ১০ তারিখেই করে নেওয়া চাই।) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পাঁচটি অথবা ছয়টি উট কুরবানী করার জন্য আনা হল। এ সময় এগুলোর প্রত্যেকটিই তাঁর কাছে ঘেঁষতে লাগল- যাতে তিনি প্রথমে এটাকেই যবাহ্ করেন। -আবূ দাউদ
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : « إِنَّ أَعْظَمَ الْأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمُ النَّحْرِ ، ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِّ » . (قَالَ ثَوْرٌ وَهُوَ الْيَوْمُ الثَّانِي) قَالَ : وَقُرِّبَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَدَنَاتٌ خَمْسٌ أَوْ سِتٌّ فَطَفِقْنَ يَزْدَلِفْنَ إِلَيْهِ بِأَيَّتِهِنَّ يَبْدَأُ. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯১
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরবানী
১৯১. হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এক বছর ঈদুল আযহার সময়) বলেছিলেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ কুরবানী করবে, তার ঘরে যেন তৃতীয় দিনের পর কুরবানীর কোন গোশত অবশিষ্ট না থাকে। তারপর যখন পরবর্তী বছর আসল, তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি এবারও তাই করব, যেমন গত বছর করেছিলাম। তিনি উত্তরে বললেনঃ (তিন দিনের ঐ বাধ্যবাধকতা এবার আর নেই, তাই তোমরা যতদিন ইচ্ছা) খাও, অন্যদেরকে খেতে দাও এবং ইচ্ছা করলে সংরক্ষণ করে রাখ। গত বছর মানুষের খাবারের অভাব ও কষ্ট ছিল, এ জন্য আমি চেয়েছিলাম যে, তোমরা কুরবানীর গোশত দ্বারা তাদের সাহায্য করবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلاَ يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَفِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ » فَلَمَّا كَانَ العَامُ المُقْبِلُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا عَامَ المَاضِي؟ قَالَ : « كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا ، فَإِنَّ ذَلِكَ العَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ ، فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهِمْ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯২
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরবানী
১৯২. নুবাইশা হুযালী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি তোমাদেরকে তিন দিনের বেশী কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যাতে তোমাদের সবাই ভালভাবে গোশত খেতে পারে। এখন আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে স্বচ্ছলতা দান করেছেন। এজন্য এখন তোমরা নিজেরা খাও, অন্যদেরকেও খেতে দাও এবং কুরবানীর সওয়াবও লাভ কর। আর এ দিনগুলো হচ্ছে পানাহার ও আল্লাহর স্মরণের। -আবূ দাউদ
کتاب الحج
عَنْ نُبَيْشَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِنَّا كُنَّا نَهَيْنَاكُمْ عَنْ لُحُومِهَا أَنْ تَأْكُلُوهَا فَوْقَ ثَلَاثٍ لِكَيْ تَسَعَكُمْ ، فَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِالسَّعَةِ فَكُلُوا وَادَّخِرُوا وَاتَّجِرُوا ، أَلَا وَإِنَّ هَذِهِ الْأَيَّامَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرِ اللَّهِ » (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৩
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের আমল ও আরকান এবং এগুলোর ক্রমধারা দ্বারা বুঝা যায় যে, এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে বায়তুল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন এবং এর সাথে নিজের সম্পর্কের প্রকাশ ঘটানো, যা মিল্লাতে ইবরাহীমীর বিশেষ প্রতীক। এ জন্য মক্কা শরীফে উপস্থিত হওয়ার পর হজ্বের সর্বপ্রথম কাজ তাওয়াফই করতে হয় এবং তাওয়াফের দু'রাকআত নামায এর পরে পড়া হয়। হাজীদের এ প্রথম তাওয়াফের প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নামই হচ্ছে তাওয়াফে কুদুম। এ সম্পর্কে অনেক হাদীস আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।
এরপর ১০ই যিলহজ্ব কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর একটি তাওয়াফের বিধান রয়েছে। এর প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নাম তাওয়াফে যিয়ারত। ওকূফে আরাফার পর এটাই হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। তারপর হজ্ব শেষ করে একজন হাজী যখন মক্কা শরীফ থেকে নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়, তখন নির্দেশ রয়েছে যে, সে যেন সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফ করে দেশে ফিরে এবং তার হজ্বের সর্বশেষ কাজও যেন তাওয়াফই হয়। এর প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নাম হচ্ছে তওয়াফে বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ। এ দু'টি তাওয়াফ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
এরপর ১০ই যিলহজ্ব কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর একটি তাওয়াফের বিধান রয়েছে। এর প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নাম তাওয়াফে যিয়ারত। ওকূফে আরাফার পর এটাই হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। তারপর হজ্ব শেষ করে একজন হাজী যখন মক্কা শরীফ থেকে নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়, তখন নির্দেশ রয়েছে যে, সে যেন সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফ করে দেশে ফিরে এবং তার হজ্বের সর্বশেষ কাজও যেন তাওয়াফই হয়। এর প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নাম হচ্ছে তওয়াফে বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ। এ দু'টি তাওয়াফ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
১৯৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) তওয়াফে যিয়ারতের সাতটি চক্করে রমল করেন নাই। (অর্থাৎ, সম্পূর্ণ তাওয়াফ স্বাভাবিক গতিতে করেছেন।) আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ
کتاب الحج
عَنِ بْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ « لَمْ يَرْمُلْ فِي السَّبْعِ ، الَّذِي أَفَاضَ فِيهِ » (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৪
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিয়ারত ও তাওয়াফে বিদা
১৯৪. হযরত আয়েশা ও ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দশই যিলহজ্বের রাত পর্যন্ত তওয়াফে যিয়ারতকে বিলম্বিত করেছেন। (অর্থাৎ, এ সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করার অনুমতি ও অবকাশ দিয়েছেন।) -তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ্
کتاب الحج
عَنْ عَائِشَةَ ، وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَخَّرَ طَوَافَ الزِّيَارَةِ ، إِلَى اللَّيْلِ » (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিয়ারত ও তাওয়াফে বিদা
১৯৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, লোকেরা (হজ্ব করার পর) চতুর্দিক থেকে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেত (এবং বিদায়ী তাওয়াফের কোন গুরুত্ব দিত না।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন দেশের দিকে ফিরে না যায়, যে পর্যন্ত না তার শেষ উপস্থিতি ও সাক্ষাত হয় বায়তুল্লাহ্ শরীফের সাথে। তবে ঋতুমতীদেরকে এ নির্দেশ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। (অর্থাৎ, বিদায়ী তাওয়াফ তাদের জন্য মাফ।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : كَانَ النَّاسُ يَنْصَرِفُونَ فِي كُلِّ وَجْهٍ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا يَنْفِرُ أَحَدُكُمْ ، حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ ، إِلَّا أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الحَائِضِ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিয়ারত ও তাওয়াফে বিদা
১৯৬. হযরত হারেস সাকাফী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্ব অথবা উমরা করে, তার শেষ সাক্ষাত যেন বায়তুল্লাহর সাথে হয় এবং শেষ কাজ যেন তাওয়াফ হয়। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب الحج
عَنِ الْحَارِثِ الثَّقَفِىِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ حَجَّ هَذَا الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ ، فَلْيَكُنْ آخِرَ عَهْدِهِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ » (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিয়ারত ও তাওয়াফে বিদা
১৯৭. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (বিদায় হজ্বে মক্কা থেকে মদীনা ফিরে যাওয়ার রাতে) আমি তানয়ীম নামক স্থানে গিয়ে উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং উমরার কাজ (তাওয়াফ, সায়ী ইত্যাদি) সমাধা করলাম। এ দিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মিনা ও মক্কার মাঝে) আবতাহ নামক স্থানে আমার অপেক্ষায় থাকলেন। আমি যখন উমরার কাজ সমাধা করে নিলাম, তখন তিনি লোকদেরকে রওয়ানা হওয়ার হুকুম দিলেন এবং তিনি বিদায়ী তাওয়াফের জন্য বায়তুল্লাহর কাছে আসলেন। এখানে এসে তিনি তাওয়াফ করলেন এবং মদীনার দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। -আবু দাউদ
کتاب الحج
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : « أَحْرَمْتُ مِنَ التَّنْعِيمِ بِعُمْرَةٍ فَدَخَلْتُ فَقَضَيْتُ عُمْرَتِي وَانْتَظَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْأَبْطَحِ حَتَّى فَرَغْتُ ، وَأَمَرَ النَّاسَ بِالرَّحِيلِ » ، قَالَتْ : « وَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيْتَ فَطَافَ بِهِ ثُمَّ خَرَجَ » (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খানায়ে কাবার দেওয়ালের প্রায় দু'গজ জায়গা যা হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরওয়াজার মাঝে অবস্থিত- এটাকে 'মুলতাযাম' বলা হয়। হজ্বের সুন্নত কাজসমূহের মধ্যে এটাও একটি সুন্নত যে, যদি সুযোগ হয়, তাহলে তাওয়াফের পর এটাকে জড়িয়ে ধরে দু‘আ করবে। নিম্নের হাদীস থেকে জানা যাবে যে, হুযুর (ﷺ) বিদায় হজ্বের সময় এমনই করেছিলেন।
১৯৮. আমর ইবনে শু'আইব তার পিতা শু'আইব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি আমার দাদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি.-এর সাথে তাওয়াফ করছিলাম। এ সময় আমি কিছু লোককে দেখলাম যে, তারা বায়তুল্লাহকে জড়িয়ে ধরছে। আমি আমার দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর)-কে বললাম, আমাকে এখানে নিয়ে চলুন, আমরাও তাদের সাথে বায়তুল্লাহকে জড়িয়ে ধরি। তিনি বললেন, আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (সম্ভবত এ কথার মর্ম এই ছিল যে, আমি যদি তাওয়াফের মাঝে ঐ লোকদের মত মুলতাযামের আসল জায়গার প্রতি লক্ষ্য না রেখে বায়তুল্লাহর কোন দেওয়ালকে জড়িয়ে ধরি, তাহলে এটা সুন্নতের খেলাফ ও ভুল হবে এবং এর দ্বারা আল্লাহ্ খুশী হবেন না; বরং শয়তান খুশী হবে। আর আমি শয়তানকে খুশী করতে চাই না; বরং তার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।)
শু'আইব বলেন, তারপর আমার দাদা যখন তাওয়াফ থেকে ফারেগ হলেন, তখন কাবার দেওয়ালের ঐ বিশেষ স্থানে আসলেন- যা কাবার দরওয়াজা ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে অবস্থিত (যাকে মুলতাযাম বলা হয়) এবং আমাকে বললেন, আল্লাহর কসম! এটাই ঐ জায়গা, যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বুকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন। বায়হাকী
আর আবূ দাউদ শরীফের বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর মুলতাযামকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন যে, নিজের বুক ও চেহারা এর সাথে লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং হাতও সম্পূর্ণ জড়িয়ে দিয়ে এর উপর রেখে দিয়েছিলেন। আর বলেছিলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এইরূপই করতে দেখেছি।
শু'আইব বলেন, তারপর আমার দাদা যখন তাওয়াফ থেকে ফারেগ হলেন, তখন কাবার দেওয়ালের ঐ বিশেষ স্থানে আসলেন- যা কাবার দরওয়াজা ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে অবস্থিত (যাকে মুলতাযাম বলা হয়) এবং আমাকে বললেন, আল্লাহর কসম! এটাই ঐ জায়গা, যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বুকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন। বায়হাকী
আর আবূ দাউদ শরীফের বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর মুলতাযামকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন যে, নিজের বুক ও চেহারা এর সাথে লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং হাতও সম্পূর্ণ জড়িয়ে দিয়ে এর উপর রেখে দিয়েছিলেন। আর বলেছিলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এইরূপই করতে দেখেছি।
کتاب الحج
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ , عَنْ أَبِيهِ , قَالَ : " كُنْتُ أَطُوفُ مَعَ أَبِي عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَرَأَيْتُ قَوْمًا قَدِ الْتَزَمُوا الْبَيْتَ , فَقُلْتُ لَهُ : انْطَلِقْ بِنَا نَلْتَزِمِ الْبَيْتَ مَعَ هَؤُلَاءِ , فَقَالَ : أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ , فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ طَوَافِهِ الْتَزَمَ مَا بَيْنَ الْبَابِ وَالْحَجَرِ , قَالَ : هَذَا وَاللهِ الْمَكَانُ الَّذِي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْتَزَمَهُ " (رواه البيهقى بهذا اللفظ)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুহাদ্দেসীনে কেরামের রীতি এই যে, তারা কিতাবুল হজ্বেই হারামাইন শরীফাইনের ফযীলত সম্পর্কীয় হাদীসগুলোও এনে থাকেন। এ নীতির অনুসরণেই এখানে হারামে মক্কা ও হারামে মদীনার ফযীলত সম্পর্কীয় হাদীসগুলো উল্লেখ হচ্ছে।
খানায়ে কা'বাকে আল্লাহ তা'আলা আপন ঘর সাব্যস্ত করেছেন। আর এ ঘরটি যেহেতু মক্কা শহরে অবস্থিত, এজন্য এ শহরটাকেও আল্লাহ্ তা'আলা নিরাপদ শহর নামে অভিহিত করেছেন। বিষয়টি যেন এমন, যেভাবে দুনিয়ার সমস্ত ঘরের মধ্যে আল্লাহর সাথে কা'বা ঘরের বিশেষ সম্বন্ধ রয়েছে, তেমনিভাবে পৃথিবীর সকল শহরের মধ্যে মক্কা শহরের সাথে আল্লাহর সম্বন্ধের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তারপর এ সম্বন্ধের কারণেই এর প্রতিটি দিকে কয়েক মাইল পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকাকে 'হারাম' (অর্থাৎ, অবশ্য সম্মানাই) সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এর বিশেষ আদব ও বিধি-বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আদব ও সম্মানের কারণেই এখানে এমন অনেক কর্মকান্ডই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, পৃথিবীর অন্য কোন স্থানে যেগুলো নিষিদ্ধ নয়। যেমন, এ সীমানার মধ্যে কারো জন্য কোন প্রাণী শিকার করার অনুমতি নেই, যুদ্ধ ও লড়াইয়ের অনুমতি নেই, বৃক্ষ কাটা- এমনকি কোন বৃক্ষের পাতা ছেঁড়ারও অনুমতি নেই। এ সম্মানিত এলাকার মধ্যে এসব জিনিসকে আদব ও সম্মানের পরিপন্থী পাপাচারী সুলভ অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এ হারাম এলাকার সীমানা প্রথমে হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্ধারণ করেছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের যুগে এরই নবায়ন করেছেন। আর বর্তমানে ঐসব সীমানা সবার কাছেই সুপরিচিত। হারাম সীমানার এ সম্পূর্ণ এলাকাটি যেন আল্লাহর সম্মানিত শহরের (মক্কার) বিরাট প্রাঙ্গন। আর এর আদব ও সম্মানও তেমনিভাবে ওয়াজিব, যেমনিভাবে আল্লাহর পবিত্র শহর মক্কার আদব ও সম্মান ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকটি হাদীস নিয়ে পাঠ করে নিনঃ
খানায়ে কা'বাকে আল্লাহ তা'আলা আপন ঘর সাব্যস্ত করেছেন। আর এ ঘরটি যেহেতু মক্কা শহরে অবস্থিত, এজন্য এ শহরটাকেও আল্লাহ্ তা'আলা নিরাপদ শহর নামে অভিহিত করেছেন। বিষয়টি যেন এমন, যেভাবে দুনিয়ার সমস্ত ঘরের মধ্যে আল্লাহর সাথে কা'বা ঘরের বিশেষ সম্বন্ধ রয়েছে, তেমনিভাবে পৃথিবীর সকল শহরের মধ্যে মক্কা শহরের সাথে আল্লাহর সম্বন্ধের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তারপর এ সম্বন্ধের কারণেই এর প্রতিটি দিকে কয়েক মাইল পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকাকে 'হারাম' (অর্থাৎ, অবশ্য সম্মানাই) সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এর বিশেষ আদব ও বিধি-বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আদব ও সম্মানের কারণেই এখানে এমন অনেক কর্মকান্ডই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, পৃথিবীর অন্য কোন স্থানে যেগুলো নিষিদ্ধ নয়। যেমন, এ সীমানার মধ্যে কারো জন্য কোন প্রাণী শিকার করার অনুমতি নেই, যুদ্ধ ও লড়াইয়ের অনুমতি নেই, বৃক্ষ কাটা- এমনকি কোন বৃক্ষের পাতা ছেঁড়ারও অনুমতি নেই। এ সম্মানিত এলাকার মধ্যে এসব জিনিসকে আদব ও সম্মানের পরিপন্থী পাপাচারী সুলভ অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এ হারাম এলাকার সীমানা প্রথমে হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্ধারণ করেছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের যুগে এরই নবায়ন করেছেন। আর বর্তমানে ঐসব সীমানা সবার কাছেই সুপরিচিত। হারাম সীমানার এ সম্পূর্ণ এলাকাটি যেন আল্লাহর সম্মানিত শহরের (মক্কার) বিরাট প্রাঙ্গন। আর এর আদব ও সম্মানও তেমনিভাবে ওয়াজিব, যেমনিভাবে আল্লাহর পবিত্র শহর মক্কার আদব ও সম্মান ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকটি হাদীস নিয়ে পাঠ করে নিনঃ
১৯৯. আইয়াশ ইবনে আবী রবী'আ মাখযুমী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মত যে পর্যন্ত মক্কার এ সম্মান পূর্ণভাবে বজায় রাখবে, সে পর্যন্ত তারা কল্যাণের উপর থাকবে। আর যখন তারা এটা বিনষ্ট করে দিবে, তখন ধ্বংস হয়ে যাবে। ইবনে মাজাহ
کتاب الحج
عَنْ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيِّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا تَزَالُ هَذِهِ الْأُمَّةُ بِخَيْرٍ ، مَا عَظَّمُوا هَذِهِ الْحُرْمَةَ ، حَقَّ تَعْظِيمِهَا ، فَإِذَا ضَيَّعُوا ذَلِكَ ، هَلَكُوا » (رواه ابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মক্কার হারামের সম্মান ও মর্যাদা
২০০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন: এখন আর হিজরতের হুকুম নেই, কিন্তু জেহাদ ও এর সংকল্প। আর যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হওয়ার জন্য বলা হয়, তখন বেরিয়ে পড়। আর ফাতহে মক্কার দিন তিনি এ ঘোষণাও করেছেন: আল্লাহ্ এ মক্কা শহরকে সেদিন থেকেই সম্মানিত সাব্যস্ত করেছেন, যেদিন তিনি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন। অতএব, এটা আল্লাহর সম্মানে কিয়ামত পর্যন্তই সম্মানার্হ। আল্লাহ্ তা'আলা আমার পূর্বে কাউকে এখানে জেহাদের অনুমতিও দেননি, আর আমাকেও কেবল দিনের সামান্য সময়ের জন্য সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই ঐ সময় পার হয়ে যাওয়ার পর এখন কিয়ামত পর্যন্তই এটা সম্মানার্হ। এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না, এখানকার কোন শিকারযোগ্য প্রাণীকেও উত্যক্ত করা যাবে না, এখানের রাস্তায় পড়া কোন জিনিসও কেউ কুড়িয়ে উঠাতে পারবে না- তবে কেউ যদি ঘোষণা ও প্রচারের নিয়তে এমন করে- এখানের সবুজ ঘাসও কাটা যাবে না। এ কথা শুনে হযরত আব্বাস বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইযখিরকে এর বাইরে রাখুন। কেননা, এখানকার কামাররা এটা ব্যবহার করে এবং ঘরের চালেও এটা কাজে লাগে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আচ্ছা, ইযখির বাদ। বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ : « لاَ هِجْرَةَ ، وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ ، فَانْفِرُوا » وَقَالَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ : « إِنَّ هَذَا البَلَدَ حَرَّمَهُ اللَّهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ ، فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ ، وَإِنَّهُ لَمْ يَحِلَّ القِتَالُ فِيهِ لِأَحَدٍ قَبْلِي ، وَلَمْ يَحِلَّ لِي إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ ، فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ ، لاَ يُعْضَدُ شَوْكُهُ ، وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهُ ، وَلاَ يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهُ إِلَّا مَنْ عَرَّفَهَا ، وَلاَ يُخْتَلَى خَلاَهُ » قَالَ العَبَّاسُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِلَّا الإِذْخِرَ فَإِنَّهُ لِقَيْنِهِمْ وَلِبُيُوتِهِمْ ، فَقَالَ : « إِلَّا الإِذْخِرَ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০১
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মক্কার হারামের সম্মান ও মর্যাদা
২০১. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: কোন মুসলমানের জন্য মক্কায় অস্ত্র বহণ করা জায়েয নয়। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : « لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَحْمِلَ بِمَكَّةَ السِّلَاحَ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০২
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মক্কার হারামের সম্মান ও মর্যাদা
২০২. হযরত আবু শুরাইহ আদাভী রাযি. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আমর ইবনে সাঈদকে বলেছিলেন, যখন সে (ইয়াযীদের পক্ষ থেকে মদীনার শাসক ছিল এবং তার নির্দেশে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি.-এর বিরুদ্ধে) মক্কায় আক্রমণ করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করছিল। হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর একটি কথা আপনার কাছে বর্ণনা করব, যে কথাটি তিনি মক্কা বিজয়ের পরের দিন বলেছিলেন। আমি নিজ কানে এ কথাটি শুনেছিলাম, আমার অন্তর এটা সংরক্ষণ করেছিল এবং তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন আমার দুচোখ তাঁকে দেখছিল। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসাবাদ করলেন। তারপর বললেন: মক্কাকে আল্লাহ্ তা'আলা সম্মানিত স্থান বানিয়েছেন, মানুষ এটাকে হারাম ও সম্মানিত স্থান বানায়নি। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য বৈধ ও হালাল নয় যে, সে এখানে রক্তপাত ঘটাবে অথবা কোন বৃক্ষ নিধন করবে। কেউ যদি আমার লড়াইকে প্রমাণ বানিয়ে এখানে লড়াই করার বৈধতা খুঁজে, তাহলে তোমরা বলে দাও যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন, তোমাদেরকে অনুমতি দেননি। আর আমাকেও আল্লাহ্ তা'আলা একটি দিনের সামান্য সময়ের জন্য এ অনুমতি দিয়েছিলেন। এ সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর এর হুরমত ও নিষিদ্ধতা ফিরে এসেছে গতকালের মতই। (তাই এখন আর কিয়ামত পর্যন্ত কারো জন্য এর অনুমতি নেই।) তিনি আরো বললেন: উপস্থিত লোকেরা যেন অনুপস্থিতদেরকে একথা পৌছে দেয়। (এজন্যই আমীর সাহেব! আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নির্দেশ পালনের জন্য তাঁর এ পয়গাম আপনাকে পৌঁছে দিলাম।)
হযরত আবূ শুরাইহকে জিজ্ঞাসা করা হল, আমর ইবনে সাঈদ (আপনার একথা শুনে) কি উত্তর দিল? আবূ শুরাইহ্ বললেন, সে উত্তর দিল যে, হে আবূ শুরাইহ্! আমি এ কথাগুলো তোমার চেয়ে বেশী জানি। মক্কার হারাম কোন অপরাধীকে আশ্রয় দেয় না এবং এমন কাউকেও আশ্রয় দেয় না, যে খুনের অপরাধ নিয়ে অথবা ফাসাদ সৃষ্টি করে পালিয়ে এসেছে। (অর্থাৎ, এমন লোকদের বিরুদ্ধে হারাম শরীফেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।) -বুখারী, মুসলিম
হযরত আবূ শুরাইহকে জিজ্ঞাসা করা হল, আমর ইবনে সাঈদ (আপনার একথা শুনে) কি উত্তর দিল? আবূ শুরাইহ্ বললেন, সে উত্তর দিল যে, হে আবূ শুরাইহ্! আমি এ কথাগুলো তোমার চেয়ে বেশী জানি। মক্কার হারাম কোন অপরাধীকে আশ্রয় দেয় না এবং এমন কাউকেও আশ্রয় দেয় না, যে খুনের অপরাধ নিয়ে অথবা ফাসাদ সৃষ্টি করে পালিয়ে এসেছে। (অর্থাৎ, এমন লোকদের বিরুদ্ধে হারাম শরীফেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ ، أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ : - وَهُوَ يَبْعَثُ البُعُوثَ إِلَى مَكَّةَ ائْذَنْ لِي أَيُّهَا الأَمِيرُ ، أُحَدِّثْكَ قَوْلًا قَامَ بِهِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الغَدَ مِنْ يَوْمِ الفَتْحِ ، سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي ، وَأَبْصَرَتْهُ عَيْنَايَ حِينَ تَكَلَّمَ بِهِ : حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ : " إِنَّ مَكَّةَ حَرَّمَهَا اللَّهُ ، وَلَمْ يُحَرِّمْهَا النَّاسُ ، فَلاَ يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ بِهَا دَمًا ، وَلاَ يَعْضِدَ بِهَا شَجَرَةً ، فَإِنْ أَحَدٌ تَرَخَّصَ لِقِتَالِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا ، فَقُولُوا : إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذِنَ لِرَسُولِهِ وَلَمْ يَأْذَنْ لَكُمْ ، وَإِنَّمَا أَذِنَ لِي فِيهَا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ ، ثُمَّ عَادَتْ حُرْمَتُهَا اليَوْمَ كَحُرْمَتِهَا بِالأَمْسِ ، وَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ " فَقِيلَ لِأَبِي شُرَيْحٍ مَا قَالَ عَمْرٌو قَالَ : أَنَا أَعْلَمُ مِنْكَ يَا أَبَا شُرَيْحٍ لاَ يُعِيذُ عَاصِيًا وَلاَ فَارًّا بِدَمٍ وَلاَ فَارًّا بِخَرْبَةٍ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৩
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মক্কার হারামের সম্মান ও মর্যাদা
২০৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে হামরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে দেখেছি যে, তিনি হাযওয়ারা (নামক টিলার) উপর দাঁড়িয়েছিলেন এবং মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন: আল্লাহর কসম! তুমি আল্লাহর ভূমিতে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। আমাকে যদি এখান থেকে বের হয়ে যেতে এবং হিজরত করতে বাধ্য না করা হত, তাহলে আমি তোমাকে ছেড়ে যেতাম না। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ حَمْرَاءَ ، قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاقِفًا عَلَى الحَزْوَرَةِ فَقَالَ : وَاللَّهِ إِنَّكِ لَخَيْرُ أَرْضِ اللهِ ، وَأَحَبُّ أَرْضِ اللهِ إِلَى اللهِ ، وَلَوْلاَ أَنِّي أُخْرِجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتُ. (رواه الترمذى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৪
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মক্কার হারামের সম্মান ও মর্যাদা
২০৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: তুমি আমার নিকট কতইনা উত্তম ও প্রিয় শহর। আমার কওম যদি আমাকে বের করে না দিত, তাহলে আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও বসবাস করতাম না। -তিরমিযী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَكَّةَ : مَا أَطْيَبَكِ مِنْ بَلَدٍ ، وَأَحَبَّكِ إِلَيَّ ، وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمِي أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক: