মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

হজ্ব অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৭৬ টি

হাদীস নং: ১৬৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্ব
১৬৫. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হজ্বে আপন বিবিদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছিলেন। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرٍ « نَحَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، عَنْ نِسَائِهِ بَقَرَةً فِي حَجَّتِهِ » (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্ব
১৬৬. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন তাঁর কুরবানীর উটসমূহ দেখাশুনা করি এবং এগুলোর গোশত, চামড়া ইত্যাদি গরীবদের মধ্যে সদাকা করে দেই। আর কসাইকে যেন (পারিশ্রমিক হিসাবে) এখান থেকে কিছু না দেই। তিনি বলেছিলেন যে, আমরা তাদের পারিশ্রমিক নিজের পক্ষ থেকে আদায় করে দিব। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ عَلِيٍّ ، قَالَ : « أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ ، وَأَنْ أَتَصَدَّقَ بِلَحْمِهَا وَجُلُودِهَا وَأَجِلَّتِهَا ، وَأَنْ لَا أُعْطِيَ الْجَزَّارَ مِنْهَا » ، قَالَ : « نَحْنُ نُعْطِيهِ مِنْ عِنْدِنَا » (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্ব
১৬৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) (১০ই যিলহজ্ব সকালে মুযদালিফা থেকে) মিনায় আসলেন। এখানে এসে তিনি প্রথমে জামরাতুল আকাবায় কংকর মারলেন। তারপর নিজের তাঁবুতে আসলেন এবং কুরবানীর পশুগুলো যবাহ্ করলেন। তারপর তিনি নাপিতকে ডাকলেন এবং প্রথমে মাথার ডান দিক তার সামনে ধরে দিলেন। নাপিত এ দিকের চুল মুড়িয়ে নিল। তিনি আবূ তালহা আনসারীকে চুলগুলো দিলেন। তারপর মাথার বাম দিক নাপিতের সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, এখন এগুলো মুড়িয়ে নাও। সে এ দিকটাও মুড়িয়ে নিলে তিনি আবু তালহাকে এ চুলগুলো দিয়ে বললেন, এগুলো লোকদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَنَسٍ « أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى مِنًى ، فَأَتَى الْجَمْرَةَ فَرَمَاهَا ، ثُمَّ أَتَى مَنْزِلَهُ بِمِنًى وَنَحَرَ نُسُكُهُ ، ثُمَّ دَعَا باِلْحَلَّاقِ وَنَاوَلَ الْحَالِقَ شِقَّهُ الْأَيْمَنَ فَحَلَقَهُ ، ثُمَّ دَعَا أَبَا طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيَّ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ ، ثُمَّ نَاوَلَهُ الشِّقَّ الْأَيْسَرَ » ، فَقَالَ : « احْلِقْ فَحَلَقَهُ ، فَأَعْطَاهُ أَبَا طَلْحَةَ » ، فَقَالَ : « اقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৬৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্ব
১৬৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্বে বলেছিলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি অনুগ্রহ কর তাদের প্রতি, যারা মাথা মুন্ডন করে নিয়েছে। উপস্থিত সাহাবীগণ আরয করলেন, যারা চুল ছেটে নিয়েছে তাদের জন্যও দু‘আ করুন। তিনি দ্বিতীয়বার বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি অনুগ্রহ কর তাদের প্রতি, যারা মাথা মুন্ডন করে নিয়েছে। তারা আবার আরয করল, যারা চুল ছেঁটে নিয়েছে তাদের জন্যও এ দু‘আ করুন। তৃতীয়বার তিনি বললেন: তাদের প্রতিও যারা চুল ছেঁটে নিয়েছে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : فِىْ حَجَّةِ الْوِدَاعِ « اللَّهُمَّ ارْحَمِ المُحَلِّقِينَ » قَالُوا : وَالمُقَصِّرِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : « اللَّهُمَّ ارْحَمِ المُحَلِّقِينَ » قَالُوا : وَالمُقَصِّرِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : « وَالمُقَصِّرِينَ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৬৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্ব
১৬৯. হযরত আবূ বাকরা সাকাফী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বিদায় হজ্বে) ১০ই যিলহজ্ব আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। এতে তিনি বললেন: বছর ঘুরেফিরে তার ঐ অবস্থায় ফিরে এসেছে, যে অবস্থায় আসমান-যমীন সৃষ্টি করার সময় ছিল। বছর বার মাসেই হয়, এগুলোর মধ্যে চারটি মাস বিশেষভাবে সম্মানিত। তিনটি মাস একাধারে যিলকদ, যিলহজ্ব ও মুহাররম। আর চতুর্থটি হচ্ছে ঐ রজব মাস, যা জ মাদাল উখরা ও শা'বানের মাঝে থাকে এবং মুযার গোত্রের লোকেরা যার অধিক সম্মান করে থাকে।

তারপর তিনি বললেন: বল তো, এটা কোন্ মাস? আমরা নিবেদন করলাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। এমনকি আমরা মনে করলাম যে, তিনি এ মাসের অন্য কোন নাম দিয়ে দেবেন। এবার তিনি বললেন, এটা কি যিলহজ্ব মাস নয়? আমরা আরয করলাম, নিঃসন্দেহে এটা যিলহজ্ব মাস। তারপর বললেন, তোমরা বল তো এটা কোন্ শহর? আমরা আরয করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। এমনকি আমরা মনে করলাম যে, তিনি এর অন্য কোন নাম দিয়ে দেবেন। তিনি তখন বললেন, এটা কি বালদাহ (মক্কা শহর) নয়? আমরা আরয করলাম, হ্যাঁ, তাই। তারপর বললেনঃ বল তো, এটা কোন্ দিন? আমরা উত্তর দিলাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। এসময় তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি এর অন্য কোন নাম দিয়ে দেবেন। তিনি তখন বললেন: এটা কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা আরয করলাম, হ্যাঁ, আজ কুরবানীর দিন। তারপর তিনি বললেনঃ তোমাদের জীবন, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সম্ভ্রম তোমাদের উপর হারাম, (অর্থাৎ, তোমাদের কারও জন্য এটা জায়েয নয় যে, সে কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে অথবা কারও সম্পদ ও সম্ভ্রমের উপর হস্তক্ষেপ করবে। এগুলো তোমাদের উপর সবসময়ের জন্যই হারাম।) যেমন আজকের এ দিনে, এ পবিত্র শহরে ও এ পবিত্র মাসে কাউকে হত্যা করা ও তার সম্পদ ও সম্ভ্রমহানি করা তোমরা হারাম মনে করে থাক। তারপর তিনি বললেন: তোমরা শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত করবে এবং তিনি তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন। সাবধান! তোমরা আমার পর বিপথগামী হয়ে গিয়ে একে অন্যের জীবননাশ করতে যেয়ো না। (তারপর বললেন:) আমি কি আল্লাহর পয়গাম তোমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছি? উপস্থিত সবাই বললেন, হ্যাঁ, আপনি আমাদেরকে আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! তুমি সাক্ষী থাক। (তারপর উপস্থিত লোকদেরকে বললেনঃ) যারা এখানে উপস্থিত তারা যেন অনুপস্থিত লোকদেরকে আমার কথা পৌঁছে দেয়। কেননা, অনেক এমন ব্যক্তি রয়েছে, যাকে পরে পৌঁছানো হয়, সে আসল শ্রোতা থেকেও অধিক উপলব্ধিকারী ও সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে (এবং সে এলমের আমানতের হক বেশী আদায় করে।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي بَكَرَةَ قَالَ : خَطَبَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ النَّحْرِ "إِنَّ الزَّمَانَ اسْتَدَارَ كَهَيْئَةِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ : ثَلاَثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ : ذُو القَعْدَةِ ، وَذُو الحِجَّةِ ، وَالمُحَرَّمُ ، وَرَجَبُ مُضَرَ ، الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ ، وَقَالَ أَيُّ شَهْرٍ هَذَا " ، فَقُلْنَا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ ، قَالَ : « أَلَيْسَ ذَا الحِجَّةِ » ، قُلْنَا : بَلَى ، قَالَ : « أَيُّ بَلَدٍ هَذَا » . قُلْنَا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ ، قَالَ : « أَلَيْسَ البَلْدَةَ » . قُلْنَا : بَلَى ، قَالَ : « فَأَيُّ يَوْمٍ هَذَا » . قُلْنَا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ ، قَالَ : « أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ » . قُلْنَا : بَلَى ، قَالَ : " فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ ، وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا ، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا ، وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ ، فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ ، أَلاَ فَلاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي ضُلَّالًا ، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ ، أَلاَ أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ؟ قَالُوْا نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ ، فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ" (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৭০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ

বিদায় হজ্বের আলোচনায় হজ্বের প্রায় সকল আমল ও কর্মকাণ্ডের উল্লেখ ঘটনার রূপে এসে গিয়েছে। এখন পৃথক পৃথকভাবে এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও রুকনসমূহের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশাবলী ও তাঁর কর্মপদ্ধতি জানার জন্য নিম্নের হাদীসগুলো পাঠ করে নিন।

মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ

মক্কা শরীফকে আল্লাহ্ তা'আলা কাবা শরীফ সেখানে অবস্থিত হওয়ার কারণে যে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং এটাকে আল্লাহর নিরাপদ শহর ও হজ্বের কেন্দ্র বানিয়েছেন, এর অনিবার্য দাবী হচ্ছে যে, এখানে প্রবেশ করতে গেলে সতর্কতা ও সম্মানের সাথে প্রবেশ করতে হবে। তারপর কাবা শরীফের দাবী হচ্ছে যে, সর্বপ্রথম এর তাওয়াফ করতে হবে। তারপর এ কাবার এক কোণে স্থাপিত যে একটি পাথর (হাজরে আসওয়াদ) রয়েছে, এর দাবী হচ্ছে যে, তাওয়াফের সূচনা এটাকে আদব ও সম্মানের সাথে স্পর্শ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রীতি এটাই ছিল এবং সাহাবায়ে কেরাম তাঁর কাছ থেকে এটাই শিখেছিলেন।
১৭০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর খাদেম নাফে' থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর যখনই মক্কায় আসতেন, তখন এখানে প্রবেশ করার পূর্বে তিনি 'যি-তুওয়া' নামক স্থানে রাত্রি যাপন করতেন। (এটা মক্কার নিকটবর্তী একটি জনপদ ছিল।) এখানে তিনি সকাল হলে গোসল করতেন ও নামায পড়তেন। তারপর দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করতেন। আর তিনি যখন মক্কা থেকে ফেরত যেতেন, তখনও যি-তুওয়ায় রাত্রি যাপন করে সকাল বেলা ফিরে যেতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনই করতেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ نَافِعٍ قَالَ : أَنَّ ابْنَ عُمَرَ : « كَانَ لَا يَقْدَمُ مَكَّةَ إِلَّا بَاتَ بِذِي طَوًى ، حَتَّى يُصْبِحَ وَيَغْتَسِلَ فَيَدْخُلُ مَكَّةَ نَهَارًا ، وَإِذَا نَفَرَ مِنْهَا مَرَّ بِذِىْ طُوًى وَبَاتَ بِهَا حَتَّى يُصْبِحَ وَيَذْكُرُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ فَعَلَهُ » (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭১
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭১. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন মক্কায় আসলেন, তখন সর্বপ্রথম হাজরে আসওয়াদের কাছে আসলেন এবং এটাকে ইসতিলাম করলেন। তারপর তিনি ডান দিক থেকে তাওয়াফ করলেন, যার মধ্যে প্রথম তিন চক্করে তিনি রমল করলেন এবং বাকী চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চললেন। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرٍ قَالَ : « أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ أَتَى الْحَجَرَ فَاسْتَلَمَهُ ، ثُمَّ مَشَى عَلَى يَمِينِهِ ، فَرَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا »
হাদীস নং: ১৭২
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭২. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনা থেকে মক্কায় আসলেন। এখানে এসে তিনি প্রথমে হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌছে এর ইসতিলাম করলেন। তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। তারপর সাফার কাছে এসে এর এতটুকু উপরে উঠলেন, যেখান থেকে বায়তুল্লাহ্ দেখা যায়। তারপর তিনি যতক্ষণ চাইলেন, দু'হাত তুলে আল্লাহর যিকির ও দু‘আ করতে থাকলেন। -আবূ দাউদ
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : « أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَخَلَ مَكَّةَ فَأَقْبَلَ إِلَى الْحَجَرِ فَاسْتَلَمَهُ ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ أَتَى الصَّفَا فَعَلَاهُ حَتَّى يَنْظُرُ إِلَى الْبَيْتِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَذْكُرُ اللَّهَ مَا شَاءَ وَيَدْعُوهُ » (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৩
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্বে নবী করীম (ﷺ) উটের উপর সওয়ার হয়ে তাওয়াফ করলেন। তিনি একটি মাথাবাঁকা ছড়ি দ্বারা হাজরে আসওয়াদকে ইসতিলাম করতেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : طَافَ النَّبِيُّ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ ، عَلَى بَعِيرٍ ، يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ ، بِمِحْجَنٍ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৭৪
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭৪. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আরয করলাম যে, আমি অসুস্থ। (তাই আমি তাওয়াফ কিভাবে করব?) তিনি বললেন, তুমি সওয়ার হয়ে লোকদের পেছনে পেছনে তাওয়াফ করে নাও। আমি এভাবেই তাওয়াফ করে নিলাম। আর এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহর পাশে নামায পড়ছিলেন, আর এতে তিনি সূরা তুর তিলাওয়াত করছিলেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ، قَالَتْ : شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي أَشْتَكِي فَقَالَ : « طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ رَاكِبَةٌ » فَطُفْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي إِلَى جَنْبِ البَيْتِ يَقْرَأُ بِالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭৫. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে মদীনা থেকে বের হলাম। এ সময় আমাদের মুখে হজ্ব ছাড়া অন্য কিছুর আলোচনাই ছিল না। এভাবে আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, (যা মক্কা থেকে কেবল এক মনযলি দূরে অবস্থিত।) তখন আমার হায়েয শুরু হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (তাঁবুতে) এসে দেখলেন যে, আমি বসে বসে কাঁদছি। তিনি বললেন: মনে হয়, তোমার মাসিক শুরু হয়ে গিয়েছে। আমি উত্তর দিলাম, হ্যাঁ, ব্যাপার এটাই। তিনি বললেন: এটা তো এমন জিনিস, যা আল্লাহ্ তা'আলা আদম কন্যাদের জন্য লিখে দিয়েছেন। তাই তুমি সব কাজ করে যাও, যা হাজীরা করে থাকে। তবে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ঐ পর্যন্ত করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তুমি এ থেকে পাক-পবিত্র হয়ে যাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ نَذْكُرُ إِلَّا الحَجَّ ، فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ طَمِثْتُ ، فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي ، فَقَالَ : « لَعَلَّكِ نُفِسْتِ؟ » قُلْتُ : نَعَمْ ، قَالَ : « فَإِنَّ ذَلِكِ شَيْءٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ ، فَافْعَلِي مَا يَفْعَلُ الحَاجُّ ، غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي » (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: বায়তুল্লাহর চতুষ্পার্শ্বে তাওয়াফ করা নামাযের মতই একটি ইবাদত। তবে পার্থক্য এই যে, তোমরা এতে কথা বলতে পার। অতএব, যে কেউ তাওয়াফ অবস্থায় কথা বলে, সে যেন পুণ্য ও কল্যাণের কথাই বলে। (অহেতুক ও নাজায়েয কথাবার্তা দিয়ে সে যেন তাওয়াফকে কলুষিত না করে।) -তিরমিযী, নাসায়ী, দারেমী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : الطَّوَافُ حَوْلَ البَيْتِ مِثْلُ الصَّلاَةِ ، إِلاَّ أَنَّكُمْ تَتَكَلَّمُونَ فِيهِ ، فَمَنْ تَكَلَّمَ فِيهِ فَلاَ يَتَكَلَّمَنَّ إِلاَّ بِخَيْرٍ. (رواه الترمذى والنسائى والدارمى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করা গুনাহমাফীর কারণ হয়। আমি তাঁকে একথাও বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি সাতবার বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে এবং যত্নসহকারে এর তাওয়াফ করবে (অর্থাৎ, সুন্নত ও আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখবে) তার এ কাজটি একটি গোলাম আযাদ করার সমান হবে। আর আমি তাঁকে একথাও বলতে শুনেছি যে, তাওয়াফের সময় যখন কোন বান্দা এক পা মাটিতে রাখে আর এক পা উপরে উঠায়, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি কদমে একটি গুনাহ মাফ করে দেন এবং একটি নেকী নির্ধারণ করে দেন। -তিরমিযী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : إِنَّ مَسْحَهُمَا (الْحَجَرِ الْاَسْوَدِ وَالرُّكْنُ الْيَمَانِىْ) كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا وَسَمِعْتُهُ ، يَقُولُ : مَنْ طَافَ بِهَذَا البَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ : لاَ يَضَعُ قَدَمًا وَلاَ يَرْفَعُ أُخْرَى إِلاَّ حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً وَكَتَبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةً. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১৭৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেছেন: আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন এটাকে এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, এর দু'টি চোখ থাকবে- যার দ্বারা সে দেখবে এবং জিহবাও থাকবে- যার দ্বারা সে কথা বলবে। যারা এটা স্পর্শ করেছিল তাদের বেলায় সে সত্যসাক্ষ্য দিবে। -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারেমী
کتاب الحج
عَنِ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَيَأْتِيَنَّ هَذَا الْحَجَرُ ، يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا ، وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ ، يَشْهَدُ عَلَى مَنِ اسْتَلَمَهُ ، بِحَقٍّ » (رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى)
হাদীস নং: ১৭৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যসমূহ: মক্কায় প্রবেশ ও প্রথম তাওয়াফ
১৭৯. আবেস ইবনে রবীআ তাবেয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রাযি. কে দেখেছি যে, তিনি হাজরে আসওয়াদকে চুমু দিতেন এবং বলতেন, আমি ভাল করেই জানি যে, তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কোন উপকারও করতে পার না এবং কোন ক্ষতিও করতে পার না। আমি যদি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে তোমাকে চুমু খেতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুমু খেতাম না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ عُمَرَ يُقَبِّلُ الْحَجَرَ ، وَيَقُولُ : « إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ ، مَاتَنْفَعُ وَلَا تَضُرُّ وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ لَمْ أُقَبِّلْكَ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৮০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিকির ও দু‘আ
১৮০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে (তাওয়াফের অবস্থায়) রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে এ দু‘আ পড়তে শুনেছি: رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّفِی الۡاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ -আবূ দাউদ
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : « مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ » (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮১
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিকির ও দু‘আ
১৮১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: রুকনে ইয়ামানীর উপর সত্তরজন ফেরেশতা নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কোন ব্যক্তি যখন এ দু‘আ করে اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ তখন তারা আমীন বলে। ইবনে মাজাহ্
کتاب الحج
عَنْ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " وُكِلَ بِهِ سَبْعُونَ مَلَكًا (يعنى الركن اليمانى) ، فَمَنْ قَالَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ، قَالُوا : آمِينَ " (رواه ابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮২
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন হচ্ছে ৯ই যিলহজ্ব আরাফার ময়দানে ওকূফ ও অবস্থান করা। এটা যদি এক মুহূর্তের জন্যও লাভ হয়ে যায়, তাহলে হজ্ব নসীব হয়ে যায়। আর যদি কোন কারণে কোন হাজী এ দিন ও এর পরের রাতের কোন অংশেই আরাফায় পৌঁছতে না পারে, তাহলে তার হজ্ব ফওত হয়ে যায় অর্থাৎ, এ বছর তার হজ্বই ছুটে গেল। হজ্বের অন্যান্য রুকন ও কর্মকান্ড যথা তাওয়াফ, সায়ী, রমী ইত্যাদি যদি ছুটে যায়, তাহলে এগুলোর কোন না কোন কাফফারা ও প্রতিবিধানের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু ওকূফে আরাফা ছুটে গেলে এর কোন কাফফারা ও প্রতিবিধানের ব্যবস্থা নেই।
১৮২. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়া'মার দুআলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, হজ্ব হচ্ছে ওকূফে আরাফার নাম। (অর্থাৎ, এটা এমন রুকন, যার উপর হজ্ব নির্ভর করে।) যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতেও সুবহে সাদিকের পূর্বে আরাফায় পৌঁছে গেল, সে হজ্ব পেয়ে গেল। (কুরবানীর দিন অর্থাৎ, ১০ই যিলহজ্বের পর) মিনায় অবস্থানের দিন হচ্ছে তিনটি। (অর্থাৎ, ১১, ১২, ও ১৩ই যিলহজ্ব- যে দিনগুলোতে রমী করা হয়।) কেউ যদি দু'দিনে (অর্থাৎ, ১১ ও ১২ই যিলহজ্ব রমী করে) তাড়াতাড়ি মিনা থেকে চলে যায়, তাহলে এতে কোন গুনাহ্ নেই, আর কেউ যদি অতিরিক্ত একদিন থেকে (১৩ তারিখে রমী করে) সেখানে থেকে যায়; তাহলে এতেও কোন গুনাহ নেই। -তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, দারেমী
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْمَُرَ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : الحَجُّ عَرَفَةٌ ، وَمَنْ أَدْرَكَ عَرَفَةَ قَبْلَ طُلُوْعِ الفَجْرِ فَقَدْ أَدْرَكَ الحَجَّ ..... أَيَّامُ مِنًى ثَلاَثَةٌ {فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ....}. (رواه الترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه والدارمى)
হাদীস নং: ১৮৩
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওকূফে আরাফার গুরুত্ব ও ফযীলত
১৮৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এমন কোন দিন নেই, যে দিন আল্লাহ্ তা'আলা আরাফার দিনের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়সালা করে থাকেন। (অর্থাৎ, বছরের ৩৬০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক আকারে মাগফেরাত ও জাহান্নাম মুক্তির ফায়সালা আরাফার দিনেই হয়ে থাকে।) এ দিন আল্লাহ তা'আলা তাঁর ক্ষমা ও দয়াগুণ নিয়ে (আরাফাতে সমবেত বান্দাদের) খুবই কাছে আসেন। তারপর তাদের উপর গর্ব করে ফেরেশতাদেরকে বলেন, এরা কী প্রত্যাশা করে। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُو ، ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمِ الْمَلَائِكَةَ ، فَيَقُولُ : مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟ " (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৪
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওকূফে আরাফার গুরুত্ব ও ফযীলত
১৮৪. তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে কারীয তাবেয়ী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: শয়তানকে কোন দিনই এত বেশী অপমানিত, এত বেশী ধিকৃত, এত বেশী হীন ও এত বেশী আক্রোশে আক্রান্ত দেখা যায় নাই, যতটুকু আরাফা দিবসে দেখা যায়। আর এটা কেবল এ জন্য যে, সে এ দিন আল্লাহর রহমত (যা মুষল ধারায়) বর্ষিত হতে এবং বড় বড় গুনাহ্ও আল্লাহ কর্তৃক ক্ষমা হতে দেখতে পায়। (আর অভিশপ্ত শয়তানের জন্য এটা বড়ই অসহনীয়।) -মুয়াত্তা মালেক: মুরসাল
کتاب الحج
عَنْ طَلْحَةَ بن عبيد الله بن كريز أن رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَا رَأَى الشَّيْطَانُ يَوْمًا هُوَ فِيهِ أَصْغَرُ ، وَلَا أَدْحَرُ ، وَلَا أَحْقَرُوَلَا أَغْيَظُ مِنْهُ فِىْ يَوْمِ عَرَفَةَ ، وَمَا ذَاكَ اِلَّا لِمَا يَرَى مِنْ تَنَزُّلِ الرَّحْمَةِ وَتَجَاوُزِ اللهِ عَنِ الذُّنُوبِ الْعِظَامِ. (رواه مالك مرسلا)