মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
হজ্ব অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৭৬ টি
হাদীস নং: ২০৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের রীতি এই যে, তারা নিজেদের সংকলনসমূহে হজ্ব ও উমরা সম্পর্কিত হাদীসগুলোর সাথে 'মক্কার ফযীলত অধ্যায়' শিরোনামে মক্কার মর্যাদা ও ফযীলতের হাদীসসমূহ এবং এরই সাথে 'মদীনার ফযীলত' শিরোনামে মদীনার মর্যাদার হাদীসসমূহ শামিল করে দিয়ে থাকেন। এ রীতির অনুসরণ করতে গিয়ে এখানেও প্রথমে মক্কার সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসগুলো লিখা হয়েছে এবং এখন মদীনার সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসগুলো লিখা হচ্ছে।
২০৫. হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্ তা'আলা মদীনার নাম 'তাবা' রেখেছেন। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : « إِنَّ اللهَ تَعَالَى سَمَّى الْمَدِينَةَ طَابَةَ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২০৬. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: হযরত ইব্রাহীম (আঃ) মক্কাকে 'হারাম' ঘোষণা করেছিলেন। আর আমি মদীনার দু'প্রান্তের মাঝের স্থানকে হারাম ঘোষণা করছি। এতে রক্তপাত করা যাবে না, কারো বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করা যাবে না এবং পশুদের খাদ্যের প্রয়োজন ব্যতীত এর কোন গাছের পাতাও ছিঁড়া যাবে না। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ فَجَعَلَهَا حَرَامًا ، وَّإِنِّي حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ حَرَامًا مَا بَيْنَ مَأْزِمَيْهَا ، أَنْ لَا يُهْرَاقَ فِيهَا دَمٌ ، وَلَا يُحْمَلَ فِيهَا سِلَاحٌ ، وَلَا يُخْبَطَ فِيهَا شَجَرَةٌ إِلَّا لِعَلْفٍ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২০৭. হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি হারাম ঘোষণা করছি মদীনার দু'প্রান্তের মধ্যবর্তী এলাকাকে, (আর নির্দেশ দিচ্ছি যে.) এর কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং এর শিকারও বধ করা যাবে না। তিনি আরো বলেছেন: (কোন কোন জিনিসের অভাব এবং কোন কোন কষ্ট সত্ত্বেও) মদীনাই মানুষের জন্য উত্তম। তারা যদি এর কল্যাণ ও বরকতের কথা জানত, (তাহলে কোন কষ্ট ও পেরেশানীর কারণে এবং কোন লোভে তারা এটা ছাড়ত না।) যে ব্যক্তি অনীহার ভাব নিয়ে এটা ছেড়ে চলে যাবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে এখানে স্থান দিবেন। আর যে বান্দা মদীনার অনটন ও দুঃখ-কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করে এখানে পড়ে থাকবে, আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী হব অথবা তার পক্ষে সাক্ষী হব। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ بْنُ سَعْدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لَابَتَيِ الْمَدِينَةِ أَنْ يُقْطَعَ عِضَاهُهَا ، أَوْ يُقْتَلَ صَيْدُهَا » ، وَقَالَ : « الْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ، لَا يَدَعُهَا أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلَّا أَبْدَلَ اللهُ فِيهَا مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ ، وَلَا يَثْبُتُ أَحَدٌ عَلَى لَأْوَائِهَا وَجَهْدِهَا إِلَّا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا ، أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২০৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মতের যে কোন ব্যক্তি মদীনার অভাব ও কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করে সেখানে থেকে যাবে, কিয়ামতের দিন আমি তার সুপারিশকারী হব। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا يَصْبِرُ عَلَى لَأْوَاءِ الْمَدِينَةِ وَشِدَّتِهَا أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِي ، إِلَّا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২০৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা যখন গাছে নতুন ফল দেখত, তখন তারা এটা নবী করীম (ﷺ) এর খেদমতে নিয়ে আসত। তিনি এটা হাতে নিয়ে এভাবে দু‘আ করতেন: হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ফল-ফসলে বরকত দান কর, আমাদের শহর মদীনায় বরকত দান কর, আমাদের ছা' ও আমাদের মুদ্দে বরকত দান কর। হে আল্লাহ! ইব্রাহীম (আঃ) তোমার বিশেষ বান্দা, তোমার একান্ত বন্ধু ও তোমার নবী ছিলেন, আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি তোমার কাছে মক্কার জন্য দু‘আ করেছিলেন, আর আমি মদীনার জন্য তোমার কাছে ঐ দু‘আই করছি। আর এর সাথে আরো এতটুকুই অতিরিক্ত। তার পর তিনি কোন ছোট শিশুকে ডাকতেন এবং এ নতুন ফল তাকে দিয়ে দিতেন। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ كَانَ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوا بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَإِذَا أَخَذَهُ قَالَ : اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا اللهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ ، وَإِنِّي أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ لِمَكَّةَ ، وَمِثْلِهِ مَعَهُ » ، قَالَ : ثُمَّ يَدْعُو أَصْغَرَ وَلِيدٍ لَهُ فَيُعْطِيهِ ذَلِكَ الثَّمَرَ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২১০. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: কিয়ামত ঐ সময় পর্যন্ত আসবে না, যে পর্যন্ত না মদীনা তার মন্দ লোকদেরকে এভাবে দূর করে দেবে, যেভাবে কামারের হাঁপর লোহার ময়লা ও খাদকে দূর করে দেয়। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَنْفِيَ الْمَدِينَةُ شِرَارَهَا ، كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১১
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২১১. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মদীনার পথসমূহে ফেরেশতারা নিয়োজিত রয়েছে। এতে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، « عَلَى أَنْقَابِ المَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ ، وَلاَ الدَّجَّالُ » (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১২
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২১২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার পক্ষে মদীনায় মৃত্যুবরণ করা সম্ভব, সে যেন (এর চেষ্টা করে এবং) মদীনায়ই মরে। কেননা, যে ব্যক্তি মদীনায় মারা যায়, আমি তার জন্য (বিশেষভাবে) শাফা'আত করব। -আহমাদ, তিরমিযী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ بِالمَدِينَةِ فَلْيَمُتْ بِهَا ، فَإِنِّي أَشْفَعُ لِمَنْ يَمُوتُ بِهَا. (رواه احمد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৩
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদীনা শরীফের মর্যাদা ও ভালবাসা
২১৩. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারী তাবেয়ী থেকে মুরসাল পদ্ধতিতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (মদীনার কবরস্তানের পাশে) বসা ছিলেন এবং এ সময় একটি কবর খোঁড়া হচ্ছিল। এক ব্যক্তি কবরে উকি দিয়ে দেখল এবং বলে ফেলল, মু'মিনের জন্য এটা কতইনা মন্দ স্থান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তুমি কী মন্দ কথাইনা বললে। (একজন মুসলমানের মদীনায় মৃত্যু এসেছে আর এখানেই তার কবর হয়েছে, আর তুমি বলছ যে, মুসলমানের জন্য এ শয়নস্থল ভাল নয়) লোকটি বলল, আমার উদ্দেশ্য এটা নয়: (যে, মদীনায় মৃত্যু ও কবর হওয়া ভাল নয়) বরং আমার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর রাহে শহীদী মৃত্যু। (অর্থাৎ, আমি এটা বলতে চেয়েছিলাম যে, এ লোকটি বিছানায় পড়ে মরে ও এ স্থানে দাফন হওয়ার পরিবর্তে যদি কোন জেহাদের ময়দানে শহীদ হয়ে যেত এবং তার রক্তমাখা লাশ সেখানে পড়ে থাকত, তাহলে এ কবরে দাফন হওয়ার চেয়ে সেটা অনেক ভাল হত।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: এ মৃত্যু আল্লাহর রাহে শহীদী মৃত্যুর সমান তো নয়, (অর্থাৎ, শাহাদতের মর্তবা তো অনেক উচ্চে, কিন্তু মদীনায় মৃত্যুবরণ করা এবং এ মাটিতে দাফন হওয়াও বিরাট সৌভাগ্য।) আল্লাহর যমীনে এমন কোন স্থান নেই যেখানে আমার কবর হওয়া মদীনা অপেক্ষা আমার নিকট প্রিয়তর হতে পারে। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। মুয়াত্তা মালেক
کتاب الحج
عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم جَالِساً. وَقَبْرٌ يُحْفَرُ بِالْمَدِينَةِ. فَاطَّلَعَ رَجُلٌ فِي الْقَبْرِ. فَقَالَ : بِئْسَ مَضْجَعُ الْمُؤْمِنِ.فَقَالَ : رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « بِئْسَ مَا قُلْتَ » .قَالَ الرَّجُلُ : إِنِّي لَمْ أُرِدْ هذَا ، إِنَّمَا أَرَدْتُ الْقَتْلَ فِي سَبِيلِ اللهِ.فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : « لاَ مِثْلَ لِلْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللهِ. مَا عَلَى الْأَرْضِ بُقْعَةٌ أَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ يَكُونَ قَبْرِي فِيْهَا ، مِنْهَا. ثَلاَثَ مَرَّاتٍ » (رواه مالك مرسلا)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৪
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে নববী- হিজরতের পর মদীনা তৈয়্যেবায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যার ভিত্তি রেখেছেন, তারপর যেখানে জীবনভর নামায পড়েছেন এবং যা তাঁর সারা জীবনের সকল দ্বীনি কর্মকান্ড, শিক্ষা-দীক্ষা, হেদায়াত ও পথপ্রদর্শন, দাওয়াত ও জেহাদের কেন্দ্র ছিল। আল্লাহ তা'আলা এটাকে তাঁর পবিত্র ঘর খানায়ে কা'বা ও মসজিদুল হারাম ছাড়া সকল ইবাদতগাহের উপর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দান করেছেন।
বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছে যে, এ মসজিদে নববীর একটি নামায সাধারণ অন্য মসজিদের হাজার নামাযের চেয়ে উত্তম।
বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছে যে, এ মসজিদে নববীর একটি নামায সাধারণ অন্য মসজিদের হাজার নামাযের চেয়ে উত্তম।
২১৪. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার এ মসজিদে একটি নামায অন্যান্য সকল মসজিদের হাজার নামাযের চেয়ে উত্তম মসজিদুল হারাম ব্যতীত। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هذَا ، خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ. إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে নববীর মাহাত্ম্য ও ফযীলত
২১৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার এ মসজিদের একটি নামায অন্যান্য মসজিদের হাজার নামায থেকে উত্তম- মসজিদুল হারাম ব্যতীত। আর মসজিদুল হারামের একটি নামায আমার এ মসজিদের একশ নামাযের চেয়ে উত্তম। মুসনাদে আহমাদ
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ الْمَسَاجِدِ ، إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ ، وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ صَلَاةٍ فِي هَذَا " (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে নববীর মাহাত্ম্য ও ফযীলত
২১৬. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার এ মসজিদে একাধারে এমনভাবে চল্লিশ ওয়াক্ত নামায পড়ল যে, তার একটি নামাযও ছুটে যায়নি, তার জন্য তিনটি জিনিস থেকে মুক্তির ফায়সালা লিখে দেওয়া হবে: (১) জাহান্নাম থেকে মুক্তি, (২) সব ধরনের আযাব থেকে মুক্তি, (৩) নেফাক থেকে মুক্তি। -আহমাদ, তাবারানী
کتاب الحج
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ صَلَّى فِي مَسْجِدِي أَرْبَعِينَ صَلَاةً ، لَا تَفُوتُهُ صَلَاةٌ ، كُتِبَ لَهُ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ الْعَذَابِ ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ " (رواه احمد والطبرانى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে নববীর মাহাত্ম্য ও ফযীলত
২১৭. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মাঝের স্থানটি বেহেশতের বাগান বিশেষ। আর আমার মিম্বরটি আমার হাউযে কাওছারের উপর। বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي ، رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ. وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي » . (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে নববীর মাহাত্ম্য ও ফযীলত
২১৮. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: দুনিয়াতে কেবল তিনটি মসজিদ রয়েছে, এগুলো ছাড়া অন্য কোন মসজিদের দিকে যেন সফর করে যাওয়া না হয়। মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা (বায়তুল মুকাদ্দাস) ও আমার এ মসজিদ। বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا لِثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : مَسْجِدِ الْحَرَامِ ، وَمَسْجِدِي هَذَا ، وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى " (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যদিও রওযা শরীফের যিয়ারত হজ্বের কোন অঙ্গ নয়; কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে উন্মতের এ অভ্যাস ও রীতি চলে আসছে যে, বিশেষ করে দূর অঞ্চল থেকে যেসব মুসলমান হজ্ব করতে যায়, তারা রওযা শরীফের যিয়ারত ও সেখানে দরূদ ও সালাম পেশ করার সৌভাগ্যও অবশ্যই অর্জন করে থাকে। এ জন্যই হাদীসের অনেক সংকলনে কিতাবুল হজ্বের শেষে যিয়ারতে নববীর হাদীসসমূহও লিখে দেয়া হয়েছে। এ নীতির অনুসরণ করতে গিয়েই কিতাবুল হজ্বের এ ধারাবাহিক আলোচনাটি আমরা যিয়ারতে নববীর হাদীসমূহের মাধ্যমেই শেষ করছি।
২১৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি হজ্ব করল এবং আমার কবর যিয়ারত করল আমার মৃত্যুর পর, সে যেন আমার জীবদ্দশায়ই আমার যিয়ারত করল। বায়হাকী, তাবারানী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ حَجَّ فَزَارَ قَبْرِي بَعْدَ مَوْتِي كَانَ كَمَنْ زَارَنِي فِي حَيَاتِي ". (رواه البيهقى فى شعب الايمان والطبرانى فى الكبير والاوسط)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রওযা শরীফের যিয়ারত
২২০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে গেল। ইবনে খুযায়মা, দারাকুতনী, বায়হাকী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي ". (رواه ابن خزيمه فى صحيحه والدار قطنى والبيهقى)
তাহকীক: