রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ

رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين

৯. ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৫১ টি

হাদীস নং: ৯৯১
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ ইসলাম এক পরিপূর্ণ দীন। এ দীনে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। আছে ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব প্রভৃতি বিধান। সেসব বিধান পালন করার দ্বারা মানুষের পরকালীন জীবন সাফল্যমণ্ডিত হয়। দুনিয়ার জীবনও হয় শান্তিময়। তবে তা পালন করার ক্ষেত্রে মানুষকে নানা বাধারও সম্মুখীন হতে হয়। থাকে শয়তানের প্ররোচনা। কখনও নফস ও মনের অবাধ্যতা। সমাজ ও পরিবেশও অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার কখনও শারীরিক অলসতা ও মানসিক পেরেশানির কারণেও শরীয়তের বিধান পালনে আলস্য ও গড়িমসি দেখা দেয়। এসব বাধা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন মানসিক শক্তির। প্রাণ-মনে জোর থাকলে সকল বাধা উপেক্ষা করে শরীয়তের বিধানাবলি পালন করা সহজ হয়ে যায়। প্রাণে শক্তি জোগানোর বিভিন্ন উপায় আছে। তার মধ্যে একটি বিশেষ উপায় হলো সৎকর্মের ফযীলত সম্পর্কে অবহিত থাকা।

الفضيلَةُ (ফযীলত) শব্দটির অর্থ বিশেষত্ব, মাহাত্ম্য ও সুফল। কোনও কাজ দ্বারা দুনিয়ায় বা আখিরাতে কিংবা উভয় জগতে যা লাভ হয়, তাই সে কাজের ফযীলত। শব্দটির বহুবচন হলো الفَضَائِلُ (ফাযায়েল)।

মানুষ যাতে সকল বাধা উপেক্ষা করে শরীয়তের বিধানাবলি পালনে উৎসাহী হয় এবং তা পালন করার জন্য মনে শক্তি ও সাহস পায়, সে লক্ষ্যে কুরআন-হাদীছ প্রতিটি বিধান ও প্রত্যেক সৎকর্মের ফযীলতও বর্ণনা করেছে। সে ফযীলত বিভিন্ন রকম। যেমন আখিরাতে নাজাত লাভ হওয়া, আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জিত হওয়া, জান্নাতে উচ্চমর্যাদা পাওয়া, সহজে পুলসিরাত পার হতে পারা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত লাভ করতে পারা, আখিরাতে নবী-রাসূল, সিদ্দীক ও শহীদদের কাছাকাছি স্থান পাওয়া, হাশরের ময়দানে আরশের ছায়াতলে জায়গা পাওয়া, বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ করা, অল্প আমলে বিস্তর ছাওয়াব পাওয়া, গুনাহ মাফ হওয়া, আয়ুতে বরকত লাভ হওয়া, উপার্জন ও খাবারে বরকত হওয়া, জান-মালের নিরাপত্তা পাওয়া, ফিরিশতাদের সাহায্য লাভ করা, সৎকর্মের তাওফীক লাভ হওয়া, মানুষের ভালোবাসা পাওয়া, জীবন শান্তিপূর্ণ হওয়া ইত্যাদি। কোনও কোনও আয়াতে শাসনক্ষমতা লাভ করাকেও সৎকর্মের একটি ফযীলতরূপে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফযীলত সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীছসমূহের প্রতি লক্ষ করলে স্পষ্ট দেখা যায় বিভিন্ন আমলের দুনিয়াবী ফযীলত বা উপকার বর্ণনা করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরকালীন ফযীলতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সৎকর্ম দ্বারা বান্দা আখিরাতে কী কী লাভ করবে, আলোকপাত সেদিকেই বেশি। এর দ্বারা বোঝা যায় ফযীলতের বয়ান দ্বারা মানুষকে আখিরাতমুখী করা উদ্দেশ্য।

দুনিয়ার নানা বস্তু মানুষকে অবিরাম আকর্ষণ করতে থাকে। সে আকর্ষণ বহুমুখী। দৃঢ় মনোবল ছাড়া তা উপেক্ষা করা কঠিন। অথচ উপেক্ষা না করলে দুনিয়ার মোহে নিমজ্জিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা যথেষ্ট। দুনিয়ার মোহ যাকে পেয়ে বসে, তার আখিরাত তো নষ্ট হয়ই, দুনিয়াও বরবাদ হয়ে যায়। সে বরবাদি থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় মনপ্রাণকে আখিরাতমুখী করে রাখা। মানুষ দুনিয়ার প্রয়োজনীয় সব কাজই করবে, তবে তার অন্তর থাকবে আখিরাতের দিকে। কারও মনের ঝোঁক যদি আখিরাতের দিকে থাকে, তবে দুনিয়ার মোহ তাকে গ্রাস করতে পারবে না।

আমাদের অন্তরকে আখিরাতমুখী করার জন্য জান্নাতের অকল্পনীয় নি'আমত, সেখানকার অফুরন্ত সুখ-শান্তি এবং আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টিলাভের অবর্ণনীয় আনন্দের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তা অর্জনের উপায়ও আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য, শরীয়তের বিধানাবলি তথা সৎকর্মসমূহ পালন করাই হলো সেই উপায়।

সৎকর্মের অধিকাংশই ইহজীবন সম্পর্কিত। অন্যগুলো সরাসরি ইহজীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলেও তা দ্বারা ইহজীবনের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয়। এ উভয়রকম সৎকর্মেরই ফযীলত আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৎকর্মের সংখ্যা বিপুল হওয়ায় ফযীলত সম্পর্কিত হাদীছের সংখ্যাও প্রচুর। নেক আমলে উৎসাহবৃদ্ধির জন্য সেসব হাদীছ আমাদের জানা ও পড়া দরকার। সে লক্ষ্যে ইমাম নববী রহ. রিয়াযুস সালেহীনের এ ভাগে ফাযায়েল সম্পর্কে বাছাইকৃত কিছু হাদীছ উল্লেখ করেছেন। আমরা সেসব হাদীছের বঙ্গানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পেশ করছি। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীকদাতা।

কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কিয়ামতে কুরআন তার তিলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশকারী হবে
৯৯১. হযরত আবু উমামা রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন মাজীদ পড়ো। কেননা কিয়ামতের দিন কুরআন তার নিয়মিত পাঠকদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। -মুসলিম
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
991 - عن أَبي أُمَامَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رسولَ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - يقول: «اقْرَؤُوا القُرْآنَ؛ فَإنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ القِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ৯৯২
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত: সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরানের বিশেষ মর্যাদা
৯৯২. হযরত নাউওয়াস ইবন সাম'আন রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন কুরআন এবং ওই কুরআনওয়ালাদেরকে নিয়ে আসা হবে, যারা দুনিয়ায় কুরআনের উপর আমল করত। তার সামনে থাকবে সূরা বাকারা ও আলে ইমরান। তারা তাদের সঙ্গীর পক্ষে বিতর্ক করবে। -মুসলিম
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
992 - وعن النَّوَّاسِ بنِ سَمْعَانَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رسولَ الله - صلى الله عليه وسلم - يقولُ: «يُؤْتَى يَوْمَ القِيَامَةِ بِالقُرْآنِ وَأهْلِهِ الذينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِهِ في الدُّنْيَا، تَقْدُمُه سورَةُ البَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ، تُحَاجَّانِ عَنْ صَاحِبِهِمَا». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ৯৯৩
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কুরআনের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মর্যাদা
৯৯৩. হযরত উছমান ইবন আফফান রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে নিজে কুরআন শেখে ও অন্যকে তা শেখায়। -বুখারী
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
993 - وعن عثمان بن عفان - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ». رواه البخاري. (1)
হাদীস নং: ৯৯৪
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কুরআনের দক্ষ পাঠকের মর্যাদা ও অদক্ষ পাঠকের ছাওয়াব
৯৯৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং কুরআনপাঠে দক্ষও বটে, সে পুণ্যবান সম্মানিত বার্তাবাহী (ফিরিশতা)-দের সঙ্গে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এ অবস্থায় কুরআন পড়ে যে, সে তাতে আটকে আটকে যায় এবং তার পক্ষে তা কঠিন হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ ছাওয়াব। -বুখারী ও মুসলিম
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
994 - وعن عائشة رضي الله عنها، قالت: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «الَّذِي يَقْرَأُ القُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ (1) بِهِ مَعَ السَّفَرَةِ الكِرَامِ البَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ (2) فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أجْرَانِ». متفقٌ عَلَيْهِ. (3)
হাদীস নং: ৯৯৫
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কুরআনের বিভিন্ন স্তরের পাঠক ও তাদের দৃষ্টান্ত
৯৯৫. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে মুমিন কুরআন পড়ে, তার দৃষ্টান্ত কমলালেবু, যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদ উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুর, যার ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্ট। যে মুনাফিক কুরআন পড়ে, তার দৃষ্টান্ত সুগন্ধি ফুল, যার ঘ্রাণ ভালো কিন্তু স্বাদ তিতা। আর যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না, তার দৃষ্টান্ত হানযালা ফল, যার কোনও ঘ্রাণ নেই আবার স্বাদও তিতা। -বুখারী ও মুসলিম
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
995 - وعن أَبي موسى الأشعري - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ القُرْآنَ مَثَلُ الأُتْرُجَّةِ: رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ، وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لاَ يَقْرَأُ القُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ: لاَ رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْوٌ، وَمَثلُ المُنَافِقِ الَّذِي يقرأ القرآنَ كَمَثلِ الرَّيحانَةِ: ريحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ، وَمَثَلُ المُنَافِقِ الَّذِي لاَ يَقْرَأُ القُرْآنَ كَمَثلِ الحَنْظَلَةِ: لَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ৯৯৬
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কুরআনের অনুসরণ উন্নতির চাবিকাঠি
৯৯৬. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা এ কিতাবের মাধ্যমে বহু লোককে উন্নত করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্যদের অধঃপতিত করেন। -মুসলিম' (সহীহ মুসলিম: ৮১৭; সুনানে ইবন মাজাহ: ২১৮; মুসনাদে আহমাদ: ২৩০; সুনানে দারিমী: ৩৪০৮; মুসনাদুল বাযযার: ২৪৯; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ২১০; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার: ২১৯৯; সহীহ ইবন হিব্বান: ৭৭২; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৬৬১৯)
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
996 - وعن عمر بن الخطاب - رضي الله عنه: أنَّ النبيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إنَّ اللهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الكِتَابِ أقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخرِينَ». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ৯৯৭
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: যা প্রকৃত ঈর্ষণীয়
৯৯৭. হযরত ইবন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দুই ব্যক্তির বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে হাসাদ করতে নেই। এক হলো ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তা'আলা কুরআন দিয়েছেন এবং সে দিবারাত্রের মুহূর্তগুলোতে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর দ্বিতীয় হলো ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ অর্থসম্পদ দিয়েছেন এবং সে দিবারাত্রের সময়গুলোতে তা (আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে) ব্যয় করতে থাকে। -বুখারী ও মুসলিম (সহীহ বুখারী: ৫০২৫; সহীহ মুসলিম: ৮১৫; জামে তিরমিযী: ১৯৩৬; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৮০১৮; সুনানে ইবন মাজাহ: ৪২০৯; মুসনাদে আহমাদ: ৪৯২৩; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩০২৮১; মুসনাদুল হুমায়দী: ৬২৯; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৫৯৭৪; মুসনাদুল বাযযার: ১৮৯০)
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
997 - وعن ابن عمر رضي اللهُ عنهما، عن النَّبيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لاَ حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ القُرْآنَ، فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاء اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالًا، فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
«والآنَاءُ»: السَّاعَاتُ.
হাদীস নং: ৯৯৮
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: হযরত উসায়দ ইবন হুযায়র রাযি.-এর কুরআন পাঠ ও সাকীনা নাযিলের ঘটনা
৯৯৮. হযরত বারা ইবন আযিব রাযি. বলেন, এক ব্যক্তি সূরা কাহফ পড়ছিল। তার কাছে দু'টি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এ অবস্থায় এক খণ্ড মেঘ তার উপর ছেয়ে গেল। মেঘখণ্ডটি ক্রমে তার কাছাকাছি চলে আসছিল আর তাতে তার ঘোড়াটি লাফালাফি করছিল। ভোর হলে সেই ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল এবং বিষয়টা তাঁর কাছে উল্লেখ করল। তিনি বললেন, তা ছিল সাকীনা, যা কুরআনের কারণে নেমে এসেছিল। -বুখারী ও মুসলিম (সহীহ বুখারী: ৫০১১; সহীহ মুসলিম: ৭৯৫; জামে তিরমিযী: ২৮৮৫; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা : ১১৪৩৯; মুসনাদে আবূ দাউদ তয়ালিসী: ৭৪৯; সহীহ ইবন হিব্বান : ৭৬৯; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর ৫৬৪; বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান : ২২১৭: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১২০৬)
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
998 - وعن البراءِ بن عازِبٍ رضي اللهُ عنهما، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ يَقْرَأُ سُورَةَ الْكَهْفِ، وَعِنْدَهُ فَرَسٌ مَرْبُوطٌ بِشَطَنَيْنِ، فَتَغَشَّتْهُ سَحَابَةٌ فَجَعَلَتْ تَدْنُو، وَجَعَلَ فَرَسُه يَنْفِرُ مِنْهَا، فَلَمَّا أصْبَحَ أتَى النَّبيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: «تِلْكَ السَّكِينَةُ تَنَزَّلَتْ لِلقُرْآنِ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
«الشَّطَنُ» بفتحِ الشينِ المعجمة والطاءِ المهملة: الحَبْلُ.
হাদীস নং: ৯৯৯
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কুরআন তিলাওয়াতের ছাওয়াব
৯৯৯. হযরত ইবন মাস'উদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পড়ে, তার জন্য রয়েছে একটি নেকী। আর নেকী দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলছি না ।। (আলিফ-লাম-মীম) একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। -তিরমিযী (জামে' তিরমিযী: ২৯১০; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ২৯৯৩৩; শু'আবুল ঈমান : ১৮৩০; সুনানে দারিমী: ৩৩৫১; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৮৬৪৮; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২০৪০)
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
999 - وعن ابن مسعودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَرَأ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أمْثَالِهَا، لاَ أقول: ألم (1) حَرفٌ، وَلكِنْ: ألِفٌ حَرْفٌ، وَلاَمٌ حَرْفٌ، وَمِيمٌ حَرْفٌ». رواه الترمذي، (2) وقال: «حديث حسن صحيح».
হাদীস নং: ১০০০
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কুরআন পড়তে না পারা দুর্ভাগ্যজনক
১০০০. হযরত ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যার পেটের ভেতর কুরআনের কোনও অংশ নেই, সে বিরান ঘরের মতো। -তিরমিযী (জামে' তিরমিযী: ২৯১৩; মুসনাদে আহমাদ: ১৯৪৭; সুনানে দারিমী: ৩৩৪৯; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২০৩৭; বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান: ১৭৯৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১১৮৫)
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
1000 - وعن ابن عباسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الَّذِي لَيْسَ في جَوْفِهِ شَيْءٌ مِنَ القُرْآنِ كَالبَيْتِ الخَرِبِ». رواه الترمذي، (1) وقال: «حديث حسن صحيح».
হাদীস নং: ১০০১
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: প্রকৃত হাফেজের মর্যাদা
১০০১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, (কিয়ামতের দিন) কুরআনওয়ালাকে বলা হবে, পড়ো ও চড়ো এবং দুনিয়ায় যেমন ধীরে ধীরে পড়তে, তেমনি ধীরে ধীরে পড়ো। কেননা তোমার স্থান তুমি সর্বশেষ যে আয়াত পড়বে সেখানে। -আবূ দাউদ ও তিরমিযী (সুনানে আবূ দাউদ: ১৪৬৪; জামে তিরমিযী ২৯১৪; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৮০০২; সুনানে ইবন মাজাহ : ৩৭৮০; মুসনাদে আহমাদ: ৬৮০০; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩০০৫৫; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ১০৯৪; সহীহ ইবন হিব্বান: ৭৬৬; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ২৪২৫)
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
1001 - وعن عبد اللهِ بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما، عن النبيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ في الدُّنْيَا، فَإنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آية تَقْرَؤُهَا». رواه أَبُو داود والترمذي، (1) وقال: «حديث حسن صحيح».
হাদীস নং: ১০০২
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের সংরক্ষণে যত্নবান থাকার আদেশ এবং অবহেলার কারণে তা ভুলে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কীকরণ
১০০২. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা এই কুরআন সংরক্ষণে যত্নবান থাকো। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, সেই সত্তার কসম! উট যেমন তার রশি থেকে ছুটে যায়, কুরআন তারচে'ও বেশি দ্রুত (স্মৃতি থেকে) চলে যায়। -বুখারী ও মুসলিম' (সহীহ বুখারী: ৫০৩৩; সহীহ মুসলিম: ৭৯১; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৫৯৬৮; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৮৫৬৯; মুসনাদে আহমাদ: ৩৬২১; মুসনাদুল বাযযার: ৩১৮৮। তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ১০৩৪৭; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২০৩২; বায়হাকী, উ'আবুল ঈমান: ১৮০৯)
كتاب الفضائل
باب الأمر بتعهد القرآن والتحذير عن تعريضه للنسيان
1002 - عن أَبي موسى - رضي الله عنه - عن النبيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «تعاهدوا هَذَا القُرْآنَ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَهُوَ أشَدُّ تَفَلُّتًا مِنَ الإبلِ فِي عُقُلِهَا». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ১০০৩
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের সংরক্ষণে যত্নবান থাকার আদেশ এবং অবহেলার কারণে তা ভুলে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কীকরণ
১০০৩. হযরত ইবন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কুরআনের হাফেজের দৃষ্টান্ত হলো বেঁধে রাখা উটের মতো। মালিক তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখলে সেটিকে আটকে রাখতে পারবে। আর যদি সেটি ছেড়ে দেয়, তবে চলে যাবে। -বুখারী ও মুসলিম (সহীহ বুখারী: ৫০৩১; সহীহ মুসলিম: ৭৮৯; মুআত্তা মালিক: ১৭৪; মুসনাদে আহমাদ: ৫৯২৩; মুসনাদুল বাযযার: ৫৪৯৬; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৭৯৮৯; সহীহ ইবন হিব্বান : ৭৬৪; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা ৪০৫১; শুআবুল ঈমান: ১৮১০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১২২১)
كتاب الفضائل
باب الأمر بتعهد القرآن والتحذير عن تعريضه للنسيان
1003 - وعن ابن عمر رضي الله عنهما: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إنَّمَا
مَثَلُ صَاحبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ الإِبِلِ المُعَقَّلَةِ، إنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أمْسَكَهَا، وَإنْ أطْلَقَهَا ذَهَبَتْ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ১০০৪
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর আওয়াজে কুরআন পাঠ করা সুমধুর সুরের ব্যক্তিকে কুরআন পড়তে বলা এবং মনোযোগ দিয়ে সেই তিলাওয়াত শোনা
১০০৪. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সুমধুর সুরের নবীকর্তৃক উচ্চৈঃস্বরে সুর দিয়ে কুরআন পড়াটা আল্লাহ যতটা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন, অন্য কোনওকিছু অতটা গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন না। -বুখারী ও মুসলিম (সহীহ বুখারী: ৫০২৩; সহীহ মুসলিম: ৭৯২; সুনানে আবু দাউদ: ১৪৭৩; সুনানে নাসাঈ: ১০১৭; সুনানে ইবন মাজাহ ১৩৪১; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৪১৬৭; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৮৭৪০; মুসনাদে আহমাদ: ১৪৭৫; মুসনাদুল বাযযার ৭৮৫৪; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৫৯৫৯)
كتاب الفضائل
باب استحباب تحسين الصوت بالقرآن وطلب القراءة من حسن الصوت والاستماع لها
1004 - وعن أَبي هريرة - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رسولَ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - يقول: «مَا أَذِنَ اللهُ لِشَيءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
مَعْنَى «أَذِنَ الله»: أي اسْتَمَعَ، وَهُوَ إشَارَةٌ إِلَى الرِّضَا والقَبولِ.
হাদীস নং: ১০০৫
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর আওয়াজে কুরআন পাঠ করা সুমধুর সুরের ব্যক্তিকে কুরআন পড়তে বলা এবং মনোযোগ দিয়ে সেই তিলাওয়াত শোনা: হযরত আবু মুসা আশ'আরী রাযি.-এর সুমধুর সুর
১০০৫. হযরত আবু মুসা আশ'আরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, আল্লাহ তোমাকে দাউদের সুরসমূহের একটি সুর দিয়েছেন। -বুখারী ও (সহীহ বুখারী: ৫০৪৮; সহীহ মুসলিম: ৭৯৩; জামে তিরমিযী: ৩৮৫৫; সুনানে নাসাঈ: ১০১৯; সুনানে ইবন মাজাহ ১৩৪১; মুসনাদুল বাযযার ৩১৬০, ৭৯০৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৪১৭৮; মুসনাদুল হুমায়দী ২৮৪; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ২৯৯৩৭: সুনানে দারিমী: ১৫৩০)

মুসলিমের বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, তুমি যদি আমাকে দেখতে গত রাতে তোমার কুরআনপাঠ কী মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম।
كتاب الفضائل
باب استحباب تحسين الصوت بالقرآن وطلب القراءة من حسن الصوت والاستماع لها
1005 - وعن أَبي موسى الأَشعري - رضي الله عنه: أنَّ رسولَ الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لَهُ: «لَقدْ أُوتِيتَ مِزْمَارًا (1) مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ». متفقٌ عَلَيْهِ. (2)
وفي رواية لمسلمٍ: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لَهُ: «لَوْ رَأيْتَنِي وَأنَا أسْتَمِعُ لِقِراءتِكَ الْبَارِحَةَ».
হাদীস নং: ১০০৬
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর আওয়াজে কুরআন পাঠ করা সুমধুর সুরের ব্যক্তিকে কুরআন পড়তে বলা এবং মনোযোগ দিয়ে সেই তিলাওয়াত শোনা: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুর
১০০৬. হযরত বারা ইবন আযিব রাযি. বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইশার নামাযে সূরা তীন পড়তে শুনি। আমি তাঁর চেয়ে বেশি সুমধুর সুর আর কারও শুনিনি। -বুখারী ও মুসলিম (সহীহ বুখারী: ৭৬৯: সহীহ মুসলিম: ৪৬৪; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৩০৬৬)
كتاب الفضائل
باب استحباب تحسين الصوت بالقرآن وطلب القراءة من حسن الصوت والاستماع لها
1006 - وعن البَراءِ بنِ عازِبٍ رضي اللهُ عنهما، قَالَ: سَمِعْتُ النبيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَرَأَ فِي الْعِشَاءِ بالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ، فَمَا سَمِعْتُ أحَدًا أحْسَنَ صَوْتًا مِنْهُ. متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ১০০৭
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর আওয়াজে কুরআন পাঠ করা সুমধুর সুরের ব্যক্তিকে কুরআন পড়তে বলা এবং মনোযোগ দিয়ে সেই তিলাওয়াত শোনা: কুরআন মাজীদ সুর দিয়ে পড়ার গুরুত্ব
১০০৭. হযরত আবূ লুবাবা বাশীর ইবন আব্দুল মুনযির রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সুর দিয়ে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের একজন নয়। -আবু দাউদ (সহীহ বখারী: ৭৫২৭; সুনানে আবু দাউদ: ১৪৬৯; সুনানে ইবন মাজাহ ১৩৩৭; মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী: ১৯৮; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৪১৭০; মুসনাদুল হুমায়দী: ৭৬; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৮৭৩৮; মুসনাদে আহমাদ: ১৪৭৭; সুনানে দারিমী: ১৫৩১। মুসনাদুল বাযযার: ২০৪)
كتاب الفضائل
باب استحباب تحسين الصوت بالقرآن وطلب القراءة من حسن الصوت والاستماع لها
1007 - وعن أَبي لُبَابَةَ بشير بن عبد المنذر - رضي الله عنه: أنَّ النبيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالقُرْآنِ فَلَيْسَ مِنَّا». رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ. (1)
معنى «يَتَغَنَّى»: يُحَسِّنُ صَوْتَهُ بِالقُرْآنِ.
হাদীস নং: ১০০৮
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর আওয়াজে কুরআন পাঠ করা সুমধুর সুরের ব্যক্তিকে কুরআন পড়তে বলা এবং মনোযোগ দিয়ে সেই তিলাওয়াত শোনা: অন্যের মুখে কুরআন শ্রবণের আগ্রহ রাখা
১০০৮. হযরত ইবন মাস'উদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে কুরআন পড়ে শোনাও। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরই নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে পড়া শুনতে পছন্দ করি। সুতরাং আমি তাঁর সামনে সূরা নিসা পাঠ করতে লাগলাম। যখন আয়াত।فَكَيْفَ إِذَا جِثْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَ جِثْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدً পর্যন্ত পড়লাম, তখন তিনি বললেন, ব্যস যথেষ্ট। আমি তাঁর দিকে ফিরে তাকালাম। দেখলাম তাঁর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। -বুখারী ও মুসলিম (সহীহ বুখারী ৫০৫০; সহীহ মুসলিম: ৮০০; সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৬৮; জামে' তিরমিযী: ৩০২৫; মুসনাদুল বাযযার ১০৮০; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৮০২৪; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ৫০১৯; সহীহ ইবন হিব্বান ৭৩৫; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ৫৩৯৪; মুসনাদুল হুমায়দী: ১০১)
كتاب الفضائل
باب استحباب تحسين الصوت بالقرآن وطلب القراءة من حسن الصوت والاستماع لها
1008 - وعن ابن مسعودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ لِي النَّبيُّ - صلى الله عليه وسلم: «اقْرَأْ عَلَيَّ القُرْآنَ»، فقلتُ: يَا رسولَ الله، أَقْرَأُ عَلَيْكَ، وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ؟! قَالَ: «إنِّي أُحِبُّ أَنْ أسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي» فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُورَةَ النِّسَاءِ، حَتَّى جِئْتُ إِلَى هذِهِ الآية: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا} قَالَ: «حَسْبُكَ الآنَ» فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ، فَإذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ. متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ১০০৯
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠের প্রতি উৎসাহদান: সূরা ফাতিহার ফযীলত
১০০৯. হযরত আবু সা'ঈদ রাফে' ইবনুল মু'আল্লা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরাটি কি আমি তোমাকে শেখাব না? এই বলে তিনি আমার হাত ধরলেন। তারপর আমরা যখন বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি বলেছিলেন কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরাটি আমি তোমাকে অবশ্যই শেখাব। তিনি বললেন- ... الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ। এটি এমন সাত আয়াতবিশিষ্ট সূরা, যা বারবার পড়া হয় এবং এটি মহান কুরআন, যা আমাকে দেওয়া হয়েছে। -বুখারী (সহীহ বুখারী: ৫০০৬; সুনানে নাসাঈ: ৯১৩; সুনানে ইবন মাজাহ : ৩৭৮৬; মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী: ১৩৬২; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ৬৪৮২; সহীহ ইবন খুযায়মা: ৫০০; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার:১২০৬; তাবারানী, আল মুজামুল কাবীর:৭৬৮; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা:৩৯৩০)
كتاب الفضائل
باب الحث عَلَى سور وآيات مخصوصة
1009 - عن أَبي سَعِيدٍ رَافِعِ بن الْمُعَلَّى - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ لي رسولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلاَ أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ في القُرْآن قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ؟» فَأخَذَ بِيَدِي، فَلَمَّا أرَدْنَا أَنْ نَخْرُجَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إنَّكَ قُلْتَ: لأُعَلِّمَنَّكَ أعْظَمَ سُورَةٍ في القُرْآنِ؟ قَالَ: «الحَمْدُ للهِ رَبِّ العَالَمِينَ، هِيَ السَّبْعُ المَثَانِي وَالقُرْآنُ العَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ». رواه البخاري. (1)
হাদীস নং: ১০১০
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠের প্রতি উৎসাহদান: সূরা ইখলাসের ফযীলত
১০১০. হযরত আবু সা'ঈদ খুদরী রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম قُلْ هُوَ اللَّهُ اَحَدٌ সম্পর্কে ইরশাদ করেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! নিশ্চয়ই এ সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে বলেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়তে অক্ষম? বিষয়টি তাদের কাছে কঠিন মনে হলো। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে কে এটা পারবে? তিনি বললেন, قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدَّ اللهُ الصَّمَدُ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ। -বুখারী (সহীহ বুখারী: ৫০১৩; সুনানে আবূ দাউদ: ১৪৬১; সুনানে নাসাঈ : ৯৯৫; মুসনাদে আবু ইয়া'লা : ১৫৪৮; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার: ১২১৮; সহীহ ইবন হিব্বান : ৭৯১; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ৪৭৬৩; শু'আবুল ঈমান: ২৩০১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১২০৯)
كتاب الفضائل
باب الحث عَلَى سور وآيات مخصوصة
1010 - وعن أَبي سعيد الخدري - رضي الله عنه: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ في: {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ}: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ القُرْآنِ».
وفي روايةٍ: أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لأَصْحَابِهِ: «أَيَعْجِزُ أحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ بِثُلُثِ القُرْآنِ فِي لَيْلَةٍ» فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ، وَقَالُوا: أيُّنَا يُطِيقُ ذَلِكَ يَا رسولَ الله؟ فَقَالَ: «{قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ اللهُ الصَّمَدُ}: ثُلُثُ الْقُرْآنِ». رواه البخاري. (1)