বাবা-মায়ের সেবা না করা সন্তানকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করার শরঈ হুকুম
প্রশ্নঃ ১৬২২৫৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন এক বাপে চার ছেলে ৪ ছেলের মধ্যে তিন ছেলে বাবা মা কে দেখাশোনা করে আর এক ছেলে বাবা মা কে দেখাশোনা করে না অসুখে পড়ে থাকলেও খোঁজ খবর নেই না, তাকে কি তাকে জমির ভাগ দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা যাবে?
২২ জুলাই, ২০২৬
৭৩২J+FVP
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মা-বাবার সেবা-শুশ্রূষা করা এবং অসুস্থতায় পাশে থাকা প্রত্যেক সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী দায়িত্ব। কোনো সন্তান যদি পিতা-মাতার যত্ন না নেয় বা খোঁজ-খবর না রাখে, তবে সে আল্লাহর কাছে কঠোর গুনাহগার হবে এবং পিতা-মাতার অবাধ্যতার কারণে অপরাধী হবে।
তবে মা-বাবার সেবায় অবহেলা করার কারণে ইসলামী শরীয়তে তাকে সন্তান হিসেবে বা ওয়ারিশ হিসেবে একেবারে বাতিল গণ্য করার সুযোগ নেই।
বাবা-মা জীবিত অবস্থায় তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি থেকে কোনো বিশেষ কারণে সন্তানদের কাউকে বেশি বা কম দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। যেমন কোন সন্তান পিতা-মাতার সেবা করার কারণে তাকে কিছু সম্পদ পিতা-মাতা জীবিতদশায় হিবা করে দিতে পারেন। তবে শুধু এই কারণে যে কোনো সন্তান বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেয় না, তাই তাকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সমস্ত সম্পদ অন্য সন্তানদের দিয়ে দেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক উচিত নয়। হাদীসে সন্তানদের মধ্যে কোন কিছু বা সম্পদ হিবা (দান) করার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাদীসে এসেছে,
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، وَهُوَ عَلَى المِنْبَرِ يَقُولُ: أَعْطَانِي أَبِي عَطِيَّةً، فَقَالَتْ عَمْرَةُ بِنْتُ رَوَاحَةَ: لاَ أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنِّي أَعْطَيْتُ ابْنِي مِنْ عَمْرَةَ بِنْتِ رَوَاحَةَ عَطِيَّةً، فَأَمَرَتْنِي أَنْ أُشْهِدَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «أَعْطَيْتَ سَائِرَ وَلَدِكِ مِثْلَ هَذَا؟» ، قَالَ: لاَ، قَالَ: «فَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلاَدِكُمْ» ، قَالَ: فَرَجَعَ فَرَدَّ عَطِيَّتَهُ
অর্থ: আমীর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নু‘মান ইবনে বশীর (রাযিঃ)-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সাক্ষী রাখা ছাড়া (এ দানে) সম্মত নই। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে হাযির হয়ে আরয করলেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। কিন্তু ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমাকে বলেছে, আপনাকে সাক্ষী রাখতে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার সব ছেলেকেই কি এ ধরনের দান করেছ?" তিনি (বশীর) বললেন, "না।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা করো।" (নু’মান রাযিঃ) বলেন, এরপর তিনি ফিরে এসে তার দান প্রত্যাহার করলেন।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ২৫৮৭]
হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/2416
মৃত্যুর পর মিরাসের বিধান:
আর পিতা-মাতা ইন্তেকাল করার সময় তাঁদের মালিকানায় যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে, তা মিরাস হিসেবে শরয়ি ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হবে। তখন কোনো সন্তান পিতা-মাতার সেবা করেনি—এই কারণে তাকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অন্য ওয়ারিশরাও তার অংশ কমিয়ে দিতে পারবেন না।
ফিকহী কিতাবের রেফারেন্স :
يُكْرَهُ تَفْضِيلُ بَعْضِ الْأَوْلَادِ عَلَى الْبَعْضِ فِي الْهِبَةِ حَالَةَ الصِّحَّةِ إلَّا لِزِيَادَةِ فَضْلٍ لَهُ فِي الدِّينِ وَإِنْ وَهَبَ مَالَهُ كُلَّهُ الْوَاحِدِ جَازَ قَضَاءً وَهُوَ آثِمٌ كَذَا فِي الْمُحِيطِ ...... وَفِي الْخُلَاصَةِ الْمُخْتَارُ التَّسْوِيَةُ بَيْنَ الذَّكَرِ وَالْأُنْثَى فِي الْهِبَةِ وَلَوْ كَانَ وَلَدُهُ فَاسِقًا فَأَرَادَ أَنْ يَصْرِفَ مَالَهُ إلَى وُجُوهِ الْخَيْرِ وَيَحْرِمَهُ عَنْ الْمِيرَاثِ هَذَا خَيْرٌ مِنْ تَرْكِهِ لِأَنَّ فِيهِ إعَانَةً عَلَى الْمَعْصِيَةِ
অর্থ: সুস্থ অবস্থায় দান-সংক্রান্ত বিষয়ে এক সন্তানকে অন্য সন্তানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া মাকরুহ; তবে যদি সেই সন্তানের দ্বীনদারী ও ফযীলত বেশি থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। আর যদি কেউ তার সমস্ত সম্পত্তি একজনকেই দান করে দেয়, তবে বিচারিক দৃষ্টিতে (আইনগতভাবে) তা কার্যকর হয়ে যাবে কিন্তু উক্ত ব্যক্তি (পিতা) গুনাহগার হবে... এবং 'আল-খালাসা' কিতাবে রয়েছে যে, পছন্দের মত হলো দানের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখা। তবে সন্তান যদি স্পষ্ট ফাসিক (পাপী) হয় এবং পিতা তার সম্পদ ভালো বা দ্বীনী কাজে খরচ করে তাকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করতে চায়, তবে তাকে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে এটি উত্তম; কারণ পাপী সন্তানকে সম্পদ দেওয়া পাপের কাজে সহযোগিতা করার শামিল। (আল-বাহরুর রায়েক: ৭/২৮৮)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১