আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

১৩. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১০২ টি

হাদীস নং: ২২৫৩
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫৩. হযরত মাকিল ইবন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সূরা বাকারা হল কুরআনের চূড়া স্বরূপ। এ সূরার প্রতিটি আয়াতের সাথে আশিজন করে ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়েছে, আর আয়াতুল কুরসীকে আরশের নীচ থেকে বের করে এনে এর সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অথবা বলেছেনঃ সূরা বাকারার সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সূরা ইয়াসীন হল কুরআনের কলব বা হৃদয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাত দিবসের পুণ্যের আশায় তা পাঠ করবে, তার সকল গুনাহ মার্জনা করে দেয়া হবে।
(হাদীসটি আহমদ জনৈক ব্যক্তির সূত্রে মাকিল থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ শুধু সূরা ইয়াসীনের প্রসঙ্গটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2253- وَعَن معقل بن يسَار رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الْبَقَرَة سَنَام الْقُرْآن وذروته نزل مَعَ كل آيَة مِنْهَا ثَمَانُون ملكا واستخرجت الله لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْحَيّ القيوم الْبَقَرَة 552 من تَحت الْعَرْش فوصلت بهَا أَو فوصلت بِسُورَة الْبَقَرَة وَيس قلب الْقُرْآن لَا يقْرؤهَا رجل يُرِيد الله وَالدَّار الْآخِرَة إِلَّا غفر لَهُ

رَوَاهُ أَحْمد عَن رجل عَن معقل وروى أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه مِنْهُ ذكر يس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫৪
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫৪. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরাঈল (আ) নবী করীম (ﷺ) -এর নিকট বসা ছিলেন। হঠাৎ তিনি উপর থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেলেন। তিনি তখন মাথা উঠালেন। তারপর বললেন, এটি আসমানের একটি দরজা, যা কেবল আজই খোলা হয়েছে। এর পূর্বে তা আর কোনদিন খোলা হয়নি। অতঃপর সে দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতরণ করল। জিবরাঈল বললেন, ইনি এমন একজন ফিরিশতা, যিনি আজই কেবল পৃথিবীতে অবতরণ করল, এর আগে সে পৃথিবীতে কখনও অবতরণ করেন নি। তারপর ফিরিশতা সালাম করলেন এবং বললেন, আপনি দু'টি নূরের* সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকেই কেবল প্রদান করা হয়েছে। আপনার পূর্বে কোন নবীকে তা দেয়া হয়নি। এ দু'টি হল সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। আপনি এ দু'টির যে কোন অক্ষর পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেয়া হবে।
(হাদীসটি মুসলিম, নাসাঈ ও হাকিম বর্ণনা করেছেন। এটি পূর্বেও বর্ণিত হয়েছে।)

*জ্যোতির।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2254- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا جِبْرَائِيل عَلَيْهِ السَّلَام قَاعد عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سمع نقيضا من فَوْقه فَرفع رَأسه فَقَالَ هَذَا بَاب من السَّمَاء فتح لم يفتح قطّ إِلَّا الْيَوْم فَنزل مِنْهُ ملك فَقَالَ هَذَا ملك نزل إِلَى الأَرْض لم ينزل قطّ إِلَّا الْيَوْم فَسلم وَقَالَ
أبشر بنورين أُوتِيتهُمَا لم يؤتهما نَبِي قبلك فَاتِحَة الْكتاب وخواتيم سُورَة الْبَقَرَة لن تقْرَأ بِحرف مِنْهُمَا إِلَّا أَعْطيته

رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَالْحَاكِم وَتقدم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫৫
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫৫. হযতর আবু উমামা বাহিলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা এ কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সূরা অর্থাৎ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠ কর। কেননা এ দু'টি সূরা কিয়ামতের দিন এমনভাবে আসবে যেন দু'টি মেঘখণ্ড অথবা দু'টি সামিয়ানা অথবা পক্ষ প্রসারিত দুটি পাখির ঝাঁক। এরা তাদের পাঠকদের জন্য জোর সুপারিশ করবে। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ কর। কেননা এর অর্জন বরকতের কারণ হবে আর এর বর্জন আক্ষেপের কারণ হবে। আর লোকেরা এর মুকাবিলা করতে পারবে না। মু'আবিয়া ইবন সালাম বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে بطلة শব্দের অর্থ যাদুকর।
(হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2255- وَعَن أبي أُمَامَة الْبَاهِلِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اقرؤوا الْقُرْآن فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْم الْقِيَامَة شَفِيعًا لاصحابه
اقرؤوا الزهراوين الْبَقَرَة وَسورَة آل عمرَان فَإِنَّهُمَا يأتيان يَوْم الْقِيَامَة كَأَنَّهُمَا غمامتان أَو غيايتان أَو كَأَنَّهُمَا فرقان من طير صواف تحاجان عَن أصحابهما اقرؤوا سُورَة الْبَقَرَة فَإِن أَخذهَا بركَة وَتركهَا حسرة وَلَا تستطيعها البطلة
قَالَ مُعَاوِيَة بن سَلام بَلغنِي أَن البطلة السَّحَرَة

رَوَاهُ مُسلم
হাদীস নং: ২২৫৬
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫৬. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক বস্তুর একটি চূড়া রয়েছে। আর কুরআনের চূড়া হল সূরা বাকারা। এতে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যা কুরআনের আয়াতকূলের শিরোমণি।
(হাদীসটি তিরমিযী হাকীম ইব্‌ন জুবায়র... আবু সালিহ... আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব।
হাকিমও এটি উপরোক্ত সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এভাবে বলেছেনঃ সূরা বাকারার এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কুরআনের আয়াতকূলের শিরোমণি। কোন ঘরে শয়তান থাকলে সেখানে এ আয়াত পাঠ করামাত্র সে অবশ্যই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। সেটি হল আয়াতুল কুরসী। হাকীম বলেন, হাদীসটি সহীহ সনদবিশিষ্ট।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2256- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لكل شَيْء سَنَام وَإِن سَنَام الْقُرْآن سُورَة الْبَقَرَة وفيهَا آيَة هِيَ سيدة آي الْقُرْآن

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن حَكِيم بن جُبَير عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة وَقَالَ حَدِيث غَرِيب

وَرَوَاهُ الْحَاكِم من هَذِه الطَّرِيق أَيْضا وَلَفظه سُورَة الْبَقَرَة فِيهَا آيَة سيدة آي الْقُرْآن لَا تقْرَأ فِي بَيت وَفِيه شَيْطَان إِلَّا خرج مِنْهُ آيَة الْكُرْسِيّ
وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫৭
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫৭. হযরত সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক জিনিসের একটি চূড়া রয়েছে। আর কুরআনে চূড়া হল সূরা বাকারা। যে ব্যক্তি রাতের বেলা এ সূরাটি তার ঘরে পাঠ করবে, তিনরাত পর্যন্ত তার ঘরে শয়তান প্রবেশ করবে না। আর যে ব্যক্তি দিনের বেলায় তা পাঠ করবে, তিনদিন পর্যন্ত শয়তান তার ঘরে প্রবেশ করবে না। হাদীসটি ইবন হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2257- وَعَن سهل بن سعد رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن لكل شَيْء سناما وَإِن سَنَام الْقُرْآن سُورَة الْبَقَرَة من قَرَأَهَا فِي بَيته لَيْلًا لم يدْخل الشَّيْطَان بَيته ثَلَاث لَيَال وَمن قَرَأَهَا نَهَارا لم يدْخل الشَّيْطَان بَيته ثَلَاثَة أَيَّام

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫৮
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫৮. হযরত আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরে সূরা বাকারা পাঠ কর। কেননা যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না।
(হাদীসটি হাকিম মওকুফ'রূপে এভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি বুখারী-মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। হাকিম এ হাদীসটি যাইদা... আসিম ইব্‌ন আবুন নাজওয়াদ... আবুল আহওয়াস আবদুল্লাহ (রা) সূত্রে মারফু'রূপে বর্ণনা করেন।
(হাফিয বলেন)। এ সনদটি পূর্বের সনদের চেয়ে উত্তম। আল্লাহই ভাল জানেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2258 - وَعَن عبد الله رَضِي الله عَنهُ قَالَ اقرؤوا سُورَة الْبَقَرَة فِي بُيُوتكُمْ فَإِن الشَّيْطَان لَا يدْخل بَيْتا يقْرَأ فِيهِ سُورَة الْبَقَرَة

رَوَاهُ الْحَاكِم مَوْقُوفا هَكَذَا وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا

وَرَوَاهُ عَن زَائِدَة عَن عَاصِم بن أبي النجُود عَن أبي الْأَحْوَص عَن عبد الله فرفعه

قَالَ الْحَافِظ وَهَذَا إِسْنَاد حسن بِمَا تقدم وَالله أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫৯
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫৯. হযরত উসায়দ ইবন হুযায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমি রাত্রি বেলায় সূরা বাকারা পাঠ করছিলাম, হঠাৎ পিছন দিক থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেলাম। আমি মনে করলাম, আমার ঘোড়াটি বুঝি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আতীকের বাবা। তুমি পড়তে থাকতে। উসায়দ বলেন, আমি পিছনে তাকিয়ে দেখলাম একটি প্রদীপের মত কি যেন আসমান-যমীনের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বারবার বলতে লাগলেন, হে আতীকের বাবা। তুমি পড়তে থাকতে। তিনি শেষে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পাঠ অব্যাহত রাখতে পারলাম না। রাসূলুল্লাহ তখন বললেন, এরা হল ফিরিশতার দল, সূরা বাকারা পাঠের কারণে এরা অবতরণ করেছিল। শুনে রাখ। তুমি যদি পাঠ অব্যাহত রাখতে, তাহলে অনেক আশ্চর্য ব্যাপার-স্যাপার তুমি দেখতে পেতে।
(হাদীসটি ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বুখারী-মুসলিমও এটি হযরত আবু সাঈদ (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন- যা ইতিপূর্বে এসেছে।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2259- وَعَن أسيد بن حضير رَضِي الله عَنهُ أَنه قَالَ يَا رَسُول الله بَيْنَمَا أَنا أَقرَأ اللَّيْلَة سُورَة الْبَقَرَة إِذْ سَمِعت وجبة من خَلْفي فَظَنَنْت أَن فرسي انْطلق فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم اقْرَأ أَبَا عتِيك فَالْتَفت فَإِذا مثل الْمِصْبَاح مدلى بَين السَّمَاء وَالْأَرْض وَرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اقْرَأ أَبَا عتِيك فَقَالَ يَا رَسُول الله فَمَا اسْتَطَعْت أَن أمضي فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تِلْكَ الْمَلَائِكَة تنزلت لقِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة أما إِنَّك لَو مضيت لرأيت الْعَجَائِب

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم من حَدِيث أبي سعيد بِنَحْوِهِ وَتقدم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬০
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৬০. হযরত নাওয়াস ইব্‌ন সাম'আন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন কুরআন এবং কুরআনের ঐ সকল পাঠকদের উপস্থিত করা হবে, যারা দুনিয়ায় এর উপর আমল করত। এর আগে থাকবে সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ সূরাদ্বয়ের তিনটি উদাহরণ দিয়েছেন, যা আমি এখনো ভুলি নাই। তিনি বলেছেনঃ এগুলো হবে যেমন দু'টি মেঘখণ্ড অথবা কালো দু'টি সামিয়ানা যার সামনে রয়েছে আলোকচ্ছটা। অথবা এগুলো যেন পক্ষ প্রসারিত দু'টি পাখির ঝাঁক। এরা তাদের পাঠকদের জন্য জোর সুপারিশ করবে।
(হাদীসটি মুসলিম ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান-গরীব। আলিমদের মতে এ হাদীসটির অর্থ হল কিয়ামতের দিন কুরআন পাঠের পুণ্য উপস্থিত হবে। তাঁরা এ হাদীসটিরও এ ধরনের অন্যান্য হাদীসের এ ব্যাখ্যাই করেছেন। উপরে উল্লেখিত নাওওয়াসের হাদীসেও এ ব্যাখ্যার প্রমাণ রয়েছে। কেননা হাদীসটিতে বলা হয়েছেঃ "যে সকল কুরআন পাঠকারী এর উপর আমল করত।" তাই অর্থ হবে, এই আমলের পুণ্য সেখানে উপস্থিত হবে।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2260- وَعَن النواس بن سمْعَان رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول يُؤْتى بِالْقُرْآنِ يَوْم الْقِيَامَة وَأَهله الَّذين كَانُوا يعْملُونَ بِهِ فِي الدُّنْيَا تقدمه سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَضرب لَهما رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثَلَاثَة أَمْثَال مَا نسيتهن بعد
قَالَ كَأَنَّهُمَا غمامتان أَو ظلتان سودوان بَينهمَا شَرق أَو كَأَنَّهُمَا فرقان من طير صواف يحاجان عَن صَاحبهمَا

رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
وَمعنى هَذَا الحَدِيث عِنْد أهل الْعلم أَنه يَجِيء ثَوَاب قِرَاءَته كَذَا فسر بعض أهل الْعلم هَذَا الحَدِيث وَمَا يشبه من الْأَحَادِيث أَنه يَجِيء ثَوَاب قِرَاءَة الْقُرْآن وَفِي حَدِيث نواس يَعْنِي هَذَا مَا يدل على مَا فسروا إِذْ قَالَ وَأَهله الَّذين كَانُوا يعْملُونَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَفِي هَذَا دلَالَة على أَنه يَجِيء ثَوَاب الْعَمَل انْتهى
হাদীস নং: ২২৬১
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৬১. ইবন বুরায়দা সূত্রে তাঁর পিতা হযরত বুরায়দা (রা) থেকে মারফু'রূপে বর্ণিত যে, তোমরা সূরা বাকারা ও আলে ইমরান শিক্ষা কর। কেননা এ দু'টি হল প্রদীপ্ত দু'টি বস্তু, এরা তাদের পাঠকারীদের উপর কিয়ামতের দিন মেঘখণ্ডের মত অথবা সামিয়ানার মত অথবা পক্ষ প্রসারিত পাখির ঝাঁকের মত ছায়া বিস্তার করবে।
(হাদীসটি হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2261- وَعَن ابْن بُرَيْدَة عَن أَبِيه رَضِي الله عَنهُ مَرْفُوعا تعلمُوا الْبَقَرَة وَآل عمرَان فَإِنَّهُمَا الزهراوان يظلان صَاحبهمَا يَوْم الْقِيَامَة كَأَنَّهُمَا غمامتان أَو غيايتان أَو فرقان من طير صواف

رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬২
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৬২. হযরত নুমান ইবন বশীর (রা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ আসমান-যমীন সৃষ্টির দু'হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। এ কিতাবের দু'টি আয়াত নাযিল করে তিনি সূরা বাকারা সমাপ্ত করেছেন। যে বাড়িতে তিন দিন এই আয়াত দু'টি পাঠ করা হবে, শয়তান এ বাড়ির কাছেও আসবে না।
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা তাঁরই। তিনি বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান-গরীব। নাসাঈ এবং ইবন হিব্বানও এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনাটি হল এইঃ "যে বাড়িতে এ আয়াত দু'টি পাঠ করা হবে, তিন রাত পর্যন্ত শয়তান সে বাড়ির ধারেও আসবে না।" হাকিম বলেন, হাদীসটি মুসলিমের মাপকাঠিতে সহীহ।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2262- وَعَن النُّعْمَان بن بشير رَضِي الله عَنْهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الله كتب كتابا قبل أَن يخلق السَّمَوَات وَالْأَرْض بألفي عَام أنزل مِنْهُ آيَتَيْنِ ختم بهما سُورَة الْبَقَرَة لَا يقرآن فِي دَار ثَلَاث لَيَال فيقربها شَيْطَان

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم إِلَّا أَن عِنْده وَلَا يقرآن فِي بَيت فيقربه شَيْطَان ثَلَاث لَيَال
وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬৩
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৬৩. হযরত আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ সূরা বাকারাকে এমন দু'টি আয়াত দ্বারা সমাপ্ত করেছেন, যেগুলো তিনি আরশের নীচের ভাণ্ডার থেকে আমাকে দান করেছেন। অতএব তোমরা এগুলো শিক্ষা কর এবং নিজেদের মহিলাদেরকে ও সন্তানদেরকেও শিক্ষা দাও। কেননা এ দু'টি একাধারে নামায, কুরআন এবং দু'আও।
(হাদীসটি হাকীম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃঃ এটি বুখারীর শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
(হাফিয) বলেনঃ মু'আবিয়া ইবন সালিহ-এর নাম বুখারী প্রমাণ স্বরূপ উপস্থাপিত করেন না। অবশ্য মুসলিম তাঁকে প্রামাণ্য জ্ঞান করেন। এ ব্যাপারে আলোচনা সামনে আসবে। এ হাদীসটি আবু দাউদ তাঁর 'মারাসীল' সংকলনে জুবায়র ইবন নুফায়র সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2263- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الله ختم سُورَة الْبَقَرَة بآيتين أعطانيهما من كنزه الَّذِي تَحت الْعَرْش فتعلموهن وعلموهن نساءكم وأبناءكم فَإِنَّهُمَا صَلَاة وَقُرْآن وَدُعَاء

رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط البُخَارِيّ
قَالَ الْحَافِظ مُعَاوِيَة بن صَالح لم يحْتَج بِهِ البُخَارِيّ إِنَّمَا احْتج بِهِ مُسلم وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد فِي مراسيله عَن جُبَير بن نفير
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬৪
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৬৪. হযরত উবায়দ ইবন উমায়ার (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি হযরত আয়েশা (রা)-কে বলেছিলেনঃ আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কি ব্যাপারটি দেখেছেন তা আমাদেরকে বলুন। উবায়দ বলেন, তিনি কতক্ষণ চুপ করে থাকলেন। অতঃপর বললেন, কোন এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আয়েশা। আমাকে ছেড়ে দাও, আমি আজকের রাতটি আমার প্রতিপালকের ইবাদতে কাটিয়ে দেই। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ। আমি আপনার সান্নিধ্যও ভালবাসি এবং আপনি যে জিনিসে খুশি হন, তাও পসন্দ করি। আয়েশা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন উঠে উযূ করলেন। তারপর সালাতে প্রবৃত্ত হলেন। হযরত আয়েশা বলেন, তিনি (সালাতে) কাঁদতে থাকলেন, এমনকি তিনি তাঁর কোল ভিজিয়ে ফেললেন। তিনি বসা ছিলেন, আবার কাঁদতে থাকলেন, এমনকি দাঁড়ি ভিজিয়ে ফেললেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আবারও কাঁদতে থাকলেন, এমনকি মাটি ভিজিয়ে ফেললেন। এমন সময় বিলাল (রা) তাঁকে (ফজরের) সালাতের ইত্তিলা দিতে আসলেন। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে কান্নারত অবস্থায় দেখতে গেলেন, তখন বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আপনি কাঁদছেন। অথচ আল্লাহ্ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না? আজ রাতে আমার প্রতি এমন একটি আয়াত নাযিল হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে অথচ এতে চিন্তা-গবেষণা করবে না, তার জন্য ধ্বংস রয়েছে। আয়াতটি হলঃ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ "নিশ্চয়ই আসমান-যমীনের সৃজনে জ্ঞানীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে
(হাদীসটি ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2264- وَعَن عبيد بن عُمَيْر رَضِي الله عَنهُ أَنه قَالَ لعَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا أَخْبِرِينَا بِأَعْجَب شَيْء رَأَيْته من رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ فَسَكَتَتْ ثمَّ قَالَت لما كَانَ لَيْلَة من اللَّيَالِي قَالَ يَا عَائِشَة ذَرِينِي أَتَعبد اللَّيْلَة لرَبي
قلت وَالله إِنِّي أحب قربك وَأحب مَا يَسُرك
قَالَت فَقَامَ فَتطهر ثمَّ قَامَ يُصَلِّي
قَالَت فَلم يزل يبكي حَتَّى بل حجره
قَالَت وَكَانَ جَالِسا فَلم يزل يبكي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى بل لحيته
قَالَت ثمَّ بَكَى حَتَّى بل الأَرْض فجَاء بِلَال يُؤذنهُ بِالصَّلَاةِ فَلَمَّا رَآهُ يبكي قَالَ يَا رَسُول الله تبْكي وَقد غفر الله لَك مَا تقدم من ذَنْبك وَمَا تَأَخّر قَالَ أَفلا أكون عبدا شكُورًا
لقد نزلت عَليّ اللَّيْلَة آيَة ويل لمن قَرَأَهَا وَلم يتفكر فِيهَا إِن فِي خلق السَّمَوَات وَالْأَرْض الْبَقَرَة 461 الْآيَة كلهَا

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَغَيره
হাদীস নং: ২২৬৫
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৬৫. ইবন আবুদ-দুনিয়া সুফিয়ান সূত্রে মারফু'রূপে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করল, অথচ এতে চিন্তা-গবেষণা করল না, তার জন্য ধ্বংস। এই বলে তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা দশবার গণনা করলেন।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2265- وروى ابْن أبي الدُّنْيَا عَن سُفْيَان يرفعهُ قَالَ من قَرَأَ آخر آل عمرَان وَلم يتفكر فِيهَا ويله فعد بأصابعه عشرا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬৬
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ আয়াতুল কুরসী পাঠের প্রতি উৎসাহ দান ও এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৬৬. হযরত আবূ আইয়ূব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর একটি খেজুরের গোলা ছিল আর রাক্ষস এসে এখান থেকে কিছু নিয়ে যেত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যাও তুমি যখন তাকে দেখবে, তখন বলবে "আল্লাহর নামে, আল্লাহর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও।" আবু আইয়ূব একদিন এভাবে তাকে ধরে ফেললেন। সে তখন শপথ করে বলল যে, সে আর কখনও ফিরে আসবে না। আবু আইয়ূব তাকে ছেড়ে দিলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর-এর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার বন্দীটির কি হল? তিনি বললেন, সে শপথ করে বলেছে যে, আর কখনও ফিরে আসবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে মিথ্যা বলেছে আর মিথ্যায় সে খুবই অভ্যস্ত। বর্ণনাকারী বলেন, আবু আইয়ূব দ্বিতীয়বার তাকে ধরে ফেললেন। সে আবারও শপথ করে বলল, যে আর আসবে না। তাই তিনি এবারও তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার বন্দীটির কি হল? তিনি বললেন, সে শপথ করে বলেছে যে, আর কখনো ফিরে আসবে না। রাসূলুল্লাহ বললেন, সে মিথ্যা বলেছে আর মিথ্যায় সে খুবই পটু। আবু আইয়ুব আরেকদিন তাকে ধরে ফেললেন এবং বললেন, আজ আর তোমাকে নবী করীম (ﷺ) -এর কাছে না নিয়ে ছাড়ব না। সে তখন বলল, আমি তোমাকে একটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি। তুমি তোমার ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, এতে শয়তান বা অন্য কিছু তোমার কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। এরপর আবু আইয়ূব নবী করীম- (ﷺ) এর নিকট আসলেন। তিনি বললেন, তোমার বন্দীটির কি হল ? তখন তিনি রাক্ষস যা বলেছিল তা তাঁকে খুলে বললেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে সত্য বলেছে- যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী।
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি হাসান-গরীব হাদীস। ইতিপূর্বে 'শয্যা গ্রহণের সময় কি দু'আ পাঠ করবে' শিরোনামে আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে এ ধরনের হাদীস অতিবাহিত হয়েছে। আয়াতুল কুরসীর ফযীলত প্রসঙ্গে 'নামায়ের পর কি দু'আ পাঠ করবে' শিরোনামে আরও অনেক হাদীস আসবে। ইন্‌শা আল্লাহ্।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة آيَة الْكُرْسِيّ وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2266- عَن أبي أَيُّوب الْأنْصَارِيّ رَضِي الله عَنهُ أَنه كَانَت لَهُ سهوة فِيهَا تمر وَكَانَت تَجِيء الغول فتأخذ مِنْهُ
قَالَ فَشَكا ذَلِك إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
فَقَالَ اذْهَبْ فَإِذا رَأَيْتهَا فَقل باسم الله أجيبي رَسُول الله قَالَ فَأَخذهَا فَحَلَفت أَن لَا تعود فأرسلها فجَاء إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ مَا فعل
أسيرك قَالَ حَلَفت أَن لَا تعود
قَالَ كذبت وَهِي معاودة للكذب
قَالَ فَأَخذهَا مرّة أُخْرَى فَحَلَفت أَن لَا تعود فأرسلها فجَاء إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ مَا فعل أسيرك قَالَ حَلَفت أَن لَا تعود فَقَالَ كذبت وَهِي معاودة للكذب فَأَخذهَا فَقَالَ مَا أَنا بتاركك حَتَّى أذهب بك إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَت إِنِّي ذاكرة لَك شَيْئا آيَة الْكُرْسِيّ اقرأها فِي بَيْتك فَلَا يقربك شَيْطَان وَلَا غَيره فجَاء إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ مَا فعل أسيرك قَالَ فَأخْبرهُ بِمَا قَالَت
قَالَ صدقت وَهِي كذوب

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَتقدم حَدِيث أبي هُرَيْرَة فِيمَا يَقُوله إِذا أَوَى إِلَى فرَاشه وَسَتَأْتِي أَحَادِيث فِي فَضلهَا فِيمَا يَقُوله دبر الصَّلَوَات إِن شَاءَ الله
হাদীস নং: ২২৬৭
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ আয়াতুল কুরসী পাঠের প্রতি উৎসাহ দান ও এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৬৭. হযরত উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁর পিতা বলেছেনঃঃ যে, তাঁদের খেজুর শুকানোর একটি খলা ছিল। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করতেন যে, এখান থেকে কিছু খেজুর কমে যায়। এক রাতে তিনি এ স্থানটি পাহারা দিলেন। তাতে দেখতে পেলেন তরুণ বয়সী ছেলের মত একটি প্রাণী। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে সালাম দিলেন। সেও সালামের উত্তর দিল। আমি বললাম, তুমি কি মানুষ না জিন্ন? সে বলল, জিন্ন। আমি বললাম, তোমার হাতটি আমাকে একটু দেখাও তো। দেখি কী, তার হাতটি কুকুরের হাতের মত আর চুলও কুকুরের চুলের মত। আমি বললাম, এটাই কি জিন্নদের আকৃতি? সে তখন বলল, জিন্নকূলে সুবিদিত যে, তাদের মধ্যে আমার চেয়ে শক্তিশালী আর কেউই নেই। আমি বললাম, তোমাকে এ কাজ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো? সে বলল, আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি দান-খয়রাত খুব পসন্দ কর। তাই তোমার এ খাদ্য থেকে কিছু হাতিয়ে নেয়া আমি পসন্দ করলাম। আমি বললাম, তোমাদের থেকে কিসে আমাদেরকে হিফাযত করতে পারে? সে বলল, এ আয়াতটি অর্থাৎ আয়াতুল কুরসী। তারপর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। এরপর আমার পিতা প্রত্যুষে উঠে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট গেলেন এবং ঘটনাটি বললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দুষ্টটি সত্য কথাই বলেছে।
(হাদীসটি ইব্‌ন হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং অন্যরাও বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة آيَة الْكُرْسِيّ وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2267- وَعَن أبي بن كَعْب رَضِي الله عَنهُ أَن أَبَاهُ أخبرهُ أَنه كَانَ لَهُم جرين فِيهِ تمر وَكَانَ مِمَّا يتَعَاهَد فيجده ينقص فحرسه ذَات لَيْلَة فَإِذا هُوَ بِدَابَّة كَهَيئَةِ الْغُلَام المحتلم
قَالَ فَسلم فَرد عَلَيْهِ السَّلَام فَقلت مَا أَنْت جن أم إنس قَالَ جن فَقلت ناولني يدك فَإِذا يَد كلب وَشعر كلب فَقلت هَذَا خلق الْجِنّ فَقَالَ لقد علمت الْجِنّ أَن مَا فيهم من هُوَ أَشد مني فَقلت مَا يحملك على مَا صنعت قَالَ بَلغنِي أَنَّك تحب الصَّدَقَة فَأَحْبَبْت أَن أُصِيب من طَعَامك فَقلت مَا الَّذِي يحرزنا مِنْكُم قَالَ هَذِه الْآيَة آيَة الْكُرْسِيّ
قَالَ فتركته وَغدا أبي إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأخْبرهُ فَقَالَ صدق الْخَبيث

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَغَيره
হাদীস নং: ২২৬৮
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ আয়াতুল কুরসী পাঠের প্রতি উৎসাহ দান ও এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৬৮. হযরত উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে আবুল মুনযির। বলতে পার কি তোমার নিকট রক্ষিত কুরআনের শ্রেষ্ঠতর আয়াত কোনটি? আমি বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি আবার বললেন, হে আবুল মুনযির। তোমার কাছে কুরআনের কোন্ আয়াতটি শ্রেষ্ঠতর? আমি বললাম, "আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হায়্যুল কায়্যুম।" উবাই বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তখন আমার বক্ষে হাত মারলেন এবং বললেন, হে আবুল মুনযির। ইলম তোমার জন্য মুবারক হোক।
(হাদীসটি মুসলিম ও আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন। আহমদ এবং ইব্‌ন আবূ শায়বা এটি তাঁর কিতাবে মুসলিমের সনদেই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ অংশটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ ঐ সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন। এই আয়াতটির একটি জিহ্ববা ও দু'টি ঠোঁট রয়েছে, যেগুলো আরশের পায়ার কাছে মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত এ হাদীসটি আগেও এসেছে। প্রত্যেক জিনিসের একটি চূড়া রয়েছে আর কুরআনের চূড়া হল সূরা বাকারা। আর এতে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যা কুরআনের আয়াতকুলের শিরোমণি। হাকিমের শব্দমালা হল এইঃ
সূরা বাকারায় একটি আয়াত রয়েছে, যা কুরআনের আয়াতকূলের শিরোমণি। এ আয়াতটি কোন ঘরে পাঠ করা হলে এ ঘরে শয়তান থাকলে বেরিয়ে যায়। আয়াতটি হল আয়াতুল কুরসী।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة آيَة الْكُرْسِيّ وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2268 - وَعَن أبي بن كَعْب رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَا أَبَا الْمُنْذر أَتَدْرِي
أَي آيَة من كتاب الله مَعَك أعظم قَالَ قلت الله وَرَسُوله أعلم قَالَ يَا أَبَا الْمُنْذر أَي آيَة من كتاب الله مَعَك أعظم قلت الله لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْحَيّ القيوم الْبَقَرَة 552
قَالَ فَضرب فِي صَدْرِي وَقَالَ لِيَهنك الْعلم أَبَا الْمُنْذر

رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد
وَرَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي شيبَة فِي كِتَابه بِإِسْنَاد مُسلم وَزَاد وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن لهَذِهِ الْآيَة لِسَانا وشفتين تقدس الْملك عِنْد سَاق الْعَرْش
وَتقدم حَدِيث أبي هُرَيْرَة لكل شَيْء سَنَام وَإِن سَنَام الْقُرْآن سُورَة الْبَقَرَة وفيهَا آيَة هِيَ سيدة آي الْقُرْآن
وَلَفظ الْحَاكِم سُورَة الْبَقَرَة فِيهَا آيَة سيدة آي الْقُرْآن لَا تقْرَأ فِي بَيت وَفِيه شَيْطَان إِلَّا خرج مِنْهُ آيَة الْكُرْسِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬৯
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা কাহফ অথবা এর প্রথম দশ অথবা শেষ দশ আয়াত পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৬৯. হযরত আবুদ-দারদা (রা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা কাহফের দশটি আয়াত মুখস্ত করবে, সে দাজ্জাল থেকে নিরাপদ থাকবে।
(হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা তাঁরই। আবু দাউদ এবং নাসাঈও এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁদের উভয়ের বর্ণনায় রয়েছে। দাজ্জালের ফিৎনা* থেকে নিরাপদ থাকবে। মুসলিমের কোন কোন কপিতেও এরূপ রয়েছে। মুসলিম ও আবু দাউদের অপর এক বর্ণনায় সূরা কাহফের শেষ দশ আয়াত বলা হয়েছে। নাসাঈর এক বর্ণনায়ও "যে ব্যক্তি সূরা কাহফের শেষ দশ আয়াত পাঠ করল" উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হাদীসটি তিরমিযী নিম্নোক্ত শব্দমালায় বর্ণনা করেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথমদিকের তিনটি আয়াত পাঠ করবে, সে দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকবে।)

*কঠিন পরীক্ষা।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْكَهْف أَو عشر من أَولهَا أَو عشر من آخرهَا
2269- عَن أبي الدَّرْدَاء رَضِي الله عَنهُ أَن نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من حفظ عشر آيَات من سُورَة الْكَهْف عصم من الدَّجَّال

رَوَاهُ مُسلم وَاللَّفْظ لَهُ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَعِنْدَهُمَا عصم من فتْنَة الدَّجَّال
وَهُوَ كَذَا فِي بعض نسخ مُسلم
وَفِي رِوَايَة لمُسلم وَأبي دَاوُد من آخر سُورَة الْكَهْف
وَفِي رِوَايَة للنسائي من قَرَأَ الْعشْر الْأَوَاخِر من سُورَة الْكَهْف
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَلَفظه من قَرَأَ ثَلَاث آيَات من أول الْكَهْف عصم من فتْنَة الدَّجَّال
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৭০
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা কাহফ অথবা এর প্রথম দশ অথবা শেষ দশ আয়াত পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৭০. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা কাহফ এমনভাবে পাঠ করবে, যেভাবে সূরাটি নাযিল করা হয়েছে, তার জন্য কিয়ামতের দিন এমন এক জ্যোতি দেখা দিবে যা তার স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। যে ব্যক্তি এ সূরার শেষ দশ আয়াত পাঠ করবে, তারপরে দাজ্জাল আবির্ভূত হলেও সে এই ব্যক্তির উপর কোন প্রভাব খাটাতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি উযু করে এই দু'আটি পাঠ করবে, "হে আল্লাহ্! আমি তোমার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি। তাঁর এ পুণ্যটি একটি কাগজে লিখে রাখা হবে এবং এর উপর সীল মোহর মেরে রাখা হবে। তারপর কিয়ামত পর্যন্ত তা আর ছিড়ে ফেলা হবে না।
(হাদীসটি হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। তিনি আরও বলেছেনঃঃ যে. আবদুর রহমান ইবন মাহদী এ হাদীসটি সাওরী আবু হাশিম রুম্মানী সূত্রে মাওকূক্তরণে বর্ণণা করেছেন।
(হাফিয বলেনঃ) জুমুআ অধ্যায়ে 'শুক্রবার দিনে ও শুক্রবার রাতে সূরা কাহফ পাঠের ফযীলত' শিরোনামে একটি পৃথক অনুচ্ছেদ বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْكَهْف أَو عشر من أَولهَا أَو عشر من آخرهَا
2270- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من قَرَأَ الْكَهْف كَمَا أنزلت كَانَت لَهُ نورا يَوْم الْقِيَامَة من مقَامه إِلَى مَكَّة
وَمن قَرَأَ عشر آيَات من آخرهَا ثمَّ خرج
الدَّجَّال لم يُسَلط عَلَيْهِ وَمن تَوَضَّأ ثمَّ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِك لَا إِلَه إِلَّا أَنْت أستغفرك وَأَتُوب إِلَيْك كتب فِي رق ثمَّ طبع بِطَابع فَلم يكسر إِلَى يَوْم الْقِيَامَة

رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم وَذكر أَن ابْن مهْدي وَقفه على الثَّوْريّ عَن أبي هَاشم الروماني
قَالَ الْحَافِظ وَتقدم بَاب فِي فضل قرَاءَتهَا يَوْم الْجُمُعَة وَلَيْلَة الْجُمُعَة فِي كتاب الْجُمُعَة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৭১
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সুরা ইয়াসীন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান ও এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৭১. হযরত মাকিল ইবন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআনের হৃদয় হল সুরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতে পুণ্যের আশায় এটি পাঠ করবে, আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তোমরা মুমূর্ষু ব্যক্তিদের উপর এ সূরাটি পাঠ কর।
(হাদীসটি আহমদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত পাঠ নাসাঈর। ইবন মাজাহ এবং হাকিমও এটি বর্ণনা করে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة يس وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2271- عَن معقل بن يسَار رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ قلب الْقُرْآن يس لَا يقْرؤهَا رجل يُرِيد الله وَالدَّار الْآخِرَة إِلَّا غفر الله لَهُ اقرؤوها على مَوْتَاكُم

رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن مَاجَه وَالْحَاكِم وَصَححهُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৭২
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সুরা ইয়াসীন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান ও এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৭২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক বস্তুর একটি হৃদয় রয়েছে। আর কুরআনের হৃদয় হল সূরা ইয়াসীন। আর যে ব্যক্তি একবার সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, আল্লাহ এরদ্বারা দশবার কুরআন খতমের পুণ্য লিখে দিবেন।
অন্য বর্ণনায় বাড়তি এতটুকু রয়েছেঃ সূরা ইয়াসীন ছাড়া*
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি গরীব হাদীস।)

*মানে সূরা ইয়াসীন বাদে কুরআনের দশ খতম।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة يس وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2272- وَرُوِيَ عَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن لكل شَيْء قلبا وقلب الْقُرْآن يس وَمن قَرَأَ يس كتب الله بِقِرَاءَتِهَا قِرَاءَة الْقُرْآن عشر مَرَّات

زَاد فِي رِوَايَة دون يس

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
tahqiq

তাহকীক: