আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

১৩. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১০২ টি

হাদীস নং: ২২৩৩
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআন শিখার পর তা ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কবাণী এবং যার ভিতর কুরআনের কোন অংশই নেই, তার প্রসঙ্গ
২২৩৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের পুণ্যসমূহ আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছিল। এমনকি কোন ব্যক্তি মসজিদ থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করে যে পুণ্যটি লাভ করে, তাও আমাকে দেখানো হয়েছে। অপরদিকে আমার উম্মতের গুনাহসমূহও আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছিল। এ মধ্যে কেউ কুরআনের কোন সূরা অথবা আয়াত শিখে তা ভুলে গেলে যে গুনাহ হয়, এর চেয়ে বড় কোন গুনাহ আমি দেখতে পাইনি।
(হাদীসটি আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ এবং ইবন খুযায়মা তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই এটি মুত্তালিব ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইবন হান্‌তাব সূত্রে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। (এ কিতাবের শ্রুতি লিখিক)
হাফিয বলেনঃ 'মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখা' শিরোনামে এ হাদীসের উপর ইতিপূর্বেই আলোকপাত করা হয়েছে।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْهِيب من نِسْيَان الْقُرْآن بعد تعلمه وَمَا جَاءَ فِيمَن لَيْسَ فِي جَوْفه مِنْهُ شَيْء
2233- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عرضت عَليّ أجور أمتِي حَتَّى القذاة يُخرجهَا الرجل من الْمَسْجِد وَعرضت عَليّ ذنُوب أمتِي فَلم أر ذَنبا أعظم من سُورَة من الْقُرْآن أَو آيَة أوتيها رجل ثمَّ نَسِيَهَا

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه كلهم من رِوَايَة الْمطلب بن عبد الله بن حنْطَب عَن أنس

قَالَ الْحَافِظ وَتقدم الْكَلَام عَلَيْهِ فِي تنظيف الْمَسَاجِد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩৪
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআন শিখার পর তা ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কবাণী এবং যার ভিতর কুরআনের কোন অংশই নেই, তার প্রসঙ্গ
২২৩৪. হযরত সা'দ ইবন উবাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে তা ভুলে যায়, সে আল্লাহর সাথে কুষ্ঠগ্রস্থ অবস্থায় সাক্ষাত করবে।
(হাদীসটি আবু দাউদ ইয়াযীদ ইবন আবূ যিয়াদ ঈসা ... ইবন ফায়িদ ... সা'দ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(হাফিয বলেনঃ ইয়াযীদ ইবন আবু যিয়াদ হাশিমী হিসেবে পরিচিত। আসলে তিনি হাশিমীদের আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। তাঁর উপনাম হল আবু আবদুল্লাহ্। তাঁর আলোচনা সামনে আসবে। যা হোক, ঈসা ইবন ফায়িদ এটি সা'দ থেকে সরাসরি শ্রবণকারী রাবী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান ইবন আবু হাতিম প্রমুখ এরূপই বলেছেনঃ
খাত্তাবী (র) বলেন)ঃ আবু উবায়দ বলেছেনঃ হাদীসে উক্ত جذم। শব্দটির অর্থ হচ্ছে কর্তিত হস্তবিশিষ্ট। ইবন কুতায়বা বলেছেনঃ এখানে এ শব্দটির অর্থ হল কুষ্ঠ আক্রান্ত। ইবনুল আরাবী বলেছেনঃ হাদীসের মর্ম হল, এই ব্যক্তি সর্ব প্রকার কল্যাণ থেকে রিক্ত অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে। এখানে হাত বলতে হাতের উপার্জন তথা কল্যাণ বুঝানো হয়েছে। অপর একজন বলেছেনঃ এর অর্থ হল সে প্রমাণহীন অবস্থায় আল্লাহর কাছে আসবে। সুয়ায়দ ইব্‌ন গাফালা থেকে আমরা তা ইতিপূর্বেও বর্ণনা করেছি।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْهِيب من نِسْيَان الْقُرْآن بعد تعلمه وَمَا جَاءَ فِيمَن لَيْسَ فِي جَوْفه مِنْهُ شَيْء
2234- وَعَن سعد بن عبَادَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا من امرىء يقْرَأ الْقُرْآن ثمَّ ينساه إِلَّا لَقِي الله أَجْذم

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد عَن يزِيد بن أبي زِيَاد عَن عِيسَى بن فائد عَن سعد

قَالَ الْحَافِظ وَيزِيد بن أبي زِيَاد هُوَ الْهَاشِمِي مَوْلَاهُم كنيته أَبُو عبد الله يَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ وَمَعَ هَذَا فعيسى بن فائد إِنَّمَا روى عَمَّن سمع سَعْدا

قَالَ عبد الرَّحْمَن بن أبي حَاتِم وَغَيره

قَالَ الْخطابِيّ قَالَ أَبُو عبيد الأجذم الْمَقْطُوع الْيَد وَقَالَ ابْن قُتَيْبَة الأجذم هَاهُنَا المجذوم وَقَالَ ابْن الْأَعرَابِي مَعْنَاهُ أَنه يلقى الله تَعَالَى خَالِي الْيَدَيْنِ من الْخَيْر كنى بِالْيَدِ عَمَّا تحويه الْيَد وَقَالَ آخر مَعْنَاهُ لَا حجَّة لَهُ وَقد روينَاهُ عَن سُوَيْد بن غَفلَة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩৫
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআন মুখস্তকরণে সহায়ক দু'আ শিক্ষা করার প্রতি উৎসাহ দান
২২৩৫. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ আলী ইবন আবু তালিব (রা) আসলেন এবং বললেন, আমার পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোন। এই কুরআন তো আমার অন্তর থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে ধরে রাখতে পারছি না। রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তখন বললেন, হে হাসানের বাবা। আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার সাধন করবেন এবং তুমি যাকে এগুলো শিক্ষা দেবে, তারও উপকার সাধন করবেন। আর তুমি যা কিছু শিখবে, তা তোমার অন্তরে বদ্ধমূল করে দেবেন? আলী (রা) বললেন, আলবৎ ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমাকে এগুলো শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, যখন জুমআর রাত্রি আসবে, তখন তুমি যদি রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে উঠতে পার (তবে ভাল)। কেননা এটি ফিরিশতাদের উপস্থিতির সময় এবং এতে দু'আ কবুল হয়। কেননা আমার ভাই ইয়াকূব (আ) তাঁর সন্তানদেরকে বলেছিলেন। "আমি অতি সত্বর তোমাদের জন্য আমার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব।" এখানে তিনি জুমুআর রাতের কথাই বলেছিলেন। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে মধ্য রাত্রিতে উঠে যাবে। তাও যদি না পার, তবে রাতের প্রথমাংশে উঠে যাবে এবং চার রাকাআত সালাত আদায় করে নেবে। ঐ সালাতের প্রথম রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও হা-মীম দুখান, তৃতীয় রাকাআতে ফাতিহা ও আলিফ-লাম-মীম তানযীল এবং চতুর্থ রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও তাবারাকাল্লাযী পাঠ করবে। যখন তাশাহহুদ পাঠ শেষ করবে, তখন আল্লাহর হামদ ও উত্তমরূপে তাঁর গুণ কীর্তন করবে, আমার উপর ও সমস্ত নবীদের উপর উত্তমরূপে দরূদ পাঠ করবে, সকল মু'মিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এবং যারা ঈমানসহ তোমার পূর্বে অতীত হয়ে গিয়েছেন, তোমার সে সকল ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার করবে। তারপর এ দুআটি পাঠ করবে।
"হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আজীবন গুনাহ পরিত্যাগের তাওফীক দান করে দয়া কর, অহেতুক বস্তুর পেছনে পড়া থেকে আমাকে দয়া কর। তোমার সন্তুষ্টির কাজে মনোযোগ দেবার সৌভাগ্য দান কর। হে আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা মাহাত্ম্য ও অনুগ্রহের মালিক আল্লাহ্, হে অনন্য মর্যাদার অধিকারী। হে রাহমান। আমি তোমার মাহাত্ম্য ও তোমার সত্তার নূর-এর ওসীলায় প্রার্থনা করছি যে, আমার অন্তরে তোমার কিতাবকে সংরক্ষিত ও আবদ্ধ করে দাও, যেরূপ তুমি আমায় তা শিক্ষা দিয়েছ। আর আমাকে তা তোমার সন্তুষ্টি অনুযায়ী পড়ার তাওফীক দান কর। হে আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, হে মাহাত্ম্য ও অনুগ্রহের মালিক, হে অতুলনীয় সম্মানের অধিকারী, হে আল্লাহ, হে রাহমান। আমি তোমার মাহাত্ম্য ও তোমার সত্তার নূরের ওসীলায় প্রার্থনা করছি যে, তুমি তোমার কিতাবদ্বারা আমার দৃষ্টিকে প্রখর করে দেবে। আমার জিহ্বাকে সচল করে দেবে, আমার অন্তরকে উন্মুক্ত করে দেবে। আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দেবে, আমার দেহকে কর্মমুখর করে দেবে। কেননা তুমি ছাড়া সত্যের উপর কেউ প্রতিষ্ঠিত থাকতে আমাকে সাহায্য করতে পারবে না। এবং তুমি ছাড়া কেউ আমার সেই ঈপ্সিত বস্তু দিতে পারবে না। কোন কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ থেকে বাঁচা মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনক্রমেই সম্ভব নয়।"
হাসানের বাবা! তিন সপ্তাহ অথবা পাঁচ সপ্তাহ অথবা সাত সপ্তাহ তুমি এরূপ করবে। আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়ে যাবে। ঐ সত্তার শপথ। যিনি আমাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, এ দু'আটি কোন মু'মিনকে কোনদিন বিফল মনোরথ করেনি। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, আল্লাহর কসম! আলী (রা) মাত্র পাঁচ অথবা সাত সপ্তাহ অতিবাহিত করলেন। এরপরই তিনি এমনি এক মজলিসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে এসে হাযির হলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমি পূর্বে এমন ছিলাম যে, চারটি আয়াত অথবা অনুরূপ শিখতে পারতাম। তাও আবার যখন পড়তে শুরু করতাম, তখন এগুলো পলায়ন করতে শুরু করত। আর এখন আমি দৈনিক চল্লিশটি আয়াত অথবা এর সমপরিমাণ শিখে ফেলি। আর নিজে যখন পড়তে শুরু করি তখন মনে হয়, কুরআন শরীফ আমার চোখের সামনে রাখা। পূর্বে আমি হাদীস শুনতাম। এগুলো মুখস্ত করার জন্য যখন পাঠ করতাম, তখন এগুলো যেন পালিয়ে যেত। আর এখন আমি অনেক হাদীসই শুনি। যখন এগুলোর আলোচনা করি, তখন একটি অক্ষরও আমি বিস্মৃত হই না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একথা শুনে বললেন, হে হাসানের বাবা। মালিকের শপথ। তুমি সত্যিই মু'মিন।
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব। ওলীদ ইব্‌ন মুসলিম-এর বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে এটি আমি জানি না। হাকিমও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেনঃ এটি বুখারী-মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। তবে তিনি বলেছেনঃ দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও আলিফ-লাম সিজদা এবং তৃতীয় রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও দুখান পাঠ করবে। এটি তিরমিযীর বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত। দু'আর ক্ষেত্রেও তিনি وأن تستعمل এর স্থলে وأن تشغل به بدني উল্লেখ করেছেন। তিরমিযীর কোন কোন কপিতেও এরূপ রয়েছে। উভয়টির অর্থও এক। আবার তিরমিযীর কোন কোন কপিতে وَأَنْ تَغسل শব্দটি রয়েছে।
(সংকলক বলেন। এই হাদীসের বর্ণনা সূত্রসমূহ চমৎকার কিন্তু এর মতনটি একান্তই অপরিচিত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي دُعَاء يدعى بِهِ لحفظ الْقُرْآن
2235- عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا نَحن عِنْد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذْ جَاءَهُ عَليّ بن أبي طَالب رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ بِأبي أَنْت تفلت هَذَا الْقُرْآن من صَدْرِي فَمَا أجدني
أقدر عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَا أَبَا الْحسن أَفلا أعلمك كَلِمَات ينفعك الله بِهن وينفع بِهن من عَلمته وَيثبت مَا تعلمت فِي صدرك قَالَ أجل يَا رَسُول الله فعلمني
قَالَ إِذا كَانَ لَيْلَة الْجُمُعَة فَإِن اسْتَطَعْت أَن تقوم فِي ثلث اللَّيْل الآخر فَإِنَّهَا سَاعَة مَشْهُودَة وَالدُّعَاء فِيهَا مستجاب فقد قَالَ أخي يَعْقُوب لِبَنِيهِ {سَوف أسْتَغْفر لكم رَبِّي} يُوسُف 89 يَقُول حَتَّى تَأتي لَيْلَة الْجُمُعَة فَإِن لم تستطع فَقُمْ فِي وَسطهَا فَإِن لم تستطع فَقُمْ فِي أَولهَا فصل أَربع رَكْعَات تقْرَأ فِي الرَّكْعَة الأولى بِفَاتِحَة الْكتاب وَسورَة يس وَفِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة بِفَاتِحَة الْكتاب وحم الدُّخان وَفِي الرَّكْعَة الثَّالِثَة بِفَاتِحَة الْكتاب والم تَنْزِيل السَّجْدَة وَفِي الرَّكْعَة الرَّابِعَة بِفَاتِحَة الْكتاب وتبارك الْمفصل فَإِذا فرغت من التَّشَهُّد فاحمد الله وَأحسن الثَّنَاء على الله وصل عَليّ وَأحسن وعَلى سَائِر النَّبِيين واستغفر للْمُؤْمِنين وَالْمُؤْمِنَات ولإخوانك الَّذين سبقوك بِالْإِيمَان ثمَّ قل فِي آخر ذَلِك اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بترك الْمعاصِي أبدا مَا أبقيتني وارحمني أَن أتكلف مَا لَا يعنيني وارزقني حسن النّظر فِيمَا يرضيك عني
اللَّهُمَّ بديع السَّمَوَات وَالْأَرْض ذَا الْجلَال وَالْإِكْرَام والعزة الَّتِي لَا ترام أَسأَلك يَا ألله يَا رَحْمَن بجلالك وَنور وَجهك أَن تلْزم قلبِي حفظ كتابك كَمَا علمتني وارزقني أَن أتلوه على النَّحْو الَّذِي يرضيك عني اللَّهُمَّ بديع السَّمَوَات وَالْأَرْض ذَا الْجلَال وَالْإِكْرَام والعزة الَّتِي لَا ترام
أَسأَلك يَا ألله يَا رَحْمَن بجلالك وَنور وَجهك أَن تنور بكتابك بَصرِي وَأَن تطلق بِهِ لساني وَأَن تفرج بِهِ عَن قلبِي وَأَن تشرح بِهِ صَدْرِي وَأَن تسْتَعْمل بِهِ بدني فَإِنَّهُ لَا يُعِيننِي على الْحق غَيْرك وَلَا تؤتينيه إِلَّا أَنْت وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم يَا أَبَا الْحسن تفعل ذَلِك ثَلَاث جمع أَو خمْسا أَو سبعا تجاب بِإِذن الله وَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ مَا أَخطَأ مُؤمنا قطّ
قَالَ ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا فوَاللَّه مَا لبث عَليّ إِلَّا خمْسا أَو سبعا حَتَّى جَاءَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي مثل ذَلِك الْمجْلس فَقَالَ يَا رَسُول الله إِنِّي كنت فِيمَا خلا لَا آخذ إِلَّا أَربع آيَات وَنَحْوهَا فَإِذا قرأتهن على نَفسِي تفلتن وَأَنا أتعلم الْيَوْم أَرْبَعِينَ آيَة ونحوهن فَإِذا قرأتهن على نَفسِي فَكَأَنَّمَا كتاب الله بَين عَيْني وَلَقَد كنت أسمع الحَدِيث فَإِذا رَددته تفلت وَأَنا الْيَوْم أسمع الْأَحَادِيث فَإِذا تحدثت بهَا لم أخرم مِنْهَا حرفا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عِنْد ذَلِك مُؤمن وَرب الْكَعْبَة يَا أَبَا الْحسن

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث الْوَلِيد بن مُسلم
وَرَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا إِلَّا أَنه قَالَ يقْرَأ فِي الثَّانِيَة بِالْفَاتِحَةِ والم السَّجْدَة وَفِي الثَّالِثَة بِالْفَاتِحَةِ وَالدُّخَان عكس مَا فِي التِّرْمِذِيّ وَقَالَ فِي الدُّعَاء وَأَن تشغل بِهِ بدني
مَكَان وَأَن تسْتَعْمل وَهُوَ كَذَلِك فِي بعض نسخ التِّرْمِذِيّ ومعناهما وَاحِد وَفِي بَعْضهَا وَأَن تغسل
قَالَ المملي رَضِي الله عَنهُ طَرِيق أَسَانِيد هَذَا الحَدِيث جَيِّدَة وَمَتنه غَرِيب جدا وَالله أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩৬
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৩৬. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআনের বাহকের উদাহরণ হল রশিতে বাঁধা উটের মালিকের ন্যায়, যদি সে এর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখে, তবে আবদ্ধ রাখতে পারবে। আর যদি একে ছেড়ে দেয়, তবে সে পালিয়ে যাবে।
(হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এক বর্ণনায় মুসলিম এ অংশটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ কুরআনের বাহক যখন দাঁড়িয়ে রাত-দিন কুরআন পড়তে থাকবে, তখন সে তা স্মরণ রাখতে পারবে। আর যদি সে তা না করে, তবে ভুলে যাবে।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2236- عَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِنَّمَا مثل صَاحب الْقُرْآن كَمثل الْإِبِل المعقلة إِن عَاهَدَ عَلَيْهَا أمْسكهَا وَإِن أطلقها ذهبت

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
وَزَاد مُسلم فِي رِوَايَة وَإِذا قَامَ صَاحب الْقُرْآن فقرأه بِاللَّيْلِ وَالنَّهَار ذكره وَإِذا لم يقم بِهِ نَسيَه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩৭
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৩৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কারো জন্য একথা বলা খুবই জঘন্য যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং সে যেন বলে যে, তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা কুরআন স্মরণ রাখার জন্য এর খুব চর্চা করবে। কেননা এটি মানুষের অন্তর থেকে রশিতে বাঁধা উটের চেয়েও বেশি পলায়নপর।
(হাদীসটি বুখারী এভাবে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম এটি মাওকুফরূপে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2237- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بئْسَمَا لاحدهم يَقُول نسيت آيَة كَيْت وَكَيْت بل هُوَ نسي استذكروا الْقُرْآن فَلَهو أَشد تفصيا من صُدُور الرِّجَال من النعم بعقلها

رَوَاهُ البُخَارِيّ هَكَذَا وَمُسلم مَوْقُوفا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩৮
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৩৮. হযরত আবু মূসা আশ'আরী (রা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা কুরআনের প্রতি সদাসতর্ক দৃষ্টি রাখবে। ঐ সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন। অবশ্যই কুরআন রশিতে বাঁধা উটের চেয়েও বেশি পলায়নপর।
(হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2238- وَعَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ تَعَاهَدُوا الْقُرْآن فوالذي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ لَهو أَشد تفلتا من الْإِبِل فِي عقلهَا

رَوَاهُ مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩৯
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৩৯. হযরত আবু হুরায়রা (বা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ কোন কথা এমন কান পেতে শোনেন না যেমন কান পেতে (মনযোগ সহকারে) শোনেন কোন নবীর মধুর স্বরে সরবে কুরআন পাঠ।
(হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা মুসলিমের। আবু দাউদ এবং নাসাঈও এটি বর্ণনা করেছেন।
(হাফিয) বলেনঃ اذن শব্দের ذ -এর নীচে যের অর্থাৎ মানুষের কথা থেকে যা কিছু শোনা হয়। যেমন আল্লাহ্ শোনেন ঐ ব্যক্তির কুরআন পাঠ যে মধুর স্বরে অর্থাৎ সুন্দর সুললিত কণ্ঠে কুরআন পাঠ করে।
সুফিয়ান ইবন উয়ায়না এবং অন্যান্যদের মতে কুরআন পাঠ সুললিত কণ্ঠ ব্যতীত পরিত্যক্ত।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2239- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا أذن الله لشَيْء كَمَا أذن لنَبِيّ حسن الصَّوْت يتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يجْهر بِهِ

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

قَالَ الْحَافِظ أذن بِكَسْر الذَّال أَي مَا اسْتمع لشَيْء من كَلَام النَّاس كَمَا اسْتمع الله إِلَى
من يتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ أَي يحسن بِهِ صَوته
وَذهب سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَغَيره إِلَى أَنه من الِاسْتِغْنَاء وَهُوَ مَرْدُود
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪০
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৪০. ইবন জারীর তাবারী এ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেনঃ মধুর কন্ঠের অধিকারী কোন নবীর কুরআন পাঠের প্রতি আল্লাহ্ যতটুকু মনযোগ দেন, অন্য কিছু শোনার প্রতি তিনি এত মনযোগ দেন না।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2240- وروى ابْن جرير الطَّبَرِيّ هَذَا الحَدِيث بِإِسْنَاد صَحِيح وَقَالَ فِيهِ مَا أذن الله لشَيْء مَا أذن لنَبِيّ حسن الترنم بِالْقُرْآنِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪১
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৪১. ইমাম আহমদ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং হাকিম ও বায়হাকী ফুযালা ইবন উবায়দ (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ সুকন্ঠের অধিকারী কোন মানুষের কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি আল্লাহ্ অধিকতর মনযোগ দিয়ে থাকেন। যতটুকু মনযোগ কোন গায়িকার মালিক আপন গায়িকার কণ্ঠের প্রতি দিয়ে থাকে।
হাকিম বলেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2241- وروى الإِمَام أَحْمد وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن فضَالة بن عبيد أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لله أَشد أذنا للرجل الْحسن الصَّوْت بِالْقُرْآنِ من صَاحب الْقَيْنَة إِلَى قَيْنَته

وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح على شَرطهمَا
হাদীস নং: ২২৪২
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৪২. হযরত বারা ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সুকন্ঠের দ্বারা কুরআনকে অলঙ্কৃত কর।
হাদীসটি আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। (খাত্তাবী (র) বলেন)ঃ হাদীসটির অর্থ হলঃ তোমরা কুরআন দ্বারা তোমাদের স্বরকে মাধুর্যমণ্ডিত কর। হাদীস বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের ধারণায় এখানে কাল পদ্ধতি তথা বিপরীত উপস্থাপনের নিয়ম পালন করা হয়েছে। আরবী ভাষায় এর অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। এ দৃষ্টান্তসমূহ উপস্থাপনের পর খাত্তাবী শুবা থেকে বর্ণনা করেন যে, শুবা বলেছেনঃ আইয়ূব আমাকে হাদীসটি "তোমরা তোমাদের কণ্ঠদ্বারা কুরআনকে অলঙ্কৃত কর" এভাবে বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন।
খাত্তাবী বলেন, এ হাদীসটি মা’মার মানসূর ও তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এভাবে বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের কণ্ঠকে কুরআন দ্বারা মাধুর্যমণ্ডিত কর। আর এটিই শুদ্ধ। মুহাম্মদ ইবন হাশিম... দারী আবদুর রায্‌যাক... মা’মার... মনসূর... তালহা... আবদুর রহমান ইবন আউসাজা... বারা (রা) সূত্রে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমরা কুরআন দ্বারা তোমাদের কণ্ঠকে মাধুর্যমণ্ডিত কর। হাদীসটির মর্ম এই হবেঃ "তোমরা নিজেদের কণ্ঠকে কুরআন পাঠে ব্যস্ত রাখ, একে তোমাদের প্রতীক ও অলঙ্কার স্বরূপ বানিয়ে নাও।"
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2242- وَعَن الْبَراء بن عَازِب رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم زَينُوا الْقُرْآن بِأَصْوَاتِكُمْ

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
قَالَ الْخطابِيّ مَعْنَاهُ زَينُوا أَصْوَاتكُم بِالْقُرْآنِ
هَكَذَا فسره غير وَاحِد من أَئِمَّة الحَدِيث وَزَعَمُوا أَنه من بَاب المقلوب كَمَا قَالُوا عرضت النَّاقة على الْحَوْض أَي عرضت الْحَوْض على النَّاقة وكقولهم إِذا طلعت الشعرى واستوى الْعود على الحرباء أَي اسْتَوَت الحرباء على الْعود ثمَّ روى بِإِسْنَادِهِ عَن شُعْبَة قَالَ نهاني أَيُّوب أَن أحدث زَينُوا الْقُرْآن بِأَصْوَاتِكُمْ
قَالَ وَرَوَاهُ معمر عَن مَنْصُور عَن طَلْحَة فَقدم الْأَصْوَات على الْقُرْآن وَهُوَ الصَّحِيح أخبرناه مُحَمَّد بن هَاشم حَدثنَا الديري عَن عبد الرَّزَّاق أَنبأَنَا معمر عَن مَنْصُور عَن طَلْحَة عَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْسَجَة عَن الْبَراء أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ زَينُوا أَصْوَاتكُم بِالْقُرْآنِ وَالْمعْنَى اشغلوا أَصْوَاتكُم بِالْقُرْآنِ والهجوا بِهِ واتخذوه شعارا وزينة انْتهى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪৩
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৪৩. হযরত সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই-এ কুরআন মর্মভেদীরূপে নাযিল হয়েছে। তাই তোমরা যখন তা পাঠ করবে, তখন ক্রন্দন করবে। যদি ক্রন্দন করতে না পার, তবে অন্ততঃ ক্রন্দনভাব ধারণ করবে এবং সুমধুর কণ্ঠে তা পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি সুমধুর কন্ঠে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের কেউ নয়।
(হাদীসটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2243- وَرُوِيَ عَن سعد بن أبي وَقاص رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن هَذَا الْقُرْآن نزل بحزن فَإِذا قرأتموه فابكوا فَإِن لم تبكوا فتباكوا وَتَغَنوا بِهِ فَمن لم يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ فَلَيْسَ منا

رَوَاهُ ابْن مَاجَه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪৪
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৪৪. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই সে ব্যক্তিই সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠকারী, যাকে কুরআন পাঠ করতে শুনলে তোমাদের ধারণা হয় যে, বস্তুত সে আল্লাহকে ভয় করে।
(এ হাদীসটিও ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2244- وَرُوِيَ عَن جَابر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن من أحسن النَّاس
صَوتا بِالْقُرْآنِ الَّذِي إِذا سمعتموه يقْرَأ حسبتموه يخْشَى الله

رَوَاهُ ابْن مَاجَه أَيْضا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪৫
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা ও মধুর স্বরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২২৪৫. ইবন আবু মুলায়কা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবু ইয়াগীদ (রা) বলেছেনঃ একদিন আবু লুবাবা (রা) আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। আমরা তাঁকে অনুসরণ করলাম। কিছু তিনি ঘরে ঢুকে গেলেন। আমরাও তাঁর ধরে গিয়েই উপস্থিত হলাম। দেখলাম কী, একজন ছিন্নবস্ত্রধারী লোক। সে বলছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের কেউ নয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবন আবু মুলায়কাকে বললাম, হে আবু মুহাম্মদ। আপনি বলুনতো, যদি কেউ সুকন্ঠের অধিকারী না হয়? তিনি বললেন, যতদূর সম্ভব সুন্দর উচ্চারণের চেষ্টা করবে।
(হাদীসাটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এর মারফু’ অংশটি বুখারী-মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত রয়েছে।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي تعاهد الْقُرْآن وتحسين الصَّوْت بِهِ
2245- وَعَن ابْن أبي مليكَة قَالَ قَالَ عبيد الله بن أبي يزِيد رَضِي الله عَنْهُمَا مر بِنَا أَبُو لبَابَة فاتبعناه حَتَّى دخل بَيته فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَإِذا رجل رث الْهَيْئَة يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول لَيْسَ منا من لم يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ
قَالَ فَقلت لِابْنِ أبي مليكَة يَا أَبَا مُحَمَّد أَرَأَيْت إِن لم يكن حسن الصَّوْت قَالَ يُحسنهُ مَا اسْتَطَاعَ

وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالْمَرْفُوع مِنْهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪৬
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের প্রতি উৎসাহদান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৪৬. হযরত আবু সাঈদ ইবনুল মু'আল্লা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন মসজিদে সালাতরত ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। কিন্তু আমি কোন জবাব দিলাম না। একটু পরেই আমি তাঁর কাছে আসলাম এবং বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমি সালাতে রত ছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ কি একথা বলেন নি? "তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের ডাকে সাড়া দাও যখন তাঁরা তোমাদেরকে ডাকেন।" তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আমি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দেব। তারপর তিনি আমার হাত ধরলেন। আমরা যখন বের হতে উদ্যত হলাম, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি তো বলেছেনঃঃ যে, আমি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিক্ষা দেব। তিনি বললেন, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। এটি হচ্ছে বার বার পঠিত আয়াত-সপ্তক। আর মহান কুরআন, যা আমাকে দেয়া হয়েছে।
(হাদীসটি বুখারী আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْفَاتِحَة وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2246 - عَن أبي سعيد بن الْمُعَلَّى رَضِي الله عَنهُ قَالَ كنت أُصَلِّي بِالْمَسْجِدِ فدعاني رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَلم أجبه ثمَّ أَتَيْته فَقلت يَا رَسُول الله إِنِّي كنت أُصَلِّي فَقَالَ ألم يقل الله تَعَالَى {اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ إِذا دعَاكُمْ} الْأَنْفَال 42 ثمَّ قَالَ لأعلمنك سُورَة هِيَ أعظم سُورَة فِي الْقُرْآن قبل أَن تخرج من الْمَسْجِد فَأخذ بيَدي فَلَمَّا أردنَا أَن نخرج قلت يَا رَسُول الله إِنَّك قلت لأعلمنك أعظم سُورَة فِي الْقُرْآن
قَالَ الْحَمد لله رب الْعَالمين هِيَ السَّبع المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم الَّذِي أُوتِيتهُ

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
হাদীস নং: ২২৪৭
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের প্রতি উৎসাহদান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৪৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একদিন উবাই ইবন কা'ব (রা)-এর কাছে গেলেন। তিনি তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, হে উবাই। উবাই তখন সালাতে রত ছিলেন। তাই তিনি চোখ তুলে দেখলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর ডাকের জবাব দিলেন না। তিনি হালকাভাবে (ছোট ছোট সূরা দিয়ে) সালাত সম্পন্ন করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট গিয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও বললেন, ওয়া আলাইকাস্ সালাম। হে উবাই। আমি যখন তোমাকে ডেকেছিলাম, তখন কিসে আমার ডাকে সাড়া দিতে বাধা দিল? উবাই বললেন, আমি তখন সালাতে রত ছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, আল্লাহ্ আমার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যা পাঠিয়েছেন, এর মধ্যে তুমি কি এ কথাটি পাওনি? "তোমরা আল্লাহ্ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে তাঁরা ডাকেন- এমন বিষয়ের প্রতি যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে তুলবে।" উবাই বললেন, জ্বী হ্যাঁ, আমি আর কখনও এমনটি করব না ইনশা আল্লাহ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি চাও যে, আমি তোমাকে এমন একটি সূরা শিক্ষা দিই যার তুল্য সূরা তাওরাত, ইন্‌জীল, যাবুর ও কুরআনেও নাযিল হয়নি? উবাই বললেন। আলবৎ ইয়া রাসুলাল্লাহ। রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি সালাতে কিভাবে কিরাআত কর? উবাই তখন সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। রাসুলুল্লাহ বললেন, ঐ সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন। আল্লাহ্ তাওরাত, ইনজীল, যাবুর ও কুরআনে এরূপ সূরা আর একটিও নাযিল করেন নি। এটি হচ্ছে বারবার পঠিত আয়াত-সপ্তক ও মহান কুরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে।
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি হাসান-সহীহ। ইবন খুযায়মা এবং ইবন হিব্বানও তাঁদের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয়ে একটি বর্ণনা করেছেন। হাকিমও এটি সংক্ষেপে হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-এর মাধ্যমে উবাই (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْفَاتِحَة وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2247- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خرج على أبي بن كَعْب فَقَالَ يَا أبي وَهُوَ يُصَلِّي فَالْتَفت أبي فَلم يجبهُ وَصلى أبي فَخفف ثمَّ انْصَرف إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ السَّلَام عَلَيْك يَا رَسُول الله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَعَلَيْك السَّلَام مَا مَنعك يَا أبي أَن تُجِيبنِي إِذْ دعوتك فَقَالَ يَا رَسُول الله إِنِّي كنت فِي الصَّلَاة
قَالَ فَلم تَجِد فِيمَا أوحى الله إِلَيّ
أَن اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ إِذا دعَاكُمْ لما يُحْيِيكُمْ قَالَ بلَى وَلَا أَعُود إِن شَاءَ الله
قَالَ أَتُحِبُّ أَن أعلمك سُورَة لم ينزل فِي التَّوْرَاة وَلَا فِي الْإِنْجِيل وَلَا فِي الزبُور وَلَا فِي الْفرْقَان مثلهَا قَالَ نعم يَا رَسُول الله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَيفَ تقْرَأ فِي الصَّلَاة قَالَ فَقَرَأَ أم الْقُرْآن فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ مَا أنزل الله فِي التَّوْرَاة وَلَا فِي الْإِنْجِيل وَلَا فِي الزبُور وَلَا فِي الْفرْقَان مثلهَا وَإِنَّهَا سبع من المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم الَّذِي أَعْطيته

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان فِي صَحِيحَيْهِمَا وَالْحَاكِم بِاخْتِصَار عَن أبي هُرَيْرَة عَن أبي وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح على شَرط مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪৮
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের প্রতি উৎসাহদান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৪৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন। পথিমধ্যে এক স্থানে তিনি অবতরণ করলেন। তাঁর পাশেই আর একজন লোক অবতরণ করল। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে কুরআনের উত্তম সুরার কথা বলব না? সে বলল, জ্বী হ্যাঁ। তিনি তখন তিলাওয়াত করলেন, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।
(হাদীসটি ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকিমও বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, হাদীসটি মুসলিমের। শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْفَاتِحَة وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2248- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ كَانَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي مسير فَنزل وَنزل رجل إِلَى جَانِبه قَالَ فَالْتَفت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ أَلا أخْبرك بِأَفْضَل الْقُرْآن قَالَ بلَى
فَتلا {الْحَمد لله رب الْعَالمين} الْفَاتِحَة 2
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪৯
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের প্রতি উৎসাহদান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৪৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দু'ভাগে বণ্টন করে দিয়েছি। আর বান্দা যা চাইবে, সে তা পাবে। অন্য বর্ণনায়ঃ এর অর্ধেক আমার জন্য ও বাকী অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। বান্দা যখন বলে, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আল্লাহ তখন বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। সে যখন বলে, যিনি অতিশয় দয়ালু ও পরম করুণাময়, আল্লাহ তখন বলেন, আমার বান্দা আমার গুণকীর্তন করল। বান্দা যখন বলে, বিচার দিবসের মালিক, আল্লাহ তখন বলেন, আমার বান্দা আমার চরম মহত্ব প্রকাশ করল। আতঃপর বান্দা যখন বলে, আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, আল্লাহ তখন বলেন, এটি হল আমার ও আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। আর আমার বান্দা যা চেয়েছে, তাই সে পাবে। তারপর সে যখন বলে, আমাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দাও- তাদের পথে যাদেরকে তুমি পুরস্কৃত করেছ- ওদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত এবং ওদের পথেও নয় যারা পথভ্রষ্ট, আল্লাহ্ তখন বলেন, এটি হল আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চেয়েছে তাই সে পাবে।*
(হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (সংকলক) হাফিয বলেনঃ 'আমি নামাযকে বণ্টন করেছি।' এখানে নামায বলতে সূরা ফাতিহা বুঝানো, হয়েছে। পরবর্তী ব্যাখ্যাই এর প্রমাণ। অনেক সময় কিরাআতকেই নামায বলে দেয়া হয়। কেননা কিরাআত নামাযের একটি অংশবিশেষ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।)

*বান্দার বক্তব্যরূপ এখানে সুরায়ে ফাতিহার সাতটি আয়াতের তরজমা এ হাদীসের অনুবাদে স্থান পেয়েছে। প্রতিটি আয়াত বান্দা তিলাওয়াতের সাথে সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাবরূপ এরূপ বলা হয়ে থাকে।
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْفَاتِحَة وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2249- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول قَالَ الله تَعَالَى قسمت الصَّلَاة بيني وَبَين عَبدِي نِصْفَيْنِ ولعبدي مَا سَأَلَ
وَفِي رِوَايَة فنصفها لي وَنِصْفهَا لعبدي فَإِذا قَالَ العَبْد {الْحَمد لله رب الْعَالمين} قَالَ الله حمدني عَبدِي فَإِذا قَالَ الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالَ أثنى عَليّ عَبدِي فَإِذا قَالَ {مَالك يَوْم الدّين} قَالَ مجدني عَبدِي فَإِذا قَالَ {إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين} قَالَ هَذَا بيني وَبَين عَبدِي ولعبدي مَا سَأَلَ فَإِذا قَالَ اهدنا الصِّرَاط الْمُسْتَقيم صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم غير المغضوب عَلَيْهِم وَلَا الضَّالّين
قَالَ هَذَا لعبدي ولعبدي مَا سَأَلَ

رَوَاهُ مُسلم

قَوْله قسمت الصَّلَاة يَعْنِي الْقِرَاءَة بِدَلِيل تَفْسِيره بهَا وَقد تسمى الْقِرَاءَة صَلَاة لكَونهَا جُزْءا من أَجْزَائِهَا وَالله أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫০
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের প্রতি উৎসাহদান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৫০. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরাঈল (আ) নবী করীম (ﷺ) -এর নিকট বসা ছিলেন। হঠাৎ তিনি উপর দিক থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেলেন। তিনি তখন তাঁর মস্তক উত্তোলন করলেন। তারপর তিনি বললেন, এটি আসমানের একটি দরজা যা আজই কেবল খুলে দেয়া হয়েছে। এর পূর্বে আর কোনদিন খোলা হয়নি। তারপর সে দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতরণ করলেন। জিবরাঈল (আ) বললেন, ইনি একজন ফিরিশতা, যিনি আজই কেবল পৃথিবীতে অবতরণ করলেন। এর আগে তিনি কখনো অবতরণ করেননি। তারপর ফিরিশতা সালাম করলেন এবং বললেন, আপনি দুটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। যা আপনাকেই কেবল প্রদান করা হয়েছে, আপনার পূর্বে কোন নবীকে এগুলো দেয়া হয়নি। এ দু'টি হল সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার শেষাংশ। আপনি এ দুটির যে কোন অক্ষর পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেয়া হবে।
(হাদীসটি মুসলিম, নাসাঈ এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, এটি বুখারী-মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْفَاتِحَة وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2250- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا جِبْرَائِيل عَلَيْهِ السَّلَام قَاعد عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سمع نقيضا من فَوْقه فَرفع رَأسه فَقَالَ هَذَا بَاب من السَّمَاء فتح لم يفتح قطّ إِلَّا الْيَوْم فَنزل مِنْهُ ملك فَقَالَ هَذَا ملك نزل إِلَى الأَرْض لم ينزل قطّ إِلَّا الْيَوْم فَسلم وَقَالَ أبشر بنورين أُوتِيتهُمَا لم يؤتهما نَبِي قبلك فَاتِحَة الْكتاب وخواتيم سُورَة الْبَقَرَة لن تقْرَأ بِحرف مِنْهُمَا إِلَّا أَعْطيته

رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
হাদীস নং: ২২৫১
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের প্রতি উৎসাহদান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২২৫১. হযরত ওয়াসিলা ইবনুল আস্‌কা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তাওরাতের স্থলে আমাকে কুরআনের শুরুভাগে সাতটি বড় সূরা, যবুরের স্থলে একশ' আয়াতবিশিষ্ট সূরাগুলো এবং ইনজীলের স্থলে তৎপরবর্তী সূরাসমূহ প্রদান করা হয়েছে। আর শেষদিকের মুফাসসাল সূরাগুলো আমাকে অতিরিক্ত দান করে মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
(হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে ইমরান কাত্তান নামক একজন সন্ধিগ্ধ রাবী রয়েছে।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْفَاتِحَة وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا
2251- وَعَن وَاثِلَة بن الْأَسْقَع رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَعْطَيْت مَكَان التَّوْرَاة السَّبع وَأعْطيت مَكَان الزبُور المئين وَأعْطيت مَكَان الْإِنْجِيل المثاني وفضلت بالمفصل

رَوَاهُ أَحْمد وَفِي إِسْنَاده عمرَان الْقطَّان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫২
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৫২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের ঘরগুলোকে (ইবাদত ও তিলাওয়াতশূন্য রেখে) কবর বানিয়ে ফেলো না। নিশ্চয়ই যে ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করা হয়, সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।
(হাদীসটি মুসলিম, নাসাঈ এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2252- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا تجْعَلُوا بُيُوتكُمْ مَقَابِر إِن الشَّيْطَان يفر من الْبَيْت الَّذِي تقْرَأ فِيهِ سُورَة الْبَقَرَة

رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ
tahqiq

তাহকীক: