আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৭৫৪ টি
হাদীস নং: ৪৩৫২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫২. হযরত সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যভাগ এবং দুই পায়ের মধ্যভাগের ব্যাপারে যিম্মাদার হবে আমি তার জান্নাতের যিম্মাদার হব।
(বুখারী ও তিরমিযী বর্ণিত।)
(বুখারী ও তিরমিযী বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4352- وَعَن سهل بن سعد رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من يضمن لي مَا بَين لحييْهِ وَمَا بَين رجلَيْهِ أضمن لَهُ الْجنَّة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: যাকে আল্লাহ্ দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (রসনা) ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী (লজ্জা) স্থানের অপকারীতা থেকে নিরাপদ রেখেছেন, সে জান্নাতী।
(তিরমিযী (র) বর্ণিত, তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান। ইবন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ ও ইব্ন আবুদ দুনিয়া (র) বর্ণিত। তবে তার বর্ণনায় من وقاه الله স্থলে من حفظ ما بين لحييه)
(তিরমিযী (র) বর্ণিত, তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান। ইবন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ ও ইব্ন আবুদ দুনিয়া (র) বর্ণিত। তবে তার বর্ণনায় من وقاه الله স্থলে من حفظ ما بين لحييه)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4353- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من وَقَاه الله شَرّ مَا بَين لحييْهِ وَشر مَا بَين رجلَيْهِ دخل الْجنَّة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا إِلَّا أَنه قَالَ من حفظ مَا بَين لحييْهِ
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا إِلَّا أَنه قَالَ من حفظ مَا بَين لحييْهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫৪. হযরত আবূ জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবায়ে কিরামের কাছে জিজ্ঞেস করেন। কোন কাজ আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন সকলেই নীরব হয়ে গেল, কেউ জবাব দিল না। তিনি বলেন, তা হচ্ছে, রসনা সংযত রাখা।
(আবু শায়খ ইব্ন হিব্বান ও বায়হাকী বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনায় এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন, যার অবস্থা এখন আমার স্বরণ নেই।)
(আবু শায়খ ইব্ন হিব্বান ও বায়হাকী বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনায় এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন, যার অবস্থা এখন আমার স্বরণ নেই।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4354- وَعَن أبي جُحَيْفَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَي الْأَعْمَال أحب
إِلَى الله عز وَجل قَالَ فَسَكَتُوا فَلم يجبهُ أحد قَالَ هُوَ حفظ اللِّسَان
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان وَالْبَيْهَقِيّ وَفِي إِسْنَاده من لَا يحضرني الْآن حَاله
إِلَى الله عز وَجل قَالَ فَسَكَتُوا فَلم يجبهُ أحد قَالَ هُوَ حفظ اللِّسَان
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان وَالْبَيْهَقِيّ وَفِي إِسْنَاده من لَا يحضرني الْآن حَاله
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন। যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ দমন করবে, আল্লাহ্ তার থেকে আযাব দূরে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি নিজ রসনাকে সংযত রাখবে, আল্লাহ্ তার ত্রুটি-বিচ্যুতি গোপন রাখবেন।
(তাবারানীর আওসাত গ্রন্থ ও আবু ই'আলা বর্ণিত। তবে তাঁর শব্দমালা এরূপঃ "যে ব্যক্তি তার রসনা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, আল্লাহ্ তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আর যে ব্যক্তি তার ক্রোধ দমিয়ে রাখবে, আল্লাহ তার থেকে আযাব দূরে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করবেন"।
বায়হাকী (র) মারফু' এবং আনাস (রা) থেকে মাওকুফ সূত্র বর্ণনা করেছেন।)
(তাবারানীর আওসাত গ্রন্থ ও আবু ই'আলা বর্ণিত। তবে তাঁর শব্দমালা এরূপঃ "যে ব্যক্তি তার রসনা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, আল্লাহ্ তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আর যে ব্যক্তি তার ক্রোধ দমিয়ে রাখবে, আল্লাহ তার থেকে আযাব দূরে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করবেন"।
বায়হাকী (র) মারফু' এবং আনাস (রা) থেকে মাওকুফ সূত্র বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4355- وَرُوِيَ عَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من دفع غَضَبه دفع الله عَنهُ عَذَابه وَمن حفظ لِسَانه ستر الله عَوْرَته
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَأَبُو يعلى وَلَفظه قَالَ من خزن لِسَانه ستر الله عَوْرَته وَمن كف غَضَبه كف الله عَنهُ عَذَابه وَمن اعتذر إِلَى الله قبل الله عذره
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مَرْفُوعا وموقوفا على أنس وَلَعَلَّه الصَّوَاب
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَأَبُو يعلى وَلَفظه قَالَ من خزن لِسَانه ستر الله عَوْرَته وَمن كف غَضَبه كف الله عَنهُ عَذَابه وَمن اعتذر إِلَى الله قبل الله عذره
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مَرْفُوعا وموقوفا على أنس وَلَعَلَّه الصَّوَاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫৬. তাবারানী সাগীর ও আওসাত গ্রন্থে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (নবী ﷺ বলেছেন: বান্দা
যতক্ষণ পর্যন্ত তার রসনা সংযত না রাখে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানদার হয় না।
যতক্ষণ পর্যন্ত তার রসনা সংযত না রাখে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানদার হয় না।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4356- وروى الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير والأوسط عَنهُ أَيْضا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا يبلغ العَبْد حَقِيقَة الْإِيمَان حَتَّى يخزن من لِسَانه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ মহান সত্তার শপথ, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, পৃথিবীতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে রসনা সংযম রাখার চেয়ে অধিক প্রয়োজনীয় আর কোন বন্ধু নেই।
(তাবারানী বিশুদ্ধ সনদে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
(তাবারানী বিশুদ্ধ সনদে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4357- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ وَالَّذِي لَا إِلَه غَيره مَا على ظهر الأَرْض من شَيْء أحْوج إِلَى طول سجن من لِسَان
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ مَوْقُوفا بِإِسْنَاد صَحِيح
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ مَوْقُوفا بِإِسْنَاد صَحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫৮. হযরত আতা ইব্ন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: যাকে আল্লাহ্ দু'টি অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন, সে জান্নাতী। এক ব্যক্তি বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তা কি আপনি আমাদের অবহিত করবেন না? তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নীরব থাকেন। এরপর রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) পূর্বের বাক্যটি পুনরাবৃত্তি করেন। লোকটি বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তা কি আমাদেরকে অবহিত করবেন না? তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় সেই কথাটি পুনরাবৃত্তি করেন। পুনরায় লোকটি পূর্ববৎ বলতে গেলে নিকটের এক ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আল্লাহ যাকে দু'টি অনিষ্টকর বস্তু থেকে নিরাপদ রেখেছেন, সে জান্নাতী। তা হল দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান।
(মালিক (র) মুরসাল সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করেন।
ولج : প্রবেশ করা।)
(মালিক (র) মুরসাল সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করেন।
ولج : প্রবেশ করা।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4358- وَعَن عَطاء بن يسَار أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من وَقَاه الله شَرّ اثْنَيْنِ ولج الْجنَّة فَقَالَ رجل يَا رَسُول الله أَلا تخبرنا فَسكت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأَعَادَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مقَالَته فَقَالَ الرجل أَلا تخبرنا يَا رَسُول الله ثمَّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مثل ذَلِك أَيْضا ثمَّ ذهب الرجل يَقُول مثل مقَالَته فأسكته رجل إِلَى جنبه
قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من وَقَاه الله شَرّ اثْنَيْنِ ولج الْجنَّة مَا بَين لحييْهِ وَمَا بَين رجلَيْهِ
رَوَاهُ مَالك مُرْسلا هَكَذَا
ولج أَي دخل الْجنَّة
قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من وَقَاه الله شَرّ اثْنَيْنِ ولج الْجنَّة مَا بَين لحييْهِ وَمَا بَين رجلَيْهِ
رَوَاهُ مَالك مُرْسلا هَكَذَا
ولج أَي دخل الْجنَّة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৫৯. হযরত আবু মুসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি দুই ঠোটের মধ্যভাগ (রসনা) ও তার লজ্জাস্থান সংযত রেখেছে, সে জান্নাতী।
(আহমাদ, তাবারানী, আবু ই'আলা নিজ শব্দে বর্ণনা করেন এবং তার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
(আহমাদ, তাবারানী, আবু ই'আলা নিজ শব্দে বর্ণনা করেন এবং তার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4359- وَعَن أبي مُوسَى رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من حفظ مَا بَين فقميه وفرجه دخل الْجنَّة
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو يعلى وَاللَّفْظ لَهُ وَرُوَاته ثِقَات
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو يعلى وَاللَّفْظ لَهُ وَرُوَاته ثِقَات
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬০. তাবারানীর অন্য বর্ণনায় রয়েছে। একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন দু'টি কথা বলব না যে ব্যক্তি সে দু'টো করবে, সে জান্নাতী হবে? আমরা বললামঃ জ্বি-হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বলেন, তা হলঃ মানুষ তার দুই ঠোটের মধ্যবর্তী ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান সংযত রাখবে। দুই চোয়ালের মধ্যবর্তীস্থান-এর মর্ম হচ্ছে, রসনা, আর দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান-এর মর্ম হচ্ছে লজ্জাস্থান। الفقمان -এর মর্ম হচ্ছে লজ্জাস্থান।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4360- وَفِي رِوَايَة للطبراني قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَلا أحَدثك بثنتين من فعلهمَا دخل الْجنَّة قُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ يحفظ الرجل مَا بَين فقميه وَمَا بَين رجلَيْهِ وَالْمرَاد بِمَا بَين فقميه هُوَ اللِّسَان وَبِمَا بَين رجلَيْهِ هُوَ الْفرج
والفقمان بِفَتْح الْفَاء وَسُكُون الْقَاف هما اللحيان
والفقمان بِفَتْح الْفَاء وَسُكُون الْقَاف هما اللحيان
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬১. হযরত আবু রাফি' (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী ও দুই উরুর মধ্যবর্তী স্থান হিফাযত করবে, সে জান্নাতী হবে।
(তাবারানীর উত্তম সনদে বর্ণিত।)
(তাবারানীর উত্তম সনদে বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4361- وَعَن أبي رَافع رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من حفظ مَا بَين فقميه وفخذيه دخل الْجنَّة
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬২. হযরত রাকেব মিসরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। যে ব্যক্তি তার জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে, প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করে, অনর্থক কথা থেকে বিরত থাকে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ।
(তাবারানী একটি হাদীস বর্ণনা করেন, তার পুরোপুরি বর্ণনা ইনশাআল্লাহ التواضع অধ্যায়ে আসবে।)
(তাবারানী একটি হাদীস বর্ণনা করেন, তার পুরোপুরি বর্ণনা ইনশাআল্লাহ التواضع অধ্যায়ে আসবে।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4362- وَعَن ركب الْمصْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم طُوبَى لمن عمل بِعِلْمِهِ وَأنْفق الْفضل من مَاله وَأمْسك الْفضل من قَوْله
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي حَدِيث يَأْتِي فِي التَّوَاضُع إِن شَاءَ الله
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي حَدِيث يَأْتِي فِي التَّوَاضُع إِن شَاءَ الله
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬৩. হযরত সুফিয়ান ইবন আবদুল্লাহ সাকাফী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে এমন কাজ সম্পর্কে অবহিত করুন, যা আমি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারি। তিনি বলেন: তুমি বল "আল্লাহ্ আমার প্রতিপালক, এরপর তুমি এতে অবিচল থাক।" বর্ণনাকারী বলেন,
আমি বললাম : ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমার জন্য কোন বস্তু সম্পর্কে অধিক ভয় করেন। তখন তিনি নিজ জিহবা ধরে বলেন: তা হচ্ছে এই।
(তিরমিযী বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবন মাজা, ইবন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থ এবং হাফিয বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটির সনদ সহীহ।)
আমি বললাম : ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমার জন্য কোন বস্তু সম্পর্কে অধিক ভয় করেন। তখন তিনি নিজ জিহবা ধরে বলেন: তা হচ্ছে এই।
(তিরমিযী বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবন মাজা, ইবন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থ এবং হাফিয বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটির সনদ সহীহ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4363- وَعَن سفين بن عبد الله الثَّقَفِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قلت يَا رَسُول الله حَدثنِي بِأَمْر أَعْتَصِم بِهِ قَالَ قل رَبِّي الله ثمَّ اسْتَقِم
قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَا أخوف مَا تخَاف عَليّ فَأخذ بِلِسَان نَفسه
ثمَّ قَالَ هَذَا
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَا أخوف مَا تخَاف عَليّ فَأخذ بِلِسَان نَفسه
ثمَّ قَالَ هَذَا
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬৪. হযরত সুফিয়ান ইবন আবদুল্লাহ্ সাকাফী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমি কোন বস্তুকে বেশী ভয় করব? তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত দ্বারা জিহবার দিকে ইশারা করেন।
(আবু শায়খ ইবন হিব্বান 'সাওয়াব অধ্যায়ে' উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
(আবু শায়খ ইবন হিব্বান 'সাওয়াব অধ্যায়ে' উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4364- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قلت يَا رَسُول الله أَي شَيْء أتقي فَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى لِسَانه
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان فِي الثَّوَاب بِإِسْنَاد جيد
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان فِي الثَّوَاب بِإِسْنَاد جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬৫. হযরত হারিস ইব্ন হিশাম (রা) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আরয করেন। ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আপনি আমাকে এমন বিষয়ে অবহিত করুন, যা আমি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারি। তখন রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: তুমি এটি নিয়ন্ত্রণ করবে। একথা বলে তিনি তাঁর জিহ্বার দিকে ইশারা করেন। তাবারানী (দু'টি সনদে বর্ণনা করেন, তবে তাঁর একটি সনদ উত্তম।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4365- وَعَن الْحَارِث بن هِشَام رَضِي الله عَنهُ أَنه قَالَ لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَخْبرنِي بِأَمْر أَعْتَصِم بِهِ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أملك هَذَا وَأَشَارَ إِلَى لِسَانه
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا جيد
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অন্তর সুদৃঢ় না হওয়া পর্যন্ত ঈমান সুদৃঢ় হয় না এবং রসনা সুদৃঢ় না হওয়া পর্যন্ত অন্তর সুদৃঢ় হয় না। যার অনিষ্ট হতে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
(আহমাদ, ইব্ন আবুদ দুনিয়া 'সামত অধ্যায়ে' বর্ণনা করেন। তাঁরা উভয়ে আলী ইবন মাস'আদা বাহিলী হতে, তিনি কাতাদাহ হতে বর্ণনা করেন।)
(আহমাদ, ইব্ন আবুদ দুনিয়া 'সামত অধ্যায়ে' বর্ণনা করেন। তাঁরা উভয়ে আলী ইবন মাস'আদা বাহিলী হতে, তিনি কাতাদাহ হতে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4366- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا يَسْتَقِيم إِيمَان عبد حَتَّى يَسْتَقِيم قلبه وَلَا يَسْتَقِيم قلبه حَتَّى يَسْتَقِيم لِسَانه وَلَا يدْخل الْجنَّة رجل لَا يَأْمَن جَاره بوائقه
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي الصمت كِلَاهُمَا من رِوَايَة عَليّ بن مسْعدَة الْبَاهِلِيّ عَن قَتَادَة عَنهُ
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي الصمت كِلَاهُمَا من رِوَايَة عَليّ بن مسْعدَة الْبَاهِلِيّ عَن قَتَادَة عَنهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬৭. হযরত মু'আয ইবন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ)-এর সংগে এক সফরে ছিলাম। একদিন সকালে সফর অবস্থায় আমি নবী (ﷺ)-এর কাছাকাছি এসে বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আপনি আমাকে এমন বিষয়ে অবহিত করুন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে। তিনি বলেন: তুমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছ। আল্লাহ্ যার প্রতি তা সহজ করেন, তার জন্যই তা সহজ হয়। আর সে আমল হচ্ছে এই, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সংগে কোন বস্তু শরীক করবে না। তুমি সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রামাযানের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্জ আদায় করবে। এরপর তিনি বলেন: আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে অবহিত করব না? আমি বললামঃ জ্বি-হা। ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বলেন, সিয়াম ঢাল স্বরূপ, দান-খয়রাত গুনাহ মোচন করে দেয়, যেরূপ পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। বান্দার মধ্যরাতের সালাত সালিহীনদের নিদর্শন। এরপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন:
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ _____ يَعْمَلُونَ
"তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকায় এবং আমি তাদের যে রিযক দিয়েছি, তা হতে তারা দান করে।" (সূরা সাজদা। ১৬) তারপর তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হচ্ছে জিহাদ। পরে তিনি বলেন: আমি কি তোমাকে ইসলামের রক্ষা কবচ সম্পর্কে অবহিত করব না? আমি বললামঃ জ্বি-হা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বলেন: তুমি তোমার রসনা নিয়ন্ত্রণ করবে, তিনি একথা বলে নিজ জিহ্বার দিকে ইশারা করেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমরা যা কর্তাবার্তা বলি, সে বিষয়েও কি আমরা আল্লাহর নিকট ধৃত হবো? তিনি বলেনঃ তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, মানুষ জাহান্নামে অধোমুখী হয়ে অথবা তিনি বলেছেন, নাকের ডগার উপরে নিক্ষিপ্ত হবে কেবলমাত্র রসনার কারণে।
(আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজা বর্ণিত। তাঁরা সকলে আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মু'আয (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
(হাফিয মুনযিরী (র) বলেনঃ আবু ওয়াইল প্রাপ্ত বয়ষ্ক অবস্থায় মু'আয (রা)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। তার মু'আয (রা) থেকে হাদীস শোনার ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। কেননা, আবু ওয়াইল কুফায় এবং মু'আয (রা) সিরিয়ায় বসবাস করতেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।
দারুকুতনী (র) বলেন, উক্ত হাদীসটি শাহর ইবন হাওশাব (র) মু'আয ইব্ন জাবাল (রা)-এর বর্ণনাসূত্রে গ্রহণযোগ্য। উক্ত সনদ সহীহ্। তবে হযরত শাহর (র)-এর মু'আয (রা) থেকে শোনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। উক্ত হাদীসটি বায়হাকী ও অন্যান্যগণ মায়মূন ইব্ন আবু শায়বা থেকে, তিনি হযরত মু'আয (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই মায়মূন কুফাবাসী একজন বিশ্বস্ত লোক। আমার মনে হয়, তিনি হযরত মু'আয (রা) থেকে শোনেন নি এবং তার সাক্ষ্য পাননি। অথচ হযরত আয়েশা (রা) মু'আয (রা)-এর ত্রিশ বছর পর ইনতিকাল করেন। আমর ইবন আলী (র) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবীদের নাম নিয়ে হাদীস বর্ণনা করতেন। অথচ আমাদের নিকট তার কোন বিশ্বস্ত সূত্র জানা নেই। তিনি বলতেন আমি শুনেছি। অথচ আমার এ কথা জানা নেই যে, কোন মুহাদ্দিস একথা বলেছেন যে, তিনি সাহাবীদের থেকে শুনেছেন।)
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ _____ يَعْمَلُونَ
"তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকায় এবং আমি তাদের যে রিযক দিয়েছি, তা হতে তারা দান করে।" (সূরা সাজদা। ১৬) তারপর তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হচ্ছে জিহাদ। পরে তিনি বলেন: আমি কি তোমাকে ইসলামের রক্ষা কবচ সম্পর্কে অবহিত করব না? আমি বললামঃ জ্বি-হা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বলেন: তুমি তোমার রসনা নিয়ন্ত্রণ করবে, তিনি একথা বলে নিজ জিহ্বার দিকে ইশারা করেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমরা যা কর্তাবার্তা বলি, সে বিষয়েও কি আমরা আল্লাহর নিকট ধৃত হবো? তিনি বলেনঃ তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, মানুষ জাহান্নামে অধোমুখী হয়ে অথবা তিনি বলেছেন, নাকের ডগার উপরে নিক্ষিপ্ত হবে কেবলমাত্র রসনার কারণে।
(আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজা বর্ণিত। তাঁরা সকলে আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মু'আয (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
(হাফিয মুনযিরী (র) বলেনঃ আবু ওয়াইল প্রাপ্ত বয়ষ্ক অবস্থায় মু'আয (রা)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। তার মু'আয (রা) থেকে হাদীস শোনার ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। কেননা, আবু ওয়াইল কুফায় এবং মু'আয (রা) সিরিয়ায় বসবাস করতেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।
দারুকুতনী (র) বলেন, উক্ত হাদীসটি শাহর ইবন হাওশাব (র) মু'আয ইব্ন জাবাল (রা)-এর বর্ণনাসূত্রে গ্রহণযোগ্য। উক্ত সনদ সহীহ্। তবে হযরত শাহর (র)-এর মু'আয (রা) থেকে শোনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। উক্ত হাদীসটি বায়হাকী ও অন্যান্যগণ মায়মূন ইব্ন আবু শায়বা থেকে, তিনি হযরত মু'আয (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই মায়মূন কুফাবাসী একজন বিশ্বস্ত লোক। আমার মনে হয়, তিনি হযরত মু'আয (রা) থেকে শোনেন নি এবং তার সাক্ষ্য পাননি। অথচ হযরত আয়েশা (রা) মু'আয (রা)-এর ত্রিশ বছর পর ইনতিকাল করেন। আমর ইবন আলী (র) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবীদের নাম নিয়ে হাদীস বর্ণনা করতেন। অথচ আমাদের নিকট তার কোন বিশ্বস্ত সূত্র জানা নেই। তিনি বলতেন আমি শুনেছি। অথচ আমার এ কথা জানা নেই যে, কোন মুহাদ্দিস একথা বলেছেন যে, তিনি সাহাবীদের থেকে শুনেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4367- وَعَن معَاذ بن جبل رَضِي الله عَنهُ قَالَ كنت مَعَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي سفر فَأَصْبَحت يَوْمًا قَرِيبا مِنْهُ وَنحن نسير فَقلت يَا رَسُول الله أَخْبرنِي بِعَمَل يدخلني الْجنَّة وَيُبَاعِدنِي عَن النَّار قَالَ لقد سَأَلت عَن عَظِيم وَإنَّهُ ليسير على من يسره الله عَلَيْهِ تعبد الله
وَلَا تشرك بِهِ شَيْئا وتقيم الصَّلَاة وتؤتي الزَّكَاة وتصوم رَمَضَان وتحج الْبَيْت ثمَّ قَالَ أَلا أدلك على أَبْوَاب الْخَيْر قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ الصَّوْم جنَّة وَالصَّدَََقَة تطفىء الْخَطِيئَة كَمَا يطفىء المَاء النَّار وَصَلَاة الرجل فِي جَوف اللَّيْل شعار الصَّالِحين ثمَّ تَلا قَوْله تَتَجَافَى جنُوبهم عَن الْمضَاجِع حَتَّى بلغ يعْملُونَ السَّجْدَة 61 ثمَّ قَالَ أَلا أخْبرك بِرَأْس الْأَمر وعموده وذروة سنامه قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ رَأس الْأَمر الْإِسْلَام وعموده الصَّلَاة وذروة سنامه الْجِهَاد ثمَّ قَالَ أَلا أخْبرك بملاك ذَلِك كُله
قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ كف عَلَيْك هَذَا وَأَشَارَ إِلَى لِسَانه قلت يَا نَبِي الله وَإِنَّا لمؤاخذون بِمَا نتكلم بِهِ قَالَ ثكلتك أمك وَهل يكب النَّاس فِي النَّار على وُجُوههم أَو قَالَ على مناخرهم إِلَّا حصائد ألسنتهم
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه كلهم من رِوَايَة أبي وَائِل عَن معَاذ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح
قَالَ الْحَافِظ وَأَبُو وَائِل أدْرك معَاذًا بِالسِّنِّ وَفِي سَمَاعه عِنْدِي نظر وَكَانَ أَبُو وَائِل بِالْكُوفَةِ ومعاذ بِالشَّام وَالله أعلم
قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ هَذَا الحَدِيث مَعْرُوف من رِوَايَة شهر بن حَوْشَب عَن معَاذ وَهُوَ أشبه بِالصَّوَابِ على اخْتِلَاف علمه فِيهِ كَذَا قَالَ وَشهر مَعَ مَا قيل فِيهِ لم يسمع معَاذًا وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَغَيره عَن مَيْمُون بن أبي شيبَة عَن معَاذ وَمَيْمُون هَذَا كُوفِي ثِقَة مَا أرَاهُ سمع من معَاذ بل وَلَا أدْركهُ فَإِن أَبَا دَاوُد قَالَ لم يدْرك مَيْمُون بن أبي شيبَة عَائِشَة وَعَائِشَة تَأَخَّرت بعد معَاذ من نَحْو ثَلَاثِينَ سنة وَقَالَ عَمْرو بن عَليّ كَانَ يحدث عَن أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَلَيْسَ عندنَا فِي شَيْء مِنْهُ يَقُول سَمِعت وَلم أخبر أَن أحدا يزْعم أَنه سمع من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
وَلَا تشرك بِهِ شَيْئا وتقيم الصَّلَاة وتؤتي الزَّكَاة وتصوم رَمَضَان وتحج الْبَيْت ثمَّ قَالَ أَلا أدلك على أَبْوَاب الْخَيْر قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ الصَّوْم جنَّة وَالصَّدَََقَة تطفىء الْخَطِيئَة كَمَا يطفىء المَاء النَّار وَصَلَاة الرجل فِي جَوف اللَّيْل شعار الصَّالِحين ثمَّ تَلا قَوْله تَتَجَافَى جنُوبهم عَن الْمضَاجِع حَتَّى بلغ يعْملُونَ السَّجْدَة 61 ثمَّ قَالَ أَلا أخْبرك بِرَأْس الْأَمر وعموده وذروة سنامه قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ رَأس الْأَمر الْإِسْلَام وعموده الصَّلَاة وذروة سنامه الْجِهَاد ثمَّ قَالَ أَلا أخْبرك بملاك ذَلِك كُله
قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ كف عَلَيْك هَذَا وَأَشَارَ إِلَى لِسَانه قلت يَا نَبِي الله وَإِنَّا لمؤاخذون بِمَا نتكلم بِهِ قَالَ ثكلتك أمك وَهل يكب النَّاس فِي النَّار على وُجُوههم أَو قَالَ على مناخرهم إِلَّا حصائد ألسنتهم
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه كلهم من رِوَايَة أبي وَائِل عَن معَاذ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح
قَالَ الْحَافِظ وَأَبُو وَائِل أدْرك معَاذًا بِالسِّنِّ وَفِي سَمَاعه عِنْدِي نظر وَكَانَ أَبُو وَائِل بِالْكُوفَةِ ومعاذ بِالشَّام وَالله أعلم
قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ هَذَا الحَدِيث مَعْرُوف من رِوَايَة شهر بن حَوْشَب عَن معَاذ وَهُوَ أشبه بِالصَّوَابِ على اخْتِلَاف علمه فِيهِ كَذَا قَالَ وَشهر مَعَ مَا قيل فِيهِ لم يسمع معَاذًا وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَغَيره عَن مَيْمُون بن أبي شيبَة عَن معَاذ وَمَيْمُون هَذَا كُوفِي ثِقَة مَا أرَاهُ سمع من معَاذ بل وَلَا أدْركهُ فَإِن أَبَا دَاوُد قَالَ لم يدْرك مَيْمُون بن أبي شيبَة عَائِشَة وَعَائِشَة تَأَخَّرت بعد معَاذ من نَحْو ثَلَاثِينَ سنة وَقَالَ عَمْرو بن عَليّ كَانَ يحدث عَن أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَلَيْسَ عندنَا فِي شَيْء مِنْهُ يَقُول سَمِعت وَلم أخبر أَن أحدا يزْعم أَنه سمع من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬৮. তাবারানী সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেন যে, তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, একদা আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমরা যত কথা বলি, তার সব কি আমাদের বিপক্ষে লেখা হয়? তিনি বলেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। মানুষকে তাদের নাকের ডগার উপর অধোমুখী করে জাহান্নামে ফেলা হবে একমাত্র রসনার অসংযমতার কারণে। যতক্ষণ তুমি নীবর থাকবে, ততক্ষণ তুমি নিরাপদ থাকবে, আর যখনই কথা বলবে, সে কথা হয় তোমার পক্ষে যাবে, নতুবা বিপক্ষে।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4368- وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ مُخْتَصرا قَالَ قلت يَا رَسُول الله أكل مَا نتكلم بِهِ يكْتب علينا قَالَ ثكلتك أمك وَهل يكب النَّاس على مناخرهم فِي النَّار إِلَّا حصائد ألسنتهم إِنَّك لن تزَال سالما مَا سكت فَإِذا تَكَلَّمت كتب لَك أَو عَلَيْك
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৬৯. আহমাদ ও অন্যান্যগণ আবদুল হামীদ ইবন বাহরাম (র) থেকে, তিনি শহের ইবুন হাওশাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন গানম্ (র) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা মু'আয (রা) রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে জিজ্ঞেস করেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কোন কাজ সর্বোত্তম। তিনি বলেন: ফরয সালাত আদায়ের পর নফল সালাত আদায় করা। সে বলল: তা কতই না উত্তম। এপর তিনি (নবী ﷺ) বলেন। রামাযানের সিয়াম পালনের পর নফল সিয়াম পালন করা। সে বলল তা কতই না উত্তম। তিনি বলেন: ফরয সাদাকা আদায়ের পর নফল সাদাকা আদায় করা। সে বলল: তা কতই না উত্তম। এরপর সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কোন কাজ সর্বোত্তম? তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজ জিহ্বা বের করে তার উপরে আংগুল রাখেন। এতে মু'আয (রা) 'ইন্নালিল্লাহ্' পাঠ করে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমরা যা কিছু বলি, সব ব্যাপারেই কি ধৃত হবো এবং সব কি আমাদের বিপক্ষে লেখা হবে, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মু'আয (রা)-এর কাঁধে হাত রেখে বলেনঃ হে মু'আয! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। মানুষকে জাহান্নামের নাকের ডগার উপর অধোমুখী করে ফেলা হবে কেবলমাত্র তাদের রসনার কারণেই।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4369- وَرَوَاهُ أَحْمد وَغَيره عَن عبد الحميد بن بهْرَام عَن شهر بن حَوْشَب عَن
عبد الرَّحْمَن بن غنم أَن معَاذًا سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله أَي الْأَعْمَال أفضل فَقَالَ الصَّلَاة بعد الصَّلَاة الْمَفْرُوضَة
قَالَ لَا وَنِعما هِيَ
قَالَ الصَّوْم بعد صِيَام رَمَضَان
قَالَ لَا وَنِعما هِيَ
قَالَ فالصدقة بعد الصَّدَقَة الْمَفْرُوضَة
قَالَ لَا وَنِعما هِيَ
قَالَ يَا رَسُول الله أَي الْأَعْمَال أفضل قَالَ فَأخْرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لِسَانه ثمَّ وضع إصبعه عَلَيْهِ فَاسْتَرْجع معَاذ فَقَالَ يَا رَسُول الله أنؤاخذ بِمَا نقُول كُله وَيكْتب علينا قَالَ فَضرب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم منْكب معَاذ مرَارًا فَقَالَ لَهُ ثكلتك أمك يَا معَاذ بن جبل وَهل يكب النَّاس على مناخرهم فِي نَار جَهَنَّم إِلَّا حصائد ألسنتهم
عبد الرَّحْمَن بن غنم أَن معَاذًا سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله أَي الْأَعْمَال أفضل فَقَالَ الصَّلَاة بعد الصَّلَاة الْمَفْرُوضَة
قَالَ لَا وَنِعما هِيَ
قَالَ الصَّوْم بعد صِيَام رَمَضَان
قَالَ لَا وَنِعما هِيَ
قَالَ فالصدقة بعد الصَّدَقَة الْمَفْرُوضَة
قَالَ لَا وَنِعما هِيَ
قَالَ يَا رَسُول الله أَي الْأَعْمَال أفضل قَالَ فَأخْرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لِسَانه ثمَّ وضع إصبعه عَلَيْهِ فَاسْتَرْجع معَاذ فَقَالَ يَا رَسُول الله أنؤاخذ بِمَا نقُول كُله وَيكْتب علينا قَالَ فَضرب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم منْكب معَاذ مرَارًا فَقَالَ لَهُ ثكلتك أمك يَا معَاذ بن جبل وَهل يكب النَّاس على مناخرهم فِي نَار جَهَنَّم إِلَّا حصائد ألسنتهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৭০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৭০. হযরত আসওয়াদ ইব্ন আসরাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বলেনঃ তোমার হাত সংযত রাখবে, আমি বললামঃ আমি যদি আমার হাত সংযত রাখতে না পারি, তবে আমি কিসের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি? তিনি বলেন: তুমি তোমার রসনা সংযত রাখবে। আমি বললামঃ আমি যদি আমার রসনা সংযত রাখতে না পারি, তবে আমি কিভাবে তা সংযত রাখতে পারি? এরপর তিনি বলেন: কল্যাণময় কাজ ব্যতীত তুমি তোমার হাত অন্য কোন দিকে সম্প্রসারিত করবে না। তুমি ভালো কথা ব্যতীত তোমার রসনা ব্যবহার করবে না।
(ইবন আবুদ দুনিয়া, তাবারানী (র) উত্তম সনদে এবং বায়হাকী বর্ণনা করেন।)
(ইবন আবুদ দুনিয়া, তাবারানী (র) উত্তম সনদে এবং বায়হাকী বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4370- وَعَن أسود بن أَصْرَم رَضِي الله عَنهُ قَالَ قلت يَا رَسُول الله أوصني فَقَالَ تملك يدك
قلت فَمَاذَا أملك إِذا لم أملك يَدي قَالَ تملك لسَانك
قلت فَمَاذَا أملك إِذا لم أملك لساني قَالَ لَا تبسط يدك إِلَّا إِلَى خير وَلَا تقل بلسانك إِلَّا مَعْرُوفا
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد حسن وَالْبَيْهَقِيّ
قلت فَمَاذَا أملك إِذا لم أملك يَدي قَالَ تملك لسَانك
قلت فَمَاذَا أملك إِذا لم أملك لساني قَالَ لَا تبسط يدك إِلَّا إِلَى خير وَلَا تقل بلسانك إِلَّا مَعْرُوفا
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد حسن وَالْبَيْهَقِيّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৭১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৭১. হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম এই কথা বলে তিনি একটি সুদীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। হাদীস বর্ণনার এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে আল্লাহ্ ভীতি অবলম্বনের জন্য উপদেশ দিচ্ছি। কেননা, তা তোমার যাবতীয় কাজের শোভন। আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকরকে অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা আসমানে তোমার আলোচনার বিষয় এবং পৃথিবীতে তোমার জন্য জ্যোতি। আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি নিজের জন্য দীর্ঘ নীরবতা অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা শয়তানকে বিতাড়িত করার উপায় ও তোমার দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য প্রাপ্তির পথ। আমি বললাম: আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি অধিক হাসি থেকে বিরত থাকবে। কেননা, তা অন্তরকে নিষ্প্রাণ করে দেয়, তোমার চেহারায় জ্যোতি দূরীভূত করে দেয়। আমি বললামঃ আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি সত্য কথা বলবে, যদিও 'তা তিক্ত হয়। আমি বললামঃ আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না। আমি বললাম: আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি নিজের জন্য যা চাওনা, তা অপরের জন্য কামনা করবে না।
(আহমাদ, তাবারানী, ইব্ন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ ও হাকিমের নিজ শব্দে বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসের সনদ সহীহ। আমি ইবন হিব্বানের শব্দমালায় এই হাদীসের একটি বিরাট অংশ الترهيب من الظلم অধ্যায়ের লিখেছি, যার মধ্যে ইব্রাহীম (আ)-এর সহীফার একটি ঘটনার উদ্ধৃতি আছে। আল-হাদীস।)
(আহমাদ, তাবারানী, ইব্ন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ ও হাকিমের নিজ শব্দে বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসের সনদ সহীহ। আমি ইবন হিব্বানের শব্দমালায় এই হাদীসের একটি বিরাট অংশ الترهيب من الظلم অধ্যায়ের লিখেছি, যার মধ্যে ইব্রাহীম (আ)-এর সহীফার একটি ঘটনার উদ্ধৃতি আছে। আল-হাদীস।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4371- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ دخلت على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ إِلَى أَن قَالَ قلت يَا رَسُول الله أوصني
قَالَ أوصيك بتقوى الله فَإِنَّهَا زين لأمرك كُله
قلت يَا رَسُول الله زِدْنِي
قَالَ عَلَيْك بِتِلَاوَة الْقُرْآن وَذكر الله عز وَجل فَإِنَّهُ ذكر لَك فِي السَّمَاء وَنور لَك فِي الأَرْض
قلت يَا رَسُول الله زِدْنِي
قَالَ عَلَيْك بطول الصمت فَإِنَّهُ مطردَة للشَّيْطَان وَعون لَك على أَمر دينك
قلت زِدْنِي
قَالَ وَإِيَّاك وَكَثْرَة الضحك فَإِنَّهُ يُمِيت الْقلب وَيذْهب بِنور الْوَجْه
قلت زِدْنِي
قَالَ قل الْحق وَإِن كَانَ مرا
قلت زِدْنِي
قَالَ لَا تخف فِي الله لومة لائم
قلت زِدْنِي
قَالَ ليحجزك عَن النَّاس مَا تعلم من نَفسك
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَقد أملينا قِطْعَة من هَذَا الحَدِيث أطول من هَذِه بِلَفْظ ابْن حبَان فِي التَّرْهِيب من الظُّلم وفيهَا حِكَايَة عَن صحف إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام
قَالَ أوصيك بتقوى الله فَإِنَّهَا زين لأمرك كُله
قلت يَا رَسُول الله زِدْنِي
قَالَ عَلَيْك بِتِلَاوَة الْقُرْآن وَذكر الله عز وَجل فَإِنَّهُ ذكر لَك فِي السَّمَاء وَنور لَك فِي الأَرْض
قلت يَا رَسُول الله زِدْنِي
قَالَ عَلَيْك بطول الصمت فَإِنَّهُ مطردَة للشَّيْطَان وَعون لَك على أَمر دينك
قلت زِدْنِي
قَالَ وَإِيَّاك وَكَثْرَة الضحك فَإِنَّهُ يُمِيت الْقلب وَيذْهب بِنور الْوَجْه
قلت زِدْنِي
قَالَ قل الْحق وَإِن كَانَ مرا
قلت زِدْنِي
قَالَ لَا تخف فِي الله لومة لائم
قلت زِدْنِي
قَالَ ليحجزك عَن النَّاس مَا تعلم من نَفسك
رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَقد أملينا قِطْعَة من هَذَا الحَدِيث أطول من هَذِه بِلَفْظ ابْن حبَان فِي التَّرْهِيب من الظُّلم وفيهَا حِكَايَة عَن صحف إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام
তাহকীক: