আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২৪. অধ্যায়ঃ জানাযা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৮০ টি

হাদীস নং: ৫৪২০
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২০. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তখন সকাল সন্ধ্যায় তার সামনে তার অবস্থানের জায়গা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে জান্নাতীদের অবস্থানের জায়গা পেশ করা হয়, আর যদি সে জাহান্নামী হয়, জাহান্নামীদের অবস্থানের জায়গা পেশ করা হয় এবং বলা হয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত এটা তোমার অবস্থানস্থল।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ ও আবু দাউদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবু দাউদের রিওয়ায়েতে "এবং বলা হয়........ থেকে পরের অংশটুকু নেই।)
كتاب الجنائز
فصل
5423- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن أحدكُم إِذا مَاتَ عرض عَلَيْهِ مَقْعَده بِالْغَدَاةِ والعشي إِن كَانَ من أهل الْجنَّة فَمن أهل الْجنَّة وَإِن كَانَ من أهل النَّار فَمن أهل النَّار فَيُقَال هَذَا مَقْعَدك حَتَّى يَبْعَثك الله يَوْم الْقِيَامَة

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَأَبُو دَاوُد دون قَوْله فَيُقَال إِلَى آخِره
হাদীস নং: ৫৪২১
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কাফিরের জন্য
কবরের নিরানব্বইটি অজগর নিযুক্ত করা হবে, তারা তাকে কিয়ামত পর্যন্ত কামড়াতে ও দংশন করতে।
থাকবে। সেগুলোর মধ্যকার একটি অজগরও যদি পৃথিবীতে নিঃশ্বাস ছাড়ত তবে এ পৃথিবী তৃণ ও উৎপন্ন করত না।
(আহমাদ আবু ইয়া'লা, ইবন হিব্বান (র) সকলেই দাররাজের সনদে আবুল হায়সাম-এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
فصل
5424- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يُسَلط على الْكَافِر فِي قَبره تِسْعَة وَتسْعُونَ تنينا تنهشه وتلدغه حَتَّى تقوم السَّاعَة فَلَو أَن تنينا مِنْهَا نفخت
فِي الأَرْض مَا أنبتت خضراء

رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى وَمن طَرِيقه ابْن حبَان فِي صَحِيحه كلهم من طَرِيق دراج عَن أبي الْهَيْثَم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪২২
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২২. হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিন তার কবরে একটি সবুজ শ্যামল বাগানে অবস্থান করবে। তার জন্য তার কবর সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তার কবরকে পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মত আলোকিত করে দেওয়া হবে। তোমরা কি জান, কি সম্পর্কে এ আয়াতইটি অবতীর্ণ হয়েছেঃ فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى (যে আমার যিকর থেকে বিমুখ) তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন এবং তাকে আমি কিয়ামতের দিন অন্ধ করে উঠাব।” (২০ঃ ১২৪) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জান, সংকীর্ণ জীবন কি? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এটা কবরে কাফিরের শাস্তি। সেই সত্তার কসম, যাঁরা হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয় তার জন্য নিরানব্বইটি অজগর নিযুক্ত করা হবে। তোমরা কি জান, অজগর কি? অজগর হচ্ছে এমন সত্তরটি সর্পের সমান, যার প্রত্যেকটির সাতটি করে মাথা রয়েছে। তারা তাকে কিয়ামত পর্যন্ত কামড়াতে ও দংশন করতে থাকবে।
(আবু ইয়া'লা, ইব্‌ন হিব্বান (র) তাঁর সহীহ-এ-উভয়ে দাররাজ এর সনদে ইব্‌ন হুজায়রার সূত্রে আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ ইবন হিব্বান বর্ণিত।)
كتاب الجنائز
فصل
5425- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْمُؤمن فِي قَبره لفي رَوْضَة خضراء فيرحب لَهُ قَبره سَبْعُونَ ذِرَاعا وينور لَهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَة الْبَدْر أَتَدْرُونَ فِيمَا أنزلت هَذِه الْآيَة فَإِن لَهُ معيشة ضنكا ونحشره يَوْم الْقِيَامَة أعمى طه 421 قَالَ أَتَدْرُونَ مَا الْمَعيشَة الضنك قَالُوا الله وَرَسُوله أعلم
قَالَ عَذَاب الْكَافِر فِي قَبره وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِنَّه يُسَلط عَلَيْهِ تِسْعَة وَتسْعُونَ تنينا أَتَدْرُونَ مَا التنين سَبْعُونَ حَيَّة لكل حَيَّة سبع رُؤُوس يلسعونه ويخدشونه إِلَى يَوْم الْقِيَامَة

رَوَاهُ أَبُو يعلى وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ كِلَاهُمَا من طَرِيق دراج عَن ابْن حجيرة عَنهُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪২৩
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কবরের আযাবের আলোচনা করলেন। তখন উমর (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। আমাদের জ্ঞান কি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, ঠিক আজ যেমনটি আছ, তেমনি থাকবে। তখন উমর (রা) বললেন, তার মুখে পাথর থাকুক।
(আহমাদ (র) ইব্‌ন লাহী'আর সনদে এবং তবারানী উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
فصل
5426- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ذكر فتان الْقَبْر فَقَالَ عمر أترد علينا عقولنا يَا رَسُول الله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نعم كهيئتك الْيَوْم فَقَالَ عمر بِفِيهِ الْحجر

رَوَاهُ أَحْمد من طَرِيق ابْن لَهِيعَة وَالطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪২৪
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ। এ উম্মতকে তো কবরে আযাব দেওয়া হবে। সুতরাং আমার অবস্থা কি হবে, আমি তো একজন অবলা নারী? তিনি বললেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
যারা অটল বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে এবং পরকালে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (১৪ঃ (বাযযার (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الجنائز
فصل
5427- وَعَن عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا قَالَت قلت يَا رَسُول الله تبتلى هَذ الْأمة فِي قبورها فَكيف بِي وَأَنا امْرَأَة ضَعِيفَة قَالَ يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة إِبْرَاهِيم 72

رَوَاهُ الْبَزَّار وَرُوَاته ثِقَات
হাদীস নং: ৫৪২৫
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন বান্দাহকে তার কবরে রাখা হয়, এবং তার সাথী-সঙ্গী তার কাছ থেকে ফিরে আসে, আর সে তাদের ফিরে আসার সময় তাদের জুতোর শব্দ শুনতে পায়। তখন দু'জন ফিরিশতা তার কাছে এসে তাকে বসায় এবং তা জিজ্ঞেস করে, এ নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে তুমি কি বল? উত্তরে মু'মিন বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তখন তাকে বলা হয়, তুমি তোমার জাহান্নামের ঠিকানার দিকে তাকাও। আল্লাহ্ তা'আলা তার বদলে তোমাকে একটি জান্নাতের ঠিকানা দিয়েছেন। নবী (ﷺ) বলেন, সে উভয় ঠিকানা এক সঙ্গে প্রত্যক্ষ করবে। পক্ষান্তরে কাফির অথবা মুনাফিক বলে, আমি কিছু জানি না, মানুষ তাঁর ব্যাপারে যা বলত আমিও তা বলতাম। তখন তাকে বলা হয়, তুমি কিছু জান না এবং কিছু করতেও পারনি। এরপর তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার দুই কানের মাঝখানে আঘাত করা হয়। তখন সে এভাবে চিৎকার করে যে, জ্বিন ও মানব ব্যতীত তার নিকটে যারা থাকে সকলেই সে চিৎকার শুনতে পায়।
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ বুখারী পর্যন্ত।)
كتاب الجنائز
فصل
5428 - وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن العَبْد إِذا وضع فِي قَبره وَتَوَلَّى عَنهُ أَصْحَابه وَإنَّهُ ليسمع قرع نعَالهمْ إِذا انصرفوا أَتَاهُ ملكان فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا كنت تَقول فِي هَذَا النَّبِي مُحَمَّد فَأَما الْمُؤمن فَيَقُول أشهد أَنه عبد الله وَرَسُوله فَيُقَال لَهُ انْظُر إِلَى مَقْعَدك من النَّار أبدلك الله بِهِ مقْعدا من الْجنَّة قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا وَأما الْكَافِر أَو الْمُنَافِق فَيَقُول لَا أَدْرِي كنت أَقُول مَا يَقُول النَّاس فِيهِ فَيُقَال لَا دَريت وَلَا تليت ثمَّ يضْرب بِمِطْرَقَةٍ من حَدِيد ضَرْبَة بَين أُذُنَيْهِ فَيَصِيح صَيْحَة يسْمعهَا من يَلِيهِ إِلَّا الثقلَيْن

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم
হাদীস নং: ৫৪২৬
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২৬. অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন মু'মিন বান্দাকে তার কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে একজন ফিরিশতা এসে বলে, তুমি কার ইবাদত করতে হে? যেহেতু আল্লাহ তাকে হেদায়েত দিয়েছেন তাই সে বলে, আমি আল্লাহর ইবাদত করতাম। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি এ লোকটি সম্পর্কে কি বলতে? সে বলে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। এরপর তাকে আর কোন প্রশ্ন করা হয় না। তখন তাকে এমন একটি গৃহের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তার জন্য জাহান্নামের মধ্যে বরাদ্দ ছিল। এবং তাকে বলা হয়, এ গৃহটি তোমার জন্য বরাদ্দ ছিল, কিন্তু আল্লাহ্ তোমাকে রক্ষা করেছেন। সুতরাং তার বদলে তোমাকে জান্নাতে একটি গৃহ দিয়েছেন। সে জান্নাতের গৃহটি প্রত্যক্ষ করে বলবে, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি গিয়ে আমার পরিবারের লোকদেরকে সুসংবাদ দিয়ে আসি। তাকে বলা হয় বসো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন এবং কাফির অথবা মুনাফিককে যখন তার কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে একজন ফিরিশতা আসে এবং তাকে ধমক দিয়ে জিজ্ঞেস করে, তুমি কার ইবাদত করতে হে? সে বলে, আমি জানি না। তখন তাকে বলা হয়, তুমি কিছু জান না এবং কিছু বলতে পার নি। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি এ লোকটি সম্পর্কে কি বলতে? সে বলে, লোকেরা যা বলত, আমিও তাই বলতাম। এরপর তাকে হাতুড়ী দিয়ে তার দুই কানের মাঝে আঘাত করা হয় তখন সে এভাবে চিৎকার করে যে, জিন ও মানব ব্যতীত সমগ্র সৃষ্টি জগত সে চিৎকারের শব্দ শুনতে পায়।
(আবু দাউদ ও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আহমাদ সহীহ সনদে আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর রিওয়ায়েতে প্রথম রিওয়ায়েতটির মত একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীসের শেষে এ অংশটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন।
"উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে কেউ জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। ফিরিশতা হাতে হাতুড়ী নিয়ে যার সামনেই দাঁড়াবে, সে তো এমনি তো ভীতিগ্রস্ত হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ বললেন يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ
‘‘যারা অটল বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ্ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবে’’ (১৪: ২৭)।)
كتاب الجنائز
فصل
5429- وَفِي رِوَايَة أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْمُؤمن إِذا وضع فِي قَبره أَتَاهُ ملك فَيَقُول لَهُ مَا كنت تعبد فَإِن الله هداه قَالَ كنت أعبد الله فَيَقُول لَهُ مَا كنت تَقول فِي هَذَا الرجل فَيَقُول هُوَ عبد الله وَرَسُوله فَمَا يسْأَل عَن شَيْء بعْدهَا فَينْطَلق بِهِ إِلَى بَيت كَانَ لَهُ فِي النَّار فَيُقَال لَهُ هَذَا كَانَ لَك وَلَكِن الله عصمك فأبدلك بِهِ بَيْتا فِي الْجنَّة فيراه فَيَقُول دَعونِي حَتَّى أذهب فأبشر أَهلِي فَيُقَال لَهُ اسكن قَالَ وَإِن الْكَافِر أَو الْمُنَافِق إِذا وضع فِي قَبره أَتَاهُ ملك فينتهره فَيَقُول لَهُ مَا كنت تعبد فَيَقُول لَا أَدْرِي فَيُقَال لَا دَريت وَلَا تليت فَيُقَال لَهُ مَا كنت تَقول فِي هَذَا الرجل فَيَقُول كنت أَقُول مَا يَقُول النَّاس فيضربه بمطراق بَين أُذُنَيْهِ فَيَصِيح صَيْحَة يسْمعهَا الْخلق غير الثقلَيْن

وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد نَحوه وَالنَّسَائِيّ بِاخْتِصَار وَرَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد صَحِيح من حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ بِنَحْوِ الرِّوَايَة الأولى وَزَاد فِي آخِره فَقَالَ بعض الْقَوْم يَا رَسُول الله مَا أحد يقوم عَلَيْهِ ملك فِي يَده مطراق إِلَّا هيل فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت إِبْرَاهِيم 72
হাদীস নং: ৫৪২৭
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী মহিলা আমার গৃহের দরজায় খাবার চাইতে আসল এবং বলল তোমরা আমাকে খাবার দাও আল্লাহ্ তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং কবর-আযাবের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন। আয়েশা (রা) বলেন, আমি মহিলাটিকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসা পর্যন্ত ধরে রাখলাম। তারপর তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এই ইয়াহুদী মহিলা কি বলে? তিনি জানতে চাইলেন, সে কি বলে? আমি বললাম, সে বলে, আল্লাহ তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং কবর-আযাবের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন। আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং তাঁর দু'হাত উপরের দিকে সম্প্রসারিত করে তুলে আল্লাহর কাছে দাজ্জালের ফিতনা ও কবর-আযাবের ফিতনা থেকে করুণ প্রার্থনা করতে লাগলেন। এরপর বললেন, দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে প্রত্যেক নবীই তাঁর উম্মতকে তীতি প্রদর্শন করেছেন। আমি এক্ষুণি তোমাদেরকে এমন একটি কথা বলব, যা কোন নবী তাঁর উম্মতকে ভীতি প্রদর্শন করতে গিয়ে বলেন নি। নিশ্চয় দাজ্জাল হবে কানা, কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা কানা নন, তার দুই চোখের মাঝখানে 'কাফির' লিখা থাকবে, প্রত্যেক মু'মিন তা পড়তে পারবে। কবরের ফিতনা হচ্ছে, আমার ব্যাপারে কবরবাসীদের পরীক্ষা করা হবে এবং আমার সম্পর্কেই তাদের জিজ্ঞেস করা হবে। যখন লোকটি নেককার হয়, তাকে তার কবরে ভয়-ভীতি ব্যতিরেকে বসানো হয়। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি ইসলাম সম্পর্কে কি বলতে হে? এরপর জিজ্ঞেস করা হয়, এ লোকটি কে? যিনি তোমাদের মাঝে ছিলেন। উত্তরে সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে (আমাদের কাছে) এসেছেন এবং আমরা তাঁর সত্যতা সমর্থন করেছি। তখন তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি সুড়ঙ্গ খুলে দেওয়া হয়। সে জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে দেখে, জাহান্নামের লাভা একটির পর অপরটি আছড়ে পড়ছে। তাকে বলা হয়, তাকিয়ে দেখ, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে যা থেকে রক্ষা করেছেন। এরপর জান্নাতের দিকে তার জন্য একটি সুড়ঙ্গ খুলে দেওয়া হয়। সে জান্নাতের সজীবতা ও তার নেয়ামতসমূহ প্রত্যক্ষ করে। তাকে বলা হয়, এটা তোমার জান্নাতের ঠিকানা, তাকে আরও বলা হয়, তুমি ইয়াকীন তথা দৃঢ় বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলে, ইয়াকীনের উপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে এবং ইয়াকীনের উপর ইনশাআল্লাহ তুমি পুনরুত্থিত হবে। আর যখন লোকটি বদকার হয় তখন তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় তার কবরে বসানো হয় এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি (ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ্ সম্পর্কে) কি বলতে হে? সে বলে, আমি মানুষকে একটি কথা বলতে শুনতাম, তখন তারা যা বলত, আমিও তাই বলতাম। তারপর জান্নাতের দিকে তার জন্য একটি সুড়ঙ্গ খুলে দেওয়া হয়, তখন সে জান্নাতের সজীবতা ও নিয়ামতসমূহ প্রত্যক্ষ করে। তখন (তাকে) বলা হয়, আল্লাহ্ তোমার থেকে যা দূর করে দিয়েছেন তা প্রত্যক্ষ কর। এরপর জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি সুড়ঙ্গ খুলে দেওয়া হয়। সে জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে দেখে যে, তার শিখা একটির পর অপরটি আছড়ে পড়ছে। তাকে বলা হয়, এটা তোমার জাহান্নামের ঠিকানা। তুমি সন্দেহের উপর ছিলে, সন্দেহের উপর মৃত্যুবরণ করেছ এবং সন্দেহের উপরই ইনশা আল্লাহ্ পুনরুত্থিত হবে। এরপর তাকে আযাব দেওয়া হয়।
(আহমাদ (র) সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
فصل
5430- وَعَن عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا قَالَت جَاءَت يَهُودِيَّة استطعمت على بَابي فَقَالَت أَطْعمُونِي أعاذكم الله من فتْنَة الدَّجَّال وَمن فتْنَة عَذَاب الْقَبْر قَالَت فَلم أزل أحبسها حَتَّى جَاءَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقلت يَا رَسُول الله مَا تَقول هَذِه الْيَهُودِيَّة قَالَ وَمَا تَقول قلت تَقول أعاذكم الله من فتْنَة الدَّجَّال وَمن فتْنَة عَذَاب الْقَبْر قَالَت عَائِشَة فَقَامَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَرفع يَدَيْهِ مدا يستعيذ بِاللَّه من فتْنَة الدَّجَّال وَمن فتْنَة عَذَاب الْقَبْر ثمَّ قَالَ أما فتْنَة الدَّجَّال فَإِنَّهُ لم يكن نَبِي إِلَّا حذر أمته وَسَأُحَدِّثُكُمْ بِحَدِيث لم يحذرهُ نَبِي أمته إِنَّه أَعور وَإِن الله لَيْسَ بأعور مَكْتُوب بَين عَيْنَيْهِ كَافِر يقرأه كل مُؤمن فَأَما فتْنَة الْقَبْر فَبِي يفتنون وعني يسْأَلُون فَإِذا كَانَ الرجل الصَّالح أَجْلِس فِي قَبره غير فزع وَلَا مشعوف ثمَّ يُقَال لَهُ فَمَا كنت تَقول فِي الْإِسْلَام فَيُقَال مَا هَذَا الرجل الَّذِي كَانَ فِيكُم فَيَقُول مُحَمَّد رَسُول الله جَاءَ بِالْبَيِّنَاتِ من عِنْد الله فَصَدَّقْنَاهُ فيفرج لَهُ فُرْجَة قبل النَّار فَينْظر إِلَيْهَا يحطم بَعْضهَا بَعْضًا فَيُقَال لَهُ انْظُر إِلَى مَا وقاك الله ثمَّ تفرج لَهُ فُرْجَة إِلَى الْجنَّة فَينْظر إِلَى زهرتها وَمَا فِيهَا فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا وَيُقَال على الْيَقِين كنت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث إِن شَاءَ الله وَإِذا كَانَ الرجل السوء أَجْلِس فِي قَبره فَزعًا مشعوفا فَيُقَال لَهُ فَمَا كنت تَقول فَيَقُول سَمِعت النَّاس يَقُولُونَ قولا فَقلت كَمَا قَالُوا فيفرج لَهُ فُرْجَة إِلَى الْجنَّة فَينْظر إِلَى زهرتها وَمَا فِيهَا فَيُقَال لَهُ انْظُر إِلَى مَا
صرف الله عَنْك ثمَّ يفرج لَهُ فُرْجَة قبل النَّار فَينْظر إِلَيْهَا يحطم بَعْضهَا بَعْضًا وَيُقَال هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا على الشَّك كنت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث إِن شَاءَ الله ثمَّ يعذب

رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد صَحِيح
قَوْله غير مشعوف هُوَ بشين مُعْجمَة بعْدهَا عين مُهْملَة وَآخره فَاء قَالَ أهل اللُّغَة الشعف هُوَ الْفَزع حَتَّى يذهب بِالْقَلْبِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪২৮
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২৮. হযরত বারা' ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জনৈক আনসারের জানাযায় গেলাম এবং আমরা কবর পর্যন্ত পৌছলাম। যখন তাঁকে একটু পরে দাফন করা হবে, এমন সময় হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বসলেন, আমরাও তাঁর পাশে এভাবে বসলাম, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে রয়েছে। তাঁর হাতে ছিল একটি ছড়ি, তদ্দ্বারা তিনি মাটি খোঁচাতে লাগলেন। এরপর মাথা তুলে বললেন, তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি দু'বার বা তিনবার তা' বললেন।
অপর এক রিওয়ায়েতে এ অংশটুকু বেশি আছে, তিনি আরও বললেন, "মৃত ব্যক্তি তাদের (দাফনকারীদের) জুতোর শব্দ শুনতে পায়, যখন তারা পেছন ফিরে চলে আসে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ওহে, তোমার প্রতিপালক কে? তোমার দ্বীন কি? এবং তোমার নবী কে?"
আরেক রিওয়ায়েতে আছে, তার কাছে দু'জন ফিরিশতা এসে তাকে বসায় এবং তাকে লক্ষ্য করে বলে: "তোমার প্রতিপালক কে? সে বলে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ্। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার দ্বীন কি? সে বলে, আমার দ্বীন ইসলাম। তারপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করে এ লোকটি কে, যিনি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছেন? সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসূল। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কিভাবে তা জানলে? সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তা বিশ্বাস করেছি এবংতার সত্যতা সমর্থন করেছি।"
অন্য এক রিওয়ায়েতে এ অংশটুকু বেশি আছে। আল্লাহ্ তা'আলার সেই বাণী হচ্ছে:
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে এবং পরকালে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন" (১৪ঃ ২৭)। তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী ডেকে বলে, নিশ্চয় আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোষাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও, যাতে তার কাছে জান্নাতের বাতাস ও সুগন্ধি পৌঁছে এবং তার দৃষ্টি শক্তির সীমা পর্যন্ত তার কবর তার জন্য প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। তারপর তিনি কাফিরের মৃত্যুর আলোচনা করে বললেন, তারপর তার দেহে তার প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং দু'জন ফিরিস্তা তার কাছে এসে তাকে বসায়। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার প্রতিপালক কে? সে বলে, এ-এ- আমি জানি না। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার দ্বীন কি? সে বলে, এ-এ- আমি জানি না। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এ লোকটি কে, যিনি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছেন? সে বলে, এ- এ- আমি জানি না। তখন আকাশ থেকে একজন আহবানকারী ডেকে বলে, সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জাহান্নামের পোষাক পরিয়ে দাও এবং জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দাও, যাতে তার কাছে জাহান্নামের তাপ ও গরম বাতাস পৌছে এবং তার জন্য তার কবর এভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার পাঁজরের হাঁড়গুলো একটা অপরটার ফাঁকে ঢুকে পড়ে।
আরেক রিওয়ায়েতে এ অংশটুকু বেশি আছে, অতঃপর তার জন্য অন্ধ ও মূক একজন ফিরিশতা নিযুক্ত করা হয়, যার কাছে থাকে লোহার হাতুড়ী। যদি উক্ত হাতুড়ী দ্বারা পর্বতের উপর আঘাত করা হয়, তবে তা ধূলিতে পরিণত হয়ে যাবে। তারপর তাকে সে ফিরিশতা উক্ত হাতুড়ী দ্বারা এভাবে আঘাত করে যে, জিন ও মানব ব্যতীত পূর্ব দিগন্ত ও পশ্চিম দিগন্তের মধ্যবর্তী সমগ্র সৃষ্টিজগৎ সে আঘাতের শব্দ শুনতে পায়। ফলে সে ধূলিতে পরিণত হয়ে যায়। এরপর তার মধ্যে আবার প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
(আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ এমন একটি সনদে এর চেয়ে দীর্ঘ আকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যার সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। আহমাদ বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে গেলাম। তারপর তিনি পূর্ববৎ বর্ণনা দিয়ে বলেন, তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথা তুলে বললেন, তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কথাটি তিনি দু'বার বা তিনবার বললেন। এরপর বললেন, মু'মিন বান্দা যখন দুনিয়ার অন্তিম মুহূর্তে এবং পরকালের সূচনা পর্বে পৌঁছে, তখন আকাশ থেকে সূর্যের মত উজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্ট কিছু ফিরিশতা তার কাছে অবতীর্ণ হয়, তাদের কাছে থাকে জান্নাতের কাফন ও জান্নাতের সুগন্ধি। তাঁরা তার দৃষ্টি সীমার মধ্যে। এরপর মৃত্যুর ফিরিশতা আসে এবং তার শিয়রের কাছে বসে বলেন হে পবিত্র প্রাণ। তুমি আল্লাহর মাগফিরাত ও সন্তুষ্টির দিকে বের হয়ে আস। তিনি বলেন তারপর প্রাণ বের হয় এবং এভাবে বেয়ে পড়ে। যেভাবে মশকের সুখ থেকে পানির ফোঁটা বেয়ে পড়ে। তখন ফিরিশতা তাকে নিয়ে নেয় এবং নেওয়ার পর চোখের পলক পরিমাণ সময়ও তার হাতে রাখে না। তাকে নিয়ে সেই কাফনের মধ্যে এবং সেই সুগন্ধির মধ্যে রেখে দেয় এবং পৃথিবীতে যত মেশকের সুগন্ধি পাওয়া যায় তন্মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট মেশকের সুগন্ধির মত হয়ে সেখান থেকে বের হয়। তিনি বলেন, তারপর তারা তাকে নিয়ে উর্ধ্বে গমন করে এবং তারা ফিরিশতাদের যে দলের পাশ দিয়েই যায়, তারা জিজ্ঞেস করে, এ পবিত্রটি কে? তারা তার দুনিয়ায় যে সব নাম বলা হত, তন্মধ্যে সর্বোত্তম নামটি ব্যবহার করে বলে, অমুখের ছেলে অমুক। এভাবে তারা নিকটবর্তী আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে এবং তারা তার জন্য দরজা খুলতে বলে। তখন তার জন্য দরজা খোলা হয়। অতঃপর প্রত্যেক আকাশ থেকে তার নিকটবর্তী ফিরিশতাগণ পরবর্তী আকাশ পর্যন্ত তাকে এগিয়ে দেয়। এভাবে সে সপ্তমাকাশ পর্যন্ত পৌঁছে। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, তোমরা আমার বান্দার ভাগ্য ইল্লিয়ীনের মধ্যে লিপিবদ্ধ কর এবং তাকে পৃথিবীতে তার দেহে ফিরিয়ে দাও। তারপর দু'জন ফিরিশতা তার কাছে এসে তাকে বসায়। তারপর তাকে লক্ষ্য করে বলে। তোমার প্রতিপালক কে? সে বলে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ। তারা জিজ্ঞেস করে, তোমার দ্বীন কি? সে বলে, আমার দ্বীন ইসলাম। তারা জিজ্ঞেস করে এলাকাটি কে? যিনি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছেন। সে বলে, আল্লাহর রাসূল। তারা জিজ্ঞেস করে, তুমি কিভাবে তা জানলে? সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তার প্রতি ঈমান
এনেছি এবং তার সত্যতা সমর্থন করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন আহবানকারী ডেকে বলে, আমার বান্দাহ সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন, ফলে তার কাছে জান্নাতের মৃদু বায়ু ও সুগন্ধি আসতে থাকে এবং তার জন্য তার কবর দৃষ্টি সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এবং সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট, সুন্দর পোষাক পরিহিত ও সুগন্ধিময় এক ব্যক্তি তার কাছে আসে এবং তাকে বলে, তুমি তোমার জন্য আনন্দদায়ক সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমাকে (জীবৎকালে) এ দিবসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। সে জিজ্ঞেস করে, তুমি কে? তোমার সুন্দর চেহারা কল্যাণ বয়ে আনে। লোকটি বলে, আমি তোমার নেক আমল। সে বলে, হে আমার প্রতিপালক কিয়ামত কায়েম কর। হে আমার প্রতিপালক! কিয়ামত কায়েম কর, যাতে করে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের কাছে ফিরে যেতে পারি।
পক্ষান্তরে, কাফির যখন দুনিয়ার অন্তিম মুহূর্তে এবং আখিরাতের সূচনা পর্বে পৌছে তখন তার কাছে কুৎসিত চেহারা বিশিষ্ট কিছু ফিরিশতা আসে। তাদের কাছে থাকে চট। তারা তার দৃষ্টি সীমার মধ্যে বসে। এরপর মৃত্যুর ফিরিশতা এসে তার শিয়রের কাছে বসে। অতঃপর বলে, হে অপবিত্র আত্মা। আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভের দিকে বের হয়ে আয়। তখন সে তার দেহে বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তারপর তাকে এভাবে টেনে বের করা হয়, যেভাবে ভেজা পশম থেকে লৌহ শলাকা টেনে বের করা হয়। এরপর সে প্রাণটি নিয়ে নেয়। নিয়ে নেওয়ার পর চোখের পলক পরিমাণ সময়ও তার হাতে রাখে না। নিয়ে তাকে সেই চটের মধ্যে রাখে এবং সেখান থেকে পৃথিবীতে যত দুর্গন্ধ রয়েছে তন্মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য দুর্গন্দময়ের রূপে বের হয়। তারা তাকে নিয়ে ঊর্ধ্বে গমন করে। তখন তারা ফিরিশতাদের যে দলের পাশ দিয়েই যায়, তারা জিজ্ঞেস করে, এ দুর্গন্ধটি কিসের। তারা দুনিয়াতে তার যেসব নাম বলা হত তন্মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য নামটি ব্যবহার করে বলে, অমুকের পুত্র অমুক। এভাবে তাকে দুনিয়ায় নিকটবর্তী আকাশ পর্যন্ত পৌছানো হয়। তখন তার জন্য দরজা খুলতে বলা হয়। সুতরাং তার জন্য দরজা খুলে দেয়া হয় না। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)
لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ তিলাওয়াত করলেন: তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করবেনা, যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্রে উট প্রবেশ করে। (৭:৪০) তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, তোমরা তার ভাগ্য নিম্নতম ভূস্তরে সিজ্জীনে লিপিবদ্ধ কর। তারপর তার প্রাণকে বিতাড়িত করা হয় এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে (ভূবনে) পড়ে। তারপর 'তাকে পাখি ছুঁ মেরে নিয়ে নেয় অথবা বায়ু তাকে সুদূর স্থানে উড়িয়ে নিয়ে যায়।” (২২ঃ ৩১) তারপর তার প্রাণ তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং দু'জন ফিরিশতা তার কাছে এসে তাকে বসায়। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার প্রতিপালক কে হে? সে বলে, এ-এ-- আমি জানি না। তিনি বলেন, এর তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার দ্বীন কি? সে বলে, এ-- এ- আমি জানি না। তিনি বলেন, তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এ লোকটি কে, যিনি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন? সে বলে, এ-- এ.. আমি জানি না। তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী ডেকে বলে, সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। ফলে জাহান্নামের উত্তাপ ও গরম বায়ু তার কাছে আসতে থাকে এবং তার জন্য তার কবর এভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার পাঁজর একটা অপরটার ফাঁকে ঢুকে পড়ে। তারপর কুৎসিত চেহারা বিশিষ্ট, ময়লাযুক্ত পোষাক পরিহিত পুঁতে দূর্গন্ধময় এক ব্যক্তি তার কাছে আসে এবং বলে, তুমি তোমার জন্য অসন্তুষ্টিকর সংবাদ গ্রহণ কর। এটাই সেই দিবস যার ভয় তোমাকে দেখানো হত। সে জিজ্ঞেস করে, তুমি কে? তোমার কুৎসিত চেহারা অকল্যাণ বয়ে আনে। লোকটি বলে, আমি তোমার বদ্‌আমল। তখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! কিয়ামত কায়েম করো না। তাঁর অপর রিওয়ায়েতে একই অর্থবোধক ভিন্ন একটি হাদীস বর্ণিত আছে। এতে এ অংশটুকু বেশি আছেঃ "অতঃপর কুৎসিত চেহারা বিশিষ্ট, ময়লাযুক্ত কাপড় পরিহিত, পুঁতি দুর্গন্ধময় এক আগমনকারী আসে এবং বলে, তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে লাঞ্ছনা ও চিরস্থায়ী আযাবের সনদ গ্রহণ কর। সে বলে, আল্লাহ্ তোমাকে অকল্যাণের সনদ দিন, তুমি কে? আগমনকারী বলে, আমি তোমার বদ আমল। তুমি আল্লাহর আনুগত্যের ও তাঁর মন্থর বিরুদ্ধাচরণে খুব চটপটে ছিলে। সুতরাং আল্লাহ্ তোমাকে মন্দ সাজা দিয়েছেন। তারপর তার জন্য একজন অন্ধ, বধির ও মুক ফিরিশতা নিযুক্ত করা হয়, তার হাতে থাকে লোহার হাতুড়ী তদ্দ্বারা যদি পর্বতকে আঘাত করা হয়, তবে তা ধূলিতে পরিণত হয়ে যায়। (সে গুর্জ দ্বারা) তাকে এভাবে আঘাত করে যে, সে ধূলিতে পরিণত হয়ে যায়। পুনরায় তাকে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তাকে আরেকটি আঘাত করা হয়, ফলে সে এমনভাবে চিৎকার করে যে, জিন ও মানবও ব্যতীত সবকিছু সে শব্দ শুনে।
রাবী বারা' বলেন, তারপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তার জন্যে জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয়।
[হাফিয (র) বলেনঃ] এ হাদীসটি হাসান হাদীস। পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে যে, এ হাদীসের সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। এ হাদীস মিনহাল ইব্‌ন আমর-এর সনদে যাযান-এর সূত্রে বারা ইবন আযিব (রা)-থেকে বর্ণিত বলে খ্যাত। আবু মুসা ইস্পাহানী অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বুখারী (র) মিনহালের সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবন মুঈন বলেন, মিনহাল নির্ভরযোগ্য। আহমাদ ইজলী বলেন, তিনি কূফার অধিবাসী একজন নির্ভরযোগ্য রাবী। আহমাদ ইবন হাম্বল (র) বলেন, শু'বা তাঁকে মুহাম্মদের উপর নির্ভর করে পরিত্যাগ করেছেন। আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবু হাতিম বলেন, তাঁর ঘর থেকে সুরের সাথে কিরা'আতের শব্দ শোনা গেছে। আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আবু বিশর আমার কাছে মিনহালের চেয়ে অধিক প্রিয়। যাযান একজন প্রখ্যাত নির্ভরযোগ্য রাবী। কেউ কেউ তাকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। মুসলিম স্বীয় 'সহীহ্'-এ তাঁর সূত্রে দু'টো হাদীস বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী মিনহালের সনদে আহমাদের রিওয়ায়েতের মতই হাদীসটি বর্ণনা করে তিনি বলেন, হাদীসটি সহীহ সনদ বিশিষ্ট। ঈসা ইবন মুসায়্যিব আদী ইবন সাবিত-এর সনদে বারা' (রা)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উক্ত রিওয়ায়েতে সে দু'জন ফিরিশতার নাম উল্লেখ করেছেন। তাতে মু'মিনের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তারপর তাকে তার ঠিকানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার কাছে মুনকার নাকীর নামক দুই ফিরিশতা আসে। তারা তাদের ছেদন দন্ত দ্বারা মাটি খনন করে এবং তাদের ঠোঁট দ্বারা ভূমিকে প্রশস্ত করে। তারপর তাকে উঠিয়ে বসায় এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হয়। ওহে! তোমার প্রতিপালক কে? এভাবে তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
কাফিরের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারপর মুনকার-নাকীর নামক দু'জন ফিরিশতা তার কাছে আসে তারা তাদের নাব দন্ত দ্বারা মাটি খনন করে এবং তার ঠোঁট দ্বারা ভূমিকে প্রশস্ত করে, তাদের আওয়াজ মহা বজ্রনাদের মত, তাদের চক্ষু দৃষ্টিশক্তি লোপকারী বিদ্যুতের মত। তারা তাকে উঠিয়ে বসায়। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ওহে তোমার প্রতিপালক কে? সে বলে, আমি জানি না। তখন কবরের দিক থেকে তাকে ডেকে বলা হয়, তুমি জান না। এবং তাকে তারা লোহার হাতুড়ী দিয়ে আঘাত করে। উদাহরণও অস্তাচলের মধ্যবর্তী যত সৃষ্টি রয়েছে তাদের সবার উপর যদি এক সাথে সে আঘাত করা হত, তবে তারা সকলেই তাকে সমবেতভাবেও তাকে কম জ্ঞান করত না। যার ফলে তার কবর অগ্নিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং তার কবর এভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তার পাঁজরের হাড়গুলো একটা অপরটার মধ্যে ঢুকে পড়বে।
كتاب الجنائز
فصل
5431- وَعَن الْبَراء بن عَازِب رَضِي الله عَنهُ قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي جَنَازَة رجل من الْأَنْصَار فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْر وَلما يلْحد بعد فَجَلَسَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَجَلَسْنَا حوله كَأَنَّمَا على رؤوسنا الطير وَبِيَدِهِ عود ينكت بِهِ فِي الأَرْض فَرفع رَأسه فَقَالَ تعوذوا بِاللَّه من عَذَاب الْقَبْر مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا
زَاد فِي رِوَايَة وَقَالَ إِن الْمَيِّت يسمع خَفق نعَالهمْ إِذا ولوا مُدبرين حِين يُقَال لَهُ يَا هَذَا من رَبك وَمَا دينك وَمن نبيك
وَفِي رِوَايَة ويأتيه ملكان فيجلسانه فَيَقُولَانِ لَهُ من رَبك فَيَقُول رَبِّي الله فَيَقُولَانِ لَهُ وَمَا دينك فَيَقُول ديني الْإِسْلَام فَيَقُولَانِ لَهُ مَا هَذَا الرجل الَّذِي بعث فِيكُم فَيَقُول هُوَ رَسُول الله فَيَقُولَانِ لَهُ وَمَا يدْريك فَيَقُول قَرَأت كتاب الله وَآمَنت وصدقت
زَاد فِي رِوَايَة فَذَلِك قَوْله يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة إِبْرَاهِيم 72 فينادي مُنَاد من السَّمَاء أَن صدق عَبدِي فافرشوه من الْجنَّة وألبسوه من الْجنَّة وافتحوا لَهُ بَابا إِلَى الْجنَّة فيأتيه من روحها وطيبها ويفسح لَهُ فِي قَبره مد بَصَره وَإِن الْكَافِر فَذكر مَوته قَالَ فتعاد روحه فِي جسده ويأتيه ملكان فيجلسانه فَيَقُولَانِ من رَبك فَيَقُول هاه هاه لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ مَا دينك فَيَقُول هاه هاه لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَهُ مَا هَذَا الرجل الَّذِي بعث فِيكُم فَيَقُول هاه هاه لَا أَدْرِي فينادي مُنَاد من السَّمَاء أَن قد كذب فافرشوه من النَّار وألبسوه من النَّار وافتحوا لَهُ بَابا إِلَى النَّار فيأتيه من حرهَا وسمومها ويضيق عَلَيْهِ قَبره حَتَّى تخْتَلف فِيهِ أضلاعه
زَاد فِي رِوَايَة ثمَّ يقيض لَهُ أعمى أبكم مَعَه مرزبة من حَدِيد لَو ضرب بهَا جبلا لصار تُرَابا فيضربه بهَا ضَرْبَة يسْمعهَا من بَين الْمشرق وَالْمغْرب إِلَّا الثقلَيْن فَيصير تُرَابا ثمَّ تُعَاد فِيهِ الرّوح
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَرَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد رُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح أطول من هَذَا وَلَفظه قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكر مثله إِلَى أَن قَالَ فَرفع رَأسه فَقَالَ استعيذوا بِاللَّه من عَذَاب الْقَبْر مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا ثمَّ قَالَ إِن العَبْد الْمُؤمن إِذا كَانَ فِي انْقِطَاع من الدُّنْيَا وإقبال من الْآخِرَة نزل إِلَيْهِ مَلَائِكَة من السَّمَاء بيض الْوُجُوه كَأَن وُجُوههم الشَّمْس مَعَهم كفن من أكفان الْجنَّة وحنوط من حنوط الْجنَّة حَتَّى يجلسوا مِنْهُ مد الْبَصَر وَيَجِيء ملك الْمَوْت عَلَيْهِ السَّلَام حَتَّى يجلس عِنْد رَأسه فَيَقُول أيتها النَّفس الطّيبَة اخْرُجِي إِلَى مغْفرَة من الله ورضوان قَالَ فَتخرج فتسيل كَمَا تسيل القطرة من فِي السقاء فيأخذها فَإِذا أَخذهَا لم يدعوها فِي يَده طرفَة عين حَتَّى يأخذوها فيجعلوها فِي ذَلِك الْكَفَن وَفِي ذَلِك الحنوط وَيخرج مِنْهُ كأطيب نفحة مسك وجدت على وَجه الأَرْض قَالَ فيصعدون بهَا فَلَا يَمرونَ على ملاء من الْمَلَائِكَة إِلَّا قَالُوا مَا هَذَا الرّوح الطّيب فَيَقُولَانِ فلَان ابْن فلَان بِأَحْسَن أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسمى بهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى ينْتَهوا بهَا إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا فيستفتحون لَهُ فَيفتح لَهُ فيشيعه من كل سَمَاء مقربوها إِلَى السَّمَاء الَّتِي تَلِيهَا حَتَّى ينتهى بهَا إِلَى السَّمَاء السَّابِعَة فَيَقُول الله عز وَجل اكتبوا كتاب عَبدِي فِي عليين وأعيدوه إِلَى الأَرْض فِي جسده فيأتيه ملكان فيجلسانه فَيَقُولَانِ من رَبك فَيَقُول رَبِّي الله فَيَقُولَانِ مَا دينك فَيَقُول ديني الْإِسْلَام فَيَقُولَانِ مَا هَذَا الرجل الَّذِي بعث فِيكُم فَيَقُول هُوَ رَسُول الله فَيَقُولَانِ مَا يدْريك فَيَقُول قَرَأت كتاب الله وَآمَنت بِهِ وصدقته فينادي مُنَاد من السَّمَاء أَن قد صدق عَبدِي فأفرشوه من الْجنَّة وافتحوا لَهُ بَابا إِلَى الْجنَّة
قَالَ فيأتيه من روحها وطيبها ويفسح لَهُ فِي قَبره مد بَصَره
قَالَ ويأتيه رجل حسن الْوَجْه حسن الثِّيَاب طيب الرّيح فَيَقُول أبشر بِالَّذِي يَسُرك هَذَا يَوْمك الَّذِي كنت توعد فَيَقُول من أَنْت فوجهك الْوَجْه الْحسن يَجِيء بِالْخَيرِ فَيَقُول أَنا عَمَلك الصَّالح فَيَقُول رب أقِم السَّاعَة رب أقِم السَّاعَة حَتَّى أرجع إِلَى أَهلِي وَمَالِي وَإِن العَبْد الْكَافِر إِذا كَانَ فِي انْقِطَاع من الدُّنْيَا وإقبال من الْآخِرَة نزل إِلَيْهِ مَلَائِكَة سود الْوُجُوه مَعَهم المسوح فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مد الْبَصَر ثمَّ يَجِيء ملك الْمَوْت حَتَّى يجلس عِنْد رَأسه فَيَقُول أيتها النَّفس الخبيثة اخْرُجِي إِلَى سخط من الله وَغَضب فَتفرق فِي جسده فينتزعها كَمَا ينتزع السفود من الصُّوف المبلول فيأخذها فَإِذا أَخذهَا لم يدعوها فِي يَده طرفَة عين حَتَّى يجعلوها فِي تِلْكَ المسوح وَتخرج مِنْهَا كأنتن
جيفة وجدت على وَجه الأَرْض فيصعدون بهَا فَلَا يَمرونَ بهَا على ملاء من الْمَلَائِكَة إِلَّا قَالُوا مَا هَذِه الرّيح الخبيثة فَيَقُولُونَ فلَان ابْن فلَان بأقبح أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسمى بهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى ينتهى بهَا إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا فيستفتح لَهُ فَلَا يفتح لَهُ ثمَّ قَرَأَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا تفتح لَهُم أَبْوَاب السَّمَاء وَلَا يدْخلُونَ الْجنَّة حَتَّى يلج الْجمل فِي سم الْخياط الْأَعْرَاف 04 فَيَقُول الله عز وَجل اكتبوا كِتَابه فِي سِجِّين فِي الأَرْض السُّفْلى ثمَّ تطرح روحه طرحا ثمَّ قَرَأَ وَمن يُشْرك بِاللَّه فَكَأَنَّمَا خر من السَّمَاء فتخطفه الطير أَو تهوي بِهِ الرّيح فِي مَكَان سحيق الْحَج 13 فتعاد روحه فِي جسده ويأتيه ملكانه فيجلسانه فَيَقُولَانِ لَهُ من رَبك فَيَقُول هاه هاه لَا أَدْرِي
قَالَ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا دينك فَيَقُول هاه هاه لَا أَدْرِي
قَالَ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا هَذَا الرجل الَّذِي بعث فِيكُم فَيَقُول هاه هاه لَا أَدْرِي فينادي مُنَاد من السَّمَاء أَن كذب فأفرشوه من النَّار وافتحوا لَهُ بَابا إِلَى النَّار فيأتيه من حرهَا وسمومها ويضيق عَلَيْهِ قَبره حَتَّى تخْتَلف فِيهِ أضلاعهد ويأتيه رجل قَبِيح الْوَجْه قَبِيح الثِّيَاب منتن الرّيح فَيَقُول أبشر بِالَّذِي يسوؤك هَذَا يَوْمك الَّذِي كنت توعد فَيَقُول من أَنْت فوجهك الْوَجْه الْقَبِيح يَجِيء بِالشَّرِّ فَيَقُول أَنا عَمَلك الْخَبيث فَيَقُول رب لَا تقم السَّاعَة
وَفِي رِوَايَة لَهُ بِمَعْنَاهُ وَزَاد فيأتيه آتٍ قَبِيح الْوَجْه قَبِيح الثِّيَاب منتن الرّيح فَيَقُول أبشر بهوان من الله وَعَذَاب مُقيم فَيَقُول بشرك الله بِالشَّرِّ من أَنْت فَيَقُول أَنا عَمَلك الْخَبيث كنت بطيئا عَن طَاعَة الله سَرِيعا فِي مَعْصِيَته فجزاك الله بشر ثمَّ يقيض لَهُ أعمى أَصمّ أبكم فِي يَده مرزبة لَو ضرب بهَا جبل كَانَ تُرَابا فيضربه ضَرْبَة فَيصير تُرَابا ثمَّ يُعِيدهُ الله كَمَا كَانَ فيضربه ضَرْبَة أُخْرَى فَيَصِيح صَيْحَة يسمعهُ كل شَيْء إِلَّا الثقلَيْن
قَالَ الْبَراء ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من النَّار ويمهد لَهُ من فرش النَّار
قَالَ الْحَافِظ هَذَا الحَدِيث حَدِيث حسن رُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح كَمَا تقدم وَهُوَ مَشْهُور بالمنهال بن عَمْرو عَن زَاذَان عَن الْبَراء كَذَا قَالَ أَبُو مُوسَى الْأَصْبَهَانِيّ رَحمَه الله والمنهال روى لَهُ البُخَارِيّ حَدِيثا وَاحِدًا
وَقَالَ ابْن معِين الْمنْهَال ثِقَة
وَقَالَ أَحْمد الْعجلِيّ كُوفِي ثِقَة
وَقَالَ أَحْمد بن حَنْبَل تَركه شُعْبَة على مُحَمَّد
قَالَ عبد الرَّحْمَن بن أبي حَاتِم لِأَنَّهُ سمع من دَاره صَوت قِرَاءَة بالتطريب وَقَالَ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل
سَمِعت أبي يَقُول أَبُو بشر أحب إِلَيّ من الْمنْهَال وزاذان ثِقَة مَشْهُور ألانه بَعضهم وروى لَهُ مُسلم حديثين فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق الْمنْهَال بِنَحْوِ رِوَايَة أَحْمد ثمَّ قَالَ وَهَذَا حَدِيث صَحِيح الْإِسْنَاد وَقد رَوَاهُ عِيسَى بن الْمسيب عَن عدي بن ثَابت عَن الْبَراء عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَذكر فِيهِ اسْم الْملكَيْنِ فَقَالَ فِي ذكر الْمُؤمن فَيرد إِلَى مضجعه فيأتيه مُنكر وَنَكِير يثيران الأَرْض بأنيابهما ويلجفان الأَرْض بشفاههما فيجلسانه ثمَّ يُقَال لَهُ يَا هَذَا من رَبك فَذكره وَقَالَ فِي ذكر الْكَافِر فيأتيه مُنكر وَنَكِير يثيران الأَرْض بأنيابهما ويلجفان الأَرْض بشفاههما أصواتهما كالرعد القاصف وأبصارهما كالبرق الخاطف فيجلسانه ثمَّ يُقَال يَا هَذَا من رَبك فَيَقُول لَا أَدْرِي فينادى من جَانب الْقَبْر لَا دَريت ويضربانه بمرزبة من حَدِيد لَو اجْتمع عَلَيْهَا من بَين الْخَافِقين لم يقلوها يشتعل مِنْهَا قَبره نَارا ويضيق عَلَيْهِ قَبره حَتَّى تخْتَلف أضلاعه
قَوْله هاه هاه هِيَ كلمة تقال فِي الضحك وَفِي الإبعاد وَقد تقال للتوجع وَهُوَ أليق بِمَعْنى الحَدِيث وَالله أعلم
হাদীস নং: ৫৪২৯
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪২৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মু'মিনের জান কবয করার সময় হয়, তখন তার কাছে রহমতের ফিরিশতাগণ রেশমী কাপড় নিয়ে আসে এবং বলে, তুমি আল্লাহর নিয়ামতের দিকে বের হয়ে আস। তখন সে সর্বোৎকৃষ্ট মেশকের সুগন্ধির মত হয়ে বের হয়ে আসে। তারা প্রাণটি একে অপরকে দেয়, এবং তারা তার ঘ্রাণ নেয়। এভাবে তাকে নিয়ে তারা আকাশের দরজায় পৌঁছে। তখন তারা (আকাশের ফিরিশতাগণ) বলাবলি করে, পৃথিবী থেকে আসা এ পবিত্র সুগন্ধি কিসের? তারা যে আকাশেই পৌছে সে আকাশের ফিরিশতাগণ এভাবে বলাবলি করে তারপর তারা তাকে নিয়ে মুমিনদের রূহসমূহের কাছে পৌঁছে। তারা তাকে পেয়ে কোন স্বজন দূরে থাকা পরিবার তাদের প্রবাসী স্বজনের আগমনে যেরূপ আনন্দিত হয় তার চেয়ে বেশি আনন্দিত হয়। তারা জিজ্ঞেস করে, অমুকের কি হয়েছে? সাথে নিয়ে যাওয়া ফিরিশতাগণ বলে, তাকে (এখন) ছেড়ে দাও, সে একটু বিশ্রাম করুক। কেননা, সে দুনিয়ায় পেরেশানীতে ছিল। তখন সে উত্তর দেয়, অমুক তো মারা গিয়েছে, সে কি তোমাদের কাছে আসে নিঃ ফিরিশতাগণ বলে, তাকে তার ঠিকানা হাবিয়া জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে কাফিরের কাছে আযাবের ফিরিশতাগণ একটি চট নিয়ে আসে এবং বলে, তুমি আল্লাহর ক্রোধের দিকে বের হয়ে আস। তখন পুঁতি দুর্গন্ধময় পঁচা লাশের মত হয়ে বের হয় এবং তাকে ভূমির দরজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
(ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এবং ইবন মাজাহ সহীহ্ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
فصل
5432- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْمُؤمن إِذا قبض أَتَتْهُ مَلَائِكَة الرَّحْمَة بحريرة بَيْضَاء فَيَقُولُونَ اخْرُجِي إِلَى روح الله فَتخرج كأطيب ريح الْمسك حَتَّى إِنَّه ليناوله بَعضهم بَعْضًا فيشمونه حَتَّى يَأْتُوا بِهِ بَاب السَّمَاء فَيَقُولُونَ مَا هَذِه الرّيح الطّيبَة الَّتِي جَاءَت من الأَرْض وَلَا يأْتونَ سَمَاء إِلَّا قَالُوا مثل ذَلِك حَتَّى يَأْتُوا بِهِ أَرْوَاح الْمُؤمنِينَ فَلهم أَشد فَرحا بِهِ من أهل الْغَائِب بغائبهم فَيَقُولُونَ مَا فعل فلَان فَيَقُولُونَ دَعوه حَتَّى يستريح فَإِنَّهُ كَانَ فِي غم الدُّنْيَا فَيَقُول قد مَاتَ أما أَتَاكُم فَيَقُولُونَ ذهب بِهِ إِلَى أمه الهاوية
وَأما الْكَافِر فيأتيه مَلَائِكَة الْعَذَاب بمسح فَيَقُولُونَ اخْرُجِي إِلَى غضب الله فَتخرج كأنتن ريح جيفة فَيذْهب بِهِ إِلَى بَاب الأَرْض

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَهُوَ عِنْد ابْن مَاجَه بِنَحْوِهِ بِإِسْنَاد صَحِيح
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩০
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪৩০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর নবী (ﷺ) এর সাথে জানাযায় হাযির হলাম। যখন দাফনকার্য সমাপ্ত হল এবং লোকজন চলে গেল, তখন আল্লাহর নবী (ﷺ) বললেন, নিশ্চয় সে এখন তোমাদের জুতোর আওয়ায শুনতে পাচ্ছে। এখন তার কাছে মুনকার-নাকীর নামক দু'জন ফিরিশতা এসেছে। তাদের চোখগুলো আমার ডেকচীর মত, তাদের ছেদন দন্ত গরুর শিঙ-এর মত এবং তাদের আওয়াজ বজ্রের মত। তারা তাকে উঠিয়ে বসায় এবং তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, সে কার ইবাদত করত? তার নবী কে ছিল? যদি সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়, যারা আল্লাহর ইবাদত করে, তবে সে বলে, আমি আল্লাহর ইবাদত করি, আমার নবী মুহাম্মদ। তিনি আমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমানাদি ও হিদায়েত নিয়ে এসেছেন, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। এটাই আল্লাহর বাণী
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী, তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে এবং পরকালে আল্লাহ্ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।" (১৪:২৭)।
তখন তাকে বলা হয়, তুমি ইয়াকীনের উপর জীবন যাপন করেছ, তারই উপর (স্থিত অবস্থায়) মৃত্যুবরণ করেছ এবং তারই উপর পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তার জন্য তার কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, সে যদি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে সে বলে, আমি জানি না, আমি মানুষকে যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি। তখন তাকে বলা হয়, তুমি সংশয়ের সাথে জীবন যাপন করেছ, সংশয় নিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে এবং সংশয় নিয়েই পুনরুত্থিত হবে। তারপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তার জন্য বহু বিচ্ছু ও অজগর নিযুক্ত করা হব। তন্মধ্যে যদি কোন একটি দুনিয়াতে নিশ্বাস ছাড়ে তবে দুনিয়াতে আর কিছুই উৎপন্ন হবে না। সেগুলো তাকে দংশন করে এবং ভূমিকে চেপে যাওয়ার জন্য হুকুম দেওয়া হয়। তখন তার উপর ভূমি এভাবে চেপে যায় যে, তার পাঁজরের হাঁড়গুলো একটা অপরটার ফাঁকে ঢুকে পড়ে।
(তারারানী (র) 'আল-আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, কেবল ইবন লাহী আ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিব (র) বলেন, অন্য হাদীসের পোষকতায় ইবন লাহী আর হাদীস হাসান। কিন্তু যে হাদীস কেবল ইবন পাহী'আই বর্ণনা করেছেন, তাকে কম সংখ্যক লোকই প্রমাণ স্বরূপ গ্রহন করেছেন।)
كتاب الجنائز
فصل
5433- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ شَهِدنَا جَنَازَة مَعَ نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَلَمَّا فرغ من دَفنهَا وَانْصَرف النَّاس قَالَ نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِنَّه الْآن يسمع خَفق نعالكم أَتَاهُ مُنكر وَنَكِير أعينهما مثل قدور النّحاس وأنيابهما مثل صياصي الْبَقر وأصواتهما مثل الرَّعْد فيجلسانه فيسألانه مَا كَانَ يعبد وَمن كَانَ نبيه فَإِن كَانَ مِمَّن يعبد الله قَالَ أعبد الله ونبيي
مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهدى فَآمَنا بِهِ واتبعناه فَذَلِك قَول الله يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة إِبْرَاهِيم 72 فَيُقَال لَهُ على الْيَقِين حييت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث ثمَّ يفتح لَهُ بَاب إِلَى الْجنَّة ويوسع لَهُ فِي حفرته وَإِن كَانَ من أهل الشَّك قَالَ لَا أَدْرِي سَمِعت النَّاس يَقُولُونَ شَيْئا فقلته فَيُقَال لَهُ على الشَّك حييت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث ثمَّ يفتح لَهُ بَاب إِلَى النَّار وتسلط عَلَيْهِ عقارب وتنانين لَو نفخ أحدهم على الدُّنْيَا مَا أنبتت شَيْئا تنهشه وتؤمر الأَرْض فتضطم عَلَيْهِ حَتَّى تخْتَلف أضلاعه

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَقَالَ تفرد بِهِ ابْن لَهِيعَة
قَالَ الْحَافِظ ابْن لَهِيعَة حَدِيثه حسن فِي المتابعات وَأما مَا انْفَرد بِهِ فقليل من يحْتَج بِهِ وَالله أعلم
صياصي الْبَقر قُرُونهَا
হাদীস নং: ৫৪৩১
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪৩১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, অথবা বলেছেন, যখন তোমাদের কাউকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে নীল পোষাক পরিহিত কালো দু'জন ফিরিশতা আসে। তাদের একজনকে বলা হয়, মুনকার, অপরজনকে বলা হয়, নাকীর। তাঁরা জিজ্ঞেস করে, এ লোকটি সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন সে (তার জীবদ্দশায়) যা বলত তাই বলবে। সে বলবে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন তারা বলে, আমরা জানতাম যে, তুমি একথা বলবে। তারপর তার জন্য তার কবর দৈর্ঘ্যে সত্তর হাত ও প্রস্থে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং তাকে বলা হয়, তুমি ঘুমিয়ে থাক। সে বলে, আমি আমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাই এবং তাদেরকে এ সংবাদটি জানিয়ে আসি। তারা (ফিরিশতাগণ) বলে, তুমি সেই বরের মত ঘুমিয়ে থাক, যাকে তার পরিবারের তার সবচেয়ে বেশি প্রিয়জনই জাগ্রত করে। এভাবে আল্লাহ তাকে তার সেই শয্যা থেকে পুনরুত্থিত করবেন।
আর যদি সে মুনাফিক হয়, সে বলে, আমি মানুষকে যেভাবে মন্তব্য করতে শুনেছি, তদ্রূপই বলেছি। আমি জানি না। তখন তারা বলে, আমরা জানতাম যে, তুমি একথা বলবে। তারপর ভূমিকে বলা হয়, তুমি তার জন্য সংকুচিত হয়ে যাও। তখন ভূমি তার জন্য এভাবে সংকুচিত হয়ে যায় যে, তার পাঁজরের হাঁড়গুলো একটা অপরটার ফাঁকে ঢুকে পড়ে। এভাবে আল্লাহ তাকে তার সেই শয্যা থেকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত সে আযান পেতে থাকে।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। ইবন হিব্বান ও তাঁর 'সহীহ' এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الجنائز
فصل
5434- وَعَن أبي هُرَيْرَة أَيْضا رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا قبر الْمَيِّت أَو قَالَ أحدكُم أَتَاهُ ملكان أسودان أزرقان يُقَال لأَحَدهمَا الْمُنكر وَللْآخر النكير فَيَقُولَانِ مَا كنت تَقول فِي هَذَا الرجل فَيَقُول مَا كَانَ يَقُول هُوَ عبد الله وَرَسُوله أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله فَيَقُولَانِ قد كُنَّا نعلم أَنَّك تَقول هَذَا ثمَّ يفسح لَهُ فِي قَبره سَبْعُونَ ذِرَاعا فِي سبعين ثمَّ ينور لَهُ فِيهِ ثمَّ يُقَال لَهُ نم فَيَقُول أرجع إِلَى أَهلِي فَأخْبرهُم فَيَقُولَانِ نم كنومة الْعَرُوس الَّذِي لَا يوقظه إِلَّا أحب أَهله إِلَيْهِ حَتَّى يَبْعَثهُ الله من مضجعه ذَلِك وَإِن كَانَ منافقا قَالَ سَمِعت النَّاس يَقُولُونَ قولا فَقلت مثله لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ قد كُنَّا نعلم أَنَّك تَقول ذَلِك فَيُقَال للْأَرْض التئمي عَلَيْهِ فتلتئم عَلَيْهِ فتختلف أضلاعه فَلَا يزَال فِيهَا معذبا حَتَّى يَبْعَثهُ الله من مضجعه ذَلِك

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
الْعَرُوس يُطلق على الرجل وعَلى الْمَرْأَة مَا داما فِي أعراسهما
হাদীস নং: ৫৪৩২
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪৩২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয় তখন সে দাফনকারীগণ ফিরে আসার সময় তাদের জুতোর শব্দ শুনতে পায়। যদি সে মু'মিন হয়, তবে তার সালাত তার মাথার কাছে, রোযা তার ডান দিকে, যাকাত তার বাম দিকে, তার সাদাকা, দরূদ, সৎকাজ মানুষের প্রতি অনুগ্রহ ইত্যাদি নেককাজ তার দু'পায়ের কাছে থাকে। তারপর তার শিয়রের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন সালাত বলে, আমার দিক থেকে প্রবেশ করার পথই নেই, এরপর তার ডান দিক থেকে আযান উপস্থিত করা হয়, তখন সাওম বলে, আমার দিক থেকে প্রবেশ করার পথ নেই, এরপর তার দু'পায়ের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন তার নেক আমল তথা সাদাকা, সৎকাজও পরোপকার বলে, আমার দিক থেকে প্রবেশ করার পথ নেই। তখন তাকে বলা হয়, বস! সে উঠে বসে। তখন এভাবে তার সামনে সূর্যের অবিকল ছবি উপস্থিত করা হয় যে, সূর্য ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাকে তখন জিজ্ঞেস করা হয়, এ সময় যে তোমাদের কাছে ছিল, সে সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? এবং এব্যপারে তুমি কি সাক্ষ্য দাও? সে বলে, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি সালাত আদায় করব। তারা বলে, তুমি একটু পরেই সালাত আদায় করতে পারবে, এখন আমরা তোমাকে যে সম্পর্কে প্রশ্ন করে তার উত্তর দাও। এ লোকটি যে তোমার কাছে ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে তোমার অভিমত কি এবং তুমি তাঁর ব্যাপারে কি সাক্ষ্য দাও তিনি বলেন, সে বলে, তিনি মুহাম্মদ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন। তখন তাকে বলা হয়, এর উপর তুমি জীবন যাপন করেছ, এর উপরই তুমি মৃত্যুবরণ করেছ এবং এর উপরই আল্লাহ চাহেত তুমি পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তাকে বলা হয়, এটা তোমার জান্নাতের ঠিকানা এবং আল্লাহ তা'আলা এতে যা কিছু প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমার জন্য। তখন তার আনন্দ উৎফুল্লতা বেড়ে যায়। তারপর তার জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তাকে বলা হয়, তুমি যদি আল্লাহর অবাধ্যচরণ করতে তবে এটা ছিল তোমার ঠিকানা এবং যা কিছু আল্লাহ্ এতে প্রস্তুত রেখেছেন তার সবটাই তোমাকে ভোগ করতে হত। তখন তার আনন্দ ও উৎফুল্লতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য তার কবর সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়, তার কবর আলোকিত করে দেওয়া হয় এবং যেভাবে আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রথমে জীবন দান করেছেন তদ্রূপ তার দেহকে পুনরায় প্রাণ ফিরিয়ে দেন। তার প্রাণকে সুগন্ধিময় বায়ুতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে পাখিরূপে জান্নাতের বৃক্ষরাজিতে বিচরণ করে। এটাই হচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে পার্থিব জীবনে ও পরকালে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন (১৪ঃ ২৭)
পক্ষান্তরে, কাফিরের শিয়রের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন (তা প্রতিহত করার মত) কিন্তু পাওয়া যায় না। তারপর যখন তার ডান দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না, যখন তার বাম দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না, যখন তার দু'পায়ের দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না। তখন তাকে বলা হয়, বস তখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বসে-এ লোকটি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি, যিনি তোমাদের মধ্যে ছিলেন? এবং তাঁর সম্পর্কে তুমি কি সাক্ষ্য দাও? সে বলে, কোন লোকটি? সে নাম বলতে পারে না। তাকে বলা হয়, মুহাম্মদ। সে বলে, আমি জানি না, আমি লোকজনকে যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি। তখন তাকে বলা হয়, এরই উপর তুমি জীবন যাপন করেছ, এরই উপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছ এবং এরই উপর আল্লাহ্ চাহেত তুমি পুনরুত্থিত হবে। তারপর তার জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়, এটা তোমার জাহান্নামের ঠিকানা এবং আল্লাহ্ এতে যা প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমারই জন্যে। তখন তার আপেক্ষ ও মর্মবেদনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। (ফিরিশতা) তাকে বলে, যদি তুমি আল্লাহর আনুগত্য করতে, তবে এটা ছিল তোমার ঠিকানা এবং আল্লাহ্ যা এতে প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমার জন্যেই ছিল। তখন তার আক্ষেপ ও মর্মবেদনা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য তার কবর এভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার পাঁজরের হাড়গুলো একটা অপরটার মধ্যে ঢুকে পড়ে। এটাই হচ্ছে সেই সংকটময় জীবন, যা আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতে বলেছেন: فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى তার জন্য রয়েছে সংকটময় জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ করে তুলব।" (২০ঃ ১২৪)
(তবারানী (র) 'আল-আওসাত' এবং ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ ইবন হিব্বান বর্ণিত। তবারানী এ অংশটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন।
আবু উমর যারীর বলেন, আমি হাম্মাদ ইব্‌ন সালামকে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আহলে কিবলা ছিল। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবু উমর বলেন, সে মনের দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়াই এ সাক্ষ্য দিত। মানুষকে যা বলতে শুনত, সেও তাই বলত।)
كتاب الجنائز
فصل
5435- وَعَن أبي هُرَيْرَة أَيْضا رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْمَيِّت إِذا وضع فِي قَبره إِنَّه يسمع خَفق نعَالهمْ حِين يولوا مُدبرين فَإِن كَانَ مُؤمنا كَانَت الصَّلَاة عِنْد رَأسه
وَكَانَ الصّيام عَن يَمِينه وَكَانَت الزَّكَاة عَن شِمَاله وَكَانَ فعل الْخيرَات من الصَّدَقَة وَالصَّلَاة وَالْمَعْرُوف وَالْإِحْسَان إِلَى النَّاس عِنْد رجلَيْهِ فَيُؤتى من قبل رَأسه فَتَقول الصَّلَاة مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى عَن يَمِينه فَيَقُول الصّيام مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى عَن يسَاره فَتَقول الزَّكَاة مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى من قبل رجلَيْهِ فَيَقُول فعل الْخيرَات من الصَّدَقَة وَالْمَعْرُوف وَالْإِحْسَان إِلَى النَّاس مَا قبلي مدْخل فَيُقَال لَهُ اجْلِسْ فيجلس قد مثلت لَهُ الشَّمْس وَقد دنت للغروب فَيُقَال لَهُ أرأيتك هَذَا الَّذِي كَانَ قبلكُمْ مَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ فَيَقُول دَعونِي حَتَّى أُصَلِّي فَيَقُولُونَ إِنَّك ستفعل أخبرنَا عَمَّا نَسْأَلك عَنهُ أرأيتك هَذَا الرجل الَّذِي كَانَ قبلكُمْ مَاذَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ قَالَ فَيَقُول مُحَمَّد أشهد أَنه رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَأَنه جَاءَ بِالْحَقِّ من عِنْد الله فَيُقَال لَهُ على ذَلِك حييت وعَلى ذَلِك مت وعَلى ذَلِك تبْعَث إِن شَاءَ الله ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب الْجنَّة فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا وَمَا أعد الله لَك فِيهَا فَيَزْدَاد غِبْطَة وسرورا ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب النَّار فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك وَمَا أعد الله لَك فِيهَا لَو عصيته فَيَزْدَاد غِبْطَة وسرورا ثمَّ يفسح لَهُ فِي قَبره سَبْعُونَ ذِرَاعا وينور لَهُ فِيهِ ويعاد الْجَسَد كَمَا بَدَأَ مِنْهُ فتجعل نسمته فِي النسيم الطّيب وَهِي طير تعلق فِي شجر الْجنَّة فَذَلِك قَوْله يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة إِبْرَاهِيم 72 الْآيَة وَإِن الْكَافِر إِذا أُتِي من قبل رَأسه لم يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي عَن يَمِينه فَلَا يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي عَن شِمَاله فَلَا يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي من قبل رجلَيْهِ فَلَا يُوجد شَيْء فَيُقَال لَهُ اجْلِسْ فيجلس مَرْعُوبًا خَائفًا فَيُقَال أرأيتك هَذَا الرجل الَّذِي كَانَ فِيكُم مَاذَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ فَيَقُول أَي رجل وَلَا يَهْتَدِي لاسمه فَيُقَال لَهُ مُحَمَّد فَيَقُول لَا أَدْرِي سَمِعت النَّاس قَالُوا قولا فَقلت كَمَا قَالَ النَّاس فَيُقَال لَهُ على ذَلِك حييت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث إِن شَاءَ الله ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب النَّار فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك من النَّار وَمَا أعد الله لَك فِيهَا فَيَزْدَاد حسرة وثبورا ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب الْجنَّة وَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا وَمَا أعد الله لَك فِيهَا لَو أطعته فَيَزْدَاد حسرة وثبورا ثمَّ يضيق عَلَيْهِ قَبره حَتَّى تخْتَلف فِيهِ أضلاعه فَتلك الْمَعيشَة الضنكة الَّتِي قَالَ الله فَإِن لَهُ معيشة ضنكا ونحشره يَوْم الْقِيَامَة أعمى طه 421

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط
وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ وَزَاد الطَّبَرَانِيّ قَالَ أَبُو عمر يَعْنِي الضَّرِير
قلت لحماد بن سَلمَة كَانَ هَذَا من أهل الْقبْلَة قَالَ
نعم
قَالَ أَبُو عمر كَانَ شهد بِهَذِهِ الشَّهَادَة على غير يَقِين يرجع إِلَى قلبه كَانَ يسمع النَّاس يَقُولُونَ شَيْئا فيقوله
হাদীস নং: ৫৪৩৩
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪৩৩. তবারানীর অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, মানুষকে তার কবরে আযাব দেওয়া হয়। তখন তার শিয়রের দিক থেকে তার উপর আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন কুরআন তিলাওয়াত তা প্রতিহত করে, যখন তার দুই হাতের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন সাদাকা তা প্রতিহত করে এবং যখন তার দু'পাশের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন তার মসজিদে গমন তা প্রতিহত করে।
[হাফিয (র) বলেনঃ], আমি "কাপড়ে প্রস্রাব লাগার ব্যাপারে সতর্কীকরণ" ও "চোগলখোরী" অধ্যায়ে এ সম্পর্কে কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করেছি যে, প্রস্রাব ও চোগলখোরীর কারণে কবরের আযাব হয়। সে সব হাদীসের কোনটিই আমি এখানে পুনরায় উল্লেখ করিনি। কবরের আযাব ও দুই ফিরিস্তার প্রশ্ন সম্পর্কিত হাদীস প্রচুর। তবে আমি যা উল্লেখ করেছি তাই যথেষ্ট।
كتاب الجنائز
فصل
5436- وَفِي رِوَايَة للطبراني يُؤْتى الرجل فِي قَبره فَإِذا أُتِي من قبل رَأسه دَفعته تِلَاوَة الْقُرْآن وَإِذا أُتِي من قبل يَدَيْهِ دَفعته الصَّدَقَة وَإِذا أُتِي من قبل رجلَيْهِ دَفعه مَشْيه إِلَى الْمَسَاجِد
الحَدِيث

النَّسمَة بِفَتْح النُّون وَالسِّين هِيَ الرّوح
قَوْله تعلق بِضَم اللَّام أَي تَأْكُل
قَالَ الْحَافِظ وَقد أملينا فِي التَّرْهِيب من إِصَابَة الْبَوْل الثَّوْب وَفِي النميمة جملَة من الْأَحَادِيث فِي أَن عَذَاب الْقَبْر من الْبَوْل والنميمة لم نعد من تِلْكَ الْأَحَادِيث هُنَا شَيْئا وَالْأَحَادِيث فِي عَذَاب الْقَبْر وسؤال الْملكَيْنِ كَثِيرَة وَفِيمَا ذَكرْنَاهُ كِفَايَة وَالله الْمُوفق لَا رب غَيره
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩৪
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ
৫৪৩৪. হযরত ইবন উমর (রা)-এ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন মুসলমান জুমু'আর দিন অথবা জুমু'আর রাত্রে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করেন।
(তিরমিযী প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গারীব। এর সনদ 'মুত্তাসিল' নয়।)
كتاب الجنائز
فصل
5437- وَقد رُوِيَ عَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا من مُسلم يَمُوت يَوْم الْجُمُعَة أَو لَيْلَة الْجُمُعَة إِلَّا وَقَاه الله فتْنَة الْقَبْر

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَغَيره وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب وَلَيْسَ إِسْنَاده بِمُتَّصِل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩৫
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ কবরের উপর বসা ও মৃত ব্যক্তির হাঁড় ভেঙ্গে ফেলা সম্পর্কে সতর্কীকরণ
৫৪৩৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারও পক্ষে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসা যার ফলে তার কাপড় পুড়ে যায় এবং শরীরের চামড়া পর্যন্ত পৌছে কোন কবরের উপর বসার চেয়ে শ্রেয়।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْهِيب من الْجُلُوس على الْقَبْر وَكسر عظم الْمَيِّت
5438- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لِأَن يجلس أحدكُم على جَمْرَة فتحرق ثِيَابه فتخلص إِلَى جلده خير من أَن يجلس على قبر

رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩৬
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ কবরের উপর বসা ও মৃত ব্যক্তির হাঁড় ভেঙ্গে ফেলা সম্পর্কে সতর্কীকরণ
৫৪৩৬. হযরত উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জ্বলন্ত অঙ্গার অথবা তরবারির (ধারের) উপর হাঁটা অথবা আমার পায়ের চামড়া দিয়ে আমার জুতো সেলাই করা, কোন কবরের উপর দিয়ে হাঁটার চেয়ে, আমার কাছে অধিক প্রিয়।
(ইবন মাজাহ (র) উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْهِيب من الْجُلُوس على الْقَبْر وَكسر عظم الْمَيِّت
5439- وَعَن عقبَة بن عَامر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لِأَن أَمْشِي على جَمْرَة أَو سيف أَو أخصف نَعْلي برجلي أحب إِلَيّ من أَن أَمْشِي على قبر

رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد جيد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩৭
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ কবরের উপর বসা ও মৃত ব্যক্তির হাঁড় ভেঙ্গে ফেলা সম্পর্কে সতর্কীকরণ
৫৪৩৭. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর হাঁটা আমার কাছে কোন মুসলমানের কবরকে পদদলিত করার চেয়ে অধিক প্রিয়।
(তবারানী (র) 'আল-কাবীর' গ্রন্থে হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। 'আসল'-এ হাদীসটি মারফুরূপে বর্ণিত হয়নি।)
كتاب الجنائز
التَّرْهِيب من الْجُلُوس على الْقَبْر وَكسر عظم الْمَيِّت
5440- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ لِأَن أَطَأ على جَمْرَة أحب إِلَيّ من أَن أَطَأ على قبر مُسلم

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَاد حسن وَلَيْسَ فِي أُصَلِّي رَفعه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩৮
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ কবরের উপর বসা ও মৃত ব্যক্তির হাঁড় ভেঙ্গে ফেলা সম্পর্কে সতর্কীকরণ
৫৪৩৮. হযরত উমারা ইব্‌ন হাযম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে একটি কবরের উপর বসা দেখে বললেন, হে কবরের উপর উপবিষ্ট ব্যক্তি। তুমি কবরের উপর থেকে নেমে যাও। তুমি কবরবাসীকে কষ্ট দিও না এবং সেও যেন তোমাকে কষ্ট না দেয়।
(তবারানী (র) আল-কাবীর' গ্রন্থে ইবন লাহী'আর রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْهِيب من الْجُلُوس على الْقَبْر وَكسر عظم الْمَيِّت
5441- وَعَن عمَارَة بن حزم رَضِي الله عَنهُ قَالَ رَآنِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم جَالِسا على قبر فَقَالَ يَا صَاحب الْقَبْر انْزِلْ من على الْقَبْر لَا تؤذي صَاحب الْقَبْر وَلَا يُؤْذِيك

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير من رِوَايَة ابْن لَهِيعَة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪৩৯
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ কবরের উপর বসা ও মৃত ব্যক্তির হাঁড় ভেঙ্গে ফেলা সম্পর্কে সতর্কীকরণ
৫৪৩৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তির হাঁড় ভেঙ্গে ফেলা তার জীবিত অবস্থায় হাঁড় ভেঙ্গে ফেলার মতই (গুনাহর কাজ)।
(আবু দাউদ ইবন মাজাহ ও ইবন হিব্বান (র) স্বীয় 'সহীহ্'-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْهِيب من الْجُلُوس على الْقَبْر وَكسر عظم الْمَيِّت
5442- وَرُوِيَ عَن عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كسر عظم الْمَيِّت ككسره حَيا

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
tahqiq

তাহকীক: