আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২৪. অধ্যায়ঃ জানাযা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৮০ টি

হাদীস নং: ৫২৮০
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮০. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর মি'রাজ গমনের রাত্রি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ফিরিশতাদের যে জামা'আতের পাশ দিয়েই গিয়েছেন, তারাই তাঁকে পরামর্শ
দিয়েছেন যে, আপনি আপনার উন্মাতকে শিঙা নেয়ার পরামর্শ দিন।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব।
[হাফিয (র) বলেনঃ] আব্দুর রহমান তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে হাদীস শোনেন নি। কেউ কেউ বলেন, শুনেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5280- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ حدث رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن لَيْلَة أسرِي بِهِ أَنه لم يمر على ملإ من الْمَلَائِكَة إِلَّا أَمرُوهُ أَن مر أمتك بالحجامة

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
قَالَ الْحَافِظ عبد الرَّحْمَن لم يسمع من أَبِيه عبد الله بن مَسْعُود وَقيل سمع
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮১
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮১. হযরত ইকরিমা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রা)-এর তিনজন শিঙাদাতা গোলাম
ছিল। তন্মধ্যে দু'জন তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করত এবং একজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে শিঙা দিত। বর্ণনাকারী বলেন, ইবন আব্বাস (রা) বলেছেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেন, শিঙা দাতা গোলাম হচ্ছে উৎকৃষ্ট গোলাম। সে রক্ত নামিয়ে দেয়, পৃষ্ঠ হাল্কা করে এবং চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে। ইব্‌ন আব্বাস (রা) আরও বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মি'রাজ সংঘটিত হয়েছে, তখন তিনি ফিরিশতাদের যে জামা'আতের পাশ দিয়েই গিয়েছেন, তারা বলেছেন, আপনি নিয়মিত শিঙা ব্যবহার করুন। তিনি বলেন, তোমরা যে সকল দিনগুলোতে শিঙা লাগাও তন্মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে (চান্দ্র মাসের) সতের, উনিশ ও একুশ তারিখ। তিনি আরও বলেন, তোমরা যেসব ঔষধ ব্যবহার কর তন্যধ্যে সর্বোত্তম ঔষধ হচ্ছে নাকে ব্যবহার্য ঔষধ। শিঙা লাগানো এবং জোলাপ প্রয়োগ করা। একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দাঁতের মাড়িতে আব্বাস (রা) ও তাঁর সাথীগণ ঔষধ লাগালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, কে আমার দাঁতের মাড়িতে ঔষধ লাগিয়েছে। তখন তাঁরা সকলেই নিরব রইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাঁর চাচা আব্বাস ব্যতীত গৃহের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, প্রত্যেকেরই দাঁতের মাড়িতে ঔষধ লাগানো হবে।
নাযর বলেন, دود-এর অর্থ মুখের ভিতরে ঔষধ প্রয়োগ করা।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আমার জানা মতে, হাদীসটি কেবল উব্বাদ ইবন মানসুর নাজীর রেওয়ায়াতেই বর্ণিত।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5281- وَعَن عِكْرِمَة قَالَ كَانَ لِابْنِ عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا غلمة ثَلَاثَة حجامون وَكَانَ اثْنَان مِنْهُم يغلان عَلَيْهِ وعَلى أَهله وَوَاحِد يحجمه ويحجم أَهله
قَالَ وَقَالَ ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نعم العَبْد الْحجام يذهب الدَّم ويخف الصلب ويجلو عَن الْبَصَر وَقَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَيْثُ عرج بِهِ مَا مر على ملإ من الْمَلَائِكَة إِلَّا قَالُوا عَلَيْك بالحجامة وَقَالَ إِن خير مَا تحتجمون فِيهِ يَوْم سبع عشرَة وَيَوْم تسع عشرَة وَيَوْم إِحْدَى وَعشْرين وَقَالَ إِن خير مَا تداويتم بِهِ السعوط واللدود والحجامة وَالْمَشْي وَأَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لده الْعَبَّاس وَأَصْحَابه فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من لدني فكلهم أَمْسكُوا فَقَالَ لَا يبْقى أحد مِمَّن فِي الْبَيْت إِلَّا لد غير عَمه الْعَبَّاس
قَالَ النَّضر اللدود الوجور

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث عباد بن مَنْصُور يَعْنِي النَّاجِي
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮২
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮২. হযরত ইবন মাজা (র) তাঁরই সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে রাত্রে আমার মিরাজ গমন হয়েছে, সে রাত্রে আমি ফিরিশতাদের যে জামা'আতের পাশ দিয়েই গিয়েছি তাঁরা সকলেই আমাকে বলেন, হে মুহাম্মদ (ﷺ)। আপনি নিয়মিত শিঙা লাগাবেন।
(হাকিম (র) তিনভাগে বিভক্ত করে সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রত্যেক অংশেই তিনি বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5282- وروى ابْن مَاجَه مِنْهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا مَرَرْت لَيْلَة أسرِي بِي بملاء من الْمَلَائِكَة إِلَّا كلهم يَقُول لي عَلَيْك يَا مُحَمَّد بالحجامة

وَرَوَاهُ الْحَاكِم بِتَمَامِهِ مفرقا فِي ثَلَاثَة أَحَادِيث وَقَالَ فِي كل مِنْهَا صَحِيح الْإِسْنَاد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮৩
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘাড়ের অগ্রভাগের দুই রগে এবং দুই কাঁধের মাঝে শিঙা লাগাতেন এবং তিনি (চান্দ্র মাসের) সতের ও উনিশ তারিখে শিঙা লাগাতেন।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আবু দাউদ ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তবে তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এইঃ 'নবী (ﷺ) ঘাড়ের অগ্রভাগের দুই রগে ও দুই কাঁধের মাঝে তিনবার শিঙা লাগিয়েছেন। মা‘মার বলেন, আমি শিঙা লাগিয়েছি, ফলে আমার স্মৃতি বিভ্রম দেখা দেয়। তাই তোমার সালাত আদায়ের সময় আমাকে সূরা ফাতিহা বলে দেওয়া হত তিনি তাঁর মাথায় শিঙা লাগিয়েছিলেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5283- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يحتجم فِي الأخدعين والكاهل وَكَانَ يحتجم لسبع عشرَة وتسع عشرَة

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَأَبُو دَاوُد وَلَفظه أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم احْتجم ثَلَاثًا فِي الأخدعين والكاهل
قَالَ معمر احتجمت فَذهب عَقْلِي حَتَّى كنت ألقن فَاتِحَة الْكتاب فِي صَلَاتي وَكَانَ احْتجم على هامته
الهامة الرَّأْس
والأخدع بخاء مُعْجمَة ودال وَعين مهملتين
قَالَ أهل اللُّغَة هُوَ عرق فِي سالفة الْعُنُق
والكاهل مَا بَين الْكَتِفَيْنِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮৪
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মাসের সতের তারিখে শিঙা
ল্যাগায়, সকল রোগ থেকে তার নিরাময় হয়।
(হাকিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। আবু দাউদ এর চেয়ে
দীর্ঘাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন। "যে সতের, উনিশ ও একুশ তারিখে শিঙা লাগায়, সকল রোগ থেকে তার নিরাময় হয়।")
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5284- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من احْتجم لسبع عشرَة من الشَّهْر كَانَ لَهُ شِفَاء من كل دَاء

رَوَاهُ الْحَاكِم فَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد أطول مِنْهُ قَالَ من احْتجم لسبع عشرَة وتسع عشرَة وَإِحْدَى وَعشْرين كَانَ شِفَاء من كل دَاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮৫
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮৫. হযরত রুযায়ন উল্লিখিত একটি রিওয়ায়েতে, যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। তাতে আছে, যখন মাসের সতের তারিখ মঙ্গলবার হয়, তখন উক্ত তারিখে যে ব্যক্তি শিঙা নেয় তার সমগ্র বছরের চিকিৎস্যা হয়ে যায়।
(আবু দাউদ আবু বকরা বাক্কার ইবন আব্দুল আযীয-এর সনদে কাবশা বিনতে আবু বাকরা-এর সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর পরিবারকে মঙ্গলবারে শিঙা লাগাতে নিষেধ করতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করে বলতেন, মঙ্গলবার রক্তের দিন। এ দিন এমন একটি মুহূর্ত আছে, যাতে
(রক্ত বের হলে) বন্দ হয় না।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5285- وَفِي رِوَايَة ذكرهَا رزين وَلم أرها إِذا وَافق يَوْم سبع عشرَة يَوْم الثُّلَاثَاء كَانَ دَوَاء السّنة لمن احْتجم فِيهِ
وَقد روى أَبُو دَاوُد من طَرِيق أبي بكرَة بكار بن عبد الْعَزِيز عَن كَبْشَة بنت أبي بكرَة عَن أَبِيهَا أَنه كَانَ ينْهَى أَهله عَن الْحجامَة يَوْم الثُّلَاثَاء وَيَزْعُم عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن يَوْم الثُّلَاثَاء يَوْم الدَّم وَفِيه سَاعَة لَا يرقأ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮৬
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮৬. হযরত নাফি' (র) থেকে বর্ণিত আছে যে, ইবন উমর (রা) এঁকে বললেন, হে নাফি'। আমার রক্তচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং আমার জন্য একজন শিঙাদাতা খোঁজ কর এবং তোমার পক্ষে সম্ভব হলে তাকে সঙ্গী করে রাখ, কিন্তু অতিশয় বৃদ্ধ কিংবা স্বল্প বয়স্ক ছেলেকে রাখবে না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, সকাল বেলায় খালি পেটে শিঙা লাগানো উত্তম। এতেই শিফা ও বরকত রয়েছে এবং এটা জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। সুতরাং তোমার আল্লাহর বরকত লাভের জন্য বৃহস্পতিবারে শিঙা লাগাও এবং কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে বুধ, শুক্র, শনি ও রবিবার শিঙা লাগানো থেকে বিরত থাক। সোম ও মঙ্গলবারে শিঙা লাগাও। কেননা, এদিন আল্লাহ্ তা'আলা আইয়ুব-কে রোগমুক্ত করেছেন এবং বুধবারে তাঁকে মুসিবতে আক্রান্ত করেছেন। কেননা, বুধবার দিন ও বুধবার রাত্রেই শ্বেত ও কুষ্ঠ রোগ প্রকাশ পায়।
(ইবন মাজাহ সাঈদ ইবন মায়মুন-এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। নাফি (র) থেকে এ ব্যাপারে কোন আলোচনা-সমালোচনা আমার কাছে আসেনি এবং হাসান ইবন আবু জা'ফার-এর সূত্রে মুহাম্মদ ইব্‌ন জাহাদাহ'র মধ্যস্থতায় নাফি' (র) থেকেও নয়। হাসান ও মুহাম্মদ সম্পর্কে পরে আলোচনা আসবে। হাকিম আব্দুল্লাহ ইবন সালিহ-এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আত্তাফ ইবন খালিদ নাফি' থেকে
আমার কাছে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাফিয (র) বলেন, আলোচ্য আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সালিহ্ লায়সের কাতিব। বুখারী তাঁর 'সহীহ'-এ তাঁর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর ও আত্তাফ সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা আসবে।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5286- وَعَن نَافِع أَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ لَهُ يَا نَافِع تبيغ بِي الدَّم فالتمس لي حجاما واجعله رَفِيقًا إِن اسْتَطَعْت وَلَا تَجْعَلهُ شَيخا كَبِيرا وَلَا صَبيا صَغِيرا فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول الْحجامَة على الرِّيق أمثل وفيهَا شِفَاء وبركة وتزيد فِي الْعقل وَفِي الْحِفْظ واحتجموا على بركَة الله يَوْم الْخَمِيس وَاجْتَنبُوا بالحجامة يَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْجُمُعَة والسبت والأحد تحريا واحتجموا يَوْم الِاثْنَيْنِ وَالثُّلَاثَاء فَإِنَّهُ الْيَوْم الَّذِي عافى الله فِيهِ أَيُّوب وضربه بالبلاء يَوْم الْأَرْبَعَاء فَإِنَّهُ لَا يَبْدُو جذام وَلَا برص إِلَّا يَوْم الْأَرْبَعَاء وَلَيْلَة الْأَرْبَعَاء

رَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن سعيد بن مَيْمُون وَلَا يحضرني فِيهِ جرح وَلَا تَعْدِيل عَن نَافِع وَعَن الْحسن بن أبي جَعْفَر عَن مُحَمَّد بن جحادة عَن نَافِع وَيَأْتِي الْكَلَام على الْحسن وَمُحَمّد
وَرَوَاهُ الْحَاكِم عَن عبد الله بن صَالح حَدثنَا عطاف بن خَالِد عَن نَافِع
قَالَ الْحَافِظ عبد الله بن صَالح هَذَا كَاتب اللَّيْث أخرج لَهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَاخْتلف فِيهِ وَفِي عطاف وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِمَا
تبيغ بِهِ الدَّم إِذا غَلبه حَتَّى يَقْهَرهُ وَقيل إِذا تردد فِيهِ مرّة إِلَى هُنَا وَمرَّة إِلَى هُنَا
فَلم يجد مخرجا وَهُوَ بمثناة فَوق مَفْتُوحَة ثمَّ مُوَحدَة ثمَّ مثناة تَحت مُشَدّدَة ثمَّ غين مُعْجمَة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮৭
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮৭. হযরত মা'মার (রা)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে বুধ অথবা শনিবারে শিঙা নেয়, তার যদি কুষ্ঠ রোগ দেখা দেয়, তবে সে যেন কেবল নিজেকেই ভর্ৎসনা করবে।
(আবু দাউদ (র) অনুরূপভাবে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মারফু'রূপে বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু এটা সঠিক নয়।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5287- وَعَن معمر رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من احْتجم يَوْم الْأَرْبَعَاء أَو يَوْم السبت فَأَصَابَهُ وضح فَلَا يَلُومن إِلَّا نَفسه

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد هَكَذَا وَقَالَ قد أسْند وَلَا يَصح
الوضح بِفَتْح الْوَاو وَالضَّاد الْمُعْجَمَة جَمِيعًا بعْدهَا حاء مُهْملَة وَالْمرَاد بِهِ هُنَا البرص
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮৮
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ শিঙা লাগানোর প্রতি উৎসাহ দান এবং কখন শিঙা লাগাবে
৫২৮৮. হযরত আনাস (রা)-এ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রৌদ্রতাপ বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা শিঙার সাহায্য নাও। তোমাদের কারও যেন রক্তচাপ বৃদ্ধি না পায়, অন্যথায় রক্তচাপ তার প্রাণ নামা করবে।
(হাকিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এর সনদ সহীহ।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي الْحجامَة وَمَتى يحتجم
5288- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا اشْتَدَّ الْحر فاستعينوا بالحجامة لَا يتبيغ الدَّم بأحدكم فيقتله

رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৮৯
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৮৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুসলমানের উপর মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। সালামের উত্তর দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাযার পেছনে পেছনে যাওয়া, দা'ওয়াত কবুল করা ও হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5289- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ حق الْمُسلم على الْمُسلم خمس رد السَّلَام وعيادة الْمَرِيض وَاتِّبَاع الْجَنَائِز وَإجَابَة الدعْوَة وتشميت الْعَاطِس

وَرَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
হাদীস নং: ৫২৯০
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯০. মুসলিমের অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, মুসলমানের উপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। সেগুলো কি। তিনি বললেন, যখন তুমি তার সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাকে সালাম দেবে, যখন সে তোমাকে ডাকবে, তখন তার ডাকে সাড়া দেবে, যখন তোমার কাছে পরামর্শ চাইবে, তখন তাকে সৎপরামর্শ দেবে, যখন সে হাঁচি দেয় এবং আল্লাহর প্রশংসা করবে তখন তার জবাব দেবে, যখন সো অসুস্থ হবে, তবে তাকে দেখতে যাবে এবং যখন সে মৃত্যুবরণ করবে তখন তার জানাযার অনুগমন করবে।
(তিরমিযী ও নাসাঈ (র) অনুরূপ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5290- وَفِي رِوَايَة لمُسلم حق الْمُسلم على الْمُسلم سِتّ قيل وَمَا هن يَا رَسُول الله قَالَ إِذا لَقيته فَسلم عَلَيْهِ وَإِذا دعَاك فأجبه وَإِذا استنصحك فانصح لَهُ وَإِذا عطس فَحَمدَ الله فشمته وَإِذا مرض فعده وَإِذا مَاتَ فَاتبعهُ

وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ بِنَحْوِ هَذِه
হাদীস নং: ৫২৯১
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। কিভাবে তোমাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যাব, তুমি তো সমগ্র জগতের প্রতিপালক। তিনি বলবেন, তুমি কি জান না, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, তাকে তুমি দেখতে যাও নি? তুমি কি জান না, যদি তুমি তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যেতে, তবে তুমি আমাকে তার কাছে অবশ্যই পেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খাবার দাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। আমি তোমাকে কিভাবে খাবার দেব, তুমি তো সমগ্র জগতের প্রতিপালক। তিনি বলবেন, তুমি কি জান না, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে খাবার দাওনি? তুমি কি জান না, যদি তুমি তাকে খাবার দিতে, তবে, তা তুমি আমার কাছে পেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি কিভাবে তোমাকে পানি পান করাব, তুমি তো সমগ্র জগতের প্রতিপালক। তিনি বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি কি জান না, যদি তুমি তাকে পানি পান করাতে, তবে তুমি তা আমার কাছে পেতে?
(মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5291- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الله عز وَجل يَقُول يَوْم الْقِيَامَة يَا ابْن آدم مَرضت فَلم تعدني قَالَ يَا رب كَيفَ أعودك وَأَنت رب الْعَالمين قَالَ
أما علمت أَن عَبدِي فلَانا مرض فَلم تعده أما علمت أَنَّك لَو عدته لَوَجَدْتنِي عِنْده
يَا ابْن آدم استطعمتك فَلم تطعمني قَالَ يَا رب كَيفَ أطعمك وَأَنت رب الْعَالمين قَالَ أما علمت أَنه استطعمك عَبدِي فلَان فَلم تطعمه
أما علمت أَنَّك لَو أطعمته لوجدت ذَلِك عِنْدِي
يَا ابْن آدم استسقيتك فَلم تَسْقِنِي قَالَ يَا رب وَكَيف أسقيك وَأَنت رب الْعَالمين قَالَ استسقاك عَبدِي فلَان فَلم تسقه
أما إِنَّك لَو سقيته وجدت ذَلِك عِنْدِي

رَوَاهُ مُسلم
হাদীস নং: ৫২৯২
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা রুগ্নদেরকে দেখতে যাও এবং জানাযার অনুগমন কর। এগুলো তোমাদিগকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।
(আহমাদ, বাযযার ও ইবন হিব্বান (র) তাঁর 'সহীহ' কিতাবে-হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5292- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عودوا المرضى وَاتبعُوا الْجَنَائِز تذكركم الْآخِرَة

رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَزَّار وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
হাদীস নং: ৫২৯৩
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯৩. হযরত আবু সাইদ খুদরী (রা) থেকেই বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলাতে অনেছেন, সে ব্যক্তি কোন দিন পাঁচটি কাজ করে, আল্লাহ তা'আলা তার নাম জান্নাতীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। যে ব্যক্তি রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যায়, জানাযায় হাযির হয়, দিনের বেলায় রোযা রাখে, জুমু'আতে যায় এবং কোন গোলাম বা বাঁদীকে মুক্ত করে।
(ইবন হিব্বান (ত) তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5293- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول خمس من عملهن فِي يَوْم كتبه الله من أهل الْجنَّة من عَاد مَرِيضا وَشهد جَنَازَة وَصَامَ يَوْمًا وَرَاح إِلَى الْجُمُعَة وَأعْتق رَقَبَة

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৯৪
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯৪. হযরত মু'আয ইব্‌ন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি পাঁচটি কাজের মধ্য থেকে কোন একটি করে, সে আল্লাহ্ তা'আলার দায়িত্বভুক্ত হয়ে যায়, যে রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে। যায়, অথবা জানাযার সাথে বের হয়, অথবা জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়, অথবা কোন শাসককে সাহায্য সম্মানের উদ্দেশ্যে তার কাছে যায়, অথবা নিজ গৃহে বসে থাকে, যাতে মানুষ তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে এবং সে মানুষের অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে।
(আহমাদ, তবারানী, আবু ইয়া'লা ইব্‌ন পুযায়মা ও ইবন হিব্বান (র) নিজ নিজ সহীহএ-হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা তবারানী বর্ণিত। আবু দাউদ ও আবু উমামার রিওয়ায়েতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। 'আযকার' অধ্যায়ে হাদীসটি উল্লিখিত হয়েছে।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5294- وَعَن معَاذ بن جبل رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خمس من فعل وَاحِدَة مِنْهُنَّ كَانَ ضَامِنا على الله عز وَجل من عَاد مَرِيضا أَو خرج مَعَ جَنَازَة أَو خرج غازيا أَو دخل على إِمَام يُرِيد تعزيره وتوقيره أَو قعد فِي بَيته فَسلم النَّاس مِنْهُ وَسلم من النَّاس

رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَأَبُو يعلى وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان فِي صَحِيحَيْهِمَا وروى أَبُو دَاوُد نَحوه من حَدِيث أبي أُمَامَة وَتقدم فِي الْأَذْكَار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৯৫
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, আজ তোমাদের মধ্য থেকে কে রোযা রেখেছে? আবু বকর বললেন, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে কোন মিসকীনকে খাবার দিয়েছে। আবু বকর বললেন, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে কোন জানাযার অনুগমন করেছে? আবু বকর বললেন, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আজ তোমাদের মধ্যে থেকে কে কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছে। আবু বকর বললেন, আমি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন,যখনই কোন মানুষের মধ্যে এ গুণগুলোর সমাবেশ ঘটে, সে জান্নাতে প্রবেশ করে।
(ইবন খুযায়মা (র) তাঁর 'সহীহ'-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5295- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أصبح مِنْكُم الْيَوْم صَائِما فَقَالَ أَبُو بكر أَنا
فَقَالَ من أطْعم مِنْكُم الْيَوْم مِسْكينا فَقَالَ أَبُو بكر أَنا
فَقَالَ من تبع مِنْكُم الْيَوْم جَنَازَة فَقَالَ أَبُو بكر أَنا
قَالَ من عَاد مِنْكُم الْيَوْم مَرِيضا قَالَ أَبُو بكر أَنا
فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا اجْتمعت هَذِه الْخِصَال قطّ فِي رجل إِلَّا دخل الْجنَّة

رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২৯৬
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যায়, তাকে আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ডেকে বলে, তুমি খুব ভাল করেছ, তোমার পদক্ষেপ ভাল হয়েছে এবং তুমি জান্নাতের একটি মনযিল লাভ করেছ।
(তিরমিযী ইবন মাজাহ ও ইবন হিব্বান-স্বীয় 'সহীহ'-এ সকলেই আবু সিনানের সনদে হাদীসটি বর্ণণা করেছেন। আবু সিনানের নাম ঈসা ইবন সিনান কাসমালী। তিনি উসমান ইবন আবু সাওদার সূত্রে আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা ইবন মাজাহ বর্ণিত। নবী (ﷺ) থেকে ইবন হিব্বান বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ "যখন মানুষ তার ভাইকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যায় অথবা সাক্ষাৎ করতে যায় তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, তুমি ভালই করেছ, তোমার পদক্ষেপ ভাল হয়েছে এবং তুমি জান্নাতের একটি মনযিল লাভ করেছ।")
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5296- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من عَاد مَرِيضا ناداه
مُنَاد من السَّمَاء طبت وطاب ممشاك وتبوأت من الْجنَّة منزلا

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن مَاجَه وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه كلهم من طَرِيق أبي سِنَان وَهُوَ عِيسَى بن سِنَان الْقَسْمَلِي عَن عُثْمَان بن أبي سَوْدَة عَنهُ
وَلَفظ ابْن حبَان عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا عَاد الرجل أَخَاهُ أَو زَارَهُ قَالَ الله تَعَالَى طبت وطاب ممشاك وتبوأت منزلا فِي الْجنَّة
হাদীস নং: ৫২৯৭
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯৭. হযরত সাওবান (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মুসলমান যখন তার মুসলমান ভাইকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যায় তখন থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সে জান্নাতের কুরফার মধ্যে থাকে। জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। জান্নাতের কুরফা কি? তিনি বললেন, জান্নাতের ফল-মূল (খেজুর-খোর্মাদি)।
(আহমাদ, মুসলিম ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ মুসলিম বর্ণিত।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5297- وَعَن ثَوْبَان رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْمُسلم إِذا عَاد أَخَاهُ الْمُسلم لم يزل فِي خرفة الْجنَّة حَتَّى يرجع
قيل يَا رَسُول الله وَمَا خرفة الْجنَّة قَالَ جناها

رَوَاهُ أَحْمد وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ وَالتِّرْمِذِيّ
خرفة الْجنَّة بِضَم الْخَاء الْمُعْجَمَة وَبعدهَا رَاء سَاكِنة هُوَ مَا يخْتَرف من نخلها
أَي يجتنى
হাদীস নং: ৫২৯৮
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি উযূ করে এবং উত্তমরূপে উযূ করে ও তার মুসলমান ভাইকে অসুস্থ অবস্থায় সাওয়াবের উদ্দেশ্যে দেখতে যায়, তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর 'খারীফ' দূরে রাখা হয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু হামযা খারীফ কি? তিনি বললেন, বছর।
(আবু দাউদ (র) ফযল ইব্‌ন দুলহুম কাসাবের রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5298- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من تَوَضَّأ الْوضُوء وَعَاد أَخَاهُ الْمُسلم محتسبا بوعد من جَهَنَّم سبعين خَرِيفًا
قلت يَا أَبَا حَمْزَة مَا الخريف قَالَ الْعَام

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد من رِوَايَة الْفضل بن دلهم القصاب
হাদীস নং: ৫২৯৯
অধ্যায়ঃ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অসুস্থ ব্যক্তির দু'আর উৎসাহ প্রদান
৫২৯৯. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে মুসলমানই
কোন মুসলমানকে সকাল বেলায় অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যায়, তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা সন্ধ্যা পর্যন্ত দু'আ করেন। আর যদি সন্ধ্যা বেলায় দেখতে যায় সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা তার জন্য দু'আ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে রয়েছে তরতাজা খর্জুর।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। হাদীসটি আলী (রা) থেকে মাওকুফ
সনদেও বর্ণিত হয়েছে। আবু দাউদ হাদীসটি আলী (রা) থেকে মাওকূফ সনদে বর্ণনা করে বলেন, এ হাদীস
কোন সহীহ্ সনদ ব্যতিরেকে নবী (ﷺ) থেকে মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি এ অর্থবোধক এক রিওয়ায়েত মারফু'রূপে বর্ণনা করেছেন।
মাওকূফ রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপ যে কোন মানুষ কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে সন্ধ্যা বেলায় দেখতে যায়, তার সাথে সত্তর হাজার ফিরিশতা বের হন, তাঁর জন্য সকাল পর্যন্ত দু'আ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে রয়েছে তরতাজা খেজুর। আর যে ব্যক্তি তাকে সকাল বেলায় দেখতে যায়, তার সাথে সত্তর হাজার ফিরিশতা বের হন তাঁরা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু'আ করেন এবং তার জন্য রয়েছে জান্নাতে তরতাজা খেজুর।
আহমাদ ও ইবন মাজাহ (র) অনুরূপভাবে মারফু'রূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাহ (র) তার শুরুতে এ অংশটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন: "যখন কোন মুসলমান তার আবার ভাইকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যায়, তখন সে বসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল চয়নের মধ্যে বিচরণ করে। যখন সে বসে তখন রহমত তাকে ঢেকে নেয়। আল-হাদীস। তবে আহমাদ ও ইবন মাজার রিওয়ায়েতে "তার জন্য জান্নাতে রয়েছে তরতাজা খেজুর।" অংশটুকু নেই। ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ্' কিতাবে ও মারফু রূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ "যে কোন মুসলমানই কোন মুসলমানকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যায়, আল্লাহ্ তা'আলা তার কাছে সত্তর হাজার ফিরিশতা প্রেরণ করেন। তাঁরা সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত সারাদিন এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত সারা রাত্রি তার জন্য দু'আ করেন। হাকিম তিরমিযীর মতই মারফুরূপে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
অর্থাৎ সে, ফল চয়নের সময় এসেছে। এখানে অসুস্থ লোককে দেখতে যাওয়া ব্যক্তির সাওয়াব লাভকে ফল চয়নের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ইব্‌ন আনবারী এরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي عِيَادَة المرضى وتأكيدها وَالتَّرْغِيب فِي دُعَاء الْمَرِيض
5299- وَعَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول مَا من مُسلم يعود مُسلما غدْوَة إِلَّا صلى عَلَيْهِ سَبْعُونَ ألف ملك حَتَّى يُمْسِي وَإِن عَاد عَشِيَّة إِلَّا صلى عَلَيْهِ سَبْعُونَ ألف ملك حَتَّى يصبح وَكَانَ لَهُ خريف فِي الْجنَّة

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَقد رُوِيَ عَن عَليّ مَوْقُوفا انْتهى وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد مَوْقُوفا على عَليّ ثمَّ قَالَ وَأسْندَ هَذَا عَن عَليّ من غير وَجه صَحِيح عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثمَّ رَوَاهُ مُسْندًا بِمَعْنَاهُ
وَلَفظ الْمَوْقُوف مَا من رجل يعود مَرِيضا ممسيا إِلَّا خرج مَعَه سَبْعُونَ
ألف ملك يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يصبح وَكَانَ لَهُ خريف فِي الْجنَّة وَمن أَتَاهُ مصبحا خرج مَعَه سَبْعُونَ ألف ملك يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُمْسِي وَكَانَ لَهُ خريف فِي الْجنَّة
وَرَوَاهُ بِنَحْوِ هَذَا أَحْمد وَابْن مَاجَه مَرْفُوعا
وَزَاد فِي أَوله إِذا عَاد الْمُسلم أَخَاهُ مَشى فِي خرافة الْجنَّة حَتَّى يجلس فَإِذا جلس غمرته الرَّحْمَة
الحَدِيث وَلَيْسَ عِنْدهمَا وَكَانَ لَهُ خريف فِي الْجنَّة
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه مَرْفُوعا أَيْضا وَلَفظه مَا من مُسلم يعود مُسلما إِلَّا يبْعَث الله إِلَيْهِ سبعين ألف ملك يصلونَ عَلَيْهِ فِي أَي سَاعَات النَّهَار حَتَّى يُمْسِي وَفِي أَي سَاعَات اللَّيْل حَتَّى يصبح
رَوَاهُ الْحَاكِم مَرْفُوعا بِنَحْوِ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
قَوْله فِي خرافة الْجنَّة بِكَسْر الْخَاء أَي فِي اجتناء ثَمَر الْجنَّة
يُقَال خرفت النَّخْلَة أخرفها فَشبه مَا يحوزه عَائِد الْمَرِيض من الثَّوَاب بِمَا يحوزه المخترف من الثَّمر
هَذَا قَول ابْن الْأَنْبَارِي