আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৪৮ টি

হাদীস নং: ৫৭৫১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের বর্ণনা
৫৭৫১. হযরত ইকরামা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় আয়তলোচনা হুর তোমাদের (নারীদের) চেয়ে সংখ্যায় অধিক। তারা তাদের বরদের জন্য দু'আ করে বলে, হে আল্লাহ! আপনার প্রতাপের উসিলায় তাকে আপনার দীন পালনে সাহায্য করুন, আন্তরিকতার সাথে আপনার আনুগত্যের দিকে তাকে অগসর করে দিন এবং আপনার নৈকট্যের মাধামে তাকে আমাদের কাছে পৌছিয়ে দিন। হে দয়াশীলদের মাঝে সর্বোৎকৃষ্ট দয়াশীল।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া মুরসাল সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي وصف نسَاء أهل الْجنَّة
5751- وَرُوِيَ عَن عِكْرِمَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْحور الْعين لأكْثر عددا مِنْكُن يدعونَ لِأَزْوَاجِهِنَّ يقلن اللَّهُمَّ أعنه على دينك بعزتك وَأَقْبل بِقَلْبِه على طَاعَتك وبلغه إِلَيْنَا بقربك يَا أرْحم الرَّاحِمِينَ

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مُرْسلا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের বর্ণনা
৫৭৫২. নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী: وَحُورٌ عِينٌ "আয়াতলোচনা হুর" (৫৬ঃ ২২) প্রসঙ্গে বলুন। তিনি বললেন, শুভ্রা, আয়তলোচনা, স্থল কায়া সরু অধরবিশিষ্টা ও বাজের ডানার মত গৌরী রমণী। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী: كَأَنَّهُنَّ الْبَاقُوْتُ وَالْمرجان তারা ইয়াকূত ও মারজানের মত (৫৫ঃ ৫৮) প্রসঙ্গে বলুন। তিনি বললেন, তাদের স্বচ্ছতা ঝিনুকের মধ্যে সংরক্ষিত সেই মুক্তার স্বচ্ছতার মত, যাকে কোন হস্ত স্পর্শ করে না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমাকে আল্লাহ তা'আলার বাণী:
فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ "সেখানে রয়েছে উত্তমা সুন্দরী রমনীগণ (৫৫ঃ ৭০) প্রসঙ্গে বলুন। তিনি বললেন, সচ্চরিত্রা ও সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী:
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ "যেন তারা সংরক্ষিত ডিম্ব" (৩৭: ৪৯) প্রসঙ্গে বলুন। তিনি বললেন, তাদের কমনীয়তা ডিমের ভেতরে, খোসার সাথে মিলিত পর্দার কমনীয়তার মত। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী:عُرُبًا أَتْرَابًا "প্রেমময়ী সমবয়স্কা (৫৬: ৩৭) প্রসঙ্গে বলুন। তিনি বললেন, তারা সেসব নারী, যাদেরকে দুনিয়ার জগতে বৃদ্ধা, ময়লাচক্ষু ও শুভ্র কেশিনী অবস্থায় মৃত্যু দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে বার্ধক্যের পর সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে কুমারী অবস্থায় রূপান্তরিত করেছেন। তারা প্রেমময়ী, আসক্তা, প্রীতিপরায়ণা ও একই জন্ম মুতাবিক সমবয়স্কা। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। দুনিয়ার রমণীগণ উৎকৃষ্টা হবে, নাকি আয়তলোচনা হুরগণ?
তিনি বললেন, দুনিয়ার রমনীগণ আয়তলোচনা হুরদের চেয়ে উৎকৃষ্টা। যেমন অন্তর্বাসের চেয়ে বহির্বাসন উৎকৃষ্ট। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ এর কারণ কি? তিনি বললেন, তাদের সালাত, সাওম ও আল্লাহর ইবাদতের কারণে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের চেহারায় নূরের আভরণ ও তাদের শরীরে রেশমের পোষাক পরিয়ে দেবেন। তাদের গায়ের রঙ শুভ্র, পোষাক সবুজ, অলংকার হলুদ। তাদের খুশবুদানী মুক্তার এবং তাদের চিরুনী সোনার তৈরী। তারা বলবে, জেনে রাখ, আমরা চিরঞ্জীবী, সুতরাং আমরা কখনও মৃত্যুমুখে পতিত হবনা। জেনে রাখ, আমরা চিরকমনীয়া মনোরমা, সুতরাং আমরা কখনও অসুন্দরী ও বিদঘুটে হব না। জেনে রাখ, আমরা স্থায়ীভাবে অবস্থানকারিনী, সুতরাং আমরা কখন ও স্থানান্তরিত হব না। জেনে রাখ, আমরা সন্তুষ্ট। সুতরাং আমরা কখনও অসন্তুষ্ট হব না। আমরা যার জন্য রয়েছি, এবং যিনি আমাদের জন্য রয়েছেন, তাকে ধন্যবাদ। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমাদের মধ্য থেকে কোন মহিলা দুনিয়াতে (পর্যায়ক্রমে) দুই, তিন ও চার স্বামীর কাছে বিবাহ বসে। এরপর সে মৃত্যুবরণ করে জান্নাতে প্রবেশ করে এবং স্বামীরাও তার সাথে (জান্নাতে) প্রবেশ করে। সুতরাং তাদের থেকে তার স্বামী কে হবে? তিনি বললেন, হে উম্মু সালামা। তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হবে। ফলে সে তাদের মধ্যে যে অধিক সদাচারী, তাকে গ্রহণ করবে। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। এলোক দুনিয়ার জগতে আমার কাছে অধিক সদাচারী ছিল। সুতরাং আমাকে তার বিবাহবন্ধনে দিন। হে উম্মু সালামা। সদাচার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বহন করে।
(তাবারানী 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ 'আল- আওসাতের' রিওয়ায়েত থেকে সংগৃহীত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي وصف نسَاء أهل الْجنَّة
5752- وَرُوِيَ عَن أم سَلمَة زوج النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رَضِي الله عَنْهَا قَالَت قلت يَا رَسُول الله أَخْبرنِي عَن قَول الله عز وَجل حور عين الْوَاقِعَة 22 قَالَ حور بيض عين ضخام شفر الْحَوْرَاء بِمَنْزِلَة جنَاح النسْر
قلت يَا رَسُول الله فَأَخْبرنِي عَن قَول الله عز وَجل كأنهن الْيَاقُوت والمرجان الرَّحْمَن 85 قَالَ صفاؤهن كصفاء الدّرّ الَّذِي فِي الأصداف الَّذِي لَا تمسه الْأَيْدِي قلت يَا رَسُول الله فَأَخْبرنِي عَن قَول الله عز وَجل فِيهِنَّ خيرات حسان الرَّحْمَن 07 قَالَ خيرات الْأَخْلَاق حسان الْوُجُوه
قلت يَا رَسُول الله فَأَخْبرنِي عَن قَول الله عز وَجل كأنهن بيض مَكْنُون الصافات 94 قَالَ رقتهن كرقة الْجلد الَّذِي فِي دَاخل الْبَيْضَة مِمَّا يَلِي القشر
قلت يَا رَسُول الله فَأَخْبرنِي عَن قَول الله عز وَجل عربا أَتْرَابًا الْوَاقِعَة 73 قَالَ هن اللواتي قبضن فِي دَار الدُّنْيَا عَجَائِز رمصا شُمْطًا خَلقهنَّ الله بعد الْكبر فجعلهن عذراى عربا مُتَعَشقَات مُتَحَببَات أَتْرَابًا على مِيلَاد وَاحِد
قلت يَا رَسُول الله أنساء الدُّنْيَا أفضل أم الْحور الْعين قَالَ نسَاء الدُّنْيَا أفضل من الْحور الْعين كفضل الظهارة على البطانة
قلت يَا رَسُول الله وَبِمَ ذَاك قَالَ بصلاتهن وصيامهن وعبادتهن الله عز وَجل ألبس الله عز وَجل وجوههن
النُّور وأجسادهن الْحَرِير بيض الألوان خضر الثِّيَاب صفر الْحلِيّ مجامرهن الدّرّ وأمشاطهن الذَّهَب يقلن أَلا نَحن الخالدات فَلَا نموت أبدا أَلا نَحن الناعمات فَلَا نبأس أبدا أَلا وَنحن المقيمات فَلَا نظعن أبدا أَلا وَنحن الراضيات فَلَا نسخط أبدا طُوبَى لمن كُنَّا لَهُ وَكَانَ لنا قلت يَا رَسُول الله الْمَرْأَة منا تتَزَوَّج الزَّوْجَيْنِ وَالثَّلَاثَة وَالْأَرْبَعَة فِي الدُّنْيَا ثمَّ تَمُوت فَتدخل الْجنَّة ويدخلون مَعهَا من يكون زَوجهَا مِنْهُم قَالَ يَا أم سَلمَة إِنَّهَا تخير فتختار أحْسنهم خلقا فَتَقول أَي رب إِن هَذَا كَانَ أحْسنهم معي خلقا فِي دَار الدُّنْيَا فزوجنيه يَا أم سَلمَة ذهب حسن الْخلق بِخَير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط وَهَذَا لَفظه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতলোচনা হুরদের গানের বর্ণনা
৫৭৫৩. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে আয়তলোচনা হুরদের সমাবেশ হবে। তারা উচ্চস্বরে এমন সুর উচ্চারণ করবে, যেরূপ সুর কোন মাখলুক শোনে নি। তারা বলবে, আমরা চিরস্থায়ীনী সুতরাং আমাদের ধ্বংস হব না। আমরা চির মনোহরা। সুতরাং আমরা কোন বিপত্তির সম্মুখীন হব না। আমরা সন্তুষ্ট, সুতরাং আমরা অসন্তুষ্ট হবা না। যে আমাদের জন্য এবং আমরা যার জন্য তাকে ধন্যবাদ।
(তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি গারীব। বায়হাকী ও'এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي غناء الْحور الْعين
5753- وَرُوِيَ عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي الْجنَّة لمجتمعا للحور الْعين يرفعن بِأَصْوَات لم يسمع الْخَلَائق بِمِثْلِهَا يقلن نَحن الخالدات فَلَا نبيد وَنحن الناعمات فَلَا نبأس وَنحن الراضيات فَلَا نسخط طُوبَى لمن كَانَ لنا وَكُنَّا لَهُ

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب وَالْبَيْهَقِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতলোচনা হুরদের গানের বর্ণনা
৫৭৫৪. হযরত আবু উমামা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন বান্দা জান্নাতে প্রবেশ
করবে, তার মাথার কাছে ও তার দু'পায়ের কাছে দু'জন আয়তলোচনা হুর থাকবে। মানুষ ও জিন যত সুর শুনেছে, তন্মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট সুরে তারা গান গাইবে। অথচ শয়তানের বাজনা দ্বারা নয়। বরং আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা দ্বারা।
(তাবারানী ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي غناء الْحور الْعين
5754- وَرُوِيَ عَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا من عبد يدْخل الْجنَّة إِلَّا عِنْد رَأسه وَعند رجلَيْهِ ثِنْتَانِ من الْحور الْعين تُغنيَانِ بِأَحْسَن صَوت سَمعه الْإِنْس وَالْجِنّ وَلَيْسَ بمزامير الشَّيْطَان وَلَكِن بتحميد الله وتقديسه

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতলোচনা হুরদের গানের বর্ণনা
৫৭৫৫. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতবাসীদের স্ত্রীগণ যে কেউ কখনও কোন শব্দ শুনেছে, তন্যধ্যে সব চেয়ে সুন্দর সুরে তাদের স্বামীদের সামনে গান গাইবে। তারা যেসব গান গাইবে, তন্মধ্যে একটিঃ আমরা উত্তমা, সুন্দরী, সম্মানিত লোকদের স্ত্রী, তারা এমনভাবে তাকাবে যে তাদের চোখ জুড়াবে। তারা যেসব গান গাইবে, তন্মধ্যে আরেকটি: আমরা চিরস্থায়ীনী, সুতরাং আমরা মৃত্যুবরণ করব না। আমরা নিরাপত্তাপ্রাপ্তা, সুতরাং আমরা ভয় করব না। আমরা স্থায়ী অবস্থানকারিনী, সুতরাং আমরা স্থানান্তরিত হব না।
(তাবারানী 'আস-সাগীর' ও 'আল-আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয় রিওয়ায়েতের বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের রাবী।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي غناء الْحور الْعين
5755- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن أَزوَاج أهل الْجنَّة ليغنين أَزوَاجهنَّ بِأَحْسَن أصوات سَمعهَا أحد قطّ إِن مِمَّا يغنين بِهِ نَحن الْخيرَات الحسان أَزوَاج قوم كرام ينظرُونَ بقرة أَعْيَان وَإِن مِمَّا يغنين بِهِ نَحن الخالدات فَلَا نمتنه نَحن الآمنات فَلَا نخفنه نَحن المقيمات فَلَا نظعنه

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير والأوسط ورواتهما رُوَاة الصَّحِيح
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতলোচনা হুরদের গানের বর্ণনা
৫৭৫৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় হুরেরা জান্নাতে গান গাইবে। তারা বলবে, আমরা সুন্দরী গৌরী রমণী, আমাদেরকে সম্মানিত স্বামীদের জন্য হাদিয়া স্বরূপ পেশ
করা হয়েছে।
(ইবন আবুদ-দুনিয়া ও তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ তাবারানী বর্ণিত। এর সনদ 'মুকারিব'। বায়হাকী আনাস ইবন মালিকের এক ছেলের সূত্রে আনাস (রা) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন- যার নাম তিনি উল্লেখ করেন নি।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي غناء الْحور الْعين
5756- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْحور فِي الْجنَّة
يغنين يقلن نَحن الْحور الحسان هدينَا لِأَزْوَاج كرام

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَإِسْنَاده مقارب وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ عَن ابْن لأنس بن مَالك لم يسمه عَن أنس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতলোচনা হুরদের গানের বর্ণনা
৫৭৫৭. হযরত ইব্‌ন আবি আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতবাসীদের থেকে প্রত্যেককে চার হাজার কুমারী, আট হাজার আইম (প্রাপ্ত বয়স্কা) ও একশত হুর স্ত্রী স্বরূপ দেওয়া হবে। তারা প্রতি সাতদিন অন্তর সমবেত হবে এবং এরূপ সুন্দর সুরে তারা বলবে, যেরূপ সুরে কোন মাখলুক শোনে নিঃ আমরা চিরস্থায়িনী। সুতরাং আমরা ধ্বংস হব না। আমরা প্রসন্নমুখী, সুতরাং আমরা কখনো বিষন্নবদনা হব না। আমরা সন্তুষ্ট, সুতরাং আমরা অসন্তুষ্ট হব না। আমরা স্থায়ী অবস্থানকারিনী, সুতরাং আমরা স্থানান্তরিত হব না। যে আমাদের জন্য রয়েছে, এবং আমরা যার জন্য রয়েছি, তাকে অভিনন্দন।
(আবূ নু'আয়ম 'সিফাতুল জান্নাত' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي غناء الْحور الْعين
5757- وَرُوِيَ عَن ابْن أبي أوفى رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يُزَوّج كل رجل من أهل الْجنَّة أَرْبَعَة آلَاف بكر وَثَمَانِية آلَاف أيم وَمِائَة حوراء فيجتمعن فِي كل سَبْعَة أَيَّام فيقلن بِأَصْوَات حسان لم يسمع الْخَلَائق بمثلهن نَحن الخالدات فَلَا نبيد وَنحن الناعمات فَلَا نبأس وَنحن الراضيات فَلَا نسخط وَنحن المقيمات فَلَا نظعن طُوبَى لمن كَانَ لنا وَكُنَّا لَهُ

رَوَاهُ أَبُو نعيم فِي صفة الْجنَّة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আয়াতলোচনা হুরদের গানের বর্ণনা
৫৭৫৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় জান্নাতে, জান্নাতের দৈর্ঘের সমান একটি নহর রয়েছে। তার দুই কূলে রয়েছে মুখোমুখি দাঁড়ানো কুমারীগণ। মানুষ যেসব সুর শোনে, তন্মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর সুরে তারা গান গাইবে। ফলে তারা ধারণা করবে না যে, জান্নাতে এরূপ অন্যকোন আনন্দ রয়েছে। আমরা বললাম, হে আবূ হুরায়রা (রা)। সে গান কি হবে? তিনি বললেন, ইনশা'আল্লাহ্, সে গান হবে আল্লাহ্ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা প্রশংসা করা, মাহাত্ম্য ঘোষণা করা এবং গুণকীর্তন করা।
(বায়হাকী মাওকুফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي غناء الْحور الْعين
5758- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن فِي الْجنَّة نَهرا طول الْجنَّة حافتاه العذارى قيام متقابلات يغنين بِأَحْسَن أصوات يسْمعهَا الْخَلَائق حَتَّى مَا يرَوْنَ أَن فِي الْجنَّة لَذَّة مثلهَا قُلْنَا يَا أَبَا هُرَيْرَة وَمَا ذَاك الْغناء قَالَ إِن شَاءَ الله التَّسْبِيح والتحميد وَالتَّقْدِيس وثناء على الرب عز وَجل

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مَوْقُوفا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৫৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের বাজারের বর্ণনা
৫৭৫৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে, সেখানে তারা প্রতি শুক্রবারে গমন করবে। তখন উত্তরাবায়ু প্রবাহিত হবে এবং সে বায়ু তাদের চেহারা ও কাপড়ে লাগবে। ফলে তাদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। তারপর তারা তাদের বর্ধিত রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাবে। তাদের পরিবারের লোকজন তাদেরকে বলবে, আল্লাহর কসম, আমাদের নিকট থেকে যাওয়ার পর তোমাদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বলবে, আল্লাহর কসম, আমাদের বাইরে যাওয়ার পর তোমাদেরও রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي سوق الْجنَّة
5759- عَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن فِي الْجنَّة لسوقا يأتونها كل جُمُعَة فتهب ريح الشمَال فتحثو فِي وجوهم وثيابهم فيزدادون حسنا وجمالا فيرجعون إِلَى أَهْليهمْ وَقد ازدادوا حسنا وجمالا فَتَقول لَهُم أهلوهم وَالله لقد ازددتم بَعدنَا حسنا وجمالا فَيَقُولُونَ وَأَنْتُم وَالله لقد ازددتم بَعدنَا حسنا وجمالا

رَوَاهُ مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের বাজারের বর্ণনা
৫৭৬০. হযরত সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (র) থেকে বর্ণিত। আবু হুরায়রা (রা)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তখন আবু হুরায়রা (রা) বললেন, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি আমাকেও তোমাকে জান্নাতের বাজারে সমবেত করেন। সাঈদ জিজ্ঞেস করলেন, সেখানে কি বাজারও রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন, জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের আমলের বদৌলতে তারা জান্নাতের বাজারে উপনীত হবে এবং তাদেরকে দুনিয়ার দিনের হিসাবে জুমু'আর দিন পরিমাণ সময়ে অনুমতি দেওয়া হবে। ফলে তারা আল্লাহ্ তা'আলার সাথে য্যাক্ষাৎ করবে। তিনি তাঁর আরশ তাদের সামনে প্রকাশ করবেন এবং জান্নাতের বাগানসমূহ থেকে কোন একটি বাগানে আত্মপ্রকাশ করবেন। তাদের জন্য বহু নুরের মিম্বর, মুক্তার মিম্বার, চুনির মিম্বর, পান্নার মিম্বার, সোনার মিম্বার ও রুপার মিম্বার স্থাপন করা হবে। তাদের মধ্য থেকে সাধারণ জান্নাতী অথচ তাদের মধ্যে কোন নিকৃষ্ট লোক থাকবে না-মেশকও কপূরের টিলার উপর বসবে। তারা ধারণা করবে না যে, মিম্বরের উপবেশনকারীগণ-উপবেশনের হিসাবে তাদের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমরা কি আমাদের থেকে দেখব।? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তোমরা কি সূর্য ও পূর্ণিমা রাতের চন্দ্র দেখতে পরস্পরে বিবাদ করা আমরা বললাম, জ্বী না। তিনি বললেন, এমনিভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পরস্পরে বিবাদ করবে না। সে মজলিসে যারা থাকবে তাদের প্রত্যেকের সাথে আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে কথা বলবেন। এমন কি তিনি তোমাদের মধ্য থেকে এক লোককে বলবেন, হে অমুক! তোমার কি স্বরণ নেই সে দিনের কথা, যেদিন তুমি একাজ ও কাজ করেছ? এ বলে তিনি তার দুনিয়ার কোন অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনি কি আমাকে ক্ষমা করে দেন নি? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। বরং আমার সাতবার মাগফিরাতের বদৌলতে তুমি তোমার এ মর্যাদায় পৌছেই। একদা তারা এভাবে থাকবে। ইত্যবসরে আমাদের উপর থেকে একটি যেঘ এসে তাদেরকে ঢেকে ফেলবে এবং তাদের উপর এমন সুগন্ধি বর্ষণ করবে, যার ঘ্রাণের মত কোন ঘ্রাণ তারা কখনও পায়নি। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদের জন্য যেসব নিয়ামত প্রস্তুত রেখেছি, তার দিকে তোমরা অগ্রসর হও এবং তোমাদের যা আগ্রহ হয়, তা-ই নাও। তিনি বলেন, এরপর আমরা এমন একটি বাজারে যাব, যাকে ফিরিশতাগণ বেষ্টন করে রেখেছেন। সেখানে এমন সব জিনিস থাকবে, যেরূপ বস্তু কোন চোখ দেখে নি, কোন কান শুনেনি এবং কারও অন্তরে তার কল্পনা জাগেনি। তিনি বলেন, এরপর আমাদের যা আগ্রহ, তা আমাদের সামনে উপস্থিত করা হবে। সেখানে কোন কিছু বেচাকেনা হবে না। সে বাজারে জান্নাতীরা পরস্পরে সাক্ষাৎ করবে। তিনি বলেন, উঁচু মর্যাদাশীল ব্যাক্তি অগ্রসর হবে এবং তার চেয়ে কম মর্যাদাশীল লোকের সাথে সাক্ষাৎ করবে। অথচ তাদের মধ্যে কোন নিকৃষ্ট লোক থাকবে না। ফলে তার পরনে যে সব পোষাক দেখবে, তা তাকে অভিভূত করবে। কিন্তু তার শেষ কথা পূর্ণ হতে না হতে, তার গায়ের চেয়ে সুন্দর পরিবর্তিত রূপে দেখা দেবে। তা এজন্য যে, জান্নাতে কাউকে দুঃখিত হতে হবে না।
তিনি বলেন, এরপর আমরা আমাদের আবাসস্থলে ফিরে আসব, আমাদের সাথে আমাদের স্ত্রীরা এসে সাক্ষাৎ করবে। তারা বলবে, শুভেচ্ছা, স্বাগতম। অবশ্যই তুমি যে রূপ-লাবণ্য ও সুগন্ধি নিয়ে আমাদের নিকট থেকে গিয়েছিলে, তার চেয়ে উৎকৃষ্ট রূপ-লাবণ্য ও সুগন্ধি নিয়ে (আমাদের কাছে) ফিরে এসেছ। সে (আগমনকারী) বলবে, নিশ্চয় আমরা আজ আমাদের পরাক্রমশালী রবের সাথে মজলিসে বসেছি, কাজেই আমরা যেরূপ পরিবর্তিত হয়েছি, তদ্রুপ পরিবর্তিত হওয়ারই কথা।
(তিরমিযী, ইবন মাজাহ উভয়ে আব্দুল হামীদ ইবন হাবীব ইবন আবুশিরীন-এর রিওয়ায়েতে আওযাঈর সূত্রে হাসসান ইবন আতিয়্যার মধ্যস্থতায় সাঈদ (ইবন মুসায়্যিব) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গারীব। আমাদের জানা মতে, হাদীসটি কেবল এসনদেই বর্ণিত।)
[হাফিয (র) বলেনঃ], আব্দুল হামীদ হচ্ছেন আওযাঈর লিপিকার। তিনি একজন বিতর্কিত রাবী। সনদের অবশিষ্ট রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। ইব্‌ন আবিদ-দুনিয়া আওযাঈর আরেক লিপিকার। হাকল ইবন যিয়াদের সূত্রে ও আযাঈ থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকল ইবন যিয়াদের নাম মুহাম্মদ। কারও মতে, আব্দুল্লাহ তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজন রাবী। মুসলিম প্রমুখ তাঁকে প্রমাণস্বরূপ পেশ করেছেন। আওযাঈ (র) বলেন, আমি অবগত হয়েছি যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব আবু হুরায়রা (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এবলে তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي سوق الْجنَّة
5760- وَعَن سعيد بن الْمسيب أَنه لَقِي أَبَا هُرَيْرَة فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَة أسأَل الله أَن يجمع بيني وَبَيْنك فِي سوق الْجنَّة قَالَ سعيد أَو فِيهَا سوق قَالَ نعم أَخْبرنِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن أهل الْجنَّة إِذا دخلوها نزلُوا فِيهَا بِفضل أَعْمَالهم فَيُؤذن لَهُم فِي مِقْدَار يَوْم الْجُمُعَة من أَيَّام الدُّنْيَا فيزورون الله ويبرز لَهُم عَرْشه ويتبدى لَهُم فِي رَوْضَة من رياض الْجنَّة فتوضع لَهُم مَنَابِر من نور ومنابر من لُؤْلُؤ ومنابر من ياقوت ومنابر من زبرجد ومنابر من ذهب ومنابر من فضَّة وَيجْلس أَدْنَاهُم وَمَا فيهم دنيء على كُثْبَان الْمسك والكافور مَا يرَوْنَ أَن
أَصْحَاب الكراسي أفضل مِنْهُم مَجْلِسا قَالَ أَبُو هُرَيْرَة قلت يَا رَسُول الله هَل نرى رَبنَا قَالَ نعم هَل تتمارون فِي رُؤْيَة الشَّمْس وَالْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر قُلْنَا لَا قَالَ كَذَلِك لَا تتمارون فِي رُؤْيَة ربكُم عز وَجل وَلَا يبْقى فِي ذَلِك الْمجْلس أحد إِلَّا حاضره الله محاضرة حَتَّى إِنَّه ليقول للرجل مِنْكُم أَلا تذكر يَا فلَان يَوْم عملت كَذَا وَكَذَا يذكرهُ بعض غدراته فِي الدُّنْيَا فَيَقُول يَا رب أفلم تغْفر لي فَيَقُول بلَى فبسعة مغفرتي بلغت منزلتك هَذِه فَبَيْنَمَا هم كَذَلِك غشيتهم سَحَابَة من فَوْقهم فأمطرت عَلَيْهِم طيبا لم يَجدوا مثل رِيحه شَيْئا قطّ ثمَّ يَقُول رَبنَا تبَارك وَتَعَالَى قومُوا إِلَى مَا أَعدَدْت لكم من الْكَرَامَة فَخُذُوا مَا اشتهيتم قَالَ فنأتي سوقا قد حفت بِهِ الْمَلَائِكَة فِيهِ مَا لم تنظر الْعُيُون إِلَى مثله وَلم تسمع الآذان وَلم يخْطر على الْقُلُوب قَالَ فَيحمل لنا مَا اشتهينا لَيْسَ يُبَاع فِيهِ شَيْء وَلَا يشترى وَفِي ذَلِك السُّوق يلقى أهل الْجنَّة بَعضهم بَعْضًا قَالَ فَيقبل الرجل ذُو الْمنزلَة المرتفعة فَيلقى من دونه وَمَا فيهم دنيء فيروعه مَا يرى عَلَيْهِ من اللبَاس فَمَا يَنْقَضِي آخر حَدِيثه حَتَّى يتَمَثَّل عَلَيْهِ أحسن مِنْهُ وَذَلِكَ أَنه لَا يَنْبَغِي لأحد أَن يحزن فِيهَا قَالَ ثمَّ ننصرف إِلَى مَنَازلنَا فتتلقانا أَزوَاجنَا فيقلن مرْحَبًا وَأهلا لقد جِئْت وَإِن بك من الْجمال وَالطّيب أفضل مِمَّا فارقتنا عَلَيْهِ فَيَقُول إِنَّا جالسنا الْيَوْم رَبنَا الْجَبَّار عز وَجل وبحقنا أَن ننقلب بِمثل مَا انقلبنا

رَوَاهُ الترمذية وَابْن مَاجَه كِلَاهُمَا من رِوَايَة عبد الحميد بن حبيب ابْن أبي الْعشْرين عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن حسان بن عَطِيَّة عَن سعيد وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من هَذَا الْوَجْه
قَالَ الْحَافِظ وَعبد الحميد هُوَ كَاتب الْأَوْزَاعِيّ مُخْتَلف فِيهِ كَمَا سَيَأْتِي وَبَقِيَّة رُوَاة الْإِسْنَاد ثِقَات وَقد رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا عَن هِقْل بن زِيَاد كَاتب الْأَوْزَاعِيّ أَيْضا واسْمه مُحَمَّد وَقيل عبد الله وَهُوَ ثِقَة ثَبت احْتج بِهِ مُسلم وَغَيره عَن الْأَوْزَاعِيّ قَالَ نبئت أَن سعيد بن الْمسيب لَقِي أَبَا هُرَيْرَة فَذكر الحَدِيث
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের বাজারের বর্ণনা
৫৭৬১. যরত আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে। সেখানে কোন বেচাকেনা হবে না। সেখানে কেবল নারী-পুরুষের ছবি পাওয়া যাবে। যখন কোন ব্যক্তি কোন ছবির প্রতি আগ্রহী হবে। তখন সে সেই ছবির মত আকৃতি ধারণ করবে।
(ইবন আবুদ-দুনিয়া ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।
পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে জাবির (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি পূর্বে (উক্ত অধ্যায়ে) উল্লিখিত হয়েছে। তাতে রয়েছে: "নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে। সেখানে কোন বেচা-কেনা হবে না। সেখানে কেবল ছবি পাওয়া যাবে যে ব্যক্তি কোন পুরুষ অথবা মহিলার কোন ছবি পছন্দ করবে, সে সেই ছবির মত আকৃতি ধারণ করবে।"
তাবারানী 'আল-আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي سوق الْجنَّة
5761- وَرُوِيَ عَن عَليّ بن أبي طَالب رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي الْجنَّة لسوقا مَا فِيهَا شِرَاء وَلَا بيع إِلَّا الصُّور من الرِّجَال وَالنِّسَاء فَإِذا اشْتهى الرجل صُورَة دخل فِيهَا

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
وَتقدم فِي عقوق الْوَالِدين حَدِيث جَابر عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَفِيه وَإِن فِي الْجنَّة لسوقا مَا يُبَاع فِيهَا وَلَا يشترى لَيْسَ فِيهَا إِلَّا الصُّور فَمن أحب صُورَة من رجل أَو امْرَأَة دخل فِيهَا

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের বাজারের বর্ণনা
৫৭৬২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতবাসীরা বলবে, তোমরা বাজারে যাও। তখন তারা একটি মেশকের টিলার দিকে যাবে। যখন তারা তাদের স্ত্রীদের কাছে ফিরে যাবে, তখন
তারা (স্ত্রীদেরকে) বলবে, আমরা তোমাদের থেকে এমন ঘ্রাণ পাচ্ছি, যা ইতিপূর্বে তোমাদের ছিল না। তিনি বলেন, তখন তারা (স্ত্রীগণ) বলবে, তোমরাও এমন ঘ্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছ, যা ইতিপূর্বে তোমাদের ছিল না, যখন তোমরা আমাদের নিকট থেকে বের হয়ে গেছ।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া উৎকৃষ্ট সনদে মাওকূফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي سوق الْجنَّة
5762- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ يَقُول أهل الْجنَّة انْطَلقُوا إِلَى السُّوق فَيَنْطَلِقُونَ إِلَى كُثْبَان الْمسك فَإِذا رجعُوا إِلَى أَزوَاجهم قَالُوا إِنَّا لنجد لَكِن ريحًا مَا كَانَت لَكِن قَالَ فيقلن وَلَقَد رجعتم برِيح مَا كَانَت لكم إِذْ خَرجْتُمْ من عندنَا

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا بِإِسْنَاد جيد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের বাজারের বর্ণনা
৫৭৬৩. তাঁরই থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার তথা মেশকের টিলা রয়েছে। তারা সেখানে যাবে এবং সেখানে সমবেত হবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা একটি বায়ু প্রবাহ প্রেরণ করবেন এবং তা তাদের গৃহে দাখিল করবেন। যখন তারা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদের পরিবারের লোকজন তাদেরকে বলবে, আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা তাদের পরিবারের লোকজনকে বলবে-আমাদের যাওয়ার পর তোমাদেরও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও বায়হাকী মাওকূফরূপেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي سوق الْجنَّة
5763- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن فِي الْجنَّة لسوقا كُثْبَان مسك يخرجُون إِلَيْهَا ويجتمعون إِلَيْهَا فيبعث الله ريحًا فيدخلها بُيُوتهم فَيَقُول لَهُم أهلوهم إِذا رجعُوا إِلَيْهِم قد ازددتم حسنا بَعدنَا فَيَقُولُونَ لأهليهم قد ازددتم أَيْضا حسنا بَعدنَا

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا أَيْضا وَالْبَيْهَقِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৬৪. হয়রত মুফাই ইবন মাতি' (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতীদের নিয়ামতসমূহ থেকে অন্যতম নিয়ামত এই যে, তারা বাহণজন্তু ও উন্নতজাতের উট-অশ্বের উপর আরোহণ করে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারা জান্নাতে জীন ও লাগাম লাগানো এমন অশ্বে আরোহণ করে বিচরণ করবে, যারা মলমূত্র ত্যাগ করবে না। তারা সেগুলোতে আরোহণ করে যেখানে আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা হয় সেখানে নিয়ে পৌঁছবে। এরপর তাদের কাছে মেঘের আকারে কিছু আসবে। তাতে এমন নিয়ামত থাকতে, যা কোন চোখ দেখে নি এবং কোন কান শুনিনি। তারা বলবে, (হে মেঘ।) আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর। তখন তাদের উপর এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকবে যে, এটা তাদের আশার সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা এরুপ বায়ু প্রেরণ করবেন, যা কষ্টদায়ক নয়। সে বায়ু তাদের ডান দিক থেকে তাদের বাম দিক থেকে মেশকের ডিবি উড়িয়ে আনবে। ফলে তারা সে মেশক তাদের ঘোড়ার কপালে ঘাড়ে ও তাদের মাথায় ধারণ করবে। তাদের প্রত্যেকের মনের ইচ্ছা মাফিক মাথায় লম্বা চুল থাকবে। সুতরাং সে মেশক সেসব লম্বা চুলে, ঘোড়ায় এবং কাপড়ে লাগবে। এরপর তারা অগ্রসর হয়ে যেখানে আল্লাহর ইচ্ছা হয়, সেখানে গিয়ে পৌছবে। দেখা যাবে যে, একজন রমণী তাদের একজনকে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর বান্দা। তোমার কি আমাদের কোন প্রয়োজন নেই? উত্তরে সে বলবে তুমি কি এবং কে হে? জবাবে সে বলবে, আমি তোমার স্ত্রী ও তোমার বান্ধবী। সে বলবে, আমি তোমার অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞত ছিলাম না। রমনীটি তখন বলবে, তুমি কি জানতে না যে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের চোখ জুড়ানোর উপাদান স্বরূপ যা গোপন রাখা হয়েছে, তা কেউ জানে না।" (৩২ঃ ১৭) সে বলবে: হ্যাঁ। আমার রবের কসম। এ দাঁড়ানোর পর সম্ভবত রমণীটির ব্যাপারে তাকে চল্লিশ বছর উদাসীন করে রাখা হবে। সে তাকাবে না এবং ফিরেও আসবে না। তাতে বিদ্যমান নিয়ামত ও উচ্চমর্যাদাই তাকে সে রমণীটির ব্যাপারে উদাসীন করে রাখবে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ইসমাঈল ইবন আয়্যাশের রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
[হাফিয (র) বলেন], বুখারী ও ইবন হিব্বান শুফাইকে তাবিঈনের মধ্যে গণ্য করেছেন। তাঁর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারটি প্রমাণিত নয়। আবু নু'আয়ম বলেন, তাঁর ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে। কারও মতে, তিনি সাহাবী হওয়ায় সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। আল্লাহই অধিকতর জ্ঞাত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5764- عَن شفي بن ماتع أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن من نعيم أهل الْجنَّة أَنهم يتزاورون على المطايا والنجب وَإِنَّهُم يُؤْتونَ فِي الْجنَّة بخيل مسرجة ملجمة لَا تروث وَلَا تبول فيركبونها حَتَّى ينْتَهوا حَيْثُ شَاءَ الله عز وَجل فيأتيهم مثل السحابة فِيهَا مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت فَيَقُولُونَ امطري علينا فَمَا يزَال الْمَطَر عَلَيْهِم حَتَّى يَنْتَهِي ذَلِك فَوق أمانيهم ثمَّ يبْعَث الله ريحًا غير مؤذية فتنسف كثبانا من مسك عَن أَيْمَانهم وَعَن شمائلهم فَيَأْخُذُونَ ذَلِك الْمسك فِي نواصي خيولهم وَفِي معارفها وَفِي رؤوسهم وَلكُل رجل مِنْهُم جمة على مَا اشتهت نَفسه فَيتَعَلَّق ذَلِك الْمسك فِي تِلْكَ الجمام وَفِي الْخَيل وَفِيمَا سوى ذَلِك من الثِّيَاب ثمَّ يقبلُونَ حَتَّى ينْتَهوا إِلَى مَا شَاءَ الله فَإِذا الْمَرْأَة تنادي بعض أُولَئِكَ يَا عبد الله أما لَك فِينَا حَاجَة فَيَقُول مَا أَنْت وَمن أَنْت فَتَقول أَنا زَوجتك وحبك فَيَقُول مَا كنت علمت بمكانك فَتَقول الْمَرْأَة أَو مَا تعلم أَن الله تَعَالَى قَالَ فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71 فَيَقُول بلَى وربي
فَلَعَلَّهُ يشغل عَنْهَا بعد ذَلِك الْموقف أَرْبَعِينَ خَرِيفًا لَا يلْتَفت وَلَا يعود وَمَا يشْغلهُ عَنْهَا
إِلَّا مَا هُوَ فِيهِ من النَّعيم والكرامة

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا من رِوَايَة إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش
قَالَ الْحَافِظ وشفي ذكره البُخَارِيّ وَابْن حبَان فِي التَّابِعين وَلَا تثبت لَهُ صُحْبَة وَقَالَ أَبُو نعيم مُخْتَلف فِيهِ فَقيل لَهُ صُحْبَة كَذَا وَالله أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৬৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন ভাই-বন্ধুগণ একে অপরকে দেখতে আগ্রহ করবে। তখন এর আসন ওর কাছে সফর করে যাবে এবং ওর আসন এর কাছে সফর করে যাবে। এভাবে তারা উভয়ে একে অপরের সাথে মিলিত হবে এবং এ হেলান দিয়ে বসবে, ও হেলান দিয়ে বসবে। তাদের একজন অপরজনকে বলবে, তুমি কি জান, আল্লাহ্ তা'আলা কখন আমাদেরকে ক্ষমা করেছেন? তখন তার সঙ্গী বলবে, হ্যাঁ। যেদিন আমরা অমুক অমুক জায়গায় ছিলাম এবং আমরা আল্লাহর কাছে দু'আ করেছিলাম। তখন তিনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দেন।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5765- وَرُوِيَ عَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا دخل أهل الْجنَّة الْجنَّة فيشتاق الإخوان بَعضهم إِلَى بعض فيسير سَرِير هَذَا إِلَى سَرِير هَذَا وسرير هَذَا إِلَى سَرِير هَذَا حَتَّى يجتمعا جَمِيعًا فيتكىء هَذَا ويتكىء هَذَا فَيَقُول أَحدهمَا لصَاحبه أتعلم مَتى غفر الله لنا فَيَقُول صَاحبه نعم يَوْم كُنَّا فِي مَوضِع كَذَا وَكَذَا فدعونا الله فغفر لنا

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالْبَزَّار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৬৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতীগণ মিশ্র বর্ণের উটে চড়ে পরস্পরে সাক্ষাৎ করবে। উটের উপর থাকবে 'শাণ শওকতপূর্ণ' হাওদা। উটের খুর মেশকের ধূলো উড়াবে। তার মধ্যকার একটি উটের নাকের রশি অথবা লাগাম দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছু থেকে উত্তম।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5766- وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن أهل الْجنَّة ليتزاورون على العيس الجون عَلَيْهَا رحال الميس ويثير مناسمها غُبَار الْمسك خطام أَو زِمَام أَحدهَا خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا
হাদীস নং: ৫৭৬৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৬৭. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় জান্নাতে একটি বৃক্ষ রয়েছে, যার উপরিভাগ থেকে পোষাক এবং নিম্নভাগ থেকে মুক্তা রয়েছে, যার উপরিভাগ থেকে পোষাক এবং নিম্নভাগ থেকে মুক্তা ও চুনির লাগাম পরিহিত জ্বীন বাঁধা এমন সোনার ঘোড়া বের হবে, যা মলমূত্র ত্যাগ করবে না। তার ডানা থাকবে, তার প্রতিটি পদক্ষেপ হবে দৃষ্টি সীমার শেষ প্রান্তে। জান্নাতীগণ তাতে আরোহন করবে। তাদের যেখানে ইচ্ছা, ঘোড়া তাদের সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তখন তাদের মধ্যে যারা নিম্ন মর্যাদার অধিকারী তারা বলবে, হে আমাদের রব! তোমার বান্দাগণ এতসব উচ্চ মর্যাদা কিভাবে লাভ করলো? তিনি বলেন, তখন তাদেরকে বলা হবে, তারা রাত্রে সালাত আদায় করত, আর তোমরা তখন নিদ্রা যেতে। তারা সাওম পালন করত, আর তোমরা আহার করতে। তারা (সৎকাজে অর্থ) ব্যয় করত, আর তোমরা কার্পণ্য করতে। তারা জিহাদ করত, আর তোমরা জিহাদকে ভয় করতে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5767- وَرُوِيَ عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن فِي الْجنَّة لشَجَرَة يخرج من أَعْلَاهَا حلل وَمن أَسْفَلهَا خيل من ذهب مسرجة ملجمة من در وَيَاقُوت لَا تروث وَلَا تبول لَهَا أَجْنِحَة خطوها مد الْبَصَر فَيركبهَا أهل الْجنَّة فتطير بهم حَيْثُ شاؤوا فَيَقُول الَّذين أَسْفَل مِنْهُم دَرَجَة يَا رب بِمَا بلغ عِبَادك هَذِه الْكَرَامَة كلهَا قَالَ فَيُقَال لَهُم كَانُوا يصلونَ بِاللَّيْلِ وكنتم تنامون وَكَانُوا يَصُومُونَ وكنتم تَأْكُلُونَ وَكَانُوا يُنْفقُونَ وكنتم تبخلون وَكَانُوا يُقَاتلُون وكنتم تجبنون

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৬৮. হযরত আব্দুর রহমান ইবন সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি ঘোড়া পছন্দ করতাম। তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। জান্নাতে কি ঘোড়া থাকবে? তিনি বললেন, হে আব্দুর রহমান! যদি আল্লাহ্ তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান তবে সেখানে তোমার জন্য চুনির একটি ঘোড়া থাকবে, যার দু'টো পাখা থাকবে। তোমার যেখানে ইচ্ছা, সে তোমাকে সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।
(তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5768- وَعَن عبد الرَّحْمَن بن سَاعِدَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ كنت أحب الْخَيل فَقلت يَا رَسُول الله هَل فِي الْجنَّة خيل فَقَالَ إِن أدْخلك الله الْجنَّة يَا عبد الرَّحْمَن كَانَ لَك فِيهَا فرس من ياقوت لَهُ جَنَاحَانِ تطير بك حَيْثُ شِئْت

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৬৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৬৯. হযরত সুলায়মান ইব্‌ন বুরায়দার সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। জান্নাতে কি কোন ঘোড়া থাকবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি আল্লাহ্ তোমাকে জান্নাতে দাখিল করেন, তবে তুমি যখনই চাইবে যে, সেখানে তুমি এমন একটি লাল চুনির ঘোড়ায় আরোহণ করবে, যে জান্নাতে তোমার যেখানে ইচ্ছা, সেখানে তোমাকে উড়িয়ে না নিয়ে ছাড়বে না।
তিনি বলেন, আরেক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। জান্নাতে কি উট থাকবে? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে সে উত্তর দেন নি, যা তার সঙ্গীকে দিয়েছেন। তিনি বললেন, যদি আল্লাহ্ তোমাকে জান্নাতে দাখিল করেন, তবে তোমার মন যা চাইবে এবং তোমার চোখে যা সুন্দর ঠেকবে তা তোমার জন্য
সেখানে থাকবে।
(তিরমিযী মাসউদীর সনদে আলকামার সূত্রে আব্দুর রহমান ইবন সাবিত-এর মধ্যস্থতায় নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এরূপ অর্থবোধক একটি রিওয়ায়েতে উল্লেখ করেছেন। এ রিওয়ায়েত মাসউদীর মুরসাল রিওয়ায়েত থেকে বিশুদ্ধতর।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5769- وَعَن سُلَيْمَان بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه أَن رجلا سَأَلَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله هَل فِي الْجنَّة من خيل فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الله أدْخلك الْجنَّة فَلَا تشَاء أَن تحمل فِيهَا
على فرس من ياقوتة حَمْرَاء تطير بك فِي الْجنَّة حَيْثُ شِئْت إِلَّا كَانَ قَالَ وَسَأَلَهُ رجل فَقَالَ يَا رَسُول الله هَل فِي الْجنَّة من إبل قَالَ فَلم يقل لَهُ مَا قَالَ لصَاحبه قَالَ إِن يدْخلك الله الْجنَّة يكن لَك فِيهَا مَا اشتهت نَفسك ولذت عَيْنك

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من طَرِيق المَسْعُودِيّ عَن عَلْقَمَة عَن عبد الرَّحْمَن بن سابط عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ نَحوه بِمَعْنَاهُ وَهَذَا أصح من حَدِيث المَسْعُودِيّ يَعْنِي الْمُرْسل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭৭০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৭০. হযরত আবু আইউব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন বেদুইন নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমি ঘোড়া পছন্দ করি। জান্নাতে কি ঘোড়া থাকবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর, তবে তোমাকে একটি চুনির ঘোড়া দেয়া হবে যার দু'টি ডানা থাকবে। তার উপর তোমাকে আরোহণ করানো হবে। এরপর তোমার যেখানে ইচ্ছা, সে তোমাকে সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। (তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবন হুসায়ন-এর রিওয়ায়েতটি ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদ বর্ণিত হবে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5770- وَرُوِيَ عَن أبي أَيُّوب رَضِي الله عَنهُ قَالَ أَتَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَعْرَابِي فَقَالَ يَا رَسُول الله إِنِّي أحب الْخَيل أَفِي الْجنَّة خيل قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن دخلت الْجنَّة أُوتيت بفرس من ياقوتة لَهُ جَنَاحَانِ فَحملت عَلَيْهِ ثمَّ طَار بك حَيْثُ شِئْت

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَيَأْتِي حَدِيث مُحَمَّد بن الْحُسَيْن فِي الْفَصْل بعده إِن شَاءَ الله
tahqiq

তাহকীক: