আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ২৪৮ টি
হাদীস নং: ৫৭৭১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার সাথে জান্নাতীদের সাক্ষাতের বর্ণনা
৫৭৭১. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন জান্নাতীগণ জান্নাতে অবস্থান করবে, তখন একজন ফিরিশতা তাদের কাছে এসে বলবে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। তখন তারা সমবেত হবে। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা দাউদ (আ)-কে হুকুম করবেন। তখন তিনি উচ্চঃস্বরে তাসবীহ্ ও তাহলীল পাঠ করবেন। অতঃপর জান্নাতুল খুলুদ-এর খাঞ্চা পেশ করা হবে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। জান্নাতুল খুলদ-এর খাঞ্চা কেমন হবে? তিনি বললেন, সে খাঞ্চার একটি কোন উদয়াচল এবং আস্তাচলের মধ্যবর্তী স্থানের চেয়ে প্রশস্ততর। এরপর তাদেরকে খাওয়ানো হবে, পান করানো হবে এবং কাপড় পরিধান করানো হবে। তখন তারা বলবে, কেবল আমাদের রব আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাতটাই অবশিষ্ট রয়েছে। এরপর তিনি তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা এখন আর আমলের জগতে নও, তোমরা এখন প্রতিদানের জগতে রয়েছে।
(আবু নু'আয়ম সিফাতুল জান্নাত' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(আবু নু'আয়ম সিফাতুল জান্নাত' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي زِيَارَة أهل الْجنَّة رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5771- وَرُوِيَ عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِذا سكن أهل الْجنَّة الْجنَّة أَتَاهُم ملك فَيَقُول إِن الله يَأْمُركُمْ أَن تزوروه فيجتمعون فيأمر الله تَعَالَى دَاوُد عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَام فيرفع صَوته بالتسبيح والتهليل ثمَّ تُوضَع مائدة الْخلد
قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا مائدة الْخلد قَالَ زَاوِيَة من زواياها أوسع مِمَّا بَين الْمشرق وَالْمغْرب فيطعمون ثمَّ يسقون ثمَّ يكسون فَيَقُولُونَ لم يبْق إِلَّا النّظر فِي وَجه رَبنَا عز وَجل فيتجلى لَهُم فَيَخِرُّونَ سجدا فَيُقَال لَسْتُم فِي دَار عمل إِنَّمَا أَنْتُم فِي دَار جَزَاء
رَوَاهُ أَبُو نعيم فِي صفة الْجنَّة
قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا مائدة الْخلد قَالَ زَاوِيَة من زواياها أوسع مِمَّا بَين الْمشرق وَالْمغْرب فيطعمون ثمَّ يسقون ثمَّ يكسون فَيَقُولُونَ لم يبْق إِلَّا النّظر فِي وَجه رَبنَا عز وَجل فيتجلى لَهُم فَيَخِرُّونَ سجدا فَيُقَال لَسْتُم فِي دَار عمل إِنَّمَا أَنْتُم فِي دَار جَزَاء
رَوَاهُ أَبُو نعيم فِي صفة الْجنَّة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার সাথে জান্নাতীদের সাক্ষাতের বর্ণনা
৫৭৭২. হযরত আব্দুর রহমান ইবন ইয়াযীদ-এর সূত্রে তাঁর পিতার মধ্যস্থতায় সায়ফী ইয়ামামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল আযীয ইবন মারওয়ান তাঁকে জান্নাতীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে তিনি বললেন, তারা প্রতি বৃহস্পতিবারে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দলবদ্ধভাবে গমন করবে। তাদের জন্য আসন স্থাপন করা হবে এবং আপনি যে আসনের উপর রয়েছেন, তা আপনি, যতটুকু চেনেন, তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকটি লোক তার আসন সম্পর্কে তার চেয়ে অধিকতর অবগত হবে। যখন তারা তার উপর বসবে এবং লোকজন তাদের আসন গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তোমরা আমার বান্দা, আমার মাখলুক, আমার প্রতিবেশী ও আমার লোকজনকে আহার্য দাও। তখন তাদেরকে আহার্য দেওয়া হবে। এরপর তিনি বলবেন, তাদেরকে পানীয় দান কর। তিনি বলেন, তখন বিভিন্ন প্রকার পানীয়য়ের সীলমোহরকৃত পাত্রসমূহ তাদের সামনে উপস্থিত করা হবে। তারা সেগুলো থেকে পানীয় পান করবে। এরপর তিনি বলবেন, আমার বান্দা, আমার মাখলুক, আমার প্রতিবেশী ও আমার লোকজনকে পানাহার করানো হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ফল-ফলাদি খেতে দাও। তখন একটি বৃক্ষের ফল (তাদের দিকে) ঝুঁকে আসবে। তারা সেখান থেকে তাদের ইচ্ছামত খাবে। এরপর তিনি বলবেন, আমার বান্দারা আমার মাখলুকরা আমার প্রতিবেশীরা ও আমার লোকজন পানাহার করানো হয়েছে এবং ফলফলাদি খাওয়ানো হবে। তাদেরকে খিলাত দান কর! তখন এমন একটি বৃক্ষের সবুজ, হলুদ, লাল ও প্রত্যেক প্রকারের ফল আসবে, যা একমাত্র পোষাকই উৎপন্ন করবে। ফলে তাদের গায়ে জামা কাপড় ছড়িয়ে পড়বে। এর খিলাত পরিধান করানো হয়েছে। তাদেরকে তোমরা সুগন্ধি মাখাও। তখন বৃষ্টির ছোট ছোট ফোঁটার মত তাদের উপর মেশকের ছিটা পড়তে থাকবে। এরপর তিনি বলবেন, আমার বান্দা, আমার মাখলুক, আমার প্রতিবেশী ও আমার লোকজনকে পানাহার করানো হয়েছে, ফলফলাদি খাওয়ানো হয়েছে, খিলাত পরানো হয়েছে এবং তাদেরকে সুগন্ধি মাখানো হয়েছে। অবশ্যই আমি তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করব, যাতে তারা আমাকে দেখতে পায়। যখন তিনি তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন, তখন তারা তার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে। তখন তাদের চেহারা সজীব হয়ে উঠবে। এরপর বলা হবে, তোমরা তোমাদের আবাসগৃহ সমূহে ফিরে যাও। (ফিরে যাওয়ার পর) তাদের স্ত্রীগণ তাদেরকে বলবে, তোমরা ভিন্ন আকৃতি ধারণ করে ফিরে এসেছ। তারা বলবে, তার কারণ এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন, আমরা তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করি। ফলে আমাদের চেহারা সজীব হয়ে উঠেছে।
(ইব্ন আবিদ-দুনিয়া মাওকুফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(ইব্ন আবিদ-দুনিয়া মাওকুফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي زِيَارَة أهل الْجنَّة رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5772- وَعَن عبد الرَّحْمَن بن يزِيد عَن أَبِيه عَن صَيْفِي اليمامي قَالَ سَأَلَهُ عبد الْعَزِيز بن مَرْوَان عَن وَفد أهل الْجنَّة قَالَ إِنَّهُم يفدون إِلَى الله سُبْحَانَهُ كل يَوْم خَمِيس فتوضع لَهُم أسرة كل إِنْسَان مِنْهُم أعرف بسريره مِنْك بسريرك هَذَا الَّذِي أَنْت عَلَيْهِ فَإِذا قعدوا عَلَيْهِ وَأخذ الْقَوْم مجَالِسهمْ
قَالَ تبَارك وَتَعَالَى أطعموا عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي فيطعمون ثمَّ يَقُول اسقوهم
قَالَ فيؤتون بآنية من ألوان شَتَّى مختمة فيشربون
مِنْهَا ثمَّ يَقُول عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا فكهوهم فتجيء ثَمَرَات شجر مدلى فَيَأْكُلُونَ مِنْهَا مَا شاؤوا ثمَّ يَقُول عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا وفكهوا اكسوهم فتجيء ثَمَرَات شجر أَخْضَر وأصفر وأحمر وكل لون لم تنْبت إِلَّا الْحلَل فينشر عَلَيْهِم حللا وقمصا ثمَّ يَقُول عبَادي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا وفكهوا وكسوا طيبوهم فيتناثر عَلَيْهِم الْمسك مثل رذاذ الْمَطَر ثمَّ يَقُول عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا وفكهوا وطيبوا لأتجلين عَلَيْهِم حَتَّى ينْظرُوا إِلَيّ فَإِذا تجلى لَهُم فنظروا إِلَيْهِ نضرت وُجُوههم ثمَّ يُقَال ارْجعُوا إِلَى مَنَازِلكُمْ فَتَقول لَهُم أَزوَاجهم خَرجْتُمْ من عندنَا على صُورَة وَرَجَعْتُمْ على غَيرهَا فَيَقُولُونَ ذَلِك أَن الله جلّ ثَنَاؤُهُ تجلى لنا فَنَظَرْنَا إِلَيْهِ فنضرت وُجُوهنَا
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا
قَالَ تبَارك وَتَعَالَى أطعموا عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي فيطعمون ثمَّ يَقُول اسقوهم
قَالَ فيؤتون بآنية من ألوان شَتَّى مختمة فيشربون
مِنْهَا ثمَّ يَقُول عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا فكهوهم فتجيء ثَمَرَات شجر مدلى فَيَأْكُلُونَ مِنْهَا مَا شاؤوا ثمَّ يَقُول عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا وفكهوا اكسوهم فتجيء ثَمَرَات شجر أَخْضَر وأصفر وأحمر وكل لون لم تنْبت إِلَّا الْحلَل فينشر عَلَيْهِم حللا وقمصا ثمَّ يَقُول عبَادي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا وفكهوا وكسوا طيبوهم فيتناثر عَلَيْهِم الْمسك مثل رذاذ الْمَطَر ثمَّ يَقُول عبَادي وَخلقِي وجيراني ووفدي قد طعموا وَشَرِبُوا وفكهوا وطيبوا لأتجلين عَلَيْهِم حَتَّى ينْظرُوا إِلَيّ فَإِذا تجلى لَهُم فنظروا إِلَيْهِ نضرت وُجُوههم ثمَّ يُقَال ارْجعُوا إِلَى مَنَازِلكُمْ فَتَقول لَهُم أَزوَاجهم خَرجْتُمْ من عندنَا على صُورَة وَرَجَعْتُمْ على غَيرهَا فَيَقُولُونَ ذَلِك أَن الله جلّ ثَنَاؤُهُ تجلى لنا فَنَظَرْنَا إِلَيْهِ فنضرت وُجُوهنَا
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার সাথে জান্নাতীদের সাক্ষাতের বর্ণনা
৫৭৭৩. হযরত মুহাম্মদ ইবন আলী আহমাদ হুসায়ন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে একটি বৃক্ষ রয়েছে। তাকে 'তূূবা' বলা হয়। যদি দ্রুতগামী অশ্বে আরোহী ব্যক্তিকে তার ছায়ায় চলতে নিয়োজিত করা হয়, তবে সে তার ছায়ায় একশ' বছর অবধি চলবে। তার পাতা হবে সবুজ ডোরা কাটা কাপড়, তার ফুল হলুদ মসৃণ কাপড়, তার সরু ডালগুলো পাতলা ও পুরু রেশম, তার ফল পোষাক, তার আঠা আদ্রক ও মধু, তার নর্দমা লাল চুনির ও সবুজ পান্নার, তার মাটি মেশক, আম্বর ও হলুদ কর্পুর, তার তৃণ পাকা জাফরান ও সুগন্ধি কাঠ, যা জ্বালানো ব্যতিরেকেই সুগন্ধি ছড়ায়। তার মূল থেকে মিঠা পানির ফোয়ারা ঝর্ণা ও নির্ভেজাল শরাব উৎসরিত হয়। তার পাদদেশ জান্নাতীদের বসার একটি অন্যতম স্থান। সে স্থানটি তাদের খুব পসন্দসই হবে। একটি আলোচনা সভা তাদেরকে সমবেত করবে। একদা তারা বৃক্ষটির ছায়ায় আলোচনা করবে, এহেন মুহূর্তে ফিরিশতাগণ এমন কিছু দ্রুতগামী বাহণজন্তু হাঁকিয়ে তাদের কাছে আসবে, যাদেরকে চুনি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যাদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে। বাহন জন্তুগুলো সোনার শিকলে বাঁধা থাকবে। সমীরতা ও সৌন্দর্যের দিক থেকে ওগুলোর চেহারাগুলো হবে যেন প্রদীপ। সেগুলোর পশম হবে লাল রেশম ও সাদা নরম কেশে মিশ্রিত। কোন দর্শক এরূপ সৌন্দর্য ও দীপ্তি কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। তারা ভীতি ব্যতিরেকে অনুগত এবং মহড়া দেওয়া ব্যতিরেকেই উৎকৃষ্ট। তাদের উপর থাকবে এমন হাওদা, যার পাটগুলো হবে বড় মুক্তা ও চুনির এবং ছোট মুক্তা ও প্রবণ রত্নের কাজ করা। তাদের পৃষ্ঠ হবে লাল সোনার তৈরী, উন্নতমানের বিছানা ও লাল কাপড়ে আবৃত। অতঃপর ফিরিশতাগণ তাদের সামনে দ্রুতগামী বাহন জড়গুলোকে বসাবে। এরপর তাদেরকে বলবে, তোমাদের রব, তোমাদেরকে সালাম বলেছেন এবং তোমাদের সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন যাতে করে তোমরা তাকে দেখতে পার এবং তিনি তোমাদেরকে দেখেন, তোমরা তাঁর সাথে কথা বলতে পার এবং তিনি তোমাদের সাথে কথা বলেন, তোমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে পার এবং তিনি তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাতে পারেন এবং তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করে দেন। তিনি পরিব্যাপ্ত দয়া ও বিশাল অনুগ্রহের অধিকারী। সুতরাং প্রত্যেকেই তার বাহনজন্তুর উপর আরোহণ করবে এবং তারা সোজা সারিবদ্ধ হয়ে চলবে। সারির কেউ কারও থেকে পৃথক হবে না এবং একটি উটনীর কানের অপর উটনীর কানের সাথে পার্থক্য থাকবে না। তারা জান্নাতের যে বৃক্ষের পাশ দিয়েই যাবে, সে তাদেরকে ফল উপহার দেবে এবং তাদের ছত্রভঙ্গ হওয়ার আশংকায় অথবা দুই সফর সঙ্গীর মাঝে পার্থক্য ও দূরত্ব সৃষ্টির ভয়ে সে তাদের সুবিধার্থে তাদের পথ থেকে দূরে সরে যাবে যখন তারা পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা'আলার কাছে পৌঁছবে, তখন তিনি তাদের সামনে তাঁর মহান চেহারা উন্মোচিত করবেন এবং মহা প্রতাপের সাথে তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। সেখানে তাদের অভিনন্দন হবে সালাম। তারা বলবে, হে আমাদের রব! আপনার নাম সালাম (শান্তিন্তি), আপনার পক্ষ থেকেই সালাম (শান্তি) আসে এবং প্রতাপ ও সম্মান দানের অধিকার আপনারই। তখন তাদের রব তাদেরকে বলবেন, নিশ্চয় আমার নাম সালাম, আমার পক্ষ থেকেই সালাম আসে এবং প্রতাপ ও সম্মান দানের অধিকার আমারই। সুতরাং আমি স্বাগতম জানাই আমার সেসব বান্দাদের, যারা আমার উপদেশ সংরক্ষণ করেছে। আমার (সাথে প্রদত্ত) প্রতিশ্রুতির প্রতি যত্নবান রয়েছে আমাকে না দেখেও ভয় করেছে এবং তারা সর্বাবস্থায় আমার ভয়ে কম্পিত ছিল। তারা বলবে, তবে আপনার সম্ভ্রম, আপনার প্রতাপ ও আপনার উঁচু মর্যাদার কসম, আমরা আপনার যথোচিত মর্যাদা রক্ষা করতে পারিনি এবং আপনার পূর্ণ হক আদায় করতে পারিনি। সুতরাং আমাদেরকে আপনার সামনে সিজদা করার অনুমতি দিন। তখন তাদের রব তা'আলা তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের থেকে ইবাদতের কষ্ট দূর করে দিয়েছি, তোমাদের আরামের জন্য তোমাদের শরীরকে শাস্তি দিয়েছি। তোমরা দীর্ঘকাল শরীরকে ক্লান্ত রেখেছ এবং চেহারা অবনমিত রেখেছ। এখন তোমরা আমার শান্তি, আমার দয়া ও আমার সম্মানের দ্বারে পৌঁছেছ। সুতরাং তোমাদের যা ইচ্ছা আমার কাছে চাও এবং আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা পূর্ণ করব। কেননা, আমি আজ তোমাদেরকে তোমাদের আমল অনুপাতে প্রতিদান দেব না; বরং আমার দয়া, আমার সম্মান, আমার ক্ষমতা, আমার প্রতাপ, আমার উচ্চমর্যাদা ও আমার মাহাত্মা অনুপাতে প্রতিদান দেব। এরপর তারা আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ ও দান-বখশিশ প্রার্থনায় নিয়োজিত থাকবে। এমনকি তাদের মধ্যে ন্যূনতম প্রার্থনাকারী ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা যেদিন দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকে দুনিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়ার দিন পর্যন্ত সমস্ত দুনিয়ার সমান বখশিশ চাইবে। তাদের রব তাদেরকে বলবেন, তোমরা তোমাদের আকাঙ্ক্ষায় ত্রুটি করেছ এবং তোমাদের জন্য যা উচিত, তার চেয়ে কমে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছ। তোমরা যা চেয়েছ এবং আকাঙ্ক্ষা করেছ, তা আমি তোমাদের জন্য অবধারিত করে দিলাম এবং যে ব্যাপারে তোমাদের আকাঙ্ক্ষা অক্ষম হয়েছে, তার উপর তোমাদেরকে (পুরস্কার) বৃদ্ধি করে দিলাম। তোমরা তোমাদের রবের দানের প্রতি তাকাও, যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। তখন দেখা যাবে যে, তার সামনে বিশাল উঁচু অনেকগুলো গম্বুজ এবং বড় মুক্তা ও প্রবালরত্নে নির্মিত অনেক কামরা রয়েছে। সেগুলোর দরজা সোনার, পালংকগুলো চুনির বিছানাগুলো পাতলা ও পুরু রেশমের মিম্বরগুলো নূরের। কামরাসমূহের দরজা ও আসবাবপত্র থেকে সূর্যের কিরণের মত আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। যেমন আলোকদীপ্ত দিবসে (প্রাজ্জ্বল তারকা।। আরও দেখা যাবে যে, চুনি দ্বারা নির্মিত মহাকাশচুম্বী অনেকগুলো প্রাসাদ রয়েছে, সেগুলো থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। যদি না সে আলো নিয়ন্ত্রিত করা হত, তবে দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নিয়ে যেত। সেসব প্রাসাদের মধ্য থেকে যেটি সাদা চুনি নির্মিত, তাতে সাদা রেশম বিছানা রয়েছে, যেটি লাল চুনি দ্বারা নির্মিত, তাতে লাল গালিচা বিছানো রয়েছে, যেটি সবুজ চুনি দ্বারা নির্মিত, তাতে সবুজ রেশম বিছানা রয়েছে, যেটি হলুদ চুনি দ্বারা নির্মিত, তাতে হলুদ কাপড় বিছানো রয়েছে, যা সবুজ যমররদ, লাল সোনা ও শুভ্র রূপার নিকেল করা। প্রাসাদগুলোর ভিত্তিও স্তম্ভগুলো হবে চুনির উপরিভাগ হবে মুক্তার গুম্বুজ, থাকার জায়গাগুলো প্রবাল রত্নের কামরা। তাদের রব তাদেরকে যা দেবেন, তার দিকে যখন তারা রওয়ানা হবে, তখন তাদের সামনে সাদা চুনির তৈরী উন্নতমানের ঘোড়া পেশ করা হবে, সেগুলোর পাশে থাকবে চিরকিশোরগণ। তন্মধ্যে প্রতিটি কিশোরের হাতে থাকবে একটি করে ঘোড়ার বাগডোর। ঘোড়াগুলোর লাগাম ও রশি হবে সাদা রূপার। গলায় থাকবে মুক্তা ও চুনির বেড়ি। তাদের জীনগুলো হবে জওহর দ্বারা নির্মিত। তাতে বিছানো থাকবে পাতলা ও পুরু রেশমী গালিচা। ঘোড়াগুলো তাদেরকে নিয়ে দ্রুত বেগে চলবে এবং জান্নাতের উদ্যান সমূহের দিকে তাকাবে। যখন তারা তাদের মঞ্জিলসমূহের কাছে পৌঁছে যাবে, তখন সেখানে তারা সে সবকিছুই পাবে, যা আল্লাহ্ তা'আলা তাদের চাওয়া ও আকাঙক্ষার কারণে তাদেরকে অনুগ্রহ করে দান করেছেন। আরও দেখা যাবে যে, সেসব প্রাসাদের মধ্য থেকে প্রতিটি প্রাসাদের দরজায় চারটি করে উদ্যান রয়েছে। দু'টি বহু শাখা গল্প বিশিষ্ট বৃক্ষেপূর্ণ, অপর দুটি ঘন সবুজ। সে দু'টি বাগানে রয়েছে উচ্ছলিত দু'টি প্রস্রবন এবং উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দু'প্রকার করে, তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর। যখন তারা তাদের মঞ্জিলসমূহে আসন গ্রহণ করবে এবং তারা স্থির হয়ে বসে যাবে, তখন তাদের রব তাদেরকে বললো, তোমাদের রব তোমাদের সাথে যা ওয়াদা করেছিলেন, তা কি তোমরা সঠিক পেয়েছ? তারা বলবে জ্বী হ্যাঁ। আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি, সুতরাং আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। তিনি বলবেন, তোমাদের প্রতি আমি সন্তুষ্ট থাকার ফলেই তোমরা আমার জান্নাতে প্রবেশ করেছ, আমার চেহারা তোমরা দেখেছ এবং আমার ফিরিশতাগণ তোমাদের সাথে করমর্দন করেছে। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ এটা নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার, যাতে কোন বন্ধ হওয়া অথবা হ্রাসের সম্ভাবনা নেই। এ সম্পর্কেই বলা হয়েছে। "এবং তারা বলবে, প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন এবং আমাদেরকে যিনি নিজ অনুগ্রহে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন, যেখানে ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং ক্লান্তি ও স্পর্শ করবে না। নিশ্চয় আমাদের রব তো মহা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী"। (৩৫ঃ ৩৪, ৩৫)
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও আবু মু'আয়ম এভাবে মু'দালরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে মারফু' বলা মুনকার। আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।)
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও আবু মু'আয়ম এভাবে মু'দালরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে মারফু' বলা মুনকার। আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي زِيَارَة أهل الْجنَّة رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5773- وَرُوِيَ عَن مُحَمَّد بن عَليّ بن الْحُسَيْن رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي الْجنَّة شَجَرَة يُقَال لَهَا طُوبَى لَو يسخر الرَّاكِب الْجواد يسير فِي ظلها لسار فِيهِ مائَة عَام وَرقهَا برود خضر وزهرها رياط صفر وأفنانها سندس وإستبرق وَثَمَرهَا حلل وصمغها زنجبيل وَعسل وبطحاؤها ياقوت أَحْمَر وزمرد أَخْضَر وترابها مسك وَعَنْبَر وكافور أصفر وحشيشها زعفران مونع والألنجوج يتأججان من غير وقود يتفجر من أَصْلهَا السلسبيل والمعين والرحيق وَأَصلهَا مجْلِس من مجَالِس أهل الْجنَّة يألفونه ومتحدث يجمعهُمْ فَبينا هم يَوْمًا فِي ظلها يتحدثون إِذْ جَاءَتْهُم الْمَلَائِكَة يقودون نجبا جبلت من الْيَاقُوت ثمَّ نفخ فِيهَا الرّوح مزمومة بسلاسل من ذهب كَأَن وجوهها المصابيح نضارة وحسنا وبرها خَز أَحْمَر ومرعزي أَبيض مختلطان لم ينظر الناظرون إِلَى مثلهَا حسنا وبهاء ذلل من غير مهابة نجب من غير رياضة عَلَيْهَا رحائل ألواحها من الدّرّ والياقوت مفضضة بِاللُّؤْلُؤِ والمرجان صفائحها من الذَّهَب الْأَحْمَر ملبسة بالعبقري والأرجوان فأناخوا لَهُم تِلْكَ النجائب ثمَّ قَالُوا لَهُم إِن ربكُم يقرئكم السَّلَام ويستزيركم لتنظروا إِلَيْهِ وَينظر إِلَيْكُم وتكلمونه ويكلمكم وتحيونه ويحييكم ويزيدكم من فَضله وَمن سعته إِنَّه ذُو رَحْمَة وَاسِعَة وَفضل عَظِيم فيتحول كل رجل مِنْهُم على رَاحِلَته ثمَّ ينطلقون صفا معتدلا لَا يفوت شَيْء مِنْهُ شَيْئا وَلَا تفوت أذن نَاقَة أذن صاحبتها وَلَا يَمرونَ بشجرة من أَشجَار الْجنَّة إِلَّا أتحفتهم بثمرها وزحلت لَهُم عَن طريقهم كَرَاهِيَة أَن ينثلم صفهم أَو تفرق بَين الرجل ورفيقه فَلَمَّا دفعُوا إِلَى الْجَبَّار تبَارك وَتَعَالَى أَسْفر لَهُم عَن وَجهه الْكَرِيم وتجلى لَهُم فِي
مقصورات فِي الْخيام فَلَمَّا تبوأوا مَنَازِلهمْ وَاسْتقر بهم قرارهم قَالَ لَهُم رَبهم هَل وجدْتُم مَا وَعدكُم ربكُم حَقًا قَالُوا نعم رَضِينَا فارض عَنَّا قَالَ برضاي عَنْكُم حللتم دَاري ونظرتم إِلَى وَجْهي وصافحتكم ملائكتي فهنيئا هَنِيئًا عَطاء غير مجذوذ لَيْسَ فِيهِ تنغيص وَلَا تصريد فَعِنْدَ ذَلِك قَالُوا الْحَمد لله الَّذِي أذهب عَنَّا الْحزن وأحلنا دَار المقامة من فَضله لَا يمسنا فِيهَا نصب وَلَا يمسنا فِيهَا لغوب إِن رَبنَا لغَفُور شكور
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَأَبُو نعيم هَكَذَا معضلا وَرَفعه مُنكر وَالله أعلم
مقصورات فِي الْخيام فَلَمَّا تبوأوا مَنَازِلهمْ وَاسْتقر بهم قرارهم قَالَ لَهُم رَبهم هَل وجدْتُم مَا وَعدكُم ربكُم حَقًا قَالُوا نعم رَضِينَا فارض عَنَّا قَالَ برضاي عَنْكُم حللتم دَاري ونظرتم إِلَى وَجْهي وصافحتكم ملائكتي فهنيئا هَنِيئًا عَطاء غير مجذوذ لَيْسَ فِيهِ تنغيص وَلَا تصريد فَعِنْدَ ذَلِك قَالُوا الْحَمد لله الَّذِي أذهب عَنَّا الْحزن وأحلنا دَار المقامة من فَضله لَا يمسنا فِيهَا نصب وَلَا يمسنا فِيهَا لغوب إِن رَبنَا لغَفُور شكور
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَأَبُو نعيم هَكَذَا معضلا وَرَفعه مُنكر وَالله أعلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার সাথে জান্নাতীদের সাক্ষাতের বর্ণনা
৫৭৭৪. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় জান্নাতবাসীদের মলত্যাগ ও শ্লেষ্মা ত্যাগের প্রয়োজন হবে না এবং তাদের রেতঃস্খলন হবে না। তারা যে নিয়ামতের মধ্যে থাকবে তা হচ্ছে তাদের শরীরের চামড়া থেকে মুক্তার মত মেশক বের হবে, তাদের দরজার সামনে থাকবে মেশকের ডিবি। তারা আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সপ্তাহে দু'বার সাক্ষাৎ করবে। তারা মুক্তা, চুনি ও পান্নার কাজ করা সোনার কুরসীতে বসবে। তারা আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে এবং তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন। যখন তারা দাঁড়াবে তখন তারা এক কামরা থেকে অপর কামরায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। প্রতিটি কামরায় থাকবে এমন সত্তরটি করে দরজা, যার প্রতিটি হবে চুনি ও পান্না খচিত।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া মাওকুফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(ইবন আবিদ-দুনিয়া মাওকুফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي زِيَارَة أهل الْجنَّة رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5774- وَرُوِيَ عَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ إِن أهل الْجنَّة لَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ وَلَا يمنون إِنَّمَا نعيمهم الَّذِي هم فِيهِ مسك يتحدر من جُلُودهمْ كالجمان وعَلى أَبْوَابهم كُثْبَان من مسك يزورون الله جلّ وَعلا فِي الْجُمُعَة مرَّتَيْنِ فَيَجْلِسُونَ على كراسي من ذهب مكللة بِاللُّؤْلُؤِ والياقوت والزبرجد ينظرُونَ إِلَى الله عز وَجل وَينظر إِلَيْهِم فَإِذا قَامُوا انْقَلب أحدهم إِلَى الغرفة من غرفَة لَهَا سَبْعُونَ بَابا مكللة بالياقوت والزبرجد
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مَوْقُوفا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৭৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, কিছু লোক জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি পূর্ণিমার রাতে চন্দ্র দেখতে অসুবিধার সম্মুখীন হও? তারা বলল, জ্বী না, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, তোমাদের কি এমতাবস্থায় সূর্য দেখতে অসুবিধা হয়, যখন তার উপর কোন মেঘ রাশি থাকে না? তারা বলল জ্বী, না। তিনি বললেন, নিশ্চয় তোমরা তাকে এভাবেই দেখতে পাবে।..... অতঃপর তিনি হাদীসটি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন।
(বুখারী ও মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী ও মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5775- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن نَاسا قَالُوا يَا رَسُول الله هَل نرى رَبنَا يَوْم الْقِيَامَة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَل تضَارونَ فِي رُؤْيَة الْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر قَالُوا لَا يَا رَسُول الله قَالَ هَل تضَارونَ فِي الشَّمْس لَيْسَ دونهَا سَحَاب قَالُوا لَا قَالَ فَإِنَّكُم تَرَوْنَهُ كَذَا
فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৭৬. হযরত সুহায়ক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যখন জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তোমরা কি এমন কিছু চাও, যা আমি তোমাদেরকে বৃদ্ধি করে দেব? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা আলোকোজ্জ্বল করেন নি, আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান নি এবং আপনি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন নি?
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, এরপর পর্দা তুলে দেওয়া হবে, তখন তাদের কাছে তাদের রবের প্রতিপালকের প্রতি দৃষ্টিপাতের অপেক্ষা অধিক প্রিয় আর কিছু থাকবে না। এরপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ "যারা সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অধিক কিছু"
(১০: ২৬)
(মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, এরপর পর্দা তুলে দেওয়া হবে, তখন তাদের কাছে তাদের রবের প্রতিপালকের প্রতি দৃষ্টিপাতের অপেক্ষা অধিক প্রিয় আর কিছু থাকবে না। এরপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ "যারা সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অধিক কিছু"
(১০: ২৬)
(মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5776- وَعَن صُهَيْب رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا دخل أهل الْجنَّة الْجنَّة يَقُول الله عز وَجل تُرِيدُونَ شَيْئا أَزِيدكُم فَيَقُولُونَ ألم تبيض وُجُوهنَا ألم تُدْخِلنَا الْجنَّة وتنجنا من النَّار قَالَ فَيكْشف الْحجاب فَمَا أعْطوا شَيْئا أحب إِلَيْهِم من النّظر إِلَى رَبهم ثمَّ تَلا هَذِه الْآيَة للَّذين أَحْسنُوا الْحسنى وَزِيَادَة يُونُس 62
رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ
رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৭৭. হযরত আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে কাঁচা মুক্তার একটি তাঁবু থাকবে। তার প্রস্থ হবে ষাট মাইল। তার প্রতিটি কোণে এমন কিছু লোকজন থাকবে, যারা অন্যদেরকে দেখতে পাবে না। মু'মিন তাদের কাছে যাতায়াত করবে। দু'টি জান্নাত থাকবে রূপার, সে দু'টির তৈজসপত্র ও সেখানে যা কিছু রয়েছে সবই রূপার। দুুটি জান্নাত থাকবে সোনার। সে দু'টির তৈজসপত্র ও সেখানে যা কিছু রয়েছে সবই সোনার। (জান্নাতী) মানুষের মাঝে ও চিরস্থায়ী জান্নাতে তাদের প্রতিপালককে দেখার মাঝে অন্তরায় থাকবে তাঁর চেহারার মাহাত্ম্যের আবরণ।
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা বুখারী বর্ণিত।)
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা বুখারী বর্ণিত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5777- وَعَن أبي مُوسَى رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن فِي الْجنَّة خيمة من لؤلؤة مجوفة عرضهَا سِتُّونَ ميلًا فِي كل زَاوِيَة مِنْهَا أهل مَا يرَوْنَ الآخرين يطوف عَلَيْهِم الْمُؤمن وجنتان من فضَّة آنيتهما وَمَا فيهمَا وجنتان من ذهب آنيتهما وَمَا فيهمَا وَمَا بَين الْقَوْم وَبَين أَن ينْظرُوا إِلَى رَبهم إِلَّا رِدَاء الْكِبْرِيَاء على وَجهه فِي جنَّات عدن
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৭৮. হযরত জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, একদা জান্নাতীগণ তাদের একটি মজলিসে থাকবে। এমন সময় জান্নাতের দরজায় তাঁদের জন্য একটি আলো বিকশিত হবে। তখন তারা তাদের মাথা তুলবে। দেখা যাবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তখন তিনি বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। তারা বলবে, আমরা আপনার কাছে আমাদের প্রতি আপনার সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি। তিনি বলবেন, আমার সন্তুষ্টিই তোমাদেরকে আমার জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে এবং তোমাদেরকে আমার অধিক অনুগ্রহ দান করেছে। এখন সে অধিক অনুগ্রহের সময়। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। তারা বলবে, আমরা আপনার কাছে অধিক অনুগ্রহটুকু কামনা করছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তখন লাল চুনির তৈরী উৎকৃষ্ট বাহনজন্তু তাদের কাছে আনা হবে। বাহনজন্তুগুলোর বাগডোর হবে সবুজ পান্না ও লাল চুনির। তাদেরকে সেসব বাহনজন্তুর উপর আরোহণ করানো হবে। সেগুলো তাদের দৃষ্টির শেষ সীমায় কদম ফেলবে। তখন আল্লাহ তা'আলা কিছু বৃক্ষের ব্যাপারে নির্দেশ দেবেন, সেগুলোতে ফল থাকবে। এরপর আয়তলোচনা হুরদের থেকে কিছু তন্বী আসবে। তারা বলবে, আমরা সদাপ্রসন্ন সুতরাং আমরা কখনও বিষন্ন হব না, আমরা চিরস্থায়ীনী, সুতরাং আমরা মৃত্যুমুখে পতিত হব না। আমরা সম্মানিত মু'মিন লোকদের স্ত্রী। আল্লাহ তা'আলা উন্নতমানের সাদা মেশকের ঢিবিকে হুকুম দেবেন। ফলে বাতাসের সাথে তাদের উপর মেশক ছড়িয়ে পড়বে। সে বাতাসের নাম হবে মুসীরা' (এমন বায়ু যা ছড়িয়ে দেয়)। এরপর ঘোড়াগুলো তাদেরকে নিয়ে 'আদন' জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছবে। আদন হচ্ছে জান্নাতের প্রাণকেন্দ্র। তখন ফিরিশতাগণ বলবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! একদল লোক এসেছে। তিনি বলবেন, সত্যবাদীদেরকে স্বাগতম। অনুগতদেরকে স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্মুখ থেকে পর্দা উন্মোচিত করে দেবেন। তখন তারা আল্লাহ্ তা'আলার দিকে দৃষ্টিপাত করবে এবং দয়ালু আল্লাহ তা'আলার নূর উপভোগ করবেন কি তারা। একে অপরের দিকে তাকাবার অবকাশ পাবে না। এরপর তিনি বলবেন, তাদেরকে উপঢৌকনাদি সহকারে প্রাসাদে নিয়ে যাও। তখন তারা একে অপরের প্রতি তাকিয়ে ফিরে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এটাই আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর অর্থ : نزلاً مِّنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ "এটা হবে ক্ষমাশীল পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন।" (৪১ঃ ৩২)
(আবু নু'আয়ম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ বায়হাকী বর্ণিত। তিনি বলেন, এ অধ্যায় অর্থাৎ পুনরুত্থান অধ্যায় দীদার অধ্যায়ে এমন রিওয়ায়েত সমূহ উল্লিখিত হয়েছে, যেগুলো আলোচ্য হাদীসের বর্ণণাকে সমর্থন করে। হাদীসটি ইবন মাজাহ ও ইবন আবিদ-দুনিয়ার রিওয়ায়েতে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, একদা জান্নাতীগণ তাদের নিয়ামত উপভোগে থাকবে। এমন সময় তাদের সামনে একটি আলো বিকশিত হবে। তখন তারা তাদের মাথা তুলবে। দেখা যাবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপরের দিক থেকে তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলবেন, আস্সালামু আলাইকুম, হে জান্নাতীরা! এটাই আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর অর্থ :سلام قولاً من رب رحيم "পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম" (৩৬: ৫৮) ফলে যতক্ষণ তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখবে, ততক্ষণ তাদের অন্য সমস্ত নিয়ামতের মধ্য থেকে কোনটির দিকে তারা ফিরেও তাকাবে না। যে পর্যন্ত না তিনি তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যান এবং তাদের মধ্যে তাঁর বরকত ও নূর থেকে যায়।
এটা ইবন মাজাহ বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ অপর রিওয়ায়েতটি এর অনুরূপ।)
(আবু নু'আয়ম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ বায়হাকী বর্ণিত। তিনি বলেন, এ অধ্যায় অর্থাৎ পুনরুত্থান অধ্যায় দীদার অধ্যায়ে এমন রিওয়ায়েত সমূহ উল্লিখিত হয়েছে, যেগুলো আলোচ্য হাদীসের বর্ণণাকে সমর্থন করে। হাদীসটি ইবন মাজাহ ও ইবন আবিদ-দুনিয়ার রিওয়ায়েতে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, একদা জান্নাতীগণ তাদের নিয়ামত উপভোগে থাকবে। এমন সময় তাদের সামনে একটি আলো বিকশিত হবে। তখন তারা তাদের মাথা তুলবে। দেখা যাবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপরের দিক থেকে তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলবেন, আস্সালামু আলাইকুম, হে জান্নাতীরা! এটাই আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর অর্থ :سلام قولاً من رب رحيم "পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম" (৩৬: ৫৮) ফলে যতক্ষণ তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখবে, ততক্ষণ তাদের অন্য সমস্ত নিয়ামতের মধ্য থেকে কোনটির দিকে তারা ফিরেও তাকাবে না। যে পর্যন্ত না তিনি তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যান এবং তাদের মধ্যে তাঁর বরকত ও নূর থেকে যায়।
এটা ইবন মাজাহ বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ অপর রিওয়ায়েতটি এর অনুরূপ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5778- وَرُوِيَ عَن جَابر بن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَينا أهل الْجنَّة فِي مجْلِس لَهُم إِذْ سَطَعَ لَهُم نور على بَاب الْجنَّة فَرفعُوا رؤوسهم فَإِذا الرب تبَارك وَتَعَالَى قد أشرف عَلَيْهِم فَقَالَ يَا أهل الْجنَّة سلوني فَقَالُوا نَسْأَلك الرِّضَا عَنَّا
قَالَ رضائي أحلكم دَاري وأنالكم كَرَامَتِي وَهَذَا أوانها فسلوني قَالُوا نَسْأَلك الزِّيَادَة قَالَ
فيؤتون بنجائب من ياقوت أَحْمَر أزمتها من زمرد أَخْضَر وَيَاقُوت أَحْمَر فيحملون عَلَيْهَا تضع حوافرها عِنْد مُنْتَهى طرفيها فيأمر الله عز وَجل بأشجار عَلَيْهَا الثِّمَار فتجيء جوَار من الْحور الْعين وَهن يقلن نَحن الناعمات فَلَا نبأس وَنحن الخالدات فَلَا نموت أَزوَاج قوم مُؤمنين كرام وَيَأْمُر الله عز وَجل بكثبان من مسك أَبيض أذفر فينثر عَلَيْهِم ريحًا يُقَال لَهَا المثيرة حَتَّى تَنْتَهِي بهم إِلَى جنَّة عدن وَهِي قَصَبَة الْجنَّة فَتَقول الْمَلَائِكَة يَا رَبنَا قد جَاءَ الْقَوْم فَيَقُول مرْحَبًا بالصادقين مرْحَبًا بالطائعين
قَالَ فَيكْشف لَهُم الْحجاب فَيَنْظُرُونَ إِلَى الله تبَارك وَتَعَالَى فيتمتعون بِنور الرَّحْمَن حَتَّى لَا ينظر بَعضهم بَعْضًا ثمَّ يَقُول أرجعوهم إِلَى الْقُصُور بالتحف فيرجعون وَقد أبْصر بَعضهم بَعْضًا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذَلِك قَوْله نزلا من غَفُور رَحِيم فصلت 23
رَوَاهُ أَبُو نعيم وَالْبَيْهَقِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ وَقد مضى فِي هَذَا الْكتاب يَعْنِي فِي كتاب الْبَعْث وَفِي كتاب الرُّؤْيَة مَا يُؤَكد مَا رُوِيَ فِي هَذَا الْخَبَر انْتهى
وَهُوَ عِنْد ابْن مَاجَه وَابْن أبي الدُّنْيَا مُخْتَصر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَينا أهل الْجنَّة فِي نعيمهم إِذْ سَطَعَ لَهُم نور فَرفعُوا رؤوسهم فَإِذا الرب جلّ جَلَاله قد أشرف عَلَيْهِم من فَوْقهم فَقَالَ السَّلَام عَلَيْكُم يَا أهل الْجنَّة وَهُوَ قَوْله عز وَجل سَلام قولا من رب رَحِيم يس 85 فَلَا يلتفتون إِلَى شَيْء مِمَّا هم فِيهِ من النَّعيم مَا داموا ينظرُونَ إِلَيْهِ حَتَّى يحتجب عَنْهُم وَتبقى فيهم بركته ونوره
هَذَا لفظ ابْن مَاجَه وَالْآخر بِنَحْوِهِ
قَالَ رضائي أحلكم دَاري وأنالكم كَرَامَتِي وَهَذَا أوانها فسلوني قَالُوا نَسْأَلك الزِّيَادَة قَالَ
فيؤتون بنجائب من ياقوت أَحْمَر أزمتها من زمرد أَخْضَر وَيَاقُوت أَحْمَر فيحملون عَلَيْهَا تضع حوافرها عِنْد مُنْتَهى طرفيها فيأمر الله عز وَجل بأشجار عَلَيْهَا الثِّمَار فتجيء جوَار من الْحور الْعين وَهن يقلن نَحن الناعمات فَلَا نبأس وَنحن الخالدات فَلَا نموت أَزوَاج قوم مُؤمنين كرام وَيَأْمُر الله عز وَجل بكثبان من مسك أَبيض أذفر فينثر عَلَيْهِم ريحًا يُقَال لَهَا المثيرة حَتَّى تَنْتَهِي بهم إِلَى جنَّة عدن وَهِي قَصَبَة الْجنَّة فَتَقول الْمَلَائِكَة يَا رَبنَا قد جَاءَ الْقَوْم فَيَقُول مرْحَبًا بالصادقين مرْحَبًا بالطائعين
قَالَ فَيكْشف لَهُم الْحجاب فَيَنْظُرُونَ إِلَى الله تبَارك وَتَعَالَى فيتمتعون بِنور الرَّحْمَن حَتَّى لَا ينظر بَعضهم بَعْضًا ثمَّ يَقُول أرجعوهم إِلَى الْقُصُور بالتحف فيرجعون وَقد أبْصر بَعضهم بَعْضًا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذَلِك قَوْله نزلا من غَفُور رَحِيم فصلت 23
رَوَاهُ أَبُو نعيم وَالْبَيْهَقِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ وَقد مضى فِي هَذَا الْكتاب يَعْنِي فِي كتاب الْبَعْث وَفِي كتاب الرُّؤْيَة مَا يُؤَكد مَا رُوِيَ فِي هَذَا الْخَبَر انْتهى
وَهُوَ عِنْد ابْن مَاجَه وَابْن أبي الدُّنْيَا مُخْتَصر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَينا أهل الْجنَّة فِي نعيمهم إِذْ سَطَعَ لَهُم نور فَرفعُوا رؤوسهم فَإِذا الرب جلّ جَلَاله قد أشرف عَلَيْهِم من فَوْقهم فَقَالَ السَّلَام عَلَيْكُم يَا أهل الْجنَّة وَهُوَ قَوْله عز وَجل سَلام قولا من رب رَحِيم يس 85 فَلَا يلتفتون إِلَى شَيْء مِمَّا هم فِيهِ من النَّعيم مَا داموا ينظرُونَ إِلَيْهِ حَتَّى يحتجب عَنْهُم وَتبقى فيهم بركته ونوره
هَذَا لفظ ابْن مَاجَه وَالْآخر بِنَحْوِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৭৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৭৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জিবরীল (আ) তাঁর হাতে এমন একটি সাদা আয়না নিয়ে আমার কাছে আসলেন যার মধ্যে একটি কালো দাগ রয়েছে। তখন আমি বললাম, হে জিবরীল এটা কি? তিনি বললেন, এটা জুমু'আর দিন। আপনার প্রতিপালক আপনাকে এ দিনটি দান করবেন, যাতে দিনটি আপনার জন্য ও আপনার পরে আপনার উম্মতের জন্য ঋণ স্বরূপ হয়। আপনি হবেন প্রথম ব্যক্তি এবং ইয়াহুদী-নাসারাগণ হবে আপনার পরে। তিনি (রাসূলুল্লাহ সা) জিজ্ঞেস করলেন, এদিনে আমাদের জন্য কি রয়েছে? তিনি (জিবরীল) বললেন, এদিনে আপনাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে ব্যক্তি সে মুহূর্তে তার প্রতিপালকের কাছে কোন কল্যাণের দু'আ করে, যা তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তা দান করেন। অথবা তার জন্য বরাদ্দ ছিল না, তবে তার জন্য তার চেয়ে উৎকৃষ্ট কল্যাণ জমা রাখেন। অথবা যে ব্যক্তি সে মুহূর্তে এমন কোন অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, যা তার জন্য পূর্ব লিখিত রয়েছে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তা থেকে রক্ষা করবেন। অথবা তার জন্য পূর্ব লিখিত ছিল না, তবে তার চেয়ে বড় অকল্যাণ থেকে তাকে তিনি রক্ষা করেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তার মধ্যে একালো দাগটি কিসের? তিনি বললেন, এটা কিয়ামত, যা জুমু'আর দিন সংঘটিত হবে। এ দিনটি আমাদের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। আমরা এদিনটিকে পরকালে ইয়াওমুল মাযীদ' বলে অভিহিত করব। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ দিনটিকে কেন আপনার 'ইয়াওমূল মাযীদ' বলে উল্লেখ করবেন? তিনি বলবেন, নিশ্চয় আপনার প্রতিপালক আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাতে মেশকের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময় সাদা ময়দান তৈরী করেছেন। যখন জুমু'আর দিন হবে, তখন তিনি (আল্লাহ্ তা'আলা) ইল্লিয়্যীন থেকে কুরসীতে অবতরণ করবেন এবং কুরসীটিকে নূরের মিম্বর সমূহ দ্বারা ঘিরে দেবেন। এরপর নবীগণ এসে সেগুলোর উপর আসন গ্রহণ করবেন। তারপর মিম্বরগুলোকে সোনার অনেকগুলো কুরসী দ্বারা ঘিরে দেবেন। তারপর সিদ্দীক ও শহীদগণ এসে সেগুলোতে বসবেন। তারপর জান্নাতীগণ এসে (সুগন্ধির) ঢিবির উপর এসে বসবে। তখন তাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। ফলে তারা তাঁর চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে। তিনি বলবেন, আমি আমার প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছি এবং আমি তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করেছি। এটা আমার বিশেষ অনুগ্রহের স্থান। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। তখন তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে। অবশেষে তাদের আগ্রহ শেষ হয়ে যাবে। তখন তিনি তাদের জন্য সেসব নেয়ামত উন্মুক্ত করবেন, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং জুমু'আর দিন মানুষ ফিরে যাওয়ার সময় পর্যন্ত কোন মানুষের অন্তরে যার কল্পনা জাগেনি। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর কুরসীতে অধিষ্ঠিত হলে- এবং তাঁর সাথে শহীদ এবং সিদ্দীকগণও আরোহন করলে।
(বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, এবং কামরাবাসীগণ তাদের কামরায় ফিরে যাবে। একটি সাদা মুক্তা, যাতে কোন ফাটল অথবা অন্য কোন দোষ নেই, অথবা একটি লাল চুটি অথবা একটি সবুজ পান্না থেকেই হবে জান্নাতের কামরাসমূহ এবং কামরাগুলোর দরজাসমূহ। সেখানে প্রবাহিত থাকবে জান্নাতের নহরসমূহ। সেখানে জান্নাতের ফলফলারী ঝুঁকে থাকবে। সেখানে জান্নাতের স্ত্রীগণ ও খাদেম থাকবে। কিন্তু বারা জুমু'আর দিনের মত কোন কিছুর প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী হবে না। যাতে সেদিন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাত করার অধিক সুযোগ তারা পেতে পারে। একারণে এদিনকে ইয়াওমুল মাযীদ' বলে অভিহিত করা হবে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও তাবারানী 'আল-আওসাতে' দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। দু'টি সনদের মধ্যে একটি উৎকৃষ্ট ও শক্তিশালী। আবু ইয়া'লা সংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীস বর্ণনা করেচেন। এর বর্ণনাকারীগন সহীহ হাদীসের রাবী। বাযযার ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ তাঁরই বর্ণিত।)
(বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, এবং কামরাবাসীগণ তাদের কামরায় ফিরে যাবে। একটি সাদা মুক্তা, যাতে কোন ফাটল অথবা অন্য কোন দোষ নেই, অথবা একটি লাল চুটি অথবা একটি সবুজ পান্না থেকেই হবে জান্নাতের কামরাসমূহ এবং কামরাগুলোর দরজাসমূহ। সেখানে প্রবাহিত থাকবে জান্নাতের নহরসমূহ। সেখানে জান্নাতের ফলফলারী ঝুঁকে থাকবে। সেখানে জান্নাতের স্ত্রীগণ ও খাদেম থাকবে। কিন্তু বারা জুমু'আর দিনের মত কোন কিছুর প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী হবে না। যাতে সেদিন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাত করার অধিক সুযোগ তারা পেতে পারে। একারণে এদিনকে ইয়াওমুল মাযীদ' বলে অভিহিত করা হবে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও তাবারানী 'আল-আওসাতে' দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। দু'টি সনদের মধ্যে একটি উৎকৃষ্ট ও শক্তিশালী। আবু ইয়া'লা সংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীস বর্ণনা করেচেন। এর বর্ণনাকারীগন সহীহ হাদীসের রাবী। বাযযার ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ তাঁরই বর্ণিত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5779- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَتَانِي جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَام وَفِي يَده مرْآة بَيْضَاء فِيهَا نُكْتَة سَوْدَاء فَقلت مَا هَذِه يَا جِبْرِيل قَالَ هَذِه الْجُمُعَة يعرضهَا عَلَيْك رَبك لتَكون لَك عيدا ولقومك من بعْدك تكون أَنْت الأول وَتَكون الْيَهُود وَالنَّصَارَى من بعْدك قَالَ مَا لنا فِيهَا قَالَ فِيهَا خير لكم فِيهَا سَاعَة من دَعَا ربه فِيهَا بِخَير هُوَ لَهُ قسم إِلَّا أعطَاهُ إِيَّاه أَو لَيْسَ لَهُ يقسم إِلَّا ادخر لَهُ مَا هُوَ أعظم مِنْهُ أَو تعوذ فِيهَا من شَرّ هُوَ عَلَيْهِ مَكْتُوب إِلَّا أَعَاذَهُ أَو لَيْسَ عَلَيْهِ مَكْتُوب إِلَّا أَعَاذَهُ من أعظم مِنْهُ قلت مَا هَذِه النُّكْتَة السَّوْدَاء فِيهَا قَالَ هَذِه السَّاعَة تقوم يَوْم الْجُمُعَة وَهُوَ سيد الْأَيَّام عندنَا وَنحن
نَدْعُوهُ فِي الْآخِرَة يَوْم الْمَزِيد قَالَ قلت لم تَدعُونَهُ يَوْم الْمَزِيد قَالَ إِن رَبك عز وَجل اتخذ فِي الْجنَّة وَاديا أفيح من مسك أَبيض فَإِذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة نزل تبَارك وَتَعَالَى من عليين على كرسيه ثمَّ حف الْكُرْسِيّ بمنابر من نور وَجَاء النَّبِيُّونَ حَتَّى يجلسوا عَلَيْهَا ثمَّ حف المنابر بكراسي من ذهب ثمَّ جَاءَ الصديقون وَالشُّهَدَاء حَتَّى يجلسوا عَلَيْهَا ثمَّ يَجِيء أهل الْجنَّة حَتَّى يجلسوا على الْكَثِيب فيتجلى لَهُم رَبهم تبَارك وَتَعَالَى حَتَّى ينْظرُوا إِلَى وَجهه وَهُوَ يَقُول أَنا الَّذِي صدقتكم وعدي وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي هَذَا مَحل كَرَامَتِي فسلوني
فيسألونه الرِّضَا فَيَقُول الله عز وَجل رضائي أحلكم دَاري وأنالكم كَرَامَتِي فسلوني فيسألونه حَتَّى تَنْتَهِي رغبتهم فَيفتح لَهُم عِنْد ذَلِك مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر إِلَى مِقْدَار منصرف النَّاس يَوْم الْجُمُعَة ثمَّ يصعد الرب تبَارك وَتَعَالَى على كرسيه فيصعد مَعَه الشُّهَدَاء وَالصِّدِّيقُونَ أَحْسبهُ قَالَ وَيرجع أهل الغرف إِلَى غرفهم درة بَيْضَاء لَا فَصم فِيهَا وَلَا وصم أَو ياقوتة حَمْرَاء أَو زبرجدة خضراء مِنْهَا غرفها وأبوابها مطردَة فِيهَا أنهارها متدلية فِيهَا ثمارها فِيهَا أزواجها وخدمها فليسوا إِلَى شَيْء أحْوج مِنْهُم إِلَى يَوْم الْجُمُعَة ليزدادوا فِيهِ كَرَامَة وليزدادوا فِيهِ نظرا إِلَى وَجهه تبَارك وَتَعَالَى وَلذَلِك دعِي يَوْم الْمَزِيد
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا جيد قوي وَأَبُو يعلى مُخْتَصرا وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَالْبَزَّار وَاللَّفْظ لَهُ
نَدْعُوهُ فِي الْآخِرَة يَوْم الْمَزِيد قَالَ قلت لم تَدعُونَهُ يَوْم الْمَزِيد قَالَ إِن رَبك عز وَجل اتخذ فِي الْجنَّة وَاديا أفيح من مسك أَبيض فَإِذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة نزل تبَارك وَتَعَالَى من عليين على كرسيه ثمَّ حف الْكُرْسِيّ بمنابر من نور وَجَاء النَّبِيُّونَ حَتَّى يجلسوا عَلَيْهَا ثمَّ حف المنابر بكراسي من ذهب ثمَّ جَاءَ الصديقون وَالشُّهَدَاء حَتَّى يجلسوا عَلَيْهَا ثمَّ يَجِيء أهل الْجنَّة حَتَّى يجلسوا على الْكَثِيب فيتجلى لَهُم رَبهم تبَارك وَتَعَالَى حَتَّى ينْظرُوا إِلَى وَجهه وَهُوَ يَقُول أَنا الَّذِي صدقتكم وعدي وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي هَذَا مَحل كَرَامَتِي فسلوني
فيسألونه الرِّضَا فَيَقُول الله عز وَجل رضائي أحلكم دَاري وأنالكم كَرَامَتِي فسلوني فيسألونه حَتَّى تَنْتَهِي رغبتهم فَيفتح لَهُم عِنْد ذَلِك مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر إِلَى مِقْدَار منصرف النَّاس يَوْم الْجُمُعَة ثمَّ يصعد الرب تبَارك وَتَعَالَى على كرسيه فيصعد مَعَه الشُّهَدَاء وَالصِّدِّيقُونَ أَحْسبهُ قَالَ وَيرجع أهل الغرف إِلَى غرفهم درة بَيْضَاء لَا فَصم فِيهَا وَلَا وصم أَو ياقوتة حَمْرَاء أَو زبرجدة خضراء مِنْهَا غرفها وأبوابها مطردَة فِيهَا أنهارها متدلية فِيهَا ثمارها فِيهَا أزواجها وخدمها فليسوا إِلَى شَيْء أحْوج مِنْهُم إِلَى يَوْم الْجُمُعَة ليزدادوا فِيهِ كَرَامَة وليزدادوا فِيهِ نظرا إِلَى وَجهه تبَارك وَتَعَالَى وَلذَلِك دعِي يَوْم الْمَزِيد
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا جيد قوي وَأَبُو يعلى مُخْتَصرا وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَالْبَزَّار وَاللَّفْظ لَهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৮০. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জিব্রীল আমার কাছে এলেন। দেখি, তাঁর হাতে একটি আয়না, যেন সেটি আয়নার জগতে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও সবচেয়ে সুন্দর। আরও দেখি, তার মাঝে রয়েছে একটি কালো দাগ। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে জিবরীল। এটা কি উত্তরে তিনি বললেন, এটা দুনিয়ার স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্য। তিনি বলেন, আমি বললাম, তবে তার মাঝে এই কালো দাগটি কিসের? তিনি বললেন, এটা জুমু'আর দিন। তিনি বলেন, আমি বললাম, জুমু'আ কি? তিনি বললেন, আপনার প্রতিপালকের দিনসমূহ থেকে একটি মহান দিন। এক্ষুণি আমি আপনাকে তার মর্যাদা, ফযীলত ও দুনিয়া ও আখিরাতে তার ব্যবহৃত নাম সম্পর্কে অবহিত করব। তার মর্যাদা ফযীলত ও দুনিয়ায় ব্যবহৃত তার নামের কারণ হচ্ছে এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা এদিন সৃষ্টি কার্য সম্পূর্ণ করেছেন এবং এদিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোন মুসলমান পুরুষ অথবা মুসলমান নারী সে মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণের দু'আ করে, তাকে আল্লাহ্ তা'আলা তা দান করেন। আর পরকালে তার মর্যাদা, ফযীলত ও নামের কারণ এই যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাতীদেরকে জান্নাতের দিকে পাঠাবেন, জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন এবং আখিরাতের কাল ও সময় তাদের উপর আবর্তিত হবে, সেখানে কোন রাত বা দিন থাকবে না। কেবল আল্লাহই দিনের পরিমাণ ও সময় জানবেন, সে সময় যখন জুমু'আর দিনের সে মুহূর্ত হবে যখন জুমু'আর সালাত আদায়কারীগন জুমু'আর জন্য বের হয়, তখন একজন ঘোষক ডেকে বলবে, হে জান্নাতবাসীগণ। তোমরা 'দারুল মাযীদ'-এ যাও, যার প্রশস্ততা, প্রস্থ ও দৈর্ঘ্য আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। তখন তারা মেশকের টিলায় যাবে। হুযায়ফা (রা) বলেন, নিশ্চয় সেই মেশক তোমাদের এই মেশকের চেয়ে অধিক সাদা হবে। তিনি বলেন, এরপর নবীদের ভৃত্যগণ নূরের মিম্বর নিয়ে বের হবে এবং মু'মিনদের ভৃত্যগণ চুনির কুরসী নিয়ে বের হবে। তিনি বলেন, যখন সেগুলো তাদের জন্য স্থাপন করা হবে এবং লোকজন তাদের নিজনিজ গ্রহণ করবে তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর এমন এক মলয় প্রবাহ করবেন, যাকে 'মুসীরা' বলা হবে। সে বায়ু প্রবাহ তাদের উপর সাদা মেশকের ধূলো ছড়িয়ে দেবে, তাদের কাপড়ের নিচ থেকে মেশক ঢুকিয়ে দেবে এবং তাদের চেহারা ও চুলের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেবে। সে বায়ু প্রবাহ সেই মেশক কিভাবে ব্যবহার করবে, সে ব্যাপারে সে তোমাদের যে কোন ব্যক্তির স্ত্রীর চেয়ে অধিক অবগত হবে। যদি সে তার স্ত্রীকে ভূপৃষ্ঠের সমস্ত সুগন্ধিটুকু প্রবাহ আল্লাহ্ তা'আলার আদেশে উক্ত মহিলার চেয়ে অধিক অবগত হবে, যদি তাকে এ সুগন্ধি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এরপর আল্লাহ্ তা'আলা আরশ বহনকারী ফিরিশতাদের কাছে ওহী প্রেরণ করবেন। ফলে জান্নাতের সামনে আরশ স্থাপন করা হবে। তাঁর ও জান্নাতবাসীদের মাঝে থাকবে অনেক পর্দা। জান্নাতবাসীগণ তাঁর কাছ থেকে যে কথাটি সর্বপ্রথম শুনবে, তা হবে এই যে, তিনি বলবেন, কোথায়
আমার সে সব বান্দা, যারা গায়বের বিশ্বাসে আমার আনুগত্য করেছে, অথচ তারা আমাকে দেখে নি এবং আমার রাসূলগণকে বিশ্বাস করেছে, আমার হুকুম পালন করেছে। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। আজ ইয়াওমুল মাযীদ' (অধিক অনুগ্রহের দিন)। তিনি বলেন, তখন তারা সমস্বরে বলে উঠবেঃ প্রভু। আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি, সুতরাং আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের কথার সূত্র ধরে বলবেন যে, জান্নাতবাসীগণ। যদি আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট না হতাম, তবে আমি তোমাদেরকে আমার জান্নাতে প্রবেশ করাতাম না। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। কেনানা, আজ 'ইয়াওমুল মাযীদ' (অধিক অনুগ্রহের দিন)।
তিনি বলেন, তখন তারা সমস্বরে বলে উঠবে। আমাদের প্রতিপালক। আমাদেরকে আপনার চেহারার দীদার নসীব করুন। আমরা তা দর্শন করব তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা সেসব পর্দা তুলে দেবেন এবং তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। ফলে তাঁর কিঞ্চিৎ নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলবে। যদি তাদের ব্যাপারে পূর্ব ফয়সালা না থাকত যে, তারা পুড়বে না। তবে তাঁর নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলার কারণে তারা পুড়ে যেত। তিনি বলেন, এরপর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলে ফিরে যাও। তিনি বলেন, অতঃপর তারা তাদের আবাসস্থলে এমতাবস্থায় ফিরে যাবে যে, আল্লাহ তা'আলার নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলার কারণে তারা তাদের স্ত্রীদের কাছে অদৃশ্য থাকবে এবং স্ত্রীগণ তাদের কাছে অদৃশ্য থাকবে। যখন তারা তাদের আবাসস্থলে পৌঁছবে তখন নূর পেছনে সরে যাবে এবং স্থির হয়ে যাবে। ফলে তারা তাদের সে আকৃতিতে ফিরে আসবে, যে আকৃতিতে তারা পূর্বে ছিল।
তিনি বলেন, তখন তাদের স্ত্রীগণ তাদেরকে বলবে, তোমরা আমাদের নিকট থেকে একটি আকৃতি নিয়ে বের হচ্ছে এবং ভিন্ন আকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছ? তিনি বলেন, তারা বলবে, এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন, তখন আমরা তাঁর সেই নূরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি, যার ফলে আমরা তোমাদের কাছে অদৃশ্য হয়ে গেছি। তিনি বলেন, প্রতি সাতদিন অন্তর অন্তর তারা যে অবস্থায় ছিল, তার দ্বিগুণ নিয়ামত তাদেরকে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এটাই আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর অর্থ : فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তাদের চোখ জুড়ানোর কি উপাদান গোপন রাখা হয়েছে।" (৩২ঃ১৭)
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
আমার সে সব বান্দা, যারা গায়বের বিশ্বাসে আমার আনুগত্য করেছে, অথচ তারা আমাকে দেখে নি এবং আমার রাসূলগণকে বিশ্বাস করেছে, আমার হুকুম পালন করেছে। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। আজ ইয়াওমুল মাযীদ' (অধিক অনুগ্রহের দিন)। তিনি বলেন, তখন তারা সমস্বরে বলে উঠবেঃ প্রভু। আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি, সুতরাং আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের কথার সূত্র ধরে বলবেন যে, জান্নাতবাসীগণ। যদি আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট না হতাম, তবে আমি তোমাদেরকে আমার জান্নাতে প্রবেশ করাতাম না। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। কেনানা, আজ 'ইয়াওমুল মাযীদ' (অধিক অনুগ্রহের দিন)।
তিনি বলেন, তখন তারা সমস্বরে বলে উঠবে। আমাদের প্রতিপালক। আমাদেরকে আপনার চেহারার দীদার নসীব করুন। আমরা তা দর্শন করব তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা সেসব পর্দা তুলে দেবেন এবং তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। ফলে তাঁর কিঞ্চিৎ নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলবে। যদি তাদের ব্যাপারে পূর্ব ফয়সালা না থাকত যে, তারা পুড়বে না। তবে তাঁর নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলার কারণে তারা পুড়ে যেত। তিনি বলেন, এরপর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলে ফিরে যাও। তিনি বলেন, অতঃপর তারা তাদের আবাসস্থলে এমতাবস্থায় ফিরে যাবে যে, আল্লাহ তা'আলার নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলার কারণে তারা তাদের স্ত্রীদের কাছে অদৃশ্য থাকবে এবং স্ত্রীগণ তাদের কাছে অদৃশ্য থাকবে। যখন তারা তাদের আবাসস্থলে পৌঁছবে তখন নূর পেছনে সরে যাবে এবং স্থির হয়ে যাবে। ফলে তারা তাদের সে আকৃতিতে ফিরে আসবে, যে আকৃতিতে তারা পূর্বে ছিল।
তিনি বলেন, তখন তাদের স্ত্রীগণ তাদেরকে বলবে, তোমরা আমাদের নিকট থেকে একটি আকৃতি নিয়ে বের হচ্ছে এবং ভিন্ন আকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছ? তিনি বলেন, তারা বলবে, এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন, তখন আমরা তাঁর সেই নূরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি, যার ফলে আমরা তোমাদের কাছে অদৃশ্য হয়ে গেছি। তিনি বলেন, প্রতি সাতদিন অন্তর অন্তর তারা যে অবস্থায় ছিল, তার দ্বিগুণ নিয়ামত তাদেরকে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এটাই আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর অর্থ : فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তাদের চোখ জুড়ানোর কি উপাদান গোপন রাখা হয়েছে।" (৩২ঃ১৭)
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5780- وَرُوِيَ عَن حُذَيْفَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَتَانِي جِبْرِيل فَإِذا كَفه مرْآة كأصفى المرايا وأحسنها وَإِذا فِي وَسطهَا نُكْتَة سَوْدَاء قَالَ قلت يَا جِبْرِيل مَا هَذِه قَالَ هَذِه الدُّنْيَا صفاؤها وحسنها
قَالَ قلت وَمَا هَذِه اللمْعَة السَّوْدَاء فِي وَسطهَا قَالَ هَذِه الْجُمُعَة قَالَ قلت وَمَا الْجُمُعَة قَالَ يَوْم من أَيَّام رَبك عَظِيم وسأخبرك بشرفه وفضله واسْمه فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة أما شرفه وفضله واسْمه فِي الدُّنْيَا فَإِن الله تبَارك وَتَعَالَى جمع فِيهِ أَمر الْخلق وَأما مَا يُرْجَى فِيهِ فَإِن فِيهِ سَاعَة لَا يُوَافِقهَا عبد مُسلم أَو أمة مسلمة يسألان الله فِيهَا خيرا إِلَّا أعطاهما إِيَّاه وَأما شرفه وفضله واسْمه فِي الْآخِرَة فَإِن الله تَعَالَى إِذا صير أهل الْجنَّة إِلَى الْجنَّة وَأدْخل أهل النَّار النَّار وَجَرت عَلَيْهِم أَيَّامهَا وساعاتها
لَيْسَ بهَا ليل وَلَا نَهَار إِلَّا قد علم الله مِقْدَار ذَلِك وساعاته فَإِذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة فِي الْحِين الَّذِي يبرز أَو يخرج فِيهِ أهل الْجُمُعَة إِلَى جمعتهم نَادَى مُنَاد يَا أهل الْجنَّة اخْرُجُوا إِلَى دَار الْمَزِيد لَا يعلم سعتها وعرضها وطولها إِلَّا الله عز وَجل فَيخْرجُونَ فِي كُثْبَان من الْمسك
قَالَ حُذَيْفَة وَإنَّهُ لَهو أَشد بَيَاضًا من دقيقكم هَذَا قَالَ فَيخرج غلْمَان الْأَنْبِيَاء بمنابر من نور وَيخرج غلْمَان الْمُؤمنِينَ بكراسي من ياقوت
قَالَ فَإِذا وضعت لَهُم وَأخذ الْقَوْم مجَالِسهمْ بعث الله تبَارك وَتَعَالَى عَلَيْهِم ريحًا تدعى المثيرة تثير عَلَيْهِم أثابير الْمسك الْأَبْيَض فتدخله من تَحت ثِيَابهمْ وتخرجه فِي وُجُوههم وأشعارهم فَتلك الرّيح أعلم كَيفَ تصنع بذلك الْمسك من امْرَأَة أحدكُم لَو دفع إِلَيْهَا كل طيب على وَجه الأَرْض لكَانَتْ تِلْكَ الرّيح أعلم كَيفَ تصنع بذلك الْمسك من تِلْكَ الْمَرْأَة لَو دفع إِلَيْهَا ذَلِك الطّيب بِإِذن الله عز وَجل
قَالَ ثمَّ يوحي الله سُبْحَانَهُ إِلَى حَملَة الْعَرْش فَيُوضَع بَين ظهراني الْجنَّة وَبَينه وَبينهمْ الْحجب فَيكون أول مَا يسمعُونَ مِنْهُ أَن يَقُول أَيْن عبَادي الَّذين أطاعوني بِالْغَيْبِ وَلم يروني وَصَدقُوا رُسُلِي وَاتبعُوا أَمْرِي فسلوني فَهَذَا يَوْم الْمَزِيد
قَالَ فيجتمعون على كلمة وَاحِدَة رب رَضِينَا عَنْك فارض عَنَّا
قَالَ فَيرجع الله تَعَالَى فِي قَوْلهم أَن يَا أهل الْجنَّة إِنِّي لَو لم أَرض عَنْكُم لما أسكنتكم جنتي فسلوني فَهَذَا يَوْم الْمَزِيد
قَالَ فيجتمعون على كلمة وَاحِدَة رب وَجهك أرنا نَنْظُر إِلَيْهِ
قَالَ فَيكْشف الله تبَارك وَتَعَالَى تِلْكَ الْحجب ويتجلى لَهُم فيغشاهم من نوره شَيْء لَوْلَا أَنه قضى عَلَيْهِم أَن لَا يحترقوا لَاحْتَرَقُوا مِمَّا غشيهم من نوره
قَالَ ثمَّ يُقَال لَهُم ارْجعُوا إِلَى مَنَازِلكُمْ
قَالَ فيرجعون إِلَى مَنَازِلهمْ وَقد خفوا على أَزوَاجهم وخفين عَلَيْهِم مِمَّا غشيهم من نوره تبَارك وَتَعَالَى فَإِذا صَارُوا إِلَى مَنَازِلهمْ ترَاد النُّور وَأمكن حَتَّى يرجِعوا إِلَى صورهم الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا
قَالَ فَتَقول لَهُم أَزوَاجهم لقد خَرجْتُمْ من عندنَا على صُورَة وَرَجَعْتُمْ على غَيرهَا قَالَ فَيَقُولُونَ ذَلِك بِأَن الله تبَارك وَتَعَالَى تجلى لنا فَنَظَرْنَا مِنْهُ إِلَى مَا خفينا بِهِ عَلَيْكُم
قَالَ فَلهم فِي كل سَبْعَة أَيَّام الضعْف على مَا كَانُوا
قَالَ وَذَلِكَ قَوْله عز وَجل فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71
رَوَاهُ الْبَزَّار
قَالَ قلت وَمَا هَذِه اللمْعَة السَّوْدَاء فِي وَسطهَا قَالَ هَذِه الْجُمُعَة قَالَ قلت وَمَا الْجُمُعَة قَالَ يَوْم من أَيَّام رَبك عَظِيم وسأخبرك بشرفه وفضله واسْمه فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة أما شرفه وفضله واسْمه فِي الدُّنْيَا فَإِن الله تبَارك وَتَعَالَى جمع فِيهِ أَمر الْخلق وَأما مَا يُرْجَى فِيهِ فَإِن فِيهِ سَاعَة لَا يُوَافِقهَا عبد مُسلم أَو أمة مسلمة يسألان الله فِيهَا خيرا إِلَّا أعطاهما إِيَّاه وَأما شرفه وفضله واسْمه فِي الْآخِرَة فَإِن الله تَعَالَى إِذا صير أهل الْجنَّة إِلَى الْجنَّة وَأدْخل أهل النَّار النَّار وَجَرت عَلَيْهِم أَيَّامهَا وساعاتها
لَيْسَ بهَا ليل وَلَا نَهَار إِلَّا قد علم الله مِقْدَار ذَلِك وساعاته فَإِذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة فِي الْحِين الَّذِي يبرز أَو يخرج فِيهِ أهل الْجُمُعَة إِلَى جمعتهم نَادَى مُنَاد يَا أهل الْجنَّة اخْرُجُوا إِلَى دَار الْمَزِيد لَا يعلم سعتها وعرضها وطولها إِلَّا الله عز وَجل فَيخْرجُونَ فِي كُثْبَان من الْمسك
قَالَ حُذَيْفَة وَإنَّهُ لَهو أَشد بَيَاضًا من دقيقكم هَذَا قَالَ فَيخرج غلْمَان الْأَنْبِيَاء بمنابر من نور وَيخرج غلْمَان الْمُؤمنِينَ بكراسي من ياقوت
قَالَ فَإِذا وضعت لَهُم وَأخذ الْقَوْم مجَالِسهمْ بعث الله تبَارك وَتَعَالَى عَلَيْهِم ريحًا تدعى المثيرة تثير عَلَيْهِم أثابير الْمسك الْأَبْيَض فتدخله من تَحت ثِيَابهمْ وتخرجه فِي وُجُوههم وأشعارهم فَتلك الرّيح أعلم كَيفَ تصنع بذلك الْمسك من امْرَأَة أحدكُم لَو دفع إِلَيْهَا كل طيب على وَجه الأَرْض لكَانَتْ تِلْكَ الرّيح أعلم كَيفَ تصنع بذلك الْمسك من تِلْكَ الْمَرْأَة لَو دفع إِلَيْهَا ذَلِك الطّيب بِإِذن الله عز وَجل
قَالَ ثمَّ يوحي الله سُبْحَانَهُ إِلَى حَملَة الْعَرْش فَيُوضَع بَين ظهراني الْجنَّة وَبَينه وَبينهمْ الْحجب فَيكون أول مَا يسمعُونَ مِنْهُ أَن يَقُول أَيْن عبَادي الَّذين أطاعوني بِالْغَيْبِ وَلم يروني وَصَدقُوا رُسُلِي وَاتبعُوا أَمْرِي فسلوني فَهَذَا يَوْم الْمَزِيد
قَالَ فيجتمعون على كلمة وَاحِدَة رب رَضِينَا عَنْك فارض عَنَّا
قَالَ فَيرجع الله تَعَالَى فِي قَوْلهم أَن يَا أهل الْجنَّة إِنِّي لَو لم أَرض عَنْكُم لما أسكنتكم جنتي فسلوني فَهَذَا يَوْم الْمَزِيد
قَالَ فيجتمعون على كلمة وَاحِدَة رب وَجهك أرنا نَنْظُر إِلَيْهِ
قَالَ فَيكْشف الله تبَارك وَتَعَالَى تِلْكَ الْحجب ويتجلى لَهُم فيغشاهم من نوره شَيْء لَوْلَا أَنه قضى عَلَيْهِم أَن لَا يحترقوا لَاحْتَرَقُوا مِمَّا غشيهم من نوره
قَالَ ثمَّ يُقَال لَهُم ارْجعُوا إِلَى مَنَازِلكُمْ
قَالَ فيرجعون إِلَى مَنَازِلهمْ وَقد خفوا على أَزوَاجهم وخفين عَلَيْهِم مِمَّا غشيهم من نوره تبَارك وَتَعَالَى فَإِذا صَارُوا إِلَى مَنَازِلهمْ ترَاد النُّور وَأمكن حَتَّى يرجِعوا إِلَى صورهم الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا
قَالَ فَتَقول لَهُم أَزوَاجهم لقد خَرجْتُمْ من عندنَا على صُورَة وَرَجَعْتُمْ على غَيرهَا قَالَ فَيَقُولُونَ ذَلِك بِأَن الله تبَارك وَتَعَالَى تجلى لنا فَنَظَرْنَا مِنْهُ إِلَى مَا خفينا بِهِ عَلَيْكُم
قَالَ فَلهم فِي كل سَبْعَة أَيَّام الضعْف على مَا كَانُوا
قَالَ وَذَلِكَ قَوْله عز وَجل فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71
رَوَاهُ الْبَزَّار
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৮১. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় মর্যাদার দিক থেকে
সর্বনিম্ন হবে সেই ব্যক্তি, যে এক হাজার বছরের দূরত্ব পর্যন্ত তার বাগ-বাগিচা স্ত্রীগণ, ভোগের সামগ্রী, খাদেমগণ ও তার খাট-পালংকের দিকে তাকাবে এবং জান্নাতীদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সে ব্যক্তি, যে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেন, وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ () إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ () সে দিন অনেক চেহারা উজ্জ্বল হবে।যারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে (৭৫: ২২, ২৩)।
(আহমাদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। ইবন আবিদ-দুনিয়া সংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ জান্নাতী হবে সেই ব্যক্তি, যে প্রতিদিন দু'বার আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার দীদার লাভ করবে।)
সর্বনিম্ন হবে সেই ব্যক্তি, যে এক হাজার বছরের দূরত্ব পর্যন্ত তার বাগ-বাগিচা স্ত্রীগণ, ভোগের সামগ্রী, খাদেমগণ ও তার খাট-পালংকের দিকে তাকাবে এবং জান্নাতীদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সে ব্যক্তি, যে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেন, وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ () إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ () সে দিন অনেক চেহারা উজ্জ্বল হবে।যারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে (৭৫: ২২, ২৩)।
(আহমাদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। ইবন আবিদ-দুনিয়া সংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ জান্নাতী হবে সেই ব্যক্তি, যে প্রতিদিন দু'বার আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার দীদার লাভ করবে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5781- وَرُوِيَ عَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة لمن ينظر إِلَى جنانه وأزواجه ونعيمه وخدمه وسرره مسيرَة ألف سنة وَأكْرمهمْ على الله من ينظر إِلَى وَجهه غدْوَة وَعَشِيَّة ثمَّ قَرَأَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
وُجُوه يَوْمئِذٍ ناضرة إِلَى رَبهَا ناظرة الْقِيَامَة 22 32
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَتقدم وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مُخْتَصرا إِلَّا أَنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن أفضل أهل الْجنَّة منزلَة من ينظر إِلَى وَجه الله تَعَالَى كل يَوْم مرَّتَيْنِ
وُجُوه يَوْمئِذٍ ناضرة إِلَى رَبهَا ناظرة الْقِيَامَة 22 32
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَتقدم وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا مُخْتَصرا إِلَّا أَنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن أفضل أهل الْجنَّة منزلَة من ينظر إِلَى وَجه الله تَعَالَى كل يَوْم مرَّتَيْنِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৮২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাতবাসীদেরকে বলবেন, হে জান্নাতবাসীগণ। উত্তরে তারা বলবে, হে আমাদের রব। আমরা আপনার দরবারে হাজির, আপনার হুকুম পালনে সদাপ্রস্তুত এবং কল্যাণ আপনার হাতেই। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক। আমাদের কি হয়েছে যে, আমরা সন্তুষ্ট হব না, অথচ আপনি আমাদেরকে সেসব নিয়ামত দান করেছেন, যা আপনার কোন মাখলুককে আপনি দান করেন। নি। তারা আরও বলবে: আর এর চাইতে উৎকৃষ্ট আর কীই বা হতে পারে? তখন তিনি বলবেনঃ "আমি কি তোমাদেরকে এসবের চেয়ে উৎকৃষ্ট কিছু দান করব" তারা বলবে, এসবের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কি আছে? তিনি বলবেন, তোমাদের জন্য আমি আমার সন্তুষ্টি অবধারিত করে দিচ্ছি, সুতরাং আমি এরপর কখনও তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হব না।
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5782- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الله عز وَجل يَقُول لأهل الْجنَّة يَا أهل الْجنَّة فَيَقُولُونَ لبيْك رَبنَا وَسَعْديك وَالْخَيْر فِي يَديك فَيَقُول هَل رَضِيتُمْ فَيَقُولُونَ وَمَا لنا لَا نرضى يَا رَبنَا وَقد أَعطيتنَا مَا لم تعط أحدا من خلقك فَيَقُول أَلا أُعْطِيكُم أفضل من ذَلِك فَيَقُولُونَ وَأي شَيْء أفضل من ذَلِك فَيَقُول أحل عَلَيْكُم رِضْوَانِي فَلَا أَسخط عَلَيْكُم بعده أبدا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য সেসব নিয়ামত প্রস্তুত রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে যার কল্পনাও জাগে নি। যদি তোমরা চাও পড়ও
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ তাদের চোখ জুড়ানোর কি উপকরণ গোপন রাখা হয়েছে তা কেউ জানে না (৩২ঃ ১৭)।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ তাদের চোখ জুড়ানোর কি উপকরণ গোপন রাখা হয়েছে তা কেউ জানে না (৩২ঃ ১৭)।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5783- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الله عز وَجل أَعدَدْت لعبادي الصَّالِحين مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر واقرؤوا إِن شِئْتُم فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين السَّجْدَة 71
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৪. হযরত সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি সে মজলিসে জান্নাতের আলোচনা করলেন। মজলিসটি সমাপ্ত হল। তিনি তার আলোচনার শেষে বললেন, সেখানে রয়েছে সেসব নিয়ামত, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তার কল্পনা ও জাগেনি। এরপর তিনি এ দু'টি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ () فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ()
"তারা শয্যা ত্যাগ করে আশায় ও আশংকায় তাদের রবকে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের চোখ জুড়ানোর জন্যে কি গোপন রাখা হয়েছে তা কেউ জানে না।" (৩২: ১৬, ১৭)।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ () فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ()
"তারা শয্যা ত্যাগ করে আশায় ও আশংকায় তাদের রবকে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের চোখ জুড়ানোর জন্যে কি গোপন রাখা হয়েছে তা কেউ জানে না।" (৩২: ১৬, ১৭)।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5784- وَعَن سهل بن سعد السَّاعِدِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ شهِدت من رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَجْلِسا وصف فِيهِ الْجنَّة حَتَّى انْتهى ثمَّ قَالَ فِي آخر حَدِيثه فِيهَا مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن
سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر ثمَّ قَرَأَ هَاتين الْآيَتَيْنِ تَتَجَافَى جنُوبهم عَن الْمضَاجِع يدعونَ رَبهم خوفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفقُونَ فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 61 71
رَوَاهُ مُسلم
سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر ثمَّ قَرَأَ هَاتين الْآيَتَيْنِ تَتَجَافَى جنُوبهم عَن الْمضَاجِع يدعونَ رَبهم خوفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفقُونَ فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 61 71
رَوَاهُ مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৫. হযরত দাউদ ইবন আমির ইবন সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা) সূত্রে তাঁর পিতার মধ্যস্থতায় তাঁর পিতামহ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেন, জান্নাতে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে যতটুকু কোন নখ ধারণ করে, তা যদি প্রকাশ পায়, তবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান সুশোভিত হয়ে যাবে। যদি জান্নাতের অধিবাসী কোন লোক উঁকি মারে আর যদি তার কাঁকন প্রকাশ পায়, তবে তা সূর্যের আলোকে নিষ্প্রভ করে দেবে, যেমন সূর্য তারকার আলোকে নিষ্প্রভ করে দেয়।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।)
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5785- وَعَن دَاوُد بن عَامر بن سعد بن أبي وَقاص عَن أَبِيه عَن جده رَضِي الله عَنْهُم عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَو أَن مَا يقل ظفر مِمَّا فِي الْجنَّة بدا لتزخرف لَهُ مَا بَين خوافق السَّمَوَات وَالْأَرْض وَلَو أَن رجلا من أهل الْجنَّة اطلع فَبَدَا سواره لطمس ضوء الشَّمْس كَمَا تطمس الشَّمْس ضوء النُّجُوم
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৬. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা'আলা আদন জান্নাত সৃষ্টি করলেন, তখন সেখানে সেসব নিয়ামত সৃষ্টি করলেন, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তার কল্পনাও জাগেনি। এরপর তাকে বললেন, তুমি কথা বল, সে বলল, মু'মিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে।
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5786- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لما خلق الله جنَّة عدن خلق فِيهَا مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر ثمَّ قَالَ لَهَا تكلمي فَقَالَت قد أَفْلح الْمُؤْمِنُونَ المؤم 1
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৭. অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ হাতে আদন জান্নাত সৃষ্টি করেছেন, সেখানে ফলের কাঁদি ঝুলিয়েছেন এবং সেখানে নহরাদি উৎসারিত করেছেন। এরপর তার প্রতি লক্ষ্য করে তাকে বললেন, তুমি কথা বল, সে বলল, মু'মিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে। তখন তিনি বললেন, আমার সম্ভ্রম ও প্রতাপের কসম, তোমার মধ্যে কৃপণ আমার প্রতিবেশী হতে পারবে না।
(তাবারানী 'আল-কাবীর' ও 'আল আওসাতে' দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। দু'টি সনদের একটি উৎকৃষ্ট। ইবন আবুদ-দুনিয়া আনাস (রা)-এর রিওয়ায়েতে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সে রিওয়ায়েতের ভাষা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।)
(তাবারানী 'আল-কাবীর' ও 'আল আওসাতে' দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। দু'টি সনদের একটি উৎকৃষ্ট। ইবন আবুদ-দুনিয়া আনাস (রা)-এর রিওয়ায়েতে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সে রিওয়ায়েতের ভাষা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5787- وَفِي رِوَايَة خلق الله جنَّة عدن بِيَدِهِ ودلى فِيهَا ثمارها وشق فِيهَا أنهارها ثمَّ نظر إِلَيْهَا فَقَالَ لَهَا تكلمي فَقَالَت قد أَفْلح الْمُؤْمِنُونَ فَقَالَ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا يجاورني فِيك بخيل
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا جيد وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا من حَدِيث أنس بِنَحْوِهِ وَتقدم لَفظه
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا جيد وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا من حَدِيث أنس بِنَحْوِهِ وَتقدم لَفظه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৮. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, জান্নাতে যেসব নিয়ামত রয়েছে তা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তার কল্পনাও জাগে নি।
(তাবারানী ও বাযযার সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(তাবারানী ও বাযযার সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5788- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول فِي الْجنَّة مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَزَّار بِإِسْنَاد صَحِيح
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَزَّار بِإِسْنَاد صَحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৮৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে তোমাদের
যে কোন ব্যক্তির চাবুকের সমপরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার সাথে তার সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম।
জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার সাথে তার সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম এবং জান্নাতের কোন রমণীর ওড়না দুনিয়া ও তার সাথে সাথে সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা ওড়না কি? তিনি বললেন, মস্তকাবরণ।
(আহমাদ উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বুখারীও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে এক ধনুকের জায়গা তার চেয়ে উত্তম, যার উপর সূর্য উদিত হয়। তিনি বলেন, আল্লাহর পথের এক সকাল অথবা এক বিকাল তার চেয়ে উত্তম, যার উপর সূর্য উদিত হয় অথবা অস্তমিত হয়।
তিরমিযী ও হাদীসটি বর্ণনা করে একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা দুনিয়া ও তার সবকিছু থেকে উত্তম। যদি তোমরা চাও পড়ঃ "যাকে অগ্নি থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হবে সেই সফলকাম। এবং পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছু নয়" (৩: ১৮৫)।
তাবারানী 'আল-আওসাতে' এমন এক সনদে সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যার বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের রাবী। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানের চেয়ে উত্তম। ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরকম। তিনি বলেনঃ আল্লাহর পথের এক সকাল অথবা এক বিকাল দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম এবং জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুকের সমপরিমাণ জায়গা অথবা একটি কদমের জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা থেকে উত্তম। যদি জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের থেকে কোন মহিলা পৃথিবীর প্রতি উকি মারে তবে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান আলোকিত করে দেবে এবং উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান ঘ্রাণে ভরে দেবে। তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম।)
যে কোন ব্যক্তির চাবুকের সমপরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার সাথে তার সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম।
জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার সাথে তার সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম এবং জান্নাতের কোন রমণীর ওড়না দুনিয়া ও তার সাথে সাথে সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা ওড়না কি? তিনি বললেন, মস্তকাবরণ।
(আহমাদ উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বুখারীও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে এক ধনুকের জায়গা তার চেয়ে উত্তম, যার উপর সূর্য উদিত হয়। তিনি বলেন, আল্লাহর পথের এক সকাল অথবা এক বিকাল তার চেয়ে উত্তম, যার উপর সূর্য উদিত হয় অথবা অস্তমিত হয়।
তিরমিযী ও হাদীসটি বর্ণনা করে একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা দুনিয়া ও তার সবকিছু থেকে উত্তম। যদি তোমরা চাও পড়ঃ "যাকে অগ্নি থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হবে সেই সফলকাম। এবং পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছু নয়" (৩: ১৮৫)।
তাবারানী 'আল-আওসাতে' এমন এক সনদে সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যার বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের রাবী। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানের চেয়ে উত্তম। ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরকম। তিনি বলেনঃ আল্লাহর পথের এক সকাল অথবা এক বিকাল দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম এবং জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুকের সমপরিমাণ জায়গা অথবা একটি কদমের জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা থেকে উত্তম। যদি জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের থেকে কোন মহিলা পৃথিবীর প্রতি উকি মারে তবে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান আলোকিত করে দেবে এবং উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান ঘ্রাণে ভরে দেবে। তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5789- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قيد سَوط أحدكُم فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمثلهَا مَعهَا وَلَقَاب قَوس أحدكُم من الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمثلهَا مَعهَا ولنصيف امْرَأَة من الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمثلهَا مَعهَا قلت يَا أَبَا هُرَيْرَة مَا النصيف قَالَ الْخمار
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد وَالْبُخَارِيّ وَلَفظه أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَقَاب قَوس فِي الْجنَّة خير مِمَّا تطلع عَلَيْهِ الشَّمْس وَقَالَ لغدوة
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَمَوْضِع سَوط فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا واقرؤوا إِن شِئْتُم فَمن زحزح عَن النَّار وَأدْخل الْجنَّة فقد فَازَ وَمَا الْحَيَاة الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاع الْغرُور أَو رَوْحَة فِي سَبِيل
الله خير مِمَّا تطلع عَلَيْهِ الشَّمْس أَو تغرب آل عمرَان 581
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط مُخْتَصرا بِإِسْنَاد رُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لموْضِع سَوط فِي الْجنَّة خير مِمَّا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض
وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ غدْوَة فِي سَبِيل الله أَو رَوْحَة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَقَاب قَوس أحدكُم أَو مَوضِع قدم من الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَو أَن امْرَأَة اطَّلَعت إِلَى الأَرْض من نسَاء أهل الْجنَّة لَأَضَاءَتْ مَا بَينهمَا ولملأت مَا بَينهمَا ريحًا وَلنَصِيفهَا على رَأسهَا خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد وَالْبُخَارِيّ وَلَفظه أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَقَاب قَوس فِي الْجنَّة خير مِمَّا تطلع عَلَيْهِ الشَّمْس وَقَالَ لغدوة
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَمَوْضِع سَوط فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا واقرؤوا إِن شِئْتُم فَمن زحزح عَن النَّار وَأدْخل الْجنَّة فقد فَازَ وَمَا الْحَيَاة الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاع الْغرُور أَو رَوْحَة فِي سَبِيل
الله خير مِمَّا تطلع عَلَيْهِ الشَّمْس أَو تغرب آل عمرَان 581
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط مُخْتَصرا بِإِسْنَاد رُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لموْضِع سَوط فِي الْجنَّة خير مِمَّا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض
وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ غدْوَة فِي سَبِيل الله أَو رَوْحَة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَقَاب قَوس أحدكُم أَو مَوضِع قدم من الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَو أَن امْرَأَة اطَّلَعت إِلَى الأَرْض من نسَاء أهل الْجنَّة لَأَضَاءَتْ مَا بَينهمَا ولملأت مَا بَينهمَا ريحًا وَلنَصِيفهَا على رَأسهَا خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭৯০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৯০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর পথের এক সকাল অথবা এক
বিকাল দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার চেয়ে উত্তম এবং জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুক পরিমাণ জায়গা অথবা তার চাবুকের সমপরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তার চেয়ে উত্তম। যদি জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের মধ্যে কোন মহিলা দুনিয়াবাসীর প্রতি উকি মারে, তবে দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু আলোকিত করে দেবে এবং উভয়ের মধ্যবর্তীস্থান ঘ্রাণে ভরে দেবে। তার ওড়না অর্থাৎ মস্তকাবরণ দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা থেকে উত্তম।
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ তিরমিযী বর্ণিত। বাযযার হাসান সনদে সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম।)
বিকাল দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার চেয়ে উত্তম এবং জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুক পরিমাণ জায়গা অথবা তার চাবুকের সমপরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তার চেয়ে উত্তম। যদি জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের মধ্যে কোন মহিলা দুনিয়াবাসীর প্রতি উকি মারে, তবে দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু আলোকিত করে দেবে এবং উভয়ের মধ্যবর্তীস্থান ঘ্রাণে ভরে দেবে। তার ওড়না অর্থাৎ মস্তকাবরণ দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা থেকে উত্তম।
(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ তিরমিযী বর্ণিত। বাযযার হাসান সনদে সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5790- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ غدْوَة فِي سَبِيل الله أَو رَوْحَة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَقَاب قَوس أحدكُم أَو مَوضِع قده فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَو أَن امْرَأَة من نسَاء أهل الْجنَّة اطَّلَعت إِلَى أهل الأَرْض لَأَضَاءَتْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ولملأت مَا بَينهمَا ريحًا وَلنَصِيفهَا يَعْنِي خمارها خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ وَاللَّفْظ لَهُ
القاب هُنَا قيل هُوَ الْقدر وَقيل من مقبض الْقوس إِلَى سيته وَلكُل قَوس قوبان
وَالْقد بِكَسْر الْقَاف وَتَشْديد الدَّال هُوَ السَّوْط وَمعنى الحَدِيث ولقدر قَوس أحدكُم أَو قدر الْموضع الَّذِي يوضع فِيهِ سَوْطه خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
وَقد رَوَاهُ الْبَزَّار مُخْتَصرا بِإِسْنَاد حسن قَالَ مَوضِع سَوط فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ وَاللَّفْظ لَهُ
القاب هُنَا قيل هُوَ الْقدر وَقيل من مقبض الْقوس إِلَى سيته وَلكُل قَوس قوبان
وَالْقد بِكَسْر الْقَاف وَتَشْديد الدَّال هُوَ السَّوْط وَمعنى الحَدِيث ولقدر قَوس أحدكُم أَو قدر الْموضع الَّذِي يوضع فِيهِ سَوْطه خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
وَقد رَوَاهُ الْبَزَّار مُخْتَصرا بِإِسْنَاد حسن قَالَ مَوضِع سَوط فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
তাহকীক: