মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩২২ টি

হাদীস নং: ২৬১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আশ্রয় প্রার্থনামূলক দু'আসমূহ
২৬১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُذَامِ وَالْجُنُونِ وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুষ্ঠরোগ, চর্মরোগ, পাগলামো রোগ এবং সমস্ত বিশ্রী রোগব্যাধি থেকে।"
-(সুনানে আবূ দাউদ ও সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ البَرَصِ، وَالْجُذَامِ، وَالْجُنُونِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ» (رواه ابوداؤد والنسائى)
হাদীস নং: ২৬২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আশ্রয় প্রার্থনামূলক দু'আসমূহ
২৬২. আবুল ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ দু'আ করতেন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَمِنَ الْفَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا

"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার উপর কোন কিছু (কোন ইমারত ইত্যাদি) পতিত হওয়া থেকে, আমার নিজের কোন উচ্চস্থান ইত্যাদি থেকে পতিত হওয়া থেকে, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া থেকে, আগুনে পুড়ে মরা থেকে ও অতিবার্ধক্য থেকে। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি মৃত্যুকালে শয়তান যেন আমাকে ওসওয়াসা বা কুপ্ররোচণা না দেয়।
আমি তোমার নিকট পানাহ্ চাইছি যে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করতে গিয়ে যেন আমি মৃত্যুবরণ না করি। আমি তোমার শরণ প্রার্থনা করছি যে, কোন কিছুর (বিষাক্ত প্রাণীর) দংশনে যেন আমার মৃত্যু না হয়।"
-(সুনানে আবূ দাউদ ও সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي الْيَسَرِ، أَنَّ رَسُولَ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَدْمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ، وَالْحَرَقِ، وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا» (رواه ابوداؤد والنسائى)
হাদীস নং: ২৬৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আশ্রয় প্রার্থনামূলক দু'আসমূহ
২৬৩. কুৎবা ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ وَالْأَهْوَاءِ
-"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি:
* অসচ্চরিত্রতা থেকে
* মন্দ আমল থেকে এবং
* মন্দ প্রবৃত্তি থেকে।
- (তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلَاقِ، وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ» (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আশ্রয় প্রার্থনামূলক দু'আসমূহ
২৬৪. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ -
-"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমারকৃত আমলসমূহের অনিষ্ট থেকে এবং আমি যে সব আমল এখনও করিনি, সেগুলোর অনিষ্ট থেকেও।"
-(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ َانَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: «اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ، وَشَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৬৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ-ব্যাধি এবং বদনযর থেকে আশ্রয় প্রার্থনামূলক দু'আ
২৬৫. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার (দৌহিত্রদ্বয়) হযরত হাসান ও হুসায়েনকে এ কালিমাগুলো পড়ে দম করতেন:
أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ -
-"আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে সোপর্দ করছি-প্রত্যেক শয়তানের আছর থেকে, প্রত্যেক দংশনকারী কীট-পতঙ্গের কবল থেকে এবং প্রতিটি প্রভাব বিস্তারকারী বদনযর থেকে।
তিনি বলতেন, এভাবে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম (তাঁর পুত্রদ্বয়) ইসহাক ও ইসমাঈলকে কুপ্রভাব মুক্তির তদবীর করতেন।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَوِّذُ الحَسَنَ وَالحُسَيْنَ يَقُولُ: «أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ»، وَيَقُولُ: «هَكَذَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يُعَوِّذُ إِسْحَاقَ وَإِسْمَاعِيلَ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ২৬৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ-ব্যাধি এবং বদনযর থেকে আশ্রয় প্রার্থনামূলক দু'আ
২৬৬. হযরত উছমান ইব্‌ন আবুল 'আস ছাকাফী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট অনুযোগ করলেন যে, তাঁর ইসলাম গ্রহণ অবধি শরীরে এক বিশেষ অংশে ব্যথা বোধ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেনঃ ব্যথাযুক্ত স্থানে নিজের হাত রেখে তিনবার বিসমিল্লাহ পড়ে সাতবার পাঠ কর:
أَعُوذُ بِاللّٰهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
"আমি আল্লাহ তা'আলা এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই অনিষ্ট থেকে, যা আমি বোধ করছি এবং সেই অনিষ্ট থেকেও যার আশঙ্কা আমি বোধ করি।"
-(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ الثَّقَفِيِّ، أَنَّهُ شَكَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعًا يَجِدُهُ فِي جَسَدِهِ مُنْذُ أَسْلَمَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي تَأَلَّمَ مِنْ جَسَدِكَ، وَقُلْ بِاسْمِ اللهِ ثَلَاثًا، وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَعُوذُ بِاللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৬৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওবা-ইস্তিগফার

দু'আরই একটি বিশেষ প্রকরণ হচ্ছে ইস্তিগফার বা আল্লাহর দরবারে নিজের গুনাহ-খাতা ও ভুল-ত্রুটির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাওবা হচ্ছে তারই প্রাসঙ্গিক ব্যাপার। বরং তাওবা ও ইস্তিগফার দুটোই অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

তাওবার তাৎপর্য্য হচ্ছে, যে গুনাহ বা নাফরমানী বা অপসন্দনীয়-অবাঞ্ছিত আমল বান্দার দ্বারা হয়ে যায়, তার মন্দ পরিণামের ভয়ের সাথে সাথে তার অন্তরে অনুশোচনা সৃষ্টি হয় এবং ভবিষ্যতে এথেকে বেঁচে থাকবে এবং আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টিমত তাঁর ফরমানবরদারী করে চলার সঙ্কল্প সে গ্রহণ করে।

বলাবাহুল্য বান্দার অন্তরে যখন এ ভাবের উদ্রেক হবে, তখন তার অতীত গুনাহর জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার তাগিদও সে স্বাভাবিকভাবেই এবং অতি অবশ্যই অনুভব করবে যাতে করে সে তার কুফল বা মন্দ পরিণতি থেকে বাঁচতে পারে। এ জন্যেই বলা হয়েছে যে, তাওবা এবং ইস্তিগফার- একটা অপরটার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

তাওবা ও ইস্তিগফারের হাকীকত এ উদাহরণের দ্বারা স্পষ্টরূপে অনুধাবন করা যেতে পারে। ধরুন, কোন ব্যক্তি ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ অবস্থায় আত্মহননের উদ্দেশ্যে বিষ খেয়ে ফেললো। যখন সে বিষ তার পাকস্থলীতে পৌঁছে ক্রিয়া শুরু করলো এবং তার নাড়ি-ভুঁড়ি ছিড়ে যাবার উপক্রম হলো এবং এর বিষক্রিয়া তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠলো এবং চোখের সম্মুখে তার মৃত্যুর দৃশ্য ভেসে উঠলো, তখন তার নির্বুদ্ধিতামূলক আচরণের জন্যে সে খুবই দুঃখিত ও অনুতপ্ত হলো এবং যে কোন মূল্যে প্রাণ রক্ষার জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠলো। তখন সে ডাক্তার বা হাকীমের দেওয়া ঔষধ সেবন শুরু করলো। চিকিৎসক বমি করতে বললে বমি করার জন্যেও সে সাধ্যমতো চেষ্টা করতে লাগলো। নিঃসন্দেহে এ মুহূর্তে সে ব্যক্তি সাচ্চা দেলে এ সিদ্ধান্ত বা সংকল্পও গ্রহণ করবে যে, এ যাত্রা যদি বেঁচে যায়, তাহলে আগামীতে আর কখনো এরূপ নির্বুদ্ধিতামূলক কাজ করবে না।

ঠিক এরূপই বুঝে নিন যে, কখনো ঈমানদার বান্দাও গাফলতির অবস্থায় শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে বা নিজ প্রবৃত্তির তাগিদে পাপকর্ম করে বসে। কিন্তু যখন আল্লাহ প্রদত্ত তাওফীকের বলে তার ঈমানী অনুভূতি জাগ্রত হয়ে উঠে এবং সে অনুধাবন করতে সমর্থ হয় যে, আমি আমার মালিক ও মওলার বিরুদ্ধাচরণ বা তাঁর নাফরমানী করে নিজের ধ্বংসই ডেকে এনেছি এবং আল্লাহর রহমত ও দানের পরিবর্তে তাঁর গযব ও শাস্তিকেই নিজের জন্য অপরিহার্য করে তুলেছি, এ অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে কবরে এবং তারপর হাশরে না জানি আমার কী দশা হয়, সেখানে আমার মনীবের কাছে আমি মুখ দেখাবো কি করে? আখিরাতের শাস্তিই বা আমি কেমন করে সহ্য করবো?

মোটকথা, আল্লাহ যখন তাকে এ অনুভূতি বা উপলব্ধির তাওফীক দান করেন, তখন সে তার মালিক ও মওলার রহমত ও বদান্যতার প্রতি প্রত্যয়ী হয় যে, তিনি বড় বড় গুনাহও সন্তুষ্ট চিত্তে মাফ করে দিতে পারেন, সে তখন তাঁর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং একেই সে তার গুনাহের বিষের প্রতিকার বলে মনে করে। উপরন্তু ভবিষ্যতের জন্যে সংকল্প করে যে, আর কখনো মালিকের অবাধ্যতায় লিপ্ত হবো না এবং কখনো এ গুনাহের কাছেও ঘেঁষবো না। বান্দার এ আমলের নামই হচ্ছে ইস্তিগফার ও তাওবা।

তাওবা ও ইস্তিগফার হচ্ছে সর্বোচ্চ মকাম

পূর্বে আরয করা হয়েছে যে, আল্লাহর মকবুল ও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাগণের সর্বোচ্চ মকাম হচ্ছে আবদিয়ত বা বন্দেগীর মকাম, এবং দু'আতে যেহেতু এই আবদিয়ত ও বন্দেগীর অভিব্যক্তি ঘটে থাকে, এজন্যে নবী করীম ﷺ-এর বাণী অনুসারে এটাই مخ العبادة বা ইবাদতের মগজস্বরূপ। এজন্যে মানুষের সর্বোত্তম আমল এবং সর্বোত্তম অবস্থা এবং সর্বাধিক সম্মানের ব্যাপার হচ্ছে তার দু'আ। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ বাণীটিও যথাস্থানে সন্নিবেশিত হয়েছে, যাতে তিনি বলেছেন:

لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللّٰهِ مِنَ الدُّعَاءِ

"আল্লাহর কাছে দু'আর চাইতে বেশি প্রিয় ও মূল্যবান কোন আমল নেই।"
তাওবা ও ইস্তিগফারকালে বান্দা যেহেতু নিজের অপরাধবোধের দরুন অত্যন্ত লজ্জিত-অনুতপ্ত বোধ করে এবং পাপের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত বলে মালিক মওলাকে মুখ দেখানোর অযোগ্য বলে নিজেকে বিবেচনা করে, এবং নিজেকে অত্যন্ত দোষী ও অপরাধী মনে করে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও ভবিষ্যতের জন্যে তাওবা করে; এ জন্যে বন্দেগী, দীনতা-হীনতা ও নিজের গুনাহগার হওয়ার যে উপলব্ধিটুকু তাওবা-ইস্তিগফারকালে থাকে, অন্য কোন দু'আর সময় সেরূপ হয় না। বরং সত্য কথা হলো সেরূপ অন্য সময় হতেই পারে না। এ হিসাবে ইস্তিগফার ও তাওবা আসলে উচ্চমার্গের ইবাদত এবং তা আল্লাহর নৈকট্যের সর্বোচ্চ মকাম। এজন্যে তাওবা ও ইস্তিগফারকারী বান্দার জন্যে কেবল ক্ষমা ও মার্জনাই নয়, আল্লাহ তা'আলার বিশেষ দান ও তাঁর মহব্বত-ভালবাসার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

সে সব হাদীস একটু পরেই বর্ণনা করা হবে, যা থেকে জানা যাবে যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ অহরহ তাওবা ও ইস্তিগফার করতেন। উপরের বর্ণনার আলোকে তাঁর এ তাওবা ও ইস্তিগফার বহুল পরিমাণে করার কারণটি সহজেই বোধগম্য হবে।

বস্তুত এটি একটি অত্যন্ত মূর্খতা ও ভ্রান্ত ধারণা যে, তাওবা ও ইস্তিগফার হচ্ছে একান্তই আল্লাহর না-ফরমান ও গুনাহগার বা পাপী-তাপীদের কাজ এবং তাদেরই এর প্রযোজন রয়েছে। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে এই যে, আল্লাহর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দারা এমন কি নবী-রাসূলগণ- যাঁরা গুনাহ থেকে মা'সুম এবং মাহফূয (হিফাযতে) থাকেন,. তাঁদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, সবকিছু করার পরও তাঁরা অনুভব করেন, আল্লাহর বন্দেগীর হক মোটেও আদায় হয়নি, এজন্যে তাঁরা সর্বদা তাওবা ও ইস্তিগফার করতে থাকেন। তাঁরা তাঁদের সকল আমলকে এমন কি তাঁদের সালাতসমূহকেও ইস্তিগফার যোগ্য মনে করে থাকেন।

এই মা'আরিফুল হাদীস সিরিজের তৃতীয় খণ্ডে সালাত অধ্যায়ে হযরত ছাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতের সালাম ফিরানোর পর তিনবার বলতেন:

اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ইস্তিগফার করছি! ক্ষমা প্রার্থনা করছি!! মা'ফী তলব করছি!!!
সালাত সম্পন্ন করার পর তাঁর এ ইস্তিগফার এ ভিত্তির উপর হতো যে, তিনি উপলব্ধি করতেন, সালাতের হক আদায় করা সম্ভবপর হয়নি। وَاللّٰهُ أَعْلَمُ (আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত।)

মোদ্দা কথা, তাওবা ও ইস্তিগফার পাপী-তাপী গুনাহগারদের জন্যে তাদের পাপতাপ মার্জনা এবং রহমতের মাধ্যম আর আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ও নিষ্পাপ বান্দাদের জন্যে তাঁদের দর্জা ও মহবুবিয়তের উচ্চতম মকামে আরোহণের সোপান স্বরূপ। আল্লাহ তা'আলা এর তাৎপর্য অনুধাবনের তাওফীক এবং সে বোধ ও একীন দান করুন এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন!

এ ভূমিকার পর তাওবা ও ইস্তিগফার সংক্রান্ত হাদীছগুলো পাঠ করুন, যাতে তাওবা ও ইস্তিগফারের ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আমল বা আচরণের বর্ণনা রয়েছে।

তাওবা ও ইস্তিগফারের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উসওয়ায়ে হাসানা
২৬৭. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আল্লাহর কসম, আমি দিনে সত্তর বারেরও অধিক আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাওবা-ইস্তিগফার করে থাকি।
(সহীহ্ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي اليَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ২৬৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওবা ও ইস্তিগফার হচ্ছে সর্বোচ্চ মকাম: তাওবা ও ইস্তিগফারের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উসওয়ায়ে হাসানা
২৬৮. হযরত আগর মুযানী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: লোক সকল! আল্লাহ্ হুযুরে তাওবা করবে। আমি দিনে এক শ'বার তাওবা করে থাকি।
- (সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ الْأَغَرِّ الْمُزْنِىِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، تُوبُوا إِلَى اللهِ وَاسْتَغْفِرُوا، فَإِنِّي أَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৬৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওবা ও ইস্তিগফার হচ্ছে সর্বোচ্চ মকাম: তাওবা ও ইস্তিগফারের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উসওয়ায়ে হাসানা
২৬৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এক একটি মজলিসে গণনা করতাম, তিনি একশ' বার আল্লাহর দরবারে এরূপ ইস্তিগফার ও দু'আ করতেন:
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
"হে আল্লাহ! আমাকে মার্জনা কর, আমার তাওবা কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি তাওবা কবুলকারী এবং পরম ক্ষমাশীল।"
(আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: إِنَّا كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَجْلِسِ الْوَاحِدِ مِائَةَ مَرَّةٍ: «رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ» (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৭০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওবা ও ইস্তিগফার হচ্ছে সর্বোচ্চ মকাম: তাওবা ও ইস্তিগফারের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উসওয়ায়ে হাসানা
২৭০. হযরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রায়ই এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا وَإِذَا أَسَاؤُوا اسْتَغْفَرُوا -
"হে আল্লাহ! আমাকে ঐ সমস্ত বান্দার অন্তর্ভুক্ত কর, যারা কোন পুণ্য কাজ করলে আনন্দিত এবং পাপ কাজ করলে ইস্তিগফারকারী হয়। (নেক কাজ করলে তারা খুশি অনুভব করে এবং মন্দ কাজ করলে ক্ষমা প্রার্থনা করে।)
-(ইবনে মাজা, বায়হাকী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: " اللهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا، وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا " (رواه ابن ماجه والبيهقى فى الدعوات الكبير)
হাদীস নং: ২৭১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গুনাহের কালিমা এবং তাওবা-ইস্তিগফার দ্বারা কালিমা মুক্তি
২৭১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মু'মিন বান্দা যখন কোন গুনাহ করে, তখন তার কলবে (অন্তরে) একটি কাল বিন্দু সৃষ্টি হয়। তারপর সে ব্যক্তি যদি তাওবা ও ইস্তিগফার করে ফেলে, তা হলে সে কাল বিন্দুটি তার অন্তর থেকে বিদূরিত হয়ে তার কলব পরিষ্কার হয়ে যায়। আর যদি সে তা না করে আরো গুনাহ করে এ কাল বৃত্তকে বাড়িয়ে তোলে তা হলে তা তার গোটা কলবের উপর ছেয়ে যায়। এটাই হচ্ছে সেই মরিচা যার কথা আল্লাহ তা'আলা কুরআনের আয়াতে বলেছেন:
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلٰى قُلُوبِهِمْ مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
(মুসনাদে আহমদ, জামে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ، فَإِنْ تَابَ وَاسْتَغْفَرَ، صُقِلَ قَلْبُهُ، وَإِنْ زَادَ، زَادَتْ حَتَّى تَعْلُوْا قَلْبَهُ، فَذَلِكُمُ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى: {كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} (رواه احمد والترمذى وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৭২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গুনাহের কালিমা এবং তাওবা-ইস্তিগফার দ্বারা কালিমা মুক্তি
২৭২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আদম সন্তানদের প্রত্যেকেই ত্রুটিকারী (এমন কোন মানুষ নেই, যার কোন না কোন ভুলত্রুটি কখনো হয়নি।) এবং ত্রুটিকারীদের মধ্যে সেই উত্তম, যে ভুল-ত্রুটি করার পর সাচ্চা দেলে তাওবা করে নেয় এবং আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু হয়ে যায়।
(জামে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজা ও সুনানে দারেমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ» (رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى)
হাদীস নং: ২৭৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গুনাহের কালিমা এবং তাওবা-ইস্তিগফার দ্বারা কালিমা মুক্তি
২৭৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: গুনাহ থেকে তাওবাকারী গুনাহগার বান্দা বিলকুল সেই বান্দার মত, যে আদৌ গুনাহ করেনি। (সুনান ইবনে মাজা, শু'আবুল ঈমান)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ ابن مسعود قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ» (رواه ابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ২৭৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গাফ্ফারিয়তের অভিব্যক্তির জন্যে গুনাহর প্রয়োজনিয়তা
২৭৪. হযরত আবূ আইউব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর অন্তিম শয্যায় অর্থাৎ মৃত্যু লগ্নে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে একটি কথা শুনেছিলাম, যা এতদিন পর্যন্ত তোমাদের কাছে গোপন রেখেছি। (এখন জীবনের অন্তিম মুহূর্তে সে কথাটি তোমাদেরকে জানিয়ে দিয়ে সে আমানতটি তোমাদের হাতে সোপর্দ করে যাচ্ছি) আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: যদি তোমরা সকলেই (ফেরেশতাদের মত) নিষ্পাপ হয়ে যেতে, তাহলে আল্লাহ একটি নতুন সৃষ্টিকে (মাখলুক) পয়দা করতেন, তারা গুনাহ করতো, তারপর তিনি তাদেরকে মাফ করতেন। (এভাবে তাঁর শানে গাফ্ফারিয়তের অভিব্যক্তি ঘটাতেন।) (সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّهُ قَالَ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ: كُنْتُ كَتَمْتُ عَنْكُمْ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَوْلَا أَنَّكُمْ تُذْنِبُونَ لَخَلَقَ اللهُ خَلْقًا يُذْنِبُونَ يَغْفِرُ لَهُمْ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৭৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বারবার গুনাহ ও বারবার ইস্তিগফারকারী
২৭৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর কোন এক বান্দা একটি গুনাহ করে। তারপর সে বলল: "প্রভু, আমি একটি গুনাহ করে ফেলেছি। আমার সে গুনাহটি মাফ করে দাও!”
তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন: আমার বান্দা কি জানে যে, তার একজন মালিক আছেন, তিনি তার গুনাহ মাফও করে দিতে পারেন, আবার ইচ্ছে করলে এজন্যে পাকড়াও করতেও পারেন? আমি আমার বান্দার গুনাহ মার্জনা করে দিলাম এবং তাকে মাফ করে দিলাম।
তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন সে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বিরত রইলো। তারপর এক সময় আবার গুনাহ করে বসলো। তারপর আবার বললো: প্রভু, আমি একটি গুনাহ করে ফেলেছি, তুমি তা মার্জনা করে দাও!
তখন আল্লাহ আবার বললেন: আমার বান্দা কি জ্ঞাত আছে যে, তার একজন রব আছেন, তিনি তাকে মার্জনাও করতে পারেন আবার ইচ্ছে করলে এজন্যে পাকড়াও করতে পারেন? আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম।
তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, সে বান্দাটি গুনাহ থেকে বিরত রইলো। তারপর একসময় আবার আরেকটি গুনাহ করে বসলো। তারপর আবার বলে উঠলো:
প্রভু, আমি আরেকটি গুনাহ করে বসেছি। আমার সে গুনাহটি তুমি মার্জনা করে দাও! তারপর আল্লাহ আবার বললেন: আমার বান্দা কি জানে যে, তার একজন মনিব আছেন- যিনি তাকে মার্জনাও করতে পারেন, আবার পাকড়াও করতেও পারেন? আমি আমার বান্দার গুনাহ মার্জনা করে দিলাম। এবার সে যা ইচ্ছে তাই করুক!
(সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ عَبْدًا أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ فَاغْفِرْهُ، فَقَالَ رَبُّهُ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي، ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا، َقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا فَاغْفِرْهُ، فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي، ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا، قَالَ: قَالَ: أَذْنَبْتُ ذَنْبًا آخَرَ فَاغْفِرْهُ لِي، فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَا شَاءَ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৭৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বারবার গুনাহ ও বারবার ইস্তিগফারকারী
২৭৬. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) রিওয়ায়াত করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ফরমান; গুনাহ করে বান্দা যদি (সাচ্চা দেলে আল্লাহর দরবারে) ইস্তিগফার করে তাহলে দিনে সত্তর বার তার পুনরাবৃত্তি করে থাকলেও সে গুনাহর পুনরাবৃত্তিকারী বলে গণ্য হবে না।
(জামে' তিরমিযী ও সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةٍ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ২৭৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কতক্ষণ পর্যন্ত তাওবা গ্রহণযোগ্য?
২৭৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করেন, যাবৎ না মৃত্যুযাতনা শুরু হয়ে তার গড়গড় শব্দ হতে থাকে। (জামে' তিরমিযী ও সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ» (رواه الترمذى وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৭৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুমূর্ষু ব্যক্তিদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট তওবা: ইস্তিগফার
২৭৮. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কবরে সমাহিত ব্যক্তি হচ্ছে আর্তনাদরত ডুবন্ত ব্যক্তির মতো। সে ইন্তেযারে থাকে পিতা-মাতা ভাইবোন বা কোন বন্ধু-বান্ধবের পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফিরাতের দু'আ পৌঁছবে। যখন তা তার কাছে পৌঁছে, তখন তা সমগ্র দুনিয়া ও দুনিয়া ভর্তি সবকিছু থেকে তার কাছে প্রিয়তর হয়ে থাকে। দুনিয়াবাসীদের দু'আর কল্যাণে আল্লাহ তা'আলা কবরবাসীদের এত বিরাট ছাওয়াব দান করেন, যা পাহাড় তুল্য। আর মুর্দাদের জন্যে জীবিতদের হাদিয়া হচ্ছে তাদের জন্যে মাগফিরাতের দু'আ করা।
(বায়হাকী-শু'আবুল ঈমান)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا الْمَيِّتُ فِي الْقَبْرِ إِلَّا كَالْغَرِيقِ الْمُتَغَوِّثِ، يَنْتَظِرُ دَعْوَةً تَلْحَقُهُ مِنْ أَبٍ أَوْ أُمٍّ أَوْ أَخٍ أَوْ صَدِيقٍ، فَإِذَا لَحِقَتْهُ كَانَتْ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيُدْخِلُ عَلَى أَهْلِ الْقُبُورِ مِنْ دُعَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ أَمْثَالَ الْجِبَالِ، وَإِنَّ هَدِيَّةَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ الِاسْتِغْفَارُ لَهُمْ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৭৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুমূর্ষু ব্যক্তিদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট তওবা: ইস্তিগফার
২৭৯. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কোন মৃত নেককার বান্দার মর্যাদা জান্নাতে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। তখন সে জান্নাতী বান্দা জিজ্ঞেস করে, প্রভু! আমার এ মর্যাদা বৃদ্ধি কিসে ঘটলো? উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেন: তোমার জন্যে তোমার অমুক সন্তানের ইস্তিগফারের বদৌলতে।
(মুসনদে আহমদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةَ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، أَنَّى لِي هَذِهِ؟ فَيَقُولُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ " (رواه احمد)
হাদীস নং: ২৮০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলিম সাধারণের জন্যে ইস্তিগফার

কুরআন মজীদে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন তাঁর নিজের জন্যে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মুসলিম সাধারণের জন্যে ইস্তিগফার বা আল্লাহ তা'আলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
(وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ)
ঐ একই হুকুম আমাদের উম্মতীদের জন্যেও। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্যে উৎসাহিত করেছেন এবং এর ফযীলত বর্ণনা করেছেন। এ সিলসিলার দু'খানা হাদীস নিম্নে পাঠ করুন:
২৮০. হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ফরমান; যে ব্যক্তি মু'মিন পুরুষদের জন্যে এবং মু'মিনা নারীদের জন্যে আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফারের দু'আ করবে, প্রতিটি মু'মিন নর-নারীর হিসাবে সে ব্যক্তির জন্যে একটি করে নেকি লিখিত হবে।
-(মু'জামে কবীর: তাবারানী সঙ্কলিত)
کتاب الاذکار والدعوات
عن عبادة بن الصامت قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "من استغفر للمؤمنين والمؤمنات كتب له بكل مؤمن ومؤمنة حسنة " (رواه الطبرانى فى الكبير)