মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩২২ টি

হাদীস নং: ৪১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরআন শরীফের তেলাওয়াত অন্তরের ময়লা দূর করে
৪১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মানুষের অন্তরে ঠিক এভাবে মরিচা পড়ে থাকে, যেভাবে লোহায় পানি লাগলে মরিচা ধরে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা পরিষ্কার করার উপায় কি? তিনি বললেন, মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করা ও কুরআন মজীদের তেলাওয়াত। বায়হাকী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ هَذِهِ الْقُلُوبَ تَصْدَأُ، كَمَا يَصْدَأُ الْحَدِيدُ إِذَا أَصَابَهُ الْمَاءُ " قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا جِلَاؤُهَا؟ قَالَ: " كَثْرَةُ ذِكْرِ الْمَوْتِ وَتِلَاوَةُ الْقُرْآنِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৪২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের বিজ্ঞ পাঠকের অবস্থান ও মর্যাদা
৪২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনে ব্যুৎপত্তি অর্জন করে নিয়েছে (এবং এ কারণে সে এটা মুখস্থ অথবা দেখে দেখে সহজে সুন্দর ও চালু পড়তে পারে।) সে সম্মানিত ও মর্যাদাবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে বান্দা (ভাল ইয়াদ ও চালু তেলাওয়াত না থাকার কারণে খুব কষ্ট করে) এভাবে কুরআন পাঠ করে যে, পড়তে কষ্ট হয় ও আটকে আটকে পড়ে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান। (একটি তেলাওয়াতের সওয়াব, অপরটি কষ্ট স্বীকার করার।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ، وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ، لَهُ أَجْرَانِ». (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৪৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের বিজ্ঞ পাঠকের অবস্থান ও মর্যাদা
৪৩. হযরত মো'আয জুহানী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পড়ল এবং এর উপর আমল করল, কেয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের আলোর চেয়েও সুন্দর ও প্রখর হবে, যদি এ আলো তোমাদের ঘরে এবং সূর্য তোমাদের কাছে এসে যায়। তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা যে স্বয়ং এ কাজটি করেছে? -আহমদ, আবু দাউদ
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ مُعَاذٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ، أُلْبِسَ وَالِدَاهُ تَاجًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ضَوْءُهُ أَحْسَنُ مِنْ ضَوْءِ الشَّمْسِ فِي بُيُوتِ الدُّنْيَا لَوْ كَانَتْ فِيكُمْ، فَمَا ظَنُّكُمْ بِالَّذِي عَمِلَ بِهَذَا؟» (رواه احمد وابوداؤد)
হাদীস নং: ৪৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কেয়ামতের দিন কুরআন পাকের সুপারিশ
৪৪. হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা, এটা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। (বিশেষ করে) এর দু'টি নূরানী সূরা 'বাকারা' ও 'আলে ইমরান' পাঠ করে যাও। কেননা, এগুলো কেয়ামতের দিন তার পাঠকারীদেরকে এভাবে ছায়া করে নিয়ে আসবে যে, এগুলো যেন দু'টি মেঘখণ্ড অথবা শামিয়ানা অথবা পাখির ঝাঁক। এগুলো তার পাঠকদের পক্ষ থেকে (আযাব) প্রতিরোধ করবে। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ কর। কেননা, এটা অর্জন করা খুবই বরকতের বিষয় আর বর্জন করা অত্যন্ত আক্ষেপ ও অনুতাপের ব্যাপার। আর অলস লোকেরা এটা করতে পারবে না। -মুসলিম
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ، اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ، وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ، فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ، أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ، تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا، اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ، فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ، وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ، وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ». (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৪৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কেয়ামতের দিন কুরআন পাকের সুপারিশ
৪৫. হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছি। কেয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআনধারীদেরকে আনা হবে- যারা এর উপর আমল করত। সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান আগে আগে থাকবে এবং মনে হবে যে, যেন এগুলো দু'টি মেঘখণ্ড অথবা কালো বর্ণের দু'টি শামিয়ানা যেগুলোর মধ্যে নূরের ঝলক রয়েছে অথবা পাখীদের দু'টি ঝাঁক। এগুলো তাদের পাঠকদের পক্ষে সুপারিশ ও বিতর্ক করবে। -মুসলিম
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «يُؤْتَى بِالْقُرْآنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَهْلِهِ الَّذِينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِهِ تَقْدُمُهُ سُورَةُ الْبَقَرَةِ، وَآلُ عِمْرَانَ»، كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ ظُلَّتَانِ سَوْدَاوَانِ بَيْنَهُمَا شَرْقٌ، أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ، تُحَاجَّانِ عَنْ صَاحِبِهِمَا» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৪৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরআনের বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতের বরকত
কোন কোন হাদীসে বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফযীলত ও বরকতও বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, হযরত আবু উমামা বাহেলী ও হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি.-এর উপরে বর্ণিত হাদীসে পূর্ণ কুরআনের ফযীলতের সাথে সাথে সূরা বাকারা ও আলে ইমরানের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে অন্যান্য কিছু সূরা ও আয়াতের ফযীলত ও বরকতও রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে এ ধারার কিছু হাদীসও আনা হচ্ছে।
৪৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ উবাই ইবনে কা'বকে বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, আমি তোমাকে কুরআনের এমন একটি সূরা শিখিয়ে দেই, যার তুল্য কোন সূরা তাওরাতেও নাযিল হয়নি; ইন্‌জীলেও নাযিল হয়নি, যবুরেও এবং স্বয়ং কুরআনের মধ্যেও নাযিল হয়নি? উবাই বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি বলে দিন। তিনি বললেন, তুমি নামাযে কেরাআত কিভাবে পাঠ কর? উবাই সূরা ফাতেহা পাঠ করে শুনালেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন। তাওরাত, ইন্‌জীল, যবুর এবং স্বয়ং কুরআনেও এমন কোন সূরা নাযিল হয়নি। এটাই হচ্ছে বার বার পঠিত সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন যা আমাকে দেওয়া হয়েছে। -তিরমিযী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَتُحِبُّ أَنْ أُعَلِّمَكَ سُورَةً لَمْ يَنْزِلْ فِي التَّوْرَاةِ وَلاَ فِي الإِنْجِيلِ وَلاَ فِي الزَّبُورِ وَلاَ فِي القُرْآنِ مِثْلُهَا؟ قَالَ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ تَقْرَأُ فِي الصَّلاَةِ؟ قَالَ: فَقَرَأَ أُمَّ القُرْآنِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أُنْزِلَتْ فِي التَّوْرَاةِ وَلاَ فِي الْإِنْجِيلِ وَلاَ فِي الزَّبُورِ وَلاَ فِي الفُرْقَانِ مِثْلُهَا، وَإِنَّهَا سَبْعٌ مِنَ الْمَثَانِي وَالقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُعْطِيتُهُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৪৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা
৪৭. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: প্রত্যেক জিনিসেরই একটি শীর্ষচূড়া থাকে। আর কুরআনের শীর্ষচূড়া হচ্ছে সূরা বাকারা। এতে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যা কুরআনের সকল আয়াতের সরদার। আর এটা হল আয়াতুল কুরসী। -তিরমিযী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لِكُلِّ شَيْءٍ سَنَامٌ، وَسَنَامُ القُرْآنِ سُورَةُ البَقَرَةِ وَفِيهَا آيَةٌ هِيَ سَيِّدَةُ آيِ القُرْآنِ، هِيَ آيَةُ الكُرْسِيِّ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৪৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারা
৪৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা নিজেদের ঘরগুলোকে কবরস্থান বানিয়ে নিয়ো না। (অর্থাৎ, কবরস্থানে যেভাবে মৃত ব্যক্তিগণ যিকির ও তেলাওয়াত করে না এবং এ কারণে কবরস্থানের পরিবেশ নির্জন ও প্রাণহীন থাকে, তোমরা নিজেদের ঘরগুলোকে এমন বানিয়ে নিয়ো না; বরং বাড়ী ঘরকে যিকির ও তেলাওয়াত দ্বারা আবাদ রাখ।) আর যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না। -তিরমিযী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، وَإِنَّ البَيْتَ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ البَقَرَةُ لاَ يَدْخُلُهُ الشَّيْطَانُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৪৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা কাহফ
৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে, পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত তার জন্য একটি নূর আলোকোজ্জ্বল হয়ে থাকবে। বায়হাকী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُوْرَةَ الَْكَهْفِ فِىْ يَوْمَ الجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ النُّوْرُ مَا بَيْنَ الْجُمْعَتَيْنِ. (رواه البيهقى فى الدعوات الكبير)
হাদীস নং: ৫০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা ইয়াসীন
৫০. হযরত মা'কিল ইবনে ইয়াসার মুযানী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, তার পেছনের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। অতএব, তোমরা তোমাদের মুমূর্ষ ব্যক্তিদের কাছে এটা পাঠ কর। বায়হাকী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ قَرَأَ يس ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ فَاقْرَءُوهَا عِنْدَ مَوْتَاكُمْ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৫১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা ইয়াসীন
৫১. হযরত আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট এ হাদীস পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনের শুরুভাগে সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার সকল হাজাত ও প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন। -দারেমী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قَرَأَ يس فِي صَدْرِ النَّهَارِ، قُضِيَتْ حَوَائِجُهُ» (رواه الدارمى مرسلا)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরায়ে ওয়াকি'আহ্
৫২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকি'আহ্ পাঠ করবে, তার জীবনে কখনো উপোস করার মত অবস্থা আসবে না। (অর্থাৎ, ক্ষুধার কষ্টের সম্মুখীন হবে না।) রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর কন্যাদেরকে এর নির্দেশ দিতেন এবং তারা প্রতি রাতে এ সূরা পাঠ করত। বায়হাকী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ " وَكَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ يَأْمُرُ بَنَاتِهِ يَقْرَأْنَ بها كُلَّ لَيْلَةٍ. (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা মুলক
৫৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কুরআনের ত্রিশ আয়াত সম্বলিত একটি সূরা এক বান্দার জন্য সুপারিশ করল। ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হল। সূরাটি হচ্ছে 'তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক।' -আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ্
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ سُورَةً مِنَ القُرْآنِ ثَلاَثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা আলিফ-লাম-মীম-তানযীল
৫৪. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ সূরা আলিফ-লাম-মীম-তানযীল ও সূরা তাবারাকাল্লাযী না পড়ে ঘুমাতে যেতেন না। -আহমাদ, তিরমিযী, দারেমী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لاَ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ الْم تَنْزِيلُ، وَتَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ. (رواه احمد والترمذى والدارمى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা আ'লা
৫৫. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' সূরাটি খুব পছন্দ করতেন। মুসনাদে আহমাদ
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ هَذِهِ السُّورَةَ: سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى" (رواه احمد)
হাদীস নং: ৫৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা তাকাছুর
৫৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের কেউ কি দৈনিক এক হাজার আয়াত তেলাওয়াত করতে পারে না? সাহাবীগণ বললেন, কার এই শক্তি রয়েছে যে, দৈনিক এক হাজার আয়াত তেলাওয়াত করবে? তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কি এটা করতে পারবে না যে, সূরা তাকাছুর একবার পড়ে নিবে। বায়হাকী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَلَا يَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ أَلْفَ آيَةٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ؟ " قَالُوا: وَمَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقْرَأَ أَلْفَ آيَةٍ؟ قَالَ: " مَا يَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ؟ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৫৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৫৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: সূরা 'ইযা যুলযিলাত' কুরআনের অর্ধেকের সমান, 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান, আর 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমান। -তিরমিযী
کتاب الاذکار والدعوات
عَن ابْن عَبَّاس وَأنس بن مَالك رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا زُلْزِلَتْ تَعْدِلُ نِصْفَ القُرْآنِ، وَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ القُرْآنِ، وَ قُلْ يَا أَيُّهَا الكَافِرُونَ تَعْدِلُ رُبُعَ القُرْآنِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৫৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৫৮. ফরওয়া ইবনে নওফেল সূত্রে তার পিতা নওফেল রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি আরয করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন জিনিস শিখিয়ে দিন, যা আমি শয্যা গ্রহণ করার সময় পড়ে নিব। তিনি বললেন, সূরা কাফিরুন পাঠ করে নিয়ো। কেননা, এতে শিরক থেকে মুক্তি রয়েছে। -তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ اَبِيْهِ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَقُولُهُ إِذَا أَوَيْتُ إِلَى فِرَاشِي، قَالَ: اقْرَأْ: قُلْ يَا أَيُّهَا الكَافِرُونَ فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنَ الشِّرْكِ. (رواه الترمذى وابو داؤد والنسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৫৯. হযরত আবূদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের কেউ কি এ বিষয়ে অক্ষম যে, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করে নিবে? সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ কিভাবে পাঠ করতে পারবে? তিনি বললেন, 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। (সুতরাং রাতের বেলায় যে এটা পড়ে নিল, সে যেন কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করে নিল।) -মুসলিম
ইমাম বুখারী (রহঃ) এ হাদীসটিই হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযী এই বিষয়বস্তুর একটি হাদীস হযরত আবূ আইয়্যুব আনসারী রাযি. থেকে রেওয়ায়ত করেছেন।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟» قَالُوا: وَكَيْفَ يَقْرَأْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟ قَالَ: «قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ» (رواه مسلم والبخارى عن ابى سعيد وروى الترمذى عن ابي ايوب الانصارى بمعناه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৬০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর খিদমতে আরয করলো, আমি এই কুল হুয়াল্লাহ্ সূরাটি খুবই ভালবাসি। হুযুর ﷺ তাকে বললেন: এ সূরাটির প্রতি তোমার অনুরাগ ও মহব্বত তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (জামে' তিরমিযী)
শব্দমালা তথা পাঠের সামান্য হেরফের সহ এ বক্তব্য সম্বলিত একটি হাদীস ইমাম বুখারী (রহ)ও রিওয়ায়াত করেছেন।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أُحِبُّ هَذِهِ السُّورَةَ: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ. فَقَالَ: إِنَّ حُبَّكَ إِيَّاهَا أَدْخَلَكَ الجَنَّةَ. (رواه الترمذى ورى البخارى معناه)
tahqiq

তাহকীক: