মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩২২ টি
হাদীস নং: ৬১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৬১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ জনৈক ব্যক্তিকে 'কুলহুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করতে শুনতে পেয়ে বললেনঃ "তার জন্যে অপরিহার্য হয়ে গেছে।” আমি বললাম: কি ওয়াজিব হয়ে গেছে ইয়া রাসূলাল্লাহ? বললেন জন্নাত।
(মুয়াত্তা: ইমাম মালিক, জামে তিরমিযী ও সুনানে নাসায়ী)
(মুয়াত্তা: ইমাম মালিক, জামে তিরমিযী ও সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ فَقَالَ: وَجَبَتْ. قُلْتُ: مَا وَجَبَتْ؟ قَالَ: الجَنَّةُ. (رواه مالك والترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৬২. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণে উদ্যত, সে যদি একশ'বার 'কুলহুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করে তা হলে যখন কিয়ামত কায়েম হবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে লক্ষ্য করে বলবেন: হে আমার বান্দা! এই যে তোমার ডান দিকে জান্নাত রয়েছে, তুমি তাতে অবলীলাক্রমে প্রবেশ কর!
(জামে তিরমিযী)
(জামে তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ عَلَى فِرَاشِهِ ثُمَّ قَرَأَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ مِائَةَ مَرَّةٍ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ القِيَامَةِ يَقُولُ لَهُ الرَّبُّ: يَا عَبْدِيَ ادْخُلْ عَلَى يَمِينِكَ الجَنَّةَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুল আউযু বি-রাব্বিল ফালাক ও নাস
৬৩. হযরত উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ একদা বললেনঃ তোমরা কি অবগত নও যে, আজকের রাতে আমার কাছে যে আয়াত সমূহ নাযিল হয়েছে, (সেগুলো এমনি অনন্য সাধারণ যে,) তার অনুরূপ কখনো দেখা বা শোনা যায়নি। (সে আয়াতগুলো হচ্ছে) কুল আউযু বি-রাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বি-রাব্বিন্ নাস। (সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَمْ تَرَ آيَاتٍ أُنْزِلَتِ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ، قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুল আউযু বি-রাব্বিল ফালাক ও নাস
৬৪. হযরত উকবা ইব্ন আমের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে জুহফা ও আওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। (মদীনা ও মক্কার মধ্যবর্তী দু'টি মশহুর স্থান) হঠাৎ প্রচন্ড ঝঞ্ঝাবাতাস শুরু হলো এবং ঘন অন্ধকারে চারদিকে ছেয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ কুল আউযু বি-রাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বি-রাব্বিন্নাস পড়ে পড়ে আল্লাহর কাছে শরণ প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং আমাকেও বললেন হে উকবা, তুমিও এ দু'টি দিয়ে আল্লাহর কাছে শরণ প্রার্থনা কর। কোন শরণ প্রার্থী-এর সমকক্ষ কিছু দিয়ে কোনদিন শরণ প্রার্থনা করেনি। (অর্থাৎ শরণ প্রার্থনার এমন কোন দু'আ নেই যা এ দু'টি সূরার সমপর্যায়ের। এ বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এ দু'টি সূরা অনন্য)।
(আবু দাউদ)
(আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: بَيْنَا أَنَا أَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الْجُحْفَةِ، وَالْأَبْوَاءِ، إِذْ غَشِيَتْنَا رِيحٌ، وَظُلْمَةٌ شَدِيدَةٌ، فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ بِأَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، وَأَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، وَيَقُولُ: يَا عُقْبَةُ، تَعَوَّذْ بِهِمَا فَمَا تَعَوَّذَ مُتَعَوِّذٌ بِمِثْلِهِمَا. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুল আউযু বি-রাব্বিল ফালাক ও নাস
৬৫. হযরত আয়শা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ প্রতি রাত্রে যখন শয্যা গ্রহণ করতে যেতেন, তখন তিনি উভয় হাতকে একত্র করতেন (যেভাবে দু'আ বা মুনাজাতের সময় একত্র করা হয়ে থাকে) তারপর উভয় হাতে ফুঁক দিতেন এবং তাতে কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বি-রাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বি-রাব্বিন্ নাস পড়তেন। তারপর যতদূর সম্ভব হাত পৌঁছিয়ে তাঁর বদন মুবারক মুছে নিতেন। সির মুবারক, চেহারা মুবারক এবং বদন মুবারকের সম্মুখের অংশ থেকে শুরু করতেন। (তারপর অবশিষ্ট দেহে যতদুর পর্যন্ত হাত পৌঁছে হাত বুলিয়ে নিতেন।) এরূপ তিনি তিনবার করতেন। (সহীহ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ، " أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَتَى إِلَى فِرَاشِهِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ، ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا، فَقَرَأَ فِيهِمَا: قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، ثُمَّ مَسْحَ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ، يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا (3) أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ، يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ " (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উপরোক্ত হাদীস সমূহে যে ভাবে খাস খাস সূরা সমূহের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে অনুরূপ কোন কোন হাদীসে বিশেষ বিশেষ আয়াতের ফযীলত এবং বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। এ সিলসিলার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করুন!
৬৬. উবাই ইব্ন কা'আব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন: যে আবূ মুনযির (এটা তাঁর কুনিয়ত বা উপনাম) আল্লাহর কিতাবের সব চাইতে মাহাত্ম্যপূর্ণ কোন আয়াতটি তোমার কাছে রয়েছে, তা কি তুমি জানো? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি পুনরায় বললেনঃ হে আবূ মুনযির! আল্লাহর কিতাবের সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ কোন্ আয়াতটি তোমার কাছে রয়েছে, তা কি তুমি জ্ঞাত আছো? তখন আমি বললামঃ
اَللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ.
রাবী বলেন, তখন তিনি আমার বুকে হাত চাপড়িয়ে বললেন: তোমার এ ইলম তোমার জন্য অনুকূল ও মুবারক হোক হে আবু মুনযির!
(মুসলিম)
اَللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ.
রাবী বলেন, তখন তিনি আমার বুকে হাত চাপড়িয়ে বললেন: তোমার এ ইলম তোমার জন্য অনুকূল ও মুবারক হোক হে আবু মুনযির!
(মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا الْمُنْذِرِ، أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى مَعَكَ أَعْظَمُ؟» قَالَ: قُلْتُ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى مَعَكَ أَعْظَمُ؟» قَالَ: قُلْتُ: {اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} قَالَ: فَضَرَبَ فِي صَدْرِي، وَقَالَ: «وَاللهِ لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ»(رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারার শেষের আয়াতসমূহ
৬৭. আয়ফা' ইব্ন আব্দ কালাঈ থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে আরয করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কুরআনের সবচাইতে বেশি মাহাত্ম্যপূর্ণ সূরা কোনটি? জবাবে তিনি বললেন, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। তারপর ঐ ব্যক্তি আবার প্রশ্ন করলো কুরআন শরীফের সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ আয়াত কোনটি? জবাবে তিনি বললেনঃ আয়াতুল কুরসী اللّٰهُ لا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ ঐ ব্যক্তি পুনরায় প্রশ্ন করলোঃ কুরআনের কোন্ আয়াতটির ব্যাপারে আপনি আশা করেন যে, তার উপকার আপনার এবং আপনার উম্মতের কাছে পৌছবে? জবাবে তিনি বললেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ آمَنَ الرَّسُوْلُ থেকে শেষ পর্যন্ত। তারপর তিনি বললেন, এ আয়াতগুলো আল্লাহ তা'আলার রহমত ও তাঁর বিশেষ ভাণ্ডারের সম্পদরাশি, যা তাঁর আরশের তলদেশে রক্ষিত। আল্লাহ তা'আলা এ রহমতের আয়াতগুলি এ উম্মতকে দান করেছেন। ইহলোক ও পরলোকের তাবৎ মঙ্গল এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।
(দারেমী)
(দারেমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَيْفَعَ بْنِ عَبْدِ الْكَلَاعِي، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَيُّ سُورَةِ الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ». قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: " آيَةُ الْكُرْسِيِّ {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} ". قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ تُحِبُّ أَنْ تُصِيبَكَ وَأُمَّتَكَ؟ قَالَ: «خَاتِمَةُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ، فَإِنَّهَا مِنْ خَزَائِنِ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى، مِنْ تَحْتِ عَرْشِهِ، أَعْطَاهَا هَذِهِ الْأُمَّةَ، لَمْ تَتْرُكْ خَيْرًا مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ» (رواه الدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারার শেষের আয়াতসমূহ
৬৮. জুবায়র ইব্ন নুফায়র তাবেয়ী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: সূরা বাকারা এমন দুটি আয়াত দ্বারা খতম হয়েছে, যা তিনি তাঁর সেই খাস ভাণ্ডার থেকে প্রদান করেছেন, যা তাঁর আরশের নীচে রক্ষিত। তোমরা নিজেরা তা শিখ এবং তোমাদের মহিলাদেরকেও তা শিক্ষা দাও। কেননা এ আয়াতদ্বয় আগাগোড়াই রহমত এবং আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য হাসিলের মাধ্যম স্বরূপ এবং এর মধ্যে অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক দু'আ নিহিত রয়েছে।
(দারিমী)
(দারিমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ خَتَمَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ بِآيَتَيْنِ أُعْطِيتُهُمَا مِنْ كَنْزِهِ الَّذِي تَحْتَ الْعَرْشِ، فَتَعَلَّمُوهُنَّ وَعَلِّمُوهُنَّ نِسَاءَكُمْ، فَإِنَّهُمَا صَلَاةٌ وَقُرْآنٌ وَدُعَاءٌ» (رواه الدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা বাকারার শেষের আয়াতসমূহ
৬৯. হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত যে ব্যক্তি কোন রাতে তিলাওয়াত করবে তার জন্যে এ দু'টি আয়াতই যথেষ্ট হয়ে যাবে।
(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الآيَتَانِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ البَقَرَةِ مَنْ قَرَأَ بِهِمَا فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আলে ইমরান সূরার শেষ আয়াত
৭০. হযরত উছমান ইব্ন আফ্ফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সূরা আলে ইমরানের শেষ আয়াতগুলো কোন রাতে তিলাওয়াত করবে তার জন্য পূর্ণ রাত্রি জাগরণ করে সালাত আদায়ের ছাওয়াব লিখিত হবে। (মুসনাদে দারিমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: «مَنْ قَرَأَ آخِرَ آلِ عِمْرَانَ فِي لَيْلَةٍ، كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ» (رواه الدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ পর্যন্ত যে সত্তরটি হাদীস লিখিত হয়েছে তা যিকরুল্লাহ এবং কুরআন মজীদ তিলাওয়াত সংক্রান্ত ছিল। তারপর আসছে ঐসব হাদীস, যেগুলোর সম্পর্ক দু'আর সাথে। তাতে এমন হাদীসও আছে, যাতে দু'আর মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে আবার এমন হাদীসও আছে, যেগুলোতে দু'আ সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। এমন হাদীসও আছে, যেগুলোতে হুযুর ﷺ আল্লাহর দরবারে যে সব দু'আ করেছেন, সেগুলো সংরক্ষিত করে পেশ করা হয়েছে, যা উম্মতের জন্যে তাঁর মহত্তম উত্তরাধিকার।
সর্বশেষে ইস্তিগফার ও দুরূদ শরীফ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
দু'আ
আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে যে সমস্ত পূর্ণতা, কৃতিত্ব ও বৈশিষ্ট্য দানে ধন্য করেছেন, তন্মধ্যে সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য ও পূর্ণতা হচ্ছে 'আবদিয়তে কামেলা' বা পূর্ণ আবদিয়তের মকাম।
আবদিয়ত কি? আল্লাহ তা'আলার দরবারে পরম বিনয় ও দীনতা, গোলামী, মাথা কুটা, অক্ষমতা ও মুখাপেক্ষিতার পরিপূর্ণ বহিঃ প্রকাশ এবং এ বিশ্বাস অন্তরে পোষণ করা যে, সবকিছু একমাত্র তাঁরই ক্ষমতা ও ইখাতিয়ারাধীন, তাঁর দ্বারের ফকীরী ও মিসকীনী এ সবের সমাহার হচ্ছে মাকামে আবদিয়াত। এটা হচ্ছে সকল মকামের উপরের মকাম। আর নিঃসন্দেহে হযরত মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ ﷺ এ গুলোর দিক থেকে আল্লাহ তা'আলার গোটা সৃষ্টি জাতের মধ্যে সবচাইতে কামিল এবং সবচাইতে ঊর্ধ্বে সমাসীন ব্যক্তিত্ব। আর এজন্যেই তিনি সৃষ্টির সেরা সবচাইতে গরিয়ান মহিয়ান পুরুষ।
নিয়ম হচ্ছে এই যে, প্রতিটি বস্তু তার উদ্দেশ্যের নিরিখে পূর্ণ বা অপূর্ণ বিবেচিত হয়ে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ ঘোড়ার কথাই ধরা যাক, যে উদ্দেশ্যে তা সৃষ্টি করা হয়েছে, অর্থাৎ আরোহণ ও দ্রুতগমন, সেটা কতটা সফল বা সঠিক; তা এ নিরিখেই বিবেচিত হবে। অনুরূপ গাভী বা মহিষ এর লক্ষ্য হচ্ছে দুগ্ধদান। তার মূল্যমান এ নিরিখেই সাব্যস্ত হবে। অনুরূপ অন্য সব কিছু। মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য তার সৃষ্টিকর্তা নিজে বলে দিয়েছেন, তা হচ্ছে আবদিয়াত ও ইবাদত।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُوْنَ .
(মানব ও জিন জাতিকে আমি কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।)
তাই সর্বাধিক পূর্ণ ও উচ্চমর্যাদার অধিকারী হবেন তিনিই, যিনি এ ব্যাপারে সবচাইতে পূর্ণতা ও কৃতিত্বের অধিকারী। সুতরাং সাইয়িদিনা হযরত মুহাম্মদ ﷺ যেহেতু আবদিয়াতের পূর্ণতায় সবার শীর্ষ স্থানীয়, তাই সমস্ত সৃষ্ট জগতের মধ্যে তিনি সেরা ও সর্বাধিক মর্যাদা সম্পন্ন। এ জন্যেই কুরআন শরীফের যেখানে যেখানে তাঁর বৈশিষ্ট্য ও কামালাত এবং তাঁর প্রতি আল্লাহ তা'আলার খাস খাস ইনামের উল্লেখ করা হয়েছে, সে সব স্থানে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হিসাবে তাঁকে আবদ অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে। মি'রাজ প্রসঙ্গে সূরা ইসরায় বলা হয়েছে:
سُبْحَانَ الَّذِيْ أَسْرٰى بِعَبْدِهِ .......
তার ঐ মি'রাজেরই শেষ পর্যায়ের বর্ণনা প্রসঙ্গে সূরা নজমে বলা হয়েছে:
تَبَارَكَ الَّذِيْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰى عَبْدِهِ
সূরা কাহফে আছেঃ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَنْزَلَ عَلٰى عَبْدِهِ الْكِتَابَ
মোদ্দা কথা, বান্দার মকামসমূহের মধ্যে আবদিয়াতের মকাম হচ্ছে সবার উপরে। হযরত মুহাম্মাদ ﷺ হচ্ছেন এ মকামের ইমাম। অর্থাৎ বিশেষ গুণে গুণান্বিত সকলের মধ্যে তিনি রয়েছেন সর্বাগ্রে। আর দু'আ যেহেতু আবদিয়তেরই মণি ও বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ; তাই আল্লাহর তা'আলার দরবারে দু'আর সময় (যদি প্রকৃতই তা দু'আ হয়) বান্দার যাহির ও বাতিন আবদিয়াতের মধ্যে নিমজ্জমান থাকে। এজন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সমস্ত হাল ও সিফাতের মধ্যে সবচাইতে প্রবল হাল ও সিফাত হচ্ছে দু'আর হাল ও সিফাত আর উম্মত তাঁর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সম্পদের যে বিশাল ও বহুমূল্য ভাণ্ডার লাভ করেছে তন্মধ্যে সর্বাধিক মূল্যবান ভাণ্ডার হচ্ছে এ দু'আর ভাণ্ডার যা বিভিন্ন সময় ও প্রেক্ষিতে তিনি তাঁর মাওলার দরবারে করেছেন; অথবা যার শিক্ষা তিনি তাঁর উম্মতকে দিয়েছেন।
এর মধ্যে কিছু দু'আ এমন, যা কোন বিশেষ অবস্থা, প্রেক্ষিত ও বিশেষ উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত আর অধিকাংশ দু'আগুলোর মূল্যমান ও ফায়দার একটি বাস্তব দিক হচ্ছে এই যে, এগুলোর দ্বারা দু'আর নিয়ম-পদ্ধতি জানা যায় এবং এ ব্যাপারে এমনি নির্দেশনা পাওয়া যায় যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এর অপর ইলমী ও আধ্যাত্মিক দিক হচ্ছে এই যে, এগুলোর দ্বারা আঁচ করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রূহে পাক আল্লাহ তা'আলার সাথে কত ঘনিষ্ঠভাবে নিবিষ্ট ছিল এবং সে সম্পর্ক কত সার্বক্ষণিক ও অন্তরঙ্গ ছিল। তাঁর অন্তরকে আল্লাহ তা'আলার জালাল ও জামাল যে কী পরিমাণ আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, নিজের এবং গোটা বিশ্বের দীনতা-হীনতা এবং মালিকুল মুলকের কুদরতে কামেলা এবং সর্বব্যাপী রহমত এবং তাঁর রবুবিয়াতের প্রতি তাঁর প্রত্যয় যে কত দৃঢ় ছিল, তা ফুটে উঠেছে এসব দু'আর মধ্যে, যেন এটা তাঁর গায়েব নয়- প্রত্যক্ষ দর্শন। হাদীস ভাণ্ডারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যে শত শত দু'আ সংরক্ষিত রয়েছে, তাতে একটু গভীর ভাবে দৃষ্টিপাত ও মনোনিবেশ করলে দেখা যাবে এ দু'আ গুলোর প্রত্যেকটিই মারিফতে ইলাহীর এক একটি স্মারক স্তম্ভ এবং তাঁর রূহানী কামালিয়তে আল্লাহর সাথে তার নিবিড় অন্তরঙ্গতার প্রমাণবহ। এদিক থেকে দেখলে তাঁর প্রতিটি দু'আ একা একটি মু'জিযা স্বরূপ। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওআলা আলিহি ও বারিক ও সাল্লিম।
এ দীন লেখকের একটা নিয়ম হচ্ছে, যখন কোন শিক্ষিত অমুসলিম ভদ্রলোকের কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পরিচিতি তুলে ধরার সুযোগ হয়, তখন আমি তাঁর কয়েকটি দু'আ অবশ্যই তাঁকে শুনিয়ে দেই। শতকরা প্রায় একশ ভাগ ক্ষেত্রেই এ ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে ঐ শ্রেণীর ভদ্রলোকেরা সবচাইতে বেশি প্রভাবান্বিত হন এই দু'আ দ্বারা। আল্লাহকে চেনার ও তাঁর সাথে নিবিড় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি যে এক সফল পুরুষ, এ ব্যাপারে তারপর তাদের কোন সন্দেহ থাকে না।
এ ভূমিকার পর এমন কয়েকখানি হাদীস পাঠ করুন, যে গুলোতে রাসূলুল্লাহ ﷺ দু'আ করার প্রতি উৎসহ দিয়েছেন এবং এগুলোর বরকত বয়ান করেছেন, দু'আর আদব বর্ণনা করেছেন অথবা এ ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপর এক বিশেষ তরতীব অনুসারে সে সব হাদীস লিখিত হবে, যেগুলোতে সে সব দু'আর উল্লেখ রয়েছে, যা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষিতে তিনি আল্লাহ তা'আলার দরবারে পেশ করেছেন অথবা উম্মতকে তিনি যেগুলোর শিক্ষা দিয়েছেন।
দু'আর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
সর্বশেষে ইস্তিগফার ও দুরূদ শরীফ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
দু'আ
আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে যে সমস্ত পূর্ণতা, কৃতিত্ব ও বৈশিষ্ট্য দানে ধন্য করেছেন, তন্মধ্যে সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য ও পূর্ণতা হচ্ছে 'আবদিয়তে কামেলা' বা পূর্ণ আবদিয়তের মকাম।
আবদিয়ত কি? আল্লাহ তা'আলার দরবারে পরম বিনয় ও দীনতা, গোলামী, মাথা কুটা, অক্ষমতা ও মুখাপেক্ষিতার পরিপূর্ণ বহিঃ প্রকাশ এবং এ বিশ্বাস অন্তরে পোষণ করা যে, সবকিছু একমাত্র তাঁরই ক্ষমতা ও ইখাতিয়ারাধীন, তাঁর দ্বারের ফকীরী ও মিসকীনী এ সবের সমাহার হচ্ছে মাকামে আবদিয়াত। এটা হচ্ছে সকল মকামের উপরের মকাম। আর নিঃসন্দেহে হযরত মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ ﷺ এ গুলোর দিক থেকে আল্লাহ তা'আলার গোটা সৃষ্টি জাতের মধ্যে সবচাইতে কামিল এবং সবচাইতে ঊর্ধ্বে সমাসীন ব্যক্তিত্ব। আর এজন্যেই তিনি সৃষ্টির সেরা সবচাইতে গরিয়ান মহিয়ান পুরুষ।
নিয়ম হচ্ছে এই যে, প্রতিটি বস্তু তার উদ্দেশ্যের নিরিখে পূর্ণ বা অপূর্ণ বিবেচিত হয়ে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ ঘোড়ার কথাই ধরা যাক, যে উদ্দেশ্যে তা সৃষ্টি করা হয়েছে, অর্থাৎ আরোহণ ও দ্রুতগমন, সেটা কতটা সফল বা সঠিক; তা এ নিরিখেই বিবেচিত হবে। অনুরূপ গাভী বা মহিষ এর লক্ষ্য হচ্ছে দুগ্ধদান। তার মূল্যমান এ নিরিখেই সাব্যস্ত হবে। অনুরূপ অন্য সব কিছু। মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য তার সৃষ্টিকর্তা নিজে বলে দিয়েছেন, তা হচ্ছে আবদিয়াত ও ইবাদত।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُوْنَ .
(মানব ও জিন জাতিকে আমি কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।)
তাই সর্বাধিক পূর্ণ ও উচ্চমর্যাদার অধিকারী হবেন তিনিই, যিনি এ ব্যাপারে সবচাইতে পূর্ণতা ও কৃতিত্বের অধিকারী। সুতরাং সাইয়িদিনা হযরত মুহাম্মদ ﷺ যেহেতু আবদিয়াতের পূর্ণতায় সবার শীর্ষ স্থানীয়, তাই সমস্ত সৃষ্ট জগতের মধ্যে তিনি সেরা ও সর্বাধিক মর্যাদা সম্পন্ন। এ জন্যেই কুরআন শরীফের যেখানে যেখানে তাঁর বৈশিষ্ট্য ও কামালাত এবং তাঁর প্রতি আল্লাহ তা'আলার খাস খাস ইনামের উল্লেখ করা হয়েছে, সে সব স্থানে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হিসাবে তাঁকে আবদ অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে। মি'রাজ প্রসঙ্গে সূরা ইসরায় বলা হয়েছে:
سُبْحَانَ الَّذِيْ أَسْرٰى بِعَبْدِهِ .......
তার ঐ মি'রাজেরই শেষ পর্যায়ের বর্ণনা প্রসঙ্গে সূরা নজমে বলা হয়েছে:
تَبَارَكَ الَّذِيْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰى عَبْدِهِ
সূরা কাহফে আছেঃ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَنْزَلَ عَلٰى عَبْدِهِ الْكِتَابَ
মোদ্দা কথা, বান্দার মকামসমূহের মধ্যে আবদিয়াতের মকাম হচ্ছে সবার উপরে। হযরত মুহাম্মাদ ﷺ হচ্ছেন এ মকামের ইমাম। অর্থাৎ বিশেষ গুণে গুণান্বিত সকলের মধ্যে তিনি রয়েছেন সর্বাগ্রে। আর দু'আ যেহেতু আবদিয়তেরই মণি ও বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ; তাই আল্লাহর তা'আলার দরবারে দু'আর সময় (যদি প্রকৃতই তা দু'আ হয়) বান্দার যাহির ও বাতিন আবদিয়াতের মধ্যে নিমজ্জমান থাকে। এজন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সমস্ত হাল ও সিফাতের মধ্যে সবচাইতে প্রবল হাল ও সিফাত হচ্ছে দু'আর হাল ও সিফাত আর উম্মত তাঁর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সম্পদের যে বিশাল ও বহুমূল্য ভাণ্ডার লাভ করেছে তন্মধ্যে সর্বাধিক মূল্যবান ভাণ্ডার হচ্ছে এ দু'আর ভাণ্ডার যা বিভিন্ন সময় ও প্রেক্ষিতে তিনি তাঁর মাওলার দরবারে করেছেন; অথবা যার শিক্ষা তিনি তাঁর উম্মতকে দিয়েছেন।
এর মধ্যে কিছু দু'আ এমন, যা কোন বিশেষ অবস্থা, প্রেক্ষিত ও বিশেষ উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত আর অধিকাংশ দু'আগুলোর মূল্যমান ও ফায়দার একটি বাস্তব দিক হচ্ছে এই যে, এগুলোর দ্বারা দু'আর নিয়ম-পদ্ধতি জানা যায় এবং এ ব্যাপারে এমনি নির্দেশনা পাওয়া যায় যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এর অপর ইলমী ও আধ্যাত্মিক দিক হচ্ছে এই যে, এগুলোর দ্বারা আঁচ করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রূহে পাক আল্লাহ তা'আলার সাথে কত ঘনিষ্ঠভাবে নিবিষ্ট ছিল এবং সে সম্পর্ক কত সার্বক্ষণিক ও অন্তরঙ্গ ছিল। তাঁর অন্তরকে আল্লাহ তা'আলার জালাল ও জামাল যে কী পরিমাণ আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, নিজের এবং গোটা বিশ্বের দীনতা-হীনতা এবং মালিকুল মুলকের কুদরতে কামেলা এবং সর্বব্যাপী রহমত এবং তাঁর রবুবিয়াতের প্রতি তাঁর প্রত্যয় যে কত দৃঢ় ছিল, তা ফুটে উঠেছে এসব দু'আর মধ্যে, যেন এটা তাঁর গায়েব নয়- প্রত্যক্ষ দর্শন। হাদীস ভাণ্ডারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যে শত শত দু'আ সংরক্ষিত রয়েছে, তাতে একটু গভীর ভাবে দৃষ্টিপাত ও মনোনিবেশ করলে দেখা যাবে এ দু'আ গুলোর প্রত্যেকটিই মারিফতে ইলাহীর এক একটি স্মারক স্তম্ভ এবং তাঁর রূহানী কামালিয়তে আল্লাহর সাথে তার নিবিড় অন্তরঙ্গতার প্রমাণবহ। এদিক থেকে দেখলে তাঁর প্রতিটি দু'আ একা একটি মু'জিযা স্বরূপ। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওআলা আলিহি ও বারিক ও সাল্লিম।
এ দীন লেখকের একটা নিয়ম হচ্ছে, যখন কোন শিক্ষিত অমুসলিম ভদ্রলোকের কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পরিচিতি তুলে ধরার সুযোগ হয়, তখন আমি তাঁর কয়েকটি দু'আ অবশ্যই তাঁকে শুনিয়ে দেই। শতকরা প্রায় একশ ভাগ ক্ষেত্রেই এ ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে ঐ শ্রেণীর ভদ্রলোকেরা সবচাইতে বেশি প্রভাবান্বিত হন এই দু'আ দ্বারা। আল্লাহকে চেনার ও তাঁর সাথে নিবিড় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি যে এক সফল পুরুষ, এ ব্যাপারে তারপর তাদের কোন সন্দেহ থাকে না।
এ ভূমিকার পর এমন কয়েকখানি হাদীস পাঠ করুন, যে গুলোতে রাসূলুল্লাহ ﷺ দু'আ করার প্রতি উৎসহ দিয়েছেন এবং এগুলোর বরকত বয়ান করেছেন, দু'আর আদব বর্ণনা করেছেন অথবা এ ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপর এক বিশেষ তরতীব অনুসারে সে সব হাদীস লিখিত হবে, যেগুলোতে সে সব দু'আর উল্লেখ রয়েছে, যা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষিতে তিনি আল্লাহ তা'আলার দরবারে পেশ করেছেন অথবা উম্মতকে তিনি যেগুলোর শিক্ষা দিয়েছেন।
দু'আর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
৭১. হযরত নু'মান ইব্ন বশীর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দু'আ নিজেই ইবাদত। তারপর তিনি এর সনদ স্বরূপ আয়াতখানা তিলাওয়াত করলেন: وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِيْ الخ
(তোমাদের প্রতি পালকের ফরমান: তোমরা আমার কাছে দু'আ ও যাচ্ঞা প্রার্থনা কর, আমি কবূল করবো এবং দান করবো। যারা আমার ইবাদত থেকে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেবে তাদেরকে লাঞ্ছিত-অপদস্থ হয়ে অচিরেই জাহান্নামে যেতে হবে।) -(মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজা)
(তোমাদের প্রতি পালকের ফরমান: তোমরা আমার কাছে দু'আ ও যাচ্ঞা প্রার্থনা কর, আমি কবূল করবো এবং দান করবো। যারা আমার ইবাদত থেকে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেবে তাদেরকে লাঞ্ছিত-অপদস্থ হয়ে অচিরেই জাহান্নামে যেতে হবে।) -(মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ» ، ثُمَّ قَرَأَ: {وَقَالَ رَبُّكُمْ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} (رواه احمد والترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
৭২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, দু'আ হচ্ছে (জামে তিরমিযী) ইবাদতের মগজ বা সার নির্যাস স্বরূপ।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الدُّعَاءُ مُخُّ العِبَادَةِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
৭৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর নিকট দু'আর চাইতে প্রিয়তর কোন আমল নেই। (তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ مِنَ الدُّعَاءِ. (رواه الترمذى وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
৭৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির জন্য দু'আর দরজা খুলে গেছে, তার জন্য রহমতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আর আল্লাহর নিকট এর চাইতে প্রিয়তর আর কিছু নেই যে, বান্দা তার কাছে আফিয়ত প্রার্থনা করবে। (জামে 'তিরযিমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ فُتِحَ لَهُ مِنْكُمْ بَابُ الدُّعَاءِ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ، وَمَا سُئِلَ اللَّهُ شَيْئًا يَعْنِي أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يُسْأَلَ العَافِيَةَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
৭৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তিআল্লাহর কাছে যাচ্ঞা করেনা, আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হন। - (তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّهُ مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللَّهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
৭৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আল্লাহর কাছে তাঁর ফসল প্রার্থনা কর (অর্থাৎ দু'আ কর যেন তাঁর ফসল ও করম দান করেন) কেননা আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত প্রিয় যে, তাঁর বান্দা তাঁর কাছে যাচ্ঞা করবে।
তিনি আরো বলেন, (আল্লাহর তা'আলার ফযল ও করমের প্রতি আস্থা রেখে) এ আশা অন্তরে পোষণ করা যে, তিনি তাঁর ফযল ও করমে বালা-মুসীবত ও দুর্গতির অবসান ঘটাবেন, তা হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের ইবাদত। (কেননা তাতে আল্লাহর দরবারে নিজের অক্ষমতা ও কাঙালপনার স্বীকারোক্তি ও আকুতি রয়েছে)।- (জামে' তিরমিযী)
তিনি আরো বলেন, (আল্লাহর তা'আলার ফযল ও করমের প্রতি আস্থা রেখে) এ আশা অন্তরে পোষণ করা যে, তিনি তাঁর ফযল ও করমে বালা-মুসীবত ও দুর্গতির অবসান ঘটাবেন, তা হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের ইবাদত। (কেননা তাতে আল্লাহর দরবারে নিজের অক্ষমতা ও কাঙালপনার স্বীকারোক্তি ও আকুতি রয়েছে)।- (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " سَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ، فَإِنَّ اللهَ يُحِبُّ أَنْ يُسْأَلَ مِنْ فَضْلِهِ، وَأَفْضَلُ الْعِبَادَةِ انْتِظَارُ الْفَرَجِ " (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মকবুলিয়ত ও উপকারিতা
৭৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দু'আ বালা-মুসীবতের ব্যাপারেও উপকারী, যা এসে পড়েছে এবং সে সবের ব্যাপারেও উপকারী, যেগুলো এখনো আসেনি। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা! দু'আর ব্যাপারে নিষ্ঠাবান ও যত্নবান হও। (জামে' তিরমিযী)
ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ এ হাদীসখানা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর স্থলে মু'আয ইবনে জাবাল (রা)-এর যবানীতে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ এ হাদীসখানা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর স্থলে মু'আয ইবনে জাবাল (রা)-এর যবানীতে বর্ণনা করেছেন।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الدُّعَاءَ يَنْفَعُ مِمَّا نَزَلَ وَمِمَّا لَمْ يَنْزِلْ، فَعَلَيْكُمْ عِبَادَ اللهِ بِالدُّعَاءِ. (رواه الترمذى ورواه احمد عن معاذ بن جبل)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মকবুলিয়ত ও উপকারিতা
৭৮. হযরত সালমান ফারসী (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের প্রভু-পরোয়ারদিগার অত্যন্ত লজ্জাশীল ও বদান্যশীল। যখন বান্দা তাঁর দরবারে তার দুটি হাত পাতে তখন তা খালি ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন। (কিছু না কিছু দানের ফয়সালা তিনি করেনই।) -(তিরমিযী ও আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ رَبَّكُمْ حَيِيٌّ كَرِيمٌ، يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا» (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর মকবুলিয়ত ও উপকারিতা
৭৯. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন দুটি আমল বাৎলে দেব না, যা তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুদের কবল থেকে রক্ষা করবে এবং তোমাদেরকে তোমাদের জীবিকা দেওয়াবে। তা হচ্ছে এই যে, তোমরা অহোরাত্র আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু'আ করবে। কেননা দু'আ হচ্ছে মু'মিনের হাতিয়ার স্বরূপ। (অর্থাৎ এর বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে)। -(মুসনদে আবু ইয়ালা মূসেলী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يُنْجِيكُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ وَيَدِرُّ لَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ؟ تَدْعُونَ اللَّهَ فِي لَيْلِكُمْ وَنَهَارِكُمْ، فَإِنَّ الدُّعَاءَ سِلَاحُ الْمُؤْمِنِ» (رواه ابويعلى فى مسنده)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর ব্যাপারে কয়েকটি দিকনির্দেশনা
রাসূলুল্লাহ ﷺ দু'আর ব্যাপারে কতিপয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। দু'আ করার সময় বান্দার সেদিকে সর্বদা লক্ষ্য রাখা দরকার।
রাসূলুল্লাহ ﷺ দু'আর ব্যাপারে কতিপয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। দু'আ করার সময় বান্দার সেদিকে সর্বদা লক্ষ্য রাখা দরকার।
৮০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন আল্লাহর দরবারে দু'আ করবে তখন তা এ দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে করবে যে, তিনি তা অবশ্যই কবুল করবেন এবং প্রার্থিত বস্তু দান করবেন। জেনে রেখো, আল্লাহ কখনো এমন ব্যক্তির দু'আ কবুল করবেন না, দু'আ কালে যার অন্তর গাফেল বা আল্লাহর প্রতি বে-পরোয়া থাকবে। -(জামে তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ادْعُوا اللَّهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ، وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لاَهٍ. (رواه الترمذى)
তাহকীক: