মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩২২ টি

হাদীস নং: ৮১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর ব্যাপারে কয়েকটি দিকনির্দেশনা
৮১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যকার কেউ দু'আ করবে তখন এরূপ বলবে না, হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে মাফ কর, তুমি চাইলে আমাকে দয়া কর, তুমি চাইলে আমাকে জীবিকা দান কর। বরং নিজের পক্ষ থেকে পূর্ণ দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে এবং নিশ্চয়তা সহকারে আল্লাহর দরগায় দু'আ করবে। নিশ্চয়ই তিনি যা চাইবেন তাই করবেন, কেউ তাকে চাপ দিয়ে কিছু করাতে পারবে না। -(বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلَا يَقُلْ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ، وَلَكِنْ لِيَعْزِمْ بِالْمَسْأَلَةِ، فَإِنَّهُ لَا مُكْرِهَ لَهُ " (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৮২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর ব্যাপারে কয়েকটি দিকনির্দেশনা
৮২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি চায়, যে, বিপদ-আপদে আল্লাহ তার দু'আ কবুল করুন, তার উচিত সচ্ছল সময় বেশি বেশি করে দু'আ করা। -(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ فَلْيُكْثِرِ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৮৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আয় তাড়াহুড়া করতে বারণ

দু'আ হচ্ছে বান্দার তরফ থেকে সর্বশক্তিমান সকল ইখতিয়ারের মালিক আল্লাহর দরবারে আবেদন-নিবেদন স্বরূপ। তিনি ইচ্ছে করলে দু'আর মুহূর্তেই নগদ নগদ প্রার্থনা পূরণ করে তাকে তার প্রার্থিত বস্তু দিতে পারেন। কিন্তু এটা তাঁর হিকমত সিদ্ধ নয় যে যালুম ও যাহুল তথা এক বেঁহুশ গোঁয়ার বান্দার খাহেশ বা প্রবৃত্তির তিনি এতই পাবন্দী করবেন যে, যখন যা চাইল তখন তাই তাকে দিয়ে দিলেন, বরং অনেক সময় খোদ বান্দার মঙ্গল তা তাৎক্ষণিকভাবে না দেওয়ার মধ্যেই নিহিত থাকে। কিন্তু স্বভাগতভাবে তাড়াহুড়া পছন্দ মানুষ চায় যে, তার প্রার্থনা নগদ নগদ পূরণ করে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রার্থিত বস্তু তাকে দিয়ে দেওয়া হোক। যখন সে দু'আ তাৎক্ষণিক কবুল হওয়ার কোন লক্ষণ দেখতে পায় না, তখন নিরাশ ও হতাশ হয়ে সে দু'আ করাই ক্ষান্ত দেয়। এটা মানুষের এমনি একটা ভুল যে, সে-ও তার দু'আর কবুলিয়তের যোগ্যতা তাতে হারিয়ে বসে। তার এই তাড়াহুড়াই তখন যেন তার বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৮৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের দু'আ তখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য থাকে যাবৎ না তোমরা তাড়াহুড়া কর। (তাড়াহুড়া হচ্ছে এটা যে,) বান্দা বলতে শুরু করে দেয়, আমি তো দু'আ করেছি, কিন্তু আমার দু'আ কবুল হয় নি। -(বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُسْتَجَابُ لِأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ، فَيَقُولُ: قَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৮৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হারাম ভোগীর দু'আ কবুল হয় না
৮৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “লোক সকল! আল্লাহ নিজে পাক, তিনি কেবল পাকই কবুল করেন। এ ব্যাপারে তিনি যে আদেশ তাঁর প্রেরিত পুরুষগণকে দিয়েছেন ঠিক সে আদেশই মু'মিন বান্দাদেরকেও দিয়েছেন। নবী রাসুগণের প্রতি তাঁর নির্দেশঃ

يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوْا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوْا صَالِحًا إِنِّيْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِيْمٌ.

-হে রসূলগণ! আপনারা পাক-পবিত্র খাবার খাবেন এবং নেক আমল করবেন আমি আপনাদের আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত।
ঈমানদারদেরকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا كُلُوْا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ

হে ঈমানদারগণ! আমার দেয়া রিজিক থেকে হালাল ও পাক রিজিক তোমরা খাবে (এবং হারাম রিজিক বর্জন করবে)।

তারপর হুযুর ﷺ এমন এক ব্যক্তির উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফর করে (কোন পবিত্র স্থানে এমন অবস্থায়) যায়, তার চুল অবিন্যস্ত, গায়ের কাপড়গুলি ধূসরিত আকাশ পানে হস্তদ্বয় উত্তোলন পূর্বক ফরিয়াদ করে, হে আমার প্রভু, হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাবার হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরনের কাপড় হারাম এবং হারাম খাদ্যের দ্বারা তার দেহ পরিপুষ্ট হয়েছে। এমন ব্যক্তির দু'আ কেমন করে কবুল হবে?
-(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} [المؤمنون: 51] وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: 172] ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟ " (رواه مسلم عن ابى هريره)
হাদীস নং: ৮৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ দু'আ

মানব প্রকৃতিগত দিক থেকে অধীর, অধৈর্য এবং অল্পতেই ভড়কে যাওয়া বা ঘাবড়ে যাওয়াই তার স্বভাব। তার জ্ঞানের পরিধিও খুবই সীমিত। তাই কোন কোন সময় সে এমন দু'আও করে বসে, যা কবুল হয়ে গেলে নিজেরই ক্ষতি হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ দু'আ থেকে বারণ করেছেন।
৮৫. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা কখনো নিজেদের উপর অভিশাপ দিওনা, কখনো নিজেদের সন্তানদের উপর অভিশাপ দিওনা, তোমাদের ধনসম্পদের উপর অভিশাপ দিওনা। এমন না হয়ে যায় যে, সময় ক্ষণটি এমন কবুলিয়তের, যখন আল্লাহ যাই চাওয়া হয় তাই দিয়ে দেন। ফলে তোমাদের সে অভিশাপ বা বদ দু'আ কবুল হয়ে গেল! (ফলে তুমি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে বা তোমার সন্তানরা বা তোমার সম্পদ সে অভিশাপের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে)।
-(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَوْلَادِكُمْ، وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ، لَا تُوَافِقُوا مِنَ اللهِ سَاعَةً يُسْأَلُ فِيهَا عَطَاءٌ، فَيَسْتَجِيبُ لَكُمْ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ দু'আ
৮৬. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে মৃত্যুর জন্যে যেন আল্লাহর নিকট দু'আ না করে। কেননা মৃত্যুর সাথে সাথে আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়। (ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টির কোন আমলই আর বান্দা করতে পারে না। যে আমলই করতে হবে জীবন কালেই তা করতে হবে) আর মু'মিন বান্দার আয়ূ কেবল কল্যাণই বৃদ্ধি করে থাকে। (এজন্য মৃত্যুকামনা একটি মস্ত বড় ভুল।) - (মুসলিম)।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ، وَلَا يَدْعُ بِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُ، إِنَّهُ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ، وَإِنَّهُ لَا يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُهُ إِلَّا خَيْرًا» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ দু'আ
৮৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা মৃত্যুর দু'আ ও আকাঙ্ক্ষা করবে না। কেউ যদি একান্তই সেরূপ দু'আ করতেই চায় (অর্থাৎ তার জীবন তার জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠে) তাহলে বলবে:

اَللّٰهُمَّ أَحْيِنِيْ مَا كَانَتْ الْحَيٰوةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

-হে আল্লাহ। যে পর্যন্ত বেঁচে থাকা আমার জন্যে কল্যাণকর, সে পর্যন্ত আমাকে বাঁচিয়ে রাখ; আর যখন মৃত্যুই আমার জন্যে শ্রেয় তখন আমাকে মৃত্যু দান কর। -(সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا تَدْعُوا بِالْمَوْتِ وَلَا تَتَمَنَّوْهُ، فَمَنْ كَانَ دَاعِيًا لَا بُدَّ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي " (رواه النسائى)
হাদীস নং: ৮৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আর কয়েকটি আদব

দু'আর একটি আদব হচ্ছে যখন অন্য কারো জন্যে দু'আ করতে হয়, তখন যদি কেবল অপরের জন্যই দু'আ করা হয় তা হলে তা কোন মুখাপেক্ষী দু'আ প্রার্থীর দু'আ না হয়ে অনেকটা সুপারিশের পর্যায়ের দু'আ হয়ে যাবে। আর এটা দরবারে ইলাহীর কোন কৃপাপ্রার্থীর জন্যে আদৌ সমীচীন বা শোভনীয় নয়। এজন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-এরও নিয়ম ছিল, যখন তিনি অন্য কারো জন্যে দু'আ করতে চাইতেন তখন তিনি প্রথমে নিজের জন্যে দু'আ চেয়ে নিতেন। আবদিয়তে কামেলার দাবী তাই।
৮৮. হযরত উবাই ইব্‌ন কা'আব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কাউকে স্মরণ করতেন এবং তার জন্যে দু'আ করতেন তখন তিনি প্রথমে নিজের জন্য দু'আ করতেন তারপর সেই ব্যক্তির জন্যে দু'আ করতেন।
-(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا ذَكَرَ أَحَدًا فَدَعَا لَهُ بَدَأَ بِنَفْسِهِ. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুই: হাত তুলে দু'আ করা
৮৯. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহর দরবারে এমনিভাবে হাত উঠিয়ে দু'আ কর যে, হাতের সম্মুখ দিক তোমার সম্মুখ দিকে থাকবে। হাত উল্টো করে দু'আ করবে না। আর যখন দু'আ শেষ হবে তখন উঠানো হাত দুটো নিজের মুখমণ্ডলে মুছে নেবে। -(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنُ عَبَّاسٍ سَلُوا اللَّهَ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ، وَلَا تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا، فَإِذَا فَرَغْتُمْ، فَامْسَحُوا بِهَا وُجُوهَكُمْ. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৯০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুই: হাত তুলে দু'আ করা
৯০. সাইব ইব্‌ন য়াযীদ তাবেয়ী তাঁর পিতা হযরত য়াযীদ ইব্‌ন সাঈদ ইব্‌ন ছুমামা (রা)-এর যবানীতে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ-এর নিয়ম ছিল, যখন তিনি দু'আ করতেন তখন হাত দুটি ঊর্ধ্বদিকে উঠাতেন এবং শেষে দুহাত দিয়ে মুখমণ্ডল মুছে নিতেন। -(সুনানে আবূ সাউদ, দাওয়াতে কবীর; বায়হাকী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا دَعَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ، مَسَحَ وَجْهَهُ بِيَدَيْهِ» (رواه ابوداؤد والبيهقى)
হাদীস নং: ৯১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তিন: দু'আর শুরুতে হামদ ও সালাত পাঠ
৯১. ফুযালা ইবনে উবায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে নামাযে দু'আ করতে শুনলেন। দু'আর পূর্বে সে না আল্লাহ তা'আলার হামদ করলো আর না নবী করীম ﷺ-এর প্রতি সালাত সালাম (দরূদ) প্রেরণ করলো। তখন তিনি বললেন: এ লোকটি দু'আর ব্যাপারে বহু তাড়াহুড়া করে ফেললো। তারপর তিনি লোকটিকে ডেকে তাকে বা তার উপস্থিতিতে তাকে শুনিয়ে অন্যদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ
"যখন তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি নামায পড়ে তখন তার উচিত প্রথমে আল্লাহর হামদ ও ছানা (স্তবস্তুতি) করবে তারপর নবী করীম ﷺ-এর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ করবে। তারপর যা মনে চায় দু'আ করবে।১
-(জামে' তিরমিযী সুনানে আবু দাউদ ও নাসায়ী)

টিকা ১. সালাত শব্দটি দরূদ ও নামায উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে নবী করীম ﷺ-এর প্রতি সালাত বলতে আমরা দরূদ এবং শুধু সালাত অর্থে নামায ধরে নিতে পারি। প্রচলিত দরূদ ও নামায ফার্সী ভাষার শব্দ হওয়ায় ইদানীং তার আসল আরবী শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের পুস্তকাদিতে চালানো হচ্ছে। সালাত শব্দটি সাধারণ দরূদ রূপে বেশী পরিচিত বিধায় এখানে নামায শব্দটি ব্যবহার করতে হয়েছে।
- অনুবাদক
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ قَالَ: سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا يَدْعُو فِي صَلَاتِهِ لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ، وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَجِلَ هَذَا»، ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ: - أَوْ لِغَيْرِهِ - «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ، فَلْيَبْدَأْ بِتَمْجِيدِ رَبِّهِ، وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ» (رواه الترمذى وابوداؤد و النسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চার: দু'আর শেষে 'আমীন' বলা
৯২. হযরত আবু যুহাইর নুমাইরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এক রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বের হলাম। আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকটে উপস্থিত হলাম, যে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী কাকুতি-মিনতি সহকারে দু'আ করছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার সে কাকুতি-মিনতিপূর্ণ দু'আ শুনতে লাগলেন।
তখন তিনি বললেন : أَوْجَبَ إِنْ خَتَمَ
-"এ ব্যক্তি তো প্রার্থিত বস্তুর ফয়সলা করেই নিল যদি সে ঠিকমত খতম করতে পারে বা সীল-মোহর লাগাতে পারে।"
তখন সম্প্রদায়ের একব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো: হুযুর, খতম করার বা ঠিকমত মোহর লাগানোর পন্থা কি?
জবাবে তিনি বললেন: সর্বশেষে আমীন বলে দু'আ শেষ করবে। (যদি সে এরূপ করে তা হলে আল্লাহর নিকট দু'আ গ্রহণ করিয়েই নিল।) - (আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي زُهَيْرٍ النُّمَيْرِيِّ، خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً، فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَلَحَّ فِي الْمَسْأَلَةِ، فَوَقَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَسْتَمِعُ مِنْهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوْجَبَ إِنْ خَتَمَ»، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: بِأَيِّ شَيْءٍ يَخْتِمُ؟ قَالَ: «بِآمِينَ، فَإِنَّهُ إِنْ خَتَمَ بِآمِينَ فَقَدْ أَوْجَبَ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৯৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পাঁচ: ছোটদের কাছেও দু'আর দরখাস্ত করা
৯৩. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উমরার উদ্দেশ্যে মক্কা যাত্রার জন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন এবং বললেন:
"ভাই, তোমার দু'আয় আমাদেরকেও শরীক রাখবে এবং আমাদেরকে ভুলে যাবে না কিন্তু।"

হযরত উমর (রা) বলেন, আল্লাহর নবী ﷺ আমাকে (ভাই বলে) যে শব্দটি বললেন, তার বিনিময়ে গোটা সংসার দিয়ে দিলেও আমি রাজী বা খুশি হবো না।
- (আবূ দাউদ, তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: اسْتَأْذَنْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْعُمْرَةِ، فَأَذِنَ لِي، وَقَالَ: «لَا تَنْسَنَا يَا أُخَيَّ مِنْ دُعَائِكَ»، فَقَالَ كَلِمَةً مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الدُّنْيَا. (رواه ابوداؤد والترمذى)
হাদীস নং: ৯৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সে সব দু'আ, যেগুলো বিশেষ ভাবে কবুল হয়ে থাকে
৯৪. হযরত আবূদ্দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কোন মুসলমান যখন তার অনুপস্থিত কোন ভাইয়ের জন্যে দু'আ করে তখন তা কবুল হয়। তার কাছে একজন ফিরিশতা মোতায়েন থাকেন, যার দায়িত্ব হলো যখন সে তার কোন ভাইয়ের জন্য (অনুপস্থিতিতে) কোন মঙ্গলের দু'আ করবে তখন ঐ ফিরিশতা বলেন-আমীন তোমার এ দু'আ আল্লাহ কবুল করুন এবং তোমার জন্যে অনুরূপ মঙ্গল হোক।
-(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ، عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لِأَخِيهِ بِخَيْرٍ، قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ: آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ " (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৯৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সে সব দু'আ, যেগুলো বিশেষ ভাবে কবুল হয়ে থাকে
৯৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তিন প্রকারের দু'আ বিশেষভাবে কবুল হয়ে থাকে। এগুলোর কবুলিয়ত সন্দেহাতীত:
১. সন্তানের জন্যে পিতামাতার দু'আ।
২. পরদেশী মুসাফিরের দু'আ।
৩. মযলূমের দু'আ।
-(জামে' তিরমিযী, সুনানে আবূ দাউদ ও ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لَا شَكَّ فِيهِنَّ: دَعْوَةُ الْوَالِدِ، وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ " (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجة)
হাদীস নং: ৯৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সে সব দু'আ, যেগুলো বিশেষ ভাবে কবুল হয়ে থাকে
৯৬. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ বলেছেন, পাঁচ ব্যক্তির দু'আ বিশেষভাবে কবুল হয়ে থাকেঃ
১. মযলূমের দু'আ- যাবৎ না সে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
২. হজযাত্রীর দু'আ যাবৎ না সে নিজ ঘরে ফিরে আসে।
৩. আল্লাহর রাহে জিহাদকারী ব্যক্তির দু'আ-যাবৎ না সে শহীদ হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
৪. ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তির দু'আ- যাবৎ না সে নিরাময় হয়।
৫. এক ভাইয়ের জন্যে অপর ভাইয়ের গায়েবানা দু'আ।
এ সব বর্ণনা করার পর তিনি বললেন: এগুলোর মধ্যে সবচাইতে দ্রুত কবুল হওয়ার মত দু'আ হচ্ছে কোন ভাইয়ের জন্যে গায়েবানা দু'আ।
- (দাওয়াতে কবীর: বায়হাকী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَمْسُ دَعْوَاتٍ يُسْتَجَابُ لَهُنَّ دَعْوَةُ الْمَظْلُوْمِ حَتَّى يَنْتَصِرَ وَ دَعْوَةُ الْحَاجِّ حَتَّى يَصْدِرَ وَ دَعْوَةُ الْمُجَاهِدِ حَتَّى يُفْقَدَ وَ دَعْوَةُ الْمَرِيْضِ حَتَّى يَبْرَأَ وَ دَعْوَةُ الْأَخِ لِأَخِيْهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ , ثُمَّ قَالَ: وَأَسْرَعُ هَذِهِ الدَّعْوَاتِ إِجَابَةُ دَعْوَةُ الْأَخِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ. (رواه البيهقى فى الدعوات الكبير)
হাদীস নং: ৯৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আ কবুলের বিশেষ বিশেষ হাল ও ক্ষণ-কাল

দু'আ কবুলের ব্যাপারে মৌলিক দখল যাকে দু'আ কারীর আল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও তার সেই আন্তরিক হালের-যাকে কুরআন মজীদে ইযতিরার (اضطرار) এবং ইবতিহাল (ابتهال) বলে অভিহিত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু খাস হাল ও খাস ক্ষণকাল রয়েছে, যেগুলোতে আল্লাহর রহমত ও তাঁর ফযল-করমের আশা বেশিভাবে করা যেতে পারে। নিম্নে বর্ণিত হাদীস সমূহে সে বিশেষ হালসমূহও ক্ষণ-কালের দিকে ইঙ্গিত রাসূলুল্লাহ ﷺ চিহ্নিত করে দিয়েছেন।
৯৭. হযরত ইরবায ইবনে সারিয়া (রা)-থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি ফরয সালাত আদায় করে (এবং তারপর মনেপ্রাণে দু'আ করে) তার দু'আ কবূল হয়, আর যে ব্যক্তি কুরআন মজীদ খতম করে (এবং দু'আ করে) তার দু'আও কবূল হয়ে থাকে।
-(মু'জামে কাবীরঃ তাবারানী প্রণীত)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى صَلَاةَ فَرِيضَةٍ فَلَهُ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ، وَمَنْ خَتَمَ الْقُرْآنَ فَلَهُ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ» (رواه الطبرانى فى الكبير)
হাদীস নং: ৯৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আ কবুলের বিশেষ বিশেষ হাল ও ক্ষণ-কাল
৯৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু'আ প্রত্যাখ্যাত হয় না। -(তিরমিযী ও আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدُّعَاءُ لَا يُرَدُّ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আ কবুলের বিশেষ বিশেষ হাল ও ক্ষণ-কাল
৯৯. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: চারটি সময়ে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং দু'আ বিশেষ ভাবে কবুল হয়ে থাকে:
১. আল্লাহর রাহে লড়াই কালে,
২. আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ কালে (যখন রহমতের দৃশ্য থাকে),
৩. সালাতের ইকামতের সময় এবং
৪. কা'বা দর্শন কালে
(মু'জামে কবীর: তাবারানী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي أُمَامةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " تُفْتَحُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَيُسْتَجَابُ الدُّعَاءُ فِي أَرْبَعَةِ مَوَاطِنَ: عِنْدَ الْتِقَاءِ الصُّفُوفِ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَعِنْدَ نُزُولِ الْغَيْثِ، وَعِنْدَ إِقَامَةِ الصَّلَاةِ، وَعِنْدَ رُؤْيَةِ الْكَعْبَةِ " (رواه الطبرانى فى الكبير)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আ কবুলের বিশেষ বিশেষ হাল ও ক্ষণ-কাল
১০০. হযরত রবী'আ ইব্‌ন ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তিনটি ক্ষেত্র এমন, যখন দু'আ করলে তা' প্রত্যাখ্যাত হয়না (অবশ্যই তা' কবূল হয়ে থাকে)

এক: কোন ব্যক্তি এমন কোন জনশূন্য প্রান্তরে যখন অবস্থান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তাকে দেখছে না, এমন অবস্থায় সে সালাতের জন্যে দাঁড়িয়ে যায়। তারপর সালাতেও দু'আ করে।

দুই: কোন ব্যক্তি জিহাদে দলবলসহ থাকে, এমন সময় তার দলবল তাকে একাকী রেখে পালিয়ে যায়; কিন্তু সে ব্যক্তি (শত্রুদের মধ্যে) দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে (পালিয়ে যায় না এবং এ অবস্থায় দু'আ করে)

তিনঃ যে ব্যক্তি রাত্রের শেষ প্রহরে (শয্যা ত্যাগ করে) আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে দু'আ করে (তখন ঐ বান্দার দু'আ অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে) -(মুসনাদে ইব্‌ন মান্দা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثَلاثَةُ مَوَاطِنَ لا تُرَدُّ فِيهَا دَعْوَةٌ: رَجُلٌ يَكُونُ فِي بَرِيَّةٍ حَيْثُ لا يَرَاهُ أَحَدٌ، فَيَقُومُ، وَيُصَلِّي، وَرَجُلٌ تَكُونُ مَعَهُ فِئَةٌ، فَيَفِرُّ عَنْهُ أَصْحَابُهُ فَيَثْبُتُ، وَرَجُلٌ يَقُومُ مِنَ آخِرِ اللَّيْلِ. (رواه ابن منذة فى مسنده)
tahqiq

তাহকীক: