মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩২২ টি
হাদীস নং: ১৪১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিদ্রিত অবস্থায় ভয় পেলে পাঠের দু'আ
১৪১. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি নিদ্রিত অবস্থায় (কোন দুঃস্বপ্ন দেখে) ভয় পেয়ে যায়, তখন সে এরূপ দু'আ করবে:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعَذَابِهِ وَمَنْ شَرٌّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونَ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে তার ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের প্ররোচনা ও প্রভাব থেকে এবং তাদের আমার নিকট আগমন (ও উৎপাত) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: তাহলে শয়তান তার কোনই অনিষ্ট করতে পারবে না।
(হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবনে 'আস থেকে তাঁর পুত্র এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, আমার পিতা) আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন 'আস তাঁর বালেগ সন্তানদেরকে এ দু'আটি শিক্ষা দিতেন, যাতে করে তারা এর উপর নিয়মিত আমল করে আর তাদের মধ্যকার না-বালেগদের জন্যে একটি কাগজে তা লিখে (তাবিয আকারে) তাদের গলায় ঝুলিয়ে রাখতেন। (সুনানে আবূ দাউদ ও জামে' তিরমিযী)
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعَذَابِهِ وَمَنْ شَرٌّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونَ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে তার ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের প্ররোচনা ও প্রভাব থেকে এবং তাদের আমার নিকট আগমন (ও উৎপাত) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: তাহলে শয়তান তার কোনই অনিষ্ট করতে পারবে না।
(হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবনে 'আস থেকে তাঁর পুত্র এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, আমার পিতা) আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন 'আস তাঁর বালেগ সন্তানদেরকে এ দু'আটি শিক্ষা দিতেন, যাতে করে তারা এর উপর নিয়মিত আমল করে আর তাদের মধ্যকার না-বালেগদের জন্যে একটি কাগজে তা লিখে (তাবিয আকারে) তাদের গলায় ঝুলিয়ে রাখতেন। (সুনানে আবূ দাউদ ও জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ العَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ فِي النَّوْمِ فَلْيَقُلْ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعَذَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ. فَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو، يُلَقِّنُهَا مَنْ بَلَغَ مِنْ وَلَدِهِ، وَمَنْ لَمْ يَبْلُغْ مِنْهُمْ كَتَبَهَا فِي صَكٍّ ثُمَّ عَلَّقَهَا فِي عُنُقِهِ. (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিদ্রা থেকে গাত্রোত্থান কালীন দু'আ
১৪২. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন রাতের বেলা ঘুম থেকে জাগতেন, তখন আল্লাহর দরবারে এভাবে আরয করতেন:
لَا اِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ اَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي وَاَسْئَلُكَ رَحْمَتَكَ اَللّٰهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا وَلَا تُزِغْ قَلْبِيْ بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي وَهَبْ لِي مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র উপাস্য, তুমি বিনে কোন উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র প্রতিটি স্তব-স্তুতির যোগ্য তুমিই, হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহের জন্যে আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার রহমত। হে আল্লাহ! আমার ইলম ও মা'রিফত বৃদ্ধি কর এবং আমার অন্তরের এমনি হিফাযত কর, যেন হিদায়াত প্রাপ্তির পর তা বিভ্রান্তিতে নিপতিত না হয় এবং তোমার রহমত দানে আমাকে ধন্য কর, কেননা তুমিই মহা বদান্যশীল। -(সুনানে আবূ দাউদ)
لَا اِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ اَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي وَاَسْئَلُكَ رَحْمَتَكَ اَللّٰهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا وَلَا تُزِغْ قَلْبِيْ بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي وَهَبْ لِي مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র উপাস্য, তুমি বিনে কোন উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র প্রতিটি স্তব-স্তুতির যোগ্য তুমিই, হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহের জন্যে আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার রহমত। হে আল্লাহ! আমার ইলম ও মা'রিফত বৃদ্ধি কর এবং আমার অন্তরের এমনি হিফাযত কর, যেন হিদায়াত প্রাপ্তির পর তা বিভ্রান্তিতে নিপতিত না হয় এবং তোমার রহমত দানে আমাকে ধন্য কর, কেননা তুমিই মহা বদান্যশীল। -(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، سُبْحَانَكَ، اللَّهُمَّ أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي، وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ، اللَّهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিদ্রা থেকে গাত্রোত্থান কালীন দু'আ
১৪৩. হযরত উবাদা ইব্ন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যখন রাত্রে কোন ব্যক্তির নিদ্রা ভঙ্গ হয় এবং সে তখন বলেঃ
لَا اِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সকল স্তব-স্তুতিও তাঁরই। প্রত্যেক বস্তুর উপরই তিনি পূর্ণ শক্তিমান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্। আল্লাহ পবিত্র। কোন উপাস্য নেই একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। পুণ্য কাজ করার বা পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই হাতে। তারপর বলবে:
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي
"হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর!" অথবা কোন দু'আ করবে, তার দু'আ কবুল হবে। তারপর সে যদি (সাহস করে উঠে যায় এবং) ওযু করে (এবং সালাত আদায় করে) তাহলে তার সালাতও কবুল করা হবে।
-(সহীহ্ বুখারী)
لَا اِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সকল স্তব-স্তুতিও তাঁরই। প্রত্যেক বস্তুর উপরই তিনি পূর্ণ শক্তিমান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্। আল্লাহ পবিত্র। কোন উপাস্য নেই একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। পুণ্য কাজ করার বা পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই হাতে। তারপর বলবে:
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي
"হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর!" অথবা কোন দু'আ করবে, তার দু'আ কবুল হবে। তারপর সে যদি (সাহস করে উঠে যায় এবং) ওযু করে (এবং সালাত আদায় করে) তাহলে তার সালাতও কবুল করা হবে।
-(সহীহ্ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ، فَقَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، الحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، أَوْ دَعَا ، اسْتُجِيبَ لَهُ ، فَإِنْ تَوَضَّأَ قُبِلَتْ صَلاَتُهُ" (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিঞ্জাকালীন দু'আসমূহ
শয়ন এবং খানা-পিনার মতই প্রশ্রাব-পায়খানাও মানব-জীবনের একটি অপরিহার্য দিক। নিঃসন্দেহে সেই বিশেষ সময়টাতে (যখন মানুষ মলমূত্র ত্যাগে লিপ্ত থাকে) আল্লাহর নাম নেওয়া এবং তাঁর সমীপে দু'আ করাটাও শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এজন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ হিদায়াত দিয়েছেন যে, মলমূত্র ত্যাগে লিপ্ত হওয়ার প্রাক্কালেই যেন মানুষ আল্লাহর কাছে দু'আ করে এবং তারপর তা থেকে ফারেগ হওয়ার পর এরূপ দু'আ করে।
শয়ন এবং খানা-পিনার মতই প্রশ্রাব-পায়খানাও মানব-জীবনের একটি অপরিহার্য দিক। নিঃসন্দেহে সেই বিশেষ সময়টাতে (যখন মানুষ মলমূত্র ত্যাগে লিপ্ত থাকে) আল্লাহর নাম নেওয়া এবং তাঁর সমীপে দু'আ করাটাও শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এজন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ হিদায়াত দিয়েছেন যে, মলমূত্র ত্যাগে লিপ্ত হওয়ার প্রাক্কালেই যেন মানুষ আল্লাহর কাছে দু'আ করে এবং তারপর তা থেকে ফারেগ হওয়ার পর এরূপ দু'আ করে।
১৪৪. হযরত যায়দ ইব্ন আরকম (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: এ সমস্ত মলমূত্র ত্যাগের স্থানসমূহ হচ্ছে শয়তান ও ক্ষতিকর জীবদের আড্ডাখানা। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন মলমূত্রত্যাগের উদ্দেশ্যে বাইরে যাবে তখন আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে এভাবে আরয করবে:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
"হে আল্লাহ, খবীছ ও খবীছনী নোংরাদের থেকে তোমার দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(আবূ দাউদ ও ইন্ন মাজা)
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
"হে আল্লাহ, খবীছ ও খবীছনী নোংরাদের থেকে তোমার দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(আবূ দাউদ ও ইন্ন মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ، فَإِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ، فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ " (رواه ابوداؤد وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিঞ্জাকালীন দু'আসমূহ
১৪৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে যখন পায়খানা থেকে বের হয়ে আসতেন, তখন বলতেন:
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذٰى وَعَافَانِي
সেই আল্লাহর সব প্রশংসা, যিনি আমার দেহ থেকে ময়লা ও কষ্টকর বস্তু বের করে দিয়ে আমাকে স্বস্তি দান করলেন। - (সুনানে ইবনে মাজা)
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذٰى وَعَافَانِي
সেই আল্লাহর সব প্রশংসা, যিনি আমার দেহ থেকে ময়লা ও কষ্টকর বস্তু বের করে দিয়ে আমাকে স্বস্তি দান করলেন। - (সুনানে ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي» (رواه ابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঘর থেকে বেরোবার এবং ঘরে ফেরার সময় পড়বার দু'আসমূহ
মানুষের জন্যে সকাল-সন্ধ্যার আবর্তন ও শয়ন-জাগরণের মতো ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং আবার ঘরে ফিরে আসাও তার দৈনন্দিন জীবনের একটা অপরিহার্য অঙ্গ। বান্দা তার প্রতি পদে পদেই আল্লাহর রহম ও করম এবং তাঁর হিফাযতের মুখাপেক্ষী, এ জন্যে যখনই সে ঘর থেকে বাইরে পদার্পণ করবে অথবা বাইরে থেকে ঘরে ফিরবে তখনই বরকত ও সাহায্য প্রার্থনা করে আল্লাহর দরবারে তার দু'আ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ ক্ষেত্রে যে সব দু'আ-কালাম শিক্ষা দিয়েছেন, তা নিম্ন লিখিত হাদীসসমূহে পাঠ করুন।
মানুষের জন্যে সকাল-সন্ধ্যার আবর্তন ও শয়ন-জাগরণের মতো ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং আবার ঘরে ফিরে আসাও তার দৈনন্দিন জীবনের একটা অপরিহার্য অঙ্গ। বান্দা তার প্রতি পদে পদেই আল্লাহর রহম ও করম এবং তাঁর হিফাযতের মুখাপেক্ষী, এ জন্যে যখনই সে ঘর থেকে বাইরে পদার্পণ করবে অথবা বাইরে থেকে ঘরে ফিরবে তখনই বরকত ও সাহায্য প্রার্থনা করে আল্লাহর দরবারে তার দু'আ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ ক্ষেত্রে যে সব দু'আ-কালাম শিক্ষা দিয়েছেন, তা নিম্ন লিখিত হাদীসসমূহে পাঠ করুন।
১৪৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে:
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
অর্থাৎ "আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আল্লাহরই উপর আমার ভরসা, কোন মঙ্গল লাভ বা অমঙ্গল থেকে রক্ষা পাওয়ার সফলতা অর্জন একমাত্র তাঁরই হুকুমে সম্ভব।"
তখন অদৃশ্য জগত থেকে তার উদ্দেশ্যে বলা হয় (অর্থাৎ ফিরেশতাগণ তার উদ্দেশ্যে বলেন) হে আল্লাহর বান্দা, তোমার এ দু'আটি তোমার জন্যে যথেষ্ট, তুমি পূর্ণ দিকদর্শন লাভ করেছো এবং তোমার হিদায়াতের ফয়সালা হয়ে গেছে।” আর শয়তান নিরাশ হয়ে তার নিকট থেকে দূরে সরে যায়। -(আবু দাউদ ও তিরমিযী)
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
অর্থাৎ "আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আল্লাহরই উপর আমার ভরসা, কোন মঙ্গল লাভ বা অমঙ্গল থেকে রক্ষা পাওয়ার সফলতা অর্জন একমাত্র তাঁরই হুকুমে সম্ভব।"
তখন অদৃশ্য জগত থেকে তার উদ্দেশ্যে বলা হয় (অর্থাৎ ফিরেশতাগণ তার উদ্দেশ্যে বলেন) হে আল্লাহর বান্দা, তোমার এ দু'আটি তোমার জন্যে যথেষ্ট, তুমি পূর্ণ দিকদর্শন লাভ করেছো এবং তোমার হিদায়াতের ফয়সালা হয়ে গেছে।” আর শয়তান নিরাশ হয়ে তার নিকট থেকে দূরে সরে যায়। -(আবু দাউদ ও তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، قَالَ: يُقَالُ حِينَئِذٍ: هُدِيتَ، وَكُفِيتَ، وَوُقِيتَ، فَتَتَنَحَّى لَهُ الشَّيَاطِينُ. (رواه ابوداؤد والترمذى واللفظ له)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঘর থেকে বেরোবার এবং ঘরে ফেরার সময় পড়বার দু'আসমূহ
১৪৭. হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ যখন ঘর থেকে বের হতেন, তখন বলতেন:
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَعُوذُبِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نَضِلَّ أَوْ نَظْلِمَ أَوْ يُظْلَمَ عَلَيْنَا أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا
আল্লাহর নাম নিয়ে আমি বের হচ্ছি, আল্লাহরই উপর আমার ভরসা। হে আল্লাহ্! আমরা তোমারই আশ্রয় প্রার্থনা করছি পদস্খলন থেকে অথবা বিভ্রান্তি থেকে (নিজেও যেন বিভ্রান্ত না হই আর অন্যের বিভ্রান্তির কারণও যেন না হই) কারো প্রতি যুলুম করা থেকে অথবা নিজেরা মযলুম হওয়া থেকে, আমরা যেন কারো প্রতি গোঁয়ার্তুমী না করি অথবা অন্য কেউ যেন আমাদের প্রতি গোয়ার্তুমী করতে না পারে।
-(মুসনাদে আহমদ, জামে' তিরমিযী, সুনানে নাসায়ী)
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَعُوذُبِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نَضِلَّ أَوْ نَظْلِمَ أَوْ يُظْلَمَ عَلَيْنَا أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا
আল্লাহর নাম নিয়ে আমি বের হচ্ছি, আল্লাহরই উপর আমার ভরসা। হে আল্লাহ্! আমরা তোমারই আশ্রয় প্রার্থনা করছি পদস্খলন থেকে অথবা বিভ্রান্তি থেকে (নিজেও যেন বিভ্রান্ত না হই আর অন্যের বিভ্রান্তির কারণও যেন না হই) কারো প্রতি যুলুম করা থেকে অথবা নিজেরা মযলুম হওয়া থেকে, আমরা যেন কারো প্রতি গোঁয়ার্তুমী না করি অথবা অন্য কেউ যেন আমাদের প্রতি গোয়ার্তুমী করতে না পারে।
-(মুসনাদে আহমদ, জামে' তিরমিযী, সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ، قَالَ: " بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نَضِلَّ، أَوْ نَظْلِمَ (2) أَوْ نُظْلَمَ، أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا " (رواه احمد والترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঘর থেকে বেরোবার এবং ঘরে ফেরার সময় পড়বার দু'আসমূহ
১৪৮. হযরত আবূ মালিক আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি নিজ ঘরে প্রবেশ করে তখন সে আল্লাহর দরবারে এরূপ আরয করবেঃ
اَللّٰهُمَّ أَسْئَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
"হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ঘরে প্রবেশের এবং ঘর থেকে বের হওয়ার মঙ্গল। (অর্থাৎ আমার ঘরে প্রবেশ ও ঘর থেকে বের হওয়া যেন মঙ্গলজনক হয়।) আমরা আল্লাহর নাম নিয়েই প্রবেশ করি আল্লাহর নাম নিয়েই বের হই এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপরই আমাদের সকল ভরসা।"
তারপর প্রবেশকারী ঘরের লোকজনকে সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করবে। (অর্থাৎ আসসালামু আলাইকুম বলেই ঘরে প্রবেশ করবে।)
(সুনানে আবূ দাউদ)
اَللّٰهُمَّ أَسْئَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
"হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ঘরে প্রবেশের এবং ঘর থেকে বের হওয়ার মঙ্গল। (অর্থাৎ আমার ঘরে প্রবেশ ও ঘর থেকে বের হওয়া যেন মঙ্গলজনক হয়।) আমরা আল্লাহর নাম নিয়েই প্রবেশ করি আল্লাহর নাম নিয়েই বের হই এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপরই আমাদের সকল ভরসা।"
তারপর প্রবেশকারী ঘরের লোকজনকে সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করবে। (অর্থাৎ আসসালামু আলাইকুম বলেই ঘরে প্রবেশ করবে।)
(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا وَلَجَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلَجِ، وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا، ثُمَّ لِيُسَلِّمْ عَلَى أَهْلِهِ " (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়ের দু'আ
মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর ও তাঁর দরবার স্বরূপ। আগমনকারী সেখানে এ উদ্দেশ্যেই এসে থাকে যে, আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও রহমত হাসিল করবে। এ জন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ উদাসীনভাবে গাফলতির সাথে মসজিদে প্রবেশ করতে এবং তা থেকে বের হতে বারণ করেছেন। বরং মসজিদে প্রবেশকালে এবং বের হওয়ার সময় তাঁর মুখে যথোপযুক্ত দু'আ থাকবে। আল্লাহর দরবারে হাযিরীর এটাই হচ্ছে জরুরী আদব।
মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর ও তাঁর দরবার স্বরূপ। আগমনকারী সেখানে এ উদ্দেশ্যেই এসে থাকে যে, আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও রহমত হাসিল করবে। এ জন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ উদাসীনভাবে গাফলতির সাথে মসজিদে প্রবেশ করতে এবং তা থেকে বের হতে বারণ করেছেন। বরং মসজিদে প্রবেশকালে এবং বের হওয়ার সময় তাঁর মুখে যথোপযুক্ত দু'আ থাকবে। আল্লাহর দরবারে হাযিরীর এটাই হচ্ছে জরুরী আদব।
১৪৯. হযরত আবু উসায়দ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যখন তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করবে : اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
"হে আল্লাহ! আমার জন্যে তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।" এবং যখন সে মসজিদ থেকে বের হবে তখন এরূপ দু'আ করবে: اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে করুণা প্রার্থনা করছি।" (সহীহ্ মুসলিম)
"হে আল্লাহ! আমার জন্যে তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।" এবং যখন সে মসজিদ থেকে বের হবে তখন এরূপ দু'আ করবে: اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে করুণা প্রার্থনা করছি।" (সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ، فَلْيَقُلْ: اللهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ، وَإِذَا خَرَجَ، فَلْيَقُلْ: اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ ". (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মজলিস থেকে উঠাকালীন দু'আ
মানুষ যখন কোন মজলিসে বসে তখন অনেক সময় সে মজলিসে এমন কিছু কথাবার্তা হয়েই যায়, যা একজন মু'মিনের জন্যে শোভনীয় নয় এবং যার জন্যে তাকে পরকালে জবাবদিহী করতে হতে পারে। এজন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হিদায়াত হলো, যখন কেউ মজলিস থেকে উঠবে, তখন সে যেন আল্লাহর হামদ, তসবীহ, তওহীদের সাক্ষ্য ও তওবা-ইস্তিগফার সম্বলিত দু'আ পাঠ করে, যা তার মজলিসের কাফফারা স্বরূপ হবে।
মানুষ যখন কোন মজলিসে বসে তখন অনেক সময় সে মজলিসে এমন কিছু কথাবার্তা হয়েই যায়, যা একজন মু'মিনের জন্যে শোভনীয় নয় এবং যার জন্যে তাকে পরকালে জবাবদিহী করতে হতে পারে। এজন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হিদায়াত হলো, যখন কেউ মজলিস থেকে উঠবে, তখন সে যেন আল্লাহর হামদ, তসবীহ, তওহীদের সাক্ষ্য ও তওবা-ইস্তিগফার সম্বলিত দু'আ পাঠ করে, যা তার মজলিসের কাফফারা স্বরূপ হবে।
১৫০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি কোন মজলিসে বসে এবং তাতে অনেক আপত্তিকর ও অনর্থক বাক্যালাপ করে বসে, কিন্তু ঐ মজলিস থেকে উঠার পূর্বে সে যদি বলেঃ
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.
"হে আল্লাহ! তোমার স্তব-স্তুতির সাথে সাথে আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দরবারে তওবা করছি।" তা হলে আল্লাহ তা'আলা ঐ মজলিসে কৃত তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।
-(জামে' তিরমিযী)
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.
"হে আল্লাহ! তোমার স্তব-স্তুতির সাথে সাথে আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দরবারে তওবা করছি।" তা হলে আল্লাহ তা'আলা ঐ মজলিসে কৃত তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।
-(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا كَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ، فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَالِكَ "سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اَشْهَدُ اَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ" إِلَّا غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا كَانَ فِىْ مَجْلِسِهِ ذَالِكَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মজলিস থেকে উঠাকালীন দু'আ
১৫১. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবনুল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এমন কয়েকটি কালিমা আছে, কোন বান্দা যদি মজলিস থেকে প্রস্থানকালে ঐগুলি ইখলাসের সাথে তিনবার পাঠ করে নেয়, তাহলে সেগুলি তার ঐ মজলিসের কাফফারা স্বরূপ হয়ে যায়। আর ঐ কালিমাগুলি যদি কোন উত্তম মজলিস বা যিকিরের মজলিসের শেষে পাঠ করা হয়, তা হলে ঐগুলির দ্বারা ঐ মজলিসের আমলনামায় মোহর অঙ্কিত করে দেয়া হয়- যেমনটি মোহরাঙ্কিত করা হয় গুরুত্বপূর্ণ দলীল-দস্তাবেজের উপর। সে কালিমাগুলো হচ্ছেঃ
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا اِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.
"হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা ও তোমার স্তব-স্তুতি বর্ণনা করছি, তুমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তোমারই দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমারই সমীপে তাওবা করছি।"
-(আবূ দাউদ)
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا اِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.
"হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা ও তোমার স্তব-স্তুতি বর্ণনা করছি, তুমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তোমারই দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমারই সমীপে তাওবা করছি।"
-(আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " كَلِمَاتٌ لَا يَتَكَلَّمُ بِهِنَّ أَحَدٌ فِي مَجْلِسِهِ عِنْدَ قِيَامِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ إِلَّا كُفِّرَ بِهِنَّ عَنْهُ، وَلَا يَقُولُهُنَّ فِي مَجْلِسِ خَيْرٍ وَمَجْلِسِ ذِكْرٍ إِلَّا خُتِمَ لَهُ بِهِنَّ عَلَيْهِ كَمَا يُخْتَمُ بِالْخَاتَمِ عَلَى الصَّحِيفَةِ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ " (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মজলিস থেকে উঠাকালীন দু'আ
১৫২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন খুব কম সময়ই আছে যে, নবী করীম ﷺ কোন মজলিস থেকে উঠার সময় তাঁর নিজের সাথে সাথে নিজের সাহাবীগণের জন্যেও এরূপ দু'আ না করেছেনঃ
اَللّٰهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُوْلُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعْصِيَتِكَ وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مُصِيبَاتِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَاجْعَلِ الْوَارِثَ مِنَّا وَاجْعَلَ ثَأْرَنَا عَلَى مِنْ ظَلَمْنَا وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلَا مَبْلَغَ عِلْمِنَا وَلَا تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَرْحَمُنَا
হে আল্লাহ! আমাদের মনে তোমার এমন ভয় দান কর, যা আমাদের এবং তোমার না-ফরমানীর মধ্যে অন্তরায় হতে পারে। (অর্থাৎ তোমার সে ভয় যেন আমাদেরকে তোমার অবাধ্যতার দিকে পা বাড়াতে কার্যকরীভাবে বাধার সৃষ্টি করে) এবং তোমার ততটুকু আনুগত্য আমাকে দান কর- যা আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবে অর্থাৎ যা হবে আমার জান্নাতে প্রবেশের ওসীলাস্বরূপ) এবং ততটুকু ঈমান-য়াকীন আমাকে দান কর, যা পার্থিব বিপদাপদকে আমার পক্ষে লঘুতর করে দেবে। আর যতদিন পর্যন্ত আমাকে জীবিত রাখবে, ততদিন পর্যন্ত চোখ-কান ও অন্যান্য শক্তি দ্বারা আমাকে উপকৃত হতে দেবে। (অর্থাৎ তোমার এসব নিয়ামত থেকে যেন মৃত্যুর পূর্বে আমি বঞ্চিত না হই) এবং মৃত্যুর পরও যেন এগুলোর দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারি। (অর্থাৎ এগুলোর দ্বারা আমি যেন এমন সব কাজ করে যেতে পারি, যা মৃত্যুর পরেও আমার কাজে আসবে)। হে মাওলা ও মালিক! যারা আমাদের (অর্থাৎ ঈমানদারদের) প্রতি যুলুম করে, তুমি তাদের উপর আমাদের প্রতিশোধ নেবে। যারা আমাদের প্রতি শত্রুতা করে, তুমি তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য ও জয়যুক্ত করবে। আমাদের দীনের উপর যেন কোন বিপদ না আসে। (অর্থাৎ দ্বীনী সঙ্কট ও ফিৎনা থেকে আমাদের হিফাযত করবে)। আর হে আল্লাহ! দুনিয়াই যেন আমাদের সবচাইতে বড় দুর্ভাবনার কারণ ও বিদ্যা-বুদ্ধির চরম লক্ষ্যবস্তু হয়ে না দাঁড়ায়, আর এমন শাসক আমাদের উপর চাপিয়ে দিওনা, যারা আমাদের প্রতি নির্দয় বে-রহম হয়। (জামে' তিরমিযী)
اَللّٰهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُوْلُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعْصِيَتِكَ وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مُصِيبَاتِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَاجْعَلِ الْوَارِثَ مِنَّا وَاجْعَلَ ثَأْرَنَا عَلَى مِنْ ظَلَمْنَا وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلَا مَبْلَغَ عِلْمِنَا وَلَا تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَرْحَمُنَا
হে আল্লাহ! আমাদের মনে তোমার এমন ভয় দান কর, যা আমাদের এবং তোমার না-ফরমানীর মধ্যে অন্তরায় হতে পারে। (অর্থাৎ তোমার সে ভয় যেন আমাদেরকে তোমার অবাধ্যতার দিকে পা বাড়াতে কার্যকরীভাবে বাধার সৃষ্টি করে) এবং তোমার ততটুকু আনুগত্য আমাকে দান কর- যা আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবে অর্থাৎ যা হবে আমার জান্নাতে প্রবেশের ওসীলাস্বরূপ) এবং ততটুকু ঈমান-য়াকীন আমাকে দান কর, যা পার্থিব বিপদাপদকে আমার পক্ষে লঘুতর করে দেবে। আর যতদিন পর্যন্ত আমাকে জীবিত রাখবে, ততদিন পর্যন্ত চোখ-কান ও অন্যান্য শক্তি দ্বারা আমাকে উপকৃত হতে দেবে। (অর্থাৎ তোমার এসব নিয়ামত থেকে যেন মৃত্যুর পূর্বে আমি বঞ্চিত না হই) এবং মৃত্যুর পরও যেন এগুলোর দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারি। (অর্থাৎ এগুলোর দ্বারা আমি যেন এমন সব কাজ করে যেতে পারি, যা মৃত্যুর পরেও আমার কাজে আসবে)। হে মাওলা ও মালিক! যারা আমাদের (অর্থাৎ ঈমানদারদের) প্রতি যুলুম করে, তুমি তাদের উপর আমাদের প্রতিশোধ নেবে। যারা আমাদের প্রতি শত্রুতা করে, তুমি তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য ও জয়যুক্ত করবে। আমাদের দীনের উপর যেন কোন বিপদ না আসে। (অর্থাৎ দ্বীনী সঙ্কট ও ফিৎনা থেকে আমাদের হিফাযত করবে)। আর হে আল্লাহ! দুনিয়াই যেন আমাদের সবচাইতে বড় দুর্ভাবনার কারণ ও বিদ্যা-বুদ্ধির চরম লক্ষ্যবস্তু হয়ে না দাঁড়ায়, আর এমন শাসক আমাদের উপর চাপিয়ে দিওনা, যারা আমাদের প্রতি নির্দয় বে-রহম হয়। (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِاللهِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُومُ مِنْ مَجْلِسٍ حَتَّى يَدْعُوَ بِهَؤُلاَءِ الدَّعَوَاتِ لأَصْحَابِهِ: اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ، وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ، وَمِنَ اليَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مُصِيبَاتِ الدُّنْيَا، وَمَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا، وَاجْعَلْهُ الوَارِثَ مِنَّا، وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا، وَلاَ تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا، وَلاَ تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلاَ مَبْلَغَ عِلْمِنَا، وَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لاَ يَرْحَمُنَا. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বাজারে গমনকালীন দু'আ
মানুষ তার প্রয়োজনে ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্য বাজারে যায়, যেখানে তার লাভ-লোকসান দুটোরই সম্ভাবনা বা ঝুঁকি থাকে। বাজারে অন্য যে কোন স্থানের তুলনায় আল্লাহ থেকে বেশি গাফেলকারী উপকরণসমূহ থাকে। এজন্যেই একে شر البقاع বা সর্বনিকৃষ্ট স্থান বলে অভিহিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কোন প্রয়োজনে বাজারে যেতেন তখন আল্লাহর যিকির ও দু'আ পাঠ করতে ভুলতেন না।
মানুষ তার প্রয়োজনে ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্য বাজারে যায়, যেখানে তার লাভ-লোকসান দুটোরই সম্ভাবনা বা ঝুঁকি থাকে। বাজারে অন্য যে কোন স্থানের তুলনায় আল্লাহ থেকে বেশি গাফেলকারী উপকরণসমূহ থাকে। এজন্যেই একে شر البقاع বা সর্বনিকৃষ্ট স্থান বলে অভিহিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কোন প্রয়োজনে বাজারে যেতেন তখন আল্লাহর যিকির ও দু'আ পাঠ করতে ভুলতেন না।
১৫৩. হযরত বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) যখন বাজারে যেতেন, তখন তিনি নিয়মিত এ দু'আটি পাঠ করতেন:
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ السُّوْقِ وَخَيْرَ مَا فِيْهَا اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُصِيْبَ فِيهَا صَفْقَةً خَاسِرَةً
"আমি আল্লাহর নাম নিয়ে বাজারে প্রবেশ করছি। হে আল্লাহ! এ বাজারে এবং এর বস্তুসমূহের মধ্যে যা মঙ্গলজনক, তোমার দরবারে আমি তা প্রার্থনা করছি এবং হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন এর মধ্যে (এই বাজারে) আমি কোনো চুক্তিতে লোকসানে পতিত না হই।
(দাওয়াতে কবীর: বায়হাকী)
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ السُّوْقِ وَخَيْرَ مَا فِيْهَا اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُصِيْبَ فِيهَا صَفْقَةً خَاسِرَةً
"আমি আল্লাহর নাম নিয়ে বাজারে প্রবেশ করছি। হে আল্লাহ! এ বাজারে এবং এর বস্তুসমূহের মধ্যে যা মঙ্গলজনক, তোমার দরবারে আমি তা প্রার্থনা করছি এবং হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন এর মধ্যে (এই বাজারে) আমি কোনো চুক্তিতে লোকসানে পতিত না হই।
(দাওয়াতে কবীর: বায়হাকী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ السُّوقَ، قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ السُّوقِ وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُصِيبَ فِيهَا صَفْقَةً خَاسِرَةً. (رواه البيهقى فى الدعوات الكبير)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বাজারের পরিবেশে আল্লাহর যিকিরের অসামান্য ছাওয়াব
১৫৪. হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি বাজারে (কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে ইখলাসের সাথে) পাঠ করে:
لَا إلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيُّ لَا يَمُوْتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং স্তব-স্তুতি একমাত্র তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন, তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই এবং সমস্ত কল্যাণ তাঁরই হাতে এবং সর্ববিষয়ে শক্তিমান। আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্যে হাজার হাজার নেকী লিখিত হয়, আল্লাহ তার হাজার হাজার গুনাহ মোচন করে দেন, তার হাজার হাজার দরজা বুলন্দ করে দেন এবং তার জন্যে বেহেশতে একখানা শানদার মহল নির্মাণ করে দেন।
-(তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
لَا إلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيُّ لَا يَمُوْتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং স্তব-স্তুতি একমাত্র তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন, তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই এবং সমস্ত কল্যাণ তাঁরই হাতে এবং সর্ববিষয়ে শক্তিমান। আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্যে হাজার হাজার নেকী লিখিত হয়, আল্লাহ তার হাজার হাজার গুনাহ মোচন করে দেন, তার হাজার হাজার দরজা বুলন্দ করে দেন এবং তার জন্যে বেহেশতে একখানা শানদার মহল নির্মাণ করে দেন।
-(তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ دَخَلَ السُّوقَ، فَقَالَ: لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ، بِيَدِهِ الخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ، وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ، وَرَفَعَ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ دَرَجَةٍ وبنى له بيتا في الجنة. (رواه الترمذى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিপন্ন ব্যক্তিকে দর্শনকালে পাঠের দু'আ
অনেক সময় আমাদের চোখে এমন সব লোকও পড়ে থাকে, যারা কোন বিপদ বা দুর্গতির শিকার, যাদের অবস্থা অত্যন্ত করুন। এমন দৃশ্য দর্শনকালে হুযুর ﷺ আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যেন আমরা তখন আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাদেরকে সে করুণ অবস্থার শিকার করেন নি। তিনি বলেন যে, এই স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়ার কল্যাণে এমন ব্যক্তি ঐ বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে।
অনেক সময় আমাদের চোখে এমন সব লোকও পড়ে থাকে, যারা কোন বিপদ বা দুর্গতির শিকার, যাদের অবস্থা অত্যন্ত করুন। এমন দৃশ্য দর্শনকালে হুযুর ﷺ আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যেন আমরা তখন আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাদেরকে সে করুণ অবস্থার শিকার করেন নি। তিনি বলেন যে, এই স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়ার কল্যাণে এমন ব্যক্তি ঐ বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে।
১৫৫. আমীরুল মু'মিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব এবং হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন দুঃখ-দুর্দশার শিকার লোককে দেখে বলবে:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهٖ وَفَضَّلَنِي عَلٰى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيْلاً
প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাকে মুক্ত রেখেছেন সেই দুর্দশা থেকে, যাতে তিনি তোমাকে লিপ্ত করেছেন এবং তাঁর অনেক সৃষ্ট জীবের উপর আমাকে মর্যাদা মণ্ডিত করেছেন। সে ব্যক্তি ঐ দুর্দশা বা বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে, চাই সে বিপদ যাই হোক না কেন।
(তিরমিযী)
(সুনানে ইবনে মাজা ঐ একই রিওয়ায়াতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর বরাতে হাদীস বর্ণনা করেছেন)।
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهٖ وَفَضَّلَنِي عَلٰى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيْلاً
প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাকে মুক্ত রেখেছেন সেই দুর্দশা থেকে, যাতে তিনি তোমাকে লিপ্ত করেছেন এবং তাঁর অনেক সৃষ্ট জীবের উপর আমাকে মর্যাদা মণ্ডিত করেছেন। সে ব্যক্তি ঐ দুর্দশা বা বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে, চাই সে বিপদ যাই হোক না কেন।
(তিরমিযী)
(সুনানে ইবনে মাজা ঐ একই রিওয়ায়াতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর বরাতে হাদীস বর্ণনা করেছেন)।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا مِنْ رَجُلٍ رَأَى مُبْتَلًى، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا، عُوفِيَ مِنْ ذَلِكَ الْبَلَاءِ، كَائِنًا مَا كَانَ " (رواه الترمذى وراه ابن ماجه عن ابن عمر)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারকালীন দু'আ
পানাহার হচ্ছে মানব জীবনের এক অপরিহার্য দিক। পানাহারের কোন বস্তু যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্যে জুটতো, তখন তিনি একে আল্লাহর দান বলে বিশ্বাস করে তাঁর স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়া আদায় করতেন এবং অন্যদেরেকেও এরূপ করতে বলতেন।
পানাহার হচ্ছে মানব জীবনের এক অপরিহার্য দিক। পানাহারের কোন বস্তু যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্যে জুটতো, তখন তিনি একে আল্লাহর দান বলে বিশ্বাস করে তাঁর স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়া আদায় করতেন এবং অন্যদেরেকেও এরূপ করতে বলতেন।
১৫৬. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (র) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কিছু খেতেন বা পান করতেন তখন তিনি বলতেন:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
সেই আল্লাহর প্রশংসা ও শুকর, যিনি আমাকে খেতে ও পান করতে দিলেন সর্বোপরি যিনি আমাকে তার মুসলিম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
-(সুনানে আবূ দাউদ ও জামে' তিরমিযী)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
সেই আল্লাহর প্রশংসা ও শুকর, যিনি আমাকে খেতে ও পান করতে দিলেন সর্বোপরি যিনি আমাকে তার মুসলিম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
-(সুনানে আবূ দাউদ ও জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَكَلَ أَوْ شَرِبَ قَالَ: الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ. (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারকালীন দু'আ
১৫৭. হযরত মু'আয ইব্ন আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন খাবার খেয়ে বলবে:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا الطَّعَامَ وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّى وَلَا قُوَّة
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্, যিনি আমাকে এ খাবার খাওয়ালেন এবং আমার নিজ শক্তি-সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও কেবল নিজ দয়ায় তা আমাকে জীবিকাস্বরূপ দিয়েছেন। সেই হামদ ও শুকরের বিনিময়ে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
(জামে' তিরমিযী)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا الطَّعَامَ وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّى وَلَا قُوَّة
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্, যিনি আমাকে এ খাবার খাওয়ালেন এবং আমার নিজ শক্তি-সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও কেবল নিজ দয়ায় তা আমাকে জীবিকাস্বরূপ দিয়েছেন। সেই হামদ ও শুকরের বিনিময়ে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَكَلَ طَعَامًا ثُمَّ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا الطَّعَامَ، وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ» (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো ঘরে আহারের পর মেজবানের জন্যে দু'আ
১৫৮. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। আবুল হায়ছাম ইব্ন তায়হান একদা খাবার তৈরি করে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবীগণকে দাওয়াত দিলেন। তাঁরা পানাহার সম্পন্ন করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: তোমাদের ভাইকে তার প্রতিদান দাও! তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার প্রতিদান কী হতে পারে? তখন জবাবে তিনি বললেন: যখন কারো ঘরে প্রবেশ করা হয়, তার আহার্য ও পানীয় গ্রহণ করা হয়, তারপর আপ্যায়িতরা তার জন্যে দু'আ করে, তখন এটাই বান্দাদের পক্ষ থেকে তার প্রতিদান হয়ে থাকে।
-(সুনানে আবু দাউদ)
-(সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: صَنَعَ أَبُو الْهَيْثَمِ بْنُ التَّيْهَانِ طَعَامًا فَدَعَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابَهُ فَلَمَّا فَرَغُوا قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَثِيبُوا أَخَاكُمْ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا إِثَابَتُهُ؟ قَالَ «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا دُخِلَ بَيْتُهُ فَأُكِلَ طَعَامُهُ، وَشُرِبَ شَرَابُهُ، فَدَعَوْا لَهُ فَذَلِكَ إِثَابَتُهُ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো ঘরে আহারের পর মেজবানের জন্যে দু'আ
১৫৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। একদা নবী করীম ﷺ হযরত সা'আদ ইবনে উবাদার ঘরে তশরীফ নিলেন। তিনি তাঁর সম্মুখে পাকানো রুটি ও যয়তুন তৈল এনে হাযির করলেন। তিনি তা খেয়ে তার জন্যে এভাবে দু'আ করলেন:
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ
আল্লাহর রোযাদার বান্দারা যেন তোমাদের এখানে ইফতার করেন, নেককারগণ যেন তোমাদের আহার্য গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর ফেরেশতাগণ যেন তোমাদের জন্যে দু'আ করেন।
-(সুনানে আবু দাউদ)
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ
আল্লাহর রোযাদার বান্দারা যেন তোমাদের এখানে ইফতার করেন, নেককারগণ যেন তোমাদের আহার্য গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর ফেরেশতাগণ যেন তোমাদের জন্যে দু'আ করেন।
-(সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ إِلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فَجَاءَهُ بِخُبْزٍ وَزَيْتٍ، فَأَكَلَ، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ، وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো ঘরে আহারের পর মেজবানের জন্যে দু'আ
১৬০. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন বুসর (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার পিতা বুসর আসলামীর ঘরে মেহমান হলেন। আমরা তাঁর সম্মুখে খাবার এবং 'ওতাবা' নামক একপ্রকার মালীদা পেশ করলাম। তারপর তাঁর সম্মুখে খেজুর পেশ করা হলো। তিনি তা খাচ্ছিলেন এবং মধ্যমা ও তর্জনী অঙ্গুলিদ্বয়ের মধ্যে রেখে তার বীচিগুলো ফেলছিলেন। তারপর তাঁর সম্মুখে পানীয় আনা হলো, তিনি তা পান করলেন। তারপর তিনি যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন আমার পিতা তাঁর বাহনের লাগাম ধরে আরয করলেন: আমাদের জন্যে দু'আ করুন! তখন তিনি এভাবে দু'আ করলেন:
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
হে আল্লাহ, তুমি তাদেরকে যে জীবিকা সামগ্রী দান করেছো তাতে বরকত দান কর তাদেরকে তোমার মাগফিরাত ও রহমত দানে ধন্য কর! -(সহীহ্ মুসলিম)
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
হে আল্লাহ, তুমি তাদেরকে যে জীবিকা সামগ্রী দান করেছো তাতে বরকত দান কর তাদেরকে তোমার মাগফিরাত ও রহমত দানে ধন্য কর! -(সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ: نَزَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي، قَالَ: فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا وَوَطْبَةً، فَأَكَلَ مِنْهَا، ثُمَّ أُتِيَ بِتَمْرٍ فَكَانَ يَأْكُلُهُ وَيُلْقِي النَّوَى بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ، وَيَجْمَعُ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى ثُمَّ أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَهُ، فَقَالَ أَبِي: وَأَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ، ادْعُ اللهَ لَنَا، فَقَالَ: «اللهُمَّ، بَارِكْ لَهُمْ فِي مَا رَزَقْتَهُمْ، وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ» (رواه مسلم)
তাহকীক: