মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩২২ টি

হাদীস নং: ১২১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন অবস্থায় পাঠের দু'আসমূহ

এ যাবৎ যে সমস্ত দু'আর উল্লেখ করা হলো, সেগুলো ছিল সালাতের মধ্যকার অথবা সালাত অন্তে পাঠ করার দু'আ। আর সালাত যেহেতু তার স্পীরিট ও প্রকৃতির দিক থেকে নিজেই দু'আ এবং মুনাজাত; বরং তার পূর্ণতর রূপ আর তার প্রতিপাদ্যই হচ্ছে আল্লাহর দরবারে বান্দার দীনতা-হীনতা প্রকাশ, আত্মনিবেদন এবং দু'আ ও মুনাজাত, তাই তাতে এরূপ দু'আ পূর্ণ মা'রিফাত ও পূর্ণ আবদিয়তের আলামত হওয়া সত্ত্বেও এতে বৈচিত্র্য বা বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু যেসব দু'আ রাসূলুল্লাহ ﷺ অন্যান্য সময়ে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে করেছেন, বিশেষত খানা-পিনা, শয়ন-জাগরণ ও অন্যান্য মানবীয় ও জৈবিক প্রয়োজনাদি পূরণকালে যে সব দু'আর শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলোর মাধ্যমে এসব একান্তই দুনিয়াবী বলে পরিচিত আমলগুলোও আগাগোড়া রূহানী ও নূরানী আমল এবং আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য হাসিলের ওসীলা বনে যায়। এগুলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর তালীম ও হিদায়াতের একান্তই খাস মু'জিযা বা অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য স্বরূপ। এবার আমরা সে জাতীয় দু'আর সিলসিলা শুরু করছি।

সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ

প্রতিটি মানুষের জন্যে রাতের পর প্রভাত এসে দিনের সূচনা করে, আবার সন্ধ্যা এসে সে দিনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। এ সকাল ও সন্ধ্যায় যেন জীবনের এক একটি মঞ্জিল অতিক্রম করে বান্দা পরবর্তী মঞ্জিলের দিকে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণী ও বাস্তব জীবনের নমুনার দ্বারা এ উম্মতকে আল্লাহ তা'আলার সাথে প্রতিটি সকাল-সন্ধ্যায় তার সম্পর্কের নবায়নের ও দৃঢ়ীকরণের এবং তাঁর নিয়ামতসমূহের শোকরিয়া আদায় করে এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি ও খাতা-কসূরের স্বীকারোক্তি করে তাঁর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে পরম বদান্যশীল মনিবের দরবারে ভিখারী সেজে সময়োপযোগী দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন।
১২১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। একদা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! সকাল-সন্ধ্যায় পাঠের জন্যে আমাকে (যিকির ও দু'আর) কয়েকটি কালিমা শিক্ষা দিন! জবাবে হুযুর ﷺ বললেন: তুমি বলবে:

اَللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرٌّ الشَّيْطَانِ وَشَرْكِهٖ.

"হে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, গায়েব ও হাযির সবকিছুর সম্যক জ্ঞানের অধিকারী প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার শরণ প্রার্থনা করছি নিজ নফসের অনিষ্টকারিতা থেকে এবং শয়তান ও তার শিরক থেকে (অর্থাৎ সে আমাকে যেন শিরকের গুনাহতে লিপ্ত করতে না পারে।) হুযুর ﷺ বললেনঃ হে আবু বকর! তুমি সকালে, সন্ধ্যায় এবং শয্যাগ্রহণকালে এরূপ দু'আ করবে! (সুনানে আবু দাউদ, জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِكَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ إِذَا أَصْبَحْتُ، وَإِذَا أَمْسَيْتُ، قَالَ: " قُلْ: اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ «قَالَ» قُلْهَا إِذَا أَصْبَحْتَ، وَإِذَا أَمْسَيْتَ، وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ " (رواه ابوداؤد والترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবীগণকে এরূপ শিক্ষা দিতেন যে, যখন রাত্রি শেষে প্রত্যূষ হবে তখন আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করবে:

اَللّٰهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوْتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ.

“হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হয় তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমারই ফয়সালা মতে আমাদের জীবন ধারণ, তোমারই হুকুমে নির্ধারিত সময়ে আমাদের মৃত্যুবরণ, তারপর তোমারই সমীপে আমাদের প্রত্যাবর্তন।" অনুরূপভাবে যখন সন্ধ্যা হবে, তখন বলবে:

اَللّٰهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوْتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ.

"হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা আসে, তোমারই আদেশে আমাদের ভোরের আগমন, তোমারই ফয়সালা মতে আমাদের জীবন ধারণ, আবার তোমারই ফয়সালা মতে আমাদের মৃত্যুবরণ করতে হবে; তারপর মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হয়ে তোমারই সমীপে আমরা উপস্থিত হবো।"
(জামে' তিরমিযী ও সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُ أَصْحَابَهُ يَقُولُ: إِذَا أَصْبَحَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ، وَإِذَا أَمْسَى فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ. (رواه ابوداؤد والترمذى واللفظ له)
হাদীস নং: ১২৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। যখন সন্ধ্যা হতো, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন:

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا.

"এ সন্ধ্যা এমন অবস্থায় হচ্ছে যে, আমরা এবং বিশ্বভুবনের সবকিছু আল্লাহরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র সেই আল্লাহরই, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনি প্রত্যেকটি বস্তুর উপর শক্তিমান।

হে আল্লাহ! এ আসন্ন রাত এবং এর মধ্যে নিহিত সকল মঙ্গল আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং এর যাবতীয় অনিষ্ট এবং এর মধ্যে নিহিত যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আমি তোমার দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আলস্য থেকে (যা মঙ্গল থেকে বঞ্চনার কারণ হয়ে থাকে) জরা থেকে, অতি বার্ধক্য থেকে, দুনিয়ার ফিৎনা ও কবরের আযাব থেকে। আবার যখন সকাল হতো তখন তিনি অনুরূপ বলতেন।
-(মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا أَمْسَى قَالَ: «أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَخَيْرِ مَا فِيهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ، وَسُوءِ الْكِبَرِ، وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ»وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ ذَلِكَ أَيْضًا: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ الخ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১২৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো সকাল-সন্ধ্যায় দু'আর এ কালিমাগুলো পড়া বাদ দিতেন না। সে কালিমাগুলো হচ্ছে:

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِيُّ اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِيْ وَعَنْ يَمِينِيْ وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِعَظْمَتِكَ أَنْ اُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي. (رواه ابو داود)

"হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষমা, নিরাপত্তা ও নিরাময়তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার ইহলোকের, আমার পরলোকের, আমার পরিবার-পরিজনের এবং আমার সম্পদের ব্যাপারে ক্ষমা, নিরাময়তা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার লজ্জাকর ব্যাপারগুলো তুমি গোপন রাখ এবং আমার পেরেশানীসমূহ দূর করে শান্তি ও নিরাপত্তা দান কর! হে আল্লাহ! আমাকে হিফাযত কর আমার সম্মুখ দিক থেকে, আমার পিছন দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে আমার উপর দিক থেকে এবং তোমার দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমার নীচ দিক থেকে কোন আপদ আমাকে গ্রাস না করে তা থেকে তুমি আমাকে হিফাযত কর!
(আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ ابْنَ عُمَرَ قَالَ: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَعُ هَؤُلَاءِ الدَّعَوَاتِ، حِينَ يُمْسِي، وَحِينَ يُصْبِحُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১২৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৫. হযরত ছাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এমন কোন মুসলিম বান্দা নেই, যে সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়বে:

رَضِيْتُ بِاللَّهِ رَبَّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

(অর্থাৎ আল্লাহকে আমার প্রভুরূপে পেয়ে, ইসলামকে আমার দীনরূপে পেয়ে আর মুহাম্মদ ﷺ-কে নবীরূপে পেয়ে আমি সন্তুষ্ট।)
কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা আমার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে।
-(মুসনাদে আহমদ ও জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَقُولُ اِذَا أَمْسَي وَاِذَا أَصْبَح ثَلَاثًا رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا، إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُرْضِيَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " (رواه احمد والترمذى)
হাদীস নং: ১২৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৬. আবদুল্লাহ ইব্‌ন গান্নাম আল বায়াযী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল বেলায় আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ মিনতি করে বলে:

اَللّٰهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشَّكْرُ

"হে আল্লাহ! এ সকালে তোমার যে নিয়ামতই আমি পেয়েছি বা তোমার কোন সৃষ্ট জীবই পেয়েছে, তা কেবল তোমারই দয়ার দান। তোমার কোন শরীক নেই। সমস্ত স্তব-স্তুতি তোমারই।" সে ব্যক্তি ঐ দিনের সকল নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে ফেললো। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যা সমাগমে অনুরূপ দু'আ করলো, সে ঐ রাতের নিয়ামত সমূহের শুকরিয়া আদায় করে ফেললো।
(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَنَّامٍ الْبَيَاضِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِي مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنْكَ وَحْدَكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ، وَلَكَ الشُّكْرُ، فَقَدْ أَدَّى شُكْرَ يَوْمِهِ، وَمَنْ قَالَ مِثْلَ ذَلِكَ حِينَ يُمْسِي فَقَدْ أَدَّى شُكْرَ لَيْلَتِهِ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১২৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৭. হযরত আবূ মালিক আশআরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ যখন সকাল হবে তখন বলবেঃ

أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هُذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ وَنَصْرَهُ وَنُورَهُ وَبَرَكَتَهُ وَهُدَاهُ.

"আমি এবং গোটা বিশ্বজাহান এমন অবস্থায় সকালে উঠেছে যে, সবকিছুই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মালিকানাধীন। হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে প্রার্থনা করছি এ দিনের মঙ্গল, বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত ও হিদায়াত এবং তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এর মধ্যে নিহিত অমঙ্গল এবং এর পরবর্তী অমঙ্গল থেকে।” তারপর যখন সন্ধ্যা হয় তখনো অনুরূপ বলবে।
(সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا أَصْبَحَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ، وَنَصْرَهُ، وَنُورَهُ، وَبَرَكَتَهُ، وَهُدَاهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ، ثُمَّ إِذَا أَمْسَى فَلْيَقُلْ مِثْلَ ذَلِكَ " (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৮. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি সকাল বেলা (সূরা রূমের এ তিনটি আয়াত) তিলাওয়াত করবে:

فَسُبْحَانَ اللّٰهِ حِيْنَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُوْنَ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيُّ وَيُحْيِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَكَذَالِكَ تُخْرَجُونَ

সে ঐ দিনের সকল কল্যাণ ও বরকত লাভ করবে যা সে পায়নি, আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা তিলাওয়াত করবে, সে ঐরাতের সকল মঙ্গল ও বরকত লাভ করবে, যা সে পায়নি।
(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ {فَسُبْحَانَ اللَّـهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ ﴿١٧﴾ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ ﴿١٨﴾ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ } أَدْرَكَ مَا فَاتَهُ فِي يَوْمِهِ ذَلِكَ، وَمَنْ قَالَهُنَّ حِينَ يُمْسِي أَدْرَكَ مَا فَاتَهُ فِي لَيْلَتِهِ " (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৯. হযরত উছমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিনের সকালে এবং প্রতি রাতের সন্ধ্যায় এ দু'আটি তিনবার করে পড়বে কোন ক্ষতিই তাকে স্পর্শ করবে না বা সে কোন দুর্ঘটনার শিকার হবে না। দু'আটি হচ্ছে:

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.

সেই আল্লাহর নামে যার নামে দুনিয়া ও আসমানের কোন বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সবকিছু শুনেন সবকিছুই জানেন।
-(জামে তিরমিযী ও সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُثْمَانَ ابْنَ عَفَّانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ: بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، فَلَايَضُرَّهُ شَيْءٌ. (رواه ابوداؤد والترمذى)
হাদীস নং: ১৩০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১৩০. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন খুবায়ব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন, সকাল-সন্ধ্যায় (অর্থাৎ দিবাভাগের শুরুতে ও রাতের শুরুতে) তুমি তিন তিনবার কুলহুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন নাস পাঠ করবে, তা হলে সর্বব্যাপারে তা তোমার জন্যে যথেষ্ট হবে।
- (আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبٍ قَالَ: قَالَ لِىْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِقْرَأْ «قُلْ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِي، وَحِينَ تُصْبِحُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৩১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ

মৃত্যুর সাথে নিদ্রার বেশ সামঞ্জস্য রয়েছে। নিদ্রিত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির মত পৃথিবীর যাবতীয় ব্যাপার-স্যাপার সম্পর্কে বে-খবর থাকে। এ হিসাবে নিদ্রা হচ্ছে জীবন মৃত্যুর মধ্যবর্তী একটি অবস্থা। এ জন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষ তাগিদসহ হিদায়াত দিতেন, যেন শয়নের পূর্বে বিশেষ ধ্যান ও মনোযোগের সাথে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তাঁর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় এবং সময়োপযোগী দু'আ করা হয়। এ ব্যাপারে তিনি যে সমস্ত দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন এবং নিজে আমল করেছেন, তা নিম্নে পাঠ করুন!
১৩১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে এ মর্মে আদেশ করলেন, যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহর দরবারে আরয করবে:

اَللّٰهُمَّ أَنْتَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّهَا لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا وَإِنْ اَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَ الْعَافِيَةَ.

হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রাণ সৃষ্টি করেছে আর যখন তুমি চাইবে তখন তুমিই তা কেড়ে নেবে, আমার জীবন-মরণ তোমারই হাতে। যদি তুমি আমাকে জীবিত রাখ তা হলে (সকল গুনাহ এবং বালা-মুসীবত থেকে) হিফাযত করবে আর যদি মৃত্যুই দান কর, তা হলে আমাকে মাগফিরাত করবে।
হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে ক্ষমা ও নিরাময়তা প্রার্থনা করছি।

হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রা) যখন এ দু'আটি শিক্ষা দিলেন, তখন কেউ একজন জিজ্ঞেস করলো, এটা নিশ্চয়ই আপনি আপনার পিতা হযরত উমর (রা) থেকে শুনে থাকবেন। তিনি বললেন: বরং উমর (রা) এর চাইতে উত্তম সত্তা থেকেই আমি তা শুনেছি, তিনি নবী করীম ﷺ। (সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ أَمَرَ رَجُلًا قَالَ: إِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ «اللهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ الْعَافِيَةَ» فَقِيْلَ لَهُ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ عُمَرَ؟ قَالَ: مِنْ خَيْرٍ مِنْ عُمَرَ، مِنْ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৩২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন এভাবে আল্লাহর স্তব-স্তুতি করতেন:

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَأَوَانَا فَكَمْ مَنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ لَهُ

অর্থাৎ সেই আল্লাহরই সকল প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে আহার্য ও পানীয় দান করেছেন, আমাদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় দ্রব্যসম্ভার দান করেছেন এবং আরামের জন্য আমাদেরকে ঠিকানা দান করেছেন। এমনও তো কত অভাগা বান্দা রয়েছে, যাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বা ঠিকানা দেওয়ার মত কেউ নেই। -(সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ لَهُ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৩৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩৩. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন রাতের বেলা শয্যাগ্রহণ করতেন, তখন তিনি তাঁর (ডান) হাত (ডান) গালের নিচে রাখতেন (অর্থাৎ ডান পার্শ্বের উপর ভর করে কিবলামুখী হয়ে তিনি শয়ন করতেন, যা অন্যান্য হাদীসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।) এবং আল্লাহর দরবারে এভাবে আরয করতেন:
اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَاَحْيٰى -
"হে আল্লাহ! তোমারই নামে আমার মৃত্যুবরণ এবং তোমারই নামে আমার জীবন ধারণ।"

আর যখন তিনি নিদ্রা থেকে জাগতেন, তখন এভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন:

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ
"সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুদানের পর জীবন দান করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরই কাছে আমাদেরকে যেতে হবে।" -(সহীহ্ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ، وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ، ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا» وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ: «الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ» (رواه البخارى ورواه مسلم عن البراء بن عازب)
হাদীস নং: ১৩৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩৪. হযরত বারা ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বলেছেন, যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করতে উদ্যত হবে, তখন প্রথমে সালাতের ওযুর মত ওযু করবে, তারপর ডান পার্শ্বের উপর শয়ন করবে এবং আল্লাহর দরবারে এরূপ নিবেদন করবে:

اَللّٰهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَاَلْجَئْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَاَ مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ فَإِنْ مُتَّ مُتَّ عَلَى الْفِطْرَةِ

"হে আল্লাহ! আমি আমার পূর্ণ সত্তাকে তোমারই হাতে সমর্পণ করলাম। আমার সকল ব্যাপার তোমারই হাতে তুলে দিলাম, তোমাকেই আমার পৃষ্ঠপোষকরূপে গ্রহণ করলাম, তোমারই প্রতাপ ও বিক্রমের ভয়ে ভীত অবস্থায় তোমারই রহমত ও দয়ার আশায় বুক বেঁধে। তুমি ছাড়া আর কোন আশ্রয় স্থল বা নিরাপদ স্থান নেই, হে আমার মওলা! আমি ঈমান এনেছি তোমার সে কিতাবের প্রতি, যা তুমি নাযিল করেছো এবং সে মহান নবীর প্রতি, যাঁকে তুমি প্রেরণ করেছো।

এ দু'আটি শিক্ষা দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত বারাকে বললেন: শয়নকালে এগুলোই যদি হয় তোমার শেষ কথা (অর্থাৎ এর পর আর অন্য বাক্যালাপ না করো) আর এ অবস্থায় তুমি মৃত্যু মুখে পতিত হও, তা হলে তোমার মৃত্যু অত্যন্ত বরকতপূর্ণ এবং স্বভাব ধর্মের উপরই হলো। রাবী বারা ইব্‌ন আযিব (রা) বলেন, আমি তখনই তা মুখস্থ করতে লাগলাম এবং দু'আর শেষ অংশে বললাম وَبِرَسُوْلِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ নবী করীম ﷺ তা সংশোধন করে দিয়ে বললেন: না বরং বল بِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْت (অর্থাৎ অর্থগত দিক থেকে ঠিক থাকলেও শব্দগত যে ভুলটুকু ছিল, তাও নবী করীম ﷺ ঠিক করে দিলেন।) -(সহীহ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: قَالَ لِىْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ، فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الأَيْمَنِ، ثُمَّ قُلْ: اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ، فَإِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ، فَأَنْتَ عَلَى الفِطْرَةِ، وَاجْعَلْهُنَّ آخِرَ مَا تَتَكَلَّمُ بِهِ ". قَالَ: فَرَدَّدْتُهَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا بَلَغْتُ: اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، قُلْتُ: وَرَسُولِكَ، قَالَ: «لاَ، وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৩৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে আদেশ করতেন, আমাদের কেউ যখন শয়ন করতে উদ্যত হয়, তখন সে যেন তার ডান পার্শ্বের উপর শয়ন করে এবং এরূপ দু'আ করে: হে আসমানসমূহ ও যমীনের প্রতিপালক প্রভু, এবং মহান আরশের প্রভু আমাদের এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক, শস্যকণা এবং আঁটি ভেদ করে অঙ্কুর উদ্দামকারী, তওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন শরীফের নাযিলকারী প্রভু! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর অনিষ্ট থেকে, যেগুলো সম্পূর্ণ তোমারই কর্তৃত্বাধীন। হে আল্লাহ! তুমিই আদি তোমার পূর্বে কিছুই ছিল না, তুমিই অন্ত; সুতরাং তোমার পরে আর কিছুই থাকবে না, তুমিই আমার দেনা শোধ করে দাও এবং অভাব-অনটন দূর করে আমাকে তুমি অমুখাপেক্ষী করে দাও। -(মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا، إِذَا أَرَادَ أَحَدُنَا أَنْ يَنَامَ، أَنْ يَضْطَجِعَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ، ثُمَّ يَقُولُ: «اللهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اللهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৩৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩৬. হযরত হাফসা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অভ্যাস ছিল, যখন তিনি নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছে করতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত তাঁর গণ্ডদেশের নীচে রাখতেন তারপর তিনবার এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ .
"হে আল্লাহ! আমাকে তোমার শাস্তি থেকে রক্ষা কর, যে দিন (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন) তোমার বান্দাদেরকে তুমি উত্থিত করবে।"
-(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ حَفْصَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّهِ ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ، عِبَادَكَ ثَلَاثَ مِرَارٍ. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৩৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩৭. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি শয্যাগ্রহণকালে আল্লাহর দরবারে এরূপ ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তিনবার বলে:

اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَاَتُوْبُ إِلَيْهِ.

অর্থাৎ আমি মাগফিরাত প্রার্থনা করছি সেই আল্লাহর, যিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর, আমি তাঁরই সমীপে তাওবা করছি। তাহলে তার সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে যদিও তা বৃক্ষপত্র, 'আলিজ' মরুভূমির বালুকণা ও দুনিয়ার দিনসমূহের মত অগণিতও হয়ে থাকে।
-(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ حِينَ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الحَيَّ القَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، غَفَرَ اللَّهُ ذُنُوبَهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ، وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ وَرَقِ الشَّجَرِ، وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ رَمْلِ عَالِجٍ، وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ أَيَّامِ الدُّنْيَا. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১৩৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩৮. ফারওয়া ইবনে নওফল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার পিতা নওফলকে উদ্দেশ্য করে বললেন: যখন তুমি শয়ন করতে উদ্যত হও, তখন قُلْ يَا أَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ সূরাটি পড়ে নেবে, তারপর শয়ন করবে। কেননা এতে শিরক থেকে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা রয়েছে।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَن لِاَبِىْ: «اقْرَأْ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ثُمَّ نَمْ، عَلَى خَاتِمَتِهَا، فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنَ الشِّرْكِ» (رواه ابوداؤد والترمذى)
হাদীস নং: ১৩৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শয়ন কালীন বিশেষ বিশেষ দু'আসমূহ
১৩৯. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অভ্যাস ছিল, যখন তিনি রাতের বেলা শয্যাগ্রহণ করতে যেতেন, তখন তাঁর দু'হাত একত্রিত করে কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন নাস পড়ে তাতে ফুঁক দিতেন তারপর যতটুকু তাঁর হাত পৌঁছতো শরীরের ততটুকু সে দু'হাত দিয়ে মুছে নিতেন। প্রথমে মাথা, মুখমণ্ডল এবং শরীরের সম্মুখের অংশ মুছতেন। এরূপ তিনি তিনবার করতেন। (সুনানে আবূ দাউদ ও তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: " أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا، وَقَرَأَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ: يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ، يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ " (رواه ابوداؤد والترمذى)
হাদীস নং: ১৪০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনিদ্রা কালীন দু'আ
১৪০. হযরত বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণিত। একদা খালিদ ইব্‌ন ওলীদ (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট অনুযোগ করলেন যে, রাতে তাঁর ঘুম আসে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন তাঁকে বললেন: শয্যা গ্রহণকালে তুমি আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করবে:

اَللّٰهُمَّ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبُّ الْأَرْضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَيَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلَا اِلٰهَ غَيْرُكَ لَا اِلٰهَ اِلَّا أَنْتَ. (رواه الترمذي)

"হে আল্লাহ! সাত আসমান এবং এগুলোর নীচে অবস্থিত সবকিছুর প্রভু! যমীনসমূহের এবং এগুলোর উপরস্থিত সবকিছুর প্রতিপালক, শয়তানসমূহ এবং তাদের বিভ্রান্তিকর তৎপরতাসমূহের মালিক। আমাকে তোমার আশ্রয় ও হিফাযতে নিয়ে নাও তোমার সমস্ত সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে। কেউ যেন আমার প্রতি যুলুম বা বাড়াবাড়ি করতে না পারে। তোমার আশ্রিত জন সম্মানিত। তোমার স্তব-স্তুতি সবার ঊর্ধ্বে, তুমি বিনে কোন উপাস্য নেই। তুমি ছাড়া নেই কোন মা'বুদ।
(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: شَكَا خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ الْمَخْزُومِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ لَا يَنَامُ اللَّيْلَ مِنَ الأَرَقِ، فَقَالَ: إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَقُلْ: اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ، وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ، وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ، كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক: