মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩২২ টি
হাদীস নং: ১৬১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নতুন পোশাক পরিধানকালীন দু'আ
পোশাকও আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত এবং পানাহারের মত এটাও মানব জীবনের জন্য অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হিদায়াত বা নির্দেশনা হচ্ছে, যখন আল্লাহ তাঁর কোন বান্দাকে নতুন কাপড় পরার তাওফীক দেন এবং সে তা পরিধানও করে নেয় তখন সে ব্যক্তি যেন আল্লাহ তা'আলার এ দয়ার কথা স্মরণ করে তাঁর প্রশংসাবাদ ও শুকরিয়া আদায় করে এবং যে বস্ত্রটি সে পরিধান পুরনো করে ফেলেছে তা যেন সদকা করে দেয়। তিনি এ মর্মে সুসংবাদ দান করেছেন যে, যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে ইহকালে তার জীবিত অবস্থায় এবং মৃত্যু পরবর্তীকালেও আল্লাহর হিফাযত লাভ করবে।
পোশাকও আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত এবং পানাহারের মত এটাও মানব জীবনের জন্য অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হিদায়াত বা নির্দেশনা হচ্ছে, যখন আল্লাহ তাঁর কোন বান্দাকে নতুন কাপড় পরার তাওফীক দেন এবং সে তা পরিধানও করে নেয় তখন সে ব্যক্তি যেন আল্লাহ তা'আলার এ দয়ার কথা স্মরণ করে তাঁর প্রশংসাবাদ ও শুকরিয়া আদায় করে এবং যে বস্ত্রটি সে পরিধান পুরনো করে ফেলেছে তা যেন সদকা করে দেয়। তিনি এ মর্মে সুসংবাদ দান করেছেন যে, যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে ইহকালে তার জীবিত অবস্থায় এবং মৃত্যু পরবর্তীকালেও আল্লাহর হিফাযত লাভ করবে।
১৬১. হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পরে বলবে:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أَوَارِي بِهٖ عَوْرَتِي وَأَتَجَمَّلُ بِهٖ فِي حَيَاتِي.
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্, যিনি আমাকে সেই পোশাক দান করেছেন, যদ্বারা আমি লজ্জা ঢাকতে পারি এবং যাকে আমি আমার জীবনের সৌন্দর্য সামগ্রী রূপে গ্রহণ করতে পারি।
তারপর সে ব্যক্তি তার যে বস্ত্রটি পুরনো করে ফেলেছে, তা সদকা করে দেয়, সে ব্যক্তি আল্লাহ্ হিফাযত ও নিগাহবানীর অধীনে চলে যায়- চাই সে ব্যক্তি জীবিতই থাক অথবা মৃত্যুই বরণ করুক। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أَوَارِي بِهٖ عَوْرَتِي وَأَتَجَمَّلُ بِهٖ فِي حَيَاتِي.
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্, যিনি আমাকে সেই পোশাক দান করেছেন, যদ্বারা আমি লজ্জা ঢাকতে পারি এবং যাকে আমি আমার জীবনের সৌন্দর্য সামগ্রী রূপে গ্রহণ করতে পারি।
তারপর সে ব্যক্তি তার যে বস্ত্রটি পুরনো করে ফেলেছে, তা সদকা করে দেয়, সে ব্যক্তি আল্লাহ্ হিফাযত ও নিগাহবানীর অধীনে চলে যায়- চাই সে ব্যক্তি জীবিতই থাক অথবা মৃত্যুই বরণ করুক। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ لَبِسَ ثَوْبًا جَدِيدًا فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي، وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي، ثُمَّ عَمَدَ إِلَى الثَّوْبِ الَّذِي أَخْلَقَ فَتَصَدَّقَ بِهِ كَانَ فِي كَنَفِ اللَّهِ، وَفِي حِفْظِ اللَّهِ، وَفِي سِتْرِ اللَّهِ حَيًّا وَمَيِّتًا "
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আয়না দর্শনকালীন দু'আ
১৬২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম ﷺ যখন আয়নার দিকে তাকাতেন, তখন এ দু'আটি পড়তেন:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي سَوّٰى خَلْقِي وَأَحْسَنَ صُورَتِي وَزَانَ مِنِّي مَا شَانَ مِنْ غَيْرِي.
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌষ্ঠব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং আমার অবয়বকে সুষমা প্রদান করেছেন এবং আমাকে এমন সৌন্দর্য-সুষমা দান করেছেন, যা অন্য অনেককেই দান করেননি। (মুসনাদে বায্যার)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي سَوّٰى خَلْقِي وَأَحْسَنَ صُورَتِي وَزَانَ مِنِّي مَا شَانَ مِنْ غَيْرِي.
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌষ্ঠব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং আমার অবয়বকে সুষমা প্রদান করেছেন এবং আমাকে এমন সৌন্দর্য-সুষমা দান করেছেন, যা অন্য অনেককেই দান করেননি। (মুসনাদে বায্যার)
کتاب الاذکار والدعوات
عَن أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيه وَسَلَّم إِذَا نَظَرَ فِي الْمِرْآةِ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي سَوَّى خَلْقِي وَأَحْسَنَ صُورَتِي وَأَزَانَ مِنِّي مَا شَانَ مِنْ غَيْرِي. (رواه البزار)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিবাহ-শাদী সংক্রান্ত দু'আ সমূহ
বিয়ে-শাদীও মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য। বাহ্যত তার সম্পর্ক কেবল মানুষের একটি জৈবিক ও পাশবিকতার সহিত। তাই এ সময় তার আল্লাহর কথা বিস্তৃত থাকার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ ঐ সময়ও উম্মতকে আল্লাহর দিকে নজর রাখার এবং এ ব্যাপারে কল্যাণ অকল্যাণও একান্তই তাঁরই হাতে রয়েছে বলে বিশ্বাস রেখে দু'আ করায় শিক্ষা দিয়েছেন। এ ভাবে তিনি জীবনের এ দিকটিকেও ইবাদত-বন্দেগীর রঙে রঞ্জিত করে দিয়েছেন।
বিয়ে-শাদীও মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য। বাহ্যত তার সম্পর্ক কেবল মানুষের একটি জৈবিক ও পাশবিকতার সহিত। তাই এ সময় তার আল্লাহর কথা বিস্তৃত থাকার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ ঐ সময়ও উম্মতকে আল্লাহর দিকে নজর রাখার এবং এ ব্যাপারে কল্যাণ অকল্যাণও একান্তই তাঁরই হাতে রয়েছে বলে বিশ্বাস রেখে দু'আ করায় শিক্ষা দিয়েছেন। এ ভাবে তিনি জীবনের এ দিকটিকেও ইবাদত-বন্দেগীর রঙে রঞ্জিত করে দিয়েছেন।
১৬৩. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি কোন নারীকে বিয়ে করে অথবা কোন সেবক-ভৃত্য খরিদ করে, তখন এরূপ দু'আ করবে:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي اَسْألُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
-"হে আল্লাহ্! এর মধ্যে বা তার স্বভাব প্রকৃতিতে যে কল্যাণ রয়েছে, আমি তা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং তোমার নিকট এর অনিষ্ট এবং তার প্রকৃতিতে নিহিত অমঙ্গল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
-(সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজা)
اَللّٰهُمَّ إِنِّي اَسْألُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
-"হে আল্লাহ্! এর মধ্যে বা তার স্বভাব প্রকৃতিতে যে কল্যাণ রয়েছে, আমি তা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং তোমার নিকট এর অনিষ্ট এবং তার প্রকৃতিতে নিহিত অমঙ্গল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
-(সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا تَزَوَّجَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً أَوِ اشْتَرَى خَادِمًا، فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ. (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিবাহ-শাদী সংক্রান্ত দু'আ সমূহ
১৬৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ নব বিবাহিত বরকে এ ভাবে আশীর্বাদ ও মুবারকবাদ দিতেনঃ
بَارَكَ اللّٰهُ لَكَ وَبَارَكَ اللّٰهُ عَلَيْكُمَا وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ
আল্লাহ তা'আলা তোমাকে বরকত দিন এবং তোমাদের দম্পতি যুগলকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত ও সমন্বিত রাখুন (অর্থাৎ ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সকল ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে ঐক্য-সখ্য-সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বহাল রাখুন এবং কোনরূপ শয়তানী চক্রের অশুভ প্রভাবে যেন এ শান্তি-সৌহার্দ বিনষ্ট না হয়।) (মুসনাদে আহমদ, জামে' তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইব্ন মাজা)
بَارَكَ اللّٰهُ لَكَ وَبَارَكَ اللّٰهُ عَلَيْكُمَا وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ
আল্লাহ তা'আলা তোমাকে বরকত দিন এবং তোমাদের দম্পতি যুগলকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত ও সমন্বিত রাখুন (অর্থাৎ ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সকল ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে ঐক্য-সখ্য-সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বহাল রাখুন এবং কোনরূপ শয়তানী চক্রের অশুভ প্রভাবে যেন এ শান্তি-সৌহার্দ বিনষ্ট না হয়।) (মুসনাদে আহমদ, জামে' তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইব্ন মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَفَّأَ إِنْسَانًا إِذَا تَزَوَّجَ، قَالَ: " بَارَكَ اللهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ " (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সঙ্গমকালীন দু'আ
১৬৫. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন : তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীর কাছে গমন করতে উদ্যত হয়, তখন সে যেন আল্লাহর দরবারে এরূপ দু'আ করে:
بسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا.
বিসমিল্লাহ! হে আল্লাহ, আমাদেরকে এবং আমাদের মিলনের ফসল সন্তানকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর!
তা হলে এ সঙ্গমে যদি তাদের কোন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে শয়তান কস্মিনকালেও তার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। (বুখারী ও মুসলিম)
بسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا.
বিসমিল্লাহ! হে আল্লাহ, আমাদেরকে এবং আমাদের মিলনের ফসল সন্তানকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর!
তা হলে এ সঙ্গমে যদি তাদের কোন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে শয়তান কস্মিনকালেও তার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরে গমন ও প্রত্যাগমনকালীন দু'আ সমূহ
দেশ থেকে যারা প্রবাসে যায়, পদে পদে তাদের সম্মুখে থাকে নানা সঙ্কট, নানা সম্ভাবনা। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাই সফরে যাত্রাকালীন দু'আ-কালাম শিক্ষা দিয়েছেন, যা মানুষের আল্লাহর দরবারে নিবেদন করা উচিত। সাথে সাথে সফর যাত্রীর স্মরণ করা উচিত সেই মহা সফরের কথা, যা একদিন পরকালের দিকে তাকে অবশ্যই করতে হবে, যাতে করে সেই নিশ্চিত সফরের প্রস্তুতি গ্রহণে সে গাফলতি না করে।
দেশ থেকে যারা প্রবাসে যায়, পদে পদে তাদের সম্মুখে থাকে নানা সঙ্কট, নানা সম্ভাবনা। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাই সফরে যাত্রাকালীন দু'আ-কালাম শিক্ষা দিয়েছেন, যা মানুষের আল্লাহর দরবারে নিবেদন করা উচিত। সাথে সাথে সফর যাত্রীর স্মরণ করা উচিত সেই মহা সফরের কথা, যা একদিন পরকালের দিকে তাকে অবশ্যই করতে হবে, যাতে করে সেই নিশ্চিত সফরের প্রস্তুতি গ্রহণে সে গাফলতি না করে।
১৬৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল, তিনি যখন সফরে যাত্রা করতেন, তখন তাঁর উটের উপর আরোহণ করেই তিনি প্রথমে তিনবার 'আল্লাহু আকবার' বলতেন, তারপর এরূপ দু'আ করতেন:
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ . اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اَللّٰهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَأَطْوِ لَنَا بُعْدَهُ اَللّٰهُمَّ اَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ
"পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি আমাদের এ বাহনকে আমাদের জন্যে বশীভূত করে দিয়েছেন অথচ আমাদের কোন ক্ষমতা ছিল না যে, আমরা তাকে বশীভূত ও নিয়ন্ত্রণাধীন করি।
آئِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
এবং শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবো। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে আমরা তোমার কাছে মঙ্গল ও তাকওয়া প্রার্থনা করছি। আর এমন আমল প্রার্থনা করছি, যাতে তুমি সন্তুষ্ট থাক। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরকে তুমি সহজসাধ্য করে দাও! তার দূরত্বকে তুমি তোমার কুদরতের দ্বারা সঙ্কুচিত করে দাও। হে আল্লাহ! সফরে তুমিই সাথী এবং আমাদের অনুপস্থিতিতে তুমিই আমাদের বাড়িঘরের তত্ত্বাবধান ও হিফাযতকারী (এ ব্যাপারেও আমাদের ভরসাস্থল একমাত্র তুমিই।) হে আল্লাহ! তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সফরের কষ্ট ও অবসাদ থেকে এবং সফরে বিভীষিকাপূর্ণ দৃশ্য দর্শন থেকে এবং সফর থেকে ফিরে পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের ক্ষতি দর্শন থেকে।" আর তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখনো আল্লাহর দরবারে এ দু'আটি করতেন এবং তার সাথে আরো বলতেন: "আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তওবাকারী, আল্লাহর ইবাদতকারী বান্দা এবং আমাদের প্রতিপালকের আমরা প্রশংসা ও স্তব-স্তুতিকারী।”
-(সহীহ মুসলিম)
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ . اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اَللّٰهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَأَطْوِ لَنَا بُعْدَهُ اَللّٰهُمَّ اَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ
"পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি আমাদের এ বাহনকে আমাদের জন্যে বশীভূত করে দিয়েছেন অথচ আমাদের কোন ক্ষমতা ছিল না যে, আমরা তাকে বশীভূত ও নিয়ন্ত্রণাধীন করি।
آئِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
এবং শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবো। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে আমরা তোমার কাছে মঙ্গল ও তাকওয়া প্রার্থনা করছি। আর এমন আমল প্রার্থনা করছি, যাতে তুমি সন্তুষ্ট থাক। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরকে তুমি সহজসাধ্য করে দাও! তার দূরত্বকে তুমি তোমার কুদরতের দ্বারা সঙ্কুচিত করে দাও। হে আল্লাহ! সফরে তুমিই সাথী এবং আমাদের অনুপস্থিতিতে তুমিই আমাদের বাড়িঘরের তত্ত্বাবধান ও হিফাযতকারী (এ ব্যাপারেও আমাদের ভরসাস্থল একমাত্র তুমিই।) হে আল্লাহ! তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সফরের কষ্ট ও অবসাদ থেকে এবং সফরে বিভীষিকাপূর্ণ দৃশ্য দর্শন থেকে এবং সফর থেকে ফিরে পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের ক্ষতি দর্শন থেকে।" আর তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখনো আল্লাহর দরবারে এ দু'আটি করতেন এবং তার সাথে আরো বলতেন: "আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তওবাকারী, আল্লাহর ইবাদতকারী বান্দা এবং আমাদের প্রতিপালকের আমরা প্রশংসা ও স্তব-স্তুতিকারী।”
-(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إِلَى سَفَرٍ، كَبَّرَ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: «سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا، وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ، اللهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ»، وَإِذَا رَجَعَ قَالَهُنَّ وَزَادَ فِيهِنَّ: «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরে গমন ও প্রত্যাগমনকালীন দু'আ সমূহ
১৬৭. হযরত উছমান (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে মুসলমান সফরের উদ্দেশ্যে তার ঘর থেকে বের হবার সময় বলেঃ
آمَنْتُ بِاللّٰهِ اعْتَصَمْتُ بِاللّٰهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللّٰهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللّٰهِ
"আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে আল্লাহকেই ধারণ করেছি। আল্লাহরই উপর আমি ভরসা করেছি। চেষ্টা-তদবীর কোন সাধ্য-সাধনা কার্যকরী হতে পারে না আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতা ব্যতীত।" তার এ নির্গমন অবশ্যই মঙ্গলজনক হবে এবং এর অমঙ্গল থেকে সে অবশ্যই নিরাপদ থাকবে।
(মুসনাদে আহমদ)
آمَنْتُ بِاللّٰهِ اعْتَصَمْتُ بِاللّٰهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللّٰهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللّٰهِ
"আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে আল্লাহকেই ধারণ করেছি। আল্লাহরই উপর আমি ভরসা করেছি। চেষ্টা-তদবীর কোন সাধ্য-সাধনা কার্যকরী হতে পারে না আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতা ব্যতীত।" তার এ নির্গমন অবশ্যই মঙ্গলজনক হবে এবং এর অমঙ্গল থেকে সে অবশ্যই নিরাপদ থাকবে।
(মুসনাদে আহমদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ، يُرِيدُ سَفَرًا أَوْ غَيْرَهُ، فَقَالَ حِينَ يَخْرُجُ: بِسْمِ اللهِ، آمَنْتُ بِاللهِ، اعْتَصَمْتُ بِاللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، إِلَّا رُزِقَ خَيْرَ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ، وَصُرِفَ عَنْهُ شَرُّ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ " (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে কোন মঞ্জিলে অবতরণের দু'আ
১৬৮. হযরত খাওলা বিনতে হাকীম (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার সফরকালে কোন মঞ্জিলে অবতরণ করে এরূপ দু'আ করে:
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
"আমি আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের পানাহ নিচ্ছি তার অকল্যাণকর সৃষ্টিকূল থেকে।” তাহলে ঐ মঞ্জিল থেকে তার নির্গমন পর্যন্ত কোন কিছু তার অনিষ্ট করতে পারবে না।
-(সহীহ্ মুসলিম)।
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
"আমি আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের পানাহ নিচ্ছি তার অকল্যাণকর সৃষ্টিকূল থেকে।” তাহলে ঐ মঞ্জিল থেকে তার নির্গমন পর্যন্ত কোন কিছু তার অনিষ্ট করতে পারবে না।
-(সহীহ্ মুসলিম)।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا ثُمَّ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ، حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন জনপদে প্রবেশকালীন দু'আ
১৬৯. হযবত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূললুল্লাহ্ ﷺ এর সাথে সফর করতাম। তাঁর অভ্যাস এরূপ ছিল যে, তিনি কোন জনপদ দেখতে পেয়ে তাতে প্রবেশ করতে ইচ্ছে করতেন, তিনি তিনবার বলতেনঃ
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهَا
“হে আল্লাহ! আমাদের জনপদে প্রবেশকে বরকতময় কর।" তারপর এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ ارْزُقْنَا حُبَّهَا وَحَبِّبْنَا إِلَى أَهْلِهَا وَحَبِّبْ صَالِحِي أَهْلِهَا إِلَيْنَا
"হে আল্লাহ! এ জনপদের সর্বোত্তম উৎপন্নজাত দ্রব্যাদি আমাদের জীবিকারূপে দান কর, আমাদেরকে এখানকার অধিবাসীদের প্রিয়পাত্র করে দাও। এবং এখানকার পুণ্যবান অধিবাসীদেরকে আমাদের বন্ধু করে দাও।"
(মু'জামে আওসাত: তাবারানী সঙ্কলিত)
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهَا
“হে আল্লাহ! আমাদের জনপদে প্রবেশকে বরকতময় কর।" তারপর এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ ارْزُقْنَا حُبَّهَا وَحَبِّبْنَا إِلَى أَهْلِهَا وَحَبِّبْ صَالِحِي أَهْلِهَا إِلَيْنَا
"হে আল্লাহ! এ জনপদের সর্বোত্তম উৎপন্নজাত দ্রব্যাদি আমাদের জীবিকারূপে দান কর, আমাদেরকে এখানকার অধিবাসীদের প্রিয়পাত্র করে দাও। এবং এখানকার পুণ্যবান অধিবাসীদেরকে আমাদের বন্ধু করে দাও।"
(মু'জামে আওসাত: তাবারানী সঙ্কলিত)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا رَأَى الْقَرْيَةَ يُرِيدُ أَنْ يَدْخُلَهَا قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ اللَّهُمَّ ارْزُقْنَا جَنَاهَا، وَحَبِّبْنَا إِلَى أَهْلِهَا، وَحَبِّبْ صَالِحِي أَهْلِهَا إِلَيْنَا» (رواه الطبرانى فى الاوسط)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরে গমনকালে সফরযাত্রীকে উপদেশ এবং তার জন্যে দু'আ
১৭০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খেদমতে আরয করলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সফর করবো মনস্থ করেছি, আমাকে কিছু উপদেশ দিন!
জবাবে তিনি বললেন: প্রথম উপদেশ তো হচ্ছে এই যে, আল্লাহর ভয় এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে সর্বপ্রযত্নে চেষ্টা করবে। (এ ব্যাপারে সামান্যতম গাফলতিও করবে না)
দ্বিতীয়ত যখন কোন ঊর্ধ্ব স্থানের দিকে উঠতে হয়, তখন 'আল্লাহু আকবার' বলবে। তারপর যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে এভাবে দু'আ দিলেন:-
اَللّٰهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبُعْدَ وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
"হে আল্লাহ! তার সফরে দূরত্বকে সঙ্কুচিত করে দিও এবং তার এ সফর তার জন্য সহজসাধ্য করে দিও!"
(জামে' তিরমিযী)
জবাবে তিনি বললেন: প্রথম উপদেশ তো হচ্ছে এই যে, আল্লাহর ভয় এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে সর্বপ্রযত্নে চেষ্টা করবে। (এ ব্যাপারে সামান্যতম গাফলতিও করবে না)
দ্বিতীয়ত যখন কোন ঊর্ধ্ব স্থানের দিকে উঠতে হয়, তখন 'আল্লাহু আকবার' বলবে। তারপর যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে এভাবে দু'আ দিলেন:-
اَللّٰهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبُعْدَ وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
"হে আল্লাহ! তার সফরে দূরত্বকে সঙ্কুচিত করে দিও এবং তার এ সফর তার জন্য সহজসাধ্য করে দিও!"
(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُسَافِرَ فَأَوْصِنِي، قَالَ: عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللهِ، وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ، فَلَمَّا أَنْ وَلَّى الرَّجُلُ، قَالَ: اللَّهُمَّ اطْوِ لَهُ البُعْدَ، وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরে গমনকালে সফরযাত্রীকে উপদেশ এবং তার জন্যে দু'আ
১৭১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম ﷺ-এর নিকট আরয করল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সফরে যেতে মনস্থ করেছি আপনি আমাকে সফরের পাথেয় দান করুন! (অর্থাৎ এমন দু'আ করে দিন, যা আমার সফরে কাজে লাগে)।
জবাবে তিনি বললেন: আল্লাহ তা'আলা তাকওয়াকে তোমার পাথেয় বানিয়ে দিন! (পূর্ণ সফরে তুমি যেন এর দ্বারা উপকৃত হও!) সে ব্যক্তি বললো: আমারে আরো বর্ধিত পাথেয় দিন! তিনি বললেন: আর আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করে দিন। সে ব্যক্তি বললো: আমার পিতামাতা আপনার জন্যে কুরবান হোন! আমার জনে আরো বর্ধিত পাথেয় (দু'আ) দিন! তিনি বললেন: "আর তুমি যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তা'আলা যেন তোমাকে কল্যাণ দান করেন।" (জামে' তিরমিযী)
জবাবে তিনি বললেন: আল্লাহ তা'আলা তাকওয়াকে তোমার পাথেয় বানিয়ে দিন! (পূর্ণ সফরে তুমি যেন এর দ্বারা উপকৃত হও!) সে ব্যক্তি বললো: আমারে আরো বর্ধিত পাথেয় দিন! তিনি বললেন: আর আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করে দিন। সে ব্যক্তি বললো: আমার পিতামাতা আপনার জন্যে কুরবান হোন! আমার জনে আরো বর্ধিত পাথেয় (দু'আ) দিন! তিনি বললেন: "আর তুমি যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তা'আলা যেন তোমাকে কল্যাণ দান করেন।" (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُرِيدُ سَفَرًا فَزَوِّدْنِي. قَالَ: زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى، قَالَ: زِدْنِي، قَالَ: وَغَفَرَ ذَنْبَكَ قَالَ: زِدْنِي بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، قَالَ: وَيَسَّرَ لَكَ الخَيْرَ حَيْثُمَا كُنْتَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরে গমনকালে সফরযাত্রীকে উপদেশ এবং তার জন্যে দু'আ
১৭২. হযরত আবদুল্লাহ আল খাতমী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল এই যে, যখন তিনি কোন সেনাদলকে কোথাও অভিযানে প্রেরণ করতেন, তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে এরূপ বিদায় সম্ভাষণ জানাতেন:
اَسْتَوْدِعُ اللّٰهَ دِينَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكُمْ
"আমি আল্লাহর হাতে সোপর্দ করছি তোমাদের দীন, তোমাদের আমানত এবং তোমাদের শেষ আমলসমূহ।"
(সুনানে আবূ দাউদ)
اَسْتَوْدِعُ اللّٰهَ دِينَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكُمْ
"আমি আল্লাহর হাতে সোপর্দ করছি তোমাদের দীন, তোমাদের আমানত এবং তোমাদের শেষ আমলসমূহ।"
(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْخَطْمِيِّ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْتَوْدِعَ الْجَيْشَ قَالَ: «أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكُمْ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সঙ্কটকালীন দু'আ
১৭৩. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে আরয করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! এ গুরুতর সঙ্কটকালে আমাদের পড়বার জন্যে কি কোন বিশেষ দু'আ আছে, এদিকে তো আতঙ্কে আমাদের কলিজা গলায় চলে আসছে?
তিনি বললেন: হাঁ, আল্লাহর দরবারে এরূপ দু'আ করবে:
اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا
“হে আল্লাহ! আমাদের গোপনীয় ব্যাপারসমূহ গোপন রেখো, আমাদের আতঙ্ককে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দাও!"
রাবী আবু সাঈদ (রা) বলেন: তারপর আল্লাহ তা'আলা ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠিয়ে তাঁর শত্রুদেরকে পর্যুদস্ত করেন এবং এ ঝঞ্ঝাবায়ুর মাধ্যমেই তাদেরকে পরাস্ত করে দেন।
-(মুসনাদে আহমদ)
তিনি বললেন: হাঁ, আল্লাহর দরবারে এরূপ দু'আ করবে:
اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا
“হে আল্লাহ! আমাদের গোপনীয় ব্যাপারসমূহ গোপন রেখো, আমাদের আতঙ্ককে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দাও!"
রাবী আবু সাঈদ (রা) বলেন: তারপর আল্লাহ তা'আলা ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠিয়ে তাঁর শত্রুদেরকে পর্যুদস্ত করেন এবং এ ঝঞ্ঝাবায়ুর মাধ্যমেই তাদেরকে পরাস্ত করে দেন।
-(মুসনাদে আহমদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قُلْنَا يَوْمَ الْخَنْدَقِ: يَا رَسُولَ اللهِ، هَلْ مِنْ شَيْءٍ نَقُولُهُ؟ فَقَدْ بَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ، قَالَ: " نَعَمْ، اللهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا، وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا "، قَالَ: " فَضَرَبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وُجُوهَ أَعْدَائِهِ بِالرِّيحِ، هَزَمَ اللهُ بِالرِّيحِ " (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সঙ্কটকালীন দু'আ
১৭৪. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কোন শত্রু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আক্রমণের আশঙ্কা করতেন, তখন আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করতেন:
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
“হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুকাবিলায় পেশ করছি (তুমিই তাদেরকে প্রতিরোধ কর) এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তোমারই দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
-(মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবূ দাউদ)
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
“হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুকাবিলায় পেশ করছি (তুমিই তাদেরকে প্রতিরোধ কর) এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তোমারই দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
-(মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا قَالَ: " اللهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُبِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ " (رواه احمد وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুশ্চিন্তাকালীন দু'আ
১৭৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কোন দুর্ভাবনায় পড়তেন তখন তাঁর যবান মুবারকে এ দু'আ বাক্যগুলো জারী থাকতো:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ.
নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত, তিনি অত্যন্ত মহান ও পরম সহিষ্ণু। কোন মালিক ও মা'বূদ নেই আল্লাহ ব্যতীত, তিনি আসমানরাজির প্রভু এবং যমীনের প্রভু মহান আরশের অধিপতি।
(সহীহ্ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম)
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ.
নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত, তিনি অত্যন্ত মহান ও পরম সহিষ্ণু। কোন মালিক ও মা'বূদ নেই আল্লাহ ব্যতীত, তিনি আসমানরাজির প্রভু এবং যমীনের প্রভু মহান আরশের অধিপতি।
(সহীহ্ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ: لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ، وَرَبُّ الأَرْضِ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুশ্চিন্তাকালীন দু'আ
১৭৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কোন দুশ্চিন্তা বা দুর্ভাবনায় পড়তেন, তখন তাঁর দু'আ হতো এরূপ:
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ اَسْتَغِيْتُ .
"হে চিরঞ্জীব চিরন্তন সত্তা, তোমারই রহমতের ওসীলায় ফরিয়াদ করছি।" আর (অন্যদেরকে লক্ষ্য করে) বলতেন: ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম-কে শক্তভাবে আকড়ে ধর! (অর্থাৎ এ কালিমার সাহায্যে আল্লাহর দরবারে রহমতের ফরিয়াদ করতে থাক।
-(জামে' তিরমিযী)
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ اَسْتَغِيْتُ .
"হে চিরঞ্জীব চিরন্তন সত্তা, তোমারই রহমতের ওসীলায় ফরিয়াদ করছি।" আর (অন্যদেরকে লক্ষ্য করে) বলতেন: ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম-কে শক্তভাবে আকড়ে ধর! (অর্থাৎ এ কালিমার সাহায্যে আল্লাহর দরবারে রহমতের ফরিয়াদ করতে থাক।
-(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَس قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَرَبَهُ أَمْرٌ قَالَ: يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ. وقَالَ: أَلِظُّوابِيَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুশ্চিন্তাকালীন দু'আ
১৭৭. হযরত আসমা বিনে উমায়স (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি কালিমা শিখিয়ে দেবো না, যা তুমি দুর্ভাবনা কালে বলবে? (ইনশা আল্লাহ তা' তোমার পেরেশানী থেকে মুক্তির হেতু হবে)। তা হচ্ছেঃ
اَللّٰهُ اَللّٰهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهٖ شَيْئًا -
"আল্লাহ আল্লাহ! তিনিই আমার প্রভু। তাঁর সাথে অন্য কিছুকে আমি শরীক সাব্যস্ত করি না।
-(সুনানে আবূ দাউদ)
اَللّٰهُ اَللّٰهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهٖ شَيْئًا -
"আল্লাহ আল্লাহ! তিনিই আমার প্রভু। তাঁর সাথে অন্য কিছুকে আমি শরীক সাব্যস্ত করি না।
-(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلاَ أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهُنَّ عِنْدَ الْكَرْبِ أَوْ فِي الْكَرْبِ اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لاَ أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুশ্চিন্তাকালীন দু'আ
১৭৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত। যার দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী বৃদ্ধি পায় সে যেন আল্লাহ তা'আলার দরবারে এভাবে দু'আ করে:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ آمَتِكَ وَفِي قَبْضَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ قَضَاءُكَ أَسْئَلُكَ لِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي مَكْنُونِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ الْعَظِيمَ رَبِيعَ قَلْبِي وَجِلَاءِ هَمِّى وَغَمِّيْ.
"হে আল্লাহ! আমি তোমারই বান্দা তোমারই বান্দার সন্তান, আমি তোমারই পূর্ণ ইখতিয়ারে এবং তোমারই কুদরতের হাতে রয়েছি। আমার উপর তোমারই আধিপত্য ও কর্তৃত্ব, আমার ব্যাপারে তোমার প্রতিটি ফয়সালা যথার্থ ও ইনসাফপূর্ণ। তোমার দরবারে প্রার্থনা করছি, তোমার সে সব পবিত্র নামের সাহায্যে, যদ্বারা তুমি নিজেকে নিজে অভিহিত করেছো। অথবা তুমি তোমার কিতাবে তা অবতীর্ণ করেছো। অথবা তোমার গায়বের খাস গুপ্তভাণ্ডারে তা গোপন রেখেছো। আমি প্রার্থনা করছি মহান কুরআনকে আমার অন্তরের বাহার এবং আমার দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা ও শোক সন্তাপ বিদূরিতকারী বানিয়ে দাও।”
আল্লাহর যে বান্দা-ই এ কালিমাসমূহের মাধ্যমে দু'আ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার দুর্ভাবনা ও পেরেশানী দূর করে দিয়ে অবশ্যই শান্তি দান করবেন। -(রাযীন)
اَللّٰهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ آمَتِكَ وَفِي قَبْضَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ قَضَاءُكَ أَسْئَلُكَ لِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي مَكْنُونِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ الْعَظِيمَ رَبِيعَ قَلْبِي وَجِلَاءِ هَمِّى وَغَمِّيْ.
"হে আল্লাহ! আমি তোমারই বান্দা তোমারই বান্দার সন্তান, আমি তোমারই পূর্ণ ইখতিয়ারে এবং তোমারই কুদরতের হাতে রয়েছি। আমার উপর তোমারই আধিপত্য ও কর্তৃত্ব, আমার ব্যাপারে তোমার প্রতিটি ফয়সালা যথার্থ ও ইনসাফপূর্ণ। তোমার দরবারে প্রার্থনা করছি, তোমার সে সব পবিত্র নামের সাহায্যে, যদ্বারা তুমি নিজেকে নিজে অভিহিত করেছো। অথবা তুমি তোমার কিতাবে তা অবতীর্ণ করেছো। অথবা তোমার গায়বের খাস গুপ্তভাণ্ডারে তা গোপন রেখেছো। আমি প্রার্থনা করছি মহান কুরআনকে আমার অন্তরের বাহার এবং আমার দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা ও শোক সন্তাপ বিদূরিতকারী বানিয়ে দাও।”
আল্লাহর যে বান্দা-ই এ কালিমাসমূহের মাধ্যমে দু'আ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার দুর্ভাবনা ও পেরেশানী দূর করে দিয়ে অবশ্যই শান্তি দান করবেন। -(রাযীন)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ كَثُرَ هَمُّهُ فَلْيَقُلْ "اللهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، وَابْنُ عَبْدِكَ، وَابْنُ أَمَتِكَ، وَفِىْ قَبْضَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِيْ مَكْنُوْنٍ الْغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ الْعَظِيْمِ رَبِيعَ قَلْبِي، وَجِلَاءَ هَمِّي وَغَمِّىْ مَا قَالَهَا عَبْدٌ قَطُّ إِلَّا أَذْهَبَ اللهُ هَمَّهُ، أَبْدَلَهُ بِهِ فَرَجًا" (رواه ابن رزين)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিপদ-আপদকালে পাঠ করার দু'আ সমুহ
এ পৃথিবীতে মানুষ অনেক সময় কঠিন বিপদ-আপদের সম্মুখীন হয়। এতে এ মঙ্গলটি নিহিত রয়েছে যে, এসব পরীক্ষা ও কঠিন সাধনার দ্বারা ঈমানদারদের শিক্ষা হয় এবং এগুলো তাদের আল্লাহমুখী হওয়ার এবং আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উন্নতি-অগ্রগতির ওসীলা স্বরূপ এবং আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তির হেতু হয়ে যায়। এ সব দু'আর কয়েকটি নিম্নে দেয়া হলো।
এ পৃথিবীতে মানুষ অনেক সময় কঠিন বিপদ-আপদের সম্মুখীন হয়। এতে এ মঙ্গলটি নিহিত রয়েছে যে, এসব পরীক্ষা ও কঠিন সাধনার দ্বারা ঈমানদারদের শিক্ষা হয় এবং এগুলো তাদের আল্লাহমুখী হওয়ার এবং আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উন্নতি-অগ্রগতির ওসীলা স্বরূপ এবং আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তির হেতু হয়ে যায়। এ সব দু'আর কয়েকটি নিম্নে দেয়া হলো।
১৭৯. হযরত সা'আদ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যুননূন (আল্লাহর নবী ইউনুস আলাইহিস্ সালাম) যখন সমুদ্রগর্ভে মাছের পেটে ছিলেন তখন আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাঁর ফরিয়াদ ছিল এরূপ:
لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
"হে আমার প্রভু! তুমি বিনে কোন উপাস্য নেই (যার কাছে দয়া ভিক্ষা করতে পারি) তুমি পবিত্র (তোমার পক্ষ থেকে কোন যুলুম বা বাড়াবাড়ি নেই) যুলুম ও পাপ তাপ যা সব আমার নিজের।
যে মুসলিম ব্যক্তি নিজের কোন আপদে-সঙ্কট আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করবে আল্লাহ তা'আলা তার দু'আ কবুল করবেন।
-(মুসনাদে আহমদ, জামে' তিরমিযী ও নাসায়ী)
لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
"হে আমার প্রভু! তুমি বিনে কোন উপাস্য নেই (যার কাছে দয়া ভিক্ষা করতে পারি) তুমি পবিত্র (তোমার পক্ষ থেকে কোন যুলুম বা বাড়াবাড়ি নেই) যুলুম ও পাপ তাপ যা সব আমার নিজের।
যে মুসলিম ব্যক্তি নিজের কোন আপদে-সঙ্কট আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করবে আল্লাহ তা'আলা তার দু'আ কবুল করবেন।
-(মুসনাদে আহমদ, জামে' তিরমিযী ও নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِيْ وَقَّاصٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: دَعْوَةُ ذِي النُّونِ الَّذِىْ دَعَا وَهُوَ فِي بَطْنِ الْحُوتِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ. فَإِنَّهُ لَمْ يَدْعُ بِهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلاَّ اسْتَجَابَ اللَّهُ لَهُ. (رواه احمد والترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিপদ-আপদকালে পাঠ করার দু'আ সমুহ
১৮০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন তোমরা কোন বিষম সঙ্কটে পতিত হবে তখন বলবে:
حَسْبُنَا اللّٰهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
-"আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্ম-বিধায়ক!"
-(ইব্ন মরদুইয়া)
حَسْبُنَا اللّٰهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
-"আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্ম-বিধায়ক!"
-(ইব্ন মরদুইয়া)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا وَقَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ الْعَظِيْمِ فَقُوْلُوْا: حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. (رواه ابن مردويه)
তাহকীক: