রাগের মাথায় তালাক
প্রশ্নঃ ১৬১০১৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার স্বামী রাগ করে বারবার বলে তালাক দিবো দুই কথা হলেই বলে ১ ২ ৩ তালাক ১৪গোষ্টী তালাক
১৩ জুলাই, ২০২৬
X৭W৪+VF৮
৫২ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১. রাগবশত কথায় কথায় তালাক দেওয়া বা ৩ তালাক এবং “১৪ গোষ্ঠী তালাক” বলার বিষয়ে ইসলামের শরীয়তের বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী রাগ তিন পর্যায়ের হতে পারে। নিচে রাগের মাথায় তালাক দেওয়ার হুকুম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
১.হালকা বা স্বাভাবিক রাগ: যেখানে মানুষ কী বলছে তা বুঝতে পারে এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে।
২. মধ্যবর্তী রাগ: রাগ অনেক বেশি, তবে মানুষ পুরোপুরি বেহুঁশ বা পাগল হয়ে যায়নি—কী বলছে তা বুঝতে পারছে।
৩: চরম উন্মাদনা: যেখানে মানুষ রাগের তীব্রতায় মেজাজ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে, সে কী বলছে বা করছে তার কোনো হুঁশ থাকে না (পাগলের মতো অবস্থা)।
হুকুম: প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের রাগে তালাক দিলে তালাক পতিত হয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ যে রাগের কথা বলে, তা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যদি রাগে মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ বিকৃত না হয়ে যায়, তবে মুখ দিয়ে তালাক শব্দ উচ্চারণ করলেই শরীয়তে তালাক কার্যকর হয়ে যায়।
২. কেউ যদি এক বৈঠকে ১, ২, ৩ তালাক দেয় বা বলে "তোকে ৩ তালাক" অথবা "১৪ গোষ্ঠী তালাক", তবে জমহুর (অধিকাংশ) ফুকাহায়ে কেরামের মতে তালাকে মুগল্লাযাহ (চূড়ান্ত তালাক) পতিত হয়ে যায়। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন হয়ে যায়।
এমনিভাবে "যদি এক বাক্যে তিন তালাক দেওয়া হয়, কিংবা এক বৈঠকে পৃথক পৃথক বাক্যে (যেমন: ১, ২, ৩) তিন তালাক দেওয়া হয়, তবে তিন তালাকই পতিত হয়ে যাবে। এবং অন্য কোনো স্বামীর সাথে (শরীয়তসম্মত নিয়মে) বিবাহ আবদ্ধ হওয়া ছাড়া সে (প্রথম) স্বামীর জন্য আর হালাল হবে না।"
সুতরাং আপনার স্বামীর উপরোক্ত কথার দ্বারা আপনাদের মাঝে চুড়ান্ত পর্যায়ের তালাক পতিত হয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন হয়ে গেছে। তাই আপনার জন্য (শরীয়তসম্মত নিয়মে) অন্য কোনো স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছাড়া (প্রথম) স্বামীর সাথে সংসার করা হালাল হবে না।"
হাদীস শরীফে এর ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে:
ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ
"তিনটি বিষয় এমন, যা গাম্ভীর্যের সাথে করলেও চূড়ান্ত, আর ঠাট্টা-মজা বা অহেতুক করলেও চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়: বিবাহ, তালাক এবং তালাক প্রত্যাহার (রুজু)।"
আল-ফাতাওয়া আল-হিনদিয়া (ফাতাওয়া আলমগীরী):
وَإِنْ كَانَ الطَّلَاقُ ثَلَاثًا فِي كَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ أَوْ كَلِمَاتٍ مُتَفَرِّقَاتٍ فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ وَقَعَ الثَّلَاثُ وَحَرُمَتْ عَلَيْهِ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী):
فَإِنَّ الصَّرِيحَ لَا يَحْتَاجُ إلَى النِّيَّةِ... وَيَقَعُ بِهِ الرَّجْعِيُّ وَإِنْ نَوَى الْبَائِنَ أَوْ لَمْ يَنْوِ شَيْئًا
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি মোহাম্মদ আমীর হোসাইন
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন