ইয়া আল্লাহ! ‘দৃঢ় রজ্জু’ যাঁর, সত্য দ্বীন যাঁর, আমি আপনার কাছে হাশর দিবসে নিরাপত্তা চাই এবং আখিরাতে ঐসব মানুষের সাথে জান্নাত চাই, যারা নৈটক্যপ্রাপ্ত, নিয়মিত উপস্থিত, বেশি বেশি রুকু-সিজদাকারী এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী। নিশ্চয়ই আপনি বড় দয়ালু, মেহেরবান এবং নিশ্চয়ই আপনি যা চান করতে পারেন। -কানযুল উম্মাল
ইয়া আল্লাহ! এ-ই প্রার্থনা আর আপনারই কাজ কবুল করা। এ-ই চেষ্টা আর আপনারই উপর ভরসা। ইয়া আল্লাহ! আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও আমার নিজের কাছে সোপর্দ কোরেন না। আর যে সকল উত্তম বস্তু আপনি আমাকে দিয়েছেন, তা আমার কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়েন না।
ইয়া আল্লাহ! আপনি তো এমন ইলাহ নন, যাকে আমরা উদ্ভাবন করেছি, এমন পালনকর্তা নন, যার নাম ক্ষণস্থায়ী, যাকে আমাদের কল্পনাশক্তি সৃষ্টি করেছে, না হুকুম ও ফায়সালায় আপনার কোনো সঙ্গী-শরীক আছে, না আপনার আগে আমাদের কোনো ইলাহ ছিল, যার কাছে আমরা আশ্রয় নিতে পারি আপনাকে ছেড়ে। না আমাদের সৃষ্টি করার বিষয়ে কেউ আপনাকে সাহায্য করেছে যে, তাকে আপনার শরীক মনে করতে পারি। আপনি তো বরকতময়, সুউচ্চ। সুতরাং ইয়া আল্লাহ—যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই! আপনার কাছে মিনতি, আমাকে আপনি মাফ করে দিন।
ইয়া আল্লাহ! ঐ যুগ যেন আমাকে না পায় এবং এরাও যেন ঐ যুগ পর্যন্ত না পৌঁছায়, যে যুগে না ইলমওয়ালার অনুসরণ করা হবে, না ভদ্র ও সহনশীলের লেহায করা হবে। তাদের অন্তর হবে আজমীদের আর ভাষা আরবীদের।
ইয়া আল্লাহ! আপনার নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি, আপনি কখনো এর অন্যথা কোরেন না। আমি তো একজন মানবমাত্র। সুতরাং যে মুসলিমকেই আমি কষ্ট দেই বা কটু কথা বলি কিংবা প্রহার করি বা অভিশাপ দেই আপনি একে তার জন্য কোরেন আশীর্বাদ ও পবিত্রতা এবং আপনার নৈকট্যের উপায়।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি কুষ্ঠ থেকে; জেদাজেদি, কপটতা ও কুপ্রবণতা থেকে এবং ঐ সকল বিষয়ের অনিষ্ট থেকে, যা আপনার জানা। আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি দোযখীদের অবস্থা (বৈশিষ্ট্য) থেকে ও দোযখ থেকে এবং ঐ সকল কথা ও কাজ থেকে, যা দোযখের নিকটবর্তী করে। আর ঐ সকল কিছুর অনিষ্ট থেকে, যা আপনার কব্জায়। আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সকল অমঙ্গল থেকে, যা আছে আজকের দিবসে এবং ঐ সকল অমঙ্গল থেকে, যা আছে তার পরে। আর আপন প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও শিরক থেকে। (আরো আশ্রয় চাই) নিজেদের উপর কোনো অমঙ্গল টেনে আনা থেকে বা কোনো মুসলিমকে অমঙ্গলের শিকার করা থেকে এবং (আরো আশ্রয় চাই) এমন ভুল ও পাপ করা থেকে, যা আপনি মাফ করবেন না এবং (আরো আশ্রয় নিচ্ছি) কিয়ামত দিবসের সংকট ও সংকীর্ণতা থেকে।
ইয়া আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন এবং মাফ করুন সকল মুমিন নর-নারী ও সকল মুসলিম নারী-পুরুষকে এবং তাদেরকে সংশোধন করুন, তাদের মাঝে সৌহার্দ সৃষ্টি করুন, তাদের হৃদয়সমূহে সম্প্রীতি দান করুন, তাদের অন্তরে ঈমান ও হিকমত দান করুন, তাদেরকে আপনার রাসূলের দীনের উপর অটল রাখুন। আপনি তাদের যে নেয়ামত দিয়েছেন, তার শোকর করার তাওফীক তাদের দান করুন, যে অঙ্গীকার তাদের কাছ থেকে নিয়েছেন, তা পূরণ করার তাওফীক দিন আর তাদেরকে আপনার ও তাদের শত্রুর উপর বিজয়ী করুন। হে সত্য মাবুদ! আপনি পবিত্র, আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আমার গুনাহ মাফ করুন, আমার আমল শুদ্ধ করুন। নিশ্চয়ই আপনি যার গুনাহসমূহ ইচ্ছা মাফ করে থাকেন। আপনিই তো পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। হে ক্ষমাকারী! আমায় ক্ষমা করুন। হে তাওবা কবুলকারী! আমার তাওবা কবুল করুন। হে পরম দয়ালু! আমার উপর দয়া করুন। হে ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করুন। হে মেহেরবান! আমার প্রতি মেহেরবানী করুন। পরওয়ারদেগার! আমাকে তাওফীক দিন, যে নেয়ামত আমাকে দান করেছেন আমি যেন তার শোকর করতে পারি। আমাকে শক্তি দিন, আপনার ইবাদত যেন আমি উত্তমরূপে করতে পারি। পরওয়ারদেগার! আপনার কাছে প্রার্থনা করছি সকল কল্যাণ। পরওয়ারদেগার! আমার সূচনা কল্যাণের সাথে করুন, সমাপ্তিও কল্যাণের সাথে করুন। আর আমাকে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করুন। ঐদিন (হিসাব-দিবসে) যাদের আপনি অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন, নিশ্চয়ই তার প্রতি করুণাই করবেন। আর এ-ই তো পরম সাফল্য।
ইয়া আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনার, সকল কৃতজ্ঞতা আপনার, গোটা রাজত্ব আপনার, সকল সৃষ্টি আপনার। আপনারই হাতে সকল কল্যাণ আর আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তিত সকল বিষয়। আমি আপনার কাছে সকল কল্যাণ চাই এবং আপনার কাছে সকল অকল্যাণ থেকে পানাহ চাই।
ঐ আল্লাহর নামের (বরকতে), যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। ইয়া আল্লাহ! আমাকে নিষ্কৃতি দিন দুঃখ ও দুশ্চিন্তা থেকে। ইয়া আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা লয়ে ফিরি এবং আপন গুনাহ স্বীকার করি।
ইয়া আল্লাহ! মাবুদ আমার! মাবুদ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের। মাবুদ জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফীলের! আপনার কাছে মিনতি, আমার ডাকে সাড়া দিন, আমি তো নিরুপায়, মজবুর। দ্বীনের বিষয়ে আমাকে রক্ষা করুন, আমি তো বিপদগ্রস্ত। আমাকে আপনার রহমত দিন, আমি তো গুনাহগার। আর আমার দরিদ্রতা দূর করুন, আমি তো অসহায়।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি ভিখারীর অধিকারে। নিশ্চয়ই ভিখারীর আছে আপনার উপর অধিকার। জলে-স্থলে যে দাস বা দাসীর দু‘আ আপনি কবুল করেছেন ও তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, তাদের উত্তম প্রার্থনায় আমাদের শামিল করুন আর আমাদের উত্তম দু‘আয় তাদের শামিল করুন। আপনি আমাদের ও তাদের শান্তি দিন, আমাদের ও তাদের দু‘আসমূহ কবুল করুন, আমাদের ও তাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি ঐ সবকিছুর উপর, যা আপনি নাযিল করেছেন আর আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আমাদেরও সাক্ষ্যদানকারীগণের মাঝে লিপিবদ্ধ করুন।
ইয়া আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘অসিলা’র মাকাম দান করুন। নির্বাচিত মানবমণ্ডলীর মাঝে তাঁকে প্রিয়পাত্র করুন, অতিউচ্চদের মাঝে তাঁর স্থান দান করুন আর নৈকট্যপ্রাপ্তদের মাঝে তাঁর নাম-যশ প্রতিষ্ঠিত করুন।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তাওফীক চাই হেদায়েতপ্রাপ্তদের মতো, আমল চাই ইয়াকীনওয়ালাদের মতো; ইখলাস চাই তাওবাকারীদের মতো; মনোবল চাই ধৈর্য্যশীলদের মতো; প্রচেষ্টা চাই খোদাভীরুদের মতো আর চাই আশিকদের প্রার্থনা, পরহেজগারদের বন্দেগী ও ইলমওয়ালাদের মারিফাত আপনার সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত।
দু'আর বিষয়সমূহ
40টি বিষয় পাওয়া গেছে