ইয়া আল্লাহ! আমাকে ইসলামের সাথে রাখুন দাঁড়ানো অবস্থায়, ইসলামের সাথে রাখুন বসা অবস্থায়, ইসলামের সাথে রাখুন শায়িত অবস্থায়।৭৫ আর আমার বিপদে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ দিয়েন না কোনো দুশমনকে আর না কোনো হিংসুককে। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ঐ সকল কল্যাণ চাই, যার খাযানা আপনার কুদরতী হাতে এবং আপনার কাছে ঐ কল্যাণও চাই, যা সম্পূর্ণই আপনার কুদরতী হাতে।৭৬
ইয়া আল্লাহ! আমি দুর্বল। আপনার রেযামন্দির বিষয়ে শক্তিতে পরিণত করুন আমার দুর্বলতাকে। আমাকে ঝুটি ধরে কল্যাণের দিকে আকর্ষণ করুন। ইসলামকেই আমার পরম সন্তুষ্টির বিষয় করুন। আমি তো হীন, আমাকে মর্যাদা দিন। আমি তো ভিখারী, আমাকে রিযিক দিন।৮১
ইয়া আল্লাহ! আমাকে এমন করুন যে, আপনার বড় শোকর করি, আপনার যিকির বেশি করি, আপনার উপদেশ মেনে চলি আর আপনার আদেশ মনে রাখি। ইয়া আল্লাহ! আমাদের হৃদয়, আমাদের ঝুঁটি ও আমাদের অঙ্গসমূহ আপনারই কব্জায়। এর কোনো কিছুর উপরই আমাদের ক্ষমতা দেননি। সুতরাং আপনি যখন আমাদের সাথে এ-ই করেছেন, তখন আপনিই হোন আমাদের সাহায্যকারী এবং আমাদেরকে প্রদর্শন করুন সোজা পথ।১১৬
ইয়া আল্লাহ! পবিত্র করে দিন আমার অন্তরকে নিফাক থেকে, আমার আমলকে রিয়া থেকে, আমার যবানকে মিথ্যা থেকে আর আমার চোখকে খিয়ানত থেকে। আপনার অজানা নয় চোখের পাপদৃষ্টি ও অন্তরের অভিপ্রায়।১২৪
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ফয়সালায় রাজি-খুশি রাখুন আর যা কিছু আমার জন্য ধার্য হয়েছে, তাতে আমার জন্য বরকত দিন, যেন আপনি যা বিলম্বে রেখেছেন, তাতে আমি ত্বরা না করি আর যা আপনি অবিলম্বে রেখেছেন, তাতে বিলম্ব অন্বেষণ না করি।১২৯
ইয়া আল্লাহ! আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, সকল দুশ্চিন্তা দূর করুন, সকল ঋণ পরিশোধ করুন আর দুনিয়া-আখিরাতের সকল প্রয়োজন পূরণ করুন। হে সব দয়ালুর বড় দয়ালু! ৭৭
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই উত্তম প্রার্থনা, উত্তম দু‘আ ও শ্রেষ্ঠ সাফল্য; উৎকৃষ্ট কর্ম ও উত্তম প্রতিদান; কল্যাণপূর্ণ জীবন ও কল্যাণময় মৃত্যু। আমাকে অবিচল রাখুন ও আমার নেকির পাল্লা ভারী করুন। আমার ঈমানকে সত্য করুন ও আমার মর্তবা বুলন্দ করুন। আর কবুল করুন আমার নামায। আমি আপনার কাছে চাই জান্নাতের বুলন্দ মাকাম। আমীন।৮২ ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণের সূচনাসমূহ ও সমাপ্তিসমূহ এবং কল্যাণগর্ভ বিষয়সমূহ এবং প্রার্থনা করি প্রথম কল্যাণ ও শেষ কল্যাণ; প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কল্যাণ।৮৩ ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে সকল কাজে কল্যাণ চাই, যা আমি সম্পন্ন করি অঙ্গের দ্বারা কিংবা অন্তর দ্বারা এবং ঐ বিষয়ের কল্যাণ, যা প্রকাশিত এবং ঐ বিষয়েরও, যা অপ্রকাশিত।৮৪
ইয়া আল্লাহ! আপনার আশ্রয় নিচ্ছি মন্দ চরিত্র ও মন্দ কর্ম থেকে এবং মন্দ প্রবৃত্তি ও মন্দ রোগ থেকে। আমরা আপনার আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সকল বিষয় থেকে, যা থেকে আপনার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং (আশ্রয় নিচ্ছি) আবাসস্থলের অসৎ পড়শি থেকে। কারণ, সফরের সঙ্গী তো কিছু সময় পর আলাদা হয়ে যায়। এবং (আশ্রয় নিচ্ছি) দুশমনের প্রাবল্য থেকে, শত্রুর তৃপ্তির হাসি থেকে, অনাহার থেকে। কারণ, সে তো মন্দ ‘শয্যাসঙ্গী’। (প্রচণ্ড ক্ষুধার সময় ঘুম কিভাবে আসবে? এ পাশ-ওপাশ করেই তো রাত কেটে যায়। এথেকে ক্ষুধাকে আরবী ভাষায় ‘শয্যাসঙ্গী’ কল্পনা করা হয়েছে।) খিয়ানত থেকে। কারণ, সে তো নিকৃষ্ট ‘পরামর্শক’। (আশ্রয় নিচ্ছি) পশ্চাদপসরণ থেকে এবং ফিতনায় নিপতিত হয়ে দীন থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল ফিতনা থেকে এবং মন্দ দিবস ও মন্দ রজনী থেকে এবং মন্দ মুহূর্ত থেকে ও মন্দ সঙ্গী থেকে।১১৩
ইয়া আল্লাহ! আমার কাছে আপনার ভালোবাসাই যেন হয় সবকিছু থেকে প্রিয়। আর আপনার ভয়ই যেন হয় সকল ভয়ের বড় ভয়। আর আপনার সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতার মাধ্যমে দুনিয়ার প্রয়োজনসমূহ আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করুন আর যখন দুনিয়াওয়ালাদের চক্ষু তাদের দুনিয়া দ্বারা শীতল করেছেন, তখন আমার চোখ আপনার ইবাদত দ্বারা শীতল করুন।১১৭
ইয়া আল্লাহ! তামাম মুশকিল আসান করে আমার উপর রহম করুন। কারণ, মুশকিল আসান করা আপনার পক্ষেই সহজ।১২২ (সুতরাং এই দরখাস্ত মঞ্জুর করা আপনার জন্য কোনো বিষয়ই নয়) আমি আপনার কাছে চাই দুনিয়া ও আখিরাতের সহজতা ও নিরাপত্তা।১২৩ ইয়া আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
ইয়া আল্লাহ! আমাকে দান করুন ঐ বর্ষণকারী চোখ, যা আপনার ভয়ে প্রবাহিত অশ্রুধারায় হৃদয়কে সজীব করে ঐ সময় আসার আগে যখন অশ্রু পরিণত হবে রক্তে আর মাঢ়ি পরিণত হবে অঙ্গারে।১২৫
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার কুদরত দ্বারা শান্তি ও নিরাপত্তা দিন, আমাকে আপনার রহমতের মাঝে দাখিল করুন, আমার জীবন আপনার আনুগত্যের মাঝে অতিবাহিত করুন, আমার সর্বোত্তম আমলের মাঝে আমার (জীবনের) সমাপ্তি দান করুন এবং এর বিনিময়ে আমাকে জান্নাত নসীব করুন।১২৬
ইয়া আল্লাহ! দুশ্চিন্তা দূরকারী! অনুতাপ বিদূরণকারী! অসহায়ের ফরিয়াদ শ্রবণকারী! দুনিয়া-আখিরাতের রহমান ও রহীম! আপনিই আমার উপর রহম করবেন। সুতরাং আমার উপর এমন রহম করুন, যার দ্বারা আমাকে অন্য সবার রহম থেকে বেনিয়ায করবেন।
ইয়া আল্লাহ! আপনার নাম ‘সালাম’, আপনার নিকট থেকেই শান্তির সূচনা আর আপনার কাছেই প্রত্যাবর্তিত শান্তি ও নিরাপত্তা। হে প্রতাপ ও মর্যাদার মালিক! আপনার কাছে আবেদন, আমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করুন, আমাদের ইচ্ছা পূরণ করুন, আপন মাখলুকের মধ্যে যাদের আপনি আমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন, আমাদেরও তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিন। (কারণ, মাখলুকের মুখাপেক্ষী হওয়ার মাঝে তো লাঞ্ছনা থাকেই।)১২৮
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে