আল্লাহ! আমার ঐ সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আমি আগে করেছি এবং যা পরে করেছি; যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি; আর ঐ সকল গুনাহও ক্ষমা করুন যে সম্পর্কে আপনি আমার চেয়ে অধিক অবগত। (কারণ, হতে পারে, আমি তা ভুলে গেছি; কিন্তু আপনি ভুলেন না। হতে পারে, তা অবচেতনে রয়েছে; কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে তো চেতন-অবচেতনের প্রশ্নই অবান্তর)।৬০
ইয়া আল্লাহ! আমাকে ইসলামের সাথে রাখুন দাঁড়ানো অবস্থায়, ইসলামের সাথে রাখুন বসা অবস্থায়, ইসলামের সাথে রাখুন শায়িত অবস্থায়।৭৫ আর আমার বিপদে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ দিয়েন না কোনো দুশমনকে আর না কোনো হিংসুককে। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ঐ সকল কল্যাণ চাই, যার খাযানা আপনার কুদরতী হাতে এবং আপনার কাছে ঐ কল্যাণও চাই, যা সম্পূর্ণই আপনার কুদরতী হাতে।৭৬
ইয়া আল্লাহ! আমি দুর্বল। আপনার রেযামন্দির বিষয়ে শক্তিতে পরিণত করুন আমার দুর্বলতাকে। আমাকে ঝুটি ধরে কল্যাণের দিকে আকর্ষণ করুন। ইসলামকেই আমার পরম সন্তুষ্টির বিষয় করুন। আমি তো হীন, আমাকে মর্যাদা দিন। আমি তো ভিখারী, আমাকে রিযিক দিন।৮১
ইয়া আল্লাহ! আমাকে এমন করুন যে, আপনার বড় শোকর করি, আপনার যিকির বেশি করি, আপনার উপদেশ মেনে চলি আর আপনার আদেশ মনে রাখি। ইয়া আল্লাহ! আমাদের হৃদয়, আমাদের ঝুঁটি ও আমাদের অঙ্গসমূহ আপনারই কব্জায়। এর কোনো কিছুর উপরই আমাদের ক্ষমতা দেননি। সুতরাং আপনি যখন আমাদের সাথে এ-ই করেছেন, তখন আপনিই হোন আমাদের সাহায্যকারী এবং আমাদেরকে প্রদর্শন করুন সোজা পথ।১১৬
ইয়া আল্লাহ আমাদের অন্তরে প্রীতির সঞ্চার করুন এবং পরস্পরের সম্পর্ক সদ্ভাবপূর্ণ করুন। আমাদের সম্মুখে শান্তি ও নিরাপত্তার পথসমূহ খুলে দিন এবং সকল অন্ধকার থেকে মুক্ত করে এক আলোর দিকে পরিচালিত করুন। আমাদের দূরে রাখুন প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা ও গর্হিত কর্ম থেকে এবং বরকত দান করুন আমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিতে, আমাদের কলব ও হৃদয়ে, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মাঝে। আর আমাদের তাওবা কবুল করুন। নিঃসন্দেহে আপনিই তাওবা কবুলকারী, মেহেরবান। আমাদের করুন আপনার নেয়ামতের শোকরকারী, গুণ-গানকারী ও তা গ্রহণকারী। আর তা আমাদের জন্য পূর্ণ করুন।৫৮
ইয়া আল্লাহ! আমাদের দিন আপনার এ পরিমাণ ভয়, যা দ্বারা আপনি আমাদের নাফরমানি থেকে বিরত রাখবেন এবং এ পরিমাণ আনুগত্য, যা দ্বারা আপনি আমাদের জান্নাতে দাখিল করবেন এবং এ পরিমাণ বিশ্বাস, যা দ্বারা দুনিয়ার বিপদাপদ আমাদের জন্য সহজ করে দিবেন। আর ততদিন আমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও সকল সক্ষমতা অটুট রাখেন, যতদিন আমাদের জীবিত রাখেন এবং এর কল্যাণ আমাদের পরেও জারি রাখবেন। যে আমাদের উপর জুলুম করে, তার উপর আমাদের পক্ষ হতে প্রতিশোধ নিন এবং যে আমাদের সাথে দুশমনি করে, তার বিরুদ্ধে আমাদের জয়যুক্ত করুন। দ্বীনের বিষয়ে আমাদের বিপদগ্রস্ত কোরেন না, দুনিয়াকে বানাবেন না আমাদের প্রধান মাকসুদ এবং না জ্ঞানের শেষ সীমা ও না চূড়ান্ত আগ্রহের বিষয় আর আমাদের উপর এমন কাউকে আরোপ কোরেন না, যে আমাদের প্রতি রহমদিল নয়। (কোনো জালিম শাসক বা অন্য কিছু)।৬১
আয় আল্লাহ! আমাদের বৃদ্ধি করুন, হ্রাস কোরেন না। সম্মান দিন, লাঞ্ছিত কোরেন না। আমাদের দান করুন, বঞ্চিত কোরেন না। আমাদের প্রাধান্য দিন, আমাদের বিরুদ্ধে অন্যদের প্রাধান্য দিয়েন না। আমাদের রাজি-খুশি রাখুন এবং আপনিও আমাদের উপর রাজি-খুশি থাকুন।৬২
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি অটল ঈমান, অশেষ নেয়ামত এবং জান্নাতে উচ্চতম স্থানে, জান্নাতুল খুলদে আপনার নবী মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) সঙ্গ।৬৯
ইয়া আল্লাহ! আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, সকল দুশ্চিন্তা দূর করুন, সকল ঋণ পরিশোধ করুন আর দুনিয়া-আখিরাতের সকল প্রয়োজন পূরণ করুন। হে সব দয়ালুর বড় দয়ালু! ৭৭
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই উত্তম প্রার্থনা, উত্তম দু‘আ ও শ্রেষ্ঠ সাফল্য; উৎকৃষ্ট কর্ম ও উত্তম প্রতিদান; কল্যাণপূর্ণ জীবন ও কল্যাণময় মৃত্যু। আমাকে অবিচল রাখুন ও আমার নেকির পাল্লা ভারী করুন। আমার ঈমানকে সত্য করুন ও আমার মর্তবা বুলন্দ করুন। আর কবুল করুন আমার নামায। আমি আপনার কাছে চাই জান্নাতের বুলন্দ মাকাম। আমীন।৮২ ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণের সূচনাসমূহ ও সমাপ্তিসমূহ এবং কল্যাণগর্ভ বিষয়সমূহ এবং প্রার্থনা করি প্রথম কল্যাণ ও শেষ কল্যাণ; প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কল্যাণ।৮৩ ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে সকল কাজে কল্যাণ চাই, যা আমি সম্পন্ন করি অঙ্গের দ্বারা কিংবা অন্তর দ্বারা এবং ঐ বিষয়ের কল্যাণ, যা প্রকাশিত এবং ঐ বিষয়েরও, যা অপ্রকাশিত।৮৪
ইয়া আল্লাহ! আপনার আশ্রয় নিচ্ছি মন্দ চরিত্র ও মন্দ কর্ম থেকে এবং মন্দ প্রবৃত্তি ও মন্দ রোগ থেকে। আমরা আপনার আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সকল বিষয় থেকে, যা থেকে আপনার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং (আশ্রয় নিচ্ছি) আবাসস্থলের অসৎ পড়শি থেকে। কারণ, সফরের সঙ্গী তো কিছু সময় পর আলাদা হয়ে যায়। এবং (আশ্রয় নিচ্ছি) দুশমনের প্রাবল্য থেকে, শত্রুর তৃপ্তির হাসি থেকে, অনাহার থেকে। কারণ, সে তো মন্দ ‘শয্যাসঙ্গী’। (প্রচণ্ড ক্ষুধার সময় ঘুম কিভাবে আসবে? এ পাশ-ওপাশ করেই তো রাত কেটে যায়। এথেকে ক্ষুধাকে আরবী ভাষায় ‘শয্যাসঙ্গী’ কল্পনা করা হয়েছে।) খিয়ানত থেকে। কারণ, সে তো নিকৃষ্ট ‘পরামর্শক’। (আশ্রয় নিচ্ছি) পশ্চাদপসরণ থেকে এবং ফিতনায় নিপতিত হয়ে দীন থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল ফিতনা থেকে এবং মন্দ দিবস ও মন্দ রজনী থেকে এবং মন্দ মুহূর্ত থেকে ও মন্দ সঙ্গী থেকে।১১৩
ইয়া আল্লাহ! আমার কাছে আপনার ভালোবাসাই যেন হয় সবকিছু থেকে প্রিয়। আর আপনার ভয়ই যেন হয় সকল ভয়ের বড় ভয়। আর আপনার সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতার মাধ্যমে দুনিয়ার প্রয়োজনসমূহ আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করুন আর যখন দুনিয়াওয়ালাদের চক্ষু তাদের দুনিয়া দ্বারা শীতল করেছেন, তখন আমার চোখ আপনার ইবাদত দ্বারা শীতল করুন।১১৭
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে