দু’আ

মোট দু’আ - ৬৩৬ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

১.

দু‘আ-৮

رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیْ لِلْاِیْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَاٰمَنَّا ۖۗ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَ بْرَارِۚ۝۱۹۳
উচ্চারণঃ

রাব্বানা-ইন্নানা-ছামি‘না-মুনা-দিআইঁ ইউনা-দী লিল ঈমা-নি আন আ-মিনূবিরাব্বিকুম ফাআমান্না-রাব্বানা-ফাগফিরলানা-যুনূবানা-ওয়াকাফফির‘আন্না-ছাইয়িআ-তিনাওয়াতাওয়াফফানা-মা‘আল আব রা-র।

অর্থঃ

হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করে বলতে শুনেছি, ‘ঈমান আন তোমাদের পালনকর্তার উপর’ তখন আমরা ঈমান এনেছি (এ ঈমানের প্রতিদান আমাদের দান করুন)। হে আমাদের পরওয়ারদেগার! এরপর (আবেদন এই যে) আমাদের (বড় বড়) গুনাহ মাফ করুন এবং আমাদের (ছোট ছোট) ভুল-ত্রুটিও মার্জনা করুন। আর নেককারদের সাথে আমাদের মৃত্যু নসীব করুন। (নেককারদের মতো শুভ পরিণামও একটি নেয়ামত)।

২.

বিছানায় শুয়ে পড়বে-৪

বিছানায় শুয়ে সুবহা-নাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৪ বার।

৩.

দু‘আ-৭২

اَللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِّيْ، وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِّيْ، وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِيْ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَسْأَ لُكَ كَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِيْ الرِّضٰى وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَ لُكَ نَعِيْمًا لَّا يَنْفَدُ، وَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَّا تَنْقَطِـعُ، وَأَسْأَ لُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَآءِ، وَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، ولَذَّةَ النَّظَرِ إِلٰى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلٰى لِقَآئِكَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ ضَرَّآءَ مُضِرَّةٍ وَّ فِتْنَةٍ مُّضِلَّةٍ. اَللّٰهُمَّ زَيِّنَّا بِزِيْنَةِ الْإِيْمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُّهْتَدِيْنَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আপনি যে আলিমুল গাইব, আপনি যে সৃষ্টির উপর ক্ষমতাবান, এ অসিলায় প্রার্থনা করি, আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতদিন আপনার জ্ঞানে জীবন আমার জন্য কল্যাণকর আর আমাকে উঠিয়ে নিন যখন আপনার জ্ঞানে মৃত্যু আমার জন্য উত্তম। আপনার কাছে প্রার্থনা, আপনাকে যেন ভয় করি গোপনে ও প্রকাশ্যে এবং ইখলাসের কথা বলি ক্রোধে ও আনন্দে (কারণ, এ দুই সময় হচ্ছে আবেগের তাড়নায় ভেসে যাওয়ার সময়)। প্রার্থনা করছি ঐ নেয়ামত, যা নিঃশেষ হবে না এবং ঐ আনন্দ, যার সমাপ্তি ঘটবে না। আপনার কাছে প্রার্থনা, যেন আপনার ফয়সালায় রাজি থাকি এবং মৃত্যুর পর শান্তির জীবন লাভ করি আর লাভ করি আপনার দর্শন-আনন্দ এবং আপনার সাক্ষাতের ব্যাকুলতা। আপনার কাছে আশ্রয় নিই কষ্টদায়ক বিপদ থেকে ও ভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে। ইয়া আল্লাহ! আমাদেরকে করুন ঈমানের শোভায় সুশোভিত এবং সুপথপ্রাপ্ত, পথের দিশারী (যেন নিজেরাও সুপথে থাকি, অন্যদেরও সুপথ প্রদর্শন করি)।

৪.

দু‘আ-২৯

رَبِّ اَوْزِعْنِیْۤ اَنْ اَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنْ اَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضٰىهُ وَ اَدْخِلْنِیْ بِرَحْمَتِكَ فِیْ عِبَادِكَ الصّٰلِحِیْنَ۝۱۹
উচ্চারণঃ

রাব্বি আওঝি‘নীআন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতীআন‘আমতা ‘আলাইইয়া ওয়া ‘আলা-ওয়া-লিদাইইয়া ওয়াআন আ‘মালা সালিহান তারদা-হু ওয়া আদখিলনী বিরাহমাতিকা ফী ‘ইবাদিকাসসা-লিহীন।

অর্থঃ

পরওয়ারদেগার! আমাকে আপনার ঐ নেয়ামতের শোকরগোযারির উপর থাকার তাওফীক দিন, যা আপনি দান করেছেন আমাকে ও আমার পিতামাতাকে এবং তাওফীক দিন ঐ নেক আমলের উপর থাকার, যা হবে আপনার পছন্দের। আর নিজ করুণায় আমাকে শামিল করুন আপনার নেককার বান্দাদের মধ্যে।

৫.

দু‘আ-৩৫

اَنِّیْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ۝۱۰
অর্থঃ

(পরওয়ারদেগার!) আমি পরাজিত। সুতরাং (আমার পক্ষ হতে) প্রতিশোধ নিন।

৬.

দু‘আ-৩৬

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ وَ لَا تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّكَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ۠۝۱۰
অর্থঃ

হে আমাদের পরওয়ারদেগার! ক্ষমা করুন আমাদেরকে এবং আমাদের ঐ ভাইদেরকে, যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে চলে গেছে আর আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি বিদ্বেষ দিয়েন না। হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আপনি তো দয়াশীল, মেহেরবান। (আমাদের উপর আপনার দয়া ও করুণার ছায়াপাত ঘটিয়ে দিন। তাহলে আমাদের অন্তরগুলোও পরস্পর মিলিত হবে এবং পরস্পরের প্রতি কল্যাণকামিতায় পরিপূর্ণ থাকবে)।

৭.

দু‘আ-৪৪

إِنَّا نَسْأَلُكَ عَزَآئِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَمُنْجِيَاتِ أَمْرِكَ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَالْغَنِيْمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالْفَوْزَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ .
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে চাই আপনার মাগফিরাতের উপায়সমূহ ও নাজাতদানকারী আমলসমূহ এবং (আপনার কাছে চাই) সকল গুনাহ থেকে মুক্তি ও সকল ভালো কাজের তাওফীক; আর (প্রার্থনা করি) বেহেশতে যাওয়া ও দোযখ থেকে নাজাত পাওয়া।

৮.

দু‘আ-১৯৪

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ إِِيْمَانًا دَآئِمًا، وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا خَاشِعًا، وأَسْأَلُكَ عِلْمًا نَّافِعًا، وَأَسْأَلُكَ يَقِيْنًا صَادِقًا، وَأَسْأَلُكَ دِيْنًا قَيِّمًا، وَأَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ مِنْ كُلِّ بَلِيَّةٍ، وَأَسْأَلُكَ تَمَامَ الْعَافِيَةِ، وَأَسْأَلُكَ دَوَامَ الْعَافِيَةِ، وَأَسْأَلُكَ الشُّكْرَ عَلَى الْعَافِيَةِ، وَأَسْأَلُكَ الْغِنٰى عَنِ النَّاسِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تُبْتُ إِلَيْكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُّ فِيْهِ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَاۤ أَعْطَيْتُكَ مِنْ نَّفْسِيْ ثُمَّ لَمْ أُوْفِ لَكَ بِه، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِلنِّعَمِ الَّتِيْ تَقَوَّيْتُ بِهَا عَلٰى مَعَاصِيْكَ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِكُلِّ خَيْرٍ أَرَدْتُّ بِه وَجْهَكَ فَخَالَطَنِيْ فِيْهِ مَا لَيْسَ لَكَ. اَللّٰهُمَّ لَا تُخْزِنِيْ فَإِنَّكَ بِيْ عَالِمٌ، وَلَا تُعَذِّبْنِيْ فَاِنَّكَ عَلَيَّ قَادِرٌ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই স্থায়ী ঈমান ও বিনয়ী হৃদয়। আপনার কাছে চাই উপকারী ইলম, আর আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, সত্য ইয়াকীন (বিশ্বাস)। প্রার্থনা করছি সঠিক দ্বীনদারী। প্রার্থনা করছি সকল বিপদ থেকে মুক্তি। আপনার কাছে চাই সর্বদা সুস্থতা ও নিরাপত্তা। আপনার কাছে চাই সুস্থতা ও নিরাপত্তার উপর শোকরগোজারীর তাওফীক। আর আপনার কাছে চাই মাখলুক থেকে অমুখাপেক্ষিতা। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ঐ গুনাহ থেকে ক্ষমা চাই, যা থেকে তাওবা করে পুনরায় তাতে লিপ্ত হয়েছি। ক্ষমা চাই ঐ অঙ্গীকার সম্পর্কে, যা আপনার সাথে করার পর ভঙ্গ করেছি। ক্ষমা চাই আপনার ঐ সকল নেয়ামতের, যা দ্বারা শক্তি অর্জন করে আপনার নাফরমানীতে লিপ্ত হয়েছি। আর আপনার কাছে ক্ষমা চাই ঐ সকল নেক কাজের বিষয়ে, যা শুধু আপনারই জন্য করতে চাওয়ার পর তাতে অন্যকিছু (যেমন, খ্যাতি ও মর্যাদার লোভ, লৌকিকতা ইত্যাদি।) মিশ্রিত করেছি। ইয়া আল্লাহ! আমাকে অপদস্থ কোরেন না, নিশ্চয়ই আপনি আমার সম্পর্কে অবগত। আমাকে আঘাত দিয়েন না, নিশ্চয়ই আপনি আমার উপর সর্বদিক থেকে ক্ষমতাবান।

৯.

দু‘আ-১৯৫

اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمٰوٰتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، اَللّٰهُمَّ اكْفِنِيْ كُلَّ مُهِمٍّ مِنْ حَيْثُ شِئْتَ، وَ مِنْ أَيْنَ شِئْتَ. حَسْبِيَ اللهُ لِدِيْنِىْ،حَسْبِىَ اللهُ لِدُنْيَايَ، حَسْبِيَ اللهُ لِمَا أَهَمَّنِيْ، حَسْبِيَ اللهُ لِمَنْ بَغٰى عَلَيَّ، حَسْبِيَ اللهُ لِمَنْ حَسَدَنِيْ، حَسْبِيَ اللهُ لِمَنْ كَادَنِيْ بِسُوْٓءٍ، حَسْبِيَ اللهُ عِنْدَ الْمَوْتِ، حَسْبِيَ اللهُ عِنْدَ الْمَسْأَلَةِ فِيْ الْقَبْرِ، حَسْبِيَ اللهُ عِنْدَ الْمِيْزَانِ، حَسْبِيَ اللهُ عِنْدَ الصِّرَاطِ، حَسْبِيَ اللهُ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّـلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! সাত আসমানের মালিক! আরশে আযীমের মালিক! ইয়া আল্লাহ, আমার সকল প্রয়োজনে আপনি যথেষ্ট হোন, যেভাবে আপনি চান, যেখান থেকে চান তা পূরণ করুন। (আমি পুরোপুরি আপনারই ইচ্ছায় সমর্পিত।) আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট আমার দ্বীনের বিষয়ে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট আমার দুনিয়ার বিষয়ে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট আমার সকল মাথাব্যথায়। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট ঐ লোকের ব্যাপারে, যে আমার প্রতি জুলুম করে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট ঐ লোকের ব্যাপারে যে আমাকে হিংসা করে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট ঐ লোকের ব্যাপারে, যে আমার অনিষ্ট সাধনের চক্রান্ত করে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট মৃত্যুর সময়। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট কবরের সওয়ালের সময়। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট মীযানের (পাল্লার) কাছে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট পুলসিরাতে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তারই উপর আমার ভরসা। আর তিনিই মালিক মহান আরশের।

১০.

দু‘আ-১৯৬

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ ثَـوَابَ الشَّاكِرِيْنَ وَنُزُلَ الْمُقَرَّبِيْنَ، وَمُرَافَقَةَ النَّبِيِّيْنَ وَيَقِيْنَ الصِّدِّيْقِيْنَ، وَذِلَّةَ الْمُتَّقِيْنَ، وَإِخْبَاتَ الْمُوْقِنِيْنَ حَتّٰى تَوَفّٰنِيْ عَلٰى ذٰلِكَ يَاۤ أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি শোকরগোজার (বান্দাদের) মতো ছওয়াব এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের মতো মেহমানদারী আর নবীগণের সাহচর্য। প্রার্থনা করছি সিদ্দীকগণের ইয়াকীন, মুত্তাকীদের বিনয় ও বিশ্বাসীদের নম্রতা। এরপর এ অবস্থায় আপনি আমাকে উঠিয়ে নিন হে সকল দয়ালুর বড় দয়ালু!

১১.

দু‘আ-১৯৭

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ بِنِعْمَتِكَ السَّابِقَةِ عَلَيَّ وَبَلَآئِكَ الْحَسَنِ الَّذِيْ ابْتَلَيْتَنِيْ بِه، وَفَضْلِكَ الَّذِيْ فَضَّلْتَ عَلَيَّ أَنْ تُدْخِلَنِيَ الْجَنَّةَ بِمَنِّكَ وَفَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে প্রদত্ত আপনার নেয়ামতের অসিলায়, (প্রত্যেক জীবিত মানবের প্রতিটি লোমকূপ জীবনের প্রতি মুহূর্তে যার সাক্ষ্য দেয়) আমার নিকট থেকে গৃহীত আপনার উত্তম পরীক্ষার অসিলায় এবং আমার উপর কৃত আপনার অনুগ্রহের অসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আপন দান ও করুণায় আমাকে আপনি জান্নাতে দাখিল করুন।

১২.

দু‘আ-৩০

رَبِّ اِنِّیْ لِمَاۤ اَنْزَلْتَ اِلَیَّ مِنْ خَیْرٍ فَقِیْرٌ۝۲۴
উচ্চারণঃ

রাব্বি ইন্নী লিমাআনঝালতা ইলাইইয়া মিন খাইরিন ফাকীর।

অর্থঃ

পরওয়ারদেগার! আপনি আমার জন্য যে কল্যাণ অবতীর্ণ করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।

১৩.

দু‘আ-৩৪

وَ اَصْلِحْ لِیْ فِیْ ذُرِّیَّتِیْ ؕۚ اِنِّیْ تُبْتُ اِلَیْكَ وَ اِنِّیْ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ۝۱۵
অর্থঃ

আর আমার জন্য আমার সন্তানদের মাঝেও (কল্যাণের) যোগ্যতা স্থাপন করুন। আমি তো আপনার দিকে রুজু করেছি এবং আমি ফরমাবরদারদের একজন।

১৪.

দু‘আ-৪১

اَللّٰهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَايَ بِمَآءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّ قَلْبِيْ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! বরফ ও শিলার পানি দ্বারা আমার গুনাহসমূহ ধুয়ে দিন এবং আমার অন্তরকে গুনাহ থেকে এমন পরিষ্কার করুন, যেমন সাদা কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করা হয় আর আমার ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করুন যেমন দূরত্ব আপনি সৃষ্টি করেছেন পূর্ব-পশ্চিমের মাঝে।

১৫.

দু‘আ-৪৮

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ جِدِّيْ وَهَزْلِىْ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমার ঐ সকল গুনাহও মাফ করুন, যা আমার উদ্দেশ্য ছিল এবং ঐ গুনাহও, যা উদ্দেশ্য ছিল না।

১৬.

দু‘আ-২০০

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْۢبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ خُلُقِيْ، وَطَيِّبْ لِيْ كَسْبِيْ، وَقَنِّعْنِيْ بِمَا رَزَقْتَنِيْ، وَلَا تُذْهِبْ طَلَبِيْ إِلٰى شَيْءٍ صَرَفْتَهٗ عَنِّيْ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করুন, আমাকে প্রশস্ত আখলাকের অধিকারী করুন, আমাকে হালাল উপার্জন দান করুন, আপনার প্রদত্ত রুজিতে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন আর যা আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন তার দিকে আমাকে আগ্রহী কোরেন না।

১৭.

দু‘আ-২০১

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْتَجِيْرُكَ مِنْ جَمِيْعِ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْتَ، وَأَحْتَرِسُ بِكَ مِنْهُنَّ، وَاجْعَلْ لِيْ عِنْدَكَ وَلِيْجَةً، وَاجْعَلْ لِيْ عِنْدَكَ زُلْفٰى وَحُسْنَ مَاٰبٍ، وَاجْعَلْنِيْ مِمَّنْ يَّخَافُ مَقَامَكَ وَوَعِيْدَكَ وَيَرْجُوْ لِقَآءَكَ، وَاجْعَلْنِيْ مِمَّنْ يَّتُوْبُ إِلَيْكَ تَوْبَةً نَّصُوْحًا، وَأَسْأَلُكَ عَمَلًا مُتَقَبَّلًا وَّعِلْمًا نَجِيْحًا، وَسَعْيًا مَّشْكُوْرًا وَّتِجَارَةً لَّنْ تَبُوْرَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আমান চাই আপনার সকল সৃষ্টি থেকে আর আপনারই সুরক্ষা গ্রহণ করি তাদের অনিষ্ট থেকে। আপনার কাছে যেন আমার স্থান হয় এবং আপনার কাছে যেন আমার নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তন হয়। আমাকে ঐ সকল মানুষের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা আপনার সামনে দাঁড়ানোকে ও আপনার হুঁশিয়ারীকে ভয় করে এবং আপনার সাক্ষাতের কামনা রাখে এবং ঐ সব মানুষের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা সত্যই আপনার অভিমুখী হয়। আপনার কাছে প্রার্থনা করি মাকবুল আমল, সঠিক ইলম ও ঐ চেষ্টা, যার প্রতিদান পাওয়া যায় এবং ঐ ব্যবসা, যা কখনো মন্দাগ্রস্ত হবে না।

১৮.

দু‘আ-২০৪

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ شَيْئًا وَّأَنَاۤ أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَاۤ أَعْلَمُ بِه، وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ يَّدْعُوَ عَلَيَّ رَحِمٌ قَطَعْتُهَا. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَنْ يَّمْشِيْ عَلٰى بَطْنِه، وَمِنْ شَرِّ مَنْ يَّمْشِيُ عَلٰى رِجْلَيْنِ، وَمِنْ شَرِّ مَنْ يَّمْشِيُ عَلٰۤى أَرْبَعٍ. اَللّٰهُمَّ إِنِّۤيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ اِمْرَأَةٍ تُشَيِّبُنِيْ قَبْلَ الْمَشِيْبِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَّلَدٍ يَّـكُوْنُ عَلَىَّ وَبَالًا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ مَالٍ يَّـكُوْنُ عَلَيَّ عَذَابًا. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الشَّكِّ فِي الْحَقِّ بَعْدَ الْيَقِيْنِ، وَ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ يَوْمِ الدِّيْنِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ مَّوْتِ الْفُجَآءَةِ وَمِنْ لَّدْغِ الْحَيَّةِ وَمِنَ السَّبُعِ وَمِنَ الْغَرَقِ وَمِنَ الْحَرَقِ، وَمِنْ أَنْ أَخِرَّ عَلٰى شَيْءٍ وَّمِنَ الْقَتْلِ عِنْدَ فِرَارِ الزَّحْفِ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! জেনে-শুনে আপনার সাথে কিছুমাত্র শরীক করা থেকে আপনার আশ্রয় চাই আর নিজের অজান্তের শিরক থেকে আপনার কাছে ক্ষমা চাই। আমি আপনার শরণ নিচ্ছি কোনো আত্মীয়ের বদ দু‘আ থেকে, যার আমি হক নষ্ট করেছি। ইয়া আল্লাহ! আপনার আশ্রয় নিচ্ছি বুকের উপর ভর করে চলা প্রাণীর অনিষ্ট থেকে এবং দু’পেয়ে জীব ও চতুষ্পদ জন্তুর অনিষ্ট থেকে। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে ঐ নারী থেকে আশ্রয় নিচ্ছি, যে আমাকে বার্ধক্যের আগেই বৃদ্ধ বানিয়ে দেয়, আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সন্তান থেকে, যে আমার জন্য বিপদ হয়, আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সম্পদ থেকে, যা আমার জন্য আযাব হয়। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি সত্য বিষয়ে বিশ্বাসের পর সন্দেহ থেকে। আশ্রয় নিচ্ছি বিতাড়িত শয়তান থেকে, আশ্রয় নিচ্ছি প্রতিদান দিবসের কাঠিন্য থেকে। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি অকস্মাৎ মৃত্যু থেকে, সর্পদংশিত হওয়া থেকে, হিংস্র প্রাণী থেকে, ডুবে যাওয়া থেকে, অগ্নিদগ্ধ হওয়া থেকে, কোনো কিছুর উপর পড়ে যাওয়া থেকে এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নের সময় নিহত হওয়া থেকে।

১৯.

দু‘আ-১৯২

رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا كَذَا وَ كَذَا، يَا مُؤْنِسَ كُلِّ وَحِيْدٍ! وَيَا صَاحِبَ كُلِّ فَرِيْدٍ! وَيَا قَرِيْبًا غَيْرَ بَعِيْدٍ! وَيَا شَاهِدًا غَيْرَ غَآئِبٍ! وَيَا غَالِبًا غَيْرَ مَغْلُوْبٍ! يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ! يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ! يَا نُوْرَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ! وَيَا زَيْنَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ! يَا جَبَّارَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ! يَا عِمَادَ السَّمٰوٰتِ وَ الْأَرْضِ! يَا بَدِيْعَ السَّمٰوٰتِ وَ الْأَرْضِ، يَا قَيَّامَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ! يَا ذَاالْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ! يَا صَرِيْخَ الْمُسْتَصْرِخِيْنَ! وَمُنْتَهَى الْعَآئِذِيْنَ! وَالْمُفَرِّجُ عَنِ الْمَكْرُوْبِيْنَ! وَالْمُرَوِّحُ عَنِ الْمَغْمُوْمِيْنَ! وَمُجِيْبَ دُعَآءِ الْمُضْطَرِّيْنَ! وَيَا كَاشِفَ الْمَكْرُوْبِ! يَاۤ إِلٰهَ الْعَالَمِيْنَ، وَيَاۤ أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ! مَنْزُوْلٌ بِۢكَ كُلُّ حَاجَةٍ.
অর্থঃ

হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমাদেরকে দুনিয়াতে অমুক অমুক বিষয় দান করুন। (অমুক-অমুক বিষয় স্থলে দু‘আ পাঠকারী যেকোনো জায়েয দুনিয়াবী মাকসাদ চিন্তা করবে।) হে প্রত্যেক নির্জনের স্বজন; প্রত্যেক নিঃসঙ্গের সঙ্গী! হে নিকটবর্তী, যে দূরে নয়, হে উপস্থিত, যে অনুপস্থিত নয়! হে বিজয়ী, যে পরাজিত নয়! হে চিরজীবী, হে রক্ষাকর্তা, হে মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের মালিক! হে আকাশমণ্ডলী ও ভূমির জ্যোতি! হে আকাশমণ্ডলী ও ভূমির শোভা! হে আকাশমণ্ডলী ও ভূমির প্রতাপান্বিত প্রভু! হে আকাশমণ্ডলী ও ভূমি ধারণকারী! হে আকাশমণ্ডলী ও জমির অস্তিত্বদানকারী! হে আকাশমণ্ডলী ও ভূমির অস্তিত্ব রক্ষাকারী! হে মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের অধিকারী! হে ফরিয়াদীদের ফরিয়াদস্থল! শরণার্থীর শেষ আশ্রয়, অস্থিরজনের শান্তিদাতা! চিন্তাগ্রস্তের প্রশান্তিদাতা ও অপারগের প্রার্থনা মঞ্জুরকারী! হে দুর্দশাগ্রস্তের দুর্দশা দূরকারী! হে সর্বজগতের মাবুদ! হে সকল দয়ালুর বড় দয়ালু! আপনারই সমীপে সকল প্রয়োজন। (আপনিই তো ছোট-বড় সকল প্রয়োজন পূরণকারী)।

২০.

দু‘আ-১৯৩

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ خَلَّاقٌ عَظِيْمٌ، إِنَّكَ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ، إِنَّكَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ، إِنَّكَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ. اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ أَنْتَ الْبَرُّ الْجَوَادُ الْكَرِيْمُ، فَاغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ، وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ، وَاسْتُرْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ، وَارْفَعْنِيْ، وَاهْدِنِيْ وَلَا تُضِلَّنِيْ، وَأَدْخِلْنِيَ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِكَ يَاۤ أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ. إِلَيْكَ رَبِّ فَحَبِّبْنِيْ، وَفِيْ نَفْسِيْ لَكَ فَذَلِّلْنِيْ، وَفِۤيْ أَعْيُنِ النَّاسِ فَعَظِّمْنِيْ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَخْلَاقِ فَجَنِّبْنِىْ. اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ سَأَلْتَنَا مِنْ أَنْفُسِنَا مَا لَا نَمْلِكُهٗۤ إِلَّا بِكَ، فَأَعْطِنَا مِنْهَا مَا يُرْضِيْكَ عَنَّا.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি মহিমান্বিত স্রষ্টা। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, অতি মেহেরবান! মহান আরশের অধিপতি। ইয়া আল্লাহ! আপনি তো মহান, দয়ালু, দাতা, আমাকে ক্ষমা করুন, করুণা করুন। আমাকে ‘আফিয়াত’ (সুস্থতা ও বিপদমুক্তি) দিন, রুযী দিন, আমার দোষ ঢেকে রাখুন, আমার ত্রুটি দূর করুন, আমাকে উচ্চতা দিন, হেদায়েত দিন, আমাকে গোমরাহ কোরেন না। আর হে সকল দয়ালুর বড় দয়ালু! নিজ দয়ায় আমাকে জান্নাতে দাখেল করুন। পরওয়ারদেগার! আমাকে আপন করে নিন। আমার অন্তরে আপনার প্রতি আমাকে নত করুন আর মানুষের চোখে আমাকে আপনি সম্মানিত করুন। আর কুস্বভাব থেকে আমাকে দূরে রাখুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের কাছে ঐ সব আমল চেয়েছেন, যার কোনো সাধ্য আমাদের নেই আপনার তাওফীক ছাড়া। সুতরাং আপনিই আমাদের ঐ সকল কাজের তাওফীক দিন, যা আমাদের প্রতি আপনাকে সন্তুষ্ট করবে।