ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে চাই দুনিয়ার নিরাপত্তা, বিপদ থেকে সুরক্ষা এবং দুনিয়া থেকে আপনার রহমতের দিকে যাত্রা।১৮৬ হে ঐ সত্তা যিনি সবার স্থলে যথেষ্ট; কিন্তু তার স্থলে কেউ যথেষ্ট নয়। হে অসহায়ের সহায়, হে অবলম্বনহীনের অবলম্বন! আপনি ছাড়া আর সবার থেকে প্রত্যাশা ছিন্ন হয়েছে। আমাকে ঐ অবস্থা থেকে মুক্তি দিন, যে অবস্থায় আমি আছি আর ঐ বিপদে আমাকে সাহায্য করুন, যা আমার উপর আপতিত হয়েছে। আপনার পবিত্র সত্তার মাহাত্ম্যের অসিলায় এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐ হকের অসিলায়, যা আপনার উপর রয়েছে। আমীন।১৮৭
ইয়া আল্লাহ! আপনার অতন্দ্র দৃষ্টির দ্বারা আমায় সুরক্ষিত করুন, আপনার অপ্রতিদ্বন্দ্বী মহাশক্তির আশ্রয়ে আমায় গ্রহণ করুন আর আমার উপর আপনার যে ক্ষমতা তার দ্বারা আমাকে দয়া করুন, যেন আমি ধ্বংস না হই। আপনিই আমার প্রত্যাশার স্থল। কত নেয়ামত আমায় দিয়েছেন যার শোকরগোজারি আমার পক্ষ থেকে সর্বদাই ছিল কম! কত বিপদ দ্বারা আমায় পরীক্ষা করেছেন, যাতে আমার সবর ছিল সর্বদাই অল্প।১৮৮ হে (মহান), যাঁর নেয়ামতের শোকরগোজারি কম হওয়া সত্ত্বেও আমাকে তিনি বঞ্চিত করেননি! হে (মহান), যাঁর পরীক্ষায় বে-সবর হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমাকে ত্যাগ করেননি! হে (মহান), যিনি আমাকে পাপে লিপ্ত দেখেও লাঞ্ছিত করেননি! (হে মহামহিম! ভবিষ্যতে আমি এমন দয়া ও করুণারই আশাবাদী।)
হে দাতা অনিঃশেষ করুণার, অগণিত দানের! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে, (হযরত) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর ও তাঁর পরিবারের উপর কামেল রহমত নাযিল করুন। আমি আপনারই শক্তিতে আঘাত হানি শত্রু ও শক্তিমানদের বক্ষে।১৮৯
ইয়া আল্লাহ! দুনিয়াকে আমার দ্বীনের জন্য সহায়ক করুন এবং তাকওয়াকে আমার আখিরাতের জন্য।১৯০ আমার দৃষ্টির অগোচরের সকল বিষয়ে আপনি হোন আমার রক্ষাকর্তা। আর যা কিছু আমার দৃষ্টির সম্মুখে তাতেও আমাকে নিজের উপর অর্পণ কোরেন না। হে ঐ সত্তা, গোনাহ যাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারে না আর ক্ষমা যাঁর কোনো কিছু হ্রাস করে না।১৯১ আমাকে ঐ জিনিস দান করুন, যা আপনার কিছুই হ্রাস করবে না। আমাকে মাফ করে দিন, যা আপনার কোনো ক্ষতি করবে না। আপনিই তো বড় দাতা।১৯২ আমি আপনার কাছে চাই আশু মুক্তি ও সুন্দর ধৈর্য,১৯৩ প্রশস্ত রিযিক ও সকল বিপদ থেকে নিরাপত্তা। আমি আপনার কাছে চাই পূর্ণ নিরাপত্তা, চাই স্থায়ী নিরাপত্তা।১৯৪ আর চাই এই শান্তি ও নিরাপত্তার উপর শোকরগোজারির তাওফীক। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি মাখলুকের তরফ থেকে অমুখাপেক্ষিতা। আর সমুচ্চ সুমহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমার না আছে (গুনাহ থেকে) বেঁচে থাকার ক্ষমতা, না আছে (নেক আমল) সম্পাদনের শক্তি।
ইয়া আল্লাহ! আমার ভিতরকে করুন বাহির থেকে উত্তম। আর বাহিরকেও করুন সুস্থ-সুন্দর। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ঐ সকল উত্তম বস্তু প্রার্থনা করি, যা আপনি মানুষকে দান করে থাকেন। যেমন- সম্পদ, সন্তান, পরিবার। আর আমি যেন না হই গোমরাহ বা গোমরাহকারী।১৯৫
ইয়া আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার নির্বাচিত বান্দাদের মাঝে শামিল করুন, যাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল এবং যারা হবেন বরণীয় মেহমান। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে চাই এমন হৃদয়, যা আপনার মাধ্যমে নিশ্চিন্ত থাকে, যে আপনার সাথে সাক্ষাতের ইয়াকীন রাখে, যে আপনার ইচ্ছায় রাজি থাকে এবং আপনার দানে সন্তুষ্ট থাকে।১৯৬
ইয়া আল্লাহ! আপনারই জন্য স্থায়ী প্রশংসা যেমন আপনি স্থায়ী। আপনারই জন্য চিরন্তন প্রশংসা যেমন আপনি চিরন্তন। আপনারই জন্য ঐ গুণগান, যার বিস্তৃতির সীমা নেই আপনার ইচ্ছার আগে। (অর্থাৎ আপনার ইচ্ছার মতোই বিস্তৃত ও অসীম) আপনারই জন্য ঐ গুণগান যে গুণগানকারীর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই আপনার সন্তুষ্টি ছাড়া। আপনারই প্রশংসা প্রতি শ্বাসে, প্রতি পলকে। ইয়া আল্লাহ! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের দিকে ধাবিত করুন এবং নিজ রহমতে আমাদের সর্বদিক থেকে রক্ষা করুন। ইয়া আল্লাহ! আমাকে দৃঢ়পদ রাখুন, যেন পিছলে না যাই। আমাকে হেদায়েত দিন, যেন গোমরাহ না হই।
ইয়া আল্লাহ! যেভাবে আপনি আমার ও আমার অন্তরের মাঝে পর্দা হয়েছেন, সেভাবেই আমার ও শয়তানের মাঝে, তার কর্মের মাঝে পর্দা হয়ে থাকুন।১৯৭ ইয়া আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার অনুগ্রহ দান করুন, আমাদেরকে আপনার রিযিক থেকে বঞ্চিত কোরেন না। আর যে রিযিক আমাদের দান করেছেন, তাতে বরকত দিন। আমাদের অন্তরসমূহকে (মানুষের কাছে যা আছে তা থেকে) অমুখাপেক্ষী করুন আর আপনার কাছে যা আছে সে বিষয়ে লালায়িত করুন।১৯৮
ইয়া আল্লাহ! আমাকে ঐসব মানুষের মাঝে শামিল করুন, যারা আপনার উপর ভরসা করেছে আর আপনি তাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন; যারা আপনার কাছে হেদায়েত চেয়েছে আর আপনি তাদের হেদায়েত দিয়েছেন; যারা আপনার সাহায্য প্রার্থনা করেছে আর আপনি তাদের সাহায্য করেছেন।১৯৯
আসসালামু ‘আলাইকুম ইয়া আহলাল ক্বুবূরি, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম, আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসার।
হে কবরবাসীগণ! আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আপনারা আমাদের পূর্বে গমনকারী। আমরা আপনাদের অনুগামী।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি ভিখারীর অধিকারে। নিশ্চয়ই ভিখারীর আছে আপনার উপর অধিকার।১৬২ জলে-স্থলে যে দাস বা দাসীর দু‘আ আপনি কবুল করেছেন ও তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, তাদের উত্তম প্রার্থনায় আমাদের শামিল করুন আর আমাদের উত্তম দু‘আয় তাদের শামিল করুন। আপনি আমাদের ও তাদের শান্তি দিন, আমাদের ও তাদের দু‘আসমূহ কবুল করুন, আমাদের ও তাদের ক্ষমা করুন।১৬৩ নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি ঐ সবকিছুর উপর, যা আপনি নাযিল করেছেন আর আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আমাদেরও সাক্ষ্যদানকারীগণের মাঝে লিপিবদ্ধ করুন।১৬৪
ইয়া আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘অসিলা’র মাকাম দান করুন। নির্বাচিত মানবমণ্ডলীর মাঝে তাঁকে প্রিয়পাত্র করুন, অতিউচ্চদের মাঝে তাঁর স্থান দান করুন আর নৈকট্যপ্রাপ্তদের মাঝে তাঁর নাম-যশ প্রতিষ্ঠিত করুন।১৬৫
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তাওফীক চাই হেদায়েতপ্রাপ্তদের মতো, আমল চাই ইয়াকীনওয়ালাদের মতো; ইখলাস চাই তাওবাকারীদের মতো; মনোবল চাই ধৈর্য্যশীলদের মতো; প্রচেষ্টা চাই খোদাভীরুদের মতো আর চাই আশিকদের প্রার্থনা, পরহেজগারদের বন্দেগী ও ইলমওয়ালাদের মারিফাত আপনার সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত।১৬৮
ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার ভয়, যেন আপনার নাফরমানি থেকে বিরত থাকি। এবং ফরমাবরদারির দ্বারা আপনার রেযামন্দির হক্বদার হই এবং যেন আপনার ভয়ে আপনার সমীপে খাঁটি তাওবা করি এবং আপনার প্রতি লজ্জায় আপনার পূর্ণ একনিষ্ঠ হই এবং সকল কাজে আপনার উপর ভরসা করি।১৬৯ আরো চাই আপনার প্রতি সুধারণা। হে আলোর স্রষ্টা! আপনি পবিত্র।১৭০ ইয়া আল্লাহ! আমাদের অতর্কিত ধ্বংস কোরেন না, অকস্মাৎ পাকড়াও কোরেন না এবং কোনো হক্ব বা অসিয়ত আমাদের ভুলিয়ে দিয়েন না। (কারণ, কারো হক্ব নষ্ট করা ইসলামে কঠিন অপরাধ)।
ইয়া আল্লাহ! আমার কবরে ভীতির পরিবর্তে অন্তরঙ্গতা দিয়েন।১৭১ ইয়া আল্লাহ! কুরআন-আযীমের অসিলায় আমার উপর রহম করুন এবং তাকে আমার জন্য করুন পথপ্রদর্শক ও আলো এবং হেদায়েত ও রহমত। ইয়া আল্লাহ! আমি তার যে অংশ ভুলে গেছি, তা ইয়াদ করিয়ে দিন এবং যা জানি না তা শিখিয়ে দিন। আর দিন-রাতের মুহূর্তগুলোতে তিলাওয়াতের সৌভাগ্য দিন। হে রাব্বুল আলামীন! কুরআনকে করুন আমার পক্ষে দলিল।১৭২
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার দাস, পুত্র আপনার দাসের, পুত্র আপনার দাসীর। আমার পূর্ণ সত্তা আপনারই কব্জায়।১৭৩ আপনারই কব্জায় আমি চলাফেরা করি। আপনার সাক্ষাতে বিশ্বাস করি আর আপনার প্রতিশ্রুতির উপর দৃঢ় আস্থা রাখি। আপনি আমাকে আদেশ করেছেন; কিন্তু আমি তা অমান্য করেছি। আপনি আমাকে নিষেধ করেছেন; কিন্তু আমি তা লঙ্ঘন করেছি। এখন এই যে আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয়প্রার্থীর অবস্থান। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি পবিত্র। আমি নিজের উপর জুলুম করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া কেউ নেই গুনাহ মাফকারী।১৭৪
ইয়া আল্লাহ! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনারই সমীপে সকল অভিযোগ, আপনারই দরবারে সকল ফরিয়াদ আর আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা।১৭৫ (গুনাহ থেকে) বাঁচা ও (নেক আমলের) শক্তি একমাত্র আল্লাহরই হাতে।১৭৬
ইয়া আল্লাহ! আমি আশ্রয় নিচ্ছি আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আপনার সন্তুষ্টির, আপনার শাস্তি থেকে আপনার ক্ষমা ও নিরাপত্তার এবং আশ্রয় নিচ্ছি আপনার কাছ থেকে আপনারই কাছে। আমি আপনার গুণ-গান করে শেষ করতে পারব না। আপনি তো ঐ প্রশংসারই উপযুক্ত, যা স্বয়ং নিজের সম্বন্ধে করেছেন।১৭৭ ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনার আশ্রয় নিচ্ছি পদস্খলিত হওয়া থেকে বা পদস্খলিত করা থেকে কিংবা কাউকে পথভ্রষ্ট করা থেকে অথবা কারো উপর জুলুম করা থেকে বা কারো জুলুমের শিকার হওয়া থেকে, অজ্ঞতাসুলভ আচরণ থেকে কিংবা অজ্ঞতার শিকার হওয়া থেকে কিংবা গোমরাহ হওয়া থেকে বা কাউকে গোমরাহ করা থেকে। আমি আপনার পবিত্র সত্তার ঐ জ্যোতির আশ্রয় নিচ্ছি, যা আকাশমণ্ডলীকে আলোকিত করেছে এবং যার দ্বারা আঁধারসমূহ ঝলমল করে উঠেছে আর যার দ্বারা দুনিয়া-আখিরাতের সকল বিষয় দুরস্ত হয়েছে।১৭৮ (আশ্রয় নিচ্ছি) যেন আমার উপর আপনার গজব ও নারাজি আপতিত না হয়। আপনিই তোশামোদ পাবার হক্বদার রাজি হওয়া পর্যন্ত। আর (গুনাহ থেকে) সুরক্ষা ও (নেক আমলের) শক্তি শুধু আপনারই সাহায্যে হয়। ইয়া আল্লাহ! আমি শিশুর মতো তত্ত্বাবধান চাই।১৭৯ ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুই অন্ধের অনিষ্ট থেকে - (পানির) ঢল ও আক্রমণকারী উট। (আরবে অতর্কিত বিপদ বোঝাবার জন্য এ দুটি বিষয়কে দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।)১৮০
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে