দু’আ

মোট দু’আ - ৬২৩ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

.

দু‘আ-১

رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّ فِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ۝۲۰۱
উচ্চারণঃ

রাব্বানাআ-তিনা-ফিদ্দুনইয়া-হাছানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাছানাতাওঁ ওয়া কিনা-‘আযা-বান্না-র।

অর্থঃ

হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন। আর আমাদের রক্ষা করুন জাহান্নামের আযাব থেকে।২

.

দু‘আ-৮

رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیْ لِلْاِیْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَاٰمَنَّا ۖۗ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَ بْرَارِۚ۝۱۹۳
উচ্চারণঃ

রাব্বানা-ইন্নানা-ছামি‘না-মুনা-দিআইঁ ইউনা-দী লিল ঈমা-নি আন আ-মিনূবিরাব্বিকুম ফাআমান্না-রাব্বানা-ফাগফিরলানা-যুনূবানা-ওয়াকাফফির‘আন্না-ছাইয়িআ-তিনাওয়াতাওয়াফফানা-মা‘আল আব রা-র।

অর্থঃ

হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করে বলতে শুনেছি, ‘ঈমান আন তোমাদের পালনকর্তার উপর’ তখন আমরা ঈমান এনেছি (এ ঈমানের প্রতিদান আমাদের দান করুন)। হে আমাদের পরওয়ারদেগার! এরপর (আবেদন এই যে) আমাদের (বড় বড়) গুনাহ মাফ করুন এবং আমাদের (ছোট ছোট) ভুল-ত্রুটিও মার্জনা করুন। আর নেককারদের সাথে আমাদের মৃত্যু নসীব করুন। (নেককারদের মতো শুভ পরিণামও একটি নেয়ামত)।১০

.

ইস্তিখারা

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَاۤ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَاۤ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ، اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِىْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِيْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِىْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِيْ بِهٖ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখিরুকা বি‘ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বিক্বুদ্‌রাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাদ্‌লিকাল আযীম। ফা ইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়ালা আ‘লামু, ওয়া আনতা ’আল্লামূল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আম্‌রা (বলে, মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন) খাইরুন লী ফী দ্বীনি ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, ফাকদিরহু লী, ওয়া ইয়াস্‌সিরহু লী, ছুম্মা বারিক লী ফীহি। ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা (বলে, মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন) শাররুন লী ফী দীনী ওয়া মা’আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল-খাইর। হাইসু কা-না, সুম্মা আরদ্বিনী বিহ্।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের উসিলায় আপনার নিকট মঙ্গল কামনা করছি এবং আপনার কুদরতের উসিলায় আপনার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং আপনার নিকট আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা, আপনি ক্ষমতাবান, আর আমি অক্ষম এবং আপনি সর্বজ্ঞানী আর আমি অজ্ঞ, এবং আপনি সমস্ত গোপন সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ! যদি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী এ কাজটি আমার জন্য আমার দ্বীন ও দুনিয়ার দিক দিয়ে এবং পরিণামে মঙ্গলজনক হয়, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন এবং একে সহজ করে দিন। অতঃপর এর মধ্যে আমার জন্য বরকত দান করুন। আর যদি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী এ কাজটি আমার দ্বীন ও দুনিয়ার দিক দিয়ে এবং পরিণামে আমার জন্য মঙ্গলজনক না হয়, তবে আপনি এ কাজটিকে আমার থেকে দূরে রাখুন এবং যেখানেই আমার জন্য মঙ্গল রয়েছে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন এবং তাতেই আমাকে সন্তুষ্ট করে দিন।

.

সালাতুল তাসবীহের ফযীলত

۞ سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণঃ

সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

অর্থঃ

আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেছি, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বূদ নাই, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।

.

দু‘আ-৯

رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ۝۱۹۴
উচ্চারণঃ

রাব্বানা-ওয়া আ-তিনা-মা-ওয়া-‘আত্তানা-‘আলা-রুছুলিকা ওয়ালা-তুখঝিনা-ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্নাকা লা-তুখলিফুল মী‘আ-দ।

অর্থঃ

হে আমাদের পরওয়ারদেগার! নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আপনি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূরণ করুন। আর কিয়ামতের দিন আমাদের লাঞ্ছিত করেন না। আপনি তো কখনো প্রতিশ্রুতির অন্যথা করেন না। (সুতরাং তাঁর পক্ষ হতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো আশংকা নেই। আমরা যে বারবার এই প্রার্থনা করছি এ আমাদের অস্থিরতা ও নিরুপায় অবস্থার ফল। তাছাড়া এ-ও তো জানা নেই যে, আমরা ঐ সকল প্রতিশ্রুতির উপযুক্ত সাব্যস্ত হব কিনা)।১১

.

দু‘আ-৪

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَیْتَنَا وَ هَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ۝۸
উচ্চারণঃ

রাব্বানা-লা-তুঝিগ কুলূবানা-বা‘দা ইয হাদাইতানা -ওয়াহাবলানা-মিল্লা দুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব।

অর্থঃ

হে আমাদের রব! আপনি যে আমাদের (সত্যপথের) দিশা দিয়েছেন, এরপর আমাদের অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি কোরেন না। আর আমাদের দান করুন আপনার তরফ থেকে (বিশেষ) রহমত। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা। (যে রহমত আপনি দান করবেন, তা আপনার শান মোতাবেকই হবে)।৬

.

দু‘আ-৬

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ۝۱۹۱
উচ্চারণঃ

রাব্বানা-মা-খালাকতা হাযা-বা-তিলান ছুবহা-নাকা ফাকিনা-‘আযা-বান্না-র

অর্থঃ

হে আমাদের পরওয়ারদেগার! এ (বিশ্বজগত) আপনি অনর্থক সৃষ্টি করেননি। (অর্থহীন কাজ থেকে) আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। অতএব, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন।৮

.

দু‘আ-১৯৬

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ ثَـوَابَ الشَّاكِرِيْنَ وَنُزُلَ الْمُقَرَّبِيْنَ، وَمُرَافَقَةَ النَّبِيِّيْنَ وَيَقِيْنَ الصِّدِّيْقِيْنَ، وَذِلَّةَ الْمُتَّقِيْنَ، وَإِخْبَاتَ الْمُوْقِنِيْنَ حَتّٰى تَوَفّٰنِيْ عَلٰى ذٰلِكَ يَاۤ أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি শোকরগোজার (বান্দাদের) মতো ছওয়াব এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের মতো মেহমানদারী আর নবীগণের সাহচর্য। প্রার্থনা করছি সিদ্দীকগণের ইয়াকীন, মুত্তাকীদের বিনয় ও বিশ্বাসীদের নম্রতা। এরপর এ অবস্থায় আপনি আমাকে উঠিয়ে নিন হে সকল দয়ালুর বড় দয়ালু!২২৭

.

দু‘আ-১৯৭

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ بِنِعْمَتِكَ السَّابِقَةِ عَلَيَّ وَبَلَآئِكَ الْحَسَنِ الَّذِيْ ابْتَلَيْتَنِيْ بِه، وَفَضْلِكَ الَّذِيْ فَضَّلْتَ عَلَيَّ أَنْ تُدْخِلَنِيَ الْجَنَّةَ بِمَنِّكَ وَفَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে প্রদত্ত আপনার নেয়ামতের অসিলায়, (প্রত্যেক জীবিত মানবের প্রতিটি লোমকূপ জীবনের প্রতি মুহূর্তে যার সাক্ষ্য দেয়) আমার নিকট থেকে গৃহীত আপনার উত্তম পরীক্ষার অসিলায়২২৮ এবং আমার উপর কৃত আপনার অনুগ্রহের অসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আপন দান ও করুণায় আমাকে আপনি জান্নাতে দাখিল করুন।২২৯

১০.

দু‘আ-১৫

رَبِّ اجْعَلْنِیْ مُقِیْمَ الصَّلٰوةِ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِیْ ۖۗ رَبَّنَا وَ تَقَبَّلْ دُعَآءِ۝۴۰
উচ্চারণঃ

রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাসসালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী রাব্বানা-ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই।

অর্থঃ

হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে ও আমার বংশধরকে ভালো নামাযী বানান। হে আমাদের পালনকর্তা! আমার দু‘আ কবুল করুন।১৭

১১.

দু‘আ-১৯৮

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ إِيْمَانًا دَآئِمًا وَّهَدْيًا قَيِّمًا وَّعِلْمًا نَّافِعًا.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই স্থায়ী ঈমান, যথার্থ ও চাল-চলন ও উপকারী ইলম।২৩০

১২.

দু‘আ-২০০

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْۢبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ خُلُقِيْ، وَطَيِّبْ لِيْ كَسْبِيْ، وَقَنِّعْنِيْ بِمَا رَزَقْتَنِيْ، وَلَا تُذْهِبْ طَلَبِيْ إِلٰى شَيْءٍ صَرَفْتَهٗ عَنِّيْ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করুন, আমাকে প্রশস্ত আখলাকের অধিকারী করুন, আমাকে হালাল উপার্জন দান করুন, আপনার প্রদত্ত রুজিতে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন আর যা আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন তার দিকে আমাকে আগ্রহী কোরেন না।২৩২

১৩.

দু‘আ-২০১

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْتَجِيْرُكَ مِنْ جَمِيْعِ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْتَ، وَأَحْتَرِسُ بِكَ مِنْهُنَّ، وَاجْعَلْ لِيْ عِنْدَكَ وَلِيْجَةً، وَاجْعَلْ لِيْ عِنْدَكَ زُلْفٰى وَحُسْنَ مَاٰبٍ، وَاجْعَلْنِيْ مِمَّنْ يَّخَافُ مَقَامَكَ وَوَعِيْدَكَ وَيَرْجُوْ لِقَآءَكَ، وَاجْعَلْنِيْ مِمَّنْ يَّتُوْبُ إِلَيْكَ تَوْبَةً نَّصُوْحًا، وَأَسْأَلُكَ عَمَلًا مُتَقَبَّلًا وَّعِلْمًا نَجِيْحًا، وَسَعْيًا مَّشْكُوْرًا وَّتِجَارَةً لَّنْ تَبُوْرَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আমান চাই আপনার সকল সৃষ্টি থেকে আর আপনারই সুরক্ষা গ্রহণ করি তাদের অনিষ্ট থেকে। আপনার কাছে যেন আমার স্থান হয় এবং আপনার কাছে যেন আমার নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তন হয়। আমাকে ঐ সকল মানুষের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা আপনার সামনে দাঁড়ানোকে ও আপনার হুঁশিয়ারীকে ভয় করে এবং আপনার সাক্ষাতের কামনা রাখে এবং ঐ সব মানুষের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা সত্যই আপনার অভিমুখী হয়। আপনার কাছে প্রার্থনা করি মাকবুল আমল, সঠিক ইলম ও ঐ চেষ্টা, যার প্রতিদান পাওয়া যায় এবং ঐ ব্যবসা, যা কখনো মন্দাগ্রস্ত হবে না।২৩৩

১৪.

দু‘আ-২০২

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ فِكَاكَ رَقَبَتِيْ مِنَ النَّارِ، اَللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ عَلٰى غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ .
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আমাকে দোযখ থেকে মুক্তি দিন। ইয়া আল্লাহ! মৃত্যুর সময়ের জ্ঞানহীনতা ও যন্ত্রণার মুহূর্তে আমার সাহায্য কোরেন।২৩৪

১৫.

দু‘আ-২০৩

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ وَأَلْحِقْنِيْ بِالرَّفِيْقِ الْأَعْلٰى.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন, আমার উপর রহম করুন এবং আমাকে উচ্চস্থানীয় বন্ধুদের সাথে মিলিত করুন।২৩৫

১৬.

দু‘আ-২০৪

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ شَيْئًا وَّأَنَاۤ أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَاۤ أَعْلَمُ بِه، وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ يَّدْعُوَ عَلَيَّ رَحِمٌ قَطَعْتُهَا. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَنْ يَّمْشِيْ عَلٰى بَطْنِه، وَمِنْ شَرِّ مَنْ يَّمْشِيُ عَلٰى رِجْلَيْنِ، وَمِنْ شَرِّ مَنْ يَّمْشِيُ عَلٰۤى أَرْبَعٍ. اَللّٰهُمَّ إِنِّۤيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ اِمْرَأَةٍ تُشَيِّبُنِيْ قَبْلَ الْمَشِيْبِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَّلَدٍ يَّـكُوْنُ عَلَىَّ وَبَالًا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ مَالٍ يَّـكُوْنُ عَلَيَّ عَذَابًا. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الشَّكِّ فِي الْحَقِّ بَعْدَ الْيَقِيْنِ، وَ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ يَوْمِ الدِّيْنِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ مَّوْتِ الْفُجَآءَةِ وَمِنْ لَّدْغِ الْحَيَّةِ وَمِنَ السَّبُعِ وَمِنَ الْغَرَقِ وَمِنَ الْحَرَقِ، وَمِنْ أَنْ أَخِرَّ عَلٰى شَيْءٍ وَّمِنَ الْقَتْلِ عِنْدَ فِرَارِ الزَّحْفِ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! জেনে-শুনে আপনার সাথে কিছুমাত্র শরীক করা থেকে আপনার আশ্রয় চাই আর নিজের অজান্তের শিরক থেকে আপনার কাছে ক্ষমা চাই।২৩৬ আমি আপনার শরণ নিচ্ছি কোনো আত্মীয়ের বদ দু‘আ থেকে, যার আমি হক নষ্ট করেছি।২৩৭ ইয়া আল্লাহ! আপনার আশ্রয় নিচ্ছি বুকের উপর ভর করে চলা প্রাণীর অনিষ্ট থেকে এবং দু’পেয়ে জীব ও চতুষ্পদ জন্তুর অনিষ্ট থেকে।২৩৮ ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে ঐ নারী থেকে আশ্রয় নিচ্ছি, যে আমাকে বার্ধক্যের আগেই বৃদ্ধ বানিয়ে দেয়, আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সন্তান থেকে, যে আমার জন্য বিপদ হয়, আশ্রয় নিচ্ছি ঐ সম্পদ থেকে, যা আমার জন্য আযাব হয়।২৩৯ ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি সত্য বিষয়ে বিশ্বাসের পর সন্দেহ থেকে। আশ্রয় নিচ্ছি বিতাড়িত শয়তান থেকে, আশ্রয় নিচ্ছি প্রতিদান দিবসের কাঠিন্য থেকে। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি অকস্মাৎ মৃত্যু থেকে, সর্পদংশিত হওয়া থেকে, হিংস্র প্রাণী থেকে, ডুবে যাওয়া থেকে, অগ্নিদগ্ধ হওয়া থেকে, কোনো কিছুর উপর পড়ে যাওয়া থেকে এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নের সময় নিহত হওয়া থেকে।২৪০

১৭.

এই দু‘আগুলো সমাপ্ত হওয়ার পর বলবে,

وَتَقَبَّلْ هٰذِهِ الدَّعَوَاتِ فِيْ حَقِّ مُحَمَّدْ أَشْرَفْ عَلِيّ، وَعَبْدِ الْوَاسِـعِ، وَمُحَمَّدْ مُصْطَفٰى، وَمُحَمَّدْ عَلِيْ، وَمُحَمَّدْ شَفِيْع، وَعَبْدِ الْمَاجِدِ، وَفِيْ حَقِّ اٰبَآئِهِمْ وَأُمَّهَاتِهِمْ وَجَمِيْعِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ. وَصَلَّى اللهُ تَعَالٰى عَلٰى سَيِّدِ الْكَـآئِنَاتِ وَأَكْرَمِ الْمَخْلُوْقَاتِ صَلٰوةً تَسْبِقُ الْغَايَاتِ.
অর্থঃ

এ সকল দু‘আ কবুল করুন। (হযরত মাওলানা) মুহাম্মদ আশরাফ আলী রাহ. (সংকলক), মৌলভী আবদুল ওয়াসি মরহুম (নাযিমে তরজমা), মৌলভী হাকীম মুহাম্মদ মুস্তফা মরহুম (প্রথম উর্দু অনুবাদক), মুহাম্মদ আলী মরহুম (তরজমা-সহযোগী), মাওলানা মুহাম্মদ শফী দেওবন্দী ও আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী (দ্বিতীয় উর্দু অনুবাদক) (এবং যাঁরা এর বাংলা অনুবাদ করেছেন এবং বর্তমান বাংলা তরজমাকার মুহাম্মদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ) সম্পর্কেও। এবং কবুল করুন তাদের পিতা-মাতা ও সকল ঈমানদার নর-নারী সম্পর্কেও। আল্লাহ তা‘আলা কামিল রহমত নাযিল করুন সারোয়ারে কায়েনাত, সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর, এমন রহমত যার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।

১৮.

মৌলভী হাজী শাহ মুহাম্মদ শফী ছাহেব বিজনূরী লাখনৌবী (রহ.)-এর বিশেষ মামুলাতের একটি দু‘আ:

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ ذُنُوْبَنَا وَاسْتُرْ عُيُوْبَنَا، وَاشْرَحْ صُدُوْرَنَا، وَاحْفَظْ قُلُوْبَنَا، وَنَوِّرْ قُلُوْبَنَا، وَيَسِّرْ أُمُوْرَنَا، وَحَصِّلْ مُرَادَنَا، وَتَمِّمْ تَقْصِيْرَنَا. اَللّٰهُمَّ نَجِّنَا مِمَّا نَخَافُ يَا حَفِيَّ الْأَلْطَافِ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমাদের গুনাহ মাফ করুন, আমাদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন, আমাদের সীনা খুলে দিন, আমাদের অন্তরের হেফাযত করুন, আমাদের হৃদয় আলোকিত করুন, আমাদের কাজকর্ম সহজ করুন, আমাদের ইচ্ছাসমূহ পূরণ করুন এবং আমাদের ত্রুটিসমূহের ক্ষতিপূরণ করুন। ইয়া আল্লাহ! আমাদেরকে ঐ সকল বিষয় থেকে নাজাত দিন, যাতে আমরা ভীতি অনুভব করি। হে ঐ সত্তা, যিনি দয়া ও করুণার জন্য সদা প্রস্তুত।২৪১

১৯.

সূরা ত্বা-হা ( আয়াত নং - ৬৯ )

وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا کَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾
উচ্চারণঃ

ওয়া আল কিমা-ফী ইয়ামীনিকা তালকাফ মা-সানা‘ঊ ইন্নামা-সানা‘ঊ কাইদুছাহিরিওঁ ওয়ালা-ইউফলিহুছছা-হিরু হাইছুআতা-।

অর্থঃ

তুমি তোমার ডান হাতে যা আছে তা নিক্ষেপ করো, (দেখবে) তারা যা কিছু তৈরী করেছে এটা তা সব গিলে ফেলবে। তারা যা তৈরী করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কৌশল। যাদুকর যেখানেই আসুক (যাদুবিদ্যায় যতই পারদর্শী হোক), সফল হয় না।”

২০.

সূরা আল আহ্‌ক্বাফ ( আয়াত নং ২৯ - ৩২ )

{وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ (29) قَالُوا يَاقَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ (30) يَاقَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ (31) وَمَنْ لَا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءُ أُولَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (32)} [الأحقاف: 29 - 32]
উচ্চারণঃ

ওয়া ইযসারাফনাইলাকা নাফারাম মিনাল জিন্নি ইয়াছতামি‘ঊনাল কুরআ-না ফালাম্মাহাদারূহু কা-লূআনছিতূ ফালাম্মা-কুদিয়া ওয়াল্লাও ইলা-কাওমিহিম মুনযিরীন। কা-লূইয়া-কাওমানাইন্না-ছামি‘না-কিতা-বান উনঝিলা মিম বা‘দি মূছা-মুসাদ্দিকালিলমাবাইনা ইয়াদাইহি ইয়াহদীইলাল হাক্কিওয়া ইলা-তারীকিম মুছতাকীম। ইয়া-কাওমানাআজীবূদা-‘ইয়াল্লা-হি ওয়াআ-মিনূবিহী ইয়াগফিরলাকুম মিন যুনূবিকুম ওয়া ইউজিরকুম মিন ‘আযা-বিন আলীম। ওয়া মাল লা-ইউজিব দা-‘ইয়াল্লা-হি ফালাইছা বিমু‘জিঝিন ফিল আরদিওয়া লাইছা লাহূমিন দূ নিহীআওলিূআউ উলাইকা ফী দালা-লিমমুবীন।

অর্থঃ

স্মরণ কর, আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম একদল জিনকে, যারা কুরআন পাঠ শুনতেছিল। যখন এরা তার নিকট উপস্থিত হল, এরা বলল, ‘চুপ করে শোনে কর।’ যখন কুরআন পাঠ সমাপ্ত হল এরা এদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে। তারা বলেছিল, ‘হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাবের পাঠ শুনেছি যা অবতীর্ণ হয়েছে মূসার পরে, এটা এর পূর্ববর্তী কিতাবকে প্রত্যয়ন করে এবং সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে। ‘হে আমাদের সম্প্রদায় ! আল্লাহ্ র দিকে আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহ্ তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন এবং মর্মন্তুদ শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা করবেন।’ কেউ যদি আল্লাহ্ র দিকে আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া না দেয় তবে সে পৃথিবীতে আল্লাহ্ র অভিপ্রায় ব্যর্থ করতে পারবে না এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এরাই সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।