ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তাওফীক চাই ভালো কাজসমূহ করার এবং মন্দ কাজসমূহ ছাড়ার। তাওফীক চাই অভাবীদের ভালোবাসার। আর আমাকে ক্ষমা করুন ও আমার উপর রহম করুন। আর যখন ইচ্ছা করবেন কোনো জাতিকে বিপদগ্রস্ত করার তো আমাকে তুলে নিয়েন বিপদগ্রস্ত হওয়ার আগেই। আমি আপনার কাছে চাই আপনার ভালোবাসা এবং ঐ ব্যক্তির ভালোবাসা, যে আপনাকে ভালোবাসে। আর ঐ কাজেরও ভালোবাসা, যা আপনার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে।৬৫
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি ঈমানের সাথে সুস্থতা এবং সুন্দর চরিত্রের সাথে ঈমানদারি এবং (দুনিয়াতে) সফলতা, যার পর আপনি আমাকে দান করবেন (আখেরাতের) কল্যাণ এবং আপনার পক্ষ থেকে করুণা ও নিরাপত্তা, আপনার পক্ষ হতে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি।৭০
বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহি, লা হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
আল্লাহ তা‘আলার নামে (বের হলাম), আমি আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসা করলাম। আল্লাহর তাওফিক ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা কোনো নেক কাজ করা সম্ভব নয়।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাল মাওলিজি ওয়া খাইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা ওয়া ‘আলাল্লাহি রব্বিনা তাওয়াক্কালনা।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ভিতরে প্রবেশ করার এবং বের হবার মঙ্গল কামনা করছি। আমরা আল্লাহ তা‘আলার নামে প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে বের হলাম এবং আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপর ভরসা করলাম।
আল্লা-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়াবা-রিক লী ফীমা আ‘ত্বাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা ফাইন্নাকা তাক্ব্দ্বী ওয়ালা ইউক্ব্দ্বা ‘আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মাও ওয়া-লাইতা, ওয়ালা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আ-দাইতা। তাবা-রক্তা রব্বানা ওয়া তা‘আ-লাইতা)
“হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে সুখদায়ক সৎ পথ প্রকৃত ইসলামের অনুগামী করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সুখশান্তিপূর্ণ মঙ্গলময় জীবন প্রদান করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সর্ব প্রকার কল্যাণ প্রদানের সহিত সাহায্য করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে যে সমস্ত মঙ্গলদায়ক জিনিস প্রদান করেছেন, সেগুলিকে আমার জন্য অধিকতর মঙ্গলদায়ক করুন। আপনি যে ফয়সালা করেছেন, তার অমঙ্গল হতে আমাকে রক্ষা করুন। কেননা সব জগতের সঠিক পরিচালনার জন্য যে ফয়সালা আপনি করেছেন, সেটাই সঠিক ফয়সালা। তাই আপনার ফয়সালার উপরে আর কোনো প্রকারের সঠিক ফয়সালা নেই। আপনি যাকে ভালো বাসবেন, সে কোনো দিন অপমানিত হতে পারে না। আর আপনি যার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করবেন, সে কোনো দিন শক্তিশালী হতে পারবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি মহাকল্যাণময় এবং মহামহিমান্বিত”।
গুফরানাকা আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আযহাবা ‘আন্নীল আযা ওয়া ‘আ ফা-নী।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর জন্যে, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দিয়েছেন এবং আমাকে সুস্থ রেখেছেন।
আল্লাহুম্মা রাব্বাহা-যিহিদ্ দা’ওয়াতিত্তাম্মাহ্, ওয়াস্ সালাতিল ক্বা-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদ্বি-লাহ, ওয়াব’আছহু মাক্বামাম্ মাহ্মু-দানিল্লাযি ওয়া ’আত্তাহ, ইন্নাকা লা-তুখ্লিফুল মিয়াদ্।
হে আল্লাহ! (তুমি) এ পরিপূর্ণ আহ্বানের এবং চিরস্থায়ী নামাযের প্রভু। তুমি মুহাম্মদ (ﷺ)-কে নৈকট্যের উসিলা, মহত্ত্ব এবং সর্বাপেক্ষা প্রশংসিত স্থানে (অর্থাৎ মাকামে মাহমুদে) আবির্ভূত করো, যার ওয়াদা তুমি তাঁকে দিয়েছো। নিশ্চয়ই তুমি কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করো না।
আল্লা-হুম্মাজ‘আল ফী ক্বালবী নূরান, ওয়া ফী লিসানী নূরান, ওয়া ফী সাম্‘য়ী নূরান, ওয়া ফী বাসারী নূরান, ওয়া মিন ফাওকী নূরান, ওয়া মিন তাহ্তী নূরান, ওয়া ‘আন ইয়ামীনী নূরান, ওয়া ‘আন শিমালী নূরান, ওয়া মিন আমামী নূরান, ওয়া মিন খলফী নূরান, ওয়াজ‘আল ফী নাফ্সী নূরান, ওয়া আ‘যিম লী নূরান, ওয়া ‘আয্যিম লী নূরান, ওয়াজ‘আল্ লী নূরান, ওয়াজ‘আলনী নূরান; আল্লা-হুম্মা আ‘তিনী নূরান, ওয়াজ‘আল ফী ‘আসাবী নূরান, ওয়া ফী লাহ্মী নূরান, ওয়া ফী দামী নূরান, ওয়া ফী শা‘রী নূরান, ওয়া ফী বাশারী নূরান। আল্লা-হুম্মাজ‘আল লী নূরান ফী কাবরী, ওয়া নূরান ফী ‘ইযামী ওয়া যিদ্নী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান ওয়া হাবলী নূরান ‘আলা নুর
হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর বা আলো দান করুন, আমার যবানে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার দর্শনশক্তিতে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নিচে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার আত্মায় নূর দান করুন, আমার জন্য নূরকে বড় করে দিন, আমার জন্য নূর বাড়িয়ে দিন, আমার জন্য নূর নির্ধারণ করুন, আমাকে আলোকময় করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন, আমার পেশীতে নূর প্রদান করুন, আমার গোশ্তে নূর দান করুন, আমার রক্তে নূর দান করুন, আমার চুলে নূর দান করুন ও আমার চামড়ায় নূর দান করুন। হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার কবরে নূর দিন, আমার হাড়সমূহেও নূর দিন”, “আমাকে নূর বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূর বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূর বৃদ্ধি করে দিন” “আমাকে নূরের উপর নূর দান করুন।
আল্লা–হুম্মা ইন্নি আসআলুকাস্ সাবা–তা ফিল আমরি, ওয়া আসআলুকা আযীমাতার্ রুশ্দি, ওয়া আসআলুকা শুকরা নি‘মাতিকা ওয়া হু্সনা ইবাদাতিকা, ওয়া আসআলুকা লিসানান ছাদিকান ওয়া ক্বালবান সালীমান, ওয়া খুলুকান মুস্তাকীমান, ওয়া আসআলুকা মিন খাইরি মা তা‘লামু, ওয়া আসতাগফিরুকা মিম্মা তা‘লামু, ইন্নাকা আনতা আল্লামুল গুয়ুব।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি দীনের বিষয়ে অবিচলতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি উন্নত যোগ্যতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার নেয়ামতের শোকরগোজারি ও বন্দেগীর সৌন্দর্য এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহ্বা, সুস্থ হৃদয় আর সুদৃঢ় চরিত্র। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণ, যা আপনি জানেন এবং ক্ষমা চাই ঐ সকল গুনাহ থেকে, যে সম্পর্কে আপনি অবগত। সকল অদৃশ্য বিষয় তো আপনার জানা। (সুতরাং ঐ সকল গুনাহ সম্পর্কেও আপনি অবগত, যা কোনো সৃষ্টির জানা নেই)।৫৯
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ভালোবাসা দান করুন এবং যার ভালোবাসা আপনার কাছে আমার জন্য উপকারী হয়, তার ভালবাসাও দান করুন। আপনি যখন আমাকে আমার প্রিয় বস্তু দান করেছেন, তখন একে আমার জন্য সহায়ক করুন আপনার প্রিয় কাজে। (অর্থাৎ আমার প্রিয় ও কাম্য যা কিছু আমি লাভ করেছি, তা আপনার পছন্দের বিষয়টি অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।) হে আল্লাহ! আমার যেসব কাম্য বস্তু আমার থেকে দূরে রেখেছেন, সেগুলো (থেকে দূরে থাকা) আমার জন্য ঐসব বিষয়ে মশগুল হওয়ার অবকাশ বানিয়ে দিন, যা আপনার কাছে প্রিয়।৬৭ (অর্থাৎ স্বভাবগতভাবে যা কিছু আমার প্রিয়, তা থেকে যখন আপনি নিজ প্রজ্ঞায় আমাকে দূরে রাখবেন, তখন এই প্রতিক্রিয়া আমার মাঝে সৃষ্টি করুন যে, আমি শুধু এসবের স্থলে আপনার প্রিয় বিষয়গুলোকেই ভালোবাসতে শুরু করি।)
ইয়া আল্লাহ! আপনি যে আলিমুল গাইব, আপনি যে সৃষ্টির উপর ক্ষমতাবান, এ অসিলায় প্রার্থনা করি, আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতদিন আপনার জ্ঞানে জীবন আমার জন্য কল্যাণকর আর আমাকে উঠিয়ে নিন যখন আপনার জ্ঞানে মৃত্যু আমার জন্য উত্তম। আপনার কাছে প্রার্থনা, আপনাকে যেন ভয় করি গোপনে ও প্রকাশ্যে এবং ইখলাসের কথা বলি ক্রোধে ও আনন্দে (কারণ, এ দুই সময় হচ্ছে আবেগের তাড়নায় ভেসে যাওয়ার সময়)। প্রার্থনা করছি ঐ নেয়ামত, যা নিঃশেষ হবে না এবং ঐ আনন্দ, যার সমাপ্তি ঘটবে না। আপনার কাছে প্রার্থনা, যেন আপনার ফয়সালায় রাজি থাকি এবং মৃত্যুর পর শান্তির জীবন লাভ করি আর লাভ করি আপনার দর্শন-আনন্দ এবং আপনার সাক্ষাতের ব্যাকুলতা। আপনার কাছে আশ্রয় নিই কষ্টদায়ক বিপদ থেকে ও ভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে। ইয়া আল্লাহ! আমাদেরকে করুন ঈমানের শোভায় সুশোভিত এবং সুপথপ্রাপ্ত, পথের দিশারী (যেন নিজেরাও সুপথে থাকি, অন্যদেরও সুপথ প্রদর্শন করি)।৭১
আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ঈমান, ওয়া ঝাইয়িনহূ ফী কুলূবিনা, ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা ওয়ালফুছূকা ওয়াল ‘ইসইয়া-ন, ওয়া জা‘আলনা মিনার রাশিদীন।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে ঈমানের ভালোবাসা সঞ্চার করুন এবং আমাদের অন্তরে তা (ঈমান) আকর্ষণীয় করুন। আর কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে আমাদের অন্তরে ঘৃণ্য বানিয়ে দিন এবং আমাদেরকে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত করুন।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী ‘আাফানী মিম্মাবতালাকা বিহি ওয়া ফাযযালানী ‘আলা কাসীরিম মিম্মান খলাক্বা তাফযীলা।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাকে সেই অবস্থা থেকে রক্ষা করেছেন যাতে তোমাকে আক্রান্ত করেছেন এবং তিনি আমাকে তার অনেক মাখলূকের উপর সম্মান দান করেছেন।
আইয়াওয়াদ্দুআহাদুকুম আন তাকূনা লাহু জান্নাতুম মিন নাখীলিওঁ ওয়া আ‘না-বিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু লাহু ফীহা-মিন কুল্লিছছামারা-তি ওয়া আসা-বাহুল কিবারু ওয়ালাহু যুররিইইয়াতুন দু‘আফাউ ফাআসা-বাহা ই‘সা-রুন ফীহি না-রুন ফাহতারাকাত কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ল‘আল্লাকুম তাতাফাক্কারূন।
তোমাদের মধ্যে কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, তার খেজুর ও আঙ্গুরের একটা বাগান থাকবে, যার পাদদেশ দিয়ে নদী-নালা প্রবাহিত থাকবে (এবং) তা থেকে আরও বিভিন্ন রকমের ফল তার অর্জিত হবে, অতঃপর সে বার্ধক্য-কবলিত হবে আর তার থাকবে দুর্বল সন্তান-সন্ততি, এ অবস্থায় অকস্মাৎ এক অগ্নিক্ষরা ঝড় এসে সে বাগানে আঘাত হানবে, ফলে গোটা বাগান ভস্মিভূত হয়ে যাবে? ২০৪ এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় আয়াতসমূহ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।
লাকাদ ছামি‘আল্লা-হু কাওলাল্লাযীনা কালূইন্নাল্লা-হা ফাকীরুওঁ ওয়ানাহনু আগনিয়াউ । ছানাকতুবুমা-কা-লূওয়া কাতলাহুমুল আম্বিয়াআ বিগাইরি হাক্কিওঁ ওয়া নাকূলুযূকূ‘আযা-বাল হারীক।
যারা বলে, ‘আল্লাহ্ অবশ্যই অভাবগ্রস্ত আর আমরা অভাবমুক্ত’, তাদের কথা আল্লাহ্ শুনেছেন। তারা যা বলেছে তা আর নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিষয় আমি লিখে রাখব এবং বলিব, ‘তোমরা দহন-যন্ত্রণা ভোগ কর।’
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে